বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদী এ দেশের প্রাণ, কৃষিনির্ভর অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু এই নদীই যখন ফুঁসে ওঠে, রূপ নেয় দুর্বার স্রোতে, বর্ষার অবিরাম বর্ষণ ও উজানের ঢলে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ বন্যা, তখন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য মুহূর্তেই রূপান্তরিত হয় জনদুর্ভোগের করুণ চিত্রে। বিস্তীর্ণ জনপদ তলিয়ে যায় পানির নিচে, ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ি, ডুবে যায় ফসলের মাঠ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কাঠামো।
প্রায় সহস্র নদী-উপনদী বেষ্টিত পৃথিবীর বদ্বীপখ্যাত এই ভূখন্ডটি ভৌগোলিকভাবেই বন্যাপ্রবণ। আবহাওয়া পরিবর্তন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পানি আগ্রাসন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী দখল ও ভরাট, বন উজাড় এবং পরিবেশের প্রতি মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত আচরণ এই দুর্যোগকে আরও ঘনঘন ও ভয়াবহ করে তুলছে। অতীতে প্রতি দশক বা কাছাকাছি ব্যবধানে একেকটি বড় বন্যা দেখা গেলেও এখন প্রায় ফি বছরই বন্যার ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে। এ যেন এক নিষ্ঠুর পুনরাবৃত্তি। প্রশ্ন হচ্ছে- কেন এই পুনরাবৃত্তি? কেন আমরা বার বার এই পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছি? এর প্রতিকারইবা কী? এ প্রশ্নগুলোরই উত্তর খুঁজবো আলোচ্য নিবন্ধে।-
বিগত চিত্র ও ক্ষয়ক্ষতি : স্বাধীনতার পর ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০০৭, ২০১৭, ২০২২ ও ২০২৪ সালের বন্যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। এর মধ্যে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যায় দেশের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। আর স্থায়িত্বের দিক দিয়ে ১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল দীর্ঘ সময়ের। সে বছর টানা ৬৫ দিন দেশের ৬৭-৬৮% ভাগ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে ছিল। স্বাধীনতার পর থেকে এযাবত বাংলাদেশে সংঘটিত বড় বড় বন্যায় সরাসরি মৃত্যু হয়েছে আনুমানিক ৬ হাযারের অধিক। তবে ৭৪ সালের বন্যা ও পরবর্তী দুর্ভিক্ষে আরো ২৮ হাযার ৭ শত জনের মৃত্যু মিলিয়ে এই সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাযারেরও অধিক। অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ১৩-১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ১.৬১-১.৮৫ লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ। ফসলী জমির ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০-৪০ লাখ হেক্টর। ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর’ (DDM) ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর নদীভাঙ্গনের কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৯-১০ হাযার হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ১-২ লাখ মানুষ প্রতিবছর নদীভাঙ্গনের প্রত্যক্ষ শিকার হয়ে বাস্ত্তচ্যুত হয়। ‘সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস’ (CEGIS)-এর গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৭৩ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে শুধু পদ্মা ও যমুনা নদীগর্ভেই বিলীন হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাযার হেক্টরেরও বেশি জমি।
কেন এই ভয়াবহতা? বাংলাদেশে বন্যার ভয়াবহতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পিছনে মৌলিকভাবে দু’টি কারণকে চিহ্নিত করা হয়। এক- ভৌগোলিক কারণ, দুই-মানবসৃষ্ট কারণ।
১. ভৌগলিক কারণ : বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ভূপ্রকৃতি এবং আবহাওয়া বা জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে নিয়মিত বন্যা হয়ে থাকে। হিমালয় থেকে উৎসারিত তিনটি বৃহৎ নদী: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার পলল দ্বারা সৃষ্ট পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ বদ্বীপ হচ্ছে বাংলাদেশ। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ভাটির দেশ এবং নদীমাতৃক দেশ হিসাবে পরিচিত। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর বিশাল অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় উজানের বিপুল পরিমাণ পানি শেষ পর্যন্ত এ দেশেই এসে জমা হয়। ফলে অতিবৃষ্টি না হ’লেও উজানের ঢলে অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। এছাড়া জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৌসুমী বৃষ্টিপাতে দেশের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হ’লে নদীর ধারণক্ষমতা অতিক্রম করে পানি আশপাশের জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের পার্বত্য অঞ্চলে অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ঢলও বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন নদী খনন না হওয়া, পলি জমা, দখল ও দূষণের কারণে নদীর পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ফলে অল্প বর্ষণেই নদী উপচে বা বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার সৃষ্টি হয়।
২. মানবসৃষ্ট কারণ : বন্যা শুধুমাত্র ভৌগোলিক কারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এজন্য মানবসৃষ্ট বহু কারণও দায়ী। নদী দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, খাল-বিল ভরাট করে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন, জলাধার ধ্বংস করে কংক্রিটের নগর বানানো, বন উজাড় করা, পাহাড় কাটা, নদীর নাব্যতা রক্ষায় অবহেলা করা ইত্যাদি কারণে পানির নির্ধারিত গতিপথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পানি যখন তার স্বাভাবিক গন্তব্য খুঁজে না পায়, তখন তা জনপদ, ফসলের মাঠ, রাস্তা-ঘাট ও বসতবাড়িকে প্লাবিত করে।
উন্নয়নের নামে এমন বহু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যেখানে পরিবেশগত প্রভাবকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়না। অনেক সড়ক, বাঁধ ও অবকাঠামো নির্মাণে পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা আবর্জনায় ভরে থাকছে, খালগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। ফলে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই নগরজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হ’ল, পরিবেশ ধ্বংসের মাধ্যমে আমরা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকেও ত্বরান্বিত করছি। শিল্পায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে ক্রমশ পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অর্থাৎ মানুষের কর্মকান্ড এখন স্থানীয় নয়, বৈশ্বিক বিপর্যয়েরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং ভৌগোলিক ও মানবসৃষ্ট উভয় কারণেই প্রতিনিয়ত আমরা বন্যার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগর স্বীকার হচ্ছি।
বন্যার প্রভাব : বন্যার প্রভাব বহুমাত্রিক। প্রতি বছর বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। শত শত বসতবাড়ি ধ্বংস হয়, হাযার হাযার হেক্টর কৃষিজমি ও ফসলের ক্ষতি হয়, অবকাঠামো ভেঙে পড়ে এবং দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। বহু মানুষ বাস্ত্তচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে। বন্যা ও তৎপরবর্তী দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগব্যাধির বিস্তার ঘটে। মোটাদাগে বন্যা দারিদ্র্য ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণে পরিণত হয়।
প্রতিকারের উপায় : বন্যা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু আমাদের চরম ব্যর্থতা হচ্ছে বন্যা ব্যবস্থাপনায় আমরা দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারিনি। প্রতিবছর বন্যা হ’লে কিছু ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, আর মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণা, অনেক ক্ষেত্রে আত্মকেন্দ্রিক কিছু প্রচারণা ছাড়া কার্যকর কিছু হয় না। ফলে মানুষ একই সংকটে বারবার পতিত হয়।
ত্রাণ নয় পরিত্রাণ চায় : বার বার বানের পানিতে হাবুডুবু খাওয়া মানুষগুলো এখন যেন আর ত্রাণ নিতে আগ্রহী নন। তারা এখন ত্রাণ নয়, পরিত্রাণ চায়। চায় বানের পানি থেকে মুক্তির স্থায়ী বন্দোবস্ত। যদিও বন্যা-খরা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিধ্বস ইত্যাদি সকল দুর্যোগেরই নিয়ন্ত্রক হচ্ছেন মহান আল্লাহ। তবে যেহেতু আমাদের কর্মকান্ড, দায়িত্বহীনতাও এর জন্য দায়ী, সেকারণ বন্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সেই সাথে মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ঈমান সহ এই জাতীয় দুর্যোগ থেকে পানাহ চাইতে হবে। এক্ষণে বন্যা প্রতিরোধে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা আবশ্যক-
১. নদী খনন ও পানি নিষ্কাশন : বন্যা নিয়ন্ত্রণে নদী খনন (ড্রেজিং) একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ব্যবস্থা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীর তলদেশে পলি জমে নাব্যতা কমে যায়। ফলে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি নদী ধারণ করতে পারে না। তখন নদীর পানি উপচে পড়ে, তীর ভেঙ্গে আশপাশের জনপদ প্লাবিত হয়। নিয়মিত নদী খননের মাধ্যমে নদীর গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে যেন পানি দ্রুত সাগরে প্রবাহিত হ’তে পারে। এতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।
২. টেকসই বাঁধ ও সলুইস গেট ব্যবস্থাপনা : পরিকল্পিত বাঁধ ও সলুইস গেট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ এলাকায় নদীর অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণে বাঁধ ও সলুইস গেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. আন্তঃরাষ্ট্রীয় নদীর ন্যায্য হিস্যা লাভে জোরালো ভূমিকা: প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের পানি আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভারতের একতরফা নদী শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’য়ে পরিণিত হয়েছে। ভারত আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অভিন্ন নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ করে যুগ যুগ ধরে একতরফা ভাবে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ভাটির দেশ হিসাবে বাংলাদেশ প্রতিবছর চরম পানিসংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। আবার বর্ষাকালে হঠাৎ বাঁধের গেট খুলে দিলে বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যায়। ডুবিয়ে ও শুকিয়ে মারার এই ভারতীয় নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফোরামে দাবী উত্থাপন করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারকে তৎপর হ’তে হবে।
৪. বন্যা পূর্বাভাস ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা : আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বন্যা পূর্বাভাস আরও নিখুঁত করা যেতে পারে। এতে কৃষক বা সাধারণ মানুষ যেন আগেভাগে প্রস্ত্ততি নিতে পারে। ফলে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস পাবে।
৫. টেকসই কৃষি ব্যবস্থা : বন্যাপ্রবণ এলাকায় ভাসমান বাগান, উচ্চফলনশীল ও পানি-সহনশীল ফসল চাষ, জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ ইত্যাদি টেকসই কৃষি ব্যবস্থা হাতে নেয়া যেতে পারে।
৬. নিরাপদ বাসস্থান ও পুনর্বাসন নীতি : যারা প্রতিবছরই ঘর হারায়, তাদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি সহায়তায় উঁচু জমিতে বাড়ি ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. নদী দখল, তীর ঘেঁষে অবৈধ দখল, ময়লা ডাম্পিং, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করতে হবে।
৮. নদীর নাব্যতা বাড়াতে বড় নদী, হাওড়, পুকুর-দীঘি, জলাশয় তৈরি করতে হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষি ও সেচ কাজে ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।
৯. দেশের উজানে বনায়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং চাষাবাদে বৈচিত্র¨ আনতে হবে।
১০. ঈমানী চেতনা : সর্বোপরি আমাদের ঈমানী দৃঢ়তা বৃদ্ধি করতে হবে। বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এই বিপর্যয়ের জন্য আমরাও দায়ী। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের ফলে স্থলে ও জলে সর্বত্র বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে আল্লাহ তাদের কিছু কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যেন তারা (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে’ (আর-রূম, ৩০/৪১)। তিনি বলেন, ‘তোমাদের ওপর যে বিপদ আসে, তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল। আর তিনি তোমাদের অনেক পাপই মার্জনা করে দেন’ (শূরা ৪২/৩০)। এটি মুমিনের জন্য ঈমানী পরীক্ষা। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল, জান ও ফল-ফসলের ক্ষতি দ্বারা। আর তুমি সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের’ (বাক্বারাহ, ২/১৫৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মুসলিমের ওপর ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট বা এমনকি কাঁটার খোঁচাও লাগে না, যার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করেন না’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৫৩৭)।
অতএব মুসলিম হিসাবে আমাদের করণীয় হচ্ছে- তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাসকে দৃঢ় করা; গোনাহ থেকে তওবা ও ইস্তিগফার করা; আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণ রুজূ হওয়া; বিপদে ধৈর্যধারণ করা ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখা; প্রাকৃতিক দুর্যোগের বৈজ্ঞানিক কারণকে অস্বীকার নয়, বরং সেই কারণগুলোর ওপর আল্লাহর সর্বময় ইচ্ছা ও হিকমতের প্রতি ঈমান রাখা। মহান আল্লাহ চাইলে তাঁর অদৃশ্য ইশারায় জনপদকে নিরাপদ করতে পারেন। নদীর গতিপথকে প্রবল করে দিতে পারিন। সেই তাওয়াক্কুল নিয়ে তাঁর দরবারেই আমাদের আকুতিভরা প্রার্থনা, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের ঈমানকে দৃঢ় করুন, আমাদেরকে এমন কোন পরীক্ষায় ফেলবেন না, যা থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। হে মহান রব! ইসলামের স্বার্থে আপনি আমাদের এই জনপদকে নিরাপদ করুন-আমীন!!