ভূমিকা :

মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এমন কিছু ত্রুটি বা গোনাহ থাকে, যা সে অন্যের দৃষ্টির আড়ালে রাখতে চায়। ইসলাম মানুষের এসব গোপন দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান ও প্রচার করতে নিষেধ করেছে এবং তওবা ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করেছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে কারও ব্যক্তিগত বিষয় অনুসন্ধান, গোপন দোষ-ত্রুটি প্রকাশ কিংবা অতীতের ভুলকে জনসমক্ষে ছড়িয়ে দেওয়া যেন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও কথোপকথন প্রকাশের মাধ্যমে মানুষের সম্মানহানি করা হচ্ছে। ইসলাম যেমন অপরাধকে প্রশ্রয় দেয় না, তেমনি অযথা মানুষের গোপনীয়তা ও সম্মান নষ্ট করাকেও সমর্থন করে না। আবার যেখানে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, যুলুম সংঘটিত হচ্ছে বা মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে যথাযথ তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বৈধতাও রয়েছে। তাই মানুষের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা এবং কখন তা প্রকাশ করা বৈধ আলোচ্য নিবন্ধে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

মানুষের মর্যাদা আল্লাহ প্রদত্ত :

পৃথিবীতে আল্লাহ মানুষকে সম্মানিত করেছেন এবং সকল সৃষ্টির উপরে মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ،‘আমরা আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি’ (ইসরা ১৭/৭০)। এই আয়াত মানুষের মর্যাদার প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছে। মানুষের সম্মান আল্লাহ প্রদত্ত। তাই কারো সম্মান নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ، لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يَخْذُلُهُ، وَلَا يَكْذِبُهُ، وَلَا يَحْقِرُهُ...كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ: دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ، ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার উপর যুলুম করবে না, তাকে অপদস্ত করবে না, তার সঙ্গে মিথ্যা বলবে না এবং তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবে না। ...প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান সবই হারাম।[1]

দোষ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দাগিরি নিষিদ্ধ :

কোন মুসলমানের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করা এবং তার পিছনে সর্বদা লেগে থাকা ইসলামে নিষিদ্ধ। সেই সাথে গীবত করা থেকে কঠিনভাবে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ، ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা অধিক ধারণা হ’তে বিরত থাক। নিশ্চয়ই কিছু কিছু ধারণা পাপ। আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ করো না এবং একে অপরের পিছনে গীবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পসন্দ করে? বস্ত্ততঃ তোমরা সেটি অপসন্দ করে থাক। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বাধিক তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু’ (হুজুরাত ৪৯/১২)। হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, وَلَا تَجَسَّسُوا অর্থ হ’ল, মানুষের গোপন অবস্থা ও দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করো না।[2]

আবূ বারযাহ আল-আসলামী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,يَا مَعْشَرَ مَنْ آمَنَ بِلِسَانِهِ، وَلَمْ يَدْخُلِ الْإِيمَانُ قَلْبَهُ، لَا تَغْتَابُوا الْمُسْلِمِينَ، وَلَا تَتَّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ، فَإِنَّهُ مَنِ اتَّبَعَ عَوْرَاتِهِمْ يَتَّبِعُ اللهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنْ يَتَّبِعِ اللَّهُ عَوْرَتَهُ يَفْضَحْهُ فِي بَيْتِهِ، ‘হে মুখে ঈমান গ্রহণকারীগণ! যাদের অন্তরে এখনো ঈমান সুদৃঢ় হয়নি! তোমরা মুসলিমদের গীবত করো না এবং তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধান করো না। কারণ যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ অনুসন্ধান করবে, আল্লাহ তার গোপন দোষ প্রকাশ করবেন। আর আল্লাহ যার দোষ প্রকাশ করেন, তাকে তার নিজ ঘরের ভেতরেও অপদস্থ করে দেন’।[3]

দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার ফযীলত

ইসলাম মানুষের গোপন বিষয় অনুসন্ধান, দোষ প্রচার এবং পাপ প্রকাশ করার ব্যাপারে সতর্ক করেছে এবং এ থেকে বিরত থাকার ও অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার অনেক ফযীলত বর্ণনা করেছে। তন্মধ্যে কতিপয় ফযীলত নিম্নে উল্লেখিত হ’ল।-

১.দোষ গোপন করা মহান আল্লাহর গুণ :

মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি গোপন করা ইসলামের একটি উত্তম শিক্ষা। কারো দোষ প্রকাশ করে তাকে অপমানিত করা নয়; বরং সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং তার সম্মান রক্ষা করা মুমিনের উত্তম চরিত্রের পরিচায়ক। ইয়া‘লা ইবনু উমাইয়া (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ حَيِيٌّ سِتِّيرٌ، يُحِبُّ الْحَيَاءَ وَالسَّتْرَ، فَإِذَا اغْتَسَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَتِرْ، ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম লজ্জাশীল ও দোষ গোপনকারী। তিনি লজ্জাশীলতা ও পর্দা পসন্দ করেন। অতএব তোমাদের কেউ গোসল করলে সে যেন আড়াল করে’।[4] এ হাদীছে আল্লাহর একটি বিশেষ গুণ السِّتِّيرُ (দোষ গোপনকারী)-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বান্দার দোষ গোপন রাখতে ভালোবাসেন এবং বান্দাদেরও পরস্পরের সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই মুসলমানদের ব্যক্তিগত ভুল-ত্রুটি প্রচার করা আল্লাহর গুণাবলীর পরিপন্থী।

২. মুসলমানদেরদোষ গোপনকারীর দোষ স্বয়ং আল্লাহ গোপন রাখবেন :

অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন করা ইসলামের উত্তম চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের দোষ প্রকাশ না করে তা গোপন রাখে এবং তাকে সংশোধনের সুযোগ দেয়, আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি অনুগ্রহ করে তারও দোষ গোপন রাখবেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার ওপর যুলুম করবে না এবং তাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেবে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের একটি দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেয়, আল্লাহ কিবয়ামতের দিন তার একটি দুঃখ দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন’।[5] তিনি আরো বলেন,وَمَنْ سَتَرَ عَلَى مُسْلِمٍ، سَتَرَهُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، ‘আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন’।[6] অন্য বর্ণনায় রয়েছে- ‘দুনিয়াতে কোন বান্দা অন্য কোন বান্দার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখলে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ অবশ্যই তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন’।[7] তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের কোন পাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে তা গোপন রাখে, আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন’।[8]

এখানে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দোষ গোপন রাখার বিশেষ ফযীলত বর্ণনা করেছেন। তবে আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, এখানে এমন ব্যক্তির কথা বোঝানো হয়েছে, যে প্রকাশ্যে পাপাচারী নয় এবং যার দোষ গোপন রাখলে অন্যের কোন ক্ষতি বা অধিকার নষ্ট হয় না। এমন ব্যক্তির ভুল গোপন রেখে তাকে একান্তে নছীহত করা কর্তব্য।

৩. কারো দোষ গোপন করা তাকে নতুন জীবন দেওয়ার শামিল :

মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। কারও কোন দোষ-ত্রুটি বা দুর্বলতা প্রকাশ না করে তা গোপন রাখা তার সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করে। এতে সে অপমান ও হেয়প্রতিপন্ন হওয়া থেকে বেঁচে যায় এবং নিজের ভুল সংশোধন করে সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনার সুযোগ পায়। তাই কারও দোষ-ত্রুটি গোপন করা কখনো কখনো তাকে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ দেওয়ার মতো। উকববা ইবনু আমির (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ رَأَى عَوْرَةً فَسَتَرَهَا، كَانَ كَمَنْ أَحْيَا مَوْءُودَةً، ‘যে ব্যক্তি কারো গোপন বিষয় দেখে তা গোপন রাখে, সে যেন জীবন্ত কবরস্থ কন্যাশিশুকে উদ্ধার করে জীবন দান করল’।[9] অন্য বর্ণনায় এসেছে, مَنْ سَتَرَ عَلَى أَخِيهِ عَوْرَةً، فَكَأَنَّمَا أَحْيَا مَوْءُودَةً، ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের কোন গোপন বিষয় আড়াল করে রাখে, সে যেন জীবন্ত কবর দেওয়া কন্যাশিশুকে জীবিত করল’।[10]

৪. গোপনীয়তা প্রকাশের ক্ষেত্রে কর্মের অনুরূপ প্রতিদান :

ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন,مَنْ سَتَرَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ، سَتَرَ اللهُ عَوْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ كَشَفَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ، كَشَفَ اللهُ عَوْرَتَهُ حَتَّى يَفْضَحَهُ بِهَا فِي بَيْتِهِ، ‘যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপনীয়তা গোপন রাখে, আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন তার গোপনীয়তা গোপন রাখবেন। আর যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপনীয়তা প্রকাশ করে দেয়, আল্লাহ তার গোপনীয়তা প্রকাশ করে দিবেন। এমনকি তিনি তাকে তার নিজ ঘরেই এর মাধ্যমে অপমানিত করবেন’।[11]

৫. মৃত ব্যক্তির দোষ গোপন রাখার ফযীলত :

আবু রাফে‘ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,مَنْ غَسَّلَ مَيِّتًا فَكَتَمَ عَلَيْهِ غُفِرَ لَهُ أَرْبَعِينَ كَبِيرَةً، ‘যে ব্যক্তি কোন মৃতকে গোসল করাবে এবং তার (ত্রুটি বা অপসন্দনীয় বিষয়) গোপন রাখবে, আল্লাহ তাকে চল্লিশবার ক্ষমা করবেন’।[12] সুতরাং মৃত মুসলিমের সম্মান জীবিত অবস্থার মতোই সংরক্ষণ করা যরূরী। গোসলদাতা যদি মৃত ব্যক্তির শরীরে কোন ত্রুটি বা অপ্রীতিকর বিষয় দেখতে পান, তবে তা অন্যের কাছে প্রকাশ করা বৈধ নয়। এতে মৃত ব্যক্তির সম্মান অক্ষুণন থাকে এবং গোসলদাতা আল্লাহর বিশেষ ক্ষমার অধিকারী হন।

নিজের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকা, অন্যের দোষ না খোঁজা :

অন্যের দোষ অনুসন্ধান করার পূর্বে নিজের ত্রুটি নিয়ে আত্মসমালোচনা করা ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। যে ব্যক্তি নিজের আত্মশুদ্ধি নিয়ে সদা চিন্তিত থাকে, সে অন্যের দোষ প্রচারে লিপ্ত হওয়ার ফুরসত পায় না। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,يُبْصِرُ أَحَدُكُمُ الْقَذَاةَ فِي عَيْنِ أَخِيهِ وَيَنْسَى الْجذع فِي عينه، ‘তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের চোখের সামান্য খড়কুটো দেখতে পায়, অথচ নিজের চোখের বড় কাঠের গুঁড়িটি ভুলে থাকে’।[13] অতএব অন্যের সমালোচনা পরিহার করে নিজেকে সংশোধনের এই নববী শিক্ষার মাঝেই নিহিত আছে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের মূল চাবিকাঠি।

দোষ-ত্রুটি প্রকাশ ও অপমানের ভয়াবহতা

কোন মানুষের দোষ-ত্রুটি জেনে যাওয়ার পর তা অন্যের কাছে প্রকাশ করা, তাকে অপমান করা কিংবা তার সম্মানহানি ঘটানো অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। কারও দুর্বলতা, ব্যক্তিগত ভুল কিংবা গোপন পাপ নিয়ে মানুষের সামনে আলোচনা করা শরী‘আতের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ، ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, নিশ্চয়ই তাদের জন্য ইহকালে ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। বস্ত্ততঃ আল্লাহ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না’ (নূর ২৪/১৯)। ইমাম কুরতুবী (রহঃ) বলেন, মুমিনের গোপন পাপ ও দোষ প্রচার করাও এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত এবং তা কঠিন শাস্তির কারণ হ’তে পারে।[14]

অন্যের সম্মান রক্ষা করা ঈমানের দাবী :

অন্যের সম্মান রক্ষা করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কারও দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা উত্তম চরিত্রের পরিচায়ক। এতে মানুষের মর্যাদা অক্ষুণন থাকে এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি পায়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ: دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ، ‘প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান অপর মুসলিমের জন্য হারাম’।[15] তিনি আরো বলেন, إِنَّ أَرْبَا الرِّبَا اسْتِطَالَةُ أَحَدِكُمْ فِي عِرْضِ أَخِيهِ الْمُسْلِمُ নিশ্চয়ই সবচেয়ে ভয়াবহ সূদ হ’ল কোন মুসলিম ভাইয়ের সম্মানহানি ও তার মান-মর্যাদায় আঘাত করা’।[16] তিনি আরো বলেন, ‘নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় সূদ হ’ল সম্মানিত ব্যক্তিকে গালি-গালাজ করা’।[17] সুতরাং কারও সম্মানহানি করা, তাকে হেয় করা কিংবা তার ব্যক্তিগত দোষ মানুষের সামনে প্রকাশ করা মুমিনের জন্য সমীচীন নয়।

অনুমতি ছাড়া অন্যের গোপন কথা শোনা নিষেধ :

কারও গোপন কথা তার অনুমতি ছাড়া শোনা যেমন নিষেধ, তেমনি তা অন্যের কাছে প্রকাশ করাও নিন্দনীয়। একজন মুমিনের উচিত অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় ও গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং অনধিকার চর্চা থেকে বিরত থাকা। ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন,مَنِ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ صُبَّ فِي أُذُنَيْهِ الْآنُكُ، ‘যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কথাবার্তা গোপনে শুনতে থাকে, যা তারা অপসন্দ করে, ক্বিয়ামতের দিন তার কানে গলিত সীসা ঢেলে দেওয়া হবে’।[18]

নিজের গোনাহ ও দোষ-ত্রুটি প্রচারকারীর শাস্তি :

ইসলাম অন্যের দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি নিজের দোষ-ত্রুটি ও গোনাহকে প্রচার করতেও নিরুৎসহিত করে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমার সকল উম্মত ক্ষমাপ্রাপ্ত হ’তে পারে; কিন্তু যারা প্রকাশ্যে পাপ করে তারা নয়। প্রকাশ্যে পাপের একটি রূপ হ’ল কোন ব্যক্তি রাতে গোনাহ করল, আল্লাহ তা গোপন রাখলেন। কিন্তু সকালে সে নিজেই বলে বেড়াল, আমি গত রাতে অমুক কাজ করেছি। এভাবে সে আল্লাহর দেওয়া পর্দা নিজেই সরিয়ে দেয়’।[19] সুতরাং গোপন পাপের ক্ষেত্রে মুমিনের কর্তব্য হ’ল মানুষের কাছে প্রচার না করে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে তওবা করা।

সত্য কথাও যখন হারাম হয়ে যায় :

অনেকে মনে করেন, আমি তো মিথ্যা বলছি না; যা বলছি, সত্যই বলছি। কিন্তু কারও অনুপস্থিতিতে তার এমন কোন বিষয় বলা, যা সে শুনলে অপসন্দ করবে, সেটিই গীবত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কি জান, গীবত কি’? তারা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, ‘তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপসন্দ করে’। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি যে কথা বলছি, তা যদি সত্যিই তার মধ্যে থাকে?’ তিনি বললেন, ‘তুমি যে কথা বলছ, তা যদি তার মধ্যে থাকে, তবে তুমি তার গীবত করলে; আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে, তবে তুমি তার ওপর অপবাদ আরোপ করলে’।[20] অতএব কথাটি সত্য হ’লেই তা বলা বৈধ হয়ে যায় না। বরং কারও অনুপস্থিতিতে তার অপসন্দনীয় বিষয় প্রকাশ করা হ’লে তা গীবত হ’তে পারে; আর মিথ্যা হ’লে তা হবে অপবাদ, যা আরও ভয়াবহ।

দোষ-ত্রুটি প্রকাশের বৈধ ক্ষেত্রসমূহ

ইসলামের মূলনীতি হ’ল মানুষের গোপন দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান ও প্রচার না করা। তবে কিছু ক্ষেত্রে মানুষের ক্ষতি প্রতিরোধ, অধিকার সংরক্ষণ ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে দোষ প্রকাশ করা বৈধ। এরকম কয়েকটি ক্ষেত্র নিম্নে উল্লেখ করা হ’ল।-

১. পরষ্পরের মধ্যে মীমাংসার স্বার্থে : মানুষের মধ্যে বিরোধ হ’লে তা বাড়িয়ে না দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করা উচিত। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে অনেকক্ষেত্রে দোষ ত্রুটি গোপন রাখা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কল্যাণকর কথা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন হ’তে পারে। উম্মে কুলছূম বিনতে উকববা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, لَيْسَ الْكَذَّابُ الَّذِى يُصْلِحُ بَيْنَ النَّاسِ، فَيَنْمِى خَيْرًا، أَوْ يَقُولُ خَيْرًا، ‘সে ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মধ্যে মীমাংসা করে এবং এজন্য কল্যাণকর কথা পৌঁছে দেয় অথবা উত্তম কথা বলে’।[21]

ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, তিনটি স্থান ছাড়া আর কোন বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মিথ্যা বলার অনুমতি দিয়েছেন বলে আমি শুনিনি। যুদ্ধ কৌশলের ক্ষেত্রে, মানুষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসার ক্ষেত্রে এবং স্ত্রীর সাথে স্বামীর কথা ও স্বামীর সাথে স্ত্রীর কথা বলার ক্ষেত্রে।[22]

সাধারণভাবে মিথ্যা বলা হারাম। কিন্তু মানুষের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেলে, শত্রুতা সৃষ্টি হ’লে বা ঝগড়া-বিবাদ হ’লে তাদের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও মীমাংসার উদ্দেশ্যে ভালো কথা বলা বা এক পক্ষের ভালো কথা অন্য পক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া শরী‘আত অনুমোদন করেছে। যেমন দুই মুসলিমের মধ্যে মনোমালিন্য হ’লে। একজন অপরজন সম্পর্কে ভালো কিছু না বলা সত্ত্বেও মীমাংসাকারী ব্যক্তি সম্পর্ক ঠিক করার জন্য বলতে পারে, আপনার ভাই আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট নন, তিনি আপনার ব্যাপারে ভালো ধারণা রাখেন এবং সম্পর্ক ঠিক করতে চান। সংশোধনের উদ্দেশ্যে এ ধরনের কথা বলা যেতে পারে।

২. অধিকার আদায়ে যুলুমের কথা প্রকাশ করা বৈধ : কোন ব্যক্তি যুলুমের শিকার হলে নিজের অধিকার আদায় ও প্রতিকার পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তির কাছে যুলুমের কথা প্রকাশ করা বৈধ। তবে উদ্দেশ্য যেন প্রতিশোধ বা অপমান না হয়; বরং ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠাই উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। আল্লাহ বলেন,لَا يُحِبُّ اللهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظُلِمَ وَكَانَ اللهُ سَمِيعًا عَلِيمًا، ‘আল্লাহ কোন মন্দ কথা প্রকাশ করা পসন্দ করেন না। তবে যে অত্যাচারিত হয় (তার কথা স্বতন্ত্র)। আর আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন’ (নিসা ৪/১৪৮)। অতএব কেউ যুলুমের শিকার হ’লে নিজের অধিকার আদায় বা যুলুম প্রতিহত করার জন্য বিচারক, প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যালিমের অপরাধ প্রকাশ করতে পারে।

৩. ফৎওয়া বা শরী‘আতের বিধান জানার প্রয়োজনে : কোন ব্যক্তি যুলুম বা অন্যায় সংঘটিত হ’লে এবং তার সমাধানের জন্য আলেমের কাছে ঘটনা প্রকাশ করা বৈধ। আবু সুফিয়ান পত্নী হিন্দা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে এসে বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আবূ সুফিয়ান একজন কৃপণ ব্যক্তি। তিনি আমাকে ও আমার সন্তানকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ দেন না। তাই আমি তাকে না জানিয়ে তাঁর সম্পদ থেকে (প্রয়োজন অনুযায়ী) নিয়ে নিই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন,خُذِى مَا يَكْفِيكِ وَوَلَدَكِ بِالْمَعْرُوفِ، ‘তুমি প্রচলিত ন্যায়সঙ্গত পরিমাণে তোমার ও তোমার সন্তানের প্রয়োজন মেটানোর মতো সম্পদ গ্রহণ করো’।[23] এখানে হিন্দা (রাঃ) ফৎওয়া জানার জন্য তাঁর স্বামীর দোষ প্রকাশ করেছিলেন।

৪. হাদীছের রাবীর যোগ্যতা যাচাই করা : হাদীছ সংরক্ষণের জন্য মুহাদ্দিছগণ রাবীদের জারহ ও তা‘দীল করেছেন। কোন রাবীর দুর্বলতা, মিথ্যাচার বা স্মৃতিশক্তির ত্রুটি থাকলে তা প্রকাশ করা হয়েছে। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তাকে দেখে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, بِئْسَ أَخُو الْعَشِيرَةِ، وَبِئْسَ ابْنُ الْعَشِيرَةِ، ‘সে তার গোত্রের কতই না নিকৃষ্ট ব্যক্তি এবং তার গোত্রের কতই না নিকৃষ্ট সন্তান’! লোকটি বসলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বললেন এবং তার প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করলেন। লোকটি চলে যাওয়ার পর আয়েশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যখন লোকটিকে দেখলেন, তখন তার সম্পর্কে এ ধরনের কথা বললেন। তারপর তার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বললেন এবং তার প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করলেন! রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, হে আয়েশা! তুমি কখনও আমাকে অশ্লীলভাষী পেয়েছ? ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি হ’ল সে, যার অনিষ্টের ভয়ে মানুষ তার সঙ্গে সম্পর্ক ও মেলামেশা পরিত্যাগ করে’।[24] এ থেকে বোঝা যায়, কোন শারঈ প্রয়োজনে ব্যক্তির এমন দোষ উল্লেখ করা বৈধ।

৫. প্রকাশ্য পাপাচারী ব্যক্তির প্রকাশ্য অপরাধ উল্লেখ করা : যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে গোনাহ করে এবং তা নিয়ে গর্ব করে, তার প্রকাশ্য অপরাধ উল্লেখ করা দোষণীয় নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের সবাই ক্ষমার যোগ্য হ’তে পারে, তবে প্রকাশ্যে পাপাচারকারীরা নয়’।[25]

৬. সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সত্য প্রকাশ করা : কোন ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা বা অপরাধ প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য প্রয়োজন হ’লে সত্য গোপন করা যাবে না। বরং সত্য বলে ঘটনার মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ، ‘আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে ব্যক্তি তা গোপন করে, তার হৃদয় পাপিষ্ঠ। বস্ত্ততঃ তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত (বাক্বারাহ ২/২৮৩)। সুতরাং বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় সত্য প্রকাশ করা গীবত বা দোষ প্রকাশের পর্যায়ে পড়ে না।

৭. পরামর্শ চাওয়া হ’লে প্রয়োজনীয় দোষ উল্লেখ করা : কেউ যদি বিবাহ, ব্যবসা, অংশীদারিত্ব, চাকরী বা অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ চায় সেক্ষেত্রে পরামর্শ প্রার্থীকে ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোন দোষ-ত্রুটি থাকলে জানানো জায়েয। ফাতেমা বিনতে কবায়স (রাঃ)-এর বিয়ের প্রস্তাব সম্পর্কে পরামর্শ দিতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,أَمَّا أَبُو جَهْمٍ، فَلَا يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ، وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لَا مَالَ لَهُ، انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ، ‘আবু জাহম, সেতো তার কাঁধ থেকে লাঠি নামায় না। আর মু‘আবিয়াহ সে এমন দরিদ্র যে তার কোন সম্পদ নেই। তুমি বরং উসামাহ ইবনু যায়েদকে বিয়ে করো’।[26]

৮. ব্যক্তির অন্যায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলকে জানানো : কেউ যদি এমন অন্যায় করে যার ফলে মানুষের অধিকার নষ্ট হচ্ছে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে তা জানানো বৈধ বরং কখনো কখনো তা আবশ্যক হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ، ‘তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তি দানকারী’ (মায়েদাহ ৫/২)।

অতএব কোন অপরাধীকে থামানোর ক্ষমতা যার রয়েছে, তার কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া বৈধ। এ বিষয়ে ইমাম নববী (রহঃ) গীবতের বৈধ ক্ষেত্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি ক্ষেত্র উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘জেনে রাখো, এমন কোন সঠিক ও শরী‘আত সম্মত উদ্দেশ্যে গীবত করা বৈধ, যা গীবত ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়। আর এর ছয়টি কারণ রয়েছে’।[27] যথা- ক. যুলুম প্রতিকারে অভিযোগ পেশ, খ. অন্যায় প্রতিরোধে সক্ষম ব্যক্তিকে অবহিত করা, গ. কোন বিষয়ে ফৎওয়া চাওয়ার জন্য, ঘ. মুসলিমকে ক্ষতি থেকে সতর্ক করা, ঙ. প্রকাশ্য পাপাচার বা বিদ‘আতকারীর অপরাধ উল্লেখ করা, চ. কারো পরিচয় দানের প্রয়োজনে দোষ-ত্রুটি বলা।[28]

সালাফে ছালেহীণ যেভাবে দোষ-ত্রুটি গোপন রাখতেন

কুরআন ও সুন্নাহতে মুসলিমের দোষ গোপন রাখার যে নির্দেশনা এসেছে, ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) ও সালাফে ছালেহীন তা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করেছেন। তাঁদের জীবনের ঘটনাবলী থেকে জানা যায়, তাঁরা অপরাধীকে উৎসাহিত করতেন না; বরং তওবার সুযোগ সৃষ্টি করতেন এবং প্রকাশ্য অপমানের পরিবর্তে সংশোধনকে অগ্রাধিকার দিতেন। নিম্নে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা উপস্থাপন করা হ’ল।-

১. মায়েয (রাঃ)-এর ঘটনায় রাসূল (ছাঃ)-এর শিক্ষা :

মায়েয আল-আসলামী (রাঃ) যেনা সংঘটিত হওয়ার পর হাযযাল (রাঃ)-এর পরামর্শে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট এসে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হাযযালকে লক্ষ্য করে বলেন,وَيْحَكَ يَا هَزَّالُ لَوْ سَتَرْتَهُ بِثَوْبِكَ كَانَ خَيْرًا لَكَ، وَضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى رُكْبَةِ هَزَّالٍ، ‘হে হাযযাল! তোমার জন্য আফসোস! তুমি যদি তাকে তোমার কাপড় দিয়ে আড়াল করে রাখতে (অর্থাৎ তার অপরাধ গোপন রাখতে), তাহ’লে সেটিই তোমার জন্য উত্তম হ’ত। এরপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে হাযযালের হাঁটুর ওপর আঘাত করলেন’।[29] ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) বলেন, হাযযালই মায়েযকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে গিয়ে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

২. আবুবকর (রাঃ)-এর গোপন আকাঙ্ক্ষা :

আবুবকর ছিদ্দীক (রাঃ) বলতেন,لو أخذتُ سارقًا لأحببتُ أن يستره الله، ولو أخذتُ شاربًا لأحببتُ أن يستره الله، ‘আমি যদি কোন চোরকে ধরতাম, তবে চাইতাম আল্লাহ যেন তাকে গোপন রাখেন। আর যদি কোন মদপানকারীকে ধরতাম, তবুও চাইতাম আল্লাহ যেন তার দোষ গোপন রাখেন’।[30]

৩. আল্লাহ যা গোপন রেখেছেন, তা প্রকাশে উৎসাহ নয় :

শুরাহবীল ইবনুস-সিমত (রাঃ) একটি বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি তাঁর বাহিনীর লোকদের বললেন, তোমরা এমন একটি এলাকায় অবস্থান করছ, যেখানে অনেক নারী ও পানীয় অর্থাৎ মদ রয়েছে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কোন অপরাধ করে যার জন্য শরী‘আত নির্ধারিত শাস্তি রয়েছে, তাহ’লে সে যেন আমাদের কাছে আসে, আমরা তাকে পবিত্র করে দেব। এরপর কিছু লোক তাঁর কাছে এসে হাযির হ’ল। বিষয়টি ওমর ইবনুল খাত্তবাব (রাঃ)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি তাঁকে লিখলেন,أَنْتَ لَا أُمَّ لَكَ الَّذِي يَأْمُرُ النَّاسَ أَنْ يَهْتِكُوا سِتْرَ اللهِ الَّذِي سَتَرَهُمْ بِهِ، ‘তোমার জন্য আফসোস! তুমিই কি লোকদেরকে নির্দেশ দিচ্ছ যে, তারা আল্লাহর সেই পর্দা উন্মোচন করবে, যার মাধ্যমে তিনি তাদেরকে আড়াল করে রেখেছেন’।[31]

৪. মুসলিমের দোষ প্রকাশ না হওয়ায় ওছমান (রাঃ)-এর কৃতজ্ঞতা :

একদল লোকের বিরুদ্ধে গোপনে মদপানের সংবাদ পেয়ে ওছমান ইবনু আফফান (রাঃ) সেখানে পৌঁছে দেখলেন তারা চলে গেছে। তখন তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে একটি দাস মুক্ত করে দেন। কারণ তাঁর হাতে কোন মুসলিমের অপমান সংঘটিত হয়নি’।[32] এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, ছাহাবায়ে কেরাম মানুষের সম্মান রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। কারো গোপন পাপ প্রকাশ না হওয়াকে তাঁরা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসাবে দেখতেন।

৫. সামান্য লজ্জা থেকেও মুসলিমকে রক্ষার চেষ্টা :

শা‘বী (রহঃ) বলেন, একদিন ওমর ইবনুল খাত্তবাব (রাঃ) ছাহাবীদের নিয়ে বসেছিলেন। উপস্থিত একজনের ওযূ ভেঙে যায়। ওমর (রাঃ) চাইলেন তাকে একাই উঠে ওযূ করতে বলতে। তখন জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেন, ‘হে আমীরুল মুমিনীন! যদি সবাইকে একসঙ্গে ওযূ করার নির্দেশ দিতেন, তাহ’লে ঐ ব্যক্তি লজ্জিত হ’ত না। ওমর (রাঃ) এতে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে বললেন, ‘আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন! জাহেলী যুগেও আপনি কতই না উত্তম নেতা ছিলেন, আর ইসলামের যুগেও আপনি কতই না উত্তম নেতা’।[33] মুসলিমের সম্মান রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এমনকি সামান্য বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকেও মুসলিম ভাইকে রক্ষা করা উত্তম চরিত্রের পরিচায়ক।

৭. তওবা করলে অতীতের পাপও ক্ষমা হয় :

আমের (রহঃ) বলেন, এক ব্যক্তি ওমর (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, জাহেলী যুগে আমার একটি কন্যাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল। মৃত্যুর আগে আমি তাকে সেখান থেকে বের করে এনেছিলাম। পরে সে ইসলাম কবুল করে। ইসলাম গ্রহণের পর সে আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তিযোগ্য একটি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তখন সে একটি ছুরি নিয়ে নিজেকে যবেহ করে আত্মহত্যা করতে উদ্যত হয়। আমি তাকে এমন অবস্থায় পেলাম যে, সে তার ঘাড়ের কিছু রগ কেটে ফেলেছিল। আমি তার চিকিৎসা করলাম, ফলে সে সুস্থ হয়ে গেল। এরপর সে উত্তমভাবে তওবা করল। এখন হে আমীরুল মুমিনীন! তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব আসছে। আমি কি তার ব্যাপারে যে বিষয়টি ঘটেছিল, তা প্রস্তাবদাতাকে জানাব? ওমর (রাঃ) বললেন, ‘তুমি কি তার ব্যাপারে তা প্রকাশ করবে? আল্লাহ যে বিষয়টি গোপন রেখেছেন, তুমি কি তা প্রকাশ করতে উদ্যত হয়েছ? ‘আল্লাহর কসম! তুমি যদি মানুষের কাউকে তার ব্যাপারে এ কথা জানাও, তাহ’লে আমি তোমাকে বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাত্র বানিয়ে দেব। বরং তাকে একজন পবিত্র-চারিত্রিক মুসলিম নারীর মতোই বিবাহ দাও’।[34]

৮. আল্লাহ প্রথমবার অপরাধেই বান্দাকে অপমানিত করেন না :

ওমর (রাঃ)-এর কাছে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হ’ল যে চুরি করেছিল। চোরটি বলল, ‘আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে অনুরোধ করছি, আপনি যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন। কারণ এটাই আমার প্রথমবার। ওমর (রাঃ) বললেন, كَذَبْتَ، لَيْسَتْ هِيَ الْمَرَّةَ الْأُولَى! ‘তুমি মিথ্যা বলেছ। এটাই তোমার প্রথমবার নয়! তখন লোকটি ওমর (রাঃ)-এর ব্যাপারে মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে চাইল। সে বলল, আপনি কি গায়েবের জ্ঞান রাখেন? ওমর (রাঃ) বললেন,لَا، وَلَكِنِّي عَلِمْتُ أَنَّ اللهَ لَا يَفْضَحُ عَبْدَهُ مِنْ أَوَّلِ مَرَّةٍ، ‘না। তবে আমি জানি, আল্লাহ তাঁর বান্দাকে প্রথমবারের অপরাধেই অপমানিত করেন না। অতঃপর লোকটির হাত কেটে দেওয়া হ’ল। এরপর আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) তার পিছু নিলেন এবং তাকে বললেন, আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, এটা কি তোমার প্রথমবার? সে বলল, আল্লাহর কসম! এটি আমার একুশতম বার’।[35] আল্লাহ তা‘আলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দোষ গোপনকারী। তিনি বারবার তওবার সুযোগ দেন। তাই মানুষের উচিত অন্যের দোষ প্রচার না করে তাকে তওবার সুযোগ দেওয়া।

৯. গুপ্ত বিষয় অনুসন্ধান নিষিদ্ধ ও প্রকাশ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা :

যায়েদ ইবনু ওয়াহব (রহঃ) বলেন, ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর কাছে এক ব্যক্তিকে নিয়ে এসে বলা হ’ল, এই ব্যক্তির দাড়ি থেকে মদের ফোঁটা ঝরছে। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমাদেরকে গোপন দোষ অনুসন্ধান করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে তার কাছ থেকে যদি আমাদের সামনে কোন বিষয় প্রকাশ পায়, তাহ’লে আমরা তার ব্যাপারে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব’।[36]

১০. তওবা করলে আল্লাহ বান্দার দোষ গোপন রাখেন :

মূসা (আঃ)-এর যুগে একবার বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল। তখন তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁকে অনুরোধ করল, তিনি যেন তাঁর প্রতিপালকের কাছে বৃষ্টির জন্য দো‘আ করেন। মূসা (আঃ) পাহাড়ে উঠে তাঁর প্রতিপালকের কাছে দো‘আ করলেন। তখন তাঁর প্রতিপালক আল্লাহ তা তাঁকে বললেন, হে মূসা! তোমাদের মধ্যে একজন অবাধ্য ব্যক্তি থাকা অবস্থায় আমি কিভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করব? তখন মূসা (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এসে বিষয়টি তাদের জানিয়ে দিলেন। কিন্তু আল্লাহ বৃষ্টি তখনও বর্ষণ করলেন না, যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি বেরিয়ে যায়। অথচ কেউই বের হ’ল না। এরপর বৃষ্টি বর্ষিত হ’ল!

মূসা (আঃ) আবার পাহাড়ে উঠে বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি লোকদের একত্র করলাম এবং তাদেরকে বিষয়টি জানিয়ে দিলাম। কিন্তু কেউ বের হ’ল না, অথচ আপনি বৃষ্টি বর্ষণ করলেন! তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বললেন, ‘হে মূসা! সেই অবাধ্য ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তওবা করার পরই আমি বৃষ্টি বর্ষণ করেছি’।

মূসা (আঃ) তাঁর প্রতিপালককে বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! সে কে? যাতে আমরা তাকে চিনতে পারি। আল্লাহ বললেন, ‘হে মূসা! সে অবাধ্য থাকা অবস্থায়ও আমি তার গোপনীয়তা রক্ষা করেছি। সুতরাং সে যখন আমার কাছে তওবা করেছে, তখন আমি কিভাবে তার গোপনীয়তা রক্ষা করব না? অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আল্লাহ বললেন, ‘হে মূসা! সে যখন আমার নাফরমানি করছিল, তখনই আমি তার গোপন পাপ প্রকাশ করে দিয়ে তাকে লজ্জিত করিনি; তবে সে যখন আমার আনুগত্য স্বীকার করেছে, তখন কি আমি তাকে অপমানিত করব? হে মূসা! আমি তো চোগলখোরদের ঘৃণা করি, তাহ’লে আমি নিজে কিভাবে চোগলখোর হব?[37] 

আল্লাহর অন্যতম গুণ হ’ল দোষ গোপনকারী। তিনি বান্দার দোষ গোপন রাখেন। তাই বান্দারও উচিত মানুষের গোপন গোনাহ খুঁজে বেড়ানো নয়; বরং তওবাকারীকে সম্মানের চোখে দেখা।

উপসংহার :

ইসলাম মানুষের সম্মান ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় অত্যন্ত যত্নশীল। তাই অকারণে অন্যের দোষ অনুসন্ধান ও প্রচার করা শরী‘আতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে অধিকার আদায়, যুলুম প্রতিরোধ বা সমাজকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার মতো বিশেষ প্রয়োজনে দোষ প্রকাশের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু কাউকে হেয় করা বা বিদ্বেষ ছড়ানো উদ্দেশ্য হ’লে তা গীবত ও অপবাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যা হারাম। তাই আসুন! আমরা পরচর্চা ও ছিদ্রান্বেষণের মতো ধ্বংসাত্মক ব্যাধি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখি। অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার এই মহৎ নববী শিক্ষায় আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনকে আলোকিত করি। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে তাওফীক দান করুন আমীন!


[1].বুখারী হা/২৪৪২; মুসলিম হা/২৫৬৪; মিশকাত হা/৪৯৫৯।

[2].তাফসীরে ইবনু কাছীর, অত্র আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য।

[3].আবূদাঊদ হা/৪৮৮০; তিরমিযী হা/২০৩২, আলবানী, ছহীহ।

[4]. আবুদাউদ হা/৪০১২; নাসাঈ হা/৪০৬, সনদ ছহীহ।

[5].বুখারী হা/২৪৪২; মুসলিম হা/২৫৮০।

[6]. মুসলিম হা/১৪২৫; মিশকাত হা/২০৪ ।

[7].মুসলিম হা/২৫৯০; আহমাদ হা/৯০৩৩ ।

[8].আহমাদ হা/১৭০০১; ছহীহুত তারগীব হা/২৩৩৬।

[9]. আবুদাঊদ হা/৪৮৯৩; হাকেম হা/৮১৬২, আলবানী ও আরনাউত্ব যঈফ বললেও ইমাম যাহাবী এর সনদকে ছহীহ বলেছেন।

[10]. ত্বাবারানী আওসাত্ব হা/৪৯৯২; ছহীহুত তারগীব হা/২৩৩৭।

[11].ইবনু মাজাহ হা/২৫৪৬; ছহীহুত তারগীব হা/২৩৩৮।

[12].বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা হা/৬৯০১; ছহীহুত তারগীব‘ হা/৩৪৯২।

[13].ছহীহ ইবনু হিববান হা/৫৭৬১; ছহীহুত তারগীব হা/২৩৩১।

[14].তাফসীরে কুরতুবী, অত্র আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য।

[15].মুসলিম হা/ ২৫৬৪; মিশকাত হা/৪৯৫৯।

[16].ছহীহাহ হা/৩৯৫০; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৫৩৭।

[17].ছহীহাহ হা/১৪৩৩; ছহীহুল জামে‘ হা/৮৭২।

[18]. তাবারানী কাবীর হা/১১৯৬০; ছহীহুল জামে‘ হা/৬০২৮।

[19].বুখারী হা/৬০৬৯; মুসলিম হা/২৯৯০।

[20].মুসলিম হা/২৫৮৯; মিশকাত হা/৪৮২৮ ।

[21]. বুখারী হা/২৬৯২; মুসলিম হা/২৬০৫।

[22]. মুসলিম হা/২৬০৫।

[23].বুখারী হা/৫৩৬৪; মুসলিম হা/১৭১৪।

[24].বুখারী হা/৬০৫৪; মুসলিম হা/২৫৯১।

[25]. বুখারী হা/৬০৬৯; মিশকাত হা/৪৮৩০।

[26].মুসলিম হা/১৪৮০; মিশকাত হা/৩৩২৪।

[27].রিয়াযুছ ছালেহীন ৪১২ পৃ.।

[28].রিয়াযুছ ছালেহীন পৃ. ৪১২-৪১৩।

[29].আবুদাউদ হা/৪৩৭৭; মিশকাত হা/৩৫৬৭।

[30].ইবনু আবীদ্দুনিয়া, কিতাবুছ ছামাত; খারায়েত্বী, মাকারেমুল আখলাক্ব হা/৪২২; ইবনু আবী শায়বাহ হা/২৮০৮২।

[31].আব্দুর রাযযাক, আল-মুছান্নাফ হা/৯৩৭১; জামেঊল আহাদীছ হা/২৮১৮২।

[32].মুনাভী, ফায়যুল ক্বাদীর ৬/১৪৯।

[33].ইবনু সা‘আদ, আত-ত্বাবাকাতুল কুবরা হা/৩৯২।

[34]. মুছান্নাফে আব্দুর রাযযাক হা/১০৬৯০; ইমাম শাফেঈ, কিতাবুল উম্ম ৫/১৫৯; মুসানাদুল হারেছ হা/৫০৭।

[35].ইবনু হাজার আসক্বালানী, আত-তালখীছুল হাবীর হা/১৬১৭-এর আলোচনা ৩/৪৮৩।

[36]. আবুদাউদ হা/৪৮৯০; মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ হা/২৬৫৬৮ সনদ ছহীহ।

[37]. ইবনু কুদামাহ, কিতাবুত তাওয়াবীন, পৃ. ৫৫-৫৬; আব্দুর রহমান ছাফূরী, নুযহাতুল মাজালিস ওয়া মুনতাখাবুন নাফাঈস (মিসর, আল-মাতবা'আতুল কাস্তালিয়্যা, প্রথম প্রকাশ ১২৮৩ হি.) ২য় খন্ড, পৃ. ৪৩।






অভ্যাসগত বিশ্বাস থেকে চিন্তাশীল বিশ্বাসের পথে যাত্রা - মুহাম্মাদ আনওয়ারুল কারীম
ইসলামের দৃষ্টিতে অপচয় ও অপব্যয় - মুহাম্মাদ আকবার হোসাইন
ইবাদতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা (২য় কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
ইসলামে ভ্রাতৃত্ব (৫ম কিস্তি) - ড. এ এস এম আযীযুল্লাহ
জামা‘আতবদ্ধ জীবন যাপনের আবশ্যকতা (৩য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম
শবেবরাত - আত-তাহরীক ডেস্ক
রিয়া-র বিধিবিধান - ড. নূরুল ইসলাম
আশূরায়ে মুহাররম - আত-তাহরীক ডেস্ক
ঈছালে ছওয়াব : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (১ম কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম
ইবাদতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা (৫ম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
আদর্শ পরিবার গঠনে করণীয় - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
হজ্জের ন্যায় ফযীলতপূর্ণ আমল - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
আরও
আরও
.