গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুদের জন্য ‘দেখানো উচিত নয়’ বা ‘দেখানো উচিত’ এমন কিছু চ্যানেলের তালিকা নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট চোখে পড়ছে। বর্তমান সময়ে এই ধরনের আলোচনা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একজন সচেতন মুসলিম অভিভাবক হিসাবে আমাদের আরও গভীর এবং সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। শুধুমাত্র কারো পোস্টে চ্যানেলের তালিকা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট নয়, বরং শিশুদের ডিজিটাল স্ক্রিনের সামনে রাখার বিষয়ে আমাদের সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
আজকের ডিজিটাল যুগে শিশুদের বিনোদন, শিক্ষা বা সৃজনশীলতা বিকাশে স্ক্রিনের ভূমিকা অনেকটাই বেড়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। ইউটিউব, ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য কন্টেন্ট রয়েছে, যার মধ্যে কিছু অংশ শিক্ষণীয় হ’লেও অধিকাংশই শিশুদের মানসিক, নৈতিক ও ধর্মীয় বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। অনেক অভিভাবক মনে করেন, এগুলো চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের সন্তানরা অনেক কিছু শিখবে এবং সৃজনশীল হয়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। বাস্তবতা হ’ল, স্ক্রিন টাইমের অদৃশ্য ঝুঁকি অনেক অনেক বেশী। আজকে স্ক্রিন টাইম ও বিভিন্ন চ্যানেলের প্রভাব সম্পর্কে পাঁচটি প্রধান কারণ এবং একজন মুসলিম অভিভাবকের করণীয় সম্পর্কে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
ভিডিও কন্টেন্ট থেকে অতিরঞ্জিত প্রত্যাশা : এই ধারণাটি সম্পূর্ণ সত্য নয় যে, যেকোন চ্যানেলের ভিডিও দেখেই শিশুরা রাতারাতি অনেক কিছু শিখে ফেলবে বা অসাধারণ সৃজনশীল হয়ে উঠবে। হ্যঁা, শিশুরা হয়তো কিছু নতুন শব্দ শিখতে পারে বা কোন ধারণা সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করতে পারে। কিন্তু এই অল্প শেখার থেকে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশী। শিশুদের মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয় এবং তারা যা দেখে, শোনে ও অনুভব করে, তার দ্বারাই তাদের মনন গঠিত হয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্য, অতিরিক্ত রঙ এবং উদ্দীপক শব্দ শিশুদের মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের মনোযোগের সময়কাল (attention span) কমিয়ে দিতে পারে এবং বাস্তব জগতের সঙ্গে তাদের সংযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। প্রকৃত সৃজনশীলতা এবং শেখার জন্য শিশুদের ইন্টারেক্টিভ খেলাধুলা, গল্প বলা, পড়া এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, যা স্ক্রিন টাইম সাধারণত পূরণ করতে পারে না।
অভিভাবকহীন স্ক্রিন টাইম : অনিরাপদ ক্ষতিকর! শিশুদের যদি কোন চ্যানেল দেখতে দিতেই হয়, তবে অভিভাবকের সাথে থাকার চেষ্টা করা আবশ্যক। অভিভাবকহীন স্ক্রিন টাইম শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হ’তে পারে। শিশু কী দেখছে, কী শিখছে তা পর্যবেক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। যখন শিশুরা একা স্ক্রিনের সামনে থাকে, তখন তারা এমন কন্টেন্টের সংস্পর্শে আসতে পারে যা তাদের বয়সের জন্য অনুপযুক্ত, সহিংস বা বিভ্রান্তিকর। এমনকি বর্তমানে ‘শিশুদের জন্য’ তৈরি বলে দাবী করা অনেক কন্টেন্টেও অপ্রত্যাশিত বা নেতিবাচক বার্তা থাকে।
অভিভাবকের উপস্থিতি শিশুদের কন্টেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে, তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে এবং প্রাপ্ত তথ্যের সঠিক ব্যাখ্যা জানতে সাহায্য করে। একজন অভিভাবক কন্টেন্টের মাধ্যমে আসা সম্ভাব্য ক্ষতিকারক বার্তাগুলোকে ফিল্টার করতে পারেন এবং শিশুর মনে সেগুলোর ভুল প্রভাব পড়া থেকে বিরত রাখতে পারেন। এটি একটি সুযোগ যখন অভিভাবক তার সন্তানকে ডিজিটাল সাক্ষরতা (digital literacy) শেখাতে পারেন।
ধরুন, আপনার সন্তান এমন একটি কার্টুন দেখছে যেখানে একটি চরিত্র মিথ্যা কথা বলছে কিন্তু তার জন্য কোন খারাপ ফলাফল দেখানো হচ্ছে না। যদি আপনি তার সাথে থাকেন, তাহ’লে আপনি সন্তানকে বোঝাতে পারবেন যে মিথ্যা বলা খারাপ এবং এর কি কি কুফল হ’তে পারে। কিন্তু অভিভাবকহীন অবস্থায় শিশু হয়তো এই কন্টেন্টের মাধ্যমে মিথ্যা বলার প্রবণতাকে স্বাভাবিক হিসাবে ধরে নিতে পারে।
বয়সভিত্তিক কন্টেন্ট নির্বাচন : কোন পোস্ট দেখেই অন্ধের মতো শিশুদের স্ক্রিনে বসিয়ে দেওয়া কখনোই ঠিক হবে না। প্রতিটি শিশুর বয়স, মানসিক বিকাশ এবং ধারণ ক্ষমতা ভিন্ন। তাই কোন বয়সের শিশুর জন্য কোন চ্যানেল বা কন্টেন্ট উপযুক্ত, তা নির্ধারণ করে দেওয়া অত্যন্ত যরূরী। যেমন, একটি ২ বছরের শিশুর জন্য যে কন্টেন্ট উপযুক্ত, একটি ১০ বছরের শিশুর জন্য তা হয়তো একেবারেই নয়। ছোট শিশুদের জন্য ধীর গতির, সহজ এবং পুনরাবৃত্তিমূলক কন্টেন্ট প্রয়োজন হয়, যেখানে বড় শিশুরা আরও জটিল গল্প এবং তথ্যভিত্তিক অনুষ্ঠান থেকে শিখতে পারে। বয়সভিত্তিক কন্টেন্ট নির্বাচন না করলে শিশুরা হয়তো এমন বিষয়বস্ত্ত দেখবে যা তারা বুঝতে পারছে না, ফলে তারা বিরক্ত হ’তে পারে বা অযাচিত তথ্য গ্রহণ করতে পারে। এতে তাদের মস্তিষ্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং তাদের মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হ’তে পারে।
অনাকাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপন : অজান্তেই ভুল নির্দেশনা!
বর্তমানে অধিকাংশ ভিডিওতে না চাইতেও অনাকাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপন এসে যায়। আমাদের দেশে যেহেতু অনেকেই অ্যাড ব্লকার কোন অ্যাপ ব্যবহার করেন না, সেহেতু এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও শিশুরা ভুল নির্দেশনা বা ভিডিও দেখে যেতে পারে। বিশেষ করে, ইউটিউব বা অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে শিশুরা যখন ভিডিও দেখে, তখন তাদের সামনে এমন সব বিজ্ঞাপন ভেসে আসে যা তাদের বয়সের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। এসব বিজ্ঞাপনে সহিংসতা, অনুপযুক্ত পোশাক, জুয়ার বিজ্ঞাপন, ভোগ্যপণ্যের প্রতি তীব্র আকর্ষণ তৈরি করা বা বিতর্কিত রাজনৈতিক/সামাজিক বার্তা থাকার সম্ভাবনাই বেশী থাকে। শিশুরা বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য বুঝতে পারে না এবং সেগুলোকে কন্টেন্টেরই অংশ হিসাবে ধরে নিতে পারে। এর ফলে তারা অজান্তেই এমন ধারণা বা পণ্য সম্পর্কে জানতে পারে যা তাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অ্যাড ব্লকার ব্যবহার না করলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
তাওহীদ পরিপন্থী কন্টেন্ট : মুসলিম অভিভাবকদের বিশেষ সতর্কতা! সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হ’ল, আমরা মুসলিম। তাওহীদ পরিপন্থী ১% কন্টেন্টও যদি শিশুদের সামনে আসে, তাহ’লেও তা থেকে বিরত রাখতে হবে। বর্তমান দুনিয়ার অধিকাংশ কন্টেন্ট ও চ্যানেল যারা পরিচালনা করে, তারা হালাল-হারাম বিবেচনা করে কন্টেন্ট বানায় না। মুসলিম হিসাবে আমাদের সন্তানদের হৃদয়ে তাওহীদের দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করা আমাদের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব। অনেক জনপ্রিয় শিশুতোষ চ্যানেল, এমনকি ‘শিক্ষামূলক’ বা ‘বিজ্ঞান’ বিষয়ক চ্যানেলগুলোও এমন কিছু উপাদান রাখে যা ইসলামী আক্বীদার সাথে সাংঘর্ষিক। যেমন, শিরক। কিছু কার্টুন বা কনটেন্টে এমন চরিত্রের উপাসনা দেখানো হয় যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সাথে সম্পৃক্ত।
এরপরে রয়েছে যাদু বা কুসংস্কার। কিছু গল্পে যাদু বা এমন অলৌকিক ক্ষমতা দেখানো হয় যা কখনো সম্ভব নয়। এরপরে লিঙ্গ পরিচয় ও সম্পর্ক। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে প্রচলিত এমন লিঙ্গ পরিচয় বা সম্পর্ক দেখানো হ’তে পারে যা ইসলাম সমর্থন করে না। সর্বোপরী শালীনতা লঙ্ঘন। অ্যানিমেল, সায়েন্স, রাইম বা এডুকেশন বিষয়ক বেশীরভাগ ভিডিওতে যারা আলোচনা করেন, হয়তো শালীন পোশাক পরেন না বা গান-বাজনা থাকে, কিংবা এমন কিছু দেখানো হয় যা মুসলিম সন্তানদের জন্য ঠিক নয়। গানের ব্যবহার বা বাদ্যযন্ত্রের উপস্থিতি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে হারাম।
এই ধরনের কন্টেন্ট শিশুদের অজান্তেই তাদের বিশ্বাসে ফাটল ধরাতে পারে এবং তাদের মনে ইসলামিক মূল্যবোধের প্রতি বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। একজন সচেতন মুসলিম অভিভাবক হিসাবে আমাদের সন্তানদের এই ধরনের কন্টেন্ট থেকে রক্ষা করা ফরয। যেমন ধরুন, একটি বিজ্ঞান বিষয়ক ভিডিওতে হয়তো বিবর্তনবাদকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হ’ল যা একজন মুসলিমের সৃষ্টির ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অথবা একটি শিক্ষামূলক রাইমে এমন গান বা মিউজিক ব্যবহার করা হ’ল যা শিশুর মনে সঙ্গীতের প্রতি আসক্তি তৈরি করল, যা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে হারাম।
আমাদের করণীয় :
একজন সচেতন মুসলিম অভিভাবক হিসাবে আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে। যেমন, স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন। সর্বপ্রথম পদক্ষেপ হ’ল শিশুদের স্ক্রিন টাইম কঠোরভাবে সীমিত করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে, ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোন স্ক্রিন টাইম নয়। ২-৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দিনে ৩০ মিনিট কিংবা ১ ঘন্টার অধিক নয় এবং তাও একজন অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে। বড় শিশুদের ক্ষেত্রেও স্ক্রিন টাইম সীমিত রাখুন এবং তাদেরকে বাইরের খেলাধুলা, বই পড়া, পারিবারিক আলোচনা এবং সামাজিক কার্যকলাপে উৎসাহিত করুন। তবে আমি বলি, একটা বয়স পর্যন্ত, যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে একদমই না দেয়ার জন্য।
এরপরে কন্টেন্ট যাচাই-বাছাই করুন। যদি একান্ত স্ক্রিন টাইম দিতেই হয়, তাহ’লে একটু সচেতন হোন। কোন ভিডিও বা চ্যানেল দেখার আগে অভিভাবক নিজেই সেটি দেখে নিন। কন্টেন্টের বিষয়বস্ত্ত, ব্যবহৃত ভাষা, ছবি এবং সামগ্রিক বার্তা আপনার ইসলামী মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না, তা যাচাই করুন। নিজস্ব প্লে লিস্ট তৈরি করুন। মাহফিল অ্যাপ, ইউটিউবে বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে শিশুদের জন্য ‘সেফ প্লে লিস্ট’ তৈরি করুন। শুধুমাত্র সেই ভিডিওগুলোই যুক্ত করুন যা সম্পূর্ণ হালাল ও উপকারী। কিছু ইসলামিক অ্যাপ বা ওয়েবসাইট আছে যা শিশুদের জন্য ইসলামী কন্টেন্ট সরবরাহ করে। সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন, যেমন- ইসলামিক কার্টুন চ্যানেল, ইসলামী গল্প, সূরা শেখানোর ভিডিও ইত্যাদি।
যখন আপনার শিশু স্ক্রিন দেখছে, তখন আপনি তার সাথে থাকুন। কন্টেন্ট সম্পর্কে তার সাথে কথা বলুন। কী দেখছে, কী বুঝছে, তা নিয়ে আলোচনা করুন। যদি কোন প্রশ্ন আসে বা কোন ভুল ধারণা তৈরি হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার সঠিক ব্যাখ্যা দিন। কন্টেন্টের মধ্যে যদি কোন তাওহীদ পরিপন্থী বিষয় আসে, তাহ’লে সেটিকে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করুন বা দ্রুত পরিবর্তন করুন। পাশাপাশি আপনি নিজে আদর্শ বাবা-মা হোন। আপনি নিজে কতটা স্ক্রিন ব্যবহার করেন এবং কীভাবে ব্যবহার করেন, তা আপনার সন্তানের উপর গভীর প্রভাব ফেলবে। আপনি যদি সারাক্ষণ ফোন বা টিভিতে মগ্ন থাকেন, তাহ’লে আপনার সন্তানও সেটিই শিখবে। নিজে কুরআন পড়া, বই পড়া এবং পারিবারিক কার্যকলাপে সময় দিয়ে সন্তানের জন্য আদর্শ স্থাপন করুন।
তাদেরকে ডিভাইসের বিকল্প বিনোদনে উৎসাহিত করুন। যেমন, ইসলামী বই ও গল্প। শিশুদের জন্য ইসলামী গল্প ও নীতিভিত্তিক বইয়ের ব্যবস্থা করুন। নিয়মিত তাদের সাথে গল্প পড়ুন এবং গল্পের নৈতিক শিক্ষাগুলো বুঝিয়ে দিন। তবে সেক্ষেত্রেও সতর্ক থাকবেন। লেখকের আক্বীদা ও মানহাজ সম্পর্কে ধারণা নিবেন এবং নিজে বই বা গল্প আগে পড়ে নিবেন কোন ভুল তথ্য আছে কি-না। এছাড়াও আউটডোর খেলাধুলাতে উৎসাহিত করুন। যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত যরূরী। সৃজনশীল কার্যকলাপে উৎসাহিত করুন। যেমন, প্রাণ নেই এমন বস্ত্তর ছবি আঁকা, কাদা/ক্লে দিয়ে খেলা, ব্লক তৈরি, ওয়ার্কশীট নিয়ে খেলা, বাগান করা, পোষা প্রাণী পালন ইত্যাদি সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন।
সন্তানের সাথে ডিজিটাল মিডিয়ার ভালো-মন্দ দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন। তাদের জিজ্ঞাসা করুন, তারা কী দেখছে, কেন দেখছে এবং এতে তাদের কেমন লাগছে। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিন। পাশাপাশি ইন্টারনেট ফিল্টার বা প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সফটওয়্যার ব্যবহার করুন। এগুলো আপনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত কন্টেন্ট ব্লক করতে সাহায্য করবে এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। যেমন, Kahf browser ব্যবহার করতে পারেন।
পরিশেষে বলব, আমাদের সন্তানরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান আমানত। তাদের অন্তরে তাওহীদ এবং সুন্দর চরিত্রের বীজ বপন করতে আমাদের সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুসলিম অভিভাবক হিসাবে আমাদের দায়িত্ব শিশুর প্রতিটি পদক্ষেপ চিন্তা-ভাবনা করে নেওয়া। এটি দুনিয়া এবং আখেরাত উভয়েরই কল্যাণ নিশ্চিত করে। আল্লাহ আমাদের সন্তানদের ইলম, তাকওয়া ও ঈমানের সঙ্গে বেড়ে উঠার তাওফীক দান করুন- আমীন!
জাহিদ হাসান
সহকারী শিক্ষক, শান্তি নিকেতন ইন্সটিটিউট, ফেনী।