আধুনিক সমাজে তাওহীদী চেতনার গুরুত্ব

ভুমিকা : বর্তমান বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম শিখরে আরোহণ করলেও মানুষের আত্মিক প্রশান্তির পারদ ক্রমশ নিম্নমুখী। আধুনিক বস্ত্তবাদী সভ্যতা আমাদের দিয়েছে অঢেল আরাম-আয়েশ আর বিলাসিতার উপকরণ, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে মনের গভীরের সুখ ও স্থিতি। মানুষ আজ অর্থের পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজেকে হারিয়ে ফেলছে হতাশা, অস্থিরতা আর অন্তহীন চাহিদার অতল গহবরে। বাহ্যিক চাকচিক্যের এই মরিচিকার পেছনে ছুটতে গিয়ে মানুষ ভুলে যাচ্ছে তার সৃষ্টির প্রকৃত উদ্দেশ্য। ‘তাওহীদী চেতনা’ বা মহান আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাস কেবল একটি ধর্মীয় অনুষঙ্গ নয়, বরং এটি মানবজীবনের দিশারী ও মুক্তির একমাত্র সনদ।

তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ হ’ল ইসলামের মূল ভিত্তি এবং পঞ্চস্তম্ভের মূল স্তম্ভ। আদি পিতা আদম (আঃ) থেকে শুরু করে শেষ নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) পর্যন্ত সকল নবী-রাসূল এই এক মহাসত্যের দিকেই মানুষকে আহবান জানিয়েছেন। আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর আগে মক্কার ঘুণেধরা ও পুঁতিগন্ধময় সমাজে বিশ্বনবী (ছাঃ) যখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর মশাল নিয়ে আবির্ভূত হ’লেন, তখন সেই জাহেলী সমাজ আমূল পরিবর্তিত হয়ে এক শান্তিময় জনপদে পরিণত হয়েছিল। মানুষ মানুষের গোলামী ছেড়ে এক আল্লাহর দাসত্বের অধীনে খুঁজে পেয়েছিল প্রকৃত মানবাধিকার ও মর্যাদা।

তাওহীদ মানুষকে হাযারো মিথ্যা প্রভুর দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক মহান সত্তার কাছে সমর্পিত করে। এটি এমন এক বিপ্লবী চেতনা, যা ভোগবাদী সমাজের মোহ কাটিয়ে মানুষকে শেখায় আত্মমর্যাদা, পরিমিতিবোধ এবং প্রকৃত সাফল্যের সংজ্ঞা। আধুনিক এই যান্ত্রিক ও সংঘাতময় জীবনে তাওহীদী চেতনার সেই অপরিহার্য গুরুত্ব ও প্রভাব নিয়েই বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

শিরক থেকে মুক্তি লাভ : তাওহীদের বিপরীত হ’ল শিরক। আল্লাহর একত্বের সাথে কোন কিছুকে শরীক স্থাপণ করাকে শিরক বলা হয়। আজকে অধিকাংশ মানুষ ধর্মীয় ও বৈষয়িক বিষয়ে নানাবিধ শিরকে লিপ্ত। কেউ আছেন যেখানে সেখানে নিজের উন্নত মস্তক অবনত করছেন। কেউ গরুর পূজা করছে। গরুর মল-মূত্র পান করছে। এমনকি একটা তুলসী গাছের পর্যন্ত পূজা করছে! অন্যদিকে অধিকাংশ মুসলিমরা ঈমান আনার পরেও শিরকে লিপ্ত। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ ‘তাদের অধিকাংশ আল্লাহকে বিশ্বাস করে। অথচ তারা শিরক করে’ (ইউসূফ ১২/১০৬)। মানুষ আজকাল মসজিদেও সিজদা করেন আবার মাযারে গিয়েও সিজদা করেন। পীরের কাছে সন্তান কামনা করেন, নযর-নেওয়াজ দেন, বিপদে-আপদে মুক্তি চান। রাজনৈতিক নেতারা অধিকাংশের মতামতের দোহাই দিয়ে আল্লাহর বিধানকে অগ্রাহ্য করে নিজেদের মনমত আইনে ও বিভিন্ন মানবরচিত মতবাদ দিয়ে দেশ পরিচালনা করেন। দেশীয় সংস্কৃতির নামে চলছে স্থানপূজা, খাম্বাপূজা, শিখা অনিবার্ণ, শিখা চিরন্তন প্রভৃতি রাষ্ট্রীয় শিরক। অথচ তারা সকলেই মুসলমান! এই দ্বিচারিচার মূল কারণ নির্ভেজাল তাওহীদ সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান না থাকা।

এর বিপরীতে তাওহীদের মূল শিক্ষা হ’ল- মানুষ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে মাথা নত করবে না, মানুষ একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে, কারো উপকার ও ক্ষতি করার ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে, তিনিই সৃষ্টিকর্তা, তিনিই বিধানদাতা। তাই একজন দৃঢ় তাওহীদবাদী মানুষ কখনো শিরকে জড়াতে পারে না। শুধুমাত্র নির্ভেজাল তাওহীদ বিশ্বাসই মানুষকে শিরকের মহাপাপ থেকে রক্ষা করতে পারে।

দাসত্ব থেকে মুক্তি : আধুনিক যুগে মানুষ বাহ্যিকভাবে স্বাধীন মনে হ’লেও তারা নানামুখী অদৃশ্য শিকলে বন্দী। সূদী অর্থনীতি, বিজাতীয় রাজনীতি, অমুসলিমদের ফ্যাশন, সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড বা নিজের প্রবৃত্তির দাসত্ব মানুষকে গ্রাস করে রেখেছে। মুসলিম বিশ্বের ৫৭টি রাষ্ট্র কার্যত উপরোক্ত দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দী হয়ে আছে। উন্নত মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর অর্থ ইহূদী ব্যংকগুলোতে জমা হয়ে আছে, অন্যদিকে গরীব রাষ্ট্রগুলো তাদের ঋণের জালে আটকা পড়েছে। ফলে মুসলিম বিশ্ব ইহূদী-খৃষ্টানদের কাছে কার্যত অর্থনৈতিকভাবে জিম্মি হয়ে আছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলার বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। তাদের দেওয়া রাজনীতি সকল মুসলিম রাষ্ট্রে মহা শোরগোলে পূজিত হচ্ছে উদার বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে। ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা চলছে যুগের পর যুগ। আধুনিক প্রযুক্তির বদৌলতে পশ্চিমা সংস্কৃতি আজ আমাদেরকে অষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরেছে। কিন্তু প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি ইহূদী-খ্রিষ্টানদের হাতেই। তাদের দেওয়া মতবাদে পরিচালিত হয়ে ভাই-ভাই যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছি। মজার বিষয় তাদের নিকট ঋণ নিয়ে তাদের কাছ থেকেই অস্ত্র কিনছে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো। ফলে মরছে মুসলমান, মারছেও মুসলমান। দূর থেকে শয়তানী হাসির ঝলক দিচ্ছে ইহূদী-খৃষ্টান লবিরা।

এই বস্ত্তগত ও মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সেই বৈপ্লবিক আহবানে ফিরে যেতে হবে। সব গোলামীর জিঞ্জির ছিন্ন করে এক আল্লাহর দাসত্বে নিজেদের আবদ্ধ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ ‘তাদেরকে এ ছাড়া অন্য কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে’ (বাইয়িনাহ ৯৮/৫)। মূলত এক আল্লাহর দাসত্বই অন্য সকল দাসত্ব থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়। আল্লামা ইকবালের ভাষায়-

یہ ایک سجدہ جسے تو گراں سمجھتا ہے ہزار سجدوں سے دیتا ہے آدمی کو نجات

‘এই একটি সিজদা, যাকে তুমি কঠিন মনে করো,

তোমাকে হাযারো মানুষের দুয়ারে সিজদা করা থেকে মুক্তি দেয়’।

জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ : দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং বস্ত্তবাদী বিশ্বে আমরা অনেকেই জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পেতে বিভ্রান্ত হই। নিরন্তন পরীক্ষার এক জীবনে আমরা কত বিপদ-আপদ, দুঃখে-কষ্টে ও সংকট মুহূর্তে পতিত হই। এই কঠিন সময়ে আল্লাহর উপর অটুট বিশ্বাস আমাদেরকে লক্ষ্যে দৃঢ় থাকতে সাহায্য করে। এজন্য আমাদের জীবনের লক্ষ্য হবে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব করা এবং উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে জান্নাত লাভ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ‘আর আমি জিন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি কেবলমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য’ (যারিয়াত ৫১/৫৬)। তিনি আরো বলেন, وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ‘মুমিন পুরুষ ও নারীদের প্রতি আল্লাহ জান্নাতের ওয়াদা করেছেন, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং ওয়াদা করেছেন ‘আদন’ নামক জান্নাতের উত্তম বাসস্থান সমূহের। আর আল্লাহর পক্ষ হ’তে সামান্য সন্তুষ্টিই হ’ল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আর সেটাই হ’ল মহান সফলতা’ (তওবা ৯/৭২)। উপরোক্ত লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্যকে জীবনের সঙ্গী বানিয়ে নিতে পারলে দুনিয়াবী কোন ধোঁকা ও শয়তানী কুমন্ত্রণা মানুষকে জান্নাতী পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।

মানসিক প্রশান্তি ও হতাশা থেকে মুক্তি : অনাগত ভবিষ্যৎ চিন্তা থেকে মানুষের মনে দুশ্চিন্তা ও হতাশার সৃষ্টি হয়। অথচ আল্লাহ তা’আলা পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাযার বছর আগে মানুষের তাক্বদীর সৃষ্টি করেছেন। তাঁর জন্ম-মৃত্যু, রিযিক ও সে সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যা সবকিছুই পূর্ব নির্ধারিত।[1] এই জ্ঞান আল্লাহ ব্যতীত কারো জানা নেই। এজন্য বান্দাকে আল্লাহর প্রতি সুধারণা ও আশাবাদী হয়ে কল্যাণের পথে এগিয়ে যেতে হবে।

বান্দা যখন বিশ্বাস করবে একমাত্র আল্লাহই রিযিকদাতা, আরোগ্যদাতা, উত্তম সাহায্যকারী, বিপদে মুক্তিদানকারী, তিনি সর্বশক্তিমান, তিনি হও বললেই হয়ে যায়; তখন আল্লাহর প্রতি মানুষের ভরসা বৃদ্ধি পায়। তিনি যদি বান্দার কল্যাণ চান তাহ’লে পৃথিবীর কোন শক্তিই তা রোধ করতে পারে না এবং তিনি বান্দার অকল্যাণ চাইলে পৃথিবীর কোন কিছুই তা ঠেকাতে পারবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তুমি কোন কিছু চাইলে আল্লাহর নিকটেই চাইবে। যখন কোন সাহায্য চাইবে তখন আল্লাহর নিকটেই চাইবে। জেনে রেখ! যদি সমস্ত মাখলূক একত্রিত হয়ে তোমার কোন উপকার করতে চায়, তবুও আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যতটুকু লিখে রেখেছেন সেটা ছাড়া তারা তোমার কোন উপকার করতে পারবে না। অপরদিকে সমস্ত সৃষ্টি একত্রিত হয়ে যদি তোমার কোন ক্ষতি করতে চায়, তবুও আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যতটুকু লিখে রেখেছেন ততটুকু ব্যতীত তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না’।[2]

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا ‘আর তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক প্রদান করে থাকেন। বস্ত্ততঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তিনি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার আদেশ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ প্রত্যেক বস্ত্তর জন্য পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন’ (তালাক্ব ৬৫/৩)

তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর উপর ভরসা মানুষকে অহেতুক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত রাখে এবং চরম বিপদেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে। একনিষ্ঠ তাওহীদ বিশ্বাস তাই মানুষের সকল পেরেশানী ও হতাশার মহৌষধ।

নৈতিকতার ভিত্তি ও অপরাধ দমন : আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাস মানুষের নৈতিকতার ভিত্তিকে শক্তিশালী করে। জাহেলী আরবে পাপাচারে লিপ্ত জনগণ তাওহীদ বিশ্বাসের বদৌলতে এমন এক সভ্য ও উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছিল যে, পরবর্তীতে নৈতিকতার বলে তারাই বিশ্ব শাসন করেছিলেন। এর মূল চালিকা শক্তি ছিল তাদের নৈতিক উৎকর্ষতা; আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও জিহাদী জাযবা। বেলাল, ইবনে মাসঊদ, খাববাব ইবনে আরাত (রাঃ)-এর মত ছাহাবীরা তাওহীদের উপর ঈমান আনার কারণে দুনিয়া ও আখেরাতে মহা সম্মানিত হয়েছিলেন। যারা একদিন আগেও মদের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছিল তারাই মদ হারামের সাথে সাথেই নিজেদের তৈরী মদ মদীনায় ফেলে দিয়েছিল। সেদিন মদীনার অলিতে-গলিতে ফেলে দেওয়া মদের স্রোত বয়ে যাচ্ছিল। সুদের মত জঘন্য ও আকর্ষণীয় বস্ত্তকে ছাড়তে তাদের দশবার ভাবতে হয়নি। একজন গামেদী মহিলা নিজের অপরাধ স্বীকার করে দুনিয়ার শাস্তিকে মেনে নিয়ে আল্লাহর ক্ষমা ও নাজাতের পথ বেছে নিয়েছিল। এরকম ভুরি ভুরি উদাহরণ ইসলামের ইতিহাসে মজুত রয়েছে। এই উন্নত নৈতিক সমাজ ব্যবস্থা আমরা বহু শতাব্দী দেখতে পাইনি। কেন এই নৈতিক উৎকর্ষ সাধন হয়েছিল? জবাবে উত্তর আসবে আসবে; আর তা হ’ল নির্ভেজাল তাওহীদের উপর অটুট থাকা।

আধুনিক বিশ্ব ব্যবস্থা নৈতিকভাবে এতই ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে যে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফলে অপরাধপ্রবণ কর্মকান্ড স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এখন ছেলের হাতে বাবার খুন হওয়ার ঘটনা আমাদের কাছে আর দশটা নিউজের মতই সাধারণ মনে হয়। সুদ-ঘুষকে মানুষ ভদ্রবেশী ফ্যাশন মনে করছে। সেকারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পিয়নের ৪০০ কোটি টাকার মালিক হওয়ার বিষয়টি তিনি জাতির সামনে অনেকটা স্বাভাবিকভাবেই উপস্থাপন করেছিলেন।

সিসি ক্যামেরা ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করা খুবই সহজ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যের হক্ব নষ্ট করা মামুলী কাজ। কিন্তু বান্দা যখন জানবে একজন মহান রব তাঁর সকল কর্মকান্ড সর্বদা পর্যবেক্ষণ করছেন (হুজুরাত ৪৯/১৮), ক্বিয়ামতের দিন তাকে অনুপরিমাণ ভালো-মন্দের হিসাব দিতে হবে (যিলযাল ৯৯/৭-৮); তখন দুনিয়ার কোন সম্পদের লালসা তাকে অপরাধ ও দুর্নীতিতে জড়াতে পারবে না। তাই বর্তমান যুগের নীতি-নৈতিকতার অধঃপতন ও অপরাধ প্রবনতা হ্রাস করতে জনগণের মধ্যে তাওহীদি চেতনা বৃদ্ধি করার কোন বিকল্প নেই।

ভীতির বদলে সাহস লাভ : সত্যের আওয়াজকে নিস্তব্ধ করার জন্য যুগে যুগে ক্ষমতাশীলরা মানুষের মনে ভীতি ঢুকানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান। পক্ষান্তরে তাওহীদের সেবকরা আল্লাহর উপর ভরসা করেন এবং সকল বাধাকে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে চলেন। দুনিয়াবী কোন শক্তিকেই তারা ভয় করেন না। লোকভয়, রাজভয়, রুজি-রুটির ভয়, সমাজের ভয়, সংখ্যাধ্যিকের ভয়; কোন ভয়ই তাদেরকে দমাতে পারে না। আল্লাহ বলেন,إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ ‘নিশ্চয়ই যারা বলে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর তার উপর দৃঢ় থাকে, তাদের উপর ফেরেশতামন্ডলী নাযিল হয় এবং বলে যে, তোমরা ভয় পেয়ো না ও চিন্তান্বিত হয়ো না। আর তোমরা জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছে’ (হা-মিম সাজদাহ ৪১/৩০)

তালুত মাত্র ৩১৩ জন সৈন্য নিয়ে জালুতের বিশাল সুসজ্জিত শক্তিশালী বহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছিলেন। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِين ‘কত ক্ষুদ্র দল কত বৃহৎ দলকে পরাজিত করেছে আল্লাহর হুকুমে! বস্ত্ততঃ আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন’ (বাক্বারাহ ২/২৪৯)

মূসা (আঃ) যখন ফেরাঊনের বাহিনীর সামনে পড়েছিলেন এবং পালানোর কোন পথ ছিল না, তখন সে মুহূর্তে তিনি বলেছিলেন,فَلَمَّا تَرَاءَى الْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَابُ مُوسَى إِنَّا لَمُدْرَكُونَ (61) قَالَ كَلَّا إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ ‘এরপর যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখতে পেল, তখন মূসার সাথীরা বলে উঠল, আমরা তো অবশ্যই ধরা পড়ে গেলাম! মূসা বলল, কখনোই না। আমার সাথে আমার প্রতিপালক আছেন। তিনি অবশ্যই আমাকে পথ দেখাবেন’ (শো‘আরা ৬১-৬২)। অতঃপর ফেরাউনের কবল থেকে মূসার কওম নাযাত পেল।

একইভাবে বদর যুদ্ধের দিন রাসূল (ছাঃ) অস্ত্রে-সস্ত্রে সুসজ্জিত মক্কার কুরাইশ বাহিনীর সামনে দীনহীন-দুর্বল মাত্র ৩১৩ জন সৈন্য নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিলেন। এসময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আল্লাহর কাছে আকুতি জানিয়ে দো‘আ করেছিলেন, اللَّهُمَّ أَنْجِزْ لِىْ مَا وَعَدْتَنِىْ اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَنْشُدُكَ عَهْدَكَ وَوَعْدَكَ ...اللَّهُمَّ إِنْ تَهْلِكْ هَذِهِ الْعِصَابَةُ لاَ تُعْبَدْ فِى الأَرْضِ بَعْدَ الْيَوْمِ أبَدًا- ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যে ওয়াদা করেছ তা পূর্ণ কর। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার অঙ্গীকার ও ওয়াদা পূরণের প্রার্থনা জানাচ্ছি। ... হে আল্লাহ! যদি এই ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহ’লে আজকের দিনের পর তোমার ইবাদত করার মত আর কেউ যমীনে আর থাকবে না’।[3]

বেলাল (রাঃ)-কে উত্তপ্ত কংকর-বালুর উপরে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে বুকে পাথর চাপা দেওয়া হ’ত আর বলা হ’তلاَ تَزَالُ هَكَذَا حَتَّى تَمُوتَ أَوْ تَكْفُرَ بِمُحَمَّدِ وَتَعْبُدَ اللاَّتَ وَالْعُزَّى ‘মুহাম্মাদের দ্বীন পরিত্যাগ এবং লাত-‘উযযার পূজা না করা পর্যন্ত তোকে আমৃত্যু এভাবেই পড়ে থাকতে হবে’। কিন্তু বেলাল শুধুই বলতেন ‘আহাদ’ ‘আহাদ’।[4] 

যুগে যুগে এভাবেই তাওহীদবাদীরা বাতিলপন্থীদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে লড়াই করে থাকেন। বস্ত্তত এক আল্লাহর ভয়, মানুষকে সকল ভয় থেকে মুক্তি দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ ‘মানুষকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় করো’ (মায়েদা ৫/৪৪)

ভ্রান্ত মতবাদ ও কুসংস্কার থেকে মুক্তি লাভ : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরবের শতধাবিভক্ত সমাজ ও অসংখ্য জাহেলিয়াতের জঞ্জালকে দূর করে তাওহীদী সমাজ গড়ে তুলেছিলেন। এর ফলে তাকে অসংখ্য অপবাদ ও যুলূমের সম্মুখীন হ’তে হয়েছিলো। এযুগেও মানুষ জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ, মানবতাবাদ প্রভৃতি মতবাদ দ্বারা শোষিত হচ্ছে এবং মানুষ মানুষের দাসত্ব করছে। মানুষের মস্তিক্তপ্রসূত মতবাদগুলোর মধ্যে ভুল ও দ্বন্দ থাকা স্বাভাবিক। এর ফলে দলাদলি ও বিভক্তি সৃষ্টি অনিবার্য হয়ে পড়ে। অন্যদিকে একাধিক মতবাদ, প্রবৃত্তির অনুসরণ ও বহু ইলাহর আনুগত্যের জঞ্জাল থেকে বেরিয়ে এক আল্লাহর বিধানের কাছে মাথা নত করলে ঐক্য ও সংহতি দৃঢ় থাকে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যদি আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত বহু উপাস্য থাকত, তাহ’লে উভয়টিই ধ্বংস হয়ে যেত’ (আম্বিয়া ২১/২২)

আল্লাহর একত্বের প্রতি বিশ্বাস সমাজের প্রচলিত রীতি-রীতি, দেশাচার ও কুসংস্কারের প্রতি অন্ধবিশ্বাস থেকে মানুষকে রক্ষা করে। তাওহীদের মৌলিক শিক্ষা মানুষকে অন্ধভাবে কোন কিছু গ্রহণ না করে, যাচাই-বাছাই করে সত্য গ্রহণ করতে শেখায়। এটি কুসংস্কার ও ভ্রান্ত মতবাদের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। কারণ কুসংস্কার প্রায়শই মিথ্যা ও যুক্তিহীন বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। সমাজে প্রচলিত পীর, আউলিয়া, গাউছ, কুতুব, গণক, ওঝা-ফকির, প্রকৃতি ইত্যাদিকে উপাস্য বা বিপদ থেকে রক্ষাকারী মনে করার ভ্রান্ত ধারণা থেকে মুক্তি দেয় তাওহীদ বিশ্বাস। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِنَ الظَّالِمِينَ، وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ‘আর তুমি আল্লাহকে ছেড়ে এমন কাউকে আহবান করো না, যে তোমার কোন উপকার করতে পারে না বা কোন ক্ষতি করতে পারে না। যদি তুমি এরূপ কর, তাহ’লে তখন তুমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোন কষ্টে নিপতিত করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমার কোন কল্যাণ করতে চান, তবে তার অনুগ্রহকে ফিরিয়ে দেওয়ার কেউ নেই। স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে খুশী তিনি তা দান করেন। বস্ত্ততঃ তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান’ (ইউনুস ১০/১০৬-৭)

সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাওহীদের চেতনা : আল্লাহর দেওয়া আলো-বাতাস যেমন সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর, তেমনি আল্লাহর দেওয়া বিধান ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য কল্যাণকর। তাই তাওহীদের বিশ্বাস যখন মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত হয়, তখন সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা স্বাভাবিকভাবেই একটি ঈমানী দায়িত্বে পরিণত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হিসাবে, যদিও সেটি তোমাদের নিজেদের কিংবা তোমাদের পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়। (বাদী-বিবাদী) ধনী হৌক বা গরীব হৌক, আল্লাহ তাদের সর্বাধিক শুভাকাংখী। অতএব ন্যায়বিচারে তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল অথবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে জেনে রেখ আল্লাহ তোমাদের সকল কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক অবহিত’।

ক) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) : কুরায়েশ নেতা আবু জাহলের সম্ভ্রান্ত মাখযূম গোত্রের জনৈকা মহিলা চুরির আসামী হয়। তাকে বাঁচানোর জন্য নেতাদের পক্ষে নাতি উসামা বিন যায়েদকে দিয়ে সুফারিশ করানো হয়। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি আমার নিকট আল্লাহর দন্ডবিধির ব্যাপারে সুফারিশ করছ? অতঃপর তিনি খুৎবা দিয়ে বলেন, তোমাদের পূর্বেকার উম্মত ধ্বংস হয়েছে একারণে যে, যখন তাদের মধ্যেকার কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন কোন দুর্বল শ্রেণীর লোক চুরি করত, তখন তাকে দন্ড দিত। আল্লাহর কসম! যদি আজ মুহাম্মাদের কন্যা ফাতেমাও চুরি করত, আমি তার হাত কেটে দিতাম’।[5]

খ) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় খলীফা ওমর ফারূক (রাঃ): খলীফা ওমর (রাঃ) এক ব্যক্তির নিকট থেকে একটি ঘোড়া ক্রয় করেন এবং তার পিঠে সওয়ার হয়ে রওয়ানা হন। কিন্তু কিছু দূর যেতেই ঘোড়াটি খুঁড়িয়ে চলতে থাকে। তখন তিনি বিক্রেতার নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, তুমি ঘোড়াটি ফিরিয়ে নাও, কেননা এটি ত্রুটিযুক্ত। বিক্রেতা বলল, আমি ঘোড়াটি ফেরত নেব না। খলীফা বললেন, তাহ’লে তোমার ও আমার মাঝে একজন বিচারক নির্ধারণ করা হোক। বিক্রেতা বলল, বেশ তাহ’লে শুরাইহ। খলীফা বললেন, তিনি কে? বিক্রেতা বলল, তিনি ইরাকের অধিবাসী।

অতঃপর তারা উভয়ে শুরাইহর নিকট গিয়ে সব ঘটনা বর্ণনা করলেন। শুরাইহ ঘোড়ার মালিকের বক্তব্য শুনে বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি যে অবস্থায় ঘোড়াটি নিয়েছিলেন সে অবস্থায় তাকে ফিরিয়ে দিন। অথবা যা ক্রয় করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকুন’। ওমর (রাঃ) বললেন, এটি ব্যতীত ন্যায়বিচার হ’তে পারে কি? আপনি কূফায় চলুন। আমি আপনাকে কূফার বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দিলাম।[6]

এরকম ন্যায়বিচারের নমুনা শুধুমাত্র ইসলামের ইতিহাসেই দেখা মিলে। এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করার কারণে। কিন্তু আধুনিক বিচার ব্যবস্থায় ইংরেজদের চালুকৃত বিলম্ব বিচার ব্যবস্থা বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করেছে। যেখানে ন্যায়বিচার তো হয়না বরং নিরপরাধ মানুষরাই আজকে বেশী যূলুমের শিকার হচ্ছেন।

সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি : আল্লাহর একত্বের ঘোষণা মানুষকে শেখায় আমরা সকলেই এক আল্লাহর সৃষ্টি এবং সকলেই এক আদমের সন্তান। আদম ছিলেন মাটির তৈরী। অতএব অহংকারী না হয়ে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করে ভাই ভাই হয়ে পৃথিবীতে বসবাস করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَلَا إِنَّ رَبَّكُمْ وَاحِدٌ، وَإِنَّ أَبَاكُمْ وَاحِدٌ، أَلَا لَا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلَى أَعْجَمِيٍّ، وَلَا لِأَعْجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ، وَلَا لِأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ، وَلَا لِأَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ، إِلَّا بِالتَّقْوَى، ‘হে মানুষ! জেনে রেখ, তোমাদের প্রভু একজন, তোমাদের পিতা একজন। সুতরাং আরবের উপর অনারবের, অনারবের উপর আরবের; সাদার উপর কালোর, কালোর উপর সাদার কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাক্বওয়ার ভিত্তিতে’।[7]

উপসংহার : যুলুম ও অত্যাচারে নিমজ্জিত পৃথিবীতে মানুষের মানবিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। এজন্য আধুনিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাওহীদ বিমুখতা নয় বরং তাওহীদী চেতনার পুনর্জাগরণই একমাত্র সমাধান। তাই আসুন! আমরা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে তাওহীদের আলোয় সাজিয়ে তুলি। পরিশেষে আবারও সেই তাওহীদী কালেমা পাঠ করি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ -আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি ছাড়া আমাদের দ্বিতীয় কোন সাহায্যকারীও নেই।

আব্দুল্লাহ বিন বেলাল হোসাইন

*শিক্ষার্থী, মাদরাসা দারুল হাদীছ আস-সালাফিইয়াহ, পাঁচরুখী, নারায়ণগঞ্জ।



[1]. রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকেরই জন্ম হয় এভাবে যে, তার মায়ের পেটে শুক্ররূপে চল্লিশ দিন পর্যন্ত থাকে। ... তিনি আল্লাহর হুকুমে তার তাক্বদীরে লিখে দেন- (১) তার আমল (২) তার মৃত্যু, (৩) তার রিযিক এবং (৪) তার নেককার বা দুর্ভাগা হওয়ার বিষয়। তারপর তন্মধ্যে রূহ প্রবেশ করান (বুখারী হা/৩২০৮; মিশকাত হা/৮২)

[2]. তিরমিযী হা/২৫১৬; মিশকাত হা/৫৩০২।

[3]. সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) (৩য় মুদ্রণ), পৃ. ৩০০।

[4]. ইবনু হিশাম ১/৩১৭-১৮, সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) (৩য় মুদ্রণ), পৃ. ১৪২।

[5]. বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬১০।

[6]. ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৯/২৫ পৃ., ইসলমাী খেলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন ১৫৮ পৃ.।

[7]. বায়হাক্বী-শো‘আব হা/৫১৩৭; আহমাদ হা/২৩৫৩৬; ছহীহাহ হা/২৭০০






বিষয়সমূহ: তাওহীদ
তওবা (শেষ কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদূদ
আহলেহাদীছ একটি বৈশিষ্ট্যগত নাম (৪র্থ কিস্তি) - আহমাদুল্লাহ - সৈয়দপুর, নীলফামারী
নেতৃত্বের মোহ (শেষ কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কিত বিবিধ মাসায়েল - মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম মাদানী
নববী চিকিৎসা পদ্ধতি (৭ম কিস্তি) - কামারুযযামান বিন আব্দুল বারী
ছিয়ামের ফাযায়েল ও মাসায়েল - আত-তাহরীক ডেস্ক
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তাক্বলীদ (৩য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম মাদানী
আক্বীদা ও আহকামে হাদীছের প্রামাণ্যতা (৮ম কিস্তি) - মীযানুর রহমান মাদানী
যাকাতুল ফিৎর : একটি পর্যালোচনা - মুহাম্মাদ খোরশেদ আলম
ইলম অনুযায়ী আমল না করার পরিণাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
সুন্নাত আঁকড়ে ধরার ফযীলত (২য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
মহামনীষীদের পিছনে মায়েদের ভূমিকা (২য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
আরও
আরও
.