৩. এলোমেলো প্রকরণ ও রূপান্তর (Random Variation & Mutation) : ডারউইনের যুগে ডিএনএ (DNA) বা জিনতত্ত্বের কোন ধারণাই ছিল না। তিনি কেবল নিজস্ব পর্যবেক্ষণে দেখেছিলেন যে, একই পিতা-মাতার সন্তানদের মধ্যে সূক্ষ্ম কিছু শারীরিক পার্থক্য বা বৈচিত্র্য থাকে, যাকে তিনি ‘এলোমেলো প্রকরণ’ (Random Variation) বলতেন। তিনি কৃত্রিম উপায়ে প্রাণীর শংকরায়ণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে দেখেন যে, এ প্রক্রিয়ায় অধিক উৎপাদনশীল গরু উৎপন্ন হচ্ছে। এই সামান্য কিছু নিদর্শন দেখে তিনি ধারণা করেন যে, এভাবে ক্রমাগত একটি নির্দিষ্ট পরিবেশের মধ্যে থাকতে থাকতেই কোন প্রজাতিতে পরিবর্তনের সূচনা হয়।[1]

পরবর্তীকালে বিবর্তনবাদীরা জিনতত্ত্বের আবিষ্কারের পর এটিকে ডারউইনবাদের সাথে যুক্ত করে নাম দেয় ‘র‍¨vন্ডম মিউটেশন’ (Random Mutation) বা এলোমেলো রূপান্তর। তাদের দাবী, ডিএনএ অনুলিপন (Replication) করার সময় ভুলবশত বা এলোমেলোভাবে ঘটা মিউটেশনই প্রাণীর মধ্যে নতুন নতুন শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরির মূল ইঞ্জিন এবং এই প্রক্রিয়ায় নতুন তথ্য তৈরি হয় এবং জীবন বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ হয়। অথচ আধুনিক আণবিক জীববিজ্ঞান (Molecular Biology), জিনতত্ত্ব এবং তথ্যের আলোকে ‘র‍¨vন্ডম মিউটেশন’ বা আকস্মিক রূপান্তরের এই ধারণাটি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও অসম্ভব বলে প্রমাণ করেছে। যার বিবরণ নিম্নরূপ :

প্রথমত- কোষের বিস্ময়কর জটিলতা : মূলত ডারউইনের সময়ে যে অনুন্নত মাইক্রোস্কোপ ছিল, তাতে জীবদেহের প্রতিটি কোষকে কেবল এক একটি সাধারণ প্রকোষ্ঠ ছাড়া কিছুই মনে হয়নি। কিন্তু ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কারের পর কোষের যে অবিশ্বাস্য জটিলতা প্রকাশ পেয়েছে, তা বিবর্তনবাদের মূল ভিত্তিকে সম্পূর্ণরূপে ধসিয়ে দিয়েছে।[2]

আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, জীবদেহের প্রতিটি কোষে ক্রোমোজোম থাকে, যার সংখ্যা বিভিন্ন জীবে বিভিন্ন রকম (যেমন : মানবদেহে ২৩ জোড়া)। এই ক্রোমোজোমই উত্তরাধিকারমূলক বৈশিষ্ট্যের ধারক এবং প্রতিটি ক্রোমোজোমে থাকে জিন, যা বংশগতির সূক্ষ্ম তথ্য ধারণ করে। গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের আবিষ্কার ও পরবর্তীকালের গবেষণায় একথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, জিনের ভেতরের মূল সংকেত (ডিএনএর কোড) যদি পরিবর্তন না হয়, তাহ’লে কোন জীবের মধ্যে নির্দিষ্টবৈশিষ্ট্যের বাইরে নতুন বা বড় ধরনের পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়।[3]

আণবিক জীববিজ্ঞানী মাইকেল ডেন্টন তার Evolution: A Theory in Crisis গ্রন্থে লিখেছেন, আণবিক জীববিজ্ঞান জীবনের যে বাস্তবতা প্রকাশ করেছে তা অনুধাবন করতে হ’লে একটি কোষকে শতকোটি গুণ বড় করে দেখতে হবে। যতক্ষণ না তা এত বড় হয় যে, ২০ কিলোমিটার ব্যাস ধারণ করে এবং গোটা লন্ডন বা নিউইয়র্ক শহরকে ঢেকে দেওয়ার মত বিশাল উড়োজাহাজের আকার লাভ করে। আমরা তখন যা দেখতে পাব, তা হ’ল এক অপূর্ব নকশা ও অসমান্তরাল জটিল বস্ত্ত। এর উপরিভাগে দেখা যাবে বিশাল মহাকাশযানের আলো-বাতাস ঢোকার জন্য ছিদ্রের ন্যায় অসংখ্য রন্ধ্র, যেগুলো অনবরত খুলছে ও বন্ধ হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় উপাদান ভেতরে নেওয়া ও বাইরে বের করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। আমরা যদি সেই রন্ধ্রগুলোর একটিতে ঢুকতে চাইতাম, তবে দেখতে পেতাম এক সর্বোকৃষ্ট প্রযুক্তি আর মহা বিস্ময়কর জটিল জগৎ। সুতরাং এটি কি সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য যে, এলোপাতাড়ি কতগুলো অন্ধ প্রক্রিয়া এমন এক জটিল ব্যবস্থার সৃষ্টি করেছে, যার ক্ষুদ্রতম উপাদানটিও মানুষের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বাইরে? জীবকোষের এই অতি জটিলতা ‘দৈবাৎ বা আকস্মিক সৃষ্টি’ হওয়ার মতবাদটি একদমই ধসিয়ে দেয়।[4]

অতএব এলোমেলোভাবে বা দৈবক্রমে কোন প্রক্রিয়ায় এমন একটা জীবন্ত কোষ তৈরি হয়ে যাওয়ার এই মতবাদ কোনভাবেই বিজ্ঞানসম্মত নয়। কেননা এগুলো এমনই সূক্ষ্ম মেশিনের মত কাজ করে, যা নিজে থেকে এলোমেলোভাবে তৈরি হওয়া অসম্ভব। কোষের ভেতরে যেসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ থাকে সেগুলো এতটাই জটিল ও নিখুঁতভাবে সাজানো যে, আজকের দিনের বিজ্ঞানীরাও সেগুলো পুরোপুরি বুঝতে পারেন না।

অধিকন্তু, একজন মানুষের কোষে থাকা ডিএনএ এতই সুবৃহৎ এক তথ্যভান্ডার, যাতে সংকলিত থাকে ৯০০টি মোটা বই (প্রতিটিতে ৫০০ পৃষ্ঠা)-এর সমান তথ্য (প্রায় ৩ বিলিয়ন বেস পেয়ার)। এই বিশাল বিশ্বকোষীয় তথ্য শুধু জমা থাকলেই হয় না; এটাকে পড়তে হয় (ট্রান্সক্রিপশন), কপি করতে হয় (রেপ্লিকেশন), এবং মেরামত করতে হয়। এসব কাজ করার জন্য রয়েছে বিশেষ প্রোটিন বা এনজাইম (যেমন ডিএনএ পলিমারেজ, হেলিকেজ, লাইগেজ ইত্যাদি)। আবার এই এনজাইমগুলো তৈরি করার নির্দেশনা বা কোড সেই ডিএনএ-র ভেতরেই লেখা আছে। অর্থাৎ ডিএনএ তার নিজের ‘পড়া ও কপি করার যন্ত্র’ নিজেই তৈরি করে। এটি এমন একটি মহাব্যবস্থা যেখানে তথ্য এবং তথ্য ব্যবহারের যন্ত্র একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। একটি ছাড়া অন্যটি কাজ করতে পারে না।[5]

শুধু তাই নয়, একটি কোষের নিউক্লিয়াসে ডিএনএ সূক্ষ্ম সুতার ন্যায় পেঁচিয়ে সংরক্ষিত থাকে। একে সুতার মত টানলে প্রায় ২ মিটার লম্বা হয়। আর আমাদের শরীরে কোটি কোটি কোষ আছে (যেসব কোষে ডিএনএ থাকে, সেগুলোর সংখ্যা প্রায় ৩ থেকে ৭ ট্রিলিয়ন)। এসব ডিএনএ একসাথে যুক্ত করে টেনে ধরলে মোট দৈর্ঘ্য হয় প্রায় ৬০০ কোটি থেকে ১৪০০ কোটি কিলোমিটার। আর পৃথিবীর পরিধি প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ একজন মানুষের শরীরের ডিএনএ দিয়ে গোটা পৃথিবীকে ১.৫ লাখ থেকে কয়েক মিলিয়ন বার জড়ানো যাবে। অবাক করা তথ্য যে, এই সুবিশাল দৈর্ঘ্যের ডিএনএ আমাদের প্রতিটি কোষের অতি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসের ভেতরে এলোমেলোভাবে ছড়ানো থাকে না; বরং অত্যন্ত চমৎকারভাবে ভাঁজ হয়ে ও পেঁচিয়ে (Chromatin Fiber/Coiled Strand) অবস্থান করে।[6] এই যে এত বিস্ময়কর, নিখুঁত, তথ্যপূর্ণ ও জটিলতম ডিএনএ ব্যবস্থাপনা- এর মধ্য থেকে কেবল এলোমেলো বা বিশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার ওপর ভর করে হঠাৎ কোন নতুন জীব বা অঙ্গ সৃষ্টি হওয়া আদৌ কি কোন সুস্থ ও বিবেকসম্পন্ন মানুষের পক্ষে বিশ্বাস করা সম্ভব? বৃটিশ আণবিক জীববিজ্ঞানী অধ্যাপক লেসলি অরগেল এজন্য দ্বিধাহীনভাবে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, ‘প্রোটিন ও ডিএনএ উভয়ই একই সময়ে একই জায়গায় আকস্মিকভাবে উৎপন্ন হওয়া গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে একেবারেই অসম্ভব’।[7]

দ্বিতীয়ত- অধিকাংশ মিউটেশন ক্ষতিকর : মিউটেশন মানে ডিএনএ-র গঠনে স্থায়ী পরিবর্তন। সহজ করে বললে ডিএনএ হ’ল জীবের জিনগত নির্দেশিকা বই, যা A,T,G,C এই চারটি অক্ষর দিয়ে লেখা। এতে প্রায় ৩ বিলিয়ন অক্ষর থাকে। কোষ বিভাজনের সময় যখন এই ডিএনএ বইটি কপি হয়, তখন মাঝে মাঝে ভুল হয়। একটি অক্ষর বদলে যায়, মুছে যায় বা বাড়তি ঢুকে যায়। এই ভুল বা পরিবর্তনকেই মিউটেশন বলে। নব্য-ডারউইনবাদীরা মনে করে যে, ডিএনএ কপি হওয়ার সময় এই ভুলগুলোর কারণেই প্রাণীদের মধ্যে নতুন নতুন শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি হয়।

মূলত, বিজ্ঞানীরা মিউটেশনকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করেছেন- (১) ক্ষতিকর মিউটেশন (Deleterious) : অধিকাংশ মিউটেশনই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ক্যান্সার, বিভিন্ন জিনগত রোগ বা দেহের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে এই ক্ষতিকর মিউটেশনগুলোই দায়ী। (২) নিরপেক্ষ মিউটেশন (Neutral) : কিছু মিউটেশন ঘটে ঠিকই, কিন্তু তাতে শরীরের ভালো বা মন্দ, কোন ধরনের পরিবর্তনই হয় না। (৩) উপকারী মিউটেশন (Beneficial) : এই ধরনের মিউটেশন অত্যন্ত বিরল।[8] নব্য-ডারউইনবাদীদের দাবী এই বিরল মিউটেশনই নাকি বিবর্তনের প্রধান কাঁচামাল বা চালিকাশক্তি। অথচ আধুনিক গবেষণা বলছে ঠিক তার উল্টোটা।

যেমন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপক রিচার্ড লেন্সকি-এর হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিকর ও উপকারী মিউটেশনের অনুপাত দশ লক্ষ : এক (১,০০০,০০০ : ১)। তিনি আরও যোগ করেছেন, উপকারী মিউটেশনগুলো প্রায়শই দেহের বিদ্যমান কার্যক্ষমতা হ্রাস করে। তাই সত্যিকারের গঠনমূলক মিউটেশন অবিশ্বাস্যরকম বিরল। বলতে গেলে নেই-ই।[9] সেই সাথে তিনি ১৯৮৮ সাল থেকে একটি বিশ্বখ্যাত পরীক্ষা চালাচ্ছেন। সেখানে ব্যাকটেরিয়াকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এ পর্যন্ত ৭৫,০০০-এরও বেশী প্রজন্মে বিবর্তিত হ’তে দেওয়া হয়েছে (যা মানুষের ২০ লক্ষ বছরের সমতুল্য)। ফলাফল এই যে, ব্যাকটেরিয়া কিছু পরিবর্তিত হয়েছে বটে, কিন্তু সেটা ব্যাকটেরিয়াই থেকেছে, নতুন কোন ধরনের জীব হয়নি। বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেখানে ক্ষতিকর মিউটেশন জমছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে, ৭৫,০০০ প্রজন্মেও তাতে কোন নতুন জটিল জৈব কার্যক্ষমতা তৈরি হয়নি।[10]

অন্যদিকে, Nature জার্নালে সম্প্রতি ২০২২ সালে মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় Yeast cell বা ইস্ট কোষে CRISPR পদ্ধতিতে ৮,০০০-এরও বেশী মিউটেশন পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, ৭৫.৯% ‘নিরপেক্ষ’ মিউটেশন আসলে মারাত্মক ক্ষতিকর, মাত্র ১.৩% উপকারী।[11] এছাড়া আধুনিক গবেষণায় আরো দেখা গেছে যে, প্রতিটি নতুন মানব শিশু গড়ে ২ থেকে ১০টি নতুন ক্ষতিকর মিউটেশন নিয়ে জন্মায়। এর গাণিতিক পরিণতি হ’ল, যদি প্রতি প্রজন্মে ২-১০টি ক্ষতিকর মিউটেশন যোগ হয় তাহ’লে জিনোম উন্নত হওয়ার পরিবর্তে ক্রমশ অবনতির দিকেই যাচ্ছে।[12] এজন্য আমেরিকার প্রখ্যাত জিনতত্ত্ববিদ ড. জন সানফোর্ড তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, জিনোম উন্নতির দিকে বিবর্তিত হ’তে পারে না, বরং ক্রমশ অবনতির দিকে যায়। কারণ ক্ষতিকর মিউটেশন এত দ্রুত জমে যে যত বেশী সময় যায়, তত সমস্যা কমে না, বরং বাড়ে। এজন্য মিউটেশনকে তিনি ‘জেনেটিক এনট্রপি’ (Genetic Entropy) বা জিনোমের বিলুপ্তি প্রক্রিয়া বলে অভিহিত করেছেন।[13]

সানফোর্ডের এই সাম্প্রতিক গবেষণা সরাসরি ডারউইনবাদের মূলে আঘাত করে। কেননা ডারউইনবাদ বলছে, মিউটেশন ও নির্বাচনের মাধ্যমে জীব ক্রমশ উন্নত হয়। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে বিপরীতটাই। অর্থাৎ যদি জিনোম উন্নতির পরিবর্তে ক্রমশ অবনতির দিকে যায়, তাহ’লে ডারউইনের তথাকথিত ‘কোটি বছরে উন্নত প্রাণী তৈরি হওয়া’ তত্ত্বের কোন বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা আর থাকে না।[14]

তৃতীয়ত- এলোমেলো মিউটেশন জটিল কোন তথ্য তৈরি করতে পারে না : জীববিজ্ঞানের পাশাপাশি তথ্যবিজ্ঞান (Information Theory)-এর একটি মৌলিক নীতিও এখানে অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রযোজ্য। কেননা ডিএনএ কেবল একটি সাধারণ রাসায়নিক অণু নয়, এটি কোটি কোটি অক্ষরে লেখা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট একটি তথ্য-বাহক কোড (Digital Code)। ধরা যাক, কারো হাতে একটি সুন্দর বাংলা উপন্যাস আছে। এখন যদি টাইপ করার সময় বা অন্য কোন কারণে এলোমেলোভাবে (Randomly) কিছু অক্ষর বা শব্দ বদলে দেওয়া হয়, তবে কি উপন্যাসটির মান বা সৌন্দর্য বাড়বে? স্বাভাবিকভাবেই না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর অর্থ নষ্ট হয়ে যাবে বা বাক্যগুলো অর্থহীন হয়ে পড়বে।

একই নিয়ম ডিএনএ-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। প্রায় ৩ বিলিয়ন বেস পেয়ারের (Base Pairs) এই জটিল কোডে এলোমেলো পরিবর্তন বা মিউটেশন ঘটলে তা এর কার্যকারিতা উন্নত করার পরিবর্তে সাধারণত নষ্টই করে দেয়। কেননা তথ্যবিজ্ঞানের

মূলনীতি হ’ল, যে কোড বা সিস্টেম যত বেশী জটিল, এলোমেলো পরিবর্তন তাকে তত বেশী নষ্ট করে; আরও মূলনীতি হ’ল, যে কোড বা সিস্টেম যত বেশী

বেশী ধ্বংস বা বিকৃত করে। আর ডিএনএ হ’ল পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল তথ্য-কোড। সুতরাং অন্ধ মিউটেশন এই জটিল কোডকে উন্নত করে নতুন কোন অঙ্গ বা গঠন তৈরি করবে, এটি বিশ্বাস করা ঠিক তেমনই অবাস্তব, যেমনভাবে অবিশ্বাস্য যে, বন্যার সময় আকস্মিকভাবে কোন ছাত্রের স্কুলব্যাগে পানি ঢুকে গিয়ে বইয়ের সব ভুল সংশোধন হয়ে যাবে এবং একটি নিখুঁত বিশ্বকোষ তৈরি হয়ে যাবে![15]

সুতরাং উপরোক্ত আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, ডারউইনবাদের যে মৌলিক দাবী, র‍¨vন্ডম মিউটেশন জীবনকে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ করে; তার বিপরীতে বিজ্ঞান স্পষ্টতই জানাচ্ছে, র‍¨vন্ডম মিউটেশন বরং জীবনকে ধ্বংস করে। অর্থাৎ যাকে দাবী করা হয়েছে ‘উন্নতির ইঞ্জিন’, বাস্তবে সেটি ‘ধ্বংসের ইঞ্জিন’! এই পার্থক্য যেমন মৌলিক, তেমনি এটি ডারউইনবাদের তৃতীয় স্তম্ভকে বৈজ্ঞানিকভাবে অসার প্রমাণ করে দেয়। অতএব র‍¨vন্ডম মিউটেশনের মাধ্যমে ‘সরলতর নিম্নশ্রেণীর জীব থেকে জটিল এবং উন্নততর নতুন প্রজাতি বা জীবের উদ্ভব হয়’ বিবর্তনবাদের এই তথ্য সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। (ক্রমশ:)


[1]. Charles Darwin, On the Origin of Species, p. 82, 177.

[2]. Douglas Axe, Extreme Functional Sensitivity to Conservative Amino Acid Changes on Enzyme Exteriors (Journal of Molecular Biology 301, 2000), p. 3/585–595.

[3]. Walter S Sutton, The Chromosomes in Heredity (Biological Bulletin 4, 1903), no. 4, p. 231–251.

[4]. Michael Denton, Evolution: A Theory in Crisis (London: Burnett Books, 1985), p. 328–342.

[5]. Stephen C Meyer, Signature in the Cell: DNA and the Evidence for Intelligent Design (New York: HarperOne, 2009), p. 195–215, 347–370.

[6]. Ian A. Hatton & others, The Human Cell Count and Size Distribution (Proceedings of the National Academy of Sciences 120, no. 39 (2023): e2303077120.

[7]. Leslie E Orgel, The Origin of Life on the Earth (Scientific American 271 (3), 1994), p. 77–83.

[8]. A. Eyre-Walker & P. D. Keightley, The distribution of fitness effects of new mutations (Nature Reviews Genetics, (8(8), 2007), p. 610–618.

[9]. Richard E. Lenski, Experimental Evolution and the Dynamics of Adaptation and Genome Evolution in Microorganisms (Nature Reviews Microbiology 15, 2017), no. 1: 51–64.

[10]. Richard E. Lenski & others, Long-Term Experimental Evolution in Escherichia coli. XIII. Thirteen Thousand Generations of Bacterial Speciation (Proceedings of the National Academy of Sciences 105, 2008), Supp. 1: 11529–11533.

[11]. Xiaoke Shen & others, Synonymous Mutations in Representative Yeast Genes Are Mostly Strongly Non-Neutral (Nature 606 (7915) 2022. p. 725–731.

[12]. Michael Lynch, Rate, Molecular Spectrum, and Consequences of Human Mutation (Proceedings of the National Academy of Sciences, 107 (3), 2010), p. 961–968.

[13]. John C. Sanford, Genetic Entropy and the Mystery of the Genome (4th ed. Waterloo, NY: FMS Publications, 2014), p. 33–52.

[14]. Sarah Hunter, Genetic Entropy: A Critical Examination (Southern Adventist University Knowledge Exchange, 2024).

[15]. Stephen C. Meyer, Signature in the Cell: DNA and the Evidence for Intelligent Design (New York: HarperOne, 2009), p. 195–215, 347–370.






তাছফিয়াহ ও তারবিয়াহ : মুসলিম জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
কুরআন ও সুন্নাহর বিশ্বজনীন আদর্শ প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজের ভূমিকা - শেখ ইমরান ইবনু মুয্যাম্মিল
মানবাধিকার ও ইসলাম (১১তম কিস্তি) - শামসুল আলম
শবেবরাত - আত-তাহরীক ডেস্ক
রিয়া-র ভয়াবহতা ও ক্ষতি - ড. নূরুল ইসলাম
মহামনীষীদের পিছনে মায়েদের ভূমিকা (৪র্থ কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
সাকীনাহ : প্রশান্তি লাভের পবিত্র অনুভূতি (পূর্ব প্রকাশিতের পর) - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
অল্পে তুষ্টি (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
আক্বীদা ও আহকামে হাদীছের প্রামাণ্যতা (২য় কিস্তি) - মীযানুর রহমান মাদানী
মুহাসাবা - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
আহলেহাদীছ একটি বৈশিষ্ট্যগত নাম (৬ষ্ঠ কিস্তি) - আহমাদুল্লাহ - সৈয়দপুর, নীলফামারী
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব ও ফযীলত (২য় কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
আরও
আরও
.