আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন আদব-আখলাক, পড়াশোনার আগ্রহ, শৃংখলা ইত্যাদির বেশ ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। আখেরাতমুখী চিন্তাধারার অভাব এবং পশ্চিমাপ্রেম ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আর এগুলো সমাধান করতে আমরা নতুন নতুন নিয়ম-কানুন তৈরী করছি। তবে অনেকগুলো নিয়ম তৈরী করার পরেও যেন সমস্যা দূর হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, নিয়ম প্রয়োগ করতে গেলে শিক্ষার্থীরা মানিয়ে নিতে পারছে না। পরিবেশের সাথে খাপ খাচ্ছে না। নিয়ম নিয়েই যেন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। মনে হচ্ছে, আমরা সবাই মিলে বাইন মাছ শিকারে নেমেছি। চাপ দিয়ে ধরতে গেলেই পিছলে যাচ্ছে। তখন আমরা ভাবছি, আমাদের নিয়ম-কানুনে সমস্যা। অথবা আমরা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে দুর্বল। তাছাড়া এমন হবে কেন! আমাদের মনে হয়, এই পরিস্থিতিগুলো আমাদের একটু ভিন্নভাবে মোকাবেলা করা প্রয়োজন।
এই সফরের শুরুতেই আমাদের শান্ত ও ধীরস্থীর হ’তে হবে। বুকের ভেতরে ঠিক অনেকটা ধৈর্য, শক্তি ও সাহস নিয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করতে হবে। দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ হওয়ার পরে এমন কোন সমস্যা থাকার কথা নয়, যার সমাধান ইসলামে নেই। তাই সব আধুনিক সমস্যার আধুনিক সমাধান না খুঁজে কিছু ক্ষেত্রে নতুন সমস্যার পুরনো সমাধান খুঁজতে হবে। যে ধারা আল্লাহ প্রদত্ত, যে ধারা সালাফে ছালেহীন গ্রহণ করেছেন, যে ধারা হাযার বছরের পরীক্ষিত; সেই ধারার কার্যক্ষমতা বরাবরই বেশী হবে। এটাই স্বাভাবিক। আমরা আজ তেমনই একটি ধারা নিয়ে আলোচনা করব। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও আদর্শিক ক্লান্তিলগ্নে যার সুন্দর প্রয়োগ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় খুবই প্রয়োজন।
আমরা জানি, নিয়ম মানুষকে বেঁধে রাখতে পারে; আকৃষ্ট করতে পারে না। লিখিত নিয়মের শৃংখল মানুষকে কেবল ভালোলাগার অভিনয় করাতে পারে। ভালোবাসাতে পারে না। কোন কাজ মন থেকে করাতে পারে না। কারণ নিয়ম হ’ল লিখিত শিকল। অদৃশ্য শিকল, যা দেখা যায় না। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হ’ল শিক্ষার জায়গা। এটা কোন জেল-হাজত নয়। মানুষ শিখতে ভালোবাসে। অনুসরণ করতে ভালোবাসে। কাউকে অনুসরণ করতে গিয়ে সে সকল কষ্ট সহ্য করতে পারে।
আমরা একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাব যে, ইসলাম মানুষের কাঁধে নিয়মের বোঝা চাপিয়ে দেয়নি। ইসলাম একটি আদর্শকে সামনে রেখে শুধু অনুসরণ করতে বলেছে। কারণ মানুষ সর্বদা দেখে দেখে শেখে। মানুষ অপরের সুখ-দুঃখের বাটখারা দিয়ে নিজের সুখ-দুঃখ মাপে। অপরকে দেখে সব পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। এজন্যই একটা সংকীর্ণ জীবন ব্যবস্থা একজনের জন্য কষ্টকর হ’লেও একসাথে একশজনের জন্য কষ্টকর হয় না। সবাই বাকী নিরানববই জনকে দেখে নিজেকে শান্তনা দিয়ে সেটার ওপরেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। একসময় তারা এতটুকুর মাঝে সুখও খুঁজে নেয়। মানুষকে মূলত তৈরীই করা হয়েছে এভাবে।
এখন আমরা চাচ্ছি, নিয়মের বেড়াজালে ফেলে সবাইকে ভাল বানিয়ে ছাড়ব। কিন্তু ভাল হওয়ার আগ্রহ আসে অনুশোচনা থেকে। আর নিয়ম কখনো মানুষের অনুশোচনা তৈরী করতে পারে না। মানুষের আবেগকে ধাক্কা দিতে পারে না। ফলে নিয়মের চাপে মানুষ ভাল হয় না। আমরা যদি বুঝতে পারি যে, উত্তম আদর্শই মানুষকে ভেতর থেকে পরিবর্তন করতে পারে। তবে আমাদের সময় ও শ্রম নষ্ট না করে সেই আদর্শকেই গুরুত্ব দেয়া দরকার। এর মাঝেই আমাদের সকল সমস্যার সমাধান খোঁজা দরকার। তা না করে আমরা পড়ে আছি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে আর নিত্যদিনে হাযার নিয়মের পসরা সাজিয়ে নিয়ে। যা কেবল আমাদের শ্রমই নষ্ট করছে।
তাই বলা যায়, সমস্যা আমাদের নিয়মে নয়। সমস্যা হ’ল, আমাদের ব্যর্থতা। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সামনে আদর্শিক ভিত্তি রাখতেই পারিনি। আদর্শিক আলোচনায় হয়ত আমাদের বিচারই সবার আগে করা দরকার হবে। কারণ আমরা কথায় কথায় অভিযোগ করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা এমন কেন? তারা কেন বে-আদব হয়ে যাচ্ছে? তারা কেন পড়াশোনায় রাত্রি জাগরণ করছে না? তাদের পোশাক-আশাক কেন এমন? তাদের মুখের ভাষা কেন এমন? অথচ আমরা এই আলোচনা কখনো সামনে আনি না যে, শিক্ষক হিসাবে তাদের সামনে আমরা কতটুকু আদবের পরিচয় দিয়েছি। আমার ছাত্রদের সামনে আমি আমার শিক্ষকের সাথে কেমন আচরণ করেছি? দারস, অনুষ্ঠান, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা কেমন পোশাকে তাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি? প্রচন্ড রাগের মাথায় তাদের সামনে কেমন ভাষায় কথা বলেছি?
বরং এমন হয়েছে যে, সুন্দর আদব যে কেমন হয় এটা তারা কখনো দেখেইনি। নরম-মিষ্টি কথা যে কেমন হয় তা কখনো তারা শোনেইনি। তারা কখনো কাউকে রাত জেগে পড়তে দেখেনি। তারা তাদের যুবক শিক্ষককে মাদ্রাসার বৃদ্ধ ঝাড়ুদার বা দারোয়ানের সাথে সম্মান বজায় রেখে কথা বলতে দেখেনি। তারা তাদের শিক্ষকদের কখনো কাঁদতে দেখেনি। না দো‘আয়, না আলোচনায়। তারা তাদের শিক্ষকদের কখনো তাহাজ্জুদের ছালাতে দাঁড়াতে দেখেনি। তারা তাদের শিক্ষকদের কথাবার্তায় কখনো পশ্চিমা বিদ্বেষ শোনেনি। এখানে দোষ কার? অবশ্যই আমাদের। এজন্য আমাদের বিচারই সবার আগে হওয়া দরকার। কারণ শিক্ষক হয়ে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের আদব শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছি।
আমরা যদি নিয়ম করে দেই যে, বড়দের দেখলে সালাম দিতেই হবে। তবে এই কাজ শুধু তারা মাদ্রাসার ভেতরে করবে, বাইরে করবে না। কারণ এটা নিয়মের মধ্যে পড়ে। তার আদর্শের মধ্যে পড়ে না। যদি বলি, বাধ্যতামুলক ফজরের আগে তাহাজ্জুদ পড়তেই হবে। দো‘আ করতেই হবে। তবে এই নিয়ম পালনে হয়ত কিছু ছাত্র শেষ রাতে উঠে ওযু ছাড়াই ছালাত আদায় করবে। বা ছালাত-দো‘আর অভিনয় করবে। প্রকৃতার্থে সে কোনদিন তাহাজ্জুদে আকৃষ্ট হবে না। কারণ তাহাজ্জুদের যে সৌন্দর্য রয়েছে, দো‘আর মাঝে যে স্নিগ্ধতা রয়েছে তা অবলৌকন ব্যতীত একজন মানুষ তাতে আকৃষ্ট হওয়া সম্ভব নয়। সুন্নাতী লেবাসের মাঝে যে উৎকৃষ্টতা রয়েছে তা অনুভব করা ছাড়া কেউ কখনোই তা মন থেকে গ্রহণ করতে পারবে না।
এজন্য আমরা যে ভাল কাজগুলো আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখতে চাই সেগুলো নিয়মের ভেতরে না এনে সেগুলোর সৌন্দর্য তুলে ধরাই অধিক ফলদায়ক হবে। কারণ সৌন্দর্যকে মানুষ উপেক্ষা করতে পারে না। আজ বা কাল, শিক্ষার্থীরা সেগুলো গ্রহণ করবেই! সেগুলোর জন্য তারা সর্বোচ্চ কষ্টও সহ্য করবে ইনশাআল্লাহ। আমরা বেশ অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান দেখেছি। এমনও প্রতিষ্ঠান দেখেছি, যেখানে ছাত্ররা পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত তো জামা‘আতে আদায় করেই পাশাপাশি তাহাজ্জুদও আদায় করে। তবে মাদ্রাসায় এমন কোন লিখিত নিয়ম নেই যে, তাহাজ্জুদ আদায় করতেই হবে।
আমরা বাংলাদেশী ছাত্রকে বাংলার চেয়ে বেশী উর্দূকে ভালোবাসতে দেখেছি। ভালোবেসে উর্দূ চর্চা করতে দেখেছি। অথচ মাদ্রাসায় এমন কোন লিখিত নিয়ম নেই যে, উর্দূ চর্চা করতেই হবে। তাদেরকে আমরা রাত জেগে আরবী চর্চা করতে দেখেছি। অনেককে তীব্র গরমে সারাদিন পাগড়ী পরিধান করে থাকতে দেখেছি। অথচ এটাও প্রতিষ্ঠানের কোন লিখিত নিয়ম নয়। পাগড়ীর কথা শুনেই কওমী প্রতিষ্ঠানের কথা ভাবার প্রয়োজন নেই। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল পড়ুয়াদের কথাই বলছি। আপনিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে খেয়াল করলে জুববা- পাগড়ী পরা হুযুরদের বিচরণ দেখতে পাবেন। তবে কার্যত তারা হুযুর নয়। এগুলো তাদের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম নয়। তারপরেও এগুলো তারা কেন করছে? কারণ এগুলোর সৌন্দর্য তাদেরকে দেখানো হয়েছে। তারা এগুলোকে ভালোবেসে ফেলেছে।
পক্ষান্তরে আমাদের শিক্ষার্থীরা উল্টো জিনিসগুলোকে ভালোবাসে। এর কারণ হ’ল, শিক্ষার্থীদের হৃদয়ের জমিতে আমরা ভুল বীজ বপন করেছি। এই ভুল আমাদের মাধ্যমেই হয়েছে। যখন গাছে ফল এসেছে তখন আমরা ‘নিয়ম’ নামের বালাইনাশক দিয়ে গাছের ফল পরিবর্তন করার বৃথা চেষ্টা করেছি। কিন্তু বালাইনাশক দিয়ে কি তেঁতুল গাছে আম ধরানো সম্ভব? না। গাছের ফল পরিবর্তন করতে হ’লে বীজের কৌটা পরিবর্তন করতে হবে। যে ফল আমরা চাই, সেই ফলের চাষ আর কারা কোথায় করে, সেটা জানতে হবে। তারা কোন বীজ ব্যবহার করে, সেই বীজ আমাদেরকেও সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া দামী ফলের চাষ সম্ভব নয়।
আমরা অবশ্য বীজ বপনের পদ্ধতি সম্পর্কেও পূর্ণ ওয়াকেফহাল নই। আমরা মনে করি, বীজ জমিতে ফেলার পরে জমিকে বলতে হবে যে, ‘চারা তৈরীর কাজ শুরু কর’। তবে বাস্তবতায় জমিকে কিছুই বলতে হয় না। শুধু সঠিক বীজটা দিতে হয়। ঠিক তেমনই শিক্ষার্থীদের বলতে হয় না যে, ‘এটা কর’। কারণ তারা কাজ করার জন্যই এসেছে। শুধু তাদেরকে দেখাতে হবে যে, কি করতে হবে। শিক্ষকগণ যদি নিজেদের মাঝে আরবীতে কথা বলেন তবে শিক্ষার্থীদের বলতে হবে না যে, তোমরাও আরবী বল। শিক্ষকগণ যদি আতরওয়ালা হন, তবে শিক্ষার্থীদের মাঝে হাযার রকম সুবাস এমনিতেই ছড়িয়ে পড়বে।
আমার ছাত্রজীবনে শিক্ষক আমাদের সাথেই থাকতেন। বড় রুমের একপাশে তার থাকার জায়গাটা পর্দা দিয়ে ঘেরা ছিল। আমরা পর্দার এপাশে থাকতাম। তিনি থাকতেন ভেতরে। শেষ রাতে চাপা কান্নার শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যেত। আমরা পর্দার বাইরে থেকে শিক্ষকের রোনাজারীর শব্দ বেশ ভালভাবেই শুনতে পেতাম। সত্যি কথা বলতে তখন আর আমরা ঘুমিয়ে থাকতে পারতাম না। আমাদের মনে হ’ত, তিনি এত ভাল মানুষ। তারপরেও এত কান্নাকাটি করে দো‘আ করছেন। আমরা তো সারাদিন শুধু গুনাহই করি। না! একটু উঠি। তারপর আমরাও একে একে উঠে ওযু করে ছালাতে দাঁড়াতাম। আমরাও কান্না করতাম। অন্তরে জমে থাকা চাপা কষ্ট-গ্লানি সব পরিস্কার হয়ে যেত। একটি প্রফুল্ল ও উদ্যমী হৃদয় নিয়ে আমরা ফজরের ছালাতে উপস্থিত হ’তাম। এটাই হ’ল বীজ বপনের নিয়ম।
আমাদের হয়ত বুঝাতে পেরেছি যে, মানুষ গড়তে আদর্শিক ভিত্তির বিকল্প নেই। আর নিয়ম তো কখনোই আদর্শের বিকল্প হ’তে পারে না। তাই আমাদের শিক্ষকদের এখন থেকেই ‘আদর্শ’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। আদর্শের আলোচনা শিক্ষকগণের মুখে মুখে থাকবে। ক্লাসে ক্লাসে এগুলো আলোচিত হবে। শিক্ষার্থীদের আখলাক ও চিন্তাধারা গঠনে ‘মাসিক চিন্তা সেমিনার’-এর আয়োজন করা যেতে পারে। সেখানে চিন্তার আদান-প্রদান করা হবে। যারা চিন্তাধারায় মযবূত, তারা সেখানে আলোচনা রাখবেন। আর তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ম যদি করতে হয়, আরবীতে কথা বলার নিয়ম যদি করতে হয়, ঢিলাঢালা সুন্নাতী পোশাকের নিয়ম যদি করতে হয়, তবে শিক্ষকের জন্য করতে হবে। কারণ শিক্ষকগণ যদি এগুলোতে অভ্যস্ত হোন তবে শিক্ষার্থীরা সেগুলো এমনিতেই নিজেদের মাঝে নিয়ে নিবে। এভাবে ধীরে ধীরে হয়ত আমরা একসময় আমাদের শুকনো ঠনঠনে পরিবেশের বুকে এক পশলা বৃষ্টি নিয়ে উপস্থিত হ’তে পারব ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে আমরা আমাদের সবটুকু শ্রদ্ধা একত্রিত করে আমাদের শিক্ষকগণের প্রতি আবেদন রাখব, তারা যেন তাদের প্রতিটি পদচিহ্ন এমনভাবে রাখেন, যা নির্দ্বিধায় অনুসরণ করা যায়। তারা যেন শিক্ষার্থীদের জন্য হ’তে পারেন ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’। তাদের মাধ্যমে যেন শিক্ষার্থীদের তাক্বওয়া, সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা, যোগ্য হওয়ার তীব্র বাসনা, দ্বীনের খিদমতে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়ার শক্ত মানসিকতার বীজ বপিত হয়। শিক্ষার্থীরা যেন ভালোবেসেই সব ভাল গুণগুলোকে নিজের মাঝে স্থান দেয়।
আমরা জানি, এই কাজ অনেক কঠিন। একটা পাহাড় বহন করে স্থানান্তর করার চেয়েও হয়ত কঠিন। কারণ নীতি-নৈতিকতা, আমল-আখলাক শুধু শিক্ষার্থীরাই হারায়নি। আমরাও হারিয়েছি। তাই আমাদের এখন থেকেই দো‘আ এবং আত্মপরিচর্যা বাড়াতে হবে। একটি ব্যক্তিগত কাঠগড়া তৈরী করতে হবে। যে কাঠগড়ায় সকাল-সন্ধা নিজেকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে। প্রতিনিয়ত কমিয়ে ফেলতে হবে ঐ কাজগুলো, যেগুলো আমার শিক্ষার্থীরা করলে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। প্রতিনিয়ত বাড়াতে হবে সুন্দর কথা, কাজ ও চিন্তার বীজ বপন। আজ থেকে যদি এগুলো বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারি, তবে কিছুদিন পরে হয়ত আমরাই হয়ে উঠব যোগ্য মালী।
এই কঠিন সফরে আমি সকল শিক্ষকের জন্য দো‘আ করি। আর আমিও একজন শিক্ষক। তাই এই লেখার মাধ্যমে আমার সকল পাঠকের নিকটে আমিও খাছ দো‘আ চাই, আল্লাহ যেন আমাদেরকে এই শক্তি ও সামর্থ্য দান করেন। আল্লাহ যেন আমাদের অন্তরের কথাগুলো আমাদের আমলের মাঝে মিশিয়ে দেন। যেমনভাবে দুধের সাথে চিনি মিশে গিয়ে দুধকে মিষ্টি করে তোলে। আমাদের আশাগুলো আমাদের পদচিহ্নের সাথে যেন এমনভাবে মিশে যায়, যেভাবে বৃষ্টির পানি তৃষ্ণার্ত মাটির সাথে মিশে নতুন প্রাণের জন্ম দেয়। আল্লাহ আমাদের সকলের সুন্দর প্রচেষ্টাগুলোকে কবূল করুন। আমীন।