ভূমিকা :

প্রতিটি শিশু নিষ্পাপ অবস্থায় এ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তার চরিত্র, মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্ব গঠনের প্রথম ভিত্তি পরিবারে রচিত হয়। এরপর বিদ্যালয়, বন্ধু, সমাজ ও পরিবেশ তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং একটি শিশুর ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করে সে কি ধরনের শিক্ষা, আদর্শ ও পরিবেশে বেড়ে উঠছে তার উপর। বর্তমান সময়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অবহেলা, প্রযুক্তির অপব্যবহার, পারিবারিক অস্থিরতা, অসৎ সঙ্গ এবং অভিভাবকদের কিছু ভুলের কারণে অনেক শিশু আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ সন্তানের ভরণ-পোষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তার ঈমান, আখলাক, শিষ্টাচার, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতি গড়ে তোলাও পিতা-মাতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আলোচ্য প্রবন্ধে শিশুদের আদর্শ মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার পথে যেসব প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়, সেগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।-

১. জীবনসঙ্গী নির্বাচনে দ্বীনদারীকে গুরুত্ব না দেওয়া :

আদর্শ সন্তানের বীজ রোপিত হয় আদর্শ পরিবারে। আর সেই পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হ’ল একজন দ্বীনদার মা। কিন্তু আজ অনেকেই জীবনসঙ্গী নির্বাচনের সময় দ্বীনদারীর চেয়ে সৌন্দর্য, অর্থ-সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা সামাজিক মর্যাদাকেই অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ফলে সংসারে বাহ্যিক স্বাচ্ছন্দ্য থাকলেও ঈমানী পরিবেশ, ইবাদতের চর্চা ও ইসলামী মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা দেয়। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশী পড়ে সন্তানের চরিত্র গঠনে। যে ঘরে কুরআন তেলাওয়াতের চেয়ে পর্দার রঙ নিয়ে বেশী আলোচিত হয়, সেখানে সন্তানের হৃদয়ে দ্বীনের ভালবাসা গভীরভাবে শিকড় গাড়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই রাসূল (ছাঃ) জীবনসঙ্গী নির্বাচনে দ্বীনদারীকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ، ‘সাধারণত নারীদের চারটি গুণ দেখে বিবাহ করা হয়- তার ধন-সম্পদ, বংশ-মর্যাদা, সৌন্দর্য এবং দ্বীনদারী। তুমি দ্বীনদারীকে অগ্রাধিকার দাও। অন্যথা তোমার উভয় হস্ত অবশ্যই ধূলায় ধূসরিত হবে’।[1] তিনি অন্যত্র বলেন, ‘তোমরা বিবাহের জন্য উপযুক্ত পাত্রী নির্বাচন কর এবং সমতা দেখে বিবাহ কর’।[2] একইভাবে পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দ্বীনদারী ও উত্তম চরিত্রকে প্রধান্য দিতে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন,مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ، ‘যার দ্বীনদারী এবং উত্তম আচরণে তোমরা সন্তুষ্ট, তার সাথে বিবাহ দাও’।[3] তাই আদর্শ সন্তান গঠনের প্রথম পদক্ষেপই হ’ল জীবনসঙ্গী নির্বাচনে দ্বীনদারীকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া। কারণ দ্বীনদার পিতা-মাতাই সন্তানের ঈমান, চরিত্র ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রচনার সর্বশ্রেষ্ঠ ভিত্তি।

২. ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব কম দেওয়া :

আজ অনেক পরিবারে সন্তানের ভবিষ্যৎ বলতে বোঝানো হয় উচ্চ বেতনের চাকরী, গাড়ী-বাড়ী ও অর্থ-সম্পদের নিশ্চয়তা। কিন্তু দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান ও উত্তম চরিত্র গঠনের জন্য আলাদা কোন পরিকল্পনা থাকে না। ফলে সন্তান উচ্চশিক্ষা অর্জন করলেও মূল্যবোধ ও নৈতিকতায় দুর্বল হয়ে পড়ে। সমাজে এমন অনেক শিক্ষিত মানুষ দেখা যায়, যারা পেশাগতভাবে সফল হ’লেও কথায়, লেনদেনে ও দায়িত্ববোধে ইসলামী চরিত্রের পরিচয় দিতে পারে না। অথচ পিতা-মাতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হ’ল সন্তানকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ، ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর’ (তাহরীম ৬৬/৬)। তাই সন্তানের জীবনে কেবল দুনিয়াবী সাফল্যের স্বপ্ন নয়, বরং আল্লাহভীতি, সততা ও নৈতিকতার আলো পৌঁছে দেওয়াই প্রকৃত অভিভাবকত্ব।

৩. সন্তানের সামনে নেতিবাচক আচরণ :

শিশু উপদেশের চেয়ে আচরণ থেকে বেশী শিক্ষা নেয়। পিতা-মাতা যদি মিথ্যা বলেন, ওয়াদা ভঙ্গ করেন, রাগে কটু কথা বলেন বা অন্যের সমালোচনাকে স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলেন, তবে সন্তানও ধীরে ধীরে সেগুলোকেই জীবনযাত্রার অংশ মনে করতে শুরু করে। কারণ সে এ শিক্ষা বই থেকে নয়, ঘর থেকেই পেয়েছে। সন্তানের সামনে আমাদের প্রতিটি কথা ও আচরণ একেকটি নীরব পাঠ। তাই তাকে ইতিবাচক করতে চাইলে আগে নিজের জীবনকেই ইতিবাচক করতে হবে।

৪. সন্তানের মনে আল্লাহভীতির স্থলে মানুষের ভয় সৃষ্টি করা :

মানুষের চোখকে যে ভয় পায়, সে সুযোগ পেলে অন্যায় করে; কিন্তু আল্লাহকে যে ভয় পায়, সে নির্জনেও নিজেকে সংযত রাখে। অনেক পরিবারে সন্তানকে সংশোধনের জন্য বলা হয়, ‘পিতা এলে মারবে’, ‘স্যার জানলে শাস্তি দেবে’ কিংবা ‘পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে’। অথচ খুব কমই শেখানো হয়, আল্লাহ সব দেখছেন এবং প্রতিটি কাজের হিসাব একদিন তাঁর নিকটে দিতে হবে। ফলে সন্তানের নৈতিকতা মানুষের উপস্থিতির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রকৃত চরিত্র গড়ে ওঠে তখনই, যখন সে বিশ্বাস করে কেউ না দেখলেও আল্লাহ তাকে দেখছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, أَلَمْ يَعْلَمْ بِأَنَّ اللهَ يَرَى ‘সে কি জানে না যে, আল্লাহ তার সব কিছুই দেখেন’? (আলাক্ব ৯৬/১৪)। অন্যত্র তিনি বলেন,إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষক’ (নিসা ৪/১)।

সুতরাং সন্তানের হৃদয়ে যদি আল্লাহভীতি জাগ্রত হয়, তবে তাকে পাহারা দেওয়ার জন্য সর্বত্র মানুষ বসানোর প্রয়োজন হবে না। আল্লাহর ভয় তাকে যাবতীয় অন্যায় থেকে বিরত রাখবে।

৫. সন্তানের জন্য আন্তরিকভাবে দো‘আ না করা :

সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা বহু পরিকল্পনা করে থাকি। কিন্তু তার হেদায়াত ও উত্তম চরিত্রের জন্য কতবার আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে দো‘আ করেছি? অথচ দুনিয়ার সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হ’তে পারে, কিন্তু আল্লাহ দো‘আ কবুল করলে একটি মন্দ জীবন মহূর্তেই বদলে যেতে পারে।

যাকারিয়া (আঃ) বার্ধক্য পর্যন্ত নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি দেখতে পেলেন আল্লাহ তা‘আলা ফলের মওসুম ছাড়াই মারিয়াম (আঃ)-কে ফল দান করে রিযিকের ব্যবস্থা করছেন। তখন তাঁর মনে সন্তানের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠল, তিনি সাহস পেলেন যে, আল্লাহ বৃদ্ধ দম্পতিকেও সন্তান দিতে পারেন। তাই তিনি আল্লাহর দরবারে দো‘আ করলেন,رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ، ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে তোমার পক্ষ হ’তে একটি পূত-চরিত্র সন্তান দান কর। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী’ (আলে ইমরান ৩/৩৮)। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দো‘আ কবুল করে ইয়াহইয়া সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়ে বললেন,فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ أَنَّ اللهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَى مُصَدِّقًا بِكَلِمَةٍ مِنَ اللهِ وَسَيِّدًا وَحَصُورًا وَنَبِيًّا مِنَ الصَّالِحِينَ، ‘স্বীয় ইবাদত কক্ষে দাঁড়িয়ে প্রার্থনারত অবস্থায় ফেরেশতারা তাকে সম্বোধন করে বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে ইয়াহইয়া সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছেন। যিনি হবেন আল্লাহর কালেমা (ঈসা)-র সত্যায়নকারী ও নেতা, কলুষমুক্ত এবং সৎকর্মশীল নবীগণের অন্তর্ভুক্ত’ (আলে ইমরান ৩/৩৯)।

ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার নিকট একটি নেক সন্তান প্রার্থনা করে বলেছিলেন, رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে একটি সুসন্তান দান কর’ (ছফফাত ৩৭/১০০)। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে সহনশীল পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-কে দান করেন (ছফফাত ৩৭/১০১)। তিনি আরো দো‘আ করেছিলেন,رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ، ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ছালাত কায়েমকারী বানাও এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা! আমার দো‘আ কবুল কর! (ইব্রাহীম ১৪/৪০)।

ইব্রাহীম (আঃ) নিজে ও সন্তানাদিকে শিরক থেকে বাঁচার জন্য বলেছিলেন,رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَّاجْنُبْنِىْ وَبَنِىَّ أَنْ نَّعْبُدَ الْأَصْنَامَ، ‘হে প্রভু! এই শহরকে শান্তিময় করে দাও এবং আমাকে ও আমার সন্তানাদিকে মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখ’ (ইব্রাহীম ১৪/৩৫)। আল্লাহ তাঁর দো‘আ কবুল করেছিলেন। ফলে মক্কা থেকে মূর্তিপূজা দূরীভূত হয় এবং মক্কা নগরী আল্লাহর নে‘মতে পরিপূর্ণ হয়ে শান্তির নগরীতে পরিণত হয়।[4] 

আল্লাহ তা‘আলা নেক পরিবার ও চক্ষু শীতলকারী সন্তান চাওয়ার ব্যাপারে এ দো‘আ শিক্ষা দিয়েছেন, رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا، ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদের মাধ্যমে চক্ষু শীতলকারী বংশধারা দান কর এবং আমাদেরকে আল্লাহভীরুদের নেতা বানাও’ (ফুরক্বান ২৫/৭৪)।

আমাদের প্রিয় নবী (ছাঃ) হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-এর জন্য আল্লাহর নিকট দো‘আ করেছিলেন এভাবে,أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ، ‘আমি আল্লাহর কাছে তাঁর পরিপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং বদনযর হ’তে আশ্রয় চাচ্ছি’।[5] 

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দো‘আ প্রত্যাখ্যাত হয় না... এর মধ্যে একজন হ’লেন সন্তানের জন্য পিতার দো‘আ’।[6] যে ঘরে সন্তানের জন্য নিয়মিত আল্লাহর নিকট কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করা হয়, সে ঘরে শুধু সন্তান নয় একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎও আল্লাহর রহমতে আলোকিত হ’তে পারে।

৬. মোবাইলকে অভিভাবকের বিকল্প বানিয়ে ফেলা :

আজ অনেক পরিবারে শিশুকে ব্যস্ত, শান্ত বা খাওয়ানোর সহজ উপায় হিসাবে তার হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। ফলে সে পরিবার, বই, খেলাধুলা ও বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে গিয়ে ভার্চুয়াল জগতের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অথচ শিশুর প্রকৃত প্রয়োজন মোবাইল নয়; বরং অভিভাবকের সময়, স্নেহ ও সান্নিধ্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা ও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, শিশুদের অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে ঘুমের ব্যাঘাত, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, মনোযোগের সমস্যা এবং ভাষা ও সামাজিক দক্ষতার বিকাশে নেতিবাচক প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে। তাই শিশুকে মোবাইল দিয়ে ব্যস্ত রাখার পরিবর্তে তার সঙ্গে কথা বলা, বই পড়া, খেলাধুলা করা এবং পারিবারিক সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানের সামনে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ সন্তানকে যে অভ্যাস শেখাতে চাই, তার প্রথম অনুশীলন অভিভাবককেই করতে হয়। নিজে যে আদর্শ অনুসরণ করি না, তা সন্তানের মধ্যে স্থায়ীভাবে গড়ে তোলা কঠিন।

৭. সন্তানের জন্য সময়ের বদলে শুধু অর্থ ব্যয় করা :

একজন পিতা সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করেন। মাস শেষে নতুন পোষাক, দামী খেলনা, ভাল মোবাইল কিংবা প্রয়োজনীয় সবকিছুই কিনে দেন। কিন্তু সন্তানের পাশে বসে তার দিনের গল্প শোনা, পড়াশোনার খোঁজ নেওয়া, বন্ধুদের পরিচয় জানা কিংবা মনের অবস্থা বোঝার মতো সময় খুব কমই পান। ফলে একসময় সন্তান অভিভাবকের অজান্তেই নিজের মতো করে চলতে শুরু করে। নিজের ইচ্ছামতো বন্ধু বেছে নেয়। কে ভাল আর কে মন্দ সে পার্থক্য বোঝার মতো ক্ষমতাও অনেক সময় হয় না। এভাবে খারাপ সঙ্গের প্রভাবে মিথ্যা বলা, ক্লাস ফাঁকি দেওয়া কিংবা নানা অনৈতিক কাজে সে জড়িয়ে পড়ে। আর তখন একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে অভিভাবকের কাছে।

সুতরাং কেবলমাত্র সন্তানের প্রয়োজন পূরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং তার পাশে থাকা, তাকে বোঝা, সঠিক পথ দেখানো এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সময় দেওয়াও অভিভাবকত্বের অপরিহার্য অংশ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও’ (তাহরীম ৬৬/৬)।

৮. অশালীন বিনোদনকে স্বাভাবিক ভাবা :

চোখ যা দেখে, হৃদয় ধীরে ধীরে তাকেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়। পরিবারে কি দেখা হচ্ছে, কি শোনা হচ্ছে এবং কোন বিষয়কে বিনোদন বলা হচ্ছে এসবই শিশুর রুচি ও চরিত্র গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। অশালীন ভাষা, অশোভন দৃশ্য ও অসুস্থ বিনোদনের সঙ্গে নিয়মিত পরিচয় তাকে অজান্তেই লজ্জাহীনতার দিকে ঠেলে দেয়। চরিত্রের অবক্ষয় অনেক সময় শুরু হয় বিনোদনের নামে। তাই বিনোদনের নামে অশ্লীল গান ও নৃত্য এবং যাবতীয় হারাম দর্শন থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র’ (নূর ২৪/৩০)। এরপর মুমিন নারীদেরও দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (নূর ২৪/৩১)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, فَزِنَا الْعَيْنِ النَّظَرُ، وَزِنَا اللِّسَانِ الْمَنْطِقُ ‘চোখের যিনা হ’ল দেখা, জিহবার যিনা হ’ল কথা বলা...’।[7]

৯. ঘরের অশান্তিকে স্বাভাবিক মনে করা :

স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া কখনো শুধু দু’জন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তার প্রতিধ্বনি সন্তানের মনেও পৌঁছে যায়। শিশুর কাছে ঘরই নিরাপত্তার প্রথম আশ্রয়। অথচ সেই ঘর যদি প্রতিদিন রাগ, অপমান ও উচ্চস্বরে তর্কের সাক্ষী হয়, তবে তার মনে ভয় ও অস্থিরতা জন্ম নেয়। ধীরে ধীরে সেই অশান্তির ছাপ পড়ে তার ভাষা, আচরণ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক গড়ার পদ্ধতিতেও।

তাই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন সমস্যা দেখা দিলে তা যথাসম্ভব সন্তানের আড়ালে রেখে শান্তভাবে সমাধান করা উচিত। সন্তান যেন পিতা-মাতার আচরণ থেকেই প্রতিনিয়ত এই শিক্ষা পায় যে, আমার পিতা আমার মাকে সম্মান করেন এবং আমার মাও আমার পিতাকে সম্মান করেন। কারণ পিতা-মাতার পারস্পরিক আচরণই সন্তানের জন্য নীরব অথচ গভীর শিক্ষার মাধ্যম।

ইসলাম স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও ভালবাসার সঙ্গে দাম্পত্য জীবন পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَعَاشِرُوْهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ ‘তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস কর’ (নিসা ৪/১৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীদের কাছে উত্তম’।[8] একইভাবে ইসলাম স্ত্রীকে স্বামীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তার বৈধ অধিকার আদায় এবং শরী‘আত সম্মত বিষয়ে আনুগত্যের শিক্ষা দিয়েছে। আর এই আনুগত্যের পুরস্কার হ’ল জান্নাত। হুছাইন ইবনু মিহছান (রহ.) হ’তে বর্ণিত, তাঁর এক ফুফু কোন প্রয়োজনে নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে আসলেন। তিনি তাঁর প্রয়োজনের কথা শেষ করলে নবী করীম (ছাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বিবাহিতা? তিনি বললেন, হ্যঁা। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, তোমার স্বামীর প্রতি তোমার আচরণ কেমন? তিনি বললেন, আমি তাঁর ব্যাপারে কোন ত্রুটি করি না; তবে যা করা আমার সাধ্যের বাইরে, তা করতে পারি না। তখন নবী করীম (ছাঃ) বললেন, انْظُرِى أَيْنَ أَنْتِ مِنْهُ فَإِنَّهُ جَنَّتُكِ وَنَارُكِ ‘তুমি তাঁর প্রতি কেমন আচরণ করছ, তা খেয়াল রেখো। কারণ তিনিই তোমার জান্নাত এবং তোমার জাহান্নাম।[9]

তাই স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসাপূর্ণ আচরণই সন্তানের মনে দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে সুন্দর ও ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে। ফলে ভবিষ্যতে সেও একটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর পরিবার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখে।

স্মর্তব্য যে, একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবার পাওয়া সন্তানের ন্যায্য অধিকার। তাই পিতা-মাতার নিজেদের বিরোধ ও অশান্তির কারণে সন্তানকে কখনোই এই মূল্যবান অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

১০. পিতা-মাতার শাসন ও নিয়মে ঐক্যের অভাব :

যদি একই ঘরে দুই রকম নিয়ম চলে, তবে সবচেয়ে বেশী বিভ্রান্ত হয় সন্তান। মা বলেন, আজ আর মোবাইল নয়। কিছুক্ষণ পর পিতা এসে বলেন, এই নাও, খেলো। কয়েক দিনের মধ্যেই সন্তান বুঝে যায় মায়ের কথা না শুনলেও সমস্যা নেই, পিতাকে পেলেই হবে। আবার মা বলেন, বড় হয়ে তোমাকে ডাক্তার হ’তে হবে। কিছুক্ষণ পর পিতা বলেন, না, তোমাকে ইঞ্জিনিয়ার হ’তে হবে। পিতা-মাতার এমন ভিন্নমুখী প্রত্যাশা সন্তানের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই সন্তানের লালন-পালন, শাসন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় পিতা-মাতার মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা ও ঐক্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। আর আপোষে ঝগড়া করো না। তাহ’লে তোমরা শক্তিহীন হয়ে পড়বে ও তোমাদের প্রতিপত্তি উবে যাবে। তোমরা ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন’ (আনফাল ৮/৪৬)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ، ‘একজন মুমিন আরেকজন মুমিনের জন্যে প্রাসাদস্বরূপ, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে। এ বলে তিনি তার হাতের আঙুলগুলো একটার মধ্যে আরেকটা প্রবেশ করালেন’।[10]

১১. সন্তানের প্রশ্নকে গুরুত্ব না দেওয়া :

শিশু জন্মগতভাবেই কৌতূহলী। তার মনে আল্লাহ, সৃষ্টি, জান্নাত-জাহান্নাম, জন্ম-মৃত্যু, ধর্মীয় বিধান এবং চারপাশের নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন জাগে। এসব প্রশ্ন তার জ্ঞান, ঈমান ও চিন্তাশক্তির বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু অনেক অভিভাবক সন্তানের প্রশ্নকে বিরক্তিকর মনে করে এড়িয়ে যান বা ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেন। অথচ জানতে চাওয়া কোন অপরাধ নয় বরং আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ، ‘যদি তোমরা না জানো, তাহ’লে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস কর’ (নাহল ১৬/৪৩)।

সুতরাং প্রত্যেক অভিভাবকের উচিত সন্তানের জানার আগ্রহকে স্বাগতম জানানো এবং তাদের প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনা। আর ধৈর্যের সঙ্গে তাদের বয়স ও বুঝ অনুযায়ী সহজ ভাষায় উত্তর দেওয়া। কোন প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে তা স্বীকার করা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে জেনে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া।

১২. সন্তানের আবেগ ও অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়া :

শিশুর কান্না সব সময় দুর্বলতার লক্ষণ নয়; অনেক সময় সেটিই তার সাহায্যের নীরব আবেদন। ভয়, দুঃখ, অপমান, অভিমান কিংবা ব্যর্থতার মুহূর্তে সে যখন মনের কথা প্রকাশ করতে চায়, তখন তাকে অবহেলা করা উচিত নয়। বারবার তার অনুভূতিকে অগ্রাহ্য করা হ’লে সে ধীরে ধীরে নিজের কষ্ট গোপন করতে শেখে। বাইরে সে হাসলেও ভেতরে জমতে থাকে একাকীত্ব ও অসহায়ত্ব।

সন্তানের সঙ্গে কোমল ও মমতাপূর্ণ আচরণ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘বস্ত্তত আল্লাহর অনুগ্রহের কারণেই তুমি তাদের প্রতি কোমলহৃদয় হয়েছ। যদি তুমি রূঢ়ভাষী ও কঠিন হৃদয়ের হ’তে, তাহ’লে তারা তোমার পাশ থেকে সরে যেত’ (আলে ইমরান ৩/১৫৯)। রাসূল (ছাঃ) নিজে শিশুদের প্রতি ভালবাসা ও স্নেহ প্রকাশ করতেন। একবার তিনি তাঁর নাতি হাসান (রাঃ)-কে চুমু দিচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, ‘আমার দশটি সন্তান আছে, আমি তাদের কাউকে কখনো চুমু দেইনি। রাসূল (ছাঃ) বললেন, مَنْ لاَ يَرْحَمُ لاَ يُرْحَمُ ‘যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না’।[11]

তাই সন্তানের কান্নাকে থামিয়ে দেওয়ার আগে তার কারণ বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তার ভয়কে উপহাস না করে আশ্বস্ত করতে হবে, দুঃখকে তুচ্ছ না করে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং ভুল করলে অপমান না করে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। সন্তানের হৃদয়ে পৌঁছানোর সবচেয়ে সহজ পথ হ’ল তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং স্নেহ-মমতার সঙ্গে তার পাশে থাকা।

১৩. সন্তানকে বিশ্বাস না করে সবসময় সন্দেহ করা :

সন্তানের প্রতিটি ভুলকে অপরাধ এবং প্রতিটি দেরিকে সন্দেহের চোখে দেখলে একসময় সে সত্য কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তখন সে নিজের কথা খোলাখুলি বলার পরিবর্তে তা গোপন করতেই স্বস্তি বোধ করে। কারণ তার মনে ভয় জন্ম নেয় সত্য বললেও হয়তো তাকে বিশ্বাস করা হবে না, বরং ভুল বোঝা হবে। অথচ পারস্পরিক বিশ্বাস এমন এক শক্তি, যা সন্তানকে সত্য বলার সাহস জোগায়। বিপরীতে, অবিশ্বাসের দেয়াল যত উঁচু হয়, সন্তানের হৃদয় তত দূরে সরে যায় এবং সত্য প্রকাশের পথ তত সংকুচিত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ، ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক ধারণা থেকে বিরত থাক। নিশ্চয়ই কোন কোন ধারণা পাপ’ (হুজুরাত ৪৯/১২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ، ‘তোমরা ধারণা (অমূলক সন্দেহ) থেকে বেঁচে থাক। কেননা ধারণাই সবচেয়ে মিথ্যা কথা’।[12] তাই সন্তানকে অকারণে সন্দেহ না করে তার প্রতি আস্থা রাখুন এবং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। ভুল করলে তাকে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন, কিন্তু প্রতিটি আচরণের পেছনে খারাপ উদ্দেশ্য খুঁজবেন না। এমন একটি নিরাপদ ও ভালবাসাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলুন, যেখানে সন্তান জানবে সত্য বললে সে অপমানিত বা অযথা অভিযুক্ত হবে না। বরং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হবে। কারণ বিশ্বাসের পরিবেশেই সন্তান সত্যবাদী, দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে ওঠে।

[ক্রমশ:]

মুহাম্মাদ রবীউল ইসলাম

কেন্দ্রীয় পরিচালক, সোনামণি।


[1]. বুখারী হা/৫০৯০; মুসলিম হা/১৪৬৬।

[2]. ইবনু মাজাহ হা/১৯৬৮; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১০৬৭।

[3]. তিরমিযী হা/১০৮৪; মিশকাত হা/৩০৯০।

[4]. ইবনু কাছীর, বাক্বারাহ ২/১২৬; ইব্রাহীম ১৪/৩৫-৩৬ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ)

[5]. বুখারী হা/৩৩৭১।

[6]. তিরমিযী হা/১৯০৫; আবুদাঊদ হা/১৫৩৬।

[7]. বুখারী হা/৬২৪৩; মুসলিম হা/২৬৫৭।

[8]. ইবনু মাজাহ হা/১৯৭৭।

[9]. আহমাদ হা/২৭৩৯২; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬১২।

[10]. বুখারী হা/৪৮১; মুসলিম হা/২৫৮৫; মিশকাত হা/৪৯৫৫।

[11]. বুখারী হা/৫৯৯৭; মুসলিম হা/২৩১৮।

[12]. বুখারী হা/৬০৬৪; মুসলিম হা/২৫৬৩।






বিষয়সমূহ: বিধি-বিধান
বই হোক সন্তানের নিত্য সঙ্গী - জাহিদ হাসান
উঠতি বয়সে বন্ধু-বান্ধবজনিত সমস্যা : উত্তরণের পথ - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
পুত্র সন্তানদের উপদেশ ও শাসনের সঠিক কৌশল : একটি মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ - জাহিদ হাসান
শিশুদের জন্য স্ক্রিন টাইম ও কন্টেন্ট নির্বাচন - জাহিদ হাসান
শিশুর আবেগকে অবহেলা নয় - জাহিদ হাসান
শিশুদের ছিয়াম : কেন, কখন এবং কিভাবে অভ্যস্থ করবেন? - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
পরিবারে অগ্রাধিকার ব্যবস্থাপনা - জাহিদ হাসান
ঘুমহীন রাত, বিধ্বস্ত প্যারেন্টিং - জাহিদ হাসান
শিশুদের আদব : পারিবারিক শিক্ষার প্রথম পাঠ - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
আগামীর নক্ষত্র গড়ে উঠুক বিনয়ের আলোয়! - ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব
আদর্শ সন্তান গঠনে পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা এবং উত্তরণের উপায় - রবীউল ইসলাম - সহ-পরিচালক, সোনামণি
ভাই-বোনদের পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ়করণ ও হিংসা দূরীকরণে করণীয় - মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান
আরও
আরও
.