ভূমিকা :
ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে জন্ম নেওয়া এক সুদূরপ্রসারী ও গুপ্ত চক্রান্তের নাম শী‘আ। তাদেরকে ‘ছদ্মবেশী ইহূদী’ বললেও অত্যুক্তি হবে না। এরা যে ইহূদীদের ক্রীড়নক হিসাবেই আত্মপ্রকাশ করেছে এবং তারা যে ইহূদীবাদেরই দ্বিতীয় সংস্করণ- এটি দালীলিক সূত্র ও ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত এক নিরেট বাস্তবতা। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, বৈষয়িক কর্মকান্ড এবং সুন্নী মুসলিম ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলোর প্রতি তাদের রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে এই বাস্তবতাই বারবার স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ইমাম ইবনু আবিল ইয আল-হানাফী (৭৩১-৭৯২ হি./১৩৩১-১৩৯০ খ্রি.) বলেন, রাফেযী শী‘আদের গোড়াপত্তন হয়েছিল আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা নামক একজন যিন্দীক মুনাফিকের মাধ্যমে, যার উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্মকে বাতিল করা এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সমালোচনা ও তাঁকে অপমান করা।[1] যুগে যুগে ইসলামী খেলাফত ও খলীফাদের বিরুদ্ধে তাদের ব্যাপক ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার প্রমাণ ইতিহাসের পরতে পরতে চিত্রিত হয়েছে। মুসলিমবিশ্বাস যে ভয়াবহ ফিৎনা ও অপতৎপরতার চাষাবাদ তারা করেছে, তা অকল্পনীয়। তারা মুসলিমদের আক্বীদা ও বিশ্বাসকে ভ্রষ্টতার শেষ চূড়ায় নিয়ে গেছে। যেমনভাবে তারা মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হেনেছে। তেমনভাবে অপরাজনীতি ও অপসংস্কৃতির বেষ্টনে মুসলিমদের আবদ্ধ করে রেখেছে। মুসলিম বিশ্বে খেলাফতের পতাকাতলে যখন উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ ছিল, তখনও তারা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অপতৎপরতার এতটাই শীর্ষে অধিষ্ঠিত হয়েছিল যে, সমকালীন ওলামায়ে কেরাম ও মুসলিম খলীফাগণ তাদের মুরতাদ বলে আখ্যায়িত করতেন। মুসলিম উম্মাহকে তাদের আক্বীদাগত বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষাক্ত ছোবল থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে সালাফে ছালিহীন ও মুসলিম শাসকবর্গ আমৃত্যু নিরলস সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছিলেন। সালাফদের আদর্শিক পথচলার সেই ধারাবাহিকতায় আমরাও মনে করি- বর্তমান বৈশ্বিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় শী‘আ মতাদর্শের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করা সময়ের এক অপরিহার্য দাবী। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধের অবতারণা।
যুগে যুগে শী‘আদের অপতৎপরতা :
যুগে যুগে শী‘আদের অপতৎপরতার ইতিহাস অত্যন্ত সুদীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। তাদের চক্রান্তের জাল এতোটাই বিস্তৃত যে, ক্ষুদ্র কোন পরিসরে তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে আলোচনা করা সহজসাধ্য নয়। তবে আলোচনার সুবিধার্থে আমরা তাদের এসব অপতৎপরতাকে প্রধানত দু’টি ভাগে বিভক্ত করে পর্যালোচনা করব ইনশাআল্লাহ। যথা- ১. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অপতৎপরতা। ২. সামাজিক ও রাজনৈতিক অপতৎপরতা।
১. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অপতৎপরতা
প্রথমত, তারা মুসলিম উম্মাহকে তাদের বিশুদ্ধ ধর্মীয় আকবীদাহ-বিশ্বাস ও ইসলামী চেতনা থেকে বিচ্যুত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কেননা যেকোন জাতির আমল বা কর্মগত বিচ্যুতির জন্য সর্বপ্রথম তার আকবীদা বা বিশ্বাসগত বিভ্রান্তি অপরিহার্য। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মুকাবিলায় তাদের জনবল ও রাজনৈতিক শক্তি ছিল চরম শূন্যতায়। তৎকালীন সময়ে সুন্নী মুসলিমরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং শাসনক্ষমতা বা খিলাফতের একচ্ছত্র অধিকারী। যার ফলশ্রুতিতে, প্রাথমিকভাবে তারা অত্যন্ত গোপনে ও সুকৌশলে সাধারণ মানুষের মাঝে তাদের ভ্রান্ত দাওয়াত ও মতাদর্শ প্রচার করতে থাকে। অতঃপর কালের পরিক্রমায়, দীর্ঘ ষড়যন্ত্র ও সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে তারা একসময় বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হ’তে সক্ষম হয়। তাদের এই অপতৎপরতার প্রধান মাধ্যমগুলো ছিল নিম্নরূপ-
১. ইহূদী ও মজূসীদের মুসলিম ছদ্মবেশ ধারণ :
রাফেযী শী‘আদের যেসব বুনিয়াদী আক্বীদার ওপর তাদের সামগ্রিক ধর্মতত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত, তার মূল প্রবর্তক ছিল ইয়েমেনের অধিবাসী আব্দুল্লাহ ইবনু সাবা নামক এক ধূর্ত ইহূদী। খলীফা ওছমান (রাঃ)-এর শাসনামলে সে বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে। অতঃপর অন্তরে লালিত ঘৃণ্য আক্বীদা ও কুমতলব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং ইসলামের ভিত্তিমূল নাড়িয়ে দেওয়ার মানসে সে ইসলামী খিলাফতের বিভিন্ন নগরীতে ভ্রমণ শুরু করে। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আবূ জা‘ফর মুহাম্মাদ ইবনু জারীর আত-তাবারী (২২৪-৩১০ হি./৮৩৯-৯২৩ খ্রি.) তার সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে বলেন, كَانَ عَبْد اللهِ بن سبأ يهوديا من أهل صنعاء، أمه سوداء، فأسلم زمان عُثْمَان، ثُمَّ تنقل فِي بلدان الْمُسْلِمِينَ، يحاول ضلالتهم، فبدأ بالحجاز، ثُمَّ الْبَصْرَةِ، ثُمَّ الْكُوفَة، ثُمَّ الشام، فلم يقدر عَلَى مَا يريد عِنْدَ أحد من أهل الشام، فأخرجوه حَتَّى أتى مصر، ‘আব্দুললাহ ইবনু সাবা ছিল সানা (ইয়ামান) এর অধিবাসী একজন ইহূদী, তার মা ছিল কৃষ্ণাঙ্গ। ওছমান (রাঃ)-এর খিলাফতকালে সে বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে। অতঃপর সে মুসলমানদের পথভ্রষ্ট করার প্রয়াসে বিভিন্ন মুসলিম ভূখন্ডে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে। অতঃপর হিজায থেকে শুরু করে বছরা, কূফা ও শামে যায়। কিন্তু শামের অধিবাসীদের কারও কাছে সে তার কাঙ্ক্ষিত চক্রান্তে সফল হ’তে পারেনি। শামের লোকেরা তাকে সেখান থেকে বের করে দেয়। অবশেষে সে মিসরে এসে পৌঁছে’।[2]
পরবর্তীতে আমীরুল মুমিনীন আলী (রাঃ) তাঁর খিলাফতকালে ইবনু সাবার এই চরম সীমালঙ্ঘন ও কুফরী আক্বীদা (আলীকে ইলাহ বা প্রভু দাবী করা) সম্পর্কে জানতে পারলে, তিনি শী‘আদের কাউকে কাউকে নির্বাসিত করেন এবং কতককে আগুনে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দেন। যেমন ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হি./১২৬৩-১৩২৮ খ্রি.) বলেন, ‘আলী বিন আবী তালিব (রাঃ) তাদের আগুনে পুড়িয়েছিলেন এবং দেশ থেকে নির্বাসিত করেছিলেন। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনু সাবাকে নির্বাসিত করেছিলেন। আর আবুবকর আল-কারাওওয়াসকে তিনি ‘জাবিয়াহ’-তে নির্বাসিত করেছিলেন। আর তাদের মধ্য থেকে একদল লোককে তিনি আগুনে পুড়িয়েছিলেন, যারা তাঁর কাছে এসে বলেছিল, ‘আপনিই আমাদের রব’! তিনি বললেন, ‘আমি কে’? তারা বলল, أَنْتَ رَبُّنَا ‘আপনি আমাদের প্রতিপালক’। তখন তিনি আগুন জ্বালানোর আদেশ দিলেন। আগুন প্রজ্বলিত করা হ’ল এবং তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হ’ল। তাদের সম্বন্ধেই আলী (রাঃ) বলেছিলেন,
لَمَّا رَأَيْتُ الْأَمْرَ أَمْرًا مُنْكَرًا + أَجَّجْتُ نَارِي، وَدَعَوْتُ قَنْبَرَا
‘যখন আমি বিষয়টিকে চূড়ান্ত এক গর্হিত কাজ হিসাবে দেখলাম... তখন আমি আগুন প্রজ্বলিত করলাম এবং (আমার দাস) ক্বানবারকে ডেকে পাঠালাম’।[3] কিন্তু তারপরেও তার কিছু অনুসারী বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায়, তাদের গুপ্ত দাওয়াত ধীরগতিতে এগিয়েই চলছিল। এভাবেই তারা উমাইয়া শাসনামলেও আকবীদাগত বিভ্রান্তি ছড়ানোর এজেন্ডা নিয়ে এগোতে থাকে এবং পাশাপাশি উমাইয়া শাসনের বিরুদ্ধে আববাসীয়দেরও সূক্ষ্ম ইন্ধন জোগাতে থাকে।
এরপর হিজরী ২য় শতাব্দীতে আববাসীয় খিলাফতের সময় সিরিয়ার ‘হিমছ’ শহরের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত সালামিয়া অঞ্চলে আবির্ভাব হয় আরেক ছদ্মবেশী মুসলিমের। তার নাম ছিল মাইমূন আল-কাদ্দাহ। তার পিতা ‘দাইসান’ ছিল একজন ইহূদী (মতান্তরে মজুসী)। মাইমূন বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে নিজেকে শী‘আ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। এই সালামিয়া অঞ্চলই ছিল তাদের গুপ্ত দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনার মূল কেন্দ্র। একই সময়ে দক্ষিণ ইরাকে ‘মাহরূয়াহ’ নামক এক শী‘আ দাঈর আত্মপ্রকাশ ঘটে। সে মূলত পারস্যের অধিবাসী ছিল। নিজের অন্তরে অগ্নিপূজার (মজুসী) আক্বীদাহ-বিশ্বাস গোপন রেখে সে মুসলিম বেশভূষা ধারণ করেছিল। অনুরূপভাবে পরিচয় গোপনকারী আরেক ধূর্ত ব্যক্তি ছিল হুসাইন আল-আহওয়াযী। যে ইসমাঈলিয়া সম্প্রদায়ের কথিত গোপন ইমামের দূত হিসাবে কাজ করত। তৎকালীন সময়ে আরেক ইহূদী নিজের পোষাক বদলে শী‘আ মুসলিমের ছদ্মবেশ ধারণ করে, যার নাম ছিল হামদান আল-কারমাত্ব (যার অনুসারীদেরকে ‘কারামিতা’ বলা হয়)। তার বংশীয় শেকড় ছিল মূলত নাজরানের ইহূদীদের সাথে সম্পৃক্ত।[4] শুধু তাই নয়, ২৯৭ হিজরীতে (৯০৯ খ্রি.) উত্তর আফ্রিকার তিউনিসিয়ায় শী‘আদের যে শক্তিশালী ‘উবাইদিইয়াহ’ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ৩৫৮ হিজরীতে (৯৬৯ খ্রি.) মিসর বিজয়ের পর যা ‘ফাতেমী সাম্রাজ্য’ নামে আত্মপ্রকাশ করে, এই সাম্রাজ্যের প্রধান বা স্বঘোষিত ইমাম মাহদী দাবীদার ব্যক্তিটি মূলত সালামিয়ার এক কর্মকার (হাদ্দাদ) বংশের লোক ছিল। তার মূল নাম ছিল উবাইদ। যে জন্মগতভাবে একজন ইহূদী ছিল। পরবর্তীতে সে মধ্যপ্রাচ্যে এসে ‘ওবায়দুল্লাহ’ নাম ধারণ করে এবং নিজেকে হযরত আলী ও ফাতেমা (রাঃ)-এর বংশধর হিসাবে মিথ্যা দাবী করে। এই ওবায়দুল্লাহর বংশ পরিচয় সম্পর্কে ইমাম শামসুদ্দীন আয-যাহাবী (৬৭৩-৭৪৮ হি./১২৭৪-১৩৪৮ খ্রি.) বলেন,
وَلا نَسَبُهُمْ صَحِيحًا، بَلِ الْمَعْرُوفُ أَنَّهُمْ بَنُو عُبَيْدٍ. وَكَانَ وَالِدُ عُبَيْدٍ هَذَا مِنْ نَسْلِ الْقَدَّاحِ الْمُلْحِدِ الْمَجُوسِيِّ. قَالَ: وَقِيلَ: كَانَ وَالِدُ عُبَيْدٍ هَذَا يَهُودِيًّا مِنْ أَهْلِ سَلَمِيَّةَ، وَكَانَ حَدَّادًا. وَعُبَيْدٌ كَانَ اسْمُهُ سَعِيدًا، فَلَمَّا دَخَلَ الْمَغْرِبَ تَسَمَّى بِعُبَيْدِ اللَّهِ، وَادَّعَى نَسَبًا لَيْسَ بِصَحِيحٍ. وَذَكَرَ ذَلِكَ جَمَاعَةٌ مِنْ عُلَمَاءِ الأَنْسَابِ، ثُمَّ تَرَقَّتْ بِهِ الْحَالُ إِلَى أَنْ مَلَكَ الْمَغْرِبَ، وَبَنَى الْمَهْدِيَّةَ، وَتَلَقَّبَ بِالْمَهْدِيِّ. وَكَانَ زِنْدِيقًا خَبِيثًا، عَدُوًّا لِلإِسْلامِ. قَتَلَ مِنَ الْفُقَهَاءِ، وَالْمُحَدِّثِينَ، وَالصَّالِحِينَ جَمَاعَةً كَبِيرَةً، وَنَشَأَتْ ذُرِّيَّتُهُ عَلَى ذَلِكَ. وَبَقِيَ هَذَا الْبَلاءُ عَلَى الإِسْلامِ مِنْ أَوَّلِ دَوْلَتِهِمْ إِلَى آخِرِهَا، وَذَلِكَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ تِسْعٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَتَيْنِ إِلَى سَنَةِ سَبْعٍ وَسِتِّينَ وَخَمْسِمِائَةٍ.
‘তাদের বংশপরিচয় সঠিক নয়; বরং প্রসিদ্ধ হ’ল তারা বনু ওবায়দের অন্তর্গত। আর এই ওবায়দের পিতা ছিল এক নাস্তিক অগ্নিউপাসক কাদ্দাহের বংশধর। বলা হয়ে থাকে, এই ওবায়দের পিতা ছিল সালামিইয়াহ অঞ্চলের একজন ইহূদী কামার। আর ওবায়দের নাম ছিল সাঈদ; কিন্তু সে যখন মাগরেব (উত্তর আফ্রিকা)-এ প্রবেশ করল, তখন সে নিজের নাম রাখল ‘ওবায়দুল্লাহ’ এবং একটি অসত্য বংশপরিচয় দাবী করল। বংশ বিশেষজ্ঞ আলেমদের একটি দল এ কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তার অবস্থার উন্নতি হ’তে হ’তে সে মাগরেবের শাসক বনে গেল, ‘মাহদিইয়াহ’ নগরী প্রতিষ্ঠা করল এবং ‘আল-মাহদী’ উপাধিতে ভূষিত হ’ল। সে ছিল একজন খবীছ যিন্দীক এবং ইসলামের চরম শত্রু। সে অসংখ্য ফকবীহ, মুহাদ্দিছ ও সৎকর্মশীল লোককে হত্যা করেছে এবং তার বংশধররাও এই নীতির ওপর বড় হয়েছে। আর ইসলামের ওপর এই মুছীবত তাদের রাজত্বের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বহাল ছিল, যা ২৯৯ হিজরীর যিলহজ্জ মাস থেকে শুরু করে ৫৬৭ হিজরী পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল’।[5] এভাবেই তৎকালীন শী‘আ রাফেযী গোষ্ঠীগুলো ইহূদী ও মজুসীদের মুসলিম ছদ্মবেশে ইসলামে অনুপ্রবেশের সবচেয়ে বড় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
২. আহলে বায়তের প্রতি কৃত্রিম ভালোবাসা ও ভুয়া বংশপরিচয়ের আড়ালে জনসমর্থন লাভ :
শী‘আদের এই চক্রান্তটি মুসলিম সমাজকে সবচেয়ে বেশী বিভ্রান্তি ও ধোঁকায় ফেলেছে। ইতিহাস সাক্ষী, আববাসীয় খিলাফতের যুগেই অসংখ্য ইহূদী, পারস্যের মজুসী (অগ্নিপূজক) এবং যিনদীক্বরা সুকৌশলে মুসলিম ছদ্মবেশ ধারণ করে মুসলিম সমাজে অনুপ্রবেশ করে। স্বভাবতই নবী পরিবারের (আহলে বায়ত) প্রতি সাধারণ মুসলিমদের অন্তরে এক গভীর ও অকৃত্রিম ভালোবাসা বিদ্যমান ছিল। অন্যদিকে শী‘আরা আহলে বায়তের প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের নামে চরম সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত হ’ত। ছদ্মবেশী এই ইহূদী ও যিন্দীক্বরা শী‘আদের এই অন্ধ আবেগকে পুঁজি করে তাদের কাছাকাছি ভিড়তে শুরু করে। তারা আহলে বায়তের প্রতি মিথ্যা ভক্তি ও মাত্রাতিরিক্ত ভালোবাসার অভিনয় করে সাধারণ মুসলিমদের অত্যন্ত আপনজনে পরিণত হয় এবং সুকৌশলে তাদের মাঝে আক্বীদাগত বিভ্রান্তির বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেয়।
আবার এই চক্রান্তকারীদের অনেকেই পূর্ব থেকে নিজেদের প্রকৃত বংশপরিচয় গোপন রাখত। তারা নিজেদেরকে আহলে বায়তের সদস্য হিসাবে মিথ্যা দাবী করে বিভিন্ন অপ্রসিদ্ধ ও দূরবর্তী অঞ্চলে গিয়ে বসতি স্থাপন করত, যাতে কেউ তাদের আসল পরিচয় উদ্ঘাটন করতে না পারে। সেখানে গিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদেরকে নবী পরিবারের বংশধর হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে সমাজের মর্যাদাপূর্ণ স্থানগুলো দখল করে নিত। এমনকি বর্তমান যুগের কথিত শী‘আরা (বিশেষ করে রাফেযী ও ইছনা আশ‘আরিয়ারা) যাদেরকে তাদের ‘ইমাম’ বলে দাবী করে এবং নবী পরিবারের পবিত্র বংশধর হিসাবে ভক্তি-শ্রদ্ধা নিবেদন করে, ঐতিহাসিকভাবে তাদের অনেকেই মিথ্যুক ও ভুয়া বংশদাবীদার। মূলত তাদের পূর্বপুরুষদের অনেকেই ছিল বংশগত ইহূদী অথবা পারস্যের মাজুসী। আববাসীয় খিলাফতের যুগে তাদের এই ভয়াবহ অনুপ্রবেশ ও অপতৎপরতার বিষয়টি ঐতিহাসিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সুপ্রমাণিত।[6]
আহলে বায়তের ভালোবাসার আড়ালে ইসলাম ধ্বংসের এই ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন করতে গিয়ে ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) (৬৬১-৭২৮ হি./১২৬৩-১৩২৮ খ্রি.) বলেন, ‘তারা বাহ্যিকভাবে ইসলামের ভান করত এবং নিজেদের শী‘আ দাবী করত। ফলে তাদের প্রকাশ্য রূপটি ছিল রাফেযী (চরমপন্থী শী‘আ), কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীণ রূপটি ছিল মুলহিদ ও যিন্দীক্বদের মতো। যেমনটি আবূ হামিদ আল-গাযালী তাঁর ‘আল-মুসতাযহিরী’ গ্রন্থে বলেছেন, ظاهرهم الرفض وباطنهم الكفر المحض، ‘তাদের বাহ্যিক রূপ হ’ল রাফেযী মতবাদ, আর তাদের অভ্যন্তরীণ রূপ হ’ল খাঁটি কুফর’। আর আবূ হামিদ তাদের ব্যাপারে যা বলেছেন, তা মুসলিম আলেমদের মধ্যে সর্বসম্মত একটি বিষয়। তারা তাদের সাধারণ অনুসারীদের ইবাদতের নির্দেশ দিত এবং তাদের নিকট পর্যায়ক্রমিক বিভিন্ন স্তর নির্ধারিত ছিল। যখনই কেউ এক ধাপ ওপরে উঠত, তখন তার নিকট শরী‘আতের রূপক ব্যাখ্যা পেশ করত, আর যখন সে চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছত, তখন তার ওপর থেকে শরী‘আতের যাবতীয় বাধ্যবাধকতা বিলোপ করে দিত। হাসান ইবনু ছাববাহ ছিল তাদেরই অনুসারী, যে আল-মুস্তানছিরের কাছ থেকে দীক্ষা নিয়েছিল- যার যুগে বাছাসীরীর ফিৎনা সংঘটিত হয়েছিল। সে-ই গুপ্তহত্যার জন্য ছুরি ব্যবহারের সূচনা করেছিল এবং আলামূত দুর্গের অনুসারীরা ছিল তার অনুগামী। আর শামে সিনান ও তার সমমনারা ছিল তাদেরই অনুসারী। তাদের অভ্যন্তরীণ আক্বীদা ছিল অগ্নিপূজক ও দার্শনিকদের মতবাদের এক সংমিশ্রণ; তারা মাজূসীদের নিকট থেকে নূর (আলো) ও যুলমত (অন্ধকার) এই দু’টি মূল তত্ত্ব গ্রহণ করেছিল এবং দার্শনিকদের নিকট থেকে আক্বল (বুদ্ধিবৃত্তি) ও নফস (আত্মা)-এর ধারণা নিয়েছিল। আর এগুলোকে তারা ‘আস-সাবিক্ব’ (অগ্রবর্তী) ও ‘আত-তালী’ (অনুবর্তী) পরিভাষায় ব্যক্ত করত।[7]
৩. ইসলামী গ্রন্থ রচনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ :
তলোয়ারের ঝনঝনানি আর রণাঙ্গনের ক্ষিপ্রতায় মুসলিমদের দমিয়ে রাখা অসম্ভব। এই বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠতেই ইহূদী-খ্রিষ্টান ও যিন্দীক্বরা তাদের পুরোনো রণনীতি পরিত্যাগ করে নতুন রণকৌশলের পথে অগ্রসর হ’ল। শুরু হ’ল বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ (الغزو الفكري)। মুসলিমদেরকে তাদের মৌলিক ধর্মীয় বিশ্বাস ও নীতি-আদর্শ থেকে বিচ্যুত করার এক মরণপণ চক্রান্তে তারা মেতে উঠল। এই নিকৃষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা যে কয়েকটি কর্মপদ্ধতি সামনে রেখেছিল, তন্মধ্যে ভয়ানক হাতিয়ার ছিল- ইসলামের নামে বিকৃত গ্রন্থ রচনা। তারা মুসলিম সেজে, শী‘আ সেজে, সর্বোপরি আহলে বায়তের বংশের দাবীদার হয়ে নতুন নতুন জাল হাদীছ এবং বিভিন্ন বানোয়াট ইসলামী বই লেখা শুরু করে। দীর্ঘসময় পর দেখা গেল, সাধারণ মুসলিমদের একটি বড় অংশ তাদের লেখনী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভ্রষ্টতার অতল গহবরে নিমজ্জিত হয়েছে।
ইছনা আশ‘আরিয়া (বারো ইমামিয়া) শী‘আদের আকর গ্রন্থগুলো পড়লেই আমাদের কাছে সহজেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এগুলোতে বিধৃত আক্বীদাহ-বিশ্বাস কোন ধর্মভীরু একনিষ্ঠ মুসলিমের আক্বীদাহ হ’তে পারে না। মূলত তাদের মধ্যকার দুই শ্রেণীর লোক এই বিকৃত গ্রন্থগুলো রচনা করেছে; (ক) যারা ইহূদী বা মজুসী থেকে ছদ্মবেশে শী‘আ হয়েছে এবং (খ) যারা জন্মগতভাবেই কট্টর শী‘আ। এই দুই গোষ্ঠী মিলেই লেখনীর মাধ্যমে ইসলামকে বিকৃত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের এই জঘন্য লেখনী ও আক্বীদার কিছু নমুনা নিম্নে সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হ’ল-
(ক) জাল হাদীছ রচনা ও মুছহাফে ফাতেমীর দাবী :
আহলুস সুন্নাহর ইতিহাসবিদদের মতে, কেবল কূফাতে বসেই তারা আলী (রাঃ) এবং তাদের বারো ইমামের ফযীলতে প্রায় তিন লক্ষ জাল হাদীছ রচনা করেছে। তাদের ধৃষ্টতা এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তারা বর্তমান কুরআনকে অসম্পূর্ণ দাবী করে ‘মুছহাফে ফাতেমী’ নামক এক কাল্পনিক কুরআনের প্রতি ঈমান আনয়ন করে। তাদের দাবী অনুযায়ী, এটি বর্তমান কুরআনের চেয়ে তিনগুণ বড় এবং এতে বর্তমান কুরআনের একটি হরফও নেই। শী‘আদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাদীছগ্রন্থ ‘উছূলুল কাফী’-তে তাদের শীর্ষস্থানীয় পন্ডিত আবূ জা‘ফর মুহাম্মাদ ইবনু ইয়া‘কূব আল-কুলাইনী (মৃ. ৩২৯হি./৯৪১খ্রি.) ইমাম জা‘ফর আছ-ছাদিক্বের নামে মিথ্যা আরোপ করে উল্লেখ করেছে,وَإِنَّ عِنْدَنَا لَمُصْحَفَ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ... مُصْحَفٌ فِيهِ مِثْلُ قُرْآنِكُمْ هَذَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، وَاللَّهِ مَا فِيهِ مِنْ قُرْآنِكُمْ حَرْفٌ وَاحِدٌ، ‘নিশ্চয়ই আমাদের নিকট মুছহাফে ফাতেমা (আঃ) রয়েছে... এটি এমন একটি মুছহাফ (গ্রন্থ), যাতে তোমাদের এই কুরআনের সমপরিমাণ তিনগুণ (অধিক) রয়েছে। আল্লাহর শপথ! তাতে তোমাদের কুরআনের একটি হরফও নেই’।[8] এই ধরনের কুফরী গ্রন্থ কি কোন প্রকৃত মুসলমান লিখতে বা বিশ্বাস করতে পারে?
(খ) ইমামদের নিষ্পাপত্ব ও হালাল-হারাম নির্ধারণের ক্ষমতা:
তাদের আরেকটি ভয়ানক আকবীদাহ হ’ল- তাদের ইমামগণ নবী-রাসূলগণের ন্যায় নিষ্পাপ (মা‘ছূম) এবং তারা শরী‘আতের যেকোন বস্ত্তকে হালাল বা হারাম ঘোষণা করার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রাখেন। বিস্ময়কর হ’লেও সত্য, শী‘আদের এই আকবীদার সঙ্গে ইহূদী-খ্রিষ্টানদের আক্বীদার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। যা পবিত্র কুরআনুল কারীমে এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যবানেই প্রমাণিত হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللهِ ‘তারা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের আলেম-ওলামা ও পোপ-পাদ্রীদের এবং মারিয়াম-পুত্র মাসীহকে ‘রব’ হিসাবে গ্রহণ করেছে’ (তাওবা ৯/৩১)।
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ছাহাবী আদী ইবনু হাতেম (রাঃ) বর্ণনা করেন, একদিন আমি নবী করীম (ছাঃ)-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তখন আমার গলায় স্বর্ণের তৈরি একটি ক্রুশ ঝুলছিল। তিনি আমাকে দেখে সূরা তওবার উপরিউক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন। আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, ‘তারা তো তাদের (পাদ্রীদের) ইবাদত করত না!’ তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বিষয়টির প্রকৃত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বললেন,أَمَا إِنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا يَعْبُدُونَهُمْ، وَلَكِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا أَحَلُّوا لَهُمْ شَيْئًا اسْتَحَلُّوهُ، وَإِذَا حَرَّمُوا عَلَيْهِمْ شَيْئًا حَرَّمُوهُ، ‘হ্যাঁ, তারা তাদের ইবাদত করত না। কিন্তু তাদের ধর্মীয় নেতারা যখন তাদের জন্য কোন কিছু হালাল করত, তখন তারা সেটাকে হালাল বলে মেনে নিত। আর যখন তারা তাদের জন্য কোন কিছু হারাম করত, তখন তারা সেটাকে হারাম বলেই গ্রহণ করত’।[9]
অর্থাৎ এখান থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, আল্লাহর সুস্পষ্ট দলীল ব্যতীত কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কথাকে হালাল-হারাম বা শরী‘আতের অকাট্য বিধান হিসাবে বিশ্বাস করাই মূলত তাদেরকে রবের আসনে অধিষ্ঠিত করার শামিল। আর এটিই ছিল ইহূদী-খ্রিষ্টানদের স্বভাব। ফলে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, শী‘আদের এই চিন্তাধারা ইহূদী মস্তিষ্কপ্রসূত আক্বীদাহ।
(গ) ইতিহাস বিকৃতি :
তারা বিভিন্ন মিথ্যা কিচ্ছা-কাহিনীর মাধ্যমে ইসলামী ইতিহাসকে চরমভাবে বিকৃত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের বাংলাদেশের সিংহভাগ সাধারণ মানুষ কারবালার ইতিহাস জেনেছে মীর মোশাররফ হোসেন রচিত ‘বিষাদ সিন্ধু’ বই থেকে। এটি মূলত একটি বিকৃত ও কাল্পনিক ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস এবং এর লেখক পরোক্ষভাবে শী‘আ মতাদর্শ ও মিথলজি দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন। যার কারণে বাংলার সাধারণ সুন্নী মুসলিমদের মাঝেও শী‘আদের বানোয়াট শোকগাঁথা ও মিথ্যা ইতিহাস ঐতিহ্যের রূপ লাভ করেছে। এভাবে লেখনীর মাধ্যমে তাদের অপতৎপরতার আরও অসংখ্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা সম্ভব।
-মুজাহিদুল ইসলাম
নশীপুর, গাবতলী, বগুড়া।
[1]. ইবনু আবিল ইয আল-হানাফী, শারহুল আক্বীদাতিত তাহাবিইয়াহ, (রিয়াদ: ওয়াজারাতুশ শুউনিল ইসলামিয়্যা ওয়াল আওকাফ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৮হি.), পৃ. ৫০২।
[2]. আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন জারীর আত-তাবারী, তারীখুত ত্বাবারী (তারীখুর রুসুলি ওয়াল মুলূক), তাহকীক: মুহাম্মদ আবু ফাযল ইবরাহীম (কায়রো: দারুল মা‘আরিফ, ২য় সংস্করণ, ১৩৮৭ হি./১৯৬৭ খ্রি.), খন্ড ৪, পৃ. ৩৪০; আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আলী ইবনুল জাওযী (৫১০-৫৯৭ হি./১১১৬-১২০১ খ্রি.), আল-মুনতাযাম ফি তারীখিল মুলূকি ওয়াল উমাম, তাহকীক্ব: মুহাম্মদ আব্দুল কাদির আতা ও মুস্তফা আব্দুল কাদির আত্বা (বৈরূত: দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ, ১ম প্রকাশ, ১৪১২ হি./১৯৯২ খ্রি.), খন্ড ৫, পৃ. ৪৯।
[3]. আহমাদ ইবনু তাইমিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হি.), মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিইয়াহ, তাহকীক্ব: ড. মুহাম্মদ রাশাদ সালিম (রিয়াদ : জামি‘আতুল ইমাম মুহাম্মদ বিন সঊদ, ১ম প্রকাশ, ১৪০৬ হি./১৯৮৬ খ্রি.), ১ম খন্ড, পৃ. ৩০; ঐ, মাজমূউল ফাতাওয়া, ১৩/৩৩।
[4]. শায়খ মাহমূদ শাকির, আববাসীয় খিলাফতের ইতিহাস অনু: শাহ মুহাম্মাদ খালিদ, জমির মাসরূর, (ঢাকা: মুহাম্মাদ পাবলিকেশন, প্রথম প্রকাশ, জুলাই ২০২২ খ্রি.) ২য় খন্ড, পৃ. ৮৮-৯০।
[5]. শামসুদ্দীন আয-যাহাবী, তারীখুল ইসলাম, তাহকীক: ড. বাশশার আউওয়াদ মা‘রূফ (বৈরূত: দারুল গরবিল ইসলামী, ১ম প্রকাশ, ১৪২৪ হি./২০০৩ খ্রি.), ১২/৩৬৯।
[6]. শায়খ মাহমূদ শাকির, আববাসি খিলাফতের ইতিহাস, ২/৯১-৯৩।
[7]. ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হি./১২৬৩-১৩২৮ খ্রি.), আর-রাদ্দু আলাল মানতিক্বিইয়ীন (বৈরূত: দারুল মা‘রিফাহ, প্রকাশকাল ও সংস্করণ সংকলনে অনুল্লেখিত), পৃ. ২৮০।
[8]. আবূ জা‘ফর মুহাম্মাদ ইবনু ইয়া‘কূব আল-কুলাইনী, আল-কাফী (উছূলুল কাফী), তাহকীক্ব: আলী আকবর আল-গিফরী (তেহরান: দারুল কুতুব আল-ইসলামিইয়াহ, ৪র্থ সংস্করণ, ১৩৬৫হি.), ১/২৩৯।
[9]. তিরমিযী হা/৩০৯৫; ছহীহাহ হা/৩২৯৩; সনদ হাসান।