আধুনিক যুগে শিক্ষকতা

এককালে কর্মক্ষেত্র কম ছিল। মানুষ যে কোন একটি পেশায় সীমাবদ্ধ থেকেছে। তবে আজ কর্মক্ষেত্র অনেক বেশী। তাই মানুষেরও একাধিক পেশা হয়েছে। একজন মানুষের কয়েকটি পেশা থাকতেই পারে। তবে এর মধ্যে একটি পেশা হয় মূল। যে পেশার মাধ্যমে তিনি অপরের কাছে পরিচিত হন। সেই মৌলিক পেশাটি যদি কারো শিক্ষকতা হয় তবে আজকের এই আলোচনা তার জন্য বিশেষিত। আমরা আজ শিক্ষকতার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করব। ধাপে ধাপে ঐসকল কথাগুলো বলার চেষ্টা করব, যা একজন শিক্ষকের অত্যন্ত জীবন ঘনিষ্ট।

শুরুতেই আমরা একজন শিক্ষকের সহপেশা নিয়ে বলব। আমরা জানি, শিক্ষকতায় রোযগারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই বাড়তি সচ্ছলতার আশায় আমরা একইসাথে কয়েকটি পেশাতে থাকি। শিক্ষকতার পাশাপাশি কি করা যায়! এই চিন্তা মাথায় নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করি। কেউ ব্যবসা শুরু করি। কেউ ক্ষেত খামারে যাই। লক্ষ্য একটাই, অনেক পয়সা উপার্জন করতে হবে। তবে পয়সা উপার্জনের দিকে পূর্ণ মনোনিবেশ করার কারণে আমরা নিজেদের খেই হারিয়ে ফেলি। শিক্ষকতার মহান পেশায় থেকেও জাতির তেমন একটা উপকারে আসতে পারি না। এর অনেকগুলো কারণ আছে। ধারাবাহিকভাবে আমরা সেগুলো উপস্থাপন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

দেখুন! পয়সাই জীবনের লক্ষ্য হ’তে পারে না। শিক্ষক হয়ে যদি আপনি গরুর ব্যবসা না করেন, তবে অনেকেই আছে যারা গরুর ব্যবসা করবে। কিন্তু শিক্ষক হয়ে যদি আপনি শিক্ষাবিদ না হন তবে আর কে হবে! সুতরাং একটি মূলনীতি সর্বদা মাথায় রাখবেন, ‘সব পেশা সবার জন্য নয়’। কারণ পেশা পেশাকে খেয়ে ফেলে। আবার পেশা পেশাকে উন্নত করে। যদি একই ব্যক্তির মাঝে দ্বিমুখী দুইটি পেশা একত্রিত হয়, তবে তুলনামূলক শক্তিশালী পেশা অপরটিকে খেয়ে ফেলে। আবার দুইটি পেশা যদি একটি অপরটির সহযোগী হয় তবে দু’টোই উন্নতির দিকে যায়।

মনে করুন, একজন ডাক্তার রয়েছেন। তিনি রোগীদের সেবা করার পাশাপাশি বাড়তি উপার্জনের আশায় মাছের ব্যাপারী হয়েছেন। এখন যদি তার মাছের ব্যবসা শক্তিশালী হয় তবে অল্পদিনেই তার রোগী দেখা চেম্বার বন্ধ হবে। আর তিনি যদি ভাল ডাক্তার হন তবে অল্পদিনেই তার মাছের ব্যবসা লাটে উঠবে। কারণ এই দুইটি দ্বিমুখী পেশা। এজন্য শিক্ষক হিসাবে সব পেশায় যাওয়া সমীচীন নয়। আপনাকে দুনিয়ায় ধনী হ’তেই হবে? জমি কিনে আলিশান বাড়ি করতেই হবে? এমন চিন্তাধারা কেন? ছোট্ট একটি জীবন। যদি তা মানবসেবায় বিলীন হয় তবে হোক না! শিক্ষকদের যদি এই চেতনা না থাকে তবে জাতিকে স্বার্থপরতা থেকে উত্তরণ করবে কে? সুতরাং ‘খাই-খাই’ টাইপের মানসিকতা পরিবর্তন করা আবশ্যক।

দেখুন! একজন ডাক্তার যদি সাইড প্রফেশন হিসাবে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হন। মেডিসিন নিয়ে গবেষণা করেন। তবে তার একটি পেশা অপরটিকে স্টাবলিশ (Establish) করবে। ঠিক তেমনই একজন শিক্ষক শিক্ষকতার পাশাপাশি যে পেশায় যাবেন সেখানেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি চাইলেই আদার ব্যাপারী হ’তে পারেন না। তিনি লেখক হ’তে পারেন। গবেষক হ’তে পারেন। শিক্ষাবিদ হ’তে পারেন। এই বিস্তর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি ‘স্কিল ডেভলপমেন্ট ইনস্টিটিউট’ দাঁড় করাতে পারেন। তিনি ‘স্টুডেন্ট কাউন্সেলিং সেন্টার’ তৈরি করতে পারেন। তিনি পেইড সিস্টেমে ভাষা শিক্ষা ক্লাব, পাঠচক্র ইত্যাদি সেবামূলক কাজ করতে পারেন। তিনি কেন আদা বেচবেন! এই সহজ চিন্তাটি আমরা মাথায় নেওয়ার চেষ্টা করি না। কারণ একটাই। টাকার আধিক্য এবং স্বল্পতা। এখন আমরা কিছু বিষয় পরামর্শ করব। যার মাধ্যমে আপনি নিজের শিক্ষকতা পেশাকে একটি নান্দনিক স্থানে নিয়ে যেতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

শিক্ষকতায় জামেদ ও মাছদার : যারা আরবী শিক্ষক তারা ‘জামেদ’ ও ‘মাছদার’ বোঝেন। তবে আমি এখানে ‘জামেদ’ বলতে ঐসকল শিক্ষকদের বুঝাচ্ছি, যারা দাওরায়ে হাদীছ পর্যন্ত যা পড়েছেন, দশ বছর পরে এসেও ততটুকুর মাঝেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন। তারা শিক্ষকতার প্রথম বছর যে কিতাব যেভাবে পড়িয়েছেন, আজও সেই কিতাব সেভাবেই পড়িয়ে যাচ্ছেন। একই বিষয়ের আর দশটা কিতাব মুতালাআ‘ করার মাধ্যমে তাদের ইলমে কোন ইযাফাহ বা সংযোজন হয়নি। তাদের পাঠদানে বিশেষ কোন নতুনত্ব আসেনি। পার্থক্য শুধু একটাই। শুরুর দিকে পড়াগুলো দেখে আসতে হ’ত। তবে এখন আর দেখে আসা লাগে না। এঁরা ‘জামেদ’। এঁরা জড়। এঁরা অনেকটা রোবটিক সিস্টেমের মত একই নিয়মে যুগ যুগ ধরে চলছেন।

অপরদিকে ‘মাছদার’ বলতে ঠিক এর উল্টো। তারা শিক্ষকতা শুরুর দশ বছর পরে আর সেখানে নেই। তিনি যে বিষয়গুলো পড়ান, এই দশ বছরে সেগুলোর ওপরে দেশী-বিদেশী অনেক কিতাব ঘেঁটে তিনি একরকম বিশেষজ্ঞ হয়ে গেছেন। যতই দিন যাচ্ছে তিনি ততই বোদ্ধা হয়ে উঠছেন। তার দারসে ছাত্ররা বসতে আগ্রহী হচ্ছে। কারণ তার ক্লাসে সর্বদা নতুন কিছু শেখা যায়। এমন কিছু তার মুখে শোনা যায় যা বইয়ে লেখা নেই। তার কাছে কিতাব পড়ার মাধ্যমে শিক্ষকের কাছে পড়ার পূর্ণ উদ্দেশ্য সাধিত হচ্ছে।

আমাদের মাদ্রাসাগুলোতে যখন শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় তখন সেখানে লেখা হয়, ‘যোগ্যতা : দাওরায়ে হাদীছ। তবে অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে’। অভিজ্ঞতা বলতে আমরা শুধু বুঝি, তিনি কোন প্রতিষ্ঠানে কত বছর শিক্ষকতা করেছেন। অনেকেই রয়েছেন দশ বছর শিক্ষকতা করার পরে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে আসেন। নাহু পাঠদানে তার দশ বছরের অভিজ্ঞতা। তবে নাহবেমীর ও হিদায়াতুন্নাহু ছাড়া আর কোন নাহুর কিতাব তার মুতালাআ‘ করা হয়নি! এই অভিজ্ঞতার দাম কী?

আমাদের এটাও জানতে চাওয়া দরকার যে, তিনি এই দশ বছরে গায়রে দারসী কতগুলো নাহুর কিতাব পড়েছেন, কতগুলো বালাগাতের কিতাব পড়েছেন, কতগুলো হাদীছের কিতাব পড়েছেন, কতগুলো তাফসীর পড়েছেন। একজন সদ্য দাওরা শেষ করা ছাত্রের ইন্টারভিউ এবং দশ বছরের পুরাতন শিক্ষকের ইন্টারভিউ কখনোই একরকম হবে না। ঠিক একইভাবে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বাৎসরিক পড়াশোনার হিসাব নেয়া দরকার। এটা জানা দরকার, তাদের কি পড়াশোনা চলমান রয়েছে, নাকি শিক্ষকতার ইন্টারভিউয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই তারা ‘আল্লামাতুদ দাহর’ হয়ে গেছেন! পড়াশোনা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে গেছেন! এগুলোর মাধ্যমেই জানা যাবে যে, শিক্ষকটি জামেদ নাকি মাছদার।

আপনার মনে হ’তে পারে যে, এটা জানার কি খুবই দরকার! জ্বি, এর ওপরে অনেক কিছু নির্ভর করে। কারণ জামেদ শিক্ষকরা ছাত্রদের শুধু ততটুকুই শেখাতে পারেন যা তিনি দাওরায়ে হাদীছ পর্যন্ত পড়েছেন। এতে করে কিছু জামেদ ছাত্র তৈরি হয়। তারা মনে করে, এই পাঠ শুধু এই বইয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ। এর বাইরে দুনিয়ায় আর কিছু জানার নেই। এরাই পরবর্তীতে যে কোন কিতাবের লেখাকে অহি মনে করে। পক্ষান্তরে শিক্ষক যদি মাছদার হন তবে তিনি নিত্য নতুন কিতাব থেকে ইলম আহরণ করবেন। ক্লাসের আলোচনায় অটোমেটিক সেগুলো চলে আসবে। অনেক অজানা কিতাবের নাম আসবে। ছাত্ররা জানতে পারবে, এই আলোচনা এই বই ছাড়াও অনেকগুলো বইয়ে রয়েছে। সেগুলো আমাদের পড়া দরকার। এই ধরনের শিক্ষক নিত্য নতুন গবেষণার মাধ্যমে নিজের স্তর যেমন উন্নত করবেন তেমনই ছাত্রদেরও স্তর উন্নত হবে। সুতরাং শিক্ষকতায় ‘মাছদার’ হওয়ার চেষ্টা করুন। সারাদিন শুধু পয়সা উপার্জন নয়। কিছু ইলমী উপার্জন, কিছু নিজের পড়াশোনার জন্যও সময় রাখুন।

বিষয়ভিত্তিক দারস প্রদান : বিষয়ভিত্তিক দারস বলতে আমরা সারমর্ম আলোচনা করা বুঝি। আমাদের অনেক ধরনের শিক্ষক রয়েছেন। কিছু শিক্ষক আছেন যারা প্রতিদিনের দারস কিতাব থেকেই মুতালাআ‘ করে আসেন না। আবার কেউ কেউ মুতালাআ‘ করে এসে লাইন বাই লাইন পড়িয়ে যান। এর বাইরে কিছু শিক্ষক আছেন যারা কিতাব মুতালাআ‘ করে সেটা ভালভাবে বুঝে দারসে এসে নিজের ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করেন। এটাই সবচেয়ে উচ্চ স্তর। তারা মনে করেন, এটাই হয়ত বিষয়ভিত্তিক দারস। তবে এটা বিষয়ভিত্তিক দারস নয়।

বিষয়ভিত্তিক দারস প্রদানের জন্য একজন শিক্ষককে কমপক্ষে পাঁচটি কিতাব মুতালাআ‘ করতে হবে। একই আলোচনা কোন কিতাবে কতটুকু আলোচিত হয়েছে, কিভাবে হয়েছে। কোন কিতাবে কোন বিষয়কে মুখ্য এবং কোন বিষয়কে গৌণ করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই সবগুলো বিষয় নিজের ভেতরে নিয়ে সেখান থেকে সারমর্ম আলোচনা করার নামই হ’ল বিষয়ভিত্তিক দারস প্রদান। যা আমাদের মাঝে নেই বললেই চলে। এটার কারণ হ’ল সাইড পেশা নির্বাচনে ভুল হওয়া। হয়ত সে কারণেই পড়াশোনার সাথে সম্পর্ক কমে যাচ্ছে। সুতরাং প্রথম দুইটি পরামর্শ যদি আপনি গ্রহণ করেন তবে আপনি ধীরে ধীরে বিষয়ভিত্তিক দারসে সক্ষম হয়ে উঠবেন ইনশাআল্লাহ।

ইনপুট ও আউটপুট সক্রিয় রাখুন : বিষয়ভিত্তিক দারসে সক্ষম হয়ে উঠলে আপনার দায়িত্ব হবে, ‘ইনপুট’ ও ‘আউটপুট’ সক্রিয় করা। বিষয়টি আমি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি। এই উপদেশ আমরা শিক্ষার্থীদেরই দিয়ে থাকি। তবে শিক্ষার্থীদের একটি চিরাচরিত গুণ হ’ল, তাদেরকে যে উপদেশই দেয়া হোক তারা প্রথমেই যাচাই করবে, উপদেশ দাতার মাঝে এই গুণের উপস্থিতি আছে কি-না। যদি উপদেশদাতার মাঝেই এই গুণের উপস্থিতি না থাকে তবে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে চায় না। হয়ত আমাদের এই দুর্বলতার কারণেই তারা আমাদের কাছে উপদেশ গ্রহণ করছে না।

‘ইনপুট’ বলতে আমি আরবী ভাষার কথা বলছি। যে ভাষার মাধ্যমে কুরআন ও হাদীছ থেকে জ্ঞান আপনার ভেতরে প্রবেশ করবে। আপনি যদি আরবী না বোঝেন তবে কখনোই জ্ঞানের উৎস থেকে জ্ঞানার্জন করতে পারবেন না। এজন্য প্রথমেই আরবীর ওপর মেহনত বাড়ান। অধিকহারে শব্দ শিখুন। যত বেশী শব্দ শিখতে পারবেন ততই আপনি ভাষার ওপরে দখল পাবেন। আরবীকে এমনভাবে শিখুন, যেন কোন কিতাব আপনার কাছে ভাষাগত দিক থেকে দুর্বোধ্য মনে না হয়। এই অবস্থায় উন্নীত হওয়ার পরে দেখবেন, আপনার মনের জানালা খুলে গেছে। খোলা জানালা দিয়ে যেমন হু হু করে ঘরে বাতাস প্রবেশ করে, তেমনি আপনার মনের মাঝেও ইলমের উপস্থিতি বুঝতে পারবেন।

এরপরে আমি বলেছি, ‘আউটপুট’ সচল করুন। অর্থাৎ আপনি যে জ্ঞান অর্জন করেছেন সেটা যেন সুন্দরভাবে গুছিয়ে একজন মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন। এজন্য আপনাকে বাংলা ভাষায় পারদর্শী হ’তে হবে। কুরআন-হাদীছের জ্ঞানার্জনের পরে আপনার একটি চিন্তাধারা তৈরি হয়েছে। নিজস্ব কিছু মতামত তৈরি হয়েছে। আপনি যদি সেই চিন্তাধারাকে আপনার ভেতর থেকে বের করে মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে না পারেন। তবে আপনার ইলম দ্বারা শুধু আপনিই উপকৃত হ’লেন। অন্য কেউ হ’ল না। এটা কি কখনো ইলমে নাফে‘ বা উপকারী জ্ঞান হ’তে পারে?

‘আউটপুট’ সক্রিয় করার জন্য আপনি লেখালেখি শিখতে পারেন। কোন চিন্তাধারা গুছিয়ে লিখে দিলেন। মানুষ সেটা পড়ে আপনার চিন্তাধারার সাথে পরিচিত হ’ল। তার কাছে দাওয়াত পৌঁছে গেল। আবার আপনি বক্তব্যও শিখতে পারেন। শুদ্ধভাবে গুছিয়ে কথা বলা শিখতে পারেন। এগুলোর মাধ্যমেও আপনি নিজের ইলম মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। আমাদের অনেক ভাল আলেম রয়েছেন যারা অনেক ইলমের অধিকারী। তবে ‘আউটপুট’ সক্রিয় না হওয়ার কারণে অবহেলিত হচ্ছেন। অনেকে আবার ‘আউটপুট’ বেশ সক্রিয় করে ফেলেছেন তবে ‘ইনপুট’ অচল। এদের মাধ্যমেও মানুষের খুব বেশী উপকার হয় না।

টেকনোলজি সম্পর্কে ধারণা রাখুন! শুধু শিক্ষকতাই নয়, যে কোন পেশাতে আপনি যদি নিজেকে আপ টু ডেট রাখতে না পারেন তবে দিনে দিনে আপনি পিছিয়ে পড়বেনই। সুতরাং আপনাকে নিজ পেশার বর্তমান চাহিদা বুঝতে হবে। একটা সময় লেখালেখির সিম্বল বুঝাতে ‘দোয়াত-কলম’ ব্যবহার করা হ’ত। তবে এখন ব্যবহার করা হয় ‘ল্যাপটপ ও কফির মগ’। বোঝা গেল, সময়ের সাথে সাথেই সবকিছু পরিবর্তন হয়। সেই পরিবর্তন আপনি পসন্দ করেন বা না করেন, তা হবেই। সুতরাং বিরোধিতা না করে, ব্যক্তিগত নযরিয়্যাত প্রকাশ না করে যোগ্য হওয়ার চেষ্টা করুন।

একজন দুধ বিক্রেতা সেই এলাকাতে দুধ বিক্রি করতে যায়, যেখানে দুধ কেনার মানুষ রয়েছে। একজন মধু বিক্রেতা সেখানে দোকান দেয়, যেখানে মধু কেনার মানুষ রয়েছে। আপনি একজন শিক্ষক হিসাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসেন। কারণ এখানে শিক্ষা নেওয়ার মানুষ রয়েছে। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসাবে আপনাকে সেখানেই যেতে হবে যেখানে শিক্ষার্থী রয়েছে। আজকের যুগে অফলাইন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। অফলাইনের তুলনায় অনলাইনে ছাত্র অধিক। শেখার চাহিদা অনেক। আপনি ভুল বুঝবেন না যে, আমি আপনাকে অফলাইন ছেড়ে অনলাইনে চলে যেতে বলছি। অনলাইন সর্বদা টেম্পোরারি। যখন তখন এর অস্তিত্ব হারিয়ে যেতে পারে। তবে যতক্ষণ রয়েছে ততক্ষণ আপনারও পদচারণা থাকুক সেখানে। দোষের কী?

একজন শিক্ষক হিসাবে আপনাকে এম.এস.ওয়ার্ডের ব্যবহার জানতে হবে। পরীক্ষার প্রশ্ন যেন আপনি নিজেই করতে পারেন। ছাত্রদের যদি কখনো কোন শীট দেয়ার প্রয়োজন হয়, সেটা যেন নিজেই তৈরি করতে পারেন। আত্মউন্নয়ন-মূলক লিফলেট তৈরি করে ছাত্রদের দিতে পারেন। আপনাকে পাওয়ার পয়েন্টের কাজ জানতে হবে। কোন আধুনিক সেমিনারে কোন বিষয় বুঝানোর জন্য আপনি যেন সুন্দরভাবে নিজের মত করে একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারেন। কোন উন্নত প্রতিষ্ঠানে যদি ডিজিটাল বোর্ডে ক্লাস নিতে হয় তবে আপনি যেন অপারগ হয়ে না পড়েন। আপনি যেন সুন্দরভাবে সলাইড তৈরি করে ক্লাস নিতে পারেন। এগুলো শিক্ষক হিসাবেই আপনার শেখা দরকার।

বর্তমানে যে কোন বিষয় খুব দ্রুত সমাধানের জন্য বা স্বল্প সময়ে যে কোন বিষয়ের ওপরে একটি মানসম্মত ক্লাসের প্রস্ত্ততি নিতে আপনাকে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা চ্যাটবট ব্যবহার করা শিখতে হবে। কিভাবে তাকে কমান্ড করতে হয়, আপনার কাজগুলো সে কিভাবে আরো সহজ করতে পারে সেগুলো জানতে হবে। আপনি যে বিষয়গুলো পাঠদান করেন সে বিষয়গুলোর তথ্য, পিডিএফ বই বা বইয়ের ওয়ার্ড কপি কোন ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় তা আপনাকে জানতে হবে। এই বিষয়গুলো যদি আপনি না জানেন এবং গলা বাজিয়ে বলতে থাকেন, ‘এগুলোর ভেতরে কোন ইলম নাই! এগুলো সব দাজ্জালের ফিতনা’! তবে দিনশেষে দেখবেন, সবাই এগিয়ে গেছে। পেছনে রয়ে গেছেন আপনি এবং আপনার গলাবাজি।

আমরা এমন অনেক হাদীছের শিক্ষক দেখেছি, যারা সারাদিন হাদীছের মসনদেই থাকেন। অথচ তারা ‘মাকতাবা শামেলা’ ব্যবহার করতে জানেন না। আচ্ছা! এটাও কি দাজ্জালের তৈরি! আপনি হয়ত নিজের মুতালাআ‘ ও পাঠদানের ওপর খুবই সন্তুষ্ট! তবে আপনি জানেন না, এর সাথে যদি আপনি ‘মাকতাবা শামেলা’ ব্যবহার জানতেন তবে সে আপনাকে কোন মাত্রায় পৌঁছে দিত। এজন্য আমাদের মনে হয়, হাদীছের সাথে যুক্ত সকল শিক্ষককে ‘মাকতাবা শামেলা’ ব্যবহার করা জানতে হবে। দেখুন! এগুলো শিখতে একযুগ সময় লাগবে না। আপনি শিক্ষকতায় এসেছেন তার অর্থই আপনি মেধাবী। শুধু একটি রামাযান মেহনত করে আপনি যদি এগুলো শিখে নেন তবে আমাদের ধারণা, আপনি সবকিছুই শিখতে পারবেন। তবে কোন রামাযানে শিখবেন সেটা নির্ধারণের পূর্বে আগ্রহের মাত্রা বাড়াতে হবে এবং অতিরিক্ত ও অনর্থক আত্মসম্মান কমাতে হবে। কারণ উচ্চ আত্মসম্মানবোধ ইলম অর্জনে প্রতিবন্ধক। এই পর্যায়ে আমরা কিছু দোষ নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার।

দুনিয়া সম্পর্কে একজন শিক্ষকের দৃষ্টিভঙ্গি : আমরা জানি দ্বীনী খিদমতের পথ কণ্টকাকীর্ণ। তারপরও কিছু মানুষকে এই কাজের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। নিঃস্বার্থ হয়েই কাজ করতে হবে। অন্যথা মানুষ দ্বীনের ব্যাপারে অজ্ঞ হয়ে পড়বে। অবশ্য কিছু মানুষ সবকিছু জেনে বুঝেই তাদের সন্তানদের এই পথে পাঠান। দ্বীনী বিদ্যাপিঠে তাদের সন্তানরা এক বুক আশা নিয়ে পা রাখে যে, সে একজন আলেম হবে। কুরআন ও হাদীছের ধারক-বাহক হবে। এই ছেলেগুলোও একটা সময় পরে আলেম হওয়ার বাসনা পরিত্যাগ করে। আমাদের হাত ফসকে বেরিয়ে যায়! আমরা তাদেরকে দ্বীনী শিক্ষায় ধরে রাখতে পারি না।

আমরা মনে করি, এই সমস্যা কিছুটা শিক্ষক কেন্দ্রিক। কারণ আলেম হওয়ার স্বপ্নে যারা মাদ্রাসায় এসেছে তাদের আলেম হওয়ার স্বপ্নই দেখানো উচিৎ। এখন আমার শিক্ষক যদি ক্লাসে এসে এই আফসোসের গল্প শোনান যে, তিনি একটুর জন্য বিসিএস করতে পারেননি। ডাক্তার হ’তে পারেননি। আজ যদি তিনি বিসিএস করতে পারতেন তবে তিনি আর এখানে পড়ে থাকতেন না। ঢাকায় তার তিনটা বাড়ি হ’ত। এই দুখ্কান্না শুনে আমি আপনার অপূর্ণ স্বপ্নকে নিজের জীবনে পূর্ণ করতে চাইব। কারণ আমি আপনার ছাত্র। আপনার প্রভাবে আমি পূর্ণ প্রভাবিত। এই সমস্যা গুটিকয়েক জেনারেল শিক্ষকদের মাধ্যমে ঘটে বেশী। দুঃখিত! আমি আপনাকে আঘাত করছি না। যদি সেই সমস্যা আপনার মাঝেও থাকে তবে সংশোধনের চেষ্টা করছি।

আমাদের জেনারেল শিক্ষকদের কাছে আমরা ভিন্ন শিক্ষা পেয়েছি। তারা আমাদের তালিবুল ইলম হিসাবে যথেষ্ট সম্মান দিতেন। জেনারেল শিক্ষকরা আমাদের ক্লাসে এসে বলতেন, ‘আপনাদের ভাগ্য অনেক ভাল যে, আল্লাহ আপনাদের দ্বীনী শিক্ষার জন্য কবূল করেছন। আমরা জীবনটাকে নষ্ট করেছি। আমরা না জানি আল্লাহর বাণী, না জানি ইসলামের বিধি-বিধান। আপনারা অনেক বড় আলেম হবেন ইনশাআল্লাহ। দেশ ও দশের হেদায়াতের দিশারী হবেন। আর আপনাদের যেহেতু দু’অক্ষর শিখাচ্ছি এজন্য আপনারা হাশরের ময়দানে আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন। আমাদের এই শিক্ষার কোন দাম নেই। কুরআন-হাদীছ ভালভাবে শিখেন। ইহকাল এবং পরকালে সুখী হবেন ইনশাআল্লাহ’। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির জেনারেল শিক্ষকদের সংখ্যা আজ যথেষ্ট কম!

প্রিয় জেনারেল শিক্ষকগণ! আপনাদের প্রতি অনুরোধ করছি। দয়া করে ছাত্রদের দুনিয়াদার বানাবেন না। আপনি ইলমে দ্বীন শিক্ষা করেননি। আপনার সন্তানদেরও করাননি। আপনারা তো আপনাদের দৃষ্টিতে দুনিয়ার সকল সুখ ও সমৃদ্ধি পেয়েই গেছেন। আপাতত যে ছেলেগুলো আলেম হ’তে, দ্বীনের খাদেম হ’তে আমাদের মাদ্রাসাগুলোতে চলে এসেছে তাদের অন্তত দ্বীনের খাদেম হওয়ার সুযোগ দিন। দুনিয়ার লালসা তাদের মাথায় না দিয়ে আখেরাতের লোভ দেখান। যদি আপনার কথায় প্রলুব্ধ হয়ে একটি ছেলেও মাদ্রাসা থেকে চলে যায়, তবে এর দায়ভার আপনার। আপনি কোনদিন একটি স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে মাদ্রাসায় আনতে পারেননি। তাহ’লে আপনার কথায় যারা মাদ্রাসা থেকে চলে যাচ্ছে তাদের ক্ষতিপূরণ আপনি কোথা থেকে দিবেন!

শিক্ষকতায় উপার্জিত টাকা কি হারাম হ’তে পারে : আমি যদি বলি, শিক্ষকতায় যে মাসিক বেতন পাওয়া যায় সেটা কি কখনো হারাম হ’তে পারে? তবে একবাক্যেই সবাই বলবে, কখনোই নয়। শিক্ষকতায় উপার্জিত অর্থ তো আহাল্লুল হালাল। তবে আমি আপনাকে দেখাতে পারি যে, একজন শিক্ষকের বেতন হারাম হ’তে পারে। আপনি হয়ত হারামকে চিনতে পারেননি। এজন্য আপনার এমন মনে হয়। তবে বাস্তবতায় হালাল খুব কঠিন জিনিস। নিজেকে হালালের মাঝে সীমাবদ্ধ করা খুব কঠিন কাজ। যদি তা কঠিন না হ’ত তবে রাসূল (ছাঃ) নিজের জন্য হালালের দো‘আ করতেন না।

একটি মোবাইল যদি সকালে ফুল চার্জ করে আপনি ব্যবহার করা শুরু করেন তবে দুপুর হ’তেই তার চার্জ ফুরিয়ে আসবে। এটাই স্বাভাবিক। এখন আপনাকে যদি সকালে মোবাইলটি ফুল চার্জ দিয়ে বলা হয়, আপনাকে এটা রাত ১১টা পর্যন্ত ব্যবহার করতে হবে, তবে আপনাকে ব্যবহার পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। শুরুতেই আপনি ফোন পাওয়ার সেভিং মুডে নিয়ে যাবেন। ব্রাইটনেস যথাসম্ভব কমিয়ে দিবেন। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কাজগুলোই করবেন। ফ্লাশ লাইট জ্বালাবেন না। ক্যামেরা চালু করবেন না।

ঠিক তেমনই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষক রয়েছেন যারা ক্লাসে এসে পাওয়ার সেভিং মুডে থাকেন। শিক্ষকরা সবাই মানুষ হয়। তাদের শরীরের নির্দিষ্ট একটা ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। সেই ক্ষমতাকে তারা সঞ্চয় করেন। পূর্ণ ক্লাসটাইম তাদের ব্রাইটনেস কমানো থাকে। কারণ তাদের এ্যানার্জি সেভ করতে হয় কোচিং এর জন্য। কোচিংয়ে তারা যতটুকু সক্রিয়, ক্লাসে তারা ততটুকু সক্রিয় নন। ক্লাস টাইমে তারা রেস্ট মুডে থাকেন। নিজের ছোটখাটো প্রয়োজনগুলো পূরণ করেন। এবার আপনি বলুন, এই শিক্ষকদের মাসিক বেতন কি পাওয়ার সেভিং মুডে থাকার জন্য দেয়া হয়! নাকি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে মেহনত করার বিনিময়ে দেয়া হয়! কোন রকমে মাস পার করে প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া মাসিক বেতন কি তাদের হালাল হচ্ছে? এজন্য সকল শিক্ষকের উপার্জন চোখ বন্ধ করে হালাল বলার কোন সুযোগ নেই।

অনেক শিক্ষককে দেখেছি, যারা অভিভাবকের কাছে টাকা কর্য নেন। আবার পরিশোধেও গড়িমসি করেন। এদিকে সন্তান আপনার কাছে পড়ে বলে অভিভাবকও কিছু বলতে পারে না। অনেকে আবার অভিভাবকের কাছে চেয়ে দাওয়াত নেন। আপনার এই অসহায়ত্ব দেখে ছাত্রদের মাথায় একটি বিষয় উঁকি দেয় যে, উস্তাযকে বাসায় দাওয়াত দিলে হয়ত তিনি আমাকে স্নেহ করবেন। বাসা থেকে আসার সময় তার জন্য কিছু নিয়ে আসলে হয়ত তিনি আমাকে অন্যদের তুলনায় বেশী সুযোগ-সুবিধা দিবেন। আচ্ছা, বলুন তো, একজন শিক্ষকের বিষয়ে ছাত্ররা এমন ধারণা রাখবে কেন? এটা কি একজন শিক্ষকের জন্য খুবই সম্মানের?

আপনার অনাগত ছাত্রদের পক্ষ থেকে বিশেষ আরয : আমি আপনাদের ছাত্র। বিশেষত এই লেখায় প্রত্যেকটি কথা আমি আপনাদের অনাগত হাযার হাযার ছাত্রের পক্ষ থেকেই বলছি। কথা বলতে গিয়ে হয়ত আমি আমার সকল সীমা পেরিয়ে গেছি। আমার কথার কর্কশতাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি আপনার একজন ছাত্র হিসাবেই আপনাকে বলেছি, আপনি যোগ্য হোন। আমাদের জীবনগুলো আপনারা নষ্ট করবেন না। আমাদেরকে দুনিয়ার পেছনে ছোটার স্বপ্ন দেখাবেন না। ছাহাবায়ে কেরামের কাছে যেমন ছিলেন রাসূল (ছাঃ), তাবেঈগণের কাছে যেমন ছিলেন ছাহাবায়ে কেরাম, আমাদের কাছে আপনারা তেমনই। আমরা আমাদের দারসে শিক্ষক হিসাবে ইমাম বুখারীকে চাই না। কারণ আমরা তো ইমাম মুসলিমের মত নই। আমরা আমাদের দারসে শিক্ষক হিসাবে আপনাদেরই চাই। তবে দায়সারাভাবে নয়, দরদী হিসাবে। চাকুরীজীবী হিসাবে নয়, রাহবার হিসাবে। সময় কাটানোর জন্য নয়, দক্ষ হিসাবে।

আমরা চাই, আপনারা আমাদের আদর্শ হোন। আপনাদের প্রতিটি কথা, কাজ যেন আমাদের জন্য অনুসরণীয় হয়। আমরা আপনাদের মুখে অশ্লীল ভাষা শুনতে চাই না। আমরা আপনাদের অন্তর থেকে সম্মান করি। আমরা চাই, আপনারা সেই সম্মানের জায়গাটা সারা জীবন ধরে রাখেন। দশ বছর পরে যেন আমাদের মনে না হয়, আপনাদের কাছে না পড়ে অন্য কারো কাছে পড়লে হয়ত আমাদের জীবনটা সুন্দর হ’ত। যোগ্যতা আরো কিছুটা বেশী হ’ত।

শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ! ছাত্র যদি শিক্ষকের গর্ব হ’তে পারে তবে শিক্ষক কেন ছাত্রদের গর্ব হবে না! আমাদের তো ইচ্ছা হয়, ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বন্ধুদের সামনে আমরা আপনাদের নিয়ে গর্ববোধ করি! যখন তারা তাদের শিক্ষকের গুণ বর্ণনা করে, তখন আমাদেরও মন চায় আপনাদের কিছু গুণ বর্ণনা করি! সেই সুযোগ কি আমরা পাবো না! আমরা কি গর্বভরে বলতে পারবো না যে, আমাদের অমুক শিক্ষক একাধিক ভাষার ওপর কিংবদন্তি। আমাদের অমুক শিক্ষক হাদীছের মসনদে বসলে মনে হয় যেন ৩০০ হিজরীর কোন ইমাম বসে আছেন। অমুক শিক্ষকের উছূলের দারসে বসলে মনে হয় তার রক্ত-গোশতেও উছূল মিশে আছে। আমরা কেন বলতে পারবো না!

শ্রদ্ধেয় আসাতিযায়ে কেরাম! আপনারা কি এখনো শিক্ষকতার মহান দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত হননি? আপনারা কি এখনো বুঝতে পারছেন না যে, আপনাদের কি করা দরকার? যদি বুঝতে পারেন, তবে আর দেরী কেন? কিসের অপেক্ষা? আজ থেকেই শুরু হোক নতুনভাবে পথচলা। আজ থেকেই শুরু হোক রাত্রি জাগরণ। আজ থেকেই শুরু হোক পদচিহ্ন রেখে যাওয়া। এই দুইদিনের দুনিয়ার সাথে আপনাদের কোন বোঝাপাড়া নেই। আপনারা শিক্ষক। প্রজন্ম গড়ার কারিগর। প্রজন্মের হাত ধরে অমরত্বের পানে হোক আপনাদের নিরন্তর ছুটে চলা।

সারওয়ার মিছবাহ

* শিক্ষক, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী।







আরও
আরও
.