আমাদের সন্তানরা বড় হ’তে হ’তে জীবনের নানা ধাপে নানা রকম মানসিক আঘাত পায়। এই আঘাতগুলোর প্রতিক্রিয়ায় কোন কোন শিশু ভেঙে পড়ে, আবার কেউ কেউ সময়ের সাথে সেই আঘাত থেকে নিরাময় লাভ করে। কেউ আঘাত পেয়ে তা কাটিয়ে উঠে, আবার কেউ তা নিজের ভেতরে জমিয়ে রাখে। এটা আসলে কেন হয়? এটাই আজকের আলোচনার বিষয়।
শিশুদের বেড়ে ওঠার পথে নানা ধরনের আবেগীয় আঘাত পাওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই আবেগীয় আঘাতগুলো সে কিভাবে মোকাবেলা করবে তার ওপরে নির্ভর করে শিশুর ভবিষ্যত মানসিক স্বাস্থ্য। এখন আমরা জানব, অভিভাবক হিসাবে আমরা আমাদের সন্তানদের আবেগীয় আঘাত থেকে সেরে উঠতে সাহায্য করতে পারি। যার ফলে তারা একটি সুস্থ ও সুখী ব্যক্তিতেব পরিণত হ’তে পারে।
প্রথমেই আমরা শিশুদের দুই ভাগে ভাগ করব। প্রথমতঃ সুস্থ আবেগের অধিকারী শিশু। দ্বিতীয়তঃ আঘাতপ্রাপ্ত আবেগের অধিকারী শিশু। সুস্থ আবেগের অধিকারী শিশুর বৈশিষ্ট্য হ’ল, সে অনেক বেশী আত্মবিশবাসী, আননদময় ও শান্ত স্বভাবের হয়। তার ভেতরে কিছু বিশেষ গুণ লক্ষ্য করা যায়। যেমন আত্মসন্তুষ্টি। সে নিজের সম্পর্কে যথেষ্ট সন্তুষ্টি অনুভব করে। নিজেকে নিজের মত করে গ্রহণ করতে পারে। সে ভাবে, আমি যেমন, তেমনই ঠিক আছি। তার ভেতরে স্বাধীনতা লক্ষ্য করা যায়। সে অন্যের প্রশংসা ছাড়া টিকে থাকতে পারে। তাকে ‘তুমি ভালো করেছ’ ‘তুমি সেরা’ এসব কথা না বললেও সে নিজের কাজকে মূল্য দিতে শেখে। পাশাপাশি সে শান্ত ও সহনশীল হয়। সে পরিস্থিতি বোঝে এবং অন্যদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার ক্ষমতা রাখে। তার ভেতরটা শান্ত থাকে। চারপাশের কোলাহলেও সে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
সে আত্মবিশবাসী হয়। ভয় নয়, আত্মবিশবাস দিয়েই সামনে এগিয়ে চলে। নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে দৃঢ় বিশবাস ও আত্মবিশবাসী হয়। সে নীরবতা উপভোগ করে। সব সময় স্বয়ংসম্পূর্ণ কারো সঙ্গ তার দরকার হয় না। সে নিজেকে সময় দেওয়া শেখে। পাশাপাশি তার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। সমস্যা হ’লেও সে নেতিবাচক নয়। সে সমাধান খোঁজে।
এ ধরনের একজন শিশুর চিত্র আমরা সামনে আনতে পারি। যেমন একজন ছেলের নাম রাফী। তার বয়স দশ বছর। সে একটি খেলায় হেরে গিয়েছে। তার বাবা-মা তাকে বলল, ‘কোন সমস্যা নেই, তুমি ভালো খেলেছ। পরের বার আরও ভালো করার চেষ্টা করবে’। রাফী দুঃখিত হ’লেও, সে বুঝতে পারল যে, হারা-জেতা খেলার অংশ। সে পরের দিন আবার উৎসাহের সাথে অনুশীলন শুরু করল। এভাবে সে নিজের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিল এবং হতাশা থেকে নিজেকে দ্রুত উত্তরণ করতে পারল।
অন্যদিকে আহত আবেগের অধিকারী শিশুর বৈশিষ্ট্য আবার ভিন্ন। সে মানসিক ক্ষত নিয়ে বড় হয়। সে সহজে হাসতে পারে না। আত্মবিশবাসে ঘাটতি থাকে। নেতিবাচক চিন্তার মাঝেই সে জীবন পরিচালনা করে। সে সর্বদা অন্যের প্রশংসা ও স্বীকৃতির প্রয়োজন অনুভব করে। নিজের সম্পর্কে অনিরাপদ ও অনিশ্চিত বোধ করে। নিজেকে ছোট মনে করে। ‘আমি পারি না’, ‘আমি যথেষ্ট ভালো না’ এই ধারণা তার মনে গেঁথে যায়।
এ ধরনের শিশু নিজের সিদ্ধান্ত ও ক্ষমতা নিয়ে সর্বদা সনেদহে থাকে। সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়। সে নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় সমালোচক হয়। সর্বদা নিজেকে অবহেলিত ও ভালোবাসাহীন অনুভব করে। তার ভেতর সবসময় একটা শূন্যতা কাজ করে। সব কিছুতে সে খারাপ ফলাফল দেখে। কোন কাজে তার আশা বা বিশবাস তৈরি হয় না, সবকিছুতেই সমস্যা দেখে। তার সুখ অনুভব করতে কষ্ট হয় এবং প্রায়ই সে অসন্তুষ্ট থাকে। সে আননদকে উপভোগ করতে জানে না, সবসময় মনে হয় কিছু একটা নেই।
এ ধরনেরও একজন শিশুর উদাহরণ আমরা সামনে আনতে পারি। যেমন তানভীর একজন নয় বছর বয়সী ছেলে। সে একটি বৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিল। তবে কৃতকার্য হ’তে পারল না। তার বাবা-মা এটিকে ব্যর্থতা হিসাবে দেখিয়ে তাকে তিরস্কার করলেন। বললেন, ‘তুমি আরও ভালো করতে পারতে। এভাবে কখনোই সফল হবে না। তুমি কিছুই পারো না’। এরপর থেকে আস্তে আস্তে তানভীরের মনে ভয় বাসা বাঁধতে শুরু করে। সে আর কোন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে না। সব কাজে তার আত্মবিশবাস হারিয়ে যায়। সে সর্বদা ভাবতে শুরু করে, সে যা করে তা ভাল হয় না। আর সে কখনোই ভালো কিছু করতে পারবে না। এবার আমরা ঐ সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যার কারণে শিশুরা মানসিক আঘাত পায়। যে আঘাত পারবর্তীতে শিশুর আবেগীয় ক্ষতের কারণ হয়।
অতিরিক্ত রাগ বা শাস্তি : যখন বাবা-মা ছোট ভুলের জন্য শিশুর উপর অতিরিক্ত রেগে যান বা শারীরিকভাবে শাস্তি দেন, তখন শিশু নিজেকে ছোট মনে করে এবং বাবা-মায়ের কাছেই নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে।
অবহেলা : অনেক বাবা-মা রয়েছেন যারা শিশুর আবেগীয় চাহিদা উপেক্ষা করেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, শিশুরা শুধু খাবার বা পোষাক নয়, বরং ভালোবাসা, মনোযোগ ও আবেগীয় সাড়া পাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করে। বাবা-মা যদি তাদের অনুভূতিকে গুরুতব না দেন বা সময় না দেন, তাহ’লে শিশু নিজের মূল্যহীনতা অনুভব করতে শুরু করে। যা ভবিষ্যতে তাকে সম্পূর্ণভাবে হীনমন্য করে ফেলে।
তুলনা করা : অনেক বাবা-মা শিশুদের বলেন, ‘তোমার ভাই তো ভালো করে, তুমি কিছুই পারো না’? এই ধরনের কথায় শিশু ভাবতে শুরু করে, সে অন্য ভাই-বোন বা সহপাঠীর সাথে তুলনায় যথেষ্ট ভালো না। এতে হীনমন্যতা তৈরি হয়, শিশুর নিজস্বতা হারিয়ে যায়।
অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ : শিশুর স্বাধীনতাকে অতিরিক্ত দমন করবেন না। যখন বাবা-মা শিশুর প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করেন। সবকিছু নির্ধারণ করে দেন যে, সে কী পরবে, কী পড়বে, কার সাথে মিশবে তখন সে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং তার স্বাধীনতাবোধ নষ্ট হয়। অবশ্যই এক্ষেত্রে আপনি পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবেন এবং পাশে থাকবেন। তবে সবসময় নিজের মতকেই তার ওপর চাপিয়ে দেবেন না।
এই সবকিছুর পাশাপাশি বাবা-মায়েদের মানসিকভাবে সুস্থ হ’তে হবে। যদি তারা নিজেরাই মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে তা শিশুর উপর প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ যদি বাবা-মা নিজের শৈশবের আঘাত বা মানসিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে না পারেন, তাহ’লে তারা অজান্তেই সেগুলো শিশুর উপর চাপিয়ে দিয়ে থাকেন। যা শিশুদের জন্য চরম ক্ষতিকর পরিণামের কারণ হয়।
শিশুর আবেগ প্রতিকারের উপায় :
প্রথমতঃ নিজেকে সংশোধন করুন। আপনি যদি অতীতের মানসিক ক্ষত থেকে বেরিয়ে না আসেন, তবে সন্তানের কাছে আপনি কখনোই আদর্শ হ’তে পারবেন না। শিশুদের আবেগিক স্বাস্থ্য উনণত করতে অভিভাবক হিসাবে আপনি প্রথমে নিজের আবেগিক স্বাস্থ্য উনণত করুন। আগে নিজের রাগ, হতাশা, উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করুন। সন্তান যখন ভুল করে তখন চিৎকার নয়, বোঝানোর ভাষা ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, ওদের মস্তিষ্ক এখনো শেখার পর্যায়ে রয়েছে। ওদের এখন আপনি যা শেখাবেন তাই শিখবে।
এটি একটি গুরুতবপূর্ণ পয়েনট। কারণ শিশুরা অভিভাবকদের আচরণ অনুকরণ করে শেখে। পাশাপাশি অভিভাবকের রাগ ও অস্থিরতা শিশুর মধ্যে ভয় ও অনিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করে। সুতরাং নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে, আমরা আমাদের সন্তানকে আবেগ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি শেখাতে পারি। বিষয়টি একটু উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলি। আমীনা এমন একজন মা যিনি প্রায়ই সন্তানের উপর রাগান্বিত হ’তেন। তিনি যখন বুঝতে পারলেন যে, তার এই আচরণ তার সন্তানের মধ্যে ভয় ও অনিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করছে, তখন তিনি নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য কাউন্সিলিং শুরু করলেন। তিনি ধীরে ধীরে নিজের আবেগ বুঝতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে শিখলেন। এর ফলে তার সন্তানও আগেরমত শান্ত ও আত্মবিশবাসী হয়ে উঠল। এটাই প্রকৃত নিয়ম।
দ্বিতীয়তঃ শিশুর আবেগ স্বীকার করুন। শিশুর কানণা, রাগ বা ভয়কে অবহেলা করবেন না। বরং শিশুর আবেগ অস্বীকার না করে তা স্বীকার করুন ও সম্মান করুন। এটি তাদেরকে নিজের আবেগ বুঝতে ও প্রকাশ করতে সাহায্য করবে। মনে করুন, আপনার সন্তান যখন স্কুল থেকে মন খারাপ কিংবা রাগান্বিত হয়ে বাড়ি ফিরে তখন আপনি তাকে কাছে বসিয়ে জিজ্ঞেস করুন, তোমার কি মন খারাপ? বল আমাকে। বা এভাবে বলুন, তোমার রাগ হওয়া স্বাভাবিক, বিষয়টি আমাকে খুলে বল। এভাবে আপনি তার আবেগ প্রকাশ করার সুযোগ দিবেন। কখনো এভাবে বলবেন না, এটাতে আবার রাগ করতে হয় নাকি? বা এটা কোন বড় ব্যাপার নয় বলে তার আবেগকে অস্বীকার করবেন না।
তৃতীয়তঃ তার জন্য সুরক্ষিত ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করুন। শিশুরা যেখানে ভয় ছাড়া তাদের মতামত, অনুভূতি ও চিন্তা প্রকাশ করতে পারে, এমন একটি সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করুন। তারা হয়ত ছোট, কিন্তু তাদের অনুভূতি সত্য। তাদের কথা গুরুতব দিয়ে শুনতে হবে। যেমন ফাতেমাদের পরিবারে প্রতিদিন ঘুমানোর পূর্বে আলোচনা সেশন আছে। যেখানে পরিবারের সবাই তাদের অনুভূতি ও চিন্তা সবার সাথে ভাগ করে নেয়। সেখানে ফাতেমা নিরাপদে তার যেকোন অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। এমনকি সে যদি রাগ বা হতাশাও অনুভব করে সেটিও সে সবার সাথে শেয়ার করতে পারে। শিশুদের এমন একটি জায়গা থাকা প্রয়োজন।
চতুর্থতঃ চতুর্থ করণীয় হ’ল, শিশুদের সাথে সময় কাটানো।
তাদের সাথে গল্প করুন, খেলুন, হাসুন। তারা যখন কথা বলবে, মনোযোগ দিন। এই সময় ফোনে চোখ রাখবেন না। এটি তাদের আত্মসম্মান বাড়াতে ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে সাহায্য করে। যেমন আপনি প্রতিদিন আপনার সন্তানের সাথে আধা ঘন্টা বিশেষ সময় কাটান। যেখানে আপনি শুধুমাত্র সন্তানের প্রতি মনোযোগ দেন। এই সময়টি আপনার সন্তানের সাথে আপনার বন্ধন গড়ে তুলবে এবং আপনার কাছে আপনার সন্তান যে মূল্যবান তা সন্তান অনুভব করবে।
পঞ্চমতঃ পঞ্চম করণীয় হ’ল শিশুদের প্রশংসা করা। তবে কখনোই তা অতিরিক্ত নয়। প্রশংসা শিশুদের আত্মবিশবাস বাড়াতে সাহায্য করে, তবে এটি যথার্থ ও সার্থক হওয়া উচিত। মনে করুন, আয়েশার আম্মু লক্ষ্য করলেন যে, আয়েশা তার গণিতের পরীক্ষায় আগের চেয়ে ভালো করেছে। তিনি বললেন, ‘আমি দেখেছি, তুমি এই পরীক্ষার জন্য কত কঠিন পরিশ্রম করেছ। তোমার এই অধ্যবসায় দেখে আমি খুব গর্বিত। আমি খুব খুশি হয়েছি। বারাকাললাহু লাক। এই ধরনের প্রশংসা আয়েশাকে বুঝতে সাহায্য করে যে, প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ই মূল্যবান, শুধুমাত্র ফলাফল নয়।
ষষ্ঠতঃ শিশুদের সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করা। শিশুদের বয়স উপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করুন। এটি তাদের আত্ম নির্ভরশীলতা ও আত্মবিশবাস বাড়াতে সাহায্য করে। যেমন জাহিদ ছাহেব তার ছেলে মুছ‘আবকে দু’টি পোশাক থেকে একটি বেছে নিতে বলেন বা তার লাঞ্চ বক্সে সে কী খেতে চায় তা জিজ্ঞেস করেন। এটি তার ছেলেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুশীলন শিক্ষা দেয় এবং তাকে বুঝতে সাহায্য করে যে, তার মতামত মূল্যবান।
সপ্তমতঃ সপ্তম করণীয় হ’ল আবেগ নিয়ন্ত্রণের কেŠশল শেখানো। শিশুদের তাদের আবেগ চিনতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে শেখান। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, বারাকাহ যখন রাগান্বিত হয়, তার বাবা তাকে প্রথমে শয়তান থেকে আশ্রয় নিতে শেখান। তারপর স্থান পরিবর্তন করতে বলেন। এরপর গভীর শবাস নিতে শেখান। তারা একসাথে ১০ পর্যন্ত গণনা করেন এবং তারপর বারাকাহ তার অনুভূতি সম্পর্কে কথা বলতে পারে। এটি বারাকাহকে তার রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়।
অষ্টমতঃ অষ্টম করণীয় হ’ল ভালোবাসা প্রকাশ করা। শুধু মনে মনে নয়, মুখে বলুন! তোমাকে ভালোবাসি, তুমি পারবে, আমি তোমার পাশে আছি। রাসূল (ছাঃ) কাউকে ভালোবাসলে তা প্রকাশ করতে বলেছেন। পাশাপাশি তাকে ভুল স্বীকার করতে শেখান। সন্তান ভুল করলে তাকে শাস্তি না দিয়ে বুঝিয়ে বলুন। নিজেও যদি ভুল করেন, বলুন ‘দুঃখিত, আমি ভুল করেছি, আমাকে ক্ষমা করে দাও’। তার সাথে কথা বলার সময় সর্বদা ইতিবাচক শব্দ ব্যবহার করুন। ইতিবাচক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুর আত্মবিশবাস বাড়াতে সাহায্য করুন।
শেষকথাঃ শিশুদের আবেগিক স্বাস্থ্য তাদের সামগ্রিক বিকাশের অন্যতম গুরুতবপূর্ণ অংশ। একজন অভিভাবক হিসাবে, আমাদের দায়িতব হ’ল তাদের সুস্থ আবেগিক বিকাশের জন্য সঠিক পরিবেশ ও সমর্থন প্রদান করা। মনে রাখবেন, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। একদিনে না হ’লেও, আপনার ধৈর্য, ভালবাসা, সমর্থন ও দো‘আ আপনার সন্তানকে একটি সুস্থ আবেগিক ব্যক্তিতব হিসাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
জাহিদ হাসান
সহকারী শিক্ষক, শান্তি নিকেতন ইন্সটিটিউট, ফেনী।