জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় করণীয়

১. তাকবওয়া ও পরকালীন হিসাব-নিকাশের চেতনা সৃষ্টি : একটি আদর্শ সমাজ গড়ার প্রাথমিক শর্ত হ’ল মানুষের হৃদয়ে আল্লাহভীতি এবং আখেরাতের বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করা। যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, একদিন মহান রবের সামনে তাকে প্রতিটি কাজের চুলচেরা হিসাব দিতে হবে, সে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অন্যায়, দুর্নীতি ও খেয়ানত থেকে নিজেকে বিরত রাখবে। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَاأَيُّهَاالَّذِيْنَآمَنُوااتَّقُوااللهَوَلْتَنْظُرْنَفْسٌمَاقَدَّمَتْلِغَدٍوَاتَّقُوااللهَإِنَّاللهَخَبِيرٌبِمَاتَعْمَلُونَ، ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক ব্যক্তি লক্ষ্য করুক, সে আগামী দিনের জন্য কি প্রেরণ করেছে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত’ (হাশর ৫৯/১৮)।

২. ইসলামী শিক্ষার প্রসার ও মূল্যবোধ জাগ্রত করা : সমাজে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হ’ল ইসলামী শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটানো। মানুষ যখন কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন করবে, তখনই তাদের মধ্যে হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায় এবং আমানতদারিতার প্রকৃত উপলব্ধি তৈরি হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে ইসলামী নৈতিকতা ও পরকালীন হিসাব-নিকাশের ভয় জাগ্রত করতে পারলে, সমাজ থেকে দুর্নীতি, প্রতারণা ও অধিকার হরণের মতো দুষ্টুক্ষতগুলো দূর হয়ে যাবে। কিন্তু আজকের ধর্মহীন সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থার দরুন শিক্ষিতরাই সবচেয়ে বেশী দুর্নীতিগ্রস্ত ও নিজেদের জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে মনে করেন।

৩. পারিবারে সততার বীজ বপন করা : পরিবার হ’ল সমাজ সংস্কারের মূল পাঠশালা। একটি শিশু তার ঘর থেকেই ন্যায়-অন্যায় ও দায়বদ্ধতার প্রথম পাঠ গ্রহণ করে। পরিবারে এই চর্চা না থাকলে একটি আদর্শ সমাজ কল্পনা করা যায় না। তাই সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই সততার চর্চা শেখানো অত্যন্ত যরূরী। অভিভাবকরা প্রতিদিন সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে তাদের সারাদিনের কাজের একটি সাধারণ হিসাব নিতে পারেন। যেহেতু সন্তানরা বাবা-মায়ের আমানতদারিতা দেখেই শেখে, তাই অভিভাবকদের নিজেদের লেনদেন ও আচরণেও পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

৪. আমানতদারিতার চর্চা : অর্পিত দায়িত্বকে সর্বোচ্চ বিশ্বস্ততার সাথে পালন করার নির্দেশ দেয় ইসলাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,إِنَّاللهَيَأْمُرُكُمْأَنْتُؤَدُّواالْأَمَانَاتِإِلَىٰأَهْلِهَا، ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা আমানত যথাযথভাবে তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও’ (নিসা ৪/৫৮)। এইআয়াতের শিক্ষাকে ধারণ করে, কর্মক্ষেত্রে নিজের পদ

* লাউবাড়িয়া, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।

 বা দায়িত্বকে নিছক চাকরী না ভেবে আমানত হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজের বিবরণী সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের কাজের দায়ভার নিতে শেখাটা একজন সৎ কর্মীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

৫. নিয়মিত আত্মসমালোচনা করা : নিজের ভেতরের সৎ সত্তাকে জাগ্রত রাখতে নিয়মিত আত্মসমালোচনা বা মুহাসাবার কোন বিকল্প নেই। মানুষ নিজের ভুল-ত্রুটি পর্যালোচনা করলে আখেরাতের জন্য প্রস্ত্ততি গ্রহণ করতে পারে। ওমর (রাঃ) বলেন, حَاسِبُواأَنْفُسَكُمْقَبْلَأَنْتُحَاسَبُوا،وَزِنُواأَعْمَالَكُمْقَبْلَأَنْتُوزَنَعَلَيْكُمْ، ‘তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগে তোমরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ কর এবং তোমাদের আমল ওযন করার আগে নিজেদের আমল ওযন কর’।[1] এই নির্দেশনার আলোকে, প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অন্তত ৫ মিনিট সময় নিয়ে নিজের সারাদিনের কাজের হিসাব মেলানোর একটি রুটিন তৈরি করা যেতে পারে। যেখানে কেউ দেখছে না, সেখানেও আল্লাহ আমাদের দেখছেন এই বিশ্বাস নিজের ভেতরে বদ্ধমূল করতে পারলেই ব্যক্তিজীবন পরিশুদ্ধ হবে।

৬. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করা : সমাজে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক উপদেশ, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ، ‘আর তোমাদের মধ্যে একটা দল থাকা আবশ্যক, যারা সৎকাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে। আর তারাই হ’ল সফলকাম’ (আলে-ইমরান ৩/১০৪)।

৭. স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার না করা : ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ হ’ল স্বজনপ্রীতি (Nepotism) এবং যোগ্যতার অবমূল্যায়ন। বর্তমান সময়ে নিয়োগবাণিজ্য, রাজনৈতিক দলীয়করণ এবং যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে আত্মীয় বা অনুগতদের পদায়নের যে মহামারী আমরা দেখতে পাচ্ছি, তা মূলত স্বজনপ্রীতির চূড়ান্ত রূপ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ক্ষমতার এই অপব্যবহার ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়ে তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِنَّكُمْسَتَرَوْنَبَعْدِىأَثَرَةًوَأُمُورًاتُنْكِرُونَهَا، ‘আমার পরে তোমরা অবশ্যই স্বজনপ্রীতিকে প্রাধান্য দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করবে এবং এমন কিছু বিষয় দেখতে পাবে, যা তোমরা পসন্দ করবে না’।[2]

বর্তমানে আমরা এই হাদীছের বাস্তব চিত্র দেখতে পাচ্ছি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মেধা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কেবল লবিং বা ‘ক্ষমতাশালী আত্মীয়’ না থাকার কারণে বহু যোগ্য ব্যক্তিকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হ’তে হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো যেন কিছু নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। একদিন জনৈক আনছার ছাহাবী রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করল এবং বলল আপনি অমুককে যেভাবে কর্মচারী নিযুক্ত করেছেন, সেভাবে আমাকেও কি কর্মচারী নিয়োগ করবেন না? তখন তিনি বললেন,‏إِنَّكُمْسَتَلْقَوْنَبَعْدِيأَثَرَةًفَاصْبِرُواحَتَّىتَلْقَوْنِيعَلَىالْحَوْضِ، ‘আমার পরে তোমরা অনেক পক্ষপাতিত্ব দেখবে তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে, যে পর্যন্ত না তোমরা হাউয (কাওছার)-এ আমার সাথে মিলিত হও’।[3] অতএব জবাবদিহিতামূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে হ’লে প্রশাসন ও নেতৃত্বের সর্বস্তরে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কঠোরভাবে বন্ধ করে কেবল আমানতদারিতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে।

৮. স্বচ্ছতা ও পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ : ইসলামে স্বেচ্ছাচারিতা বা একনায়কতন্ত্রের কোন স্থান নেই। রাষ্ট্র, সমাজ বা পরিবারের যেকোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এককভাবে না নিয়ে পারস্পরিক পরামর্শ বা শূরা-এর ভিত্তিতে গ্রহণ করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ছাহাবীদের সাথে পরামর্শ করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, وَشَاوِرْهُمْفِيالْأَمْرِ، ‘আর তুমি কাজেকর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর’ (আলে-ইমরান ৩/১৫৯)।

যখন কোন সিদ্ধান্ত গোপনে নেওয়া হয়, তখনই সেখানে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অধিকার হরণের সুযোগ তৈরি হয়। কোন প্রকল্প কিভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সরকারী বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল কিভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং কাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে তা সংশ্লিষ্ট সকলের জানা উচিত। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যখন স্বচ্ছতা থাকে এবং বিজ্ঞ, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়, তখন সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার বাসা বাঁধতে পারে না। এতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

৯. বৈষম্যহীন বিচারব্যবস্থা চালু করা : সমাজে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত হ’ল দল, মত, নির্বিশেষে সকলের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা। যেখানে ক্ষমতাশালীরা আইনকে পাশ কাটিয়ে যায় এবং কেবল দুর্বলদের ওপর আইন প্রয়োগ করা হয়, সেখানে প্রকৃত জবাবদিহিতা কখনোই প্রতিষ্ঠিত হ’তে পারে না। ইসলাম আইনের সমান প্রয়োগের ব্যাপারে আপসহীন। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللهُ أَوْلَى بِهِمَا، ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হিসাবে, যদিও সেটি তোমাদের নিজেদের কিংবা তোমাদের পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়। (বাদী-বিবাদী) ধনী হৌক বা গরীব হৌক, আল্লাহ তাদের সর্বাধিক শুভাকাঙ্ক্ষী’ (নিসা ৪/১৩৫)। একবার অভিজাত মাখযূমী গোত্রের জনৈক নারী চুরি করলে কেউ কেউ তার শাস্তি মওকূফের জন্য রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে সুপারিশ করেন। এতে তিনি অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে বলেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো এজন্যই ধ্বংস হয়েছে যে, যখন তাদের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন কোন দুর্বল লোক চুরি করত, তখন তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম’।[4]

আজকের বিচারব্যবস্থায় অর্থ ও ক্ষমতার বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকেই মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে বছরের পর বছর জেলের ঘানি টানছেন। যদি দেশে ইসলামী বিচারব্যবস্থা চালু থাকত তাহ’লে জবাবদিহিতার পরিবেশ ফিরে আসত এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করত। তাই বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং নিরপেক্ষ রেখে ‘আইনের চোখে সবাই সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়’ এই নীতির বাস্তবায়ন করতে হবে।

১০. দায়িত্বশীল নেতৃত্ব সৃষ্টি করা : সাধারণ মানুষ বা অধীনস্থরা সর্বদা তাদের নেতাদের অনুসরণ করে। সমাজের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিরা যদি দুর্নীতিগ্রস্ত বা দায়িত্বহীন হন, তবে কোন আইন বা শাস্তি দিয়েই অধঃস্তনদের সংশোধন করা সম্ভব নয়। ওমর (রাঃ) যখন জনগণকে কোন বিষয়ে নিষেধ করতেন, তখন তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের একত্রিত করে বলতেন, ‘আমি জনগণকে অমুক কাজ থেকে নিষেধ করেছি। মানুষ তোমাদের দিকে সেভাবে তাকিয়ে থাকে, যেভাবে পাখিরা গোশতের দিকে তাকিয়ে থাকে। আল্লাহর কসম! তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ঐ নিষিদ্ধ কাজ করে, তবে আমি তাকে দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করব’।[5]

বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃবৃন্দকে কেবল মৌখিক নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, নিজেদের কাজের মাধ্যমে সততা ও স্বচ্ছতার প্রমাণ দিতে হবে। একজন জনপ্রতিনিধি, প্রশাসক বা প্রতিষ্ঠানের প্রধান যখন নিজের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করার মানসিকতা দেখাবেন, তখন তার অধীনস্থরাও জবাবদিহিতার চর্চা করতে বাধ্য হবে।

উপসংহার : জবাবদিহিতা সুদৃঢ় রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুস্থ সমাজ কাঠামোর জীবনীশক্তি। মানব ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, যখনই কোন সমাজ বা সভ্যতা থেকে এই দায়বদ্ধতার চেতনা হারিয়ে গেছে, তখনই সেখানে শোষণ, বৈষম্য ও পতনের সূচনা হয়েছে। ইসলামের নির্দেশিত জবাবদিহিতার এই বহুমাত্রিক মডেল যেভাবে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে আল্লাহর নযরদারীর সুতোয় বেঁধে রাখে তা যেকোন আধুনিক সুশাসনের কাঠামোর চেয়েও অনেক বেশী কার্যকর। তাই আসুন! একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই সমাজ বিনির্মাণে অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের কাজের হিসাব মেলাতে শিখি। কারণ ব্যক্তির আত্মশুদ্ধি এবং প্রতিটি স্তরের দায়িত্বশীলতাই পারে একটি আদর্শ, দুর্নীতিমুক্ত ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রকাঠামোর জন্ম দিতে। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন-আমীন!


[1]. মুহাম্মাদ ইবনু আলী জামীল আল-মুতারী, তাহযীবু কুতুবিয-যুহদিল মুসনাদাহ ১/ ৪১।

[2]. বুখারী হা/৭০৫২; তিরমিযী হা/২১৯০।

[3]. মুসলিম হা/৪৬৭৩; তিরমিযী হা/২১৮৯।

[4]. বুখারী হা/৩৪৭৫; মুসলিম হা/১৬৮৮।

[5]. মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১১/২০৭১৩; ছহীহাহ হা/৩৬২।






এপ্রিল ফুল্স - আত-তাহরীক ডেস্ক
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তাক্বলীদ (৪র্থ কিস্তি) - মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম মাদানী
দ্বীনের পথে ত্যাগ স্বীকার (৩য় কিস্তি) - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
যাকাত ও ছাদাক্বা - আত-তাহরীক ডেস্ক
মানবাধিকার ও ইসলাম (২য় কিস্তি) - শামসুল আলম
বিদ‘আত ও তার পরিণতি (২য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম মাদানী
মুসলিম উম্মাহর পদস্খলনের কারণ (পূর্ব প্রকাশিতের পর) - মীযানুর রহমান মাদানী
জুম‘আর কতিপয় বিধান - মুহাম্মাদ আকমাল হুসাইন
আশূরায়ে মুহাররম - আত-তাহরীক ডেস্ক
কুরআন ও সুন্নাহর বিশ্বজনীন আদর্শ প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজের ভূমিকা - শেখ ইমরান ইবনু মুয্যাম্মিল
ওয়াহ্হাবী আন্দোলন : উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ; মুসলিম বিশ্বে এর প্রভাব (৪র্থ কিস্তি) - ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব
নববী চিকিৎসা পদ্ধতি (শেষ কিস্তি) - কামারুযযামান বিন আব্দুল বারী
আরও
আরও
.