ভূমিকা

ইসলামী শরী‘আতের প্রধান উদ্দেশ্য মানুষকে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জাতি পরিচয় নির্বিশেষে কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ করা।[1] পবিত্র কুরআনে সমগ্র মানবজাতিকে মর্যাদা দান করা হয়েছে (ইসরা ১৭/৭০)। আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় মানবাধিকার রক্ষা সমসাময়িক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক নীতি, যা জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকার বিষয়ক সার্বজনীন ঘোষণা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে স্বীকৃত। তবুও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জাতিগত, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে চীনের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তবশাসিত অঞ্চলে বসবাসকারী উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি অন্যতম। চীন সরকার বিপুলসংখ্যক উইঘুর ও অন্যান্য তুর্কিভাষী মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর তথাকথিত ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে আটক রাখা, ব্যাপক নযরদারী, ধর্মীয় কর্মকান্ডে বিধিনিষেধ, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, জোরপূর্বক শ্রম, জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতি এবং সাংস্কৃতিক আত্মীকরণের মাধ্যমে বর্বর নির্যাতন চালাচ্ছে। সরকার জিনজিয়াংয়ে গৃহীত বিভিন্ন নীতিকে সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রতিরোধ, দারিদ্র‍¨ বিমোচন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবী করছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং একাধিক রাষ্ট্র এগুলোকে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসাবে দেখছে। এই পরস্পর বিরোধী অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। প্রবন্ধটিতে এ সমস্ত বিষয় আলোচনা, পর্যালোচনা ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি বস্ত্তনিষ্ঠ, তথ্যনির্ভর ও বিশ্লেষণধর্মী মূল্যায়ন উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

উইঘুর মুসলিমদের পরিচিতি

ঐতিহাসিকভাবে উইঘুরদের উৎপত্তি ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীর তুর্কি যাযাবর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত। ‘উইঘুর’ শব্দটি প্রাচীন তুর্কি 'Uygur' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ ঐক্যবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ।[2] উইঘুরদের ইতিহাস প্রায় ১,৩০০ বছরেরও বেশী পুরোনো।[3] তারা অষ্টম শতকে উইঘুর খাগানাত (৭৪৪-৮৪০) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়।[4] বর্তমানে উইঘুরদের প্রধান আবাসভূমি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত জিনজিয়াং স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল, যা ঐতিহাসিকভাবে পূর্ব তুর্কিস্তান নামে পরিচিত ছিল।[5] জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ। এর মধ্যে মুসলমান প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৮ শতাংশ।[6] তাদের মাতৃভাষা উইঘুর, যা তুর্কি ভাষাপরিবারের কারলুক (Karluk) শাখাভুক্ত এবং আরবী-ভিত্তিক লিপিতে লিখিত হয়। অধিকাংশ উইঘুর সুন্নী মুসলিম।[7] উইঘুরদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ধর্মীয় পরিচয় রয়েছে, যা তাদেরকে চীনের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী থেকে স্বতন্ত্র করেছে। বর্তমানে বিশ্বে উইঘুর জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ।[8]

উইঘুরদের জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের গভীর সংযোগ রয়েছে।[9] সিআইএ (CIA)-এর The World Factbook অনুযায়ী, চীনের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ মুসলিম।[10] মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিমরা চীনা জনসংখ্যার ১.৮০ শতাংশ।[11] বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকেও এদেরকে উইঘুর না বলে বিভিন্ন দেশে তুর্কি, কাশগরী, খাত্তামি, ইয়ারকান্দি ইত্যাদি নামে ডাকা হ’ত।[12] মূলত, ১৯২১ সালে উজবেকিস্তানের তাসখন্দ সম্মেলনে আধুনিক উইঘুর পরিচয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্মেলনে বলা হয়, ‘তারিম অববাহিকার (বর্তমান জিনজিয়াং) তুর্কীভাষী মুসলিম জনগণের জন্য উইঘুর নামটিই হবে তাদের আধুনিক জাতিগত পরিচয়।[13] এর পূর্বে তারা সাধারণত ‘তুর্কি’ অথবা আঞ্চলিক পরিচয়ে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে ১৯৩০-এর দশকে জিনজিয়াং প্রশাসন ‘উইঘুর’ নামটি সরকারী নথিতে ব্যবহার শুরু করে এবং ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর এটিকে স্বীকৃত জাতিগত পরিচয় হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে।[14]

জিনজিয়াং অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব :

জিনজিয়াং চীনের প্রশাসনিক বিভাগগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এর আয়তন প্রায় ১,৬৪৬,৪০০ বর্গকিলোমিটার, যা চীনের মোট ভূখন্ডের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ।[15] জিনজিয়াং প্রাচীন ঐতিহাসিক সিল্ক রোডের পাশে মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত হওয়ায় চীন ও মধ্য এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম ও জ্ঞানের আদান-প্রদান হয়। এই ভৌগোলিক অবস্থান জিনজিয়াংকে মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত করেছে।[16] বর্তমানেও অঞ্চলটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।[17] অর্থনৈতিক দিক থেকেও জিনজিয়াং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিনজিয়াং বহু জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির আবাসস্থল, যেখানে উইঘুর, কাজাখ, কিরগিজ, হুই ও অন্যান্য জনগোষ্ঠী বসবাস করে। এই জাতিগত ও ধর্মীয় বৈচিত্র‍¨ অঞ্চলটিকে সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে। একই সাথে অঞ্চলটি নিরাপত্তা, জাতিগত সম্পর্ক, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। ফলে জিনজিয়াং আজ কেবল চীনের একটি সীমান্ত অঞ্চল নয়; বরং এটি এশিয়ার ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

উইঘুরদের ইসলাম গ্রহণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া :

ইসলাম গ্রহণের পূর্বে উইঘুরদের মধ্যে টেংরিবাদ, মানিকীয়, বৌদ্ধধর্ম এবং নেস্টোরীয় খ্রিস্টধর্মের প্রচলন ছিল। অজ্ঞাতনামা ফারসী লেখক রচিত Hudūd al-'Ālam (৯৮২-৯৮৩) মধ্য এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ভূগোলভিত্তিক গ্রন্থে উইঘুরদের (তোগুজ-ওঘুজ/উইঘুর) একটি সংগঠিত ও নগরভিত্তিক তুর্কি জনগোষ্ঠী হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।[18] অষ্টম শতকে প্রতিষ্ঠিত উইঘুর খাগানাতে মানিকীয় ধর্ম রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। বৌদ্ধ ও মানিকীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রভাব তাদের সমাজে বিদ্যমান ছিল। এ সময় আরব মুসলিম বণিক, ছূফী সাধক এবং মধ্য এশিয়ার মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে উইঘুরদের যোগাযোগ শুরু হয়। ঐতিহাসিক সিল্ক রোড ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। মুসলিম বণিকদের বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং প্রচারকদের ধর্মীয় কার্যক্রমের ফলে ইসলাম ধীরে ধীরে জিনজিয়াং অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে।

উইঘুরদের ইসলাম গ্রহণের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দশম শতাব্দীতে কারাখানীয় (৮৪০-১২১২) রাষ্ট্রের উত্থান। কারাখানীয় শাসক সুলতান সাতুগ বুগরা খান (৯২০-৯৫৫) ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে এশিয়ায় ইসলামের দ্রুত বিস্তার ঘটে। তাঁর ইসলাম গ্রহণ মধ্য এশিয়ার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। পরবর্তীকালে তাঁর উত্তরসূরীরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ইসলাম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে কাশগর, ইয়ারকান্দ, খোটান এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ইসলাম দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং ধীরে ধীরে উইঘুর জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মে পরিণত হয়।[19] তাদের ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা, আইন, সামাজিক রীতিনীতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ে ইসলামের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়।[20] মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষা বিস্তৃত হয়। উল্লেখ্য, সমগ্র চীনে ৪০ হাযার মসজিদের মধ্যে জিনজিয়াং অঞ্চলেই রয়েছে ২৪,৪০০ মসজিদ।[21] আরবী ও ফারসী ভাষার সাহিত্য এবং ইসলামী জ্ঞানচর্চা তুর্কি ভাষার সঙ্গে মিশে নতুন সাংস্কৃতিক ধারার সৃষ্টি করে। এই সময়ে ইসলামী সভ্যতা ও তুর্কি ঐতিহ্যের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র উইঘুর মুসলিম সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।[22]

উইঘুরদের ইসলাম গ্রহণ কয়েক শতাব্দীব্যাপী ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের ফল। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য, আরব মুসলিম বণিক, ছূফী সাধকদের প্রচার এবং স্থানীয় সমাজের সাংস্কৃতিক অভিযোজন-সবগুলো উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।[23] বর্তমান জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় এই দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফল। ইসলাম কেবল তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসই নয়, বরং ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা, আইন, সামাজিক রীতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও একটি মৌলিক ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে।

মাঞ্চু বা কিং সম্রাট কিয়ানলং-এর নেতৃত্বে (১৭৫৫-১৭৫৯) সমগ্র জিনজিয়াং অঞ্চল কিং বা মাঞ্চু রাজবংশের নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর থেকে অঞ্চলটির উপর চীনা শাসনের প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। ইয়াকূব বেগ ১৮৬৫ সালে কাশগড় দখল করে ধীরে ধীরে Seven Cities নামে পরিচিত একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন, যা ১৮৭৭ সালে কিং সাম্রাজ্যের পুনর্দখলের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়।[24] ১৮৮৪ সালে চীনের কিং রাজবংশের সাথে দীর্ঘ ৮ বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর স্বাধীনতা হারায় পূর্ব তুর্কিস্তান। এর পরই অঞ্চলটির নামকরণ করা হয় জিনজিয়াং।[25] ১৯৯১ সালে কিং সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ১৯৩৩-৩৪ সালে দু’বার স্বাধীনতা লাভ করে উইঘুররা। এ সময় ‘পূর্ব তুর্কিস্তান রিপাবলিক’ নামে একটি স্বাধীন দেশ গঠন করা হয়। ১৯৪৯ সালে কমিউনিষ্ট বিপ্লবের পর বামপন্থী সেনাদের অভিযানে আবারও স্বাধীনতা হারায় উইঘুররা।[26] বিশ শতকের প্রথমার্ধে দু’বার প্রথম পূর্ব তুর্কিস্তান প্রজাতন্ত্র (১৯৩৩-১৯৩৪) এবং দ্বিতীয় পূর্ব তুর্কিস্তান প্রজাতন্ত্র (১৯৪৪-১৯৪৯) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিষ্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর জিনজিয়াং গণপ্রজাতন্ত্র চীনের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯৫৫ সালে অঞ্চলটিকে জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করা হয়।[27] মূলত ঐতিহাসিক জিনজিয়াং ইস্যু প্রায় ২৬৭ (১৭৫৯-২০২৬) বছরের পুরোনো।[28]

জিনজিয়াং সংকটের কারণ :

চীন সরকার ১৯৯০-এর দশক থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমশ কঠোর করতে থাকে। বিশেষ করে ২০১৭ সাল থেকে উইঘুর মুসলিমদের ব্যাপক আটক, নযরদারী, এবং তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হ’লে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং বহু পশ্চিমা দেশ এসব বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। উইঘুরদের সাথে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ইতিহাস ১৯৪৯ সাল থেকে শুরু হলেও বর্তমান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংকটটি মূলত ২০১৭ সাল থেকে রূপ নিয়েছে। সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এই সংকটটি ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, রাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক জটিল বাস্তবতা।

ঐতিহাসিক ও জাতিগত পরিচয়ের প্রশ্ন জিনজিয়াং সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। উইঘুররা ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের দিক থেকে মধ্য এশিয়ার তুর্কি মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। এই স্বতন্ত্র পরিচয় সংরক্ষণের আকাঙ্ক্ষা এবং চীনা রাষ্ট্রের জাতীয় একীকরণ নীতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন বিদ্যমান।[29] নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতি সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০০৯ সালের উরুমচি দাঙ্গা এবং পরবর্তী কয়েকটি সহিংস ঘটনার পর চীন সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদ দমনের নামে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। চীনা সরকারের মতে, এসব ব্যবস্থা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। এই নীতির প্রয়োগ সাধারণ উইঘুর জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকারকে সীমিত করেছে।[30] ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ধর্মীয় শিক্ষা, মসজিদ পরিচালনা, ধর্মীয় পোষাক, ভাষা শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ উইঘুর জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি করেছে। সাংস্কৃতিক সমন্বয় নীতি সামাজিক দূরত্ব ও অবিশ্বাসকে আরও গভীর করেছে।[31] অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। জিনজিয়াংয়ে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ালেও এর সুফল সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমভাবে বণ্টিত হয়নি। পাশাপাশি হান জনগোষ্ঠীর অভিবাসন ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।[32] এছাড়া আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মানবাধিকার প্রশ্ন জিনজিয়াং সংকটকে বৈশ্বিক ইস্যুতে পরিণত করেছে। জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং একাধিক পশ্চিমা রাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উত্থাপন করেছে। কিন্তু চীন এসব অভিযোগকে থোড়াই কেয়ার করছে। বরং জিনজিয়াং সংকট বর্তমানে নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সংযোগস্থলে অবস্থান করছে।[33]

উইঘুর মুসলিম নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন :

জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে উইঘুর মুসলিম, প্রবাসী উইঘুর সম্প্রদায়, সাবেক আটক ব্যক্তি, তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যম থেকে লোমহর্ষক বিবরণ পাওয়া গেছে। চীন সরকারের সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদবিরোধী নীতির আড়ালে তাদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জাতিগত পরিচয়ের উপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। ১৯৪৯ সালে চীনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কিছুদিন পর কমিউনিষ্ট সরকার উইঘুরদের বৃহত্তর চীনের সাথে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব করে। প্রস্তাব না মানায় উইঘুরদের উপর শুরু হয় নির্যাতন।[34] বিশেষ করে ২০১৭ সালের পর থেকে বিপুল সংখ্যক উইঘুর মুসলিমকে বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে, ধর্মীয় অনুশীলনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে।[35] ASPI-এর ২০২০ সালের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে জিনজিয়াংয়ে ৩৮০-এর অধিক সন্দেহভাজন আটককেন্দ্র ও কারাগারের অস্তিত্বের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।[36] মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগণের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৩০ লাখের বেশী মুসলিমকে বন্দীশালায় বন্দী করে রেখেছে চীন সরকার। এসব বন্দীদের উপর চলছে নানা নির্যাতন।[37] হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে কারো সাথে যোগাযোগ করলে তাদেরকে টার্গেট করে সরকার।[38] সার্বক্ষণিক কঠোর নযরদারীর মধ্যে রাখা হয়েছে উইঘুর মুসলিমদের। বিবিসি সংবাদদাতা জিনজিয়াং এলাকায় গিয়ে দেখেছেন যে, সরকারী কর্মকর্তারা উইঘুর মুসলিদের মোবাইল পরীক্ষা করে দেখছে।[39]

উইঘুর মুসলিমদের ঝুলিয়ে পেটানো হয়; তার দিয়ে চাবুক তৈরি করে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়; প্লাইয়ার দিয়ে হাত পায়ের নখ তুলে ফেলা হয়। রামাযান মাসে জোর করে মুসলিমদের খাওয়ানো হয় এবং দিনের বেলায় রেস্টুরেন্ট খোলা রাখতে বাধ্য করা হয়। জোর করে দাড়ি শেভ করে দেওয়া হয়। হিজাব পরায় জারী করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ওয়াল্ড উইগুর কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ডলকুন ঈশা বলেন, ‘চীন যা করছে তা আমাদের জন্য অনেক কষ্টদায়ক, অপমানজনক’।[40] এ সমস্ত নির্যাতনকে মানবতার জন্য লজ্জাজনক বলে আখ্যা দিয়েছে তুরস্ক। ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী তুরস্ক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের জিনজিয়াং নীতির সমালোচনা করে এবং উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণকে মানবতার জন্য এক বড় লজ্জা বলে অবিহিত করে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Hami Aksoy দাবী করেন যে, এক মিলিয়নের বেশী উইঘুরকে নির্বিচারে আটক রাখা হয়েছে এবং তাদের উপর রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তুরস্ক চীনের কাছে এসব আটককেন্দ্র বন্ধ করার আবেদন জানায় এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিষয়টি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানায়।[41]

স্বাস্থ্য সেবার নামে গিনিপিগ বানিয়ে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলা হয়। অজ্ঞাত ড্রাগ ও ইনজেকশন দিয়ে মানসিকভাবে রোগগ্রস্ত করে দেওয়া হয়। মসজিদের গম্বুজ, মিনার ধ্বংস করা হচ্ছে। সন্তান জন্মদান আইন ভঙ্গের অযুহাতে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। উইঘুর শিশুদের ‘মুহাম্মাদ’ বা ‘মদীনা’ নাম রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।[42] কেরোজিনসা মামাত্তোতি ক্যাম্প থেকে ফিরে এসে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তার নিজের বোন পাতেম (৩৪)-এর সাথে এমন আচরণ করা হয়েছে।[43] দুইয়ের অধিক সন্তান থাকলেই দিতে হয় মোটা অংকের অর্থ; করতে হয় কারাভোগ। উইঘুর মুসলিমদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য জোর পূর্বক গর্ভপাত ও বন্ধ্যাকরণ করা হয়।[44] পিতা-মাতাকে বন্দিশিবিরে আটক রেখে শিশুদের রাষ্ট্র পরিচালিত ইয়াতীমখানায় রেখে পরিবার বিচ্ছেদের মত ঘটনা ঘটানো হয়। হিজাব পরা কিংবা দাড়ি রাখার কারণেও বন্দিশিবিরে আটক রাখা হয়। বন্দিশিবিরে চিনের মান্ডারিন ভাষা শিখতে বাধ্য করা হয়।[45] ইলেকট্রিক শক দিয়ে ভ্রূণ হত্যা করা হয়। অতিরিক্ত সন্তানের খোঁজে বাসাবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ভয়ে শিশুদের লুকিয়ে রাখে আতঙ্কিত মায়েরা। স্টেরিলাইজেশন, কারাগারে আটক রাখা, স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে শেষ করা হচ্ছে। হান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে উইঘুরদের সংখ্যা লঘু করা হচ্ছে। ১৯৪৯ সালের পূর্বে জিনজিয়াংয়ে ৯৫ শতাংশ উইঘুর বসবাস করত। ১৯৮০ সালে তা ৫৫ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমানে নিজ ভূখন্ডে উইঘুরদের হার প্রায় ৪৬ শতাংশ।[46] উইঘুরের হোতান ও কাশগারে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জন্মহার কমেছে ৬০ শতাংশ। কিন্তু চীনের অন্যান্য জায়গায় এ হার কমেছে মাত্র ৪ শতাংশ। এটি জনমিতি গণহত্যা।[47]

উইঘুরদের কবিতা লেখা বা সাহিত্য চর্চার অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। চীনে কারাবন্দী লেখকের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।[48] জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত বৈঠকে জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলমানদের উপর চীন সরকারের নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ৩৯টি দেশ।[49] সেখানে নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমতি মিলছে না। যুবকদের বৌদ্ধ মেয়েদের বিয়ে করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে ‘মেকিং ফ্যামিলি’ নামের একটি উদ্যোগ চালু করে চীন। এর মাধ্যমে উইঘুর পরিবারকে প্রতি দুই মাসে কমপক্ষে পাঁচ দিনের জন্য তাদের ঘরে কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্যদের হোস্ট করতে এবং চীনা হান পুরুষদের সাথে উইঘুর মুসলিম পরিবারের নারীদেরকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয়।[50]

জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ লাখ উইঘুরকে চীনের কথিত ‘সন্ত্রাসবাদ’ কেন্দ্রগুলোতে আটক রাখা হয়েছে। ২০ লাখ মানুষকে ‘রাজনৈতিক ও রাজনৈতিক পুনর্বিবেচনার শিবিরে’ অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়েছে।[51] অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে ২০০৯ সালের দাঙ্গার পর শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশের দায়ে চীন সরকার গোপনে মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের বিচার করে। ধর্ম নিয়ন্ত্রণ ও সংখ্যালঘুদের ভাষা শিক্ষা নিষিদ্ধ করে চীন সরকার। কমিউনিষ্ট পার্টির প্রশংসার কথা বলা এবং তাদের সঠিক আচরণ পরিচালনার নিয়মগুলো কঠোরভাবে মনে রাখতে বাধ্য করা হয়। শিক্ষা শিবিরে পাঠানোর নামে লাখো বিশিষ্ট উইঘুর ব্যক্তিত্বকে আটক বা গুম করা হয়েছে। এদের মধ্যে ইসলামী শিক্ষাবিদ মোহাম্মাদ ছালিহ হাজিম, অর্থনীতিবিদ ইলহাস তোকতি, নৃতিাত্তিবক রাহাইল দাউদ, পপশিল্পী আব্দুর রহীম হায়াত, ফুটবলার এরফান হিজামি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।[52] বন্দীশিবিরে আটক ব্যক্তিদের উপর মাসিক ও শারীরিক নির্যাতন, জোর পূর্বক শ্রম এবং শূকরের গোশত খেতে বাধ্য করার মত ঘটনা ঘটছে।[53]

জিনজিয়াংয়ে বিশ্বের অন্যতম বিস্তৃত ডিজিটাল নযরদারী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, মুখমন্ডল শনাক্তকরণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ, ডিএনএ ও আইরিস স্ক্যান, মোবাইল ফোন পর্যবেক্ষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ইত্যাদি।[54] আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি, রয়টার্স, দি নিউইয়র্ক টাইমস, দি গার্ডিয়ান এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র, সরকারী নথি, ফাঁস হওয়া দলীল এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আটককেন্দ্র, নযরদারী ব্যবস্থা এবং শ্রম স্থানান্তর কর্মসূচী নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।[55] মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা, মিডিয়া নেটওয়ার্ক, মিডিলিস্ট আই এবং আরব নিউজ-এর প্রতিবেদনে উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, মসজিদ ও ইসলামী শিক্ষা, রামাযান ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুশীলনের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিবেদনে মুসলিম বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের নীরবতা বা সীমিত প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে। উইঘুর সংগঠন World Uzghur Congress-এর মতে, জিনজিয়াংয়ে চীনা সরকার উইঘুরদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, ভাষা, সংস্কৃতি ও মৌলিক মানবাধিকার পদ্ধতিগতভাবে দমন করছে। সংগঠনটির দাবী, ব্যাপক নজরদারি, নির্বিচার আটক, জোরপূর্বক শ্রম এবং সাংস্কৃতিক আত্মীকরণ নীতির মাধ্যমে উইঘুর পরিচয়কে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। WUC আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি স্বাধীন তদন্ত, জবাবদিহি এবং মানবাধিকার সুরক্ষার আহবান জানায়।[56] উইঘুর সংগঠন UHRP (Human Rights Project)-এর মতে, জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংগঠনটি তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, উইঘুরদের বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার, ধর্মীয় অনুশীলনে বাধা, জোরপূর্বক শ্রম, পরিবার বিচ্ছিন্নকরণ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের মতো কর্মকান্ডে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদন্ডের পরিপন্থী।[57]

বর্তমান অবস্থা :

উইঘুর মুসলিমদের উপর কঠোর নযরদারী, দীর্ঘমেয়াদি কারাদন্ড, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমস্থানান্তর কর্মসূচী নিয়ে এখনও গভীর উদ্বেগ রয়েছে।[58] সংখ্যালঘুদের উপর পদ্ধতিগত ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সাংস্কৃতিক গণহত্যা ও জোরপূর্বক আত্মীকরণের নীতি হিসাবে আখ্যায়িত করে আসছে। Human Rights Watch-এর গবেষণা অনুযায়ী, চীনা কর্তৃপক্ষ জিনজিয়াং অঞ্চলে প্রায় ৬৩০টি উইঘুর গ্রামের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যপূর্ণ নাম পরিবর্তন করেছে। এতে বলা হয়েছে, এসব নাম পরিবর্তন উইঘুরদের ইতিহাস ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা মুছে ফেলার বৃহত্তর সরকারী প্রচেষ্টার অংশ বলে প্রতীয়মান হয়।[59] নির্দিষ্ট পোষাক পরা, ধর্মীয় নাম ও ছিয়াম রাখার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা এখনো বিদ্যমান। শত শত মসজিদ ধ্বংস বা ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরো জিনজিয়াং অঞ্চলকে একটি সর্বাত্মক পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। মুখমন্ডল শনাক্তকরণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ব্যাপক নযরদারী অব্যাহত রয়েছে। উইঘুরদের ‘শ্রম স্থানান্তর’ কর্মসূচীর নামে বিভিন্ন কারখানায় জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা হচ্ছে।[60]

চীনের বক্তব্য :

চীন সরকার বরাবরই সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারা বলছে, জিনজিয়াংয়ে গৃহীত পদক্ষেপের উদ্দেশ্য সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রতিরোধ, দারিদ্র‍¨ হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।[61] অভিযোগকে চীন ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে বর্ণনা করে। চীন জাতিসংঘে বারবার বলেছে যে, জিনজিয়াংয়ে বর্তমানে সামাজিক স্থিতিশিলতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ হয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা ও অর্থনেতিক সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।[62]

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া :

উইঘুর মুসলিম ইস্যুতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া একমুখী নয়; বরং মানবাধিকার, জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আইন, ভূরাজনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার অবস্থান ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ চীনের নীতির সমালোচনা করে নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ জাতিসংঘে চীনের নীতির প্রতি সমর্থন বা নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই বিভক্ত অবস্থানের পেছনে মানবাধিকার মূল্যবোধের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক ক্ষমতার রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।[63] জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং পশ্চিমা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয় যে, জিনজিয়াংয়ে ইচ্ছামতো ও বৈষম্যমূলক আটক, নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম, ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ এবং পরিবার বিচ্ছিন্নকরণের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এসব কর্মকান্ডের কিছু আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।[64]

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াস’ এবং ‘এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ উভয়ই অভিযোগ করেছে যে, জিনজিয়াংয়ে ব্যাপক গণআটক, জিজ্ঞাসাবাদ, ধর্মীয় অনুশীলনে বিধিনিষেধ, ডিজিটাল নযরদারী এবং জোরপূর্বক শ্রমের নীতি অনুসৃত হয়েছে। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ ব্যক্তিস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।[65] যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ৪৭টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে উইঘুর নির্যাতনে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।[66] কানাডা ও নেদারল্যান্ডের পার্লামেন্টে উইঘুর মুসলিমদের উপর চীনের পদক্ষেপকে গণহত্যা হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাদের মতে, কোন জাতিকে তার বিশ্বাসের কারণে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।[67]

উইঘুর ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের অবস্থান :

জিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলিম ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের অবস্থান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে বিভক্ত। তাদের প্রতিক্রিয়া বৈচিত্র‍¨ময় এবং অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী। কয়েকটি মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্র প্রকাশ্যে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেনি। চীনের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কেŠশলগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর আওতায় চীনা বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ঋণনির্ভর সহযোগিতার কারণে অনেক রাষ্ট্র সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে।[68]

২০১৯ সালে জাতিসংঘে একটি যৌথ চিঠিতে সঊদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, মিশরসহ বেশ কিছু মুসলিম অধ্যুষিত দেশ চীনের জিনজিয়াং নীতির প্রতি সমর্থন জানায় এবং সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ দমনে চীনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে।[69] পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর ঘোষণাপত্রে চীনের মুসলিম নাগরিকদের জন্য প্রদত্ত সেবার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করা হয়, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার মুখে পড়ে। মুসলিম বিশ্বের এই অবস্থানের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা এবং পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করা হয়।[70] মূলত উইঘুর মুসলিম ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া ধর্মীয় সংহতির চেয়ে স্বার্থবাদী কূটনীতি দ্বারা অধিক প্রভাবিত। ফলে এ ইস্যুতে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের পরিবর্তে ভিন্নমুখী ও স্বার্থনির্ভর নীতির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উইঘুর সংকটের টেকসই সমাধানের নীতিগত সুপারিশ :

উইঘুর সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য চীন সরকার, উইঘুর জনগোষ্ঠী, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি, মানবাধিকার-সংক্রান্ত অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বৈষম্য হ্রাস, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সংলাপ, কারিগরি সহযোগিতা এবং আস্থা-ভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা যরূরী। দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য নিরাপত্তা, উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার-এই চারটি বিষয়ের মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সাথে উভয় পক্ষকে সহনশীল ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদন্ডের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যালোচনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষণা ও তথ্যপ্রাপ্তির পর্যাপ্ত সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। ডিজিটাল নজরদারির জন্য আন্তর্জাতিক নৈতিক কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। জাতিসংঘের চুক্তিভিত্তিক সংস্থাগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নে রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGS)-এর সঙ্গে মানবাধিকার নীতির সমন্বয় করতে হবে এবং মুসলিম বিশবকে উইঘুর মুসলিমদের ন্যায়সঙ্গত দাবীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করতে হবে। মূলত সমন্বিত উদ্যোগই উইঘুর সংকটের একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের ভিত্তি হ’তে পারে।

উপসংহার

উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতন ও মানবাধিকার সংকট সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম জটিল ও বিতর্কিত আন্তর্জাতিক ইস্যু। এর শিকড় কেবল সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জিনজিয়াং অঞ্চলের দীর্ঘ ইতিহাস, উইঘুরদের স্বতন্ত্র জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়, ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তানীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। একদিকে চীন সরকার সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রতিরোধের যুক্তিতে গৃহীত পদক্ষেপকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে দাবী করে। অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, গণমাধ্যম এবং বহু রাষ্ট্র নির্বিচার আটক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রম, ব্যাপক নযরদারী ও পারিবারিক বিচ্ছিন্নতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়াও অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও কূটনৈতিক কারণে বিভক্ত। ফলে জিনজিয়াং সংকট আজ কেবল একটি আঞ্চলিক বা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং বৈশ্বিক কূটনীতির সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। অতএব এই সংকটের টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য মানবাধিকার সুরক্ষা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা, সন্ত্রাসবাদ দমনে আন্তর্জাতিক আইনের নীতি অনুসরণ, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং গঠনমূলক সংলাপের পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

ড. মোহাম্মাদ আজিবার রহমান

সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।


[1]. Muhammad al-Tahir ibn Ashur, The objectives of Islamic Law (Maqasid al-shariah al Islamiyyah), Translated by El-Mesawi (London: The International Institute of Islamic thought, 2006), pp. 171-180.

[2].James A. Millward, Eurasian Crossroads: A History of Xinjiang (New York: Columbia University Press, 2007), p. 44.

[3]. Michael C. Brose, “The Medieval Uyghurs of the 8th through 14th Centuries,” in Oxford Research Encyclopedia of Asian History (Oxford University Press, 2017), pp. 1–3.

[4].Gardner Bovingdon, The Uyghurs: Strangers in their Own Land (New York: Columbia University Press, 2010), pp. 1-6.

[5]. Johan Elverskog, Islam and the Silk Road: A History of the Muslims in Central Eurasia (Philadelphia: University of Pennsylvania Press, 2010), pp. 95–103.

[6]. প্রথম আলো ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৮।

[7]. James A. Millward, Op. cit., pp. 14–18.

[8]. Roberts, Sean R. The War on the Uyghurs: China's Internal Campaign against a Muslim Minority (Princeton: Princeton University Press, 2020), pp. 15–18।

[9]. Gardner Bovingdon,Op. cit., pp. 22–34.

[10]. Central Intelligence Agency, The World Factbook: China (Washington, DC: Central Intelligence Agency, 2021), "People and Society – Religions" section.

[11]. U.S. Department of State, 2023 Report on International Religious Freedom: China (Washington, DC: U.S. Department of State, 2024), Section I: Religious Demography

[12]. Benson, Linda. The Ili Rebellion: The Moslem Challenge to Chinese Authority in Xinjiang, 1944–1949 (Armonk, NY: M. E. Sharpe, 1990) pp. 10–12.

[13]. Ibid pp. 10–12.

[14]. Ibid pp. 10–12.

[15]. Stanley W. Toops, The Geography of Xinjiang (London: Routledge, 2004), pp. 1–2.

[16]. S. Frederick Starr, ed., Xinjiang: China's Muslim Borderland (Armonk, NY: M. E. Sharpe, 2004), 5–12; Michael Dillon, Xinjiang and the Expansion of Chinese Communist Power: Kashgar in the Early Twentieth Century (London: Routledge, 2014), pp. 1–5.

[17]. Peter Frankopan, The Silk Roads: A New History of the World (London: Bloomsbury Publishing, 2015), 36–44; Michael Clarke, Xinjiang and China's Rise in Central Asia: A History (London: Routledge, 2011), 148–160.

[18]. Vladimir Minorsky (trans.), Hudūd al-'Ālam: The Regions of the World, A Persian Geography, 372 A.H.–982 A.D., 2nd ed. (London: Luzac, 1970), pp. 95–100.

[19]. James A. Millward, Eurasian Crossroads: A History of Xinjiang (New York: Columbia University Press, 2007), pp. 58–66.

[20]. Gardner Bovingdon, Op. cit., pp. 22–31.

[21]. The State Council Information Office of the People's Republic of China, Freedom of Religious Belief in Xinjiang (Beijing: State Council Information Office, 2016), sec. III, “Satisfying Believers' Normal Religious Requirements.”

[22]. Rian Thum, The Sacred Routes of Uyghur History (Cambridge, MA: Harvard University Press, 2014), pp. 21–35.

[23]. Gardner Bovingdon, Op. cit., pp. 18–28.

[24].James A. Millward, Op. cit., pp. 112–120.

[25]. কালবেলা, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩।

[26]. কালবেলা, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩।

[27]. Gardner Bovingdon, Op. cit., pp. 54–71.

[28]. Laura J. Newby, The Empire and the Khanate: A Political History of King Relations with Khaqand C. 1760-1860 (Leiden: Brill, 2005), pp. 19-28,

[29]. Ibid, pp. 23–58.

[30]. Sean R. Roberts, The War on the Uyghurs: China's Internal Campaign against a Muslim Minority (Princeton: Princeton University Press, 2020), pp. 41–69.

[31]. Michael Clarke, Xinjiang and China's Rise in Central Asia: A History (London: Routledge, 2011), pp. 170–178.

[32]. S. Frederick Starr, ed., Xinjiang: China's Muslim Borderland (Armonk, NY: M. E. Sharpe, 2004), pp. 319–338.

[33]. OHCHR, Assessment of Human Rights Concerns in the Xinjiang Uyghur Autonomous Region, pp. 1–4.

[34]. ঢাকা টাইমস, ৭ অক্টোবর, ২০২০।

[35]. Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights, Assessment of Human Rights Concerns in the Xinjiang Uyghur Autonomous Region, People's Republic of China (Geneva: United Nations, 2022), pp. 5–7, 16–23; Amnesty International, Like We Were Enemies in a War: China's Mass Internment, Torture and Persecution of Muslims in Xinjiang (London: Amnesty International, 2021), pp. 17–28, 44–59.

[36]. Australian Strategic Policy Institute, Uyghurs for sale: Re-Education, Froced Labour and Surveillance Beyond Xinjiang Canberra: ASPI 2020.

[37]. ঢাকা টাইমস, ৭ অক্টোবর, ২০২০।

[38]. বিবিসি, ১ অক্টোবর, ২০১৮।

[39]. John Sudworth and BBC Visual Journalism Team, “Xinjiang Police Files: Inside a Chinese Internment Camp,” BBC News, May 24, 2022.

[40]. ইত্তেফাক, ২৯ মে, ২০১৯।

[41].euronews.com, published February 10, 2019

[42]. ঢাকা টাইমস, ৭ অক্টোবর, ২০২০।

[43]. দি ডেইলি স্টার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০।

[44]. যমুনা নিউজ, ২৯ জুন, ২০২০।

[45]. বিবিসি, ১ অক্টোবর, ২০১৮।

[46]. কালবেলা, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩।

[47]. সময় নিউজ, ৩০ জুন ২০২০।

[48]. ইত্তেফাক, ৩ মে, ২০২৪।

[49]. ঢাকা টাইমস, ৭ অক্টোবর, ২০২০।

[50]. কালবেলা, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩।

[51]. প্রথম আলো, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৮।

[52]. প্রথম আলো, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৮।

[53]. আল জাজিরা, ২ জুলাই ২০২৬।

[54]. Darren Byler, In the Camps: China's High-Tech Penal Colony (New York: Columbia Global Reports, 2021), pp. 52–66.

[55]. Human Rights Watch, China's Algorithms of Repression: Reverse Engineering a Xinjiang Police Mass Surveillance App (New York: Human Rights Watch, 2019), pp. 16–27.

[56]. World Uyghur Congress, About the Uyghurs, accessed July 13, 2026.

[57]. Uyghur Human Rights Project, Annual Report, Washington, DC: UHRP, 2024

[58].OHCHR Assessment of Human Rights Concerns in the Xinjiang Uyghur Autonomous Region, People's Republic of China. Geneva: Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights, 2022, pp. 1–4.

[59]. Human Rights Watch, “China: Hundreds of Uyghur Village Names Change,” June 18, 2024, https://www.hrw.org/news/2024/06/18/china-hundreds-uyghur-village-names-chang

[60]. Human Rights Watch, “Eradicating Ideological Viruses”: China’s Campaign of Repression Against Xinjiang’s Muslims (New York: Human Rights Watch, 2018), 26–33.

[61]. The State Council Information Office of the People's Republic of China, The Fight Against Terrorism and Extremism and Human Rights Protection in Xinjiang (Beijing: State Council Information Office, 2019), pp. 1–6.

[62].The Fight against Terrorism and Extremism and Human Rights Protection in Xinjiang (Beijing: Foreign Languages Press, March 2019), pp. 1–5.

[63]. Sean R. Roberts, The War on the Uyghurs: China's Internal Campaign against a Muslim Minority (Princeton: Princeton University Press, 2020), pp. 214–232.

[64]. Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights, Assessment of Human Rights Concerns in the Xinjiang Uyghur Autonomous Region, People's Republic of China (Geneva: OHCHR, 2022), pp. 1–4.

[65]. Amnesty International, Like We Were Enemies in a War: China's Mass Internment, Torture and Persecution of Muslims in Xinjiang (London: Amnesty International, 2021), pp. 9–21, 97–105.

[66]. সময় নিউজ, ১৫ জুন, ২০২২।

[67]. বিবিসি, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১।

[68]. James Millward, “What It’s Like to Live in a Surveillance State,” The New York Review of Books, no. 3, 2018), pp. 65; Sean R. Roberts, The War on the Uyghurs: China's Internal Campaign against a Muslim Minority (Princeton: Princeton University Press, 2020), pp. 214–232.

[69]. United Nations Human Rights Council, “Letter Dated 12 July 2019 from Ambassadors to the President of the Human Rights Council,” 2019.

[70]. Organisation of Islamic Cooperation, Final Communiqué of the 46th Session of the Council of Foreign Ministers (Abu Dhabi: 2019), paras, 183–184; Michael Clarke, Xinjiang and China's Rise in Central Asia: A History (London: Routledge, 2011), pp. 170–178.






আলেমে দ্বীনের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য - হাফেয আব্দুল মতীন - পিএইচ.ডি গবেষক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়া
ছিয়ামের ফাযায়েল ও মাসায়েল - আত-তাহরীক ডেস্ক
ওয়াহ্হাবী আন্দোলন : উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ এবং মুসলিম বিশ্বে এর প্রভাব (২য় কিস্তি) - ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব
ছিয়ামের ফাযায়েল ও মাসায়েল
যে আমলে সম্মান বাড়ে (পূর্ব প্রকাশিতের পর) - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
সুন্নাত আঁকড়ে ধরার ফযীলত (শেষ কিস্তি) - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত পরিচিতি (৪র্থ কিস্তি) - ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব
ইলম অনুযায়ী আমল না করার পরিণাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
শবেবরাত - আত-তাহরীক ডেস্ক
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের উপায় - শামসুল আলম
তাক্বদীরের ফায়ছালায় সন্তুষ্ট থাকার স্বরূপ - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
আহলেহাদীছ জামা‘আতের বিরুদ্ধে কতিপয় মিথ্যা অপবাদ পর্যালোচনা (শেষ কিস্তি) - তানযীলুর রহমান - শিক্ষক, বাউটিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রাজশাহী
আরও
আরও
.