রামাযান মাস রহমতের বারিধারা নিয়ে আমাদের দ্বারে উপস্থিত হয়। বড়দের পাশাপাশি আমাদের ছোট্ট সোনামণিদের মনেও এই পবিত্র মাসের আনন্দের ঢেউ লাগে। সাহারীর সময় ঘুম থেকে ওঠা, ইফতারের সময় সবার সাথে বসা এই দৃশ্যগুলো শিশুদের কোমল হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে। তবে অভিভাবক হিসাবে আমাদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে আমার আদরের সন্তানটিকে কখন থেকে ছিয়ামের অভ্যাস করাবো? এতে তার শারীরিক কোন ক্ষতি হবে না তো? তার কষ্ট হবে না তো? ইত্যাদি ভাবনা প্রায়শই আমাদের মনে ঘুরপাক খায়। আজকের প্রবন্ধে আমরা ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের আলোকে শিশুদের ছিয়ামে অভ্যস্থ করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।
১. কেন শিশুদের ছিয়ামে অভ্যস্থ করবেন?
শৈশব হ’ল যে কোন অভ্যাসের বীজ বপনের উর্বর সময়। যদিও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে শিশুদের ওপর ছিয়াম ফরয নয় তবুও তারবিয়াত বা প্রশিক্ষণের অংশ হিসাবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ইবাদত হ’ল তিন ধরনের। (১) আত্মিক ইবাদত (২) দৈহিক ইবাদত ও (৩) আর্থিক ইবাদত। ছিয়ামের মাধ্যমে তিনটি ইবাদত একসাথে করা হয়। যা সম্ভব হয় কেবল আল্লাহভীতির মাধ্যমে। আর আল্লাহভীতি অর্জনই হ’ল ছিয়ামের মূল উদ্দেশ্য।[1] এছাড়াও এর মাধ্যমে অনেক ফায়েদা অর্জিত হয়। যেমন-
ক. ইবাদতের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি : ছোটবেলা থেকে ছিয়াম রাখলে ইবাদতের প্রতি ভীতি দূর হয়ে ভালোবাসা জন্মে। বড় হয়ে তখন ছিয়াম পালনকে আর বোঝা মনে হয় না। আমরা যখন পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায়ে অভ্যস্থ হয়ে পড়ি তখন এক ওয়াক্ত ছালাত কাযা হ’লে মনে অশান্তি সৃষ্টি হয়। ঠিক তেমনি শিশুকালেই ছিয়ামে অভ্যস্থ হ’লে বড় হয়ে এর প্রতি আপনা থেকেই ভালোবাসা জন্ম নিবে এটাই স্বাভাবিক।
খ. আত্মনিয়ন্ত্রণ শিক্ষা: আত্মনিয়ন্ত্রণ হ’ল উন্নত ব্যক্তিত্ব গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর মাধ্যমে শয়তানের ওয়াসওয়াসার বিপরীতে সঠিক পথে দৃঢ় থাকা সহজ হয়। আর ছিয়াম শিশুদের ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায়। পসন্দের খাবার সামনে থাকার পরও আল্লাহকে ভয় করে না খাওয়ার শিক্ষা তাদের ভবিষ্যৎ চরিত্র গঠনে মযবূত ভিত্তি গড়ে দেয়। এছাড়া ছিয়াম অবস্থায় সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও রাগ, ঝগড়া, জিহবার নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাসগুলো নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ، ‘যে অন্যকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়, সে প্রকৃত বীর নয়। বরং প্রকৃত বীর সেই, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে’।[2]
গ. গরীবের কষ্ট অনুভব : ছিয়াম রাখলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কষ্ট কেমন তা শিশুরা অনুভব করতে পারে। এই অনুভূতির মাধ্যমে সে বুঝতে পারে আশেপাশের গরীব, অসহায় বা রাস্তার ধারে পথশিশুরা কিভাবে ক্ষুধার মধ্যে দিনাতিপাত করে। আমি একদিন না খেয়েই এত দুর্বল বোধ করছি, তাহ’লে যাদের ঘরে প্রায় খাবার থাকে না তাদের কত কষ্ট হয়! আমার জন্য এই কষ্টটি ইফতার পর্যন্ত, কিন্তু গরীবদের জন্য এটি নিত্যদিনের সঙ্গী। এভাবে ছিয়ামের অভ্যাস তাদের মধ্যে দয়া ও সহমর্মিতা জাগিয়ে তোলে।
২. শিশুদের ছিয়াম কখন শুরু করা উচিত?
ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজে বাধ্য করেন না (বাক্বারাহ ২/২৮৬)। এজন্য শিশুদের ছিয়াম রাখার ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান খুবই ভারসাম্যপূর্ণ।
শরী‘আতের বিধান : বান্দার ওপর ছিয়াম ফরয হয় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর। রাসূল (ছাঃ) বলেন,رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ : عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ المُبْتَلَى حَتَّى يَبْرَأَ، وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَكْبُرَ، ‘তিন ধরনের লোকের উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে (১) ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ পর্যন্ত সে জাগ্রত না হয় (২) অসুস্থ (পাগল) ব্যক্তি, যতক্ষণ না আরোগ্য লাভ করে এবং (৩) অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক, যতক্ষণ না বালেগ হয়’।[3] আর বালেগ হওয়ার কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেমন স্বপ্নদোষ হওয়া, নাভীর নীচে চুল গজানো বা ১৫ বছরে উপনীত হওয়া ইত্যাদি।[4]
শারীরিক সক্ষমতা : সব শিশুর শারীরিক গঠন এক নয়। কেউ ৭ বছরেই বেশ মযবূত থাকে আবার কেউ ১০ বছরেও দুর্বল থাকে। তাই এক্ষেত্রে বয়সের চেয়ে শারীরিক সক্ষমতাকে বেশী প্রাধান্য দিতে হবে। যাতে ছিয়ামের কারণে শিশু অসুস্থ বা অতিশয় দুর্বল না হয়ে পড়ে। তবে শিশুর বয়স ১০ বছর হ’লে বা তারও পূর্বে ছিয়াম রাখার মত শারীরিক সক্ষমতা আসলে শিশুদেরকে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।[5] উল্লেখ্য যে, বালেগ হওয়ার পূর্বে আদায়কৃত ছিয়ামের ছওয়াব অবশ্যই সে পাবে। সাথে সাথে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে ইবাদতে সহায়তার জন্য তাদের পিতা-মাতাও ছওয়াব পাবেন।[6]
৩. কিভাবে অভ্যস্থ করবেন?
শিশুদের ছিয়ামে অভ্যস্থ করার প্রক্রিয়াটি হ’তে হবে আনন্দদায়ক ও উৎসাহব্যঞ্জক এবং ধাপে ধাপে এগোতে হবে।
ক. মানসিক প্রস্ত্ততি : রামাযান আসার আগেই শিশুদের মানসিক ভাবে প্রস্ত্তত করা প্রয়োজন, যেন তারা ছিয়ামকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করতে পারে। এজন্য তাদেরকে রামাযানের ফযীলত, জান্নাতের গল্প এবং ছিয়ামের গুরুত্ব বিষয়ে হাদীছগুলো বলুন। তাদের বোঝান যে ছিয়াম আল্লাহকে খুশী করা ও জান্নাতে প্রবেশের একটি বিশেষ মাধ্যম। জান্নাতের একটি দরজার নাম হচ্ছে ‘আর-রাইয়ান’। এ দরজা দিয়ে শুধু ছিয়াম পালনকারীরা প্রবেশ করবে। রামাযানের মানসিক প্রস্ত্ততি শা‘বান মাস থেকেই নেওয়া উচিত। যাতে তারা আকস্মিকভাবে রামাযানে ছিয়ামের সম্মুখীন না হয়।
খ. ধাপে ধাপে অনুশীলন : রামাযানে শিশুদের হঠাৎ করে প্রথম দিনেই পুরো ছিয়াম রাখতে দেওয়া ঠিক হবে না। এজন্য নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে-
প্রথম ধাপ : শুরুতে প্রহর ছিয়ামের প্রচলন করতে পারেন। যেমন সাহারী থেকে বেলা ১০-১১টা পর্যন্ত। এরপর যোহর পর্যন্ত। এরপর একটু সময় বাড়িয়ে আছর পর্যন্ত এবং ধীরে ধীরে পূর্ণ ছিয়াম রাখতে অভ্যস্ত করুন।
দ্বিতীয় ধাপ : যেদিন আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা বা ছুটির দিন, সেদিন পূর্ণ একটি ছিয়াম রাখার সুযোগ দিন।
তৃতীয় ধাপ : বয়স বাড়ার সাথে সাথে (১০-১২ বছর) ছিয়ামের সংখ্যা বাড়ান। সন্তান বালেগ হয়ে গেলে কোনরকম অযুহাত দিয়ে ছিয়াম কাযা করার সূযোগ যেন না পায় সেদিকে কড়া নযর রাখতে হবে। কেননা ছিয়াম ইসলামের ৩য় স্তম্ভ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ফরয।
গ. সাহারী ও ইফতারে বিশেষ আয়োজন : সাহারী ও ইফতারের সময়টুকুকে শিশুদের জন্য একটি পারিবারিক উৎসবের মতো করে তুলুন। সাহারীতে তাদের তাড়াহুড়ো করে না তুলে অত্যন্ত মমতা ও আদরের স্পর্শে ঘুম থেকে জাগান এবং তাদের জন্য মুখরোচক ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করুন। ইফতারের সময়ও তাদের পসন্দের খাবার যেমন বিভিন্ন শরবত, ফল বা প্রিয় কোন রেসিপির আয়োজন করুন। শুধু খাওয়া নয়, ইফতারের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে তাদের ছোট্ট হাত দিয়ে প্রতিবেশী বা অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ করান। এতে তারা ছিয়ামের প্রকৃত আনন্দ ও মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পাবে এবং ছিয়াম পালনে আরও উৎসাহী হবে।
ঘ. রামাযান কেন্দ্রিক সৃজনশীল ও আনন্দময় কার্যক্রম : এই মাহিমান্বিত মাসকে উৎসবমুখর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে বাড়িতে বিশেষ কিছু সৃজনশীল উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ঘরের পরিবেশকে রামাযানের আবহে সাজিয়ে তুলতে দেওয়ালে ‘রামাযান মুবারক’, ‘আহলান সাহলান মাহে রামাযান’ লেখা সুদৃশ্য স্টিকার ও ইসলামী ক্যালিগ্রাফি ব্যবহার করতে পারেন। শিশুদের উৎসাহ বাড়াতে রঙিন কাগজের চাঁদ-তারা তৈরি করে ঝোলানো কিংবা তাদের ইবাদতে সম্পৃক্ত করতে ৩০ দিনের জন্য আয়াত, হাদীছ ও দো‘আ সম্বলিত বিশেষ রামাযান ক্যালেন্ডার বা পকেট চার্ট তৈরি করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে এই বাহ্যিক সাজসজ্জা যেন অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ বা অপচয়ের কারণ না হয়। রামাযানের পবিত্রতা ও গাম্ভীর্য বজায় রেখে ইবাদতের মূল লক্ষ্য অটুট রাখাই যেন মূখ্য হয়।
ঙ. ছাহাবায়ে কেরামের পদ্ধতি : বুখারী ও মুসলিমে রুবাই বিনতে মু‘আবিবয (রাঃ) থেকে এ বিষয়ে একটি সুন্দর হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশূরার ছিয়াম রাখতাম এবং আমাদের ছোট ছোট বাচ্চাদেরকেও রাখাতাম। তাদের জন্য তুলার খেলনা তৈরী করতাম এবং তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যেতাম। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ খাবারের জন্য কাঁদতে শুরু করলে তাকে ঐ খেলনা দিতাম। আর এইভাবে ইফতারের সময় এসে পৌঁছত’।[7] উক্ত হাদীছের আলোকে আমরাও বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী বা গল্পের বই দিয়ে ব্যস্ত রাখা, কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, ইসলামী কোন প্রোগ্রামে সাথে নিয়ে যাওয়া কিংবা কিছুক্ষণ ঘুম পাড়িয়ে রাখার মতো কৌশলগুলো অবলম্বন করতে পারি। এতে তাদের মনোযোগ ক্ষুধার দিক থেকে সরে যাবে।
চ. প্রশংসা ও পুরস্কার : শিশু ছিয়াম রাখলে সবার সামনে তার প্রশংসা করুন। দাদা-দাদী বা আত্মীয়-স্বজনের সামনে অথবা ফোন করে বলুন, ‘আজ আমাদের বাবু ছিয়াম রেখেছে’। এতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। প্রতিটি ছিয়ামের জন্য ছোট ছোট পুরস্কার বা ঈদের দিন বিশেষ উপহারের ঘোষণা দিতে পারেন। এটি তাদের জন্য বিশাল মোটিভেশন হিসাবে কাজ করবে। যাদের একাধিক শিশু রয়েছে তাদের মাঝে প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করুন। তবে খুবই সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতে হবে যাতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া শিশুটির প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করা না হয়।
ছ. জোরজবরদস্তি পরিহার : মনে রাখবেন, ছিয়াম তাদের জন্য ফরয নয়। যদি দেখেন শিশু খুব বেশী তৃষ্ণার্ত বা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, তবে ছিয়াম ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিন। এতে যেন তাদের মনে কোন অপরাধবোধ সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। বুঝিয়ে বলুন, আল্লাহ তোমার চেষ্টা দেখেছেন এবং তিনি খুশী হয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُم إِلَى التَّهْلُكَةِ ‘তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না’ (বাক্বারাহ ২/১৯৫)।
উপসংহার : সন্তান আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে দেওয়া পবিত্র আমানত। তাদের কচি হৃদয়ে ঈমানের বীজ বপন করার দায়িত্ব পিতামাতার। তাই অভিভাবকদের উচিত জোর-জবরদস্তি পরিহার করে আনন্দঘন পরিবেশ, ধাপে ধাপে অনুশীলন এবং উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের ছিয়ামের প্রতি আগ্রহী করে তোলা। আল্লাহ আমাদের সন্তানদের চক্ষু শীতলকারী নেককার হিসাবে কবুল করুন এবং আমাদের প্রচেষ্টাকে সহজ করে দিন-আমীন!
[1]. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, ছিয়াম ও ক্বিয়াম পৃ. ১৪।
[2]. বুখারী হা/৬১১৪; মুসলিম হা/২৬০৯; মিশকাত হা/৫১০৫।
[3]. আবুদাউদ হা/৪৪০১; মিশকাত হা/৩২৮৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৫১২।
[4]. বুখারী হা/২৬৬৪; মুসলিম হা/১৮৬৮; মিশকাত হা/৩৩৭৬, ৩৯৭৪; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৬/৩২৩।
[5]. ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৩/১৬১; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৯/১৯-২০, ২৮-২৯, ৮৩।
[6]. ইবনু তায়মিয়াহ, আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৩১৮। বিস্তারিত: মাসিক আত-তাহরীক প্রশ্নোত্তর নং ৩৩/২৩৩, মার্চ’২৩।
[7]. বুখারী হা/১৯৬০; মুসলিম হা/১১৩৬।