ঘুমহীন রাত, বিধ্বস্ত প্যারেন্টিং

রাত ঠিক তিনটা। পুরো পৃথিবী তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। চারপাশ নিস্তব্ধ, কেবল আপনার ঘরের কোণ থেকে ভেসে আসছে একটা ছোট্ট শিশুর অবিরাম কান্নার সুর। আপনি চোখ কচলাতে কচলাতে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। কখনো ঘরের এমাথা-ওমাথা হাঁটছেন, কখনো গুনগুন করে তিলাওয়াত করছেন। শরীর ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ছে, চোখের পাতা দুটো যেন সিসার মতো ভারী হয়ে আসছে। অবশেষে যখন ঘড়ির কাঁটা পৌনে চারটা ছুঁইছুঁই, বাচ্চাটা শান্ত হ’ল, ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু আপনার চোখে তখন আর ঘুম নেই, কারণ ঠিক তখনই মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসছে সুমধুর আওয়াজ : ‘আছ-ছালাতু খাইরুম মিনান নাওম...’।

পরের দৃশ্যটা সকাল সাতটার। আপনি রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে বড় সন্তানের স্কুলের টিফিন গোছাচ্ছেন। মাথাটা দপদপ করছে, চোখ দুটো জ্বলছে তপ্ত কয়লার মতো। ঠিক তখনই ডাইনিং টেবিলে একটা শব্দ হ’ল! ছুটে গিয়ে দেখলেন, আপনার আদরের বড় সন্তানের হাত ফসকে দুধের গ্লাসটা পড়ে গেছে টেবিলে। চারদিকে সাদা দুধ গড়িয়ে পড়ছে। এমনিতে আপনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল একজন মানুষ। সন্তানকে বুকে টেনে নিয়ে মিষ্টি গলায় বোঝান। কিন্তু আজ? আজ আপনার ভেতরের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেল। আপনি হঠাৎ এক তীব্র চিৎকারে ফেটে পড়লেন, ‘তোমাকে নিয়ে আর পারি না! কেন সবসময় এমন করো?’

মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর স্তব্ধ। ছোট্ট সন্তানের চোখের কোণে একরাশ ভয় আর বিস্ময়। সে তার প্রিয় মানুষটির এই রুদ্রমূর্তি দেখে একদম কুঁকড়ে গেল। আর ঠিক তার পরক্ষণেই আপনার বুকের ভেতর হুহু করে নেমে এলো এক প্রচণ্ড অপরাধবোধের সুনামি। আপনি চেয়ারটায় ধপ করে বসে পড়লেন। মনের ভেতর একটা ধারালো প্রশ্ন তীরের মতো বিঁধতে লাগল : ‘আমি এমন কেন করলাম?’ ‘আমি কি একটা খারাপ মা হয়ে যাচ্ছি?’ ‘আমি কি ব্যর্থ বাবা?’ সম্মানিত অভিভাবক, সত্যিটা তবে কী?

যারা জীবনের কোন না কোন মোড়ে এসে নিজেকে এই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনি খারাপ মা কিংবা খারাপ বাবা নন। আপনি স্রেফ ক্লান্ত মা-বাবা, ঘুমহীন মা-বাবা। আর এই দু’টোর মধ্যে আসমান-যমীন তফাত রয়েছে। আপনার ভালোবাসায় কোন কমতি নেই, আপনার সমস্যাটা লুকিয়ে আছে আপনার নিঃশব্দে ফুরিয়ে যাওয়া শক্তির ভাণ্ডারে।

লজিক বনাম ইমোশন : আধুনিক নিউরোসায়েন্স আমাদের মনের ভেতরের এই অদ্ভুত আচরণের একটা চমকপ্রদ ব্যাখ্যা দেয়। আমাদের মস্তিষ্কে প্রতিনিয়ত একটা অদৃশ্য টানাপোড়েন বা যুদ্ধ চলে। এই যুদ্ধের প্রধান দুই চরিত্র হ’ল, প্রথমত- অ্যামিগডালা : একে বলতে পারেন আমাদের ভেতরের এক অবুঝ, জেদি আর রাগী শিশু। আমাদের সমস্ত আবেগ, ভয়, রাগ আর তাৎক্ষণিক রিফ্লেক্স তৈরি হয় এই ছোট্ট অংশটি থেকে। দ্বিতীয়ত- প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স : এটি আমাদের মস্তিষ্কের ঠিক সামনের অংশের এক বিচক্ষণ ও প্রাজ্ঞ মুরব্বী। এর কাজ হ’ল যুক্তি দিয়ে চিন্তা করা, ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ঐ অবুঝ শিশুটিকে (অ্যামিগডালা) লাগাম টেনে ধরে রাখা।

যখন আপনি পর্যাপ্ত ঘুমান, শরীর ও মন চাঙ্গা থাকে, তখন আপনার ভেতরের এই বিচক্ষণ মুরব্বী দারুণ সক্রিয় থাকেন। সন্তান টেবিলের ওপর দুধের গ্লাসটা ফেলে দিলে এই মুরব্বী ঝটপট অ্যামিগডালাকে শাসন করে বলে, আরে থামো, শান্ত হও! ওতো ইচ্ছে করে করেনি। ওতো স্রেফ একটা বাচ্চা! ফলে আপনি বিরক্ত হ’লেও চিৎকার করে ওঠেন না। যুক্তিবাদী মস্তিষ্ক আপনাকে সামলে নেয়। কিন্তু বিপত্তিটা বাঁধে তখনই, যখন আপনার ঘুম কেড়ে নেওয়া হয়। ঘুম-বঞ্চিত মস্তিষ্কে এই দুই সেনাপতির ক্ষমতার ভারসাম্য পুরো উল্টে যায়।

পর্যাপ্ত ঘুম না হ’লে আমাদের যুক্তিবাদী মুরব্বী (প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স) চরম ক্লান্ত হয়ে ঝিমোতে থাকে, তার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা পুরোপুরি কমে যায়। আর এই সুযোগে ভেতরের অবুঝ, রাগী শিশুটি (অ্যামিগডালা) হয়ে ওঠে অতিরিক্ত সংবেদনশীল ও উগ্র। ফলাফল কী দাঁড়ায়? সামান্য একটা অছিলা, এক ফোঁটা দুধ পড়া, একটু খেলনা ছড়ানো কিংবা সন্তানের সাধারণ একটা বায়না, আপনার ক্লান্ত মস্তিষ্ক ওটাকে কোন স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে দেখতেই পায় না। সে ওটাকে একটা ‘মস্ত বড় যুদ্ধ’ মনে করে অস্বাভাবিক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলে।

প্রিয় অভিভাবক, এটা আপনার চরিত্রের কোন দুর্বলতা নয়, এটা স্রেফ আপনার ক্লান্ত মস্তিষ্কের জীববিজ্ঞান! ঘুম নিয়ে করা নিউরোসায়েন্সের গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, মাত্র এক রাত ঠিকমতো না ঘুমালেই মস্তিষ্কের আবেগীয় প্রতিক্রিয়া প্রায় ৬০% পর্যন্ত বেড়ে যায়! এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলুন আর ঠান্ডা মাথায় ভাবুন, যে মা-বাবা দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ কিংবা মাসের পর মাস ধরে একটা নিটোল ঘুমের মুখ দেখছেন না, তাঁদের মস্তিষ্কের ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত কী ভয়াবহ ঝড় বয়ে যাচ্ছে!

চারটি চিহ্ন, যা বলে দেয় আপনার বিশ্রাম দরকার : পর্যাপ্ত ঘুম না হ’লে একজন আদর্শ, স্নেহশীল মা-বাবার আচরণেও প্রধানত চারটি স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এগুলো কোন সাধারণ ভুল নয়, এগুলো আসলে আপনার ক্লান্ত শরীরের দেওয়া Red Flags। চলুন, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটু মিলিয়ে নেওয়া যাক।-

প্রথমত : আবেগ নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতা। স্বাভাবিক ও শান্ত অবস্থায় যে বিষয়টিকে আপনি এক গাল হাসিমুখে সামলে নিতেন, ঘুম-বঞ্চিত অবস্থায় সেই একই বিষয় আপনার চোখে অশ্রু এনে দেয় কিংবা মাথায় আগুন ধরিয়ে দেয়। যেমন আপনার ছোট্ট সন্তানটি জুতার ফিতা বাঁধতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। এক রাত ভালো ঘুমের পর আপনি হয়তো পরম মমতায় পাশে বসে তাকে আবার শিখিয়ে দিবেন। কিন্তু রাতভর জেগে থাকার পর? সেই একই দৃশ্য আপনার কাছে মনে হবে এক ‘অসহ্য যন্ত্রণা’। আপনি হয়তো চিৎকার করে উঠবেন, নয়তো নিজেই হতাশায় কেঁদে ফেলবেন।

দ্বিতীয়ত : মেজায খারাপ ও সার্বক্ষণিক খিটখিটে ভাব। ঘুম কম হ’লে মন এক অদ্ভুত চাদরে ঢাকা পড়ে যায়, যেখানে সারাক্ষণ বিরক্তি কাজ করে। তখন সন্তানের প্রাণবন্ত হাসির শব্দকে মনে হয় কোলাহল, তার খেলনার আওয়াজকে মনে হয় অত্যাচার, এমনকি জীবনসঙ্গীর খুব সাধারণ একটা প্রশ্নকেও মনে হয় তলোয়ারের খোঁচা! আপনি নিজেও হয়তো বুঝতে পারেন না, কেন খুব সামান্য কথাতেই ভেতরের মানুষটা এভাবে খিটখিট করে উঠছে।

তৃতীয়ত : অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীলতা। ঘুম-বঞ্চিত মা-বাবার মস্তিষ্ক ছোট ছোট ঘটনাকে তিল থেকে তাল করে দেখে। সন্তান স্রেফ একবার কোন কারণে ‘না’ বলল, অমনি আপনার মনে হ’তে থাকে, ও তো আমার অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে! বড় হয়ে ও তো আমাকে পাত্তাই দেবে না! একবার হাত থেকে খাবার পড়ে গেল, আপনার মনে হ’ল, ও ইচ্ছা করে আমাকে বিরক্ত করার জন্য এটা করেছে! অথচ একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবলে বুঝতেন, এগুলো নিছকই শিশুর স্বাভাবিক ও চিরচেনা শিশুসুলভ আচরণ।

চতুর্থত : এলোমেলো ও বিশৃঙ্খল মন। ঘুমহীনতা সরাসরি আমাদের স্মৃতিশক্তি আর মনোযোগের ওপর থাবা বসায়। যেমন সন্তানের স্কুলের টিফিন বক্সে খাবার দিতে ভুলে যাওয়া। যরূরী দরকারি কাগজ বা ঘরের চাবিটা কোথায় রাখলেন, কিছুতেই মনে না পড়া। একই কথা কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুইবার বলে ফেলা ইত্যাদি। এগুলো কিন্তু আপনার অগোছালো স্বভাবের লক্ষণ নয়। এগুলো হ’ল আপনার ক্লান্ত, অবসন্ন মস্তিষ্কের এক নিঃশব্দ আর্তনাদ! যদি এই চারটি লক্ষণের কোন একটি বা প্রতিটিই ইদানীং নিজের মধ্যে খুঁজে পান, তবে বুকের ওপর হাত রেখে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলুন। কারণ সমস্যাটা আপনার প্যারেন্টিং দক্ষতায় বা আপনার ভালোবাসায় নেই; সমস্যাটা স্রেফ লুকিয়ে আছে আপনার বালিশের নীচে, আপনার অপর্যাপ্ত ঘুমের মাঝে।

ঘুম নিয়ে ইসলাম কী শেখায় : এখানে এসে একটা মস্ত বড় মনস্তাত্ত্বিক ভুল ভাঙা দরকার। আমাদের যান্ত্রিক সমাজে ঘুমকে বড্ড সস্তা বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এখানে ঘুম মানেই যেন ‘অলসতা’, ঘুম মানেই যেন ‘সময় নষ্ট’। বিশেষ করে নতুন মা-বাবাদের ওপর যেন এক অদৃশ্য সামাজিক চাপ দেওয়া হয়। চারপাশ থেকে অভিজ্ঞ মুরব্বীরা শোনান, আরে, সন্তানের জন্য তো একটু ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে! নিজের ঘুম-খাওয়া হারাম না করলে কিসের মা-বাবা? কী অদ্ভুত এক দর্শন, তাই না? অথচ দয়াময় আল্লাহ তার পবিত্র কালামে আমাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন, এক পরম সৌন্দর্যের দৃষ্টিভঙ্গি শিখিয়েছেন। কুরআন আমাদের বলে, ঘুম কোন বিলাসিতা নয়; ঘুম হ’ল এক মহিমান্বিত নে‘মত। আল্লাহ বলেন, ‘আর তাঁর অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর অনুগ্রহ (জীবিকা) অন্বেষণ’ (আর-রূম ৩০/২৩)

একটু গভীরভাবে খেয়াল করুন! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সূর্য, চন্দ্র, আকাশ আর নক্ষত্ররাজির মতো বিশাল সৃষ্টিকে কুরআনে তাঁর ‘নিদর্শন’ বলেছেন। আর ঠিক সেই মহাজাগতিক তালিকার ভেতরেই তিনি শামিল করেছেন মানুষের এই ‘ঘুম’কে! অন্যত্র তিনি এর উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন : ‘এবং আমি তোমাদের ঘুমকে করেছি ক্লান্তিদূরকারী’ (নাবা ৭৮/৯)। তাহ’লে সমীকরণটা কী দাঁড়াল? ঘুম কোন অপচয় নয়, ঘুম আল্লাহর দেওয়া এক নে‘মত, যা আমাদের ক্লান্ত শরীরকে প্রতি রাতে সতেজ করে।

প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর উম্মতকে সবসময় এক ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের পাঠ শিখিয়েছেন। তিনি শুধু পরকালের পথই দেখাননি, বরং এই নশ্বর শরীরটাকে কীভাবে সতেজ রাখতে হয়, তাও শিখিয়েছেন। হাদীছে এসেছে, রাসূল (ছাঃ) এশার ছালাতের আগে ঘুমানো এবং এশার ছালাতের পর অহেতুক গল্পগুজবে মেতে থাকাকে অত্যধিক অপছন্দ করতেন, যাতে রাতের বিশ্রামটা নিখুঁত ও সময়মতো হয়। শুধু তা-ই নয়, ছাহাবায়ে কেরামের মাঝে দুপুরের দিকে সংক্ষিপ্ত একটা বিশ্রামের নিয়ম চালু ছিল, যাকে আমরা হাদীছের পরিভাষায় বলি ‘কায়লুলাহ’ (Power Nap)।

ইসলামের একটি মৌলিক সোনালী নীতি হ’ল ‘নিশ্চয়ই আপনার ওপর আপনার শরীরের অধিকার রয়েছে’। তাহ’লে পুরো বিষয়টার সারমর্ম কী দাঁড়াচ্ছে? আপনি যখন রাতে বিছানায় গিয়ে নিজের ঘুমের যত্ন নিচ্ছেন, তখন আপনি আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে বড় আমানত, আপনার সন্তান, আপনার পরিবারকে, পরের দিন সুন্দরভাবে আগলে রাখার এক মহৎ প্রস্ত্ততি নিচ্ছেন। মনে রাখবেন, একজন ক্লান্ত, চোখ জ্বলা, বিধ্বস্ত মা-বাবা তাঁর সন্তানকে সর্বোচ্চ যতটুকু মায়া দিতে পারেন, তার চেয়ে হাযার গুণ বেশী ভালোবাসা ও ধৈর্য দিতে পারেন একজন সুস্থ ও বিশ্রামপ্রাপ্ত মা-বাবা। তাই নিজের ঘুমের যত্ন নিন। কারণ আপনার সুস্থ মনের ওপরই নির্ভর করছে আপনার সন্তানের সুন্দর শৈশব।

পাঁচটি বাস্তবসম্মত সমাধান : এখানে এসে আপনি হয়তো একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলবেন, আপনার কথাগুলো বইতে বা টেক্সটে পড়তে বড্ড সুন্দর লাগে। কিন্তু বাস্তবতা হ’ল, ঘরে যখন পিঠাপিঠি দু’টো ছোট বাচ্চা থাকে, তখন টানা আট ঘণ্টার একটা নিটোল ঘুম আরব্য রজনীর রূপকথার মতোই শোনায়!’ আপনার এই যন্ত্রণার সাথে আমি একাত্মতা প্রকাশ করছি। আমি নিজেই এটার ভুক্তভোগী। গত কয়েক বছরে রাতে বাচ্চাদের সাথে থাকার সময় টানা তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছি কিনা সন্দেহ। আসলে বর্তমান সময়ে প্যারেন্টিং কোন ল্যাবরেটরির নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ নয়, এটা একটা জীবন্ত যুদ্ধক্ষেত্র। তাই এখানে আমাদের সমাধানগুলোও হ’তে হবে একদম মাটি কামড়ানো, বাস্তবসম্মত আর কার্যকরী। চলুন, এমন পাঁচটি উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

১. চুরি করে হ’লেও ঘুমিয়ে নিন এবং যৌথ দায়িত্ব বণ্টন করুন। শুনতে একটু চোর-চোর মনে হ’তে পারে, কিন্তু বিশ্বাস করুন, ছোট বাচ্চার মা-বাবাকে মাঝেমধ্যে সুযোগ বুঝে ঘুম ‘চুরি’ করতেই হয়! আমাদের মায়েরা একটা মস্তবড় ভুল করেন। বাচ্চা যখনই ঘুমায়, মায়েরা তখন ভাবেন, আহ! এই সুযোগে ঘরের জমে থাকা কাজগুলো সেরে ফেলি। তাঁরা রান্না চড়ান, ঘর মোছেন, কাপড়ের পাহাড় কাচতে বসেন। সম্মানিত অভিভাবক! সিঙ্কভর্তি নোংরা থালাবাসন কিংবা ঘরের ধুলোবালি পরে পরিষ্কার করা যাবে, ওগুলো কোথাও পালিয়ে যাবে না। কিন্তু আপনার মস্তিষ্কের হারিয়ে যাওয়া বিশ্রাম পরে আর কোনদিন ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই বাচ্চা ঘুমানোর সাথে সাথেই সংসারের বাকি কাজকে ‘তালা’ মেরে নিজের চোখের পাতা দু’টো বন্ধ করে নিন।

স্বামী-স্ত্রী মিলে যদি একটি সুন্দর সমঝোতায় আসেন, তবে এই যুদ্ধ জয় করা সহজ হয়। আপনারা নাইট শিফট বা রাতের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারেন। যেমন একদিন বাবা একটু রাত জেগে বাচ্চার দেখভাল করবেন, যেন মা অন্তত কয়েক ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমাতে পারেন। আর অন্যদিন মা দায়িত্ব নিলেন। আবার এটা এমন যেন না হয়, চাকরির মত চাপিয়ে দেওয়া। বরং সুন্দরভাবে সমঝোতার ভিত্তিতেই করতে হবে। এছাড়া আপনি যদি যৌথ পরিবারে থাকেন, তবে দাদি, নানি, খালা বা ফুফুর সাহায্য নেওয়াটা মোটেও লজ্জার বা সংকোচের কিছু নয়। অনেকে ভাবেন, আমার বাচ্চা, আমি কেন অন্যকে দেব? না, সম্মানিত অভিভাবক! এটি কোন দুর্বলতা নয়, বরং আপনার মানসিক সুস্থতা টিকিয়ে রাখার এক অনন্য প্রজ্ঞার পরিচয়। কারণ প্রয়োজনটা শুধু আপনার।

২. পাওয়ার ন্যাপ বা কায়লুলাহর অভ্যাস গড়ে তুলুন। রাতের ঘুম যদি কোন কারণে ভাঙাচোরা হয়, তবে দিনের আলোয় আপনার জন্য অপেক্ষা করছে এক চমৎকার সমাধান। আধুনিক বিজ্ঞানের অনেকে একে বলে Power Nap, আর আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে আমাদের প্রিয় নবীজি (ছাঃ)-এর নাম দিয়েছেন ‘কায়লুলাহ’। দুপুরের দিকে মাত্র ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের একটা সংক্ষিপ্ত ঘুম বা বিশ্রাম আপনার ক্লান্ত মস্তিষ্ককে অবিশ্বাস্যভাবে চাঙ্গা করে তুলতে পারে। হ্যাঁ, এটা হয়তো আপনার রাতের ৮ ঘণ্টার নিটোল ঘুমের বিকল্প হবে না, তবে রাতের ঘুমের ঘাটতি আর মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করতে এটি ঔষধের মতো কাজ করবে।

ধরুন, যোহরের ছালাত শেষ করলেন। দুপুরের খাবারের পর আপনার সন্তানটি যখন একটু শান্ত হয়ে খেলছে বা বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছে, ঠিক সেই সময়টায় আপনিও পাশে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ুন। অনেকে বলবেন, শুলেই তো আমার ঘুম আসে না! কোন সমস্যা নেই! ঘুম না এলেও স্রেফ ঘরের লাইটটা নিভিয়ে, মোবাইলটা দূরে রেখে ২০ মিনিট চোখ বন্ধ করে নিথর শুয়ে থাকাটাই আপনার জট পাকানো মস্তিষ্ককে একদম রিসেট করে দিবে।

৩. সন্তানকে আগেভাগে ঘুমাতে শেখান। প্যারেন্টিংয়ের একটা গোল্ডেন রুল হ’ল, সন্তানের ঘুমের রুটিন যদি ঠিক থাকে, তবে পিতা-মাতার রাতটাও অনেকটা গোছানো আর শান্তিময় হয়। সন্তান যদি মাঝরাত পর্যন্ত জেগে হুলস্থুল করে, তবে আপনার মেজায ঠিক রাখা আসলেই অসম্ভব। আর এই জায়গাটায় আমাদের ইসলামী আদবগুলো কী দারুণ মনস্তাত্ত্বিক হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে, তা ভাবলে অবাক হ’তে হয়! ঘুমানোর আগে শিশুকে ওযূ করানো, বিছানা ঝেড়ে নেওয়া, ডান কাতে শোয়ানো এবং ঘুমের দো‘আ পড়ানো, এই ছোট ছোট মিষ্টি অভ্যাসগুলো কেবল আধ্যাত্মিক আমলই নয়, এগুলো আসলে শিশুর অবচেতন মস্তিষ্কের কাছে একটা ‘শান্ত হওয়ার সংকেত’ পাঠায়।

প্রতিদিন ঘড়ির কাঁটায় যখন রাত সাড়ে নয়টা/দশটা বাজবে, ঘরের সব উজ্জ্বল আলো নিভিয়ে দিন। হালকা ডিম লাইট জ্বেলে সন্তানকে ডান কাতে শুইয়ে দিন। মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুমের দো‘আগুলো পড়ুন কিংবা ঈমান জাগানিয়া কোন ছোট গল্প শোনান। শুরুর প্রথম দুই-এক সপ্তাহ হয়তো বাচ্চা একটু ছটফট করবে, ঘুমাতে চাইবে না। কিন্তু হাল ছাড়বেন না। যখন এই রুটিনটা ওর অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে, তখন সাড়ে আটটা বাজলেই শিশুর শরীর ও মস্তিষ্ক নিজে থেকেই ঘুমের জন্য তৈরী হয়ে যাবে। আর এতে করে আপনিও রাত দশটার মধ্যে নিজের কাজ শেষ করে একটা চমৎকার বিশ্রামের সুযোগ পেয়ে যাবেন। যদিও বর্তমান সময়ে আমাদের অসচেতন লাইফস্টাইলের কারণে এটা খুবই কঠিন, তবে আমাদের চেষ্টা করে যেতেই হবে।

৪. সময় ব্যবস্থাপনার জ্ঞান আয়ত্ত করুন। অনেক মা-বাবা রাতে যে শুধু সন্তানের কান্নার জন্য জেগে থাকেন, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় দেখা যায়, সন্তান ঠিকই ঘুমিয়ে পড়েছে, কিন্তু পিতা-মাতা জেগে আছেন। কেন? কারণ সারাদিনের জমে থাকা কাজের পাহাড় ঠেলতে ঠেলতেই ঘড়ির কাঁটা মাঝরাত পার করে ফেলেছে। এই ভুলটি সংশোধন করা প্রয়োজন। ইসলাম আমাদের সময়ের প্রতি এক গভীর এবং নিখুঁত সচেতনতা শিখিয়েছে।

সময়ের সঠিক ব্যবহার মানে নিজেকে একটা ২৪ ঘণ্টার রোবট বানিয়ে ফেলা নয়; বরং সঠিক সময়ে সঠিক কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আমাদের অনেক পিতা-মাতার মধ্যে একটা সূক্ষ্ম রোগ কাজ করে। যার নাম, পারফেকশনিজম বা সব কিছু নিখুঁত করার এক অদ্ভুত তাড়না। ঘর একদম ঝকঝকে থাকতে হবে, রান্না নিখুঁত হ’তে হবে, জামাকাপড় সব এখনই ইস্ত্রি হ’তে হবে! প্রতিদিন সকালে বা আগের দিন রাতে ছোট্ট একটা কাজের তালিকা তৈরি করুন। সেখান থেকে সবচেয়ে যরূরী ৩-৪টি কাজ দিনের আলো থাকতেই শেষ করে ফেলুন। যে কাজটি আগামীকাল করলেও কোন ক্ষতি হবে না, সেটি জোর করে নিজের ঘুম হারাম করে আজ রাতে শেষ করার কোন প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, একটা রাত জাগা, ক্লান্ত ও খিটখিটে নিখুঁত পিতা-মাতা হওয়ার চেয়ে, ঘর কিছুটা অগোছালো রেখে একজন হাসিখুশি ও বিশ্রামপ্রাপ্ত যথেষ্ট ভালো পিতা-মাতা হওয়া সন্তানের মানসিক বিকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে হাযার গুণ বেশী উপকারী।

৫. ঘুমের মান উন্নত করার মনস্তত্ত্ব। কখনো কখনো সমস্যাটা কিন্তু ঘুমের পরিমাপে বা ঘণ্টায় হয় না; সমস্যাটা হয় ঘুমের মানে বা গভীরতায়। অনেকেই অভিযোগ করেন, আমি তো রাতে ৭-৮ ঘণ্টাই বিছানায় ছিলাম, তাও সকালে ওঠার পর মনে হয় যেন সারা শরীর ভেঙে আসছে! মাথাটা কেমন জট পাকিয়ে থাকে। যদি আপনার সাথেও এমনটা ঘটে থাকে, তবে বুঝবেন আপনার শরীর হয়তো বিছানায় ছিল, কিন্তু আপনার মস্তিষ্ক গভীর ঘুমে যেতে পারেনি। চলুন, ঘুমের মান উন্নত করার কিছু বাস্তবসম্মত কৌশল জেনে নেই।

ঘুমানোর অন্তত আধা ঘণ্টা আগে ঘরের সমস্ত ডিজিটাল স্ক্রিন, মোবাইল, ল্যাপটপ, টেলিভিশন একদম বন্ধ করে দূরে সরিয়ে রাখুন। বিজ্ঞানের ভাষায়, এই স্ক্রিনগুলো থেকে যে ‘নীল আলো’ বের হয়, তা আমাদের মস্তিষ্ককে ধোঁকা দেয়। মস্তিষ্ক মনে করে এখনও দিন রয়ে গেছে! ফলে ঘুম আসার হরমোন মেলাটোনিন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। আপনার শোবার ঘরটি যতটা সম্ভব অন্ধকার ও শান্ত রাখুন। মৃদু আলো বা ঘুটঘুটে অন্ধকার মস্তিষ্ককে দ্রুত শান্ত হ’তে সাহায্য করে। এছাড়া রাতে দেরী করে এবং অতিরিক্ত মসলাদার বা ভারী খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ হজমের গোলমাল ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয়।

মস্তিষ্ককে ফাঁকা রাখুন। এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি সাইকোলজিক্যাল ট্রিক। ঘুমাতে যাওয়ার আগে সারাদিনের যত দুশ্চিন্তা, আগামীকালকের কাজের চাপ কিংবা মনের ভেতরের ক্ষোভ সব একটা কাগজে বা ডায়েরিতে লিখে ফেলুন। যখন আপনি মনের কথাগুলো কাগজে ঢেলে দিবেন, মস্তিষ্ক তখন ভাববে, যাক, দায়িত্ব শেষ, এখন আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি। সবশেষে বালিশে মাথা রেখে প্রিয় নবীজির শেখানো তাসবীহ (৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার) পাঠ করুন। তাছাড়া ঘুমের অন্যান্য দো‘আ ও কুরআন তিলাওয়াত করে ঘুমান। এটি আপনার সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে আত্মায় এমন এক অলৌকিক প্রশান্তি এনে দিবে, যা আপনাকে পরের দিন সকালে এক প্রাণবন্ত ও বিধ্বস্তহীন সকাল উপহার দিবে, ইনশাআল্লাহ।

শেষ কথা : আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে, একজন মাতা বা পিতা কতটা সুন্দর ও নিখুঁতভাবে তার সন্তানকে লালন-পালন করতে পারবেন, তা কোন অলৌকিক কৌশলের ওপর নির্ভর করে না। এটা অনেকখানি নির্ভর করে তিনি নিজে শারীরিক ও মানসিকভাবে কতটা সুস্থ, শান্ত এবং বিশ্রামপ্রাপ্ত আছেন তার ওপর। একটি শূন্য পাত্র থেকে যেমন অন্য কারও তৃষ্ণা মেটানোর জন্য এক ফোঁটা পানিও ঢেলে দেওয়া যায় না, ঠিক তেমনি নিজের ভেতরের শান্তি ও শক্তির পাত্রটি শূন্য রেখে সন্তানকে প্রশান্তি দেওয়া অসম্ভব। নিজের পাত্রটা আগে ভরাতে হয়, তবেই তা অন্যকে বিলিয়ে দেওয়া যায়।

তাই পরের বার যখন সন্তানের খুব সামান্য দুষ্টুমিতে আপনার মেজায চড়ে যাবে, যখন আপনার হাত বা কণ্ঠ নিয়ন্ত্রণ হারাবে, তখন নিজেকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে চাবুক মারার আগে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে স্রেফ একটি প্রশ্ন করুন ‘আমি কি গত রাতে ঠিকমতো ঘুমিয়েছি?’ হয়তো এই একটা সরল প্রশ্নের উত্তরই আপনাকে বলে দিবে আসল সমস্যাটা কোথায় ছিল। তবে এখানে এসে আমাদের আরও একটি রূঢ় ও নির্মম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। বর্তমান সময়ে এসে প্যারেন্টিংয়ের যুদ্ধটা আমাদের পিতা-দাদাদের আমলের চেয়ে হাযার গুণ বেশী কঠিন হয়ে গেছে।

আজকের দিনে শুধু একটা সুন্দর ঘুমের রুটিন বানালেই যে বাচ্চা টুক করে ঘুমিয়ে পড়বে, বিষয়টা এত সহজ নয়। আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে চারপাশে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার চোখ ধাঁধানো আলো। ঘরের বাতাসে অদৃশ্য বিষের মতো ছড়িয়ে থাকা ওয়াইফাই আর ডিভাইসের রেডিয়েশন। শহুরে ফ্ল্যাট কালচারের চার দেয়ালের মাঝে আটকে থাকা বন্দি শৈশব, যেখানে শিশুর অতিরিক্ত শক্তি খরচ করার মতো কোন খেলার মাঠ নেই। এই সব কিছু মিলে আজকের শিশুদের স্বভাবকে এক ধরনের ‘হাইপার-অ্যাক্টিভ’ বা অতিরিক্ত চঞ্চল করে তুলেছে। অনেক পিতা-মাতা ইন্টারনেটের শত শত ট্রিকস ফলো করেও বাচ্চাকে সময়মতো ঘুমাতে নিতে পারেন না। রাত একটা-দুইটা বেজে যায়, শিশু বিছানায় ছটফট করে কিন্তু তার চোখের পাতা এক হয় না। এটি কেবল কোন অবাধ্যতা নয়, এটি আমাদের আধুনিক লাইফস্টাইলের তৈরি করা এক মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক ব্যাধি!

এত কিছুর পরেও এই প্রতিকূল স্রোতের মধ্যেই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে, আমাদের সন্তানদের আগলে রাখতে হবে। সব ট্রিকস হয়তো প্রতিদিন কাজ করবে না, কোন কোন রাত হয়তো ভীষণ বিধ্বস্ত কাটবে। কিন্তু সেই কঠিন রাতেও আমাদের মনে রাখতে হবে, হাল ছাড়া যাবে না। প্রযুক্তির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ যতটা সম্ভব বাড়াতে হবে, দিনের বেলায় শিশুকে শারীরিক পরিশ্রম বা ছোটাছুটির সুযোগ দিতে হবে, আর ঘরের পরিবেশকে করতে হবে আরও শান্ত। মনে রাখবেন, আপনি জীবনের যে কাজই করুন না কেন, একটা নিটোল ও প্রশান্ত ঘুমের পর সেই একই কাজ আপনি আরও সুন্দর, আরও নিখুঁতভাবে করতে পারবেন। নিজের শরীরের প্রতি দয়া করা কোন বিলাসিতা নয়, এটি আপনার সন্তানের প্রতি আপনার দায়িত্বেরই একটা অংশ।

পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে গভীর আকুতি জানাই, তিনি যেন আমাদের দেশের, আমাদের সমাজের প্রতিটি ক্লান্ত পিতা-মাতাকে রাতের বেলা এক টুকরো প্রশান্তির ঘুম দান করেন। আর সেই ঘুম ও বিশ্রামের বরকতে তাদের ভেতরের শক্তিকে এমনভাবে পুনরুজ্জীবিত করে দেন, যেন সন্তান লালন-পালনের এই মহান ও পবিত্র আমানত রক্ষা করার দায়িত্বটি তাঁদের জন্য সহজ, আনন্দময় ও বরকতময় হয়ে ওঠে- আমীন!






বিষয়সমূহ: বিধি-বিধান
পুত্র সন্তানদের উপদেশ ও শাসনের সঠিক কৌশল : একটি মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ - জাহিদ হাসান
শিশুর আবেগকে অবহেলা নয় - জাহিদ হাসান
শিশুদের ছিয়াম : কেন, কখন এবং কিভাবে অভ্যস্থ করবেন? - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
বই হোক সন্তানের নিত্য সঙ্গী - জাহিদ হাসান
শিশুদের জন্য স্ক্রিন টাইম ও কন্টেন্ট নির্বাচন - জাহিদ হাসান
শিশুদের আদব : পারিবারিক শিক্ষার প্রথম পাঠ - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
উঠতি বয়সে বন্ধু-বান্ধবজনিত সমস্যা : উত্তরণের পথ - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
পরিবারে অগ্রাধিকার ব্যবস্থাপনা - জাহিদ হাসান
সন্তান আমার আয়না - জাহিদ হাসান
ঘুমহীন রাত, বিধ্বস্ত প্যারেন্টিং - জাহিদ হাসান
ভাই-বোনদের পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ়করণ ও হিংসা দূরীকরণে করণীয় - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
আগামীর নক্ষত্র গড়ে উঠুক বিনয়ের আলোয়! - ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব
আরও
আরও
.