আরবী ভাষা চর্চা ও পাঠদান

আরবী কুরআন ও হাদীছের ভাষা। বলতে গেলে মাদ্রাসা শিক্ষার ভিত এই ভাষার ওপরে নির্মিত। তবে যখন আলোচনা হয় আরবী শিখা ও শিখানোর তখনই আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। খুব অভিমান হয় বড়দের ওপর। মনে হয়, তারা যদি আমাদের প্রতি একটু যত্নবান হ’তেন! আমরা হয়ত ভাষাগত দিক থেকে আরেকটু সবল হ’তাম। আমাদের যখন মুখস্থের বয়স ছিল, যখন পড়াশোনার জোশ ছিল তখন আমাদেরকে পর্যাপ্ত আরবী শব্দ মুখস্থ করানো হয়নি। আমাদের কাছে মীযানুছ ছরফের ফার্সী ইবারত মুখস্থ শোনা হয়েছে। তাইসীরুল মুবতাদী আর মাছদারে ফুয়ূয এর ফার্সী মাছদার মুখস্থ করার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে।

আমি ছাত্রজীবনে ফার্সী মীযানুছ ছরফ, নাহবেমীর, তাইসীরুল মুবতাদীর মাছদার, শেখ সাদীর পান্দনামাহ (কারীমা), গুলিসঁতা ইত্যাদি চার পাঁচটি ফার্সী কিতাব একাডেমিকভাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুখস্থ করেছি। যখন মুখস্থ করতাম তখনই আমাদের মনে হ’ত, এগুলো তো বাংলাতে বুঝিই। তারপরও ফার্সী ইবারত মুখস্থের কোন দরকার আছে কি! আমাদেরকে তখন বুঝানো হয়েছে যে, তোমাদের মুখস্থ শক্তি যেন লোপ না পায় সেজন্য প্রতি বছর একটি করে কিতাব তোমাদেরকে মুখস্থ করানো হয়। তখন আমরা সেটাই যথাযথ মনে করেছি।

এখন মনে হয়, আমাদেরকে তিনশত ফার্সী মাছদার মুখস্থ না করিয়ে যদি তিনশত আরবী মাছদার মুখস্থ করানো হ’ত! আরবী কিতাব পড়ার যাত্রা যখন শুরু হয়েছে তখনই যদি আমরা ভাষাগত দিক থেকে সবল হ’তাম! তবে ইবারত পড়তে পেরেও অর্থ না বোঝার অভিশাপ হয়ত আমাদের দংশন করতে পারত না। সিলেবাস এবং পাঠদান পদ্ধতির করাল গ্রাসে আমরা পরিণত হয়েছি। আমরা চাই না, এই ধারা যুগ যুগান্তর ধরে চলুক। আমরা আমাদের কষ্টের কথা বলেই যাব। এই সিস্টেম পরিবর্তন হোক বা না হোক। অন্তত বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যেন বলতে পারি, ‘আমরা বলেছিলাম’! 

আমাদের আরবী চর্চার চিত্র : আমাদের মাদ্রাসাগুলোতে আরবী চর্চার যতই বেহাল দশা হোক, লৌকিকতা রয়েছে শতভাগ। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যখন কোন অনুষ্ঠান হয় তখন ছাত্রদেরকে আরবী রচনা মুখস্থ করিয়ে বক্তব্য দেয়ানো, বই থেকে আরবী মুকালামা মুখস্থ করিয়ে স্টেজে আরবী কথপোকথন করানো, মোটেও আরবী বোঝে না এমন ছাত্রদের কলম থেকে চমৎকার আরবী প্রবন্ধে দেয়ালিকা ছাপানো, এগুলোতে কেউ কারো থেকে কম নয়। কেউ কেউ তো আগ বাড়িয়ে এসব অনলাইনেও প্রচার করে। আর আমরা তাদের প্রচারে প্ররোচিত হয়ে ধোঁকা খাই। 

প্রতিষ্ঠান বেড়াতে আমার ভাল লাগে। আমি একবার এক নামকরা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আমার সাথে কয়েকজন ছাত্রও ছিল। সেখানে গিয়ে দেখলাম, একের পরে এক ছাত্র আরবীতে বক্তব্য দিচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক সারগর্ভ আলোচনা করছে। তাদের বক্তব্যের ভাষাও উচ্চমানের। এটা দেখে ছাত্ররা আশ্চর্য হয়ে গেল। অনুষ্ঠান শেষে যখন মাদ্রাসার ভেতরে ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম তখন অনেকগুলো আরবী দেয়ালিকাও দেখলাম। যেখানে মাধ্যমিকের ছাত্রদের লেখা অত্যন্ত ফছীহ আরবীতে প্রবন্ধ-নিবন্ধ দেখার সৌভাগ্য হ’ল। ছাত্ররা বিস্ময় ধরে রাখতে না পেরে বলল, এত নিচের ক্লাসে এগুলো কিভাবে সম্ভব!

আমি বললাম, দেখো! যে ছেলেগুলো আরবীতে স্টেজ গরম করা বক্তব্য দিল তাদের যদি একই বিষয়ে বাংলাতে বক্তব্য দিতে বলা হয়, তবে কি তারা এভাবে বক্তব্য দিতে পারবে? ছাত্ররা চুপ। আমি বললাম, পারবে না। যদি পারত তবে আমরা এতদিন অনেক নামযশা বক্তা পেতাম। কারণ, এই প্রতিষ্ঠান ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এভাবে বক্তা প্রদর্শন করে আসছে। যারা আজ থেকে ১০ বছর আগে স্টেজ গরম করেছে সেসব বক্তারা কোথায়! আর তোমরা যে আরবী লেখাগুলো দেখে মুগ্ধ হচ্ছো তারাও এত সুন্দর বাংলা লিখে না। তারা যদি এই মানের বাংলা লিখতে পারত তবে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় এই শ খানেক লেখকের লেখা পেতে। তাহ’লে এই চোখ ধাঁধানো প্রদর্শনীর দু’টি ভেদ হ’তে পারে। প্রথমত, এই ছেলেগুলো বাংলার চেয়ে আরবী ভাল বোঝে। এটা তো সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত এরা রচনা মুখস্থ করে বক্তব্য দিচ্ছে আর বিভিন্ন সোর্স থেকে কপি করে প্রবন্ধ লিখছে।

আজ আমাদের আরবী চর্চার উদ্দেশ্য, মানুষ বলবে, ‘অমুক প্রতিষ্ঠানে খুব আরবী চর্চা হয়’। সুতরাং আমরা প্রচারমুখী চর্চা করি। ফলাফলে লোকমুখে প্রসিদ্ধি ছাড়া আমাদের আর কোনই অর্জন নেই। আমাদের ছাত্ররা বলে, ওমুক প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিকের ওপরের ছাত্ররা নাকি বাংলা বলতে পারে না। বাধ্যতামূলক সবাইকে সবসময় আরবী বলতে হয়। তারা না বুঝুক, আমরা তো বুঝি যে, এগুলো প্রতিষ্ঠান নিয়ম তৈরি করে ষোল আনা প্রচার করার জন্য। তবে বাস্তবায়নে চার আনাও পাওয়া যায় না। আমরা শুধু এতটুকু বলি যে, ‘দশ বার বছর আরবীতে কথা বলার পরে এই ছেলেগুলো সব কোথায় যায়’!

ভেবে দেখুন! টানা পাঁচ বছর যদি কেউ আরবীতে কথা বলে তবে তো তার আরবী বাংলা সমান হয়ে যাওয়ার কথা। এই আদীবগুলো লেখাপড়া শেষে কোথায় হারিয়ে যায়? তারা নিজেদেরকে আদীবরূপে প্রকাশ করছে না কেন! বালুতে মুখ গুঁজে সাইমুমকে অস্বীকার করা যায় না। বছর বছর ধরে নিজেদের আরবী চর্চার ঢাক পিটিয়ে বেড়ানো এই প্রতিষ্ঠানগুলো কেন আজও কোন যোগ্য ব্যক্তি জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারছে না! এর কোন জবাব কি তাদের ঝুলিতে আছে! দেখুন! আরবী চর্চা কোন প্রচারের বিষয় নয়। এর নিজস্ব সুঘ্রাণ রয়েছে। যা আপনাতেই ছড়িয়ে পড়ে। সুতরাং লৌকিকতা ছাড়ুন। আরবী শাস্ত্রের রিজাল তৈরিতে মনোনিবেশ করুন। আলোচ্য প্রবন্ধের ধাপে ধাপে আমরা কিছু প্রস্তাবনা রাখব, যা আরবী পাঠদান পদ্ধতিকে আরো সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে আরবী শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ তৈরিতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।

আরবীর প্রকারভেদ : শুরুতেই আমরা আরবীকে দুই ভাগে ভাগ করব। ক্বাদীম এবং জাদীদ এই দুই ধারার আরবী আমাদের সকলের কাছেই পরিচিত। তবে আমি এই প্রকারভেদ নিয়ে কথা বলব না। আমি বলব ভিন্ন দুইটি প্রকার নিয়ে। এক প্রকারের আরবী আছে যা পাঠের মাধ্যমে আরবী শেখা যায়। দ্বিতীয় প্রকারের আরবী পাঠের মাধ্যমে আরবী শেখা যায় না, বরং আরবী জানা থাকলে সেটা পাঠ করা যায়। দুইটি বিষয় কাছাকাছি। তবে একটি অপরটির চেয়ে আলাদা। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি আমাদের পুস্তক প্রণেতাগণ বোঝার চেষ্টা করেন না। আমি বিষয়টি আরেকটু সহজ করে বলার চেষ্টা করছি।

কিছু আরবী আছে যা মানের বিচারে শতভাগ উত্তীর্ণ। তবে সেই আরবী থেকে আরবী শেখা যায় না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্যপুস্তকগুলো। এই সকল পাঠ্যপুস্তক থেকে পূর্ণাঙ্গ আরবী শিখেছেন এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া গেলে যেতেও পারে। তবে তা খুবই কম। কারণ, এই আরবীগুলো বন্ধ্যা। তারা সন্তান প্রসব করে না। একটি বাক্য পড়ার পরে সেই ধরণের আরেকটি বাক্য গঠনের যোগ্যতা পাঠকের হয় না। তবে দুঃখের বিষয় হ’ল, সিলেবাসে আমরা এই ধরণের আরবী সংবলিত বই-ই রাখার চেষ্টা করি। কারণ, এই আরবী বইগুলো সাহিত্যের মানে শতভাগ উত্তীর্ণ। তবুও এই বইগুলো থেকে আমাদের ছাত্রদের আরবী শেখা আর হয়ে ওঠে না।

আরেক ধরণের আরবী আছে যা মানের বিচারে শতভাগ উত্তীর্ণ নয়। যারা সাহিত্যের মান বোঝেন তাদের কাছে এই ধরণের আরবী তেমন একটা পসন্দ নয়। কারণ, সেখানে একই শব্দ ও বাক্য বার বার আসে। তূলনামূলক সহজ শব্দ ব্যবহার করা হয়। বাক্যের গঠন সংক্ষিপ্ত ও সাবলীল হয়। এই ধরণের আরবী সংবলিত বইগুলো আধুনিক সিলেবাসে অবহেলিত হয়। কারণ, সেগুলো সাহিত্যের মানে উত্তীর্ণ নয়। তবে এই বইগুলো থেকে আরবী শেখা যায়। আমরা চাই, আরবী শেখানোর জন্য ঐ বইগুলো সিলেবাসভূক্ত করা হোক যে বইগুলো পড়ে আরবী শেখা যাবে।

এসো আরবী শিখি পাঠদান পদ্ধতি ও আমাদের অঙ্গনে তার উপযুক্ততা : সত্যি বলতে আমরা সিলেবাসকে শুধু সমৃদ্ধরূপে প্রদর্শনই করতে চাই। বাস্তবে তা কতটুকু কার্যকর হ’ল তা ভেবে দেখি না। মানুষ যেন সিলেবাস দেখে বলে, ‘মাশাআল্লাহ! কত সমৃদ্ধ সিলেবাস! মাদ্রাসা বোর্ডের বইগুলোও আছে, কওমীধারার বইগুলোও আছে, আবার মাদানী নেসাবের বইগুলোও দেখছি পড়ানো হয়’! তবে এত বই পড়ার ফলাফলের দিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, এটা আসলে সমৃদ্ধি নয়, এটা জগাখিঁচুড়ি। বিষয়টি একটু বুঝিয়ে বলি।

আমরা বরাবরই বলে এসেছি, এসো আরবী শিখি যদি পড়াতে হয় তবে তার নিজস্ব নিয়মেই পড়াতে হবে। ঘন্টার পরে ঘন্টা শিক্ষক উপস্থিত থেকে তামরীন করিয়েই পড়াতে হবে। কিন্তু আমাদের তো সিলেবাস সমৃদ্ধ করার ওপরেই মনোযোগ বেশি। এত নামকরা একটি কিতাব তো আর সিলেবাসের বাইরে রাখা যায় না। আমরা সপ্তাহে দুইদিন বিশ মিনিট করে তরজমা পড়িয়ে বই শেষ করব। ফলাফলে তিন খন্ড শেষ করার পরেও একজন শিক্ষার্থী ‘মসজিদের নতুন দরজা’ এর আরবী বলতে পারে না।

দেখুন! এই বইটি আলিয়া মাদ্রাসাগুলোর জন্য নয়। কারণ, আলিয়া মাদ্রাসার ঘণ্টাগুলো ছোট ছোট। সাবজেক্ট অনেক বেশি। এই বই থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য সময় বরাদ্দের প্রয়োজন আছে। প্রয়োজন আছে উপযুক্ত পরিবেশ ও মাদানী নেসাব পড়ুয়া শিক্ষকের। আমাদের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই যা সম্ভব নয়। তাই আমাদের প্রয়োজন নিজেদের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত কিতাব ও পাঠদান পদ্ধতি। অনেক পরে হ’লেও সে কিতাবগুলো এখন সংকলিত হচ্ছে। অনেকেই এর পেছনে নিজেদের শ্রম ব্যয় করছেন। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন - আমীন! আমরা এখন আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থায় কার্যকরী আরবী পাঠদান পদ্ধতি প্রস্তাব করব। প্রথমে আমরা মৌলিক বিষয়গুলোর প্রয়োজনীয় পরিমাণ জানব যে, কোন বিষয়টি আমাদের কতটুকু দরকার। এরপরে আমরা পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।

আরবী শিখতে ব্যাকরণ কতটুকু দরকার : আমাদের ছাত্ররা এসে বলে, ‘আমরা আরবী শিখতে চাই। তাহ’লে কি আগে মীযান পড়ব, নাকি নাহু পড়ব’! আমরা তাদেরকে বলি, মীযান বা নাহুতে তো আরবী শেখানো হয় না। আরবী ব্যাকরণ শেখানো হয়। আর ব্যাকরণ ভাষা শুদ্ধ করার জন্য শেখা হয়। সুতরাং আগে ভাষা শিখো। তারপর না হয় ভাষা শুদ্ধ করা যাবে। ধান কাটার পূর্বেই যেমন তা মাড়াই করা হয় না, তেমনই ভাষা শেখার পূর্বেই তা শুদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে আমরা মুখে যাই বলি, ছাত্ররা জানে যে, আরবী শেখার প্রথম বই হ’ল মীযানুছ ছরফ। সিলেবাস তাদেরকে এটা শিখিয়েছে। তাই তারা সবকিছু শুনে বুঝেও মীযানুছ ছরফ দিয়েই আরবী শেখা শুরু করে।

আমরা মনে করি, ছরফে ছহীহ এর ব্যবহার জানার জন্য মীযানুছ ছরফ এবং গায়রে ছহীহ এর ব্যবহার জানার জন্য পাঞ্জেগাঞ্জ লেভেলের কোন একটি বই পড়া থাকলেই যথেষ্ট। এর অতিরিক্ত যে ছরফ জানা হবে তা খুব একটা কাজে আসবে না। যবরের পরে ওয়াও বা ইয়া হারাকাতযুক্ত হ’লে তা আলিফ দ্বারা পরিবর্তিত হয়। এটা পাঞ্জেগাঞ্জেই জানা যায়। ইলমুছ ছীগাহ তে এই মূলনীতির ১৪টি শর্ত শেখানো হয়। যা খুব একটা যরূরী নয়।

ইজতেমায়ে সাকিনাইনের কারণে ‘মাকূলুন’ শব্দের ভেতর থেকে দুইটি ওয়াও এর একটি পড়ে গেছে। এটা পাঞ্জেগাঞ্জেই জানা গেছে। এখন কোন ওয়াওটি পড়েছে এই নিয়ে তিন পৃষ্ঠা যাবৎ যুদ্ধ পরিচালনা করার পরে লেখক কারণ দর্শালেন যে, কেউ যদি বলে, আমি আজ সারাদিনে যদি অতিরিক্ত ওয়াও যুক্ত কোন শব্দ বলি তবে আমার বিবি তালাক হয়ে যাবে। তারপরও সে ‘মাকূলুন’ শব্দটি বলল। এখন তার বিবি তালাক হয়েছে নাকি হয়নি এটা নির্ণয় করার জন্যই এই আলোচনা। এবার আপনিই বলুন, এই কারণ জানার পরে একজন শিক্ষার্থীর কেমন লাগবে! এই ধরণের খেজুরি আলাপও ‘ইলমুছ ছীগাহ’-তে রয়েছে।

চলার মত নাহুর জ্ঞান নাহবেমীরেই হয়ে যায়। তারপরও অতিরিক্ত ইলমের জন্য হিদায়াতুন্নাহু পড়া যেতে পারে। তবে হিদায়াতুন্নাহুর পরে আরো নাহুর কিতাব পড়াটা একটু বেশিই ঢং হয়ে যায়। আমি তো বলি, হিদায়াতুন্নাহুরও অনেক আলোচনা অতিরিক্ত। যেমন তানাযু এর আলোচনা। যা কোনদিন কোন কাজে আসবে না। সুতরাং যারা সিলেবাস সমৃদ্ধ করার জন্য কাফিয়া, শরহে জামী, আন-নাহু আল-ওয়াযেহ ইত্যাদি বই রেখেছেন তারা সিলেবাস সমৃদ্ধ করতে গিয়ে নিজেদের অপারগতা প্রকাশ করে ফেলছেন। অপারগতা এই যে, হয়ত আপনি জানেনই না যে, আরবী শিখতে কতটুকু নাহু জানা প্রয়োজন। নয়ত আপনারা ছাত্রদের স্তরভেদে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারছেন না। দেখুন! কিতাবের আধিক্য মুখ্য নয়, শিক্ষার্থী কতটুকু শিখল সেটাই মুখ্য হওয়া উচিৎ।

ভাষা শিক্ষায় শব্দের ভূমিকা : আমরা সর্বদাই শিক্ষার্থীদের বলি, ভাষা শিক্ষায় শব্দ বা মুফরাদাত হ’ল ইটের মত। আর ব্যাকরণ সিমেন্ট ও বালুর মত। যা ইটের গাঁথুনিকে মযবূত করে। এবার তোমরা বল দেখি, শুধুমাত্র বালু বা সিমেন্ট দিয়ে কখনো দেয়াল হয়? তারা বলে, না। আমরা বলি, তবে শুধু ইটের ওপরে ইট সাজিয়ে দেয়াল হয়। ধাক্কা দিলে পড়ে যাবে সেটা পরের আলাপন। মনে করো, আমার খুব পিপাসা পেয়েছে। এক গ্লাস পানি প্রয়োজন। এদিকে আমি নাহু-ছরফের ইমাম পর্যায়ের একজন ব্যক্তি। তবে গ্লাস, পানি বা প্রয়োজন কোনটিরও আরবী আমার জানা নেই। এখন আমার পূর্ণ বৈয়াকরণিক শক্তি দিয়ে কি একজন আরবকে আমার পানির প্রয়োজন বুঝাতে পারবো? কখনোই না।

তবে আমার যদি শব্দগুলো জানা থাকতো এবং আমি সেগুলো কোন কায়েদা-কানুন ছাড়াই ধারাবাহিক মুখ থেকে বের করতাম, তবে একজন আরব বুঝতে পারত যে, আমার এক গ্লাস পানির দরকার। যদিও আমার বাক্য গঠন ভুল হ’ত। এটাই ভাষা। মনের ভাব প্রকাশ করতে পারা। আগে মনের ভাব প্রকাশ করার সক্ষমতা অর্জন, এরপরে ভাষা শুদ্ধিকরণ। এদিকে আমরা মনের ভাব প্রকাশ করতে শিখার আগেই ভাষা শুদ্ধ করার মিশনে নামি। পরিশেষে আমাদের ঝুলিতে শুধু শুদ্ধতাই থাকে, ভাষা থাকে না। এই পরিশুদ্ধ ঝুলি নিয়েই আমরা ভবিষ্যতের হাল ধরি।

শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ করার মাধ্যম : আরবী শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ করার অনেক মাধ্যমই রয়েছে। একেকজনের কাছে একেকটি কার্যকরী মনে হ’তে পারে। তবে আমি এখানে সেগুলোই উল্লেখ করবো যেগুলোর মাধ্যমে আমি নিজে ফলাফল পেয়েছি। আমরা অনেক আরবী শব্দ জানি। শব্দগুলো মাঝে মাঝে বলিও। যদি আমরা সেই সকল শব্দগুলোর অর্থ এবং ব্যবহার শিখে যাই তবে এখানেই আমাদের অনেক আরবী শব্দ জানা হয়ে যাবে। উদাহরণ স্বরূপ দৈনন্দিন মাসনূন দো‘আসমূহ। এখানে কত সুন্দর সুন্দর ইসম ও ফে‘ল ব্যবহৃত হয়েছে তা একটু খেয়াল করলেই আশ্চর্য হই। এত সুন্দর ও উচ্চমানের বাক্যগঠন পদ্ধতি বড় বড় তা‘বীরের কিতাবেও অনুপস্থিত।

একদিন একটি আরবী লেখা তৈরি করতে গিয়ে আমার শিশির শব্দের আরবী প্রয়োজন হ’ল। তবে শিশিরের আরবী আমার জানা ছিল না। অভিধান খুঁজতে গিয়ে দেখলাম ‘বার্দ’ অর্থ শিশির। অথচ আমি জানতাম, বার্দ অর্থ ঠান্ডা। এই শব্দটিই যে শিশির অর্থে ব্যবহৃত হয় সেটা আমি নতুন জানলাম। তখনই মনে হ’ল, আমি তো প্রত্যেক ছালাতেই ছানার মাঝে এই শব্দের ব্যবহার পড়ি। কিন্তু কখনো খেয়াল করা হয়নি। তারপর থেকে আমি মুখস্থ দো‘আ, হাদীছ ও কুরআন থেকে শব্দ শেখা শুরু করলাম। এই পদ্ধতি আমার কাছে যেমন সহজ তেমনই ফলদায়ক ছিল।

কুরআন থেকে শব্দ শেখার জন্য আমি ‘শব্দে শব্দে আল-কুরআন’ সংগ্রহ করলাম। প্রতিদিন দুয়েক রুকু পড়তাম। কয়েকবার পড়তাম। শব্দগুলোর অর্থ, রূপ, মাদ্দাহ, জিনস ভেবে ভেবে পড়তাম। খুব অল্পদিনেই আমি এখান থেকে ফলাফল পেয়েছি। এভাবে আরবী পড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ মিনিট আরবী শুনতাম। ছাহাবায়ে কেরাম ও বিভিন্ন ইমামগণের প্রসিদ্ধ ঘটনাগুলো এ্যনিমিশন আকারে ইউটিউবে পাওয়া যায়। যার ভাষা খুব সুন্দর। উচ্চারণগুলো একদম নিখুঁত। ৬/৭ মিনিটের একটি কন্টেন্ট দুই তিনবার দেখতাম। সেখানে ব্যবহৃত অনেক সুন্দর সুন্দর বাক্য এমনিতেই মনে থাকত। এগুলো মুখস্থের প্রয়েজন হ’ত না।

এই পদ্ধতিতে পড়া ও শোনা আমার আরবীর শব্দভান্ডার অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ। কোনরকম আনুষ্ঠানিকভাবে শব্দ মুখস্থ করা ছাড়াই আমি অনেক প্রয়োজনীয় শব্দ ও বাক্যগঠন পদ্ধতি শিখতে পেরেছি। আমি প্রতিনিয়তই শিখছি। হয়ত ভবিষ্যতে আরো কার্যকরী পদ্ধতি শিখব। তখন সেগুলোও লিখব ইনশাআল্লাহ। তবে এখন শব্দভান্ডার মযবূত করার জন্য এর চেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি আমার জানা নেই।

আরবী পাঠদানের আদর্শ রূপরেখা : প্রথমেই বলব, সিলেবাসে আরবী ব্যাকরণ ততটুকুই রাখুন যতটুকু না হ’লেই নয়। শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভাষার সাথে পরিচিত হ’তে দিন। প্রাথমিকে পাঠদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন শব্দ মুখস্থ করার ওপরে। প্রাথমিক হ’ল মুখস্থের সময়। এই সময়ে যদি শব্দভান্ডার বাড়িয়ে নেয়া না যায় তবে পরবর্তীতে তা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যপার হয়ে দাঁড়াবে। প্রাথমিকে ঐ বইগুলো সিলেবাসভুক্ত করুন যেখানে অনেক বেশি শব্দার্থ আছে। শব্দভান্ডার বাড়ানোর জন্য বইয়ের পাশাপাশি মুখস্থ দো‘আ, হাদীছ ও বিভিন্ন সূরা থেকে শব্দ শেখান। শব্দ শেখানোর পদ্ধতি হ’ল, এখানে ব্যবহৃত ইসমগুলোর একবচন, বহুবচন ও মাদ্দাহ আয়ত্ব করিয়ে দেওয়া। ফে‘লগুলো দিয়ে তাছরীফ করিয়ে দেওয়া। তাহ’লে এই ইসম ও ফে‘লগুলো সে আর ভুলবে না।

আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই অনাবাসিক। তারা বাড়ি থেকে লেখাপড়া করে। আপনি যতই নছীহত করুন না কেন, তারা মোবাইলের সংস্পর্শে যাবেই। সুতরাং অভিভাবকদের বলুন, তারা যেন বাচ্চাদের আরবী কন্টেন্ট দেখান। কারণ, ভাষা শেখার সবচেয়ে শক্তিশালি মাধ্যম হ’ল শুনে শেখা। যখন কিছুই জানতাম না তখন আমরা শোনার মাধ্যমে বাংলা শিখেছি। তাহ’লে বড় হওয়ার পরে কেন আমরা শুনে ভাষা শিখতে পারব না! আমি তো এমন বাচ্চাও দেখেছি, যে দশের অধিক ভাষা বলতে পারে শুধুমাত্র কন্টেন্ট দেখে। সুতরাং কন্টেন্টকে অবহেলা করবেন না। 

আবাসিক শিক্ষার্থীদেরকে আরবী কন্টেন্টের সাথে পরিচিত করতে ব্যক্তিগত ল্যাপটপ বা ট্যাবের সাথে ছোট বক্স যুক্ত করে মাঝে মাঝে ক্লাসেই ছাত্রদেরকে কন্টেন্ট দেখান। যে কন্টেন্ট দেখাবেন তা চালু করার আগেই তাদেরকে কন্টেন্টের ঘটনা এবং কথপোকথনগুলো বাংলায় বলে দিন। এতে তারা সহজেই ভাষাগুলো বুঝতে পারবে। ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে যেন তারাও এই মাধ্যম থেকে উপকৃত হয়। দেখুন! শিক্ষক মানেই দারোগা নয়। ছাত্রদের কাছাকাছি হোন। তাদেরকে কন্টেন্ট নির্বাচনে, চ্যানেল খুঁজে পেতে ও ইত্যাদি কাজে সাহায্য করুন। এটা তাদের ওপরে আপনার বাড়তি ইহসান।

মাধ্যমিকে আরবী ইবারত পড়ার ওপরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন। মাধ্যমিকে ঐ সকল বই সিলেবাসে রাখুন যেখানে অনেক বেশি আরবী ইবারত আছে। যেখানে ইবারতগুলো সাবলীল ও সহজ। সেই বইগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের অনেক বেশি ইবারত পড়ান। একই ইবারত ক্লাসের সকল শিক্ষার্থীকে পড়ান। মাধ্যমিকে এটাই মূল বিষয়। আমাদের পাঠ্যসূচী অনেক ভারি। সুতরাং আমাদের একটু ধীরে ধীরে অগ্রসর হ’তে হবে। একদিনেই সব হয়ে যাবে না। আমাদের ছাত্ররা মাধ্যমিকেই আরবী লিখতে পারবে না। আরবী লেখা ও বলার অনুশীলন শুরু হবে উচ্চ-মাধ্যমিক থেকে। এবার আসুন, আমরা উচ্চ-মাধ্যমিকের আরবী নিয়ে আলোচনা করি।

উচ্চ-মাধ্যমিকে ইনশা : উচ্চ-মাধ্যমিকের আরবী বলতেই ইনশা সবার অগ্রে থাকে। এখানে আমাদের একটি সরকারী পাঠদান পদ্ধতি আছে। শিক্ষক একলাইন আরবী পড়ে তার অনুবাদ করেন। এরপর ছাত্রদের জিজ্ঞেস করেন, বোঝা গেল? তারা সমস্বরে বলে জ্বি। শিক্ষক তখন পরের লাইন পড়ে তার অনুবাদ করেন। আবার একই প্রশ, একই উত্তর। শিক্ষক তৃতীয় লাইনে যান। এইভাবে পাতার পরে পাতা উল্টে একসময় বইও শেষ হয়। শিক্ষকও খুশি, শিক্ষার্থীও খুশি। এই পদ্ধতিতে নাহু, ছরফ, বালাগাত, সাহিত্য, হাদীছ, তাফসীর সব পড়ানো যায়। তবে আজব বিষয় হ’ল এই সরকারী পদ্ধতিতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকগণ ইনশাও পড়ান!

একবার চিন্তা করুন, ইনশার কিতাবে একজন শিক্ষক লাইনের পরে লাইন পড়ছেন এবং অনুবাদ করছেন! আরবী সাহিত্য পরীক্ষায় যেমন বই থেকে একটি অংশ তুলে দিয়ে অনুবাদ করতে বলা হচ্ছে তেমনই ইনশা পরীক্ষাতেও ইনশা বই থেকে ইবারত তুলে দিয়ে অনুবাদ করতে বলা হচ্ছে! তাহক্বীক্ব ও তারকীব করতে বলা হচ্ছে। আমাদের মনে হয়, এভাবে ইনশা পড়ানোর চেয়ে না পড়ানো অনেক শ্রেয়। অন্তত ছাত্রদের জানা থাকবে যে, তারা ইনশা পড়েনি। এই বিষয়ে জাহালাতে মুরাক্কাবাহ থেকে বেঁচে যাবে!

ইনশা পাঠদানের পূর্বে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, যাদেরকে ইনশা পড়ানো হচ্ছে তারা প্রাথমিক স্তরের আরবী সাবলীলভাবে পড়তে পারে এবং বুঝতে পারে। এতটুকু যোগ্যতা যদি শিক্ষার্থীদের না থাকে তবে তাদের জন্য ইনশা নয়। ক্লাসের অধিকাংশ ছাত্রই যদি এই মানে উত্তীর্ণ না হয় তবে তাদের ইনশা না পড়িয়ে সে স্থানে ভিন্ন কোন আরবী শেখার বই পড়ানো যেতে পারে। এই বর্ষেও তারা আরবীই শিখুক। ইনশা পড়ার জন্য জীবন পড়ে আছে। তবে আরবী না বুঝেই যদি একবার ইনশা পড়ে ফেলে তবে তাদের জীবনে এই ঘা কাটিয়ে ওঠা বেশ মুশকিল।

প্রশ্নপত্র ও পাঠদান পদ্ধতি : শিক্ষককে প্রথমেই মনে রাখতে হবে, ইনশা পাঠদানে ছাত্ররা আরবী বলতে শিখবে না। ইনশা পাঠদান হবে সৃজনশীল লেখার ওপর ভিত্তি করে। একটি বাক্যের আলোকে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি বাক্য লিখবে। একটি অনুচ্ছেদ বা ছোট রচনাকে সামনে রেখে ছাত্ররা বিভিন্ন বিষয়ে ছোট বড় রচনা লিখবে। এই যোগ্যতা যতটুকু অর্জিত হবে ততটুকুই ইনশা। তারকীব তাহক্বীক্ব তো নাহুর বিষয়। একটি ইনশার প্রশ্নপত্রে যদি শুধু অনুবাদ, তাশকীল, তাহক্বীক্ব ও তারকীব থাকে তবে সেই পরীক্ষায় শতভাগ নম্বর পাওয়ার জন্য ইনশা পড়ার কোন প্রয়োজন আছে কী! আরেকটু আগ বেড়ে বললে ইনশা ক্লাসে একদিনও উপস্থিত থাকার প্রয়োজন আছে কী! সুতরাং পাঠদান পদ্ধতি এবং প্রশ্নপত্রের ধরন পরিবর্তন করা যরূরী।

আমাদের পাঠদান পদ্ধতি ইবারত ও অনুবাদে সীমাবদ্ধ হওয়ার কারণে আমাদের প্রশ্নপত্রগুলোও গদবাধা ধারায় চলে এসেছে। মনে করুন, আমার হাতে একটি প্রশ্নপত্র আছে। এখানে ছয়টি প্রশ্ন আছে। প্রতিটি প্রশ্নের মাঝে আলিফ, বা, জিম মিলিয়ে তিনটি ছোট প্রশ্ন আছে। প্রতিটি প্রশ্নের শুরুতে ইবারত রয়েছে। আলিফে তাশকীল ও তরজমা করতে বলা হয়েছে। বা-তে কয়েকটি নির্দিষ্ট শব্দের তাহক্বীক্ব করতে বলা হয়েছে। জিমে একটি বাক্যের তারকীব করতে বলা হয়েছে। এবার আপনি বলুন তো এটা কোন বিষয়ের প্রশ্নপত্র! আপনি বলতে পারবেন না। কারণ, এটা স্বাভাবিকভাবে সাহিত্য, হাদীছ, তাফসীর যেকোন বিষয়ের হ’তে পারে। এজন্যই নাহু-ছরফে যারা ভাল, তারা সব বিষয়েই ভাল। সব বিষয়েই তারা তাহক্বীক্ব ও তারকীব করেই নম্বর পায়।

পাঠদান পদ্ধতির সমস্যা আজ ভাইরাসের মত পুস্তক, প্রশ্নপত্র, নম্বর, যোগ্যতা সবই খেয়ে ফেলেছে। মুহাদ্দিছ ছাহেব ক্লাসে যা পড়ান, মুফাসসির ছাহেবও তাই পড়ান। অর্থাৎ সরকারী পাঠদান পদ্ধতি। আমরা চাই, এই পদ্ধতি বিলুপ্ত হোক। ছরফের ক্লাসে শুধু ছরফই পড়ানো হোক। নাহুর ক্লাসে নাহু। আরবীর সবগুলো বিষয়েই যদি শিক্ষার্থীর নাহু-ছরফ যাচাই করা হয় তবে ছাত্ররা স্বাভাবিকভাবে এটাকেই ইলম মনে করবে। মৌলিক ইলম রেখে নাহু-ছরফকেই জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বানাবে। মাদ্রাসা পড়ুয়াদের বড় একটা অংশ এমন হয়েও গেছে।

আমরা জানি, আলোচ্য প্রবন্ধে আরবী পাঠদানের সব বিষয় আলোচিত হয়নি। যতটুকু হয়েছে তাও সম্পূর্ণ নয়। হয়ত অনেক কথাই অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। তবে আমরা যা বলেছি,

নিরেট বাস্তবতা থেকেই বলেছি। লেখক হিসাবে বলিনি, আরবী ভাষার ভালোবাসা থেকে বলেছি। আরবীর প্রতি ভালোবাসা নিয়ে একবার তার পাঠদান পদ্ধতির দিকে তাকান। আপনারও অন্তর কাঁদবে। মনে হবে, ‘এটা ঠিক হচ্ছে না’। আলোচ্য প্রবন্ধে আমরা যতটুকু বলেছি, এতটুকু পরিবর্তনও যদি সম্ভব হয় তবে আমরা হয়ত অনেক এগিয়ে যাব। আমরা হয়ত কিছু যোগ্য মানুষ পাব। যাদের মাধ্যমে এই অনারব ভূখন্ডে কুরআন ও হাদীছের খিদমাহ হবে। ছাদাক্বায়ে জারিয়ায় সুশোভিত সেই দিনকে সামনে রেখে আমরা স্বপ্ন বুনি। রাত জাগি। পদচিহ্ন রেখে যাই। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমীন। 

-সারওয়ার মিছবাহ

*শিক্ষক, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী।







বিষয়সমূহ: শিক্ষা-সংস্কৃতি
আরও
আরও
.