১৪. সন্তানের সঙ্গে শুধু ফলাফল নিয়ে কথা বলা :

নম্বর একটি পরীক্ষার ফল জানায় আর চরিত্র বাড়ায় পুরো জীবনের মান। অনেক পরিবারে দিনের প্রথম প্রশ্ন হয়, কত নম্বর পেয়েছ? কোন বিষয়ে ফেল করলে মনে করা হয়, সে যেন জীবনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। শুরু হয় বকাবকি, এমনকি মারধরও। এ সময় অনেক সন্তান আত্মহননের পথও বেছে নেয়। অথচ পরীক্ষা জীবনের একটি ক্ষুদ্র পাঠ মাত্র। সে এবার খারাপ করেছে, আগামীতে ভাল করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু খুব কমই জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আজ কি ভাল কাজ করেছ? সময়মতো ছালাত আদায় করেছ কি? সকাল-সন্ধ্যার দো‘আগুলো পাঠ করেছ কি?

কেবল ফলাফলকে গুরুত্ব দিলে সন্তান মনে করে তার মূল্য কেবল ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ধীরে ধীরে সে ভাল মানুষ হওয়ার চেয়ে পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়ার প্রতিযোগিতায় বেশী মনোযোগী হয়ে ওঠে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের সামনে অন্যের সন্তানের পদমর্যাদা এবং দুনিয়াবী সুনাম-সুখ্যাতি এত বেশী আলোচনা করেন যে, সন্তানের মাথায় পরকালীন চিন্তা-ভাবনা একেবারেই মলান হয়ে যায়। দুনিয়ার প্রতিযোগিতা ধীরে ধীরে তাকে গ্রাস করে ফেলে। অথচ আল্লাহ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি সে-ই, যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু (হুজুরাত ৪৯/১৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,إِنَّ اللهَ لَا يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ، وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ، ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও মাল-সম্পদ দেখেন না; বরং তিনি দেখেন তোমাদের অন্তর ও আমল’।[1] তাই সন্তানের পরীক্ষার ফলাফলের চেয়ে তার চরিত্র গঠনের ব্যাপারে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

১৫. সন্তানের ভাল কাজের প্রশংসা ও উৎসাহ না দেওয়া :

ভাল কাজের স্বীকৃতি একটি শিশুর অন্তরে আরও ভাল হওয়ার শক্তি জাগিয়ে তোলে। শুধু ভুল ধরলে সন্তান সংশোধিত হয় না; বরং অনেক সময় নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে। কিন্তু তার ছোট ছোট ভাল কাজও যদি আন্তরিকভাবে প্রশংসা করা হয়, তবে সে আনন্দের সঙ্গে সেই কাজ বারবার করতে চায়। একটি সুন্দর বাক্য অনেক সময় দীর্ঘ উপদেশের চেয়েও বেশী কার্যকর। সন্তানের ভাল কাজের স্বীকৃতি দেওয়া ও তাকে ভাল কাজে উৎসাহিত করার শিক্ষা ইসলামের সামগ্রিক নির্দেশনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,هَلْ جَزَاءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ، ‘উত্তম কাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ব্যতীত হ’তে পারে কি?’ (রহমান ৫৫/৬০)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে (আমরা তাদের পুরস্কৃত করি)। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে, আমরা তার পুরস্কার বিনষ্ট করি না’ (কাহফ ১৮/৩০)। মানুষের ভাল কাজের স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের গুরুত্ব বোঝাতে রাসূল (ছাঃ) বলেন,مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ لَمْ يَشْكُرِ اللهَ، ‘যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না’।[2] তাই সন্তানের ভাল কাজের যথাযথ প্রশংসা করা উচিত। যাতে সে আরও ভাল কাজের প্রতি উৎসাহিত হয়। একটি আন্তরিক প্রশংসা আরও অনেক ভাল কাজের বীজ বপন করে দেয়।

১৬. সন্তানের সঙ্গে অন্যের তুলনা করা :

প্রত্যেক শিশুই আল্লাহর দেওয়া স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। কারও স্মরণশক্তি প্রখর, কারও বিশ্লেষণক্ষমতা ভাল, আবার কেউ নেতৃত্ব বা অন্য কোন গুণে এগিয়ে থাকে। তাই বারবার অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করলে সন্তান নিজের ভাল দিকগুলো ভুলে গিয়ে দুর্বলতাগুলোকেই বড় করে দেখতে শুরু করে। এতে তার আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং সে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে একই রকম যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে সৃষ্টি করেননি। প্রত্যেকের মেধা ও সামর্থ্যে রয়েছে ভিন্নতা। কেউ জ্ঞানচর্চায় দক্ষ, কেউ কারিগরি কাজে পারদর্শী, কেউ ব্যবসা-বাণিজ্যে সফল, আবার কেউ কৃষি, নির্মাণ বা সেবামূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ বৈচিত্র্যই সমাজের পারস্পরিক প্রয়োজন পূরণ করে এবং জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখে। সবাই যদি একই গুণ ও দক্ষতার অধিকারী হ’ত, তাহ’লে সমাজের পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় কাজের ব্যবস্থা ব্যাহত হ’ত। আর এ বৈচিত্র্যই মহান রবের পরিকল্পনার অংশ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَتَ رَبِّكَ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِيًّا وَرَحْمَتُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ، ‘তবে কি তারা তোমার প্রতিপালকের রহমত বণ্টন করবে? আমিই তো তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি তাদের পার্থিব জীবনে এবং তাদেরকে পরস্পরে মর্যাদায় উন্নত করি। যাতে তারা পরস্পরে কাজ নিতে পারে। বস্ত্ততঃ তারা যা সঞ্চয় করে তা থেকে তোমার প্রতিপালকের রহমত অনেক উত্তম’ (যুখরুফ ৪৩/৩২)। তাই সন্তানকে তার নিজস্ব প্রতিভা ও সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করা উচিত। একই সঙ্গে তাকে অন্যের সঙ্গে নয়, বরং নিজের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে শেখানো প্রয়োজন। গতকালের তুলনায় আজ কতটা ভাল হ’তে পেরেছে, নতুন কি শিখতে পেরেছে এবং নিজের ভুল কতটা সংশোধন করতে পেরেছে এসব বিষয়ই হোক তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য।

১৭. সন্তানের যোগ্যতা না বুঝে নিজের স্বপ্ন চাপিয়ে দেওয়া :

অনেক পিতা-মাতা সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেন নিজের অপূর্ণ ইচ্ছার ভিত্তিতে। অথচ যে পথে শিশুর মন নেই, সে পথে তার পদচারণাও ভারী হয়ে যায়। আগ্রহহীন সাফল্যের চেয়ে আগ্রহপূর্ণ সাধনা অনেক বেশী ফলপ্রসূ। ইসলামও মানুষের সামর্থ্য ও সক্ষমতার প্রতি সম্মান দেখাতে শিক্ষা দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا، ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজে বাধ্য করেন না’ (বাক্বারাহ ২/২৮৬)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,يَسِّرُوا وَلاَ تُعَسِّرُوا، وَبَشِّرُوا وَلاَ تُنَفِّرُوا، ‘তোমারা সহজ কর, কঠিন কর না; সুসংবাদ দাও, বিরক্তি সৃষ্টি কর না’।[3] সন্তানের পথচলায় অভিভাবকের দায়িত্ব হ’ল তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং তার ভবিষ্যত পথচলা যেন তার সামর্থ্য ও বৈধ আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে বিষয়ে সহায়তা করা।

১৮. অতিরিক্ত আদর :

সন্তানকে ভালবাসা মানে তার সব ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়। ছোটবেলায় যে ভুলকে হাসিমুখে ছেড়ে দেওয়া হয়, বড় হ’লে সেটিই অনেকক্ষেত্রে অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। সন্তানের ভুলের পরিণতি বুঝতে শেখানো না হ’লে তার মধ্যে দায়িত্ববোধের পরিবর্তে ছাড় পাওয়ার মানসিকতা তৈরী হ’তে পারে। এ ক্ষেত্রে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর অতিরিক্ত স্নেহও কখনো কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁরা আদরের বশে সন্তানকে শাসন করতে নিষেধ করেন। অথচ ভালবাসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও শাসনও থাকা দরকার। রাসূল (ছাঃ) মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে যখন ইয়ামনে গভর্নর করে প্রেরণ করেছিলেন, তখন তাঁকে দশটি উপদেশ দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে দু’টি ছিল,وَلاَ تَرْفَعْ عَنْهُمْ عَصَاكَ أَدَباً وَأَخِفْهُمْ فِى اللهِ، ‘তাদেরকে (সন্তানদেরকে) আদব ও শিষ্টাচার শিক্ষার জন্য লাঠি নামিয়ে রাখবে না এবং তাদেরকে আল্লাহকে ভয় করতে শেখাবে’।[4] তাই সন্তানকে ভালবাসার ভাষা কোমল হ’তে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত আদরে নষ্ট হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। আজকের সঠিক সংশোধনই আগামী দিনের সুন্দর চরিত্র ও দায়িত্বশীলতা গঠনের অন্যতম মাধ্যম।

১৯. সব চাওয়া সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করা :

সন্তানের প্রতিটি আবদার সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করলে সে ধীরে ধীরে প্রয়োজন ও বিলাসিতার পার্থক্য ভুলে যায়। তখন না পাওয়া তার কাছে শিক্ষা নয়, বরং অসহ্য কষ্ট মনে হয়। অথচ জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনেই ধৈর্য, অপেক্ষা ও আত্মসংযমের প্রয়োজন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, يَاأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللهَ مَعَ الصَّابِرِينَ، ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন’ (বাক্বারাহ ২/১৫৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,مَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللهُ، وَمَا أُعْطِىَ أَحَدٌ عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ، ‘যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্য দান করেন। ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপক কোন নে‘মত কাউকে দেওয়া হয়নি’।[5] তাই সব ইচ্ছা পূরণ করার চেয়ে অপেক্ষা করতে শেখানো অনেক বড় উপহার। কারণ ধৈর্যই মানুষকে আত্মসংযমী ও সহনশীল হ’তে শেখায়।

২০. সন্তানকে দায়িত্বশীল হ’তে সুযোগ না দেওয়া :

অনেক অভিভাবক সন্তানের প্রতি ভালবাসা দেখাতে গিয়ে তার সব কাজ নিজেরাই করে দেন। এতে শিশুটি স্বাচ্ছন্দ্য পায়, কিন্তু দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হারায়। ছোট ছোট দায়িত্বই একদিন তাকে পরিশ্রমী ও জবাবদিহিমূলক মানুষ হিসাবে গড়ে তোলে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى، ‘মানুষের জন্য তাই আছে, যার জন্য সে চেষ্টা করে’ (নাজম ৫৩/৩৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে’।[6] আজ যে সন্তান নিজের ছোট দায়িত্ব পালন করতে শেখে, আগামীকাল সে সন্তানই পরিবার, সমাজ ও উম্মাহর বড় দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সঙ্গে বহন করতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

২১. অন্ধ পক্ষপাতিত্ব :

সন্তান ভুল করলে অনেক অভিভাবক সত্য জানার আগেই তার পক্ষ নেন। এতে শিশুর মনে একটি বিপজ্জনক ধারণা জন্ম নেয় যে, আমি ভুল করলেও আমাকে রক্ষা করা হবে। এভাবে ভুলের সংশোধনের পরিবর্তে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। অথচ প্রকৃত ভালবাসা সন্তানের সম্মান রক্ষা করার পাশাপাশি তার চরিত্রও রক্ষা করে। এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ، ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হিসাবে, যদিও সেটি তোমাদের নিজেদের কিংবা তোমাদের পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়’ (নিসা ৪/১৩৫)। কুরায়েশ বংশের মাখযূম গোত্রের জনৈকা সম্ভ্রান্ত মহিলা চুরি করলে তার পক্ষে সুফারিশের জওয়াবে রাসূল (ছাঃ) উসামা বিন যায়েদকে বলেন, তুমি আমার নিকট আল্লাহর দন্ডবিধির ব্যাপারে সুফারিশ করছ? অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে সকলের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বলেন, তোমাদের পূর্বেকার জাতি ধ্বংস হয়েছে এ কারণে যে,إِذَا سَرَقَ فِيْهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَايْمُ اللهِ، لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ ابْنَةَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا، ‘যখন তাদের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করত, তখন তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন কোন দুর্বল ব্যক্তি চুরি করত, তখন তার উপরে দন্ডবিধি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতেমাও চুরি করত, তাহ’লে আমি তার হাত কেটে দিতাম’।[7] সুতরাং সন্তানকে সব সময় রক্ষা করার চেষ্টা নয়; সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস শেখানো উচিত। এ শিক্ষাই তাকে ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলবে।

২২. ভুল করলে ক্ষমা চাইতে না শেখানো :

ভুল করা মানুষের স্বভাব, কিন্তু ভুল স্বীকার করা চরিত্রের শক্তি। যে শিশু নিজের ভুলের দায় নিতে শেখে না, সে বড় হয়েও দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর অভ্যাস গড়ে তোলে। অথচ আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া মানুষকে ছোট করে না; বরং তার মর্যাদা বাড়ায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللهَ يَجِدِ اللهَ غَفُورًا رَحِيمًا، ‘যে কেউ মন্দকর্ম করে অথবা নিজের উপর যুলুম করে, অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থী হয়, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও দয়ালু হিসাবে পাবে’ (নিসা ৪/১১০)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক আদমসন্তান ভুলকারী। আর উত্তম ভুলকারী সেই, যে তওবা করে’।[8] সন্তানকে শুধু দুঃখিত বলতে নয়, নিজের ভুল সংশোধনের দায়িত্বও নিতে শেখানো উচিত। এ অভ্যাস তাকে সম্মানিত করবে।

২৩. বড়দের প্রতি সম্মানবোধ না শেখানো :

সম্মানবোধ কোন আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নয়। এটি পরিবারের প্রতিদিনের আচরণে গড়ে ওঠে। শিশু যদি দেখে বড়দের সঙ্গে রূঢ় আচরণেও কেউ আপত্তি করছে না, তবে সে সেটিকেই স্বাভাবিক মনে করবে। এক সময় একই আচরণ সে পিতা-মাতা, শিক্ষক ও সমাজের অন্যদের সঙ্গেও করতে শুরু করবে। তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে বড়দের সঙ্গে বিনয়ের সাথে কথা বলা, তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا، ‘তোমরা সদ্ব্যবহার কর পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম-মিসকীন, নিকট প্রতিবেশী, দূরবর্তী প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, (নিঃস্ব) পথিক ও তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের সাথে। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক ও আত্মম্ভরীকে ভালবাসেন না’ (নিসা ৪/৩৬)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا وَيَعْرِفْ شَرَفَ كَبِيرِنَا، ‘যে ব্যক্তি ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের মর্যাদা বুঝে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।[9] অন্যত্র তিনি বলেন, إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ ‘নিশ্চয়ই প্রবীণ মুসলমানদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত’।[10] বড়দের সম্মান করতে শেখা শুধু শিষ্টাচার নয়; এটি একটি ঈমানী গুণ, যা মানুষের চরিত্রকে মহিমান্বিত করে।

২৪. সন্তানকে লুকিয়ে কিছু খেতে বা করতে শেখানো :

অসততার শিক্ষা সব ক্ষেত্রে বড় অপরাধ দিয়ে নয়, ছোট অভ্যাস দিয়েই শুরু হয়। অনেক সময় সন্তানকে বলা হয় কাউকে বলবে না, লুকিয়ে খাও বা লুকিয়ে কর এ ধরনের কথাগুলো শিশুর কাছে সহজ মনে হ’লেও তার মনে গোপনীয়তার ভুল ধারণা তৈরী করতে পারে। ধীরে ধীরে সে বুঝতে শেখে, পরিবারের একজনের কাছ থেকেও সত্য লুকানো স্বাভাবিক। পরে এই অভ্যাসই বড় বিষয়ে অসততার পথ খুলে দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে খেয়ানত করো না এবং জেনে-শুনে তোমাদের পরস্পরের আমানত সমূহে খেয়ানত করো না’ (আনফাল ৮/২৭)। যে পরিবারে সত্য লুকানো নয়, বরং সত্য বলার অভ্যাস গড়ে ওঠে সেই পরিবারেই বিশ্বাসের ভিত্তি সবচেয়ে মযবূত হয়।

২৫. পরিবারে কৃতজ্ঞতার চর্চা না থাকা :

যে শিশু প্রতিটি নে‘মতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে শেখে এবং মানুষের উপকারের স্বীকৃতিস্বরূপ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তার মধ্যে বিনয় ও কৃতজ্ঞতাবোধ গড়ে ওঠে। পক্ষান্তরে কৃতজ্ঞতার চর্চা না থাকলে প্রাপ্তির চেয়ে অপূর্ণতাই তার চোখে বড় হয়ে ওঠে। অথচ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নে‘মত ও অনুগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ، ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তাহ’লে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে বেশী বেশী দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তাহ’লে (মনে রেখ) নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর’ (ইব্রাহীম ১৪/৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,لَا يَشْكُرُ اللهَ مَنْ لَا يَشْكُرُ النَّاسَ ‘যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না’।[11] যে ঘরে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) ও ‘জাযাকাল্ল-হু খয়রান’ (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন) উচ্চারিত হয়, সে ঘরে সন্তুষ্টি, সৌহার্দ্য ও বরকতের আবহও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।

২৬. সন্তানের সামনে গীবত, সমালোচনা ও গালমন্দ করা :

পরিবারে যদি প্রতিনিয়ত আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী বা অন্যের দোষচর্চা, গীবত ও কটু ভাষা চলতে থাকে, তবে শিশুও এটিকে স্বাভাবিক আচরণ মনে করে নেয়। অজান্তেই তার জিহবা সমালোচনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। আর সুন্দর চরিত্রের জায়গা দখল করে নেয় নেতিবাচক মনোভাব। এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ، ‘আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ করোনা এবং পরস্পরের পিছনে গীবত করোনা। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পসন্দ করে? বস্ত্তত তোমরা সেটি অপসন্দ করে থাক’ (হুজুরাত ৪৯/১২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، ‘মুসলমানতো সেই ব্যক্তি, যার জিহবা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে’।[12] তাই শিশুর সামনে এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত, যা শুনে তার মুখেও দো‘আ, সত্য ও সৌজন্যের শব্দ ফুটে ওঠে।

২৭. ভাল পরিবেশ ও সৎ মানুষের সান্নিধ্যের অভাব :

খারাপ পরিবেশ থেকে সন্তানকে দূরে রাখাই যথেষ্ট নয়; ভাল পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করানোও প্রয়োজন। যে শিশু আলেম, সৎ মানুষ, মসজিদ, ইসলামী অনুষ্ঠান, বই ও সেবামূলক কাজের পরিবেশে বড় হয়, তার সামনে জীবনের আদর্শও ভিন্নভাবে গড়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের সৎ ও সত্যবাদী মানুষের সঙ্গ অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়ে বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ، ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক’ (তওবা ৯/১১৯)। তাই সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই সৎ ও আদর্শবান মানুষের সান্নিধ্যে রাখা প্রয়োজন। কারণ সৎ মানুষের সাহচর্য তার চিন্তা, চরিত্র ও জীবন গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তাকে ভবিষ্যতে একজন আদর্শবান মানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।

২৮. আত্মীয়তার সম্পর্ক থেকে সন্তানকে দূরে রাখা :

যে শিশু আত্মীয়তার উষ্ণতা পায় না, তার সামাজিক অনুভূতিও অপূর্ণ থেকে যেতে পারে। আত্মীয়তার সম্পর্ক শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ভালবাসা, সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ ও পারিবারিক বন্ধনের এক জীবন্ত শিক্ষা। দাদা-দাদী, নানা-নানী, চাচা-মামা ও আত্মীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শিশুর হৃদয়ে মমত্ববোধ সৃষ্টি করে এবং তাকে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে দূরে রাখে। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এ সম্পর্কের মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا، ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার দোহাই দিয়ে তোমরা পরস্পরের নিকট প্রার্থনা করে থাক এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা সম্পর্কে সতর্ক থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষক’ (নিসা ৪/১)। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন,مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِىْ رِزْقِهِ، وَأَنْ يُنْسَأَ لَهُ فِىْ أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ، ‘যে চায় যে, তার জীবিকা প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে’।[13] তাই সন্তানকে আত্মীয়স্বজনের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। বরং ছোটবেলা থেকেই তাকে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে, আত্মীয়দের খোঁজখবর নিতে এবং বিপদে-আপদে তাদের পাশে দাঁড়াতে শেখানো প্রয়োজন। আপনার দেওয়া এই শিক্ষা সন্তানের হৃদয়ে পারিবারিক ভালবাসা, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও আত্মীয়তার বন্ধনকে দৃঢ় করবে।

২৯. সময়ানুবর্তিতা শেখাতে অবহেলা :

শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন ছোট ছোট অভ্যাস দিয়েই শুরু হয়। নির্দিষ্ট সময়ে ছালাত, পড়াশোনা, ঘুম, খাবার ও দৈনন্দিন কাজের অভ্যাস শিশুর মধ্যে দায়িত্ববোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও কর্মনিষ্ঠা গড়ে তোলে। আর সময়ের প্রতি অবহেলা ধীরে ধীরে তাকে অগোছালো ও দায়িত্বহীন করে দেয়। সময় যে মানুষের জীবনের অমূল্য সম্পদ এবং এর যথাযথ ব্যবহারের সঙ্গে মানুষের সাফল্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সময় ও জীবনের যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে জবাবদিহির গুরুত্ব বোঝাতে রাসূল (ছাঃ) বলেন,لَا تَزُولُ قَدَمُ ابْنِ آدَمَ يَوْمَ القِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ، عَنْ عُمُرِهِ فِيمَ أَفْنَاهُ، وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ، وَمَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ، وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ ‘ক্বিয়ামতের দিন পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দেয়া পর্যন্ত আদম সন্তান স্বীয় রবের নিকট থেকে পা সরাতে পারবে না। ১- তার জীবন সম্পর্কে, কিসে তা অতিবাহিত করেছিল। ২- তার যৌবন সম্পর্কে, কিসে তা নিঃশেষ করেছিল। ৩- তার সম্পদ সম্পর্কে, কোন পথে তাতে উপার্জন করেছিল এবং ৪- কোন পথে তা ব্যয় করেছিল। ৫- তার ইলম সম্পর্কে, ইলম অনুযায়ী সে আমল করেছিল কি-না’।[14] তাই সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই সময়ের মূল্য বুঝতে, প্রতিটি কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করতে এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে শেখানো উচিত।

[ক্রমশ:]

কেন্দ্রীয় পরিচালক, সোনামণি।


[1]. মুসলিম হা/২৫৬৪; মিশকাত হা/৫৩১৪।

[2]. তিরমিযী হা/১৯৫৫; ছহীহাহ হা/৬৬৭; মিশকাত হা/৩০২৫।

[3]. বুখারী হা/৬৯; মুসলিম হা/১৭৩৪।

[4]. আহমাদ ২২১২৮; মিশকাত হা/৬১।

[5]. বুখারী হা/১৪৬৯; মুসলিম হা/১০৫৩।

[6]. বুখারী হা/৭১৩৮; মুসলিম হা/১৮২৯।

[7]. বুখারী হা/৩৪৭৫; মুসলিম হা/১৬৮৮; মিশকাত হা/৩৬১০।

[8]. তিরমিযী হা/২৪৯৯; ছহীহুত তারগীব হা/৩১৩৯।

[9]. আবুদাঊদ হা/৪৯৩৯; তিরমিযী হা/১৯২০; ছহীহাহ হা/২১৯৬।

[10]. আবুদাঊদ হা/৪৮৪৩; মিশকাত হা/৪৯৭২; ছহীহুত তারগীব হা/৯৮।

[11]. আবুদাঊদ হা/৪৮১১; আহমাদ হা/৭৯২৬; ছহীহাহ হা/৪১৬।

[12]. বুখারী হা/১০; মুসলিম হা/৪০; তিরমিযী হা/২৪৮১।

[13]. বুখারী হা/২০৬৭; মুসলিম হা/২৫৫৭; ছহীহুত তারগীব হা/২৫২০।

[14]. তিরমিযী হা/২৪১৬; ছহীহুত তারগীব হা/১২৬।






বিষয়সমূহ: বিধি-বিধান
পরিবারে অগ্রাধিকার ব্যবস্থাপনা - জাহিদ হাসান
আদর্শ সন্তান গঠনে পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা এবং উত্তরণের উপায় - রবীউল ইসলাম - সহ-পরিচালক, সোনামণি
বই হোক সন্তানের নিত্য সঙ্গী - জাহিদ হাসান
পুত্র সন্তানদের উপদেশ ও শাসনের সঠিক কৌশল : একটি মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ - জাহিদ হাসান
শিশুর আবেগকে অবহেলা নয় - জাহিদ হাসান
সন্তান আমার আয়না - জাহিদ হাসান
ঘুমহীন রাত, বিধ্বস্ত প্যারেন্টিং - জাহিদ হাসান
ভাই-বোনদের পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ়করণ ও হিংসা দূরীকরণে করণীয় - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
আগামীর নক্ষত্র গড়ে উঠুক বিনয়ের আলোয়! - ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব
আদর্শ সন্তান গঠনে পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা এবং উত্তরণের উপায় (গত সংখ্যার পর) - রবীউল ইসলাম - সহ-পরিচালক, সোনামণি
উঠতি বয়সে বন্ধু-বান্ধবজনিত সমস্যা : উত্তরণের পথ - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
শিশুদের আদব : পারিবারিক শিক্ষার প্রথম পাঠ - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
আরও
আরও
.