ভূমিকা : বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় 'Interfaith Dialogue' বা ‘আন্তঃধর্ম সংলাপ’ একটি বহুল চর্চিত ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিভাষা। এই মতবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি হ’ল পৃথিবীর সব ধর্মই সঠিক। কোন ধর্মই অপর ধর্ম থেকে শ্রেষ্ঠ নয়। সকল ধর্মই ভালো কথা বলে। সকল ধর্মই শান্তি ও সম্প্রীতির কথা বলে। এর উদ্দেশ্য হ’ল সকল ধর্মের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক ও সহযোগিতা গড়ে তোলা। আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সাধারণভাবে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার একটি ধারণা হিসাবে প্রচার করা হয়। কিন্তু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এটি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের নব্য ও পরিমার্জিত রূপ। ইদানীং বিভিন্ন মহলে পশ্চিমা মতাদর্শের অনুসারী বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি ইসলামী লেবাসধারী একশ্রেণীর আলেমের মাধ্যমেও এই ‘ইন্টার-ফেইথ’ নামক ঈমান হননকারী মতবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র চলছে। ফলে সাধারণ মুসলমানরা এই গভীর চক্রান্তের সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে। বলাবাহুল্য, ধর্মনিরপেক্ষতার ফিৎনার চেয়েও ইন্টার-ফেইথের ফিৎনা অধিক ভয়াবহ ও সূক্ষ্ম। এই প্রতিবেদনে ইন্টার-ফেইথের ইতিহাস, এর পেছনের গোপন ষড়যন্ত্র এবং শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট :
আন্তঃধর্মীয় সংলাপ বা ইন্টার-ফেইথ মুভমেন্টের ইতিহাস খুব বেশী পুরানো নয়। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একে শান্তির ডাক মনে হ’লেও এর শেকড় প্রোথিত রয়েছে পশ্চিমা সেক্যুলার ও খ্রিস্টান মিশনারী চিন্তাধারায়। আধুনিক ইন্টার-ফেইথ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৮৯৩ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড পার্লামেন্ট অফ রিলিজিয়নস’-এর মাধ্যমে, যেখানে স্বামী বিবেকানন্দসহ বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে সকল ধর্মকে ‘একই সত্যের ভিন্ন রূপ’ হিসাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ক্যাথলিক চার্চ তাদের ‘দ্বিতীয় ভ্যাটিকান কাউন্সিল’ (১৯৬২-১৯৬৫)-এর মাধ্যমে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি কৌশল পরিবর্তন করে। তারা অনুধাবন করে যে মুসলিমদের সরাসরি খ্রিস্টান বানানো কঠিন। তাই তারা ‘সংলাপ’-এর নামে মুসলিমদের ঈমানী তেজ কমানোর সূক্ষ্ম কৌশল গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন পশ্চিমা এনজিও এই মতবাদকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে বিপুল অর্থায়ন শুরু করে এবং বিশেষ করে ৯/১১-এর পর সন্ত্রাসবাদ দমনের অজুহাতে মুসলিম বিশ্বে এই ঈমান বিধ্বংসী মতবাদ জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়।[1]
পেছনের গোপন ষড়যন্ত্র ও স্বরূপ :
RAND Corporation-এর ভূমিকা : মুসলিম বিশ্বের ঈমানী চেতনাকে দুর্বল করার নেপথ্যে আমেরিকার প্রভাবশালী থিংক ট্যাংক ‘র¨vন্ড কর্পোরেশন’-এর ভূমিকা অত্যন্ত গভীর ও সুপরিকল্পিত। তারা ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বা War of Ideas-এর মাধ্যমে ইসলামের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের লক্ষ্যে Civil Democratic Islam Building এবং Moderate Muslim Network-এর মতো প্রতিবেদনের মাধ্যমে মুসলিমদের বিভক্ত করার এবং ‘মডারেট’ বা আধুনিকতাবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করার কেŠশল গ্রহণ করে। এই কৌশলের অংশ হিসাবেই তারা ইন্টারফেইথ ডায়ালগকে ব্যবহার করে রাজনীতিবিমুখ ছূফীবাদ ও পশ্চিমা মূল্যবোধের প্রচার চালায়। মূলত শিক্ষাব্যবস্থা ও সিলেবাস পরিবর্তনের মাধ্যমে মুসলিমদের ঈমানী চেতনা ধ্বংস করে একটি আপোষকামী ও নির্জীব জাতি তৈরি করাই হ’ল এই প্রক্রিয়ায় র¨vন্ডের মূল এজেন্ডা।
তাওহীদের বিনাশ ও নব্য দ্বীনে ইলাহী : এর মূল লক্ষ্য হ’ল ইব্রাহীমী ধর্ম (Abrahamic Faiths) বা এজাতীয় নামের আড়ালে ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদী ধর্মকে একাকার করে ফেলা। এটি মূলত মুঘল সম্রাট আকবরের ‘দ্বীনে ইলাহী’র আধুনিক সংস্করণ, যা Humanism বা মানবতাবাদের মোড়কে পরিবেশন করা হচ্ছে।
সত্য ও মিথ্যার সমতাকরণ : ইন্টার-ফেইথের অন্যতম দর্শন হ’ল কোন ধর্মই এককভাবে সত্য নয় অথবা সব ধর্মই সত্য। এটি মুসলিমদের মন থেকে এই বিশ্বাস মুছে দিতে চায় যে, ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন।
আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা নীতি ধ্বংস করা : ইসলামের অন্যতম ভিত্তি হ’ল আল্লাহর শত্রুদের প্রতি বিদ্বেষ এবং মুমিনদের প্রতি ভালবাসা। ইসলামের বিধান হ’ল মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা এবং কুফর বা শিরকের সাথে আপোষহীন থাকা। কিন্তু ইন্টার-ফেইথ শেখায় যে, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সকল ধর্মের সত্যতাকে স্বীকার করতে হবে এবং কাফেরদের সাথেও গভীর বন্ধুত্ব স্থাপন করতে হবে, যা কুরআন নির্দশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
৩. শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে এর ভয়াবহতা : শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায়, তথাকথিত ‘ইন্টার-ফেইথ’ মতবাদটি ইসলামের মৌলিক নীতিমালার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। আল্লাহ তা‘আলা ইসলামকে একমাত্র মনোনীত দ্বীন হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন (আলে-ইমরান ৩/১৯, ৮৫) । তাই সকল ধর্মকে সমান ও সত্য মনে করা স্পষ্ট কুফরী এবং আল্লাহর আয়াতের সরাসরি লঙ্ঘন। আল্লাহ সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ নিষেধ করেছেন (বাক্বারাহ ২/৪২)। অথচ এই মতবাদ শান্তির নাম দিয়ে তাওহীদ ও শিরককে একাকার করে ফেলছে। ‘ইব্রাহীমী ধর্ম’-এর ধোঁকাপূর্ণ শ্লোগান দিয়ে তারা ইসলাম, ইহূদী ও খ্রিস্টধর্মকে এক সূত্রে গাঁথতে চায়। অথচ ইব্রাহীম (আঃ) ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম (আলে-ইমরান ৩/৬৭)। মূলত এই মতবাদটি ‘সব ধর্মই সত্য’ এই ভ্রান্ত ধারণা প্রচারের মাধ্যমে অমুসলিমদের নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির পথ রুদ্ধ করে মুসলিমদের দাওয়াত ও জিহাদের চিরন্তন চেতনা ধ্বংস করার এক গভীর চক্রান্ত।
সঊদী আরবের ইলমী গবেষণা ও ফৎওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি ‘ফৎওয়া লাজনা দায়েমা’ ‘ইন্টার-ফেইথ’ ও একই ধারার ’ইউনিটি অফ রিলিজিয়নস্’ সহ এই ধারার সকল মতবাদ ও কার্যক্রমকে হারাম বলে ফৎওয়া দিয়েছে। যার সারমর্ম হ’লإِنَّ الدَّعْوَةَ إِلَى الوَحْدَةِ الدِّيـنِيَّةِ، أَيِ الدَّعْوَةِ إِلَى تَوْحِيدِ الإِسْلَامِ وَاليَهُودِيَّةِ وَالمَسِيحِيَّةِ دَعْوَةٌ بَغِيضَةٌ، وَالغَرَضُ مِنْ هَذِهِ الدَّعْوَةِ هُوَ خَلْطُ الحَقِّ بِالبَاطِلِ، وَهَدْمُ الإِسْلَامِ، وَإِضْعَافُ أَرْكَانِهِ الأَسَاسِيَّةِ ‘ধর্মে ঐক্যের ডাক অর্থাৎ ইসলাম, ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মকে এক করার আহবান একটি বিদ্বেষপূর্ণ আহবান। এই আহবানের উদ্দেশ্য ‘সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করা, ইসলামকে ধবংস করা এবং এর মূল ভিত্তিগুলোকে দুর্বল করা’।[2]
রাজনীতিতে ইন্টার-ফেইথ-এর প্রভাব :
বর্তমান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে ঈমান ও কুফরের আলাদা কোন অবস্থান নেই। রাজনৈতিক নেতারা বলে থাকেন ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’। অন্যদিকে কথিত ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো সকল ধর্মকে একই কাতারে শামিল করতে তৎপর। ভোট পাওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের ভাষ্যনুযায়ী, ‘মোরা একই বৃত্তে দু’টি কুসুম হিন্দু মুসলমান, মুসলিম তার নয়ন মণি, হিন্দু তার প্রাণ। এই বিষ্ণু, এই কৃষ্ণ, এই মুহাম্মাদ, এই মূসা, এই ঈসা, আমাদের সামনে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার প্রতীক’। ‘আমরা ইবাদত করি, আর আপনারা পূজা করেন। এটা শুধুমাত্র একটা ভাষার পার্থক্য। কিন্তু কাজ সকলেরই এক’ এমন কুফরী বাক্যগুলো প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হচ্ছে তাদের বয়ানে। অথচ এই বাক্যগুলোই তো ঈমান বিধ্বংসী ইন্টার-ফেইথের আহবান। নেতা-নেত্রীদের সুন্নাতী ও নূরানী চেহারা মুবারক অমুসলিম ও মুশরিকদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও পরিলক্ষিত হয়। ইসলামের প্রতিনিধি দাবী করা এই সমস্ত মডারেট ইসলামিক দলের নেতারা শিরকের আস্তানাগুলোতে গিয়ে ঈমান-শিরক ও কুফরকে একাকার করে ফেলছেন। যা মূলত ইন্টার-ফেইথেরই আহবান।
মধ্যপ্রাচ্যে ইন্টারফেইথ এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোগ :
২০০৭ সালের ১৩ই অক্টোবর মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মুসলিম নেতা ও স্কলাররা সূরা আলে ইমরান ৬৪নং আয়াতের আলোকে একটি খোলা চিঠি 'A Common Word between Us and You' খ্রিস্টান নেতাদের কাছে প্রেরণ করেন। কেমব্রিজ ইন্টার-ফেইথ প্রোগ্রামের পরিচালক ডেভিড এফ.ফোর্ড উক্ত খোলা চিঠি সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে।[3] এটি ইসলামের দাওয়াত নয়, বরং কুরআনের বাণীকে ব্যবহার করে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের নামে ঈমান ও কুফরের মধ্যে পরস্পরের শ্রদ্ধা ও সম্মানের নামে নতুন ধারার ধর্মের সূচনা করার এক রাজনৈতিক চক্রান্ত। মুসলিম নেতাগণ পূর্বে অমুসলিম নেতাদের ঈমান কবুল করার শর্তে খোলা চিঠি প্রেরণ করতেন। কিন্তু আজ অমুসলিম নেতাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কথিত মুসলিম নেতারা নিজেরাই নিয়োজিত। ২০১০ সালে জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ ও যুবরাজ গাযী বিন মুহাম্মাদ-এর প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতি ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহকে ‘বিশ্ব আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সপ্তাহ’ ঘোষণা করা হয়। এই প্রস্তাবটি ছিল আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির বিশ্বব্যাপী সপ্তাহের জন্য জাতিসংঘের একটি উদ্যোগ।[4]
আমাদের করণীয় : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে মক্কার ধর্মনেতা ও সমাজনেতারা একটি আপোষ প্রস্তাব নিয়ে এসে বলেছিল, ‘এসো আমরা ইবাদত করি যার তুমি ইবাদত কর এবং তুমি ইবাদত কর যাকে আমরা ইবাদত করি। আমরা এবং তুমি পরস্পরে সকল কাজে শরীক হই’। তখন সূরা কাফেরূন নাযিল হয় এবং তারা নিরাশ হয়ে যায় (সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) ৩য় মুদ্রণ ১৬৫-৬৬ পৃ.)। যেখানে আল্লাহ বলেন,قُلْ يَاأَيُّهَا الْكَافِرُونَ- لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ- وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ- وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْ- وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ- لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ- ‘তুমি বল! হে অবিশ্বাসীগণ! আমি ইবাদত করিনা তোমরা যাদের ইবাদত কর এবং তোমরা ইবাদতকারী নও আমি যার ইবাদত করি। আমি ইবাদতকারী নই তোমরা যাদের ইবাদত কর এবং তোমরা ইবাদতকারী নও আমি যার ইবাদত করি। তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন’ (কাফিরূন ১০৯/১-৬)। এর অর্থ ‘তোমাদের কর্মফল তোমাদের এবং আমার কর্মফল আমার’ (কুরতুবী)। অথবা ‘তোমাদের জন্য তোমাদের শিরক এবং আমার জন্য আমার তাওহীদ’ (তানতাভী)।[5]
প্রতি ছালাতে সূরা ফাতিহায় যেমন আমরা ইহূদী-খ্রিষ্টানদের হ’তে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই, ঠিক তেমনি জীবনে চলার পথে সকল বিভাগে তাদের তৈরি সকল মতবাদ ও ফাঁদসমূহ হ’তে মুক্ত থাকার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের একমাত্র পথ ইসলাম। তাই ইসলামের সাথে অন্য কোন ধর্মকে মিলিয়ে ফেলা কখনই কাম্য নয়।
উপসংহার :
ইন্টার-ফেইথ বা আন্তঃধর্মীয় সংলাপ আপাত দৃষ্টিতে শান্তির বার্তা বহন করলেও এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং সুদূরপ্রসারী। এর মূল লক্ষ্য ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বকে বিলীন করে সকল ধর্মকে একীভূত করে একটি নতুন ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ প্রতিষ্ঠা করা। যা মুসলিম উম্মাহর মৌলিক আক্বীদা ও তাওহীদী চেতনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পশ্চিমা শক্তি ও তাদের দেশীয় দোসরদের মাধ্যমে পরিচালিত এই ফিৎনা মোকাবিলায় মুসলিম উম্মাহকে গভীরভাবে সচেতন হ’তে হবে। ইসলামী শরী‘আতের ফৎওয়া অনুযায়ী এই মতবাদ সম্পূর্ণ হারাম ও ঈমান বিধ্বংসী। মুসলিম হিসাবে আমাদের কর্তব্য হ’ল একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলামের স্বকীয়তা বজায় রাখা এবং সর্বাবস্থায় কুফর ও শিরকের সকল প্রকার চক্রান্ত থেকে নিজেদের ঈমানকে রক্ষা করা। মহান আল্লাহর বাণী, ‘ইহূদী-নাছারারা কখনোই তোমার উপর সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না তুমি তাদের ধর্মের অনুসরণ কর। বলে দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহর দেখানো পথই সঠিক পথ। আর যদি তুমি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ কর, তোমার নিকটে (অহি-র) জ্ঞান আসার পরেও, তাহ’লে আল্লাহর কবল থেকে তোমাকে রক্ষা করার মত কোন বন্ধু বা সাহায্যকারী নেই’ (বাক্বারাহ ২/১২০)। দয়াময় আল্লাহ এই ফাঁদ হ’তে আমাদের ঈমানকে হেফাযত করার ও এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর তাওফীক দান করুন- আমীন!
সাজিদুর রহমান
শিক্ষক, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, জয়পুরহাট।
[1]. Angel Rabasa & others, Building Moderate Muslim Networks, www.rand.org/pubs/monographs/MG574.html; www.pluralism.org/parliament-of-religions-1893
[2]. ফৎওয়া নং ১৯৪০২, প্রকাশকাল : ৩১ মে ১৯৯৭ খৃ.।
[3].wikipedia.org/wiki/A_Common_Word_Between_Us_and_You
[4]. www.worldinterfaithharmonyweek.com
[5]. সম্পাদকীয় : আন্তঃধর্ম শান্তি সম্মেলন, ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল গালিব, মাসিক আত-তাহরীক, ফেব্রুয়ারী ২০২১ইং।