ভূমিকা :
শী‘আ একটি ভ্রান্ত ফের্কা। রাজনৈতিক মতভেদের প্রেক্ষাপটে এর সূচনা হ’লেও পরবর্তীকালে এটি একটি চরমপন্থী ও ভ্রান্ত ধর্মীয় মতবাদে রূপান্তরিত হয়। এরা ইসলামের ইতিহাসের এক কলংকময় অধ্যায় রচনা করেছে। ছাহাবীদের প্রতি বিদ্বেষ, কুরআন বিকৃতির দাবী, তাকিয়া নীতি এবং ইমামদের এলাহী ক্ষমতার অধিকারী মনে করার মতো জঘন্য ও ঈমান বিধ্বংসী আক্বীদাগুলো তাদেরকে ইসলাম থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করেছে। ইসলামের সাথে তাদের যোজন যোজন দূরত্ব থাকলেও না জেনে অনেকেই তাদেরকে ঢালাওভাবে মুসলিম মনে করে থাকেন। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে আমরা শী‘আদের পরিচয়, উৎপত্তি এবং তাদের ভয়াবহ ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ সংক্ষিপ্তাকারে উপস্থাপন করব ইনশাআল্লাহ।
শী‘আ ও রাফেযী পরিচিতি
শী‘আ পরিচিতি :
‘শী‘আ’ (الشيعة) শব্দটি আরবী। যার আভিধানিক অর্থ দল, সম্প্রদায়, অনুসারী, ভক্ত, গোষ্ঠী। শব্দটি একবচন, বহুবচনে شِيِعٌ، أشْياَعٌ।[1] পবিত্র কুরআনে শব্দটি মূলত এই আভিধানিক অর্থেই এসেছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,وَإِنَّ مِن شِيعَتِهِ لَإِبْرَاهِيمَ، ‘আর ইবরাহীম তো তাঁর (নূহের) অনুগামীদেরই অন্তর্ভুক্ত’ (ছাফফাত ৩৭/৮৩)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, كَمَا فُعِلَ بِأَشْيَاعِهِم مِّن قَبْلُ ‘যেমন পূর্বে তাদের সমমনাদের সাথে করা হয়েছিল’ (সাবা ৩৪/৫৪)।
ইসলামী পরিভাষায় এটি এমন এক গোষ্ঠীকে বোঝায় যারা বিশ্বাস করে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ওফাতের পর খেলাফত বা ইমামতের একমাত্র বৈধ হকদার হ’লেন আলী (রাঃ) এবং তাঁর বংশধর। তারা ইসলামী আক্বীদা ও শরী‘আতের মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে প্রথম তিন খলীফাসহ অধিকাংশ ছাহাবীকে প্রত্যাখ্যান ও তাকফীর করার মতো ভ্রান্ত আক্বীদা পোষণ করে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে এটি নিছক একটি রাজনৈতিক অবস্থান হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেও কালক্রমে ইহুদী ও মাজুসী চক্রান্তের প্রভাবে এটি একটি চরমপন্থী ও ঈমান বিধ্বংসী ধর্মীয় মতবাদে রূপান্তরিত হয়েছে।
রাফেযী পরিচিতি :
‘রাফযুন’ (رَفْضٌ) আরবী শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ হ’ল- প্রত্যাখ্যান, অস্বীকৃতি, অস্বীকার।[2] পারিভাষিক অর্থে ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (১৬৪-২৪১ হি.) বলেন, هُمْ الَّذِينَ يَتَبَرَّؤُونَ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَسُبُّونَهُمْ، وَيَتَنَقَّصُونَ وَيُكَفِّرُونَ الْأَئِمَّةَ إِلَّا أَرْبَعَةً: عَلِيٌّ، وَعَمَّارٌ، وَالْمِقْدَادُ، وَسَلْمَانُ، وَلَيْسَتِ الرَّافِضَةُ مِنَ الْإِسْلَامِ فِي شَيْءٍ، ‘রাফেযীরা হ’ল তারা, যারা মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর ছাহাবীগণ থেকে সম্পর্কচ্ছেদ ঘোষণা করে, তাঁদের গালি দেয়, তাঁদের মর্যাদা খাটো করে এবং চারজন (ছাহাবী) ব্যতীত বাকী সবাইকে কাফের বলে। ঐ চারজন হ’লেন- আলী, আম্মার, মিক্বদাদ ও সালমান (রাঃ)। আর রাফেযীদের সঙ্গে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই’।[3] ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ)-এর পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ (২১৩-২৯০ হি./৮২৮-৯০৩ খ্রি.) বলেন,سَأَلْتُ أَبِي: مَنِ الرَّافِضَةُ؟ فَقَالَ: الَّذِينَ يَشْتِمُونَ أَوْ يَسُبُّونَ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللهُُ عَنْهُمَا ‘আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাফেযী কারা? তিনি বললেন, যারা আবূ বকর ও ওমর (রাঃ)-কে গালি দেয় তারাই রাফেযী’।[4] অর্থাৎ যারা মূল শী‘আদের নীতি প্রত্যাখ্যান করে বের হয়ে গেছে, তাদেরকেই ‘রাফেযী’ বলা হয়। রাফেযীরা মূলত শী‘আ সম্প্রদায় থেকে প্রত্যাখ্যাত একটি চরম পথভ্রষ্ট ফিরক্বা।
শী‘আদের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ :
ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘শী‘আ’ মতবাদের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম একটি সংবেদনশীল ও জটিল অধ্যায়। শী‘আ মতবাদ রাতারাতি কোন পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় মতাদর্শ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেনি; বরং এটি একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক মতভেদ থেকে শুরু করে চরমপন্থী ধর্মীয় আক্বীদায় রূপান্তরিত হয়েছে। এর ক্রমবিকাশকে কয়েকটি পর্যায়ে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে।
(ক) প্রথম পর্যায় :
প্রথম পর্যায়ে এটি ছিল নিছকই একটি রাজনৈতিক দল। ওছমান (রাঃ)-এর শাহাদাতের পর সৃষ্ট ফেৎনা এবং পরবর্তীতে আলী (রাঃ) ও মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর মধ্যকার দ্বন্দ্বের সময় যারা আলী (রাঃ)-এর পক্ষাবলম্বন করেছিলেন তাদেরকে ‘শী‘আতু আলী’ (আলী-এর দল) বলা হ’ত। এই আদি শী‘আদের আক্বীদায় তেমন কোন বিচ্যুতি ছিল না। তাঁরা আবুবকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্বকে অকপটে স্বীকার করতেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হি.) বলেন,كَانَتِ الشِّيعَةُ الْمُتَقَدِّمُونَ الَّذِينَ صَحِبُوا عَلِيًّا أَوْ كَانُوا فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ لَمْ يَتَنَازَعُوا فِي تَفْضِيلِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ، وَإِنَّمَا كَانَ نِزَاعُهُمْ فِي تَفْضِيلِ عَلِيٍّ وَعُثْمَانَ ‘আলী (রাঃ)-এর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত পূর্ববর্তী শী‘আগণ অথবা যারা তাঁর সময়কাল পেয়েছেন, তারা আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে কোন দ্বিমত পোষণ করতেন না। তাঁদের মধ্যে কেবল ওছমান ও আলী (রাঃ)-এর মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ তা নিয়েই বিতর্ক ছিল’।[5] এজন্য প্রথম পর্যায়ের সালাফগণ তাদের ব্যাপারে কিছুটা নমনীয় ফৎওয়া দিয়েছেন। কারণ তারা বর্তমান শী‘আদের মতো জঘন্য ছিল না।
(খ) দ্বিতীয় পর্যায় :
এ পর্যায়ে শী‘আ মতবাদের মধ্যে আক্বীদাগত বিচ্যুতির অনুপ্রবেশ ঘটে। মূলত আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা নামক এক ইয়ামেনী ইহুদীর মাধ্যমে ইসলামে গুপ্ত চক্রান্ত ও ভ্রান্ত আক্বীদার বিষবৃক্ষ রোপিত হয়। ইতিহাসে এরা ‘সাবাঈ’ হিসাবে পরিচিত। এরাই সর্বপ্রথম আলী (রাঃ)-এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে এবং চরমপন্থী ধারণা পোষণ করতে শুরু করে। এমনকি তাঁর মধ্যে ইলাহী সত্তার (ইলাহ) দাবী তুলে ধরে। এই সাবাঈদের অপতৎপরতার বিষয়ে বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও আক্বীদা বিশেষজ্ঞ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কারীম আশ-শাহরাস্তানী (৪৭৯-৫৪৮ হি.) বলেন, السَّبَائِيَّةُ أَصْحَابُ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَبَإٍ، الَّذِي قَالَ لِعَلِيٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ: أَنْتَ، أَنْتَ، يَعْنِي أَنْتَ الْإِلَهُ، فَنَفَاهُ إِلَى الْمَدَائِنِ. زَعَمُوا أَنَّهُ كَانَ يَهُودِيًّا فَأَسْلَمَ، وَكَانَ فِي الْيَهُودِيَّةِ يَقُولُ فِي يُوشَعَ بْنِ نُونٍ وَصِيِّ مُوسَى عَلَيْهِمَا السَّلَامُ مِثْلَ مَا قَالَ فِي عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ أَظْهَرَ الْقَوْلَ بِالنَّصِّ بِإِمَامَةِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، وَمِنْهُ انْشَعَبَتْ أَصْنَافُ الْغُلَاةِ. ‘সাবাঈ হ’ল আবদুল্লাহ ইবনে সাবা-এর অনুসারী, যে আলী (রাঃ)-কে বলেছিল, আপনি! আপনি! অর্থাৎ আপনি-ই ইলাহ। ফলে আলী (রাঃ) তাকে মাদায়েনে নির্বাসিত করেন। তারা দাবী করে যে, সে মূলত একজন ইহূদী ছিল। পরে ইসলাম গ্রহণ করে। ইহূদী অবস্থায় সে যেমন মূসা (আঃ)-এর ওছী বা প্রতিনিধি ইউশা‘ ইবনে নূন সম্পর্কে বিশেষ বিশ্বাস পোষণ করত, ইসলাম গ্রহণের পর আলী (রাঃ) সম্পর্কেও অনুরূপ কথা বলতে শুরু করে। আলী (রাঃ)-এর ইমামত সম্পর্কে ‘নাছ’ (সুস্পষ্ট মনোনয়ন)-এর মতবাদ সর্বপ্রথম সে-ই প্রকাশ করে। আর তার থেকেই চরমপন্থী দলগুলোর বিভিন্ন শাখার উদ্ভব হয়’।[6] আল্লামা ইহসান ইলাহী যহীর (১৩৬৭-১৪০৭ হি./১৯৪৫-১৯৮৭ খ্রি.) বলেন, ‘শী‘আ মতবাদের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা হ’ল আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা। যাকে ছান‘আর ইহুদীরা মদীনায় পাঠিয়েছিল ইসলামের পোষাক পরিধান করিয়ে (ছদ্মবেশে)। সে নিজের ভেতরে চরম কুফর এবং ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও বিদ্বেষ লুকিয়ে রেখেছিল। সেই হ’ল বর্তমান শী‘আ মতবাদের মূল ভিত্তি স্থাপনকারী প্রথম ব্যক্তি, যে মুসলমানদের মধ্যে এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ জামা‘আতের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। আর এমন সব ভ্রান্ত আক্বীদা প্রচার করেছে যা আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহর সম্পূর্ণ বিপরীত’।[7]
এই সময়কাল থেকেই শী‘আরা আলী (রাঃ)-কে আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করতে শুরু করে। যেমন তৎকালীন যুগের শী‘আ শারীক ইবনু আব্দুল্লাহ আন-নাখঈ (৯৫-১৭৭ হি./৭১৪-৭৯৩ খ্রি.)-কে যখন জিজ্ঞেস করা হ’ল, যারা আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-কে আলী (রাঃ)-এর ওপর শ্রেষ্ঠ বলে তাদের কি শী‘আ বলা যায়? তিনি তা নিষেধ করেছিলেন।[8] অর্থাৎ তার আক্বীদা হ’ল আলী (রাঃ) ছিলেন আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর যারা এই আক্বীদা পোষণ করে না তারা শী‘আ নয়। তখন থেকেই সালাফগণ এমন বাতিল আক্বীদার কঠোর বিরোধিতা শুরু করেন। যেমন প্রখ্যাত তাবেঈ ইমাম সুফিয়ান আছ-ছাওরী (৯৭-১৬১ হি./৭১৬-৭৭৮ খ্রি.) বলেন,مَنْ فَضَّلَ عَلِيًّا عَلَى أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ فَقَدْ أَزْرَى بِالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ، وَمَا أَرَى يَصْعَدُ لَهُ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ عَمَلٌ وَهُوَ كَذَلِكَ ‘যে ব্যক্তি আলীকে আবুবকর ও ওমরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয় সে মুহাজির ও আনছারদের মর্যাদাকে খাটো করল। আর আমি মনে করি এ বিশ্বাস পোষণকারী ব্যক্তির কোন আমলই আল্লাহ তা‘আলার নিকট গ্রহণযোগ্যতার মর্যাদায় উন্নীত হয় না’।[9]
(খ) তৃতীয় পর্যায় :
পূর্ণাঙ্গ রাফেযী মতবাদের উদ্ভব ঘটে উমাইয়া শাসনামলের শেষের দিকে এবং আববাসীয় যুগে। ১২২ হিজরীতে হুসাইন (রাঃ)-এর পৌত্র যায়েদ বিন আলী (৭৯-১২২ হি./৬৯৮-৭৪০ খ্রি.) খলীফা হিশাম ইবনু আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে যখন বিদ্রোহ করেন তখন একদল কূফাবাসী তাঁকে শর্ত দেয় যে, তিনি যদি আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-কে অস্বীকার করেন এবং তাঁদেরকে গালি দেন তবেই তারা তাঁর সাথে থাকবে। যায়েদ বিন আলী (রাঃ) এই জঘন্য প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং প্রথম দুই খলীফার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফলশ্রুতিতে এই চরমপন্থীরা তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করে। তখন থেকেই তারা ‘রাফেযী’ (প্রত্যাখ্যানকারী) নামে পরিচিত হয়। এ প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ ইবনে ছালেহ আল-উছায়মীন (১৩৪৭-১৪২১ হি./১৯২৯-২০০১ খ্রি.) বলেন, ‘রাফেযীরা হ’ল তারা, যাদেরকে বর্তমানে শী‘আ বলা হয়। তাদেরকে রাফেযী নামকরণ করা হয়েছে এজন্য যে, তারা যায়দ ইবনু আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবী তালেব (রাঃ)-কে প্রত্যাখ্যান করেছিল। বর্তমানের যায়দিয়ারা তাঁরই দিকে নিজেদের সম্পর্কিত করে। যায়েদ ইবনু আলীকে প্রত্যাখ্যানের কারণ ছিল তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল,ما تقول في أبي بكر وعمر؟ ‘আপনি আবুবকর ও ওমর সম্পর্কে কি বলেন’? তারা চেয়েছিল তিনি যেন তাঁদের দু’জনকে গালি দেন ও তাঁদের সমালোচনা করেন। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, نِعْمَ الْوَزِيرَانِ وَزِيرَا جَدِّي، يُرِيدُ بِذَلِكَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ ‘তাঁরা ছিলেন আমার নানা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সর্বোত্তম দুই সহযোগী’। এভাবে তিনি তাঁদের প্রশংসা করেন। ফলে তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করে, তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হয় এবং তাঁকে ছেড়ে চলে যায়। এ কারণেই তাদের নাম হয় ‘রাফেযী’ (প্রত্যাখ্যানকারী)।[10] তবে আবুল হাসান আল-আশ‘আরী (২৬০-৩২৪ হি./৮৭৪-৯৩৬ খ্রি.) বলেন, وإنما سموا رافضة لرفضهم إمامة أبي بكر وعمر، ‘তাদেরকে রাফেযী নামে অভিহিত করা হয়েছে এ কারণে যে, তারা আবুবকর ও ওমরের ইমামত বা খেলাফতকে প্রত্যাখ্যান করেছে’।[11] পরবর্তীতে এই রাফেযীরাই বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার মধ্যে ইছনা আশারিইয়া (বারো ইমামী) এবং ইসমাঈলীয়া অন্যতম। ধীরে ধীরে তারা নিজেদেরকে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মূলস্রোত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে নেয় এবং ছাহাবায়ে কেরামকে তাকফীর করা, কুরআন বিকৃতির দাবী, ইমামদেরকে নিষ্পাপ ও গায়েবের জ্ঞানী মনে করা এবং তাকিয়া-এর মতো ঈমান বিধ্বংসী আক্বীদাগুলোর উদ্ভব ঘটায়। এভাবেই একটি রাজনৈতিক মতপার্থক্য কালক্রমে ইহুদী ও মাজুসী (অগ্নিপূজক) ষড়যন্ত্রের রসদ পেয়ে একটি ভ্রান্ত ও চরমপন্থী ধর্মীয় সম্প্রদায়ে পরিণত হয়। যা যুগে যুগে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে ফাটল ধরানো এবং ইসলামী খেলাফতের পতনে গুপ্তঘাতকের ভূমিকা পালন করে চলেছে।
শী‘আ সম্প্রদায়ের প্রধান শাখা-প্রশাখা
পরবর্তীতে শী‘আ সম্প্রদায়ের মধ্যে অসংখ্য শাখা-প্রশাখা ও উপদলের সৃষ্টি হয়েছে। কালক্রমে এদের অনেকগুলোর বিলুপ্তি ঘটলেও বর্তমানে তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ শাখা হ’ল তিনটি। এই তিনটি প্রধান শাখার সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হ’ল।
১. ইমামিয়া ইছনা-আশারিইয়া (الإِمَامِيَّة الِاثْنَا عَشَرِيَّة) :
বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে কট্টরপন্থী শী‘আ গোষ্ঠী হ’ল এই ‘ইমামিয়া ইছনা-আশারিইয়া’ বা বারো ইমামী সম্প্রদায়। আহলুস সুন্নাতের ইমামগণ সাধারণত ‘রাফেযী’ বলতে এদেরকেই বুঝিয়ে থাকেন। এদের ‘ইছনা-আশারিইয়া’ বা ‘বারো ইমামী’ বলার কারণ হ’ল তারা নির্দিষ্ট বারোজন ইমামের ধারায় বিশ্বাস করে। তিউনিসীয় শী‘আ গবেষক আব্দুল্লাহ জান্নূফ স্বীয় ডক্টরেট থিসিসে সেই বারোজন ইমামের একটি তালিকা দিয়েছেন, যা পরিমার্জন সহ নিম্নরূপ :
১. আলী ইবনু আবী তালেব (মৃ. ৪০ হি./৬৬১ খ্রি.)
২. হাসান ইবনু আলী (৩-৫০ হি./৬২৫-৬৭০ খ্রি.)
৩. হুসাইন ইবনু আলী (৪-৬১ হি./৬২৬-৬৮০ খ্রি.)
৪. আলী যায়নুল আবিদীন (৩৮-৯৫ হি./৬৫৯-৭১৩ খ্রি.)
৫. মুহাম্মাদ আল-বাক্বির (৫৭-১১৪ হি./৬৭৭-৭৩৩ খ্রি.)
৬. জা‘ফর আছ-ছাদিক (৮০-১৪৮ হি./৬৯৯-৭৬৫ খ্রি.)
৭. মূসা আল-কাযিম (১২৮-১৮৩ হি./৭৪৫-৭৯৯ খ্রি.)
৮. আলী আর-রিযা (১৪৮-২০৩ হি./৭৬৫-৮১৮ খ্রি.)
৯. মুহাম্মাদ আল-জাওয়াদ (১৯৫-২২০ হি./৮১১-৮৩৫ খ্রি.)
১০. আলী আল-হাদী (২১২-২৫৪ হি./৮২৮-৮৬৮ খ্রি.)
১১. হাসান আল-আসকারী (২৩২-২৬০ হি./৮৪৬-৮৭৪ খ্রি.)
১২. মুহাম্মাদ আল-মাহদী (জন্ম ২৫৫ হি.-মৃত্যুকাল অজ্ঞাত) (তাদের কাল্পনিক ধারণা অনুযায়ী তিনি শিশু অবস্থায় প্রায় ৫ বছর বয়সে সামাররার এক গুহায় অন্তর্হিত হয়েছেন এবং ইমাম মাহদী হয়ে কিবয়ামতের আগে আগমন করবেন)।[12]
ইছনা আশারিইয়া (বারো ইমামী) শী‘আরা বর্তমানে শী‘আদের বৃহত্তম শাখা। তাদের প্রধান কেন্দ্র ইরান। তাছাড়া ইরাক, আজারবাইজান, বাহরাইন, লেবানন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুরস্ক, ভারত, বাংলাদেশ, সিরিয়া, সঊদী আরব, কুয়েত, ইংল্যান্ড, কানাডা প্রভৃতি দেশে ইছনা আশারিইয়া শী‘আদের বসবাস রয়েছে।[13] ২০১১ সাথে পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২% শী‘আ। তাদের সংখ্যা প্রায় ২৯ লাখ ৭২ হাযার। এর মধ্যে প্রায় সবাই বারো ইমামী শী‘আ।[14]
২. ইসমাঈলিয়া (الْإِسْمَاعِيلِيَّة) :
শী‘আদের এই শাখাটির উদ্ভব ঘটে তাদের ষষ্ঠ ইমাম জা‘ফর আছ-ছাদিক (৮০-১৪৮ হি./৬৯৯-৭৬৫ খ্রি.)-এর ইন্তেকালের পর। এটি একটি চরমপন্থী ও বাতেনী সম্প্রদায়। জা‘ফর আছ-ছাদিকের পর পরবর্তী ইমাম কে হবেন তা নিয়ে শী‘আরা বিভক্ত হয়ে পড়ে। ‘ইমামিয়া’ সম্প্রদায় তাঁর পুত্র মূসা আল-কাযিমকে ইমাম হিসাবে গ্রহণ করে। অন্যদিকে আরেকটি দল জা‘ফরের জ্যেষ্ঠ পুত্র ইসমাঈল ইবনু জা‘ফর (১১০-১৩৮ হি./৭২৮-৭৫৫ খ্রি.) অথবা তাঁর বংশধরদের ইমাম হিসাবে দাবী করে। এই দলটিই ইতিহাসে ‘ইসমাঈলিয়া’ নামে পরিচিতি লাভ করে।[15]
বর্তমানে ইসমাঈলী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম জনগোষ্ঠী ভারতে বসবাস করে। তাছাড়া আফগানিস্তানের বাদাখশান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ঈসমাঈলী শী‘আদের বসবাস রয়েছে। এছাড়া পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে-বিশেষত কেনিয়া, তানজানিয়া, উগান্ডা ও অ্যাঙ্গোলায় উল্লেখযোগ্য ইসমাঈলী জনগোষ্ঠী বিদ্যমান। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানী, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী ইসমাঈলী বসবাস করে। তদুপরি মালয়েশিয়া, ইরান, সঊদী আরব, জর্ডান, ইরাক এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোসহ বিশ্বের আরও বিভিন্ন দেশে ইসমাঈলী সম্প্রদায়ের উপস্থিতি রয়েছে।[16]
৩. যায়দিয়াহ (الزَّيْدِيَّة) :
এরা হ’ল হুসাইন (রাঃ)-এর পৌত্র যায়দ ইবনু আলী (৭৯-১২২ হি./৬৯৮-৭৪০ খ্রি.)-এর অনুসারী। তারা মনে করে ইমামত কেবল ফাতেমা (রাঃ)-এর বংশধরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাঁদের বাইরে অন্য কারো জন্য ইমামত বৈধ নয়। তবে তাদের মতে ফাতেমী বংশের যে ব্যক্তি জ্ঞানী, সাহসী ও দানশীল হবে এবং ইমামতের দাবীতে প্রকাশ্যে আত্মপ্রকাশ করবে সে-ই আনুগত্যের উপযুক্ত ইমাম বলে গণ্য হবে’।[17] তাদের প্রধান আক্বীদাগত বৈশিষ্ট্য হ’ল- তারা আলী (রাঃ)-কে অন্যান্য সকল ছাহাবীর চেয়ে উত্তম মনে করে। তবে চরমপন্থী রাফেযীদের বিপরীতে তারা আবুবকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ)-এর খেলাফতকে বাতিল বলে না; বরং তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, ফিতনা প্রতিরোধ এবং মুসলিম সমাজের ঐক্য রক্ষার স্বার্থে আবুবকরের খেলাফত অধিক উপযোগী ছিল’।[18] তবে ইমাম হারব ইবনু ইসমাঈল আল-কারমানী (মৃত্যু : ২৮০ হি./৮৯৩-৮৯৪ খ্রি.) বলেন, والزيدية هم رافضة وهم الذين يتبرءون من عثمان، وطلحة والزبير، وعائشة، ويرون القتال مع كل من خرج من ولد علي، برًّا كان أو فاجرًا حتى يَغلب أو يُغلب ‘আর যায়দিয়ারা, তারাও রাফেযীদেরই অন্তর্ভুক্ত। তারা ওছমান, তালহা, যুবায়ের ও আয়েশা (রাঃ)-এর প্রতি সম্পর্কচ্ছেদ (বারাআত) প্রকাশ করে। আর তারা মনে করে ‘আলীর বংশধরদের মধ্য থেকে যে বিদ্রোহ বা আন্দোলনে বের হবে, সে নেককার হোক বা পাপাচারী হোক, তার পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করা আবশ্যক, যতক্ষণ না সে বিজয়ী হয় অথবা পরাজিত হয়’।[19]
সুতরাং ‘যায়দিয়াহ’ সম্প্রদায়কে অন্যান্য চরমপন্থী শী‘আদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নমনীয় মনে করা হ’লেও তাত্ত্বিকভাবে তারাও ‘আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত’-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। আক্বীদাগত বিচ্যুতি ও রাজনৈতিক বিদ্রোহের কারণে ওলামায়ে কেরাম তাদেরও বিদ‘আতী ও ভ্রান্ত ফিরক্বা হিসাবেই গণ্য করে থাকেন।[20]
যায়দিয়া শী‘আদের সংখ্যা প্রায় ৮-১০ মিলিয়ন। এদের প্রায় সবাই ইয়ামেনে বসবাস করে। ইয়ামেনের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই হ’ল যায়দী শী‘আ। মূলত উত্তর ইয়ামেন, ছানা এবং দেশটির পাহাড়ী অঞ্চলগুলোতে তাদের ব্যাপক আধিপত্য রয়েছে।[21] ইয়ামেনের ‘হাওছী’ আন্দোলনের ঐতিহাসিক শিকড় যায়দিইয়া সমাজের মধ্যেই প্রোথিত। তবে সমসাময়িক হূথী চিন্তাধারায় কট্টরপন্থী ‘ইমামিয়া ইছনা-আশারিয়া’ শী‘আদের রাজনৈতিক ও আক্বীদাগত প্রভাব প্রবলভাবে পরিলক্ষিত হয়। সঊদী আরবের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও যায়দিয়া শী‘আদের বসবাস রয়েছে।[22]
বর্তমানে ইরান, ইরাক, লেবানন, বাহরাইন এবং আজারবাইজানে ইছনা আশারিইয়া শী‘আদের আধিপত্য ও বিস্তার সর্বাধিক। আর গোটা বিশে^র মোট শী‘আ জনসংখ্যার ৮৯-৯৫% বারো ইমামী (ইছনা আশারিইয়া) শী‘আ। আব্দুর রহমান ইবনে সা‘দ শাছরী বলেন,إنَّ لفظَ الشيعةِ إذا أُطلقَ اليوم : فإنه لا يَنصرفُ إلاَّ إلى طائفة الاثنى عشرية، وذلك لأنَّ الاثنى عشرية هم غالبيةُ الشيعةِ اليوم في إيران، والعراق، وسوريا، ولبنان، ودول الخليج، وغير ذلك من الأماكن، ولأنَّ مصادرهم في الحديث والرواية قد استوعبت مُعظمَ آراءِ الفِرقِ الشيعية التي خَرَجَت في فترات التاريخ، ‘বর্তমানে শী‘আ শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হ’লেও তা কেবল ‘ইছনা আশারিইয়া’ সম্প্রদায়কেই বোঝায়। এর কারণ হ’ল বর্তমানে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহসহ অন্যান্য স্থানে এই ইছনা আশারিইয়া সম্প্রদায়ই শী‘আদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর এর আরেকটি কারণ হ’ল হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের উৎস গ্রন্থগুলো ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে আত্মপ্রকাশ করা অধিকাংশ শী‘আ উপদলের মতবাদকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করে নিয়েছে’।[23]
শী‘আদের ভ্রান্ত আক্বীদা ও বিশ^াস :
শী‘আদের বিভিন্ন ধর্মীয় বইপত্র ও তাফসীরের কিতাব থেকে তাদের কতিপয় ভ্রান্ত আক্বীদা উল্লেখ করা হ’ল-
১. ইছনা আশারিইয়াহ শী‘আদের মতে ইমামগণ আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত (مَنْصُوص من الله)। এটি নবুঅতের মতোই একটি এলাহী পদ।[24]
২. ইমামগণ নবী-রাসূলদের মতোই জন্মগতভাবে ছোট-বড় যাবতীয় ভুল-ত্রুটি ও পাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত বা মা‘ছূম।[25]
৩. ইমামদেরকে চেনা ও মানা ফরয। ইমামদেরকে অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফের। তাদের প্রতি রাসূলের আনুগত্যের ন্যায় আনুগত্য পোষণ করতে হবে।[26] এছাড়া ইমামগণ নবীগণের ন্যায় নিষ্পাপ ও তারা যে কোন বস্ত্তকে হালাল বা হারাম ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখেন।[27]
৪. তারা তাদের ইমামদেরকে স্বয়ং আল্লাহর নাম এবং তাঁর সুমহান গুণাবলী দ্বারা বিশেষায়িত করে।[28]
৫. আলী (রাঃ) হ’লেন রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের অন্যতম একটি শাখা।[29]
৫. মহান আল্লাহর একটি অংশ তাদের ইমামদের মধ্যে অনুপ্রবেশ বা অবতীর্ণ (হুলুল) হয়েছে।[30]
৬. দুনিয়া ও আখেরাতের সবকিছুই ইমামের মালিকানাধীন এবং তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেন।[31]
৭. মহাবিশ্বের সকল ঘটনাবলী ও প্রাকৃতিক নিয়ম-কানূন ইমামেরই নির্দেশ ও কর্মকান্ডের অংশ।[32]
৮. তাদের ইমামগণ অতীত এবং ভবিষ্যতের গায়েবের জ্ঞান রাখে।[33]
৯. শী‘আদের তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-কে ক্বিয়ামতের দিন ইবলীসের চেয়েও বেশী
শাস্তি দেওয়া হবে।[34] নাউযুবিল্লাহ।
১০. আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর রিসালাতের কাজ ছিল কেবল আলী (রাঃ)-এর পরিচয় তুলে ধরা। শুধু আলী (রাঃ)-এর কাছে কুরআন ব্যাখ্যা করাই ছিল রাসূল (ছাঃ)-এর দায়িত্ব।[35]
১১. তারা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছাহাবীদের গালিগালাজ করে, তাঁদেরকে অভিসম্পাত দেয়। তাদের আক্বীদা হ’ল আলী (রাঃ) সহ মাত্র কয়েকজন ছাহাবী ব্যতীত প্রথম তিন খলীফা সহ সকল ছাহাবী রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পর কাফের হয়ে গেছেন।[36]
১২. তাদের ইমামদের নিকটে ফেরেশতা যাওয়া-আসা করেন।[37]
১৩. জিবরীল যে কুরআন নিয়ে এসেছিলেন তাতে ১৭ হাযার আয়াত ছিল।[38]
১৪. তাদের নিকটে ‘মুছহাফে ফাতেমী’ রয়েছে, যা কুরআনের চাইতে তিনগুণ বড় এবং তাতে কুরআনের একটি হরফও নেই।[39]
১৫. সুন্নীরা জাহান্নামী, তারা কাফের, নাপাক, তাদের জানাযার ছালাত আদায় করা নাজায়েয, তাদের যবেহকৃত পশু খাওয়া অবৈধ, তারা ব্যভিচারের সন্তান, তারা বানর এবং শূকর, তাদেরকে হত্যা করা ওয়াজিব।[40]
১৬. ইমাম ও অলীদের মাযার যিয়ারত করা ফরয। যিয়ারত পরিত্যাগকারী কাফের।[41]
১৭. হুসায়েন (রাঃ)-এর কবর যিয়ারত করা বিশ বার হজ্জ এবং ওমরাহ করার চেয়েও উত্তম।[42]
১৮. তাদের নিকট সাধারণ ওলামা ও মুজতাহিদদের ইজমা বা ঐকমত্য শরী‘আতের কোন অকাট্য দলীল নয়, যতক্ষণ না সেই ইজমার মধ্যে তাদের কোন নিষ্পাপ ইমামের বক্তব্য বা মতামত অন্তর্ভুক্ত থাকে।
১৯. আল্লাহর বাণী, فَآمِنُوا بِاللهِ وَرَسُولِهِ وَالنُّورِ الَّذِي أَنْزَلْنَا ‘অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং যে জ্যোতি আমরা নাযিল করেছি, তার উপর বিশ্বাস স্থাপন কর’ (তাগাবুন ৬৪/৮)। এই আয়াতের ব্যাপারে তারা বলে- এই ‘নূর’ হ’ল কিবয়ামত পর্যন্ত আগত মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর পরিবারের (আহলুল বাইতের) ইমামগণ। আল্লাহর কসম! তারাই হ’লেন আল্লাহর সেই নূর যা তিনি নাযিল করেছেন’।[43]
২০. ইমামদের নাম উচ্চারণ করা ব্যতীত কোন দো‘আ কবুল হয় না।[44]
২১. ইসমাঈলীয় শী‘আরা ইসলামী শরী‘আতের প্রকাশ্য অর্থের চেয়ে কুরআনের ‘বাতিনী’ (الْبَاطِنِيَّة) বা মনগড়া গুপ্ত ব্যাখ্যার উপর সর্বাধিক জোর দেয়। কেননা বাতেনী অর্থটাই অধিকতর গ্রহণযোগ্য।[45]
শী‘আরা এমন আরো অনেক ভ্রান্ত আক্বীদায় বিশ^াসী, যা তাদের কিতাবপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এতদসত্ত্বেও বাংলাদেশের অনেক মানুষ ইরানের রাফেযী শী‘আদের মুসলিম মনে করে থাকে। আল-ইয়াযু বিল্লাহ।
তাবেঈ তালহা ইবনে মুছাররিফ (মৃত্যু : ১১২ হি./ ৭৩০ খ্রি.) বলেন,الرَّافِضَةُ لا تُنْكَحُ نِسَاؤُهُمْ، وَلا تُؤْكَلُ ذَبَائِحُهُمْ، لأَنَّهُمْ أَهْلُ رِدَّةٍ ‘রাফেযীদের নারীদের বিবাহ করা যাবে না এবং তাদের যবেহকৃত প্রাণীর গোশতও খাওয়া যাবে না। কেননা তারা মুরতাদ বা ধর্মত্যাগী’।[46] তিনি আরে বলেন, لَوْلَا أَنِّي عَلَى طَهَارَةٍ لَأَخْبَرْتُكُمْ بِمَا تَقُولُهُ الرَّوَافِضُ، ‘আমি যদি পবিত্র অবস্থায় (অযুসহ) না থাকতাম, তাহ’লে তোমাদেরকে রাফেযীরা যা বলে তা বলে দিতাম’।[47] প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ আল-ফিরয়াবী (১২০-২১২ হি./৭৩৭-৮২৭ খ্রি.)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, যে ব্যক্তি আবুবকর (রাঃ)-কে গালি দেয় তার বিধান কী? তিনি বললেন, ‘সে কাফের’। লোকটি বলল, তাহ’লে কি তার জানাযার ছালাত আদায় করা হবে? তিনি বললেন, ‘না’। আমি তাঁকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, কিন্তু সে তো ‘লা ইলা-হা
ইল্লাল্লাহ’ বলে। তাহ’লে তার সাথে কিরূপ আচরণ করা হবে?
তিনি বললেন,لا تَمَسُّوهُ بِأَيْدِيكُمْ، ارْفَعُوهُ بِالْخَشَبِ حَتَّى تُوَارُوهُ فِي حُفْرَتِهِ، ‘তোমরা নিজ হাতে তাকে স্পর্শ করবে না; বরং কোন কাঠের সাহায্যে তাকে বহন করে গর্তে (কবরে) নিক্ষেপ করবে’।[48] ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (১৯৪-২৫৬ হি./৮১০-৮৭০ খ্রি.) বলেন,مَا أُبَالِي صَلَّيْتُ خَلْفَ الْجَهْمِيِّ الرَّافِضِيِّ أَمْ صَلَّيْتُ خَلْفَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى، وَلَا يُسَلَّمُ عَلَيْهِمْ، وَلَا يُعَادُونَ، وَلَا يُنَاكَحُونَ، وَلَا يَشْهَدُونَ، وَلَا تُؤْكَلُ ذَبَائِحُهُمْ ‘আমি পরোয়া করি না যে, আমি কোন জাহমী-রাফেযীর পেছনে ছালাত আদায় করলাম নাকি কোন ইহূদী বা নাছারার পেছনে ছালাত আদায় করলাম (অর্থাৎ তার কাছে রাফেযীরা ইহুদী-খৃষ্টানের মতই নিকৃষ্ট)। তাদেরকে সালাম দেওয়া যাবে না, অসুস্থ হ’লে তাদের দেখতে যাওয়া যাবে না, তাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না, তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের যবাইকৃত পশুও খাওয়া যাবে না’।[49]
পরিশেষে বলা যায়, রাফেযীদের কাফের ও মুরতাদ হওয়ার ব্যাপারে ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত’-এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কোন নির্ভরযোগ্য ওলামায়ে কেরামের মাঝে ন্যূনতম দ্বিমত নেই। সালাফে ছালেহীনের উপরোক্ত ফৎওয়া ও ভাষ্যগুলোই এর সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এবং মুসলিম মিল্লাতকে শী‘আ রাফেযীদের অনিষ্টকারিতা থেকে রক্ষা করুন- আমীন!
মুজাহিদুল ইসলাম
নশিপুর, গাবতলী, বগুড়া।
[1]. ড. ফজলুর রহমান, আল-মু‘জামুল ওয়াফী (ঢাকা : রিয়াদ প্রকাশনী, ৬ষ্ঠ সংস্করণ, মে/২০০৯), পৃ. ৬১৪ ।
[2]. ড. ফজলুর রহমান, আল-মু‘জামুল ওয়াফী, পৃ. ৫১৬।
[3]. মুহাম্মাদ আবূ ইয়া‘লা (৩৮০-৪৫৮ হি./৯৯০-১০৬৬ খ্রি.), ত্ববাকাতুল হানাবিলা, তাহকীক্ব : মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফাকী (কায়রো : মাত্ববা‘আতুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিইয়াহ, ১৩৭১হি./১৯৫২খ্রি.), ১/৩৩; নাছির ইবনু আব্দুল্লাহ আল-ক্বিফারী, উছূলু মাযহাবিশ শী‘আহ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইছনা ‘আশারিয়্যাহ-‘আরদ ওয়া নাকদ (রিয়াদ : দারু ত্বাইবাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৪ হি./১৯৯৩ খ্রি.), ৩/১২৫২।
[4]. ইবনে তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হি./১২৬৩-১৩২৮ খ্রি.), আছা-ছারিমুল মাসলূল ‘আলা শাতিমির রাসূল, তাহকীক্ব : মুহাম্মাদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামীদ (সঊদী আরব : আল-হিরসুল ওয়াত্বানী, তা.বি), পৃ. ৫৬৭।
[5]. ইবনে তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হি./১২৬৩-১৩২৮ খ্রি.), মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফী নাকদি কালামিশ শী‘আহ ওয়াল ক্বাদারিয়্যাহ, তাহকীক্ব : মুহাম্মাদ রাশাদ সালিম (রিয়াদ : জামিয়াতুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন সঊদ আল-ইসলামিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪০৬ হি./১৯৮৬ খ্রি.), ১/১৩ ।
[6]. আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কারীম আশ-শাহরাস্তানী (৪৭৯-৫৪৮ হি./১০৮৬-১১৫৩ খ্রি.), আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (কায়রো : মুআসসাসাতুল হালাবী, তাবি), ১/১৮৪।
[7]. ইহসান ইলাহী যহীর, আল-ইসাঈলিইয়াহ : তারীখ ওয়া আক্বায়িদ (লাহোর, পাকিস্তান : ইদারাতু তারজুমানিস সুন্নাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪০৪ হি./১৯৮৪ খ্রি.), পৃ. ৩৯।
[8]. ড. আলী মুহাম্মাদ ছাল্লবী, ‘ফিক্বরুল খাওয়ারিজ ওয়াশ শী‘আতি ফী মীযানি আহলিস সুন্নাতী ওয়াল জামা‘আত (কায়রো : দারু ইবনে হাযম, ১ম মুদ্রণ, ১৪২৯হি./২০০৮খ্রি.), পৃ. ৯৪।
[9]. ইবনু তাইমিয়া, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, সম্পাদনা আব্দুর রহমান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ক্বাসেম (মদীনা মুনাওয়ারা: মুজাম্মা‘ আল-মালিক ফাহদ লি তিবা‘আতিল মুছহাফিশ শরীফ, ১৪২৫ হি./২০০৪ খ্রি.), ১৩/৩৪।
[10]. মুহাম্মাদ ইবনু ছালেহ আল-উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়েল (রিয়াদ : দারুল ওয়াতান, ১৪১৩ হি.), ৮/৪৪৭।
[11]. আবুল হাসান আল-আশ‘আরী, মাক্বালাতুল ইসলামিয়্যীন ওয়াখতিলাফুল মুছাল্লীন (কায়রো : মাকতাবাতুল আছরিইয়াহ, ১ম সংস্করণ, ১৪২৬হি. /২০০৫খ্রি.), ১/৩৩; ইবনে তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, ৩/৪৭০।
[12]. আব্দুল্লাহ জান্নূফ, আক্বাইদুশ শী‘আ আল-ইছনা আশারিইয়াহ (বৈরূত : দারুত ত্বালী‘আহ, ১ম সংস্করণ, এপ্রিল/২০১৩), পৃ. ৫।
[13]. World Shia Muslim Population – Islamic Research and Information Center (IRIC) (https://iric.org/ world-shia-muslim-population)
[14]. https://bn.wikipedia.org/wiki/বাংলাদেশেশিয়াইসলাম
[15]. শাহরাস্তানী, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/১৯১।
[16]. https://shorturl.at/TW7I1
[17]. আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কারীম আশ-শাহরাস্তানী (৪৭৯-৫৪৮ হি./১০৮৬-১১৫৩ খ্রি.), আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (কায়রো : মুআসসাসাতুল হালাবী, প্রকাশকাল অনুল্লিখিত), ১/১৫৪।
[18]. শাহরাস্তানী, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, পৃ. ১৫৫।
[19]. হারব ইবনু ইসমাঈল আল-কারমানী, ইজমা‘উস সালাফ ফিল ই‘তিকাদ কামা হাকাহু হারব আল-কারমানী (কায়রো : দারুল ইমাম আহমাদ, ১ম সংস্করণ, ১৪৩২ হি./২০১১ খ্রি.), পৃ. ৮৪-৮৫।
[20]. শাহরাস্তানী, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/১৫৪; ইবনে তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ ১/৩৫।
[21]. https://worldpopulationreview.com
[22].https://shiatent.com/
[23]. আব্দুর রহমান ইবনে সা‘দ শাছরী, আক্বাইদুশ শী‘আ আল-ইছনা আশারিইয়াহ : সুওয়াল ওয়া জাওয়াব, পৃ. ২৭।
[24]. যাহাবী, আল-মুন্তাক্বা মিন মিনহাজিল ই‘তিদাল, পৃ. ৪১৫।
[25]. বিহারুল আনওয়ার ২৫/২১১; মারআতুল ‘উকূল ৪/৩৫২; আওয়াইকুল মাক্বালাত, পৃ. ২৭৬।
[26]. উছূলুল কাফী ১/১১০।
[27]. উছূলুল কাফী, পৃ.২২১, ২৭৮।
[28]. উছূলুল কাফী ১/১৪৩-১৪৪।
[29]. বিহারুল আনওয়ার ২৭/৩৪; শারহুয যিয়ারাতিল জামি‘আতিল কুবরা ১/৭০।
[30]. মিছবাহুল হিদায়াহ, পৃ. ১২৩; উছূলুল কাফী ১/৪৪০ ।
[31]. উছূলুল কাফী ১/৩০৮।
[32]. বিহারুল আনওয়ার ২৭/৩৩; আল-ইখতিছাছ, পৃ. ৩২৭।
[33]. কুলাইনী, আল-কাফী, হুজ্জাহ অধ্যায় ১/২০৩।
[34]. তাফসীরে ‘ইয়াশী ২/২৪০; তাফসীরে ছাফী ৩/৭৪।
[35]. আক্বাইদুশ শী‘আ আল-ইছনা আশারিইয়াহ, পৃ. ৩১।
[36]. উছূলুল কাফী ৮/২৪৫।
[37]. উছূলুল কাফী পৃ. ১৩৫।
[38]. উছূলুল কাফী ২/৬৩৪।
[39]. উছূলুল কাফী ১/২৩৯।
[40]. বিহারুল আনওয়ার ৮/৩৬৮-৩৭০, উছূলুল কাফী ১/২৩৯, ৮/১৩৫।
[41]. কিতাবু কামালিয যিয়ারাহ, পৃ. ১৮৩।
[42]. ফুরূঊল কাফী ১/৩২৪।
[43]. উছূলুল কাফী ১/৩১৯।
[44]. বাশারাতুল মুস্তাফা লি শী‘আতিল মুরতাযা, পৃ. ১৫৬, ১১৬; ওয়াসাইলুশ শী‘আ ৪/৬৫৯।
[45]. তাফসীরুছ ছাফী ১/৩০-৩১।
[46]. নাছির ইবনু আলী ‘আয়েয হাসান আশ-শাইখ, ‘আকীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিছ ছাহাবাহ (ডক্টরেট থিথিস) (রিয়াদ : মাকতাবাতুর রুশদ, ৩য় সংস্করণ, ১৪২১ হি./২০০০ খ্রি.), ৩/১১১৮।
[47]. ইবনে বাত্ত্বাহ (৩০৪-৩৮৭ হি./৯১৭-৯৯৭ খ্রি.), আল-ইবানাতুল কুবরা, তাহকীক্ব: রেযা মু‘তী ও অন্যান্য (সঊদী আরব : দারুর রায়াহ, ২য় সংস্করণ, ১৪১৫ হি./১৯৯৪ খ্রি.), ২/৫৫৭।
[48]. আবুবকর আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ আল-খাল্লাল (২৩৪-৩১১ হি./৮৪৮-৯২৩ খ্রি.), আস-সুন্নাহ, তাহকীক্ব : ড. আতিয়্যাহ ইবনু আত্বিইয়াহ আয-যাহরানী (রিয়াদ: দারুর রায়াহ, ১ম সংস্করণ, ১৪১০ হি./১৯৮৯ খ্রি.), ক্রমিকা : ৭৯৪, ৩/৪৯৯।
[49]. ইমাম মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আল-বুখারী, খালকু আফ‘আলিল ‘ইবাদ, তাহকীক্ব ও তাক্বদীম : ড. আব্দুর রহমান ‘উমাইরাহ (রিয়ায : দারুল মা‘আরেফ আস-সু‘ঊদিইয়াহ, তা.বি), পৃ. ৩৩।