এই নৃশংসতার শেষ কোথায়?

৯ জুলাই বুধবার। সময় বিকাল ৫টা ৪০ থেকে ৬টা। ঢাকার রাজপথে নৃশংসতার আরো একটি লোমহর্ষক ইতিহাস রচিত হ’ল। পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) ৩নং গেইট সংলগ্ন এলাকায় ঘটে গেল ইতিহাসের এক জঘন্যতম, বর্বরোচিত ও নারকীয় হত্যাকান্ড। প্রতিহিংসার রাজনীতির পোষ্য, সমাজের বিষাক্ত কীট চাঁদাবাজদের জিঘাংসার নির্মম শিকার হ’লেন নিরীহ ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ (৩৯)। প্রথমে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে এবং ইট-পাথর দিয়ে আঘাত করে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে করা হয় বিবস্ত্র। খুলে ফেলা হয় শর্ট প্যান্ট ছাড়া সবকিছু। এরপর উলঙ্গ দেহটি খোলা আকাশের নীচে বৃষ্টিস্নাত পাকা সড়কে ফেলে একের পর এক পাথর ছুঁড়ে মারা হয় নিথর দেহটির উপর। অতঃপর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নিহতের রক্ত নিজের বুকে মেখে উল্লাস করে আসামী আলমগীর। অন্য আসামীরা রক্তাক্ত লাশের উপর মারতে থাকে চড়-থাপ্পড় লাথি। কেউ কেউ বুকের ওপর উঠে করে পৈশাচিক নৃত্য।

এই বর্বরতম হত্যাকান্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হ’লে মানুষের মধ্যে তীব্র নিন্দা-ঘৃণা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্তম্ভিত হয়ে পড়ে গোটা জাতি। ঘটনাটি রাতের অন্ধকারের নয়, নয় কোন গোপন আস্তানার, নয় লোকচক্ষুর অন্তরালে অতি সংগোপনে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা। লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, কেউ সেদিন এগিয়ে আসেনি সোহাগের প্রাণ বাঁচাতে। চিৎকার পর্যন্ত করেনি কেউ। খবর দেয়নি ট্রিপল নাইনে ফোন করে পুলিশকেও। সকলেই নির্বাক। যেন নীরব দর্শক হয়ে উপভোগ করেছে নিষ্ঠুরতার এই চূড়ান্ত পর্বটি। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সাহস কি আমাদের এতটাই তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে? মনুষ্যত্ব আজ কোথায়? প্রতিহিংসার রাজনীতি সাধারণ মানুষের অন্তরাত্মাকে কি এতটাই ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলেছে যে, ‘ট’ু শব্দটি পর্যন্ত করার সাহসও তারা হারিয়ে ফেলেছে। তবে কি জুলাই বিপ্লবের সাহসী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ বছর ঘুরতেই আমরা ভুলতে বসেছি। এটাই কি ছিল জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা? এক ফ্যাসিবাদ তাড়িয়ে সেখানে নতুন কোন ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসন করার এটা কোন পূর্বাভাস নয়তো? নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন কি এভাবেই ধূলিস্যাৎ হয়ে যাবে?

এ ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশিত হয়েছে। সেকারণ খুনের সাথে জড়িত ৫ জনকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে তীব্রভাবে। ভাবখানা এমন যে, তারা ক্ষমতায় এসে গেছে। বিগত সাড়ে পনের বছরের ক্ষুধা নিবারণের জন্য তারা যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে। ফলে অবৈধ দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে এই দলের একশ্রেণীর নেতা-কর্মী। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও তোলপাড়। বলার অপেক্ষা রাখে না, এসব নেতাকর্মীর অপকর্মের দায়ভার বিএনপির উপরই বর্তাবে। ইতিমধ্যে নানা অপকর্মে জড়িত দলের প্রায় পাঁচ হাযার নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের কথাও তাদের শীর্ষ নেতারা স্বীকার করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে- ঘটনা ঘটার পর সামান্য দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েই কি দায়মুক্ত হওয়া যাবে? এভাবেই কি একটা বড় দলের ইমেজ রক্ষা করা সম্ভব? আর কি কোন করণীয় নেই? নিশ্চয়ই প্রত্যেক এলাকায় দলের কারা কারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত, তা তাদের অজানা থাকার কথা নয়। আগে থেকেই কেন এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না? ঘটনা ঘটার পর বহিষ্কার করে কতটুকু ফায়দা? দিন শেষে খেসারত তো দলকেই দিতে হবে।

প্রিয় পাঠক! সেভেন-নাইনের (৭/৯) এই ঘটনা আমাদেরকে নিকট ও দূর অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘটে যাওয়া আরো কিছু ভয়ঙ্কর ও পৈশাচিক হত্যাকান্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠার তান্ডব। সেদিন প্রকাশ্য দিবালোকে ১৪ দলীয় জোটের সন্ত্রাসীরা তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কয়েকজন কর্মী ও সমর্থককে লগি, বৈঠা, লাঠি, পিস্তল ও বোমা হামলা চালিয়ে যেভাবে খুন করেছিল তা মনে হ’লে আজও গা শিউরে ওঠে। সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ মেরে সেই লাশের উপর সেদিন তারা নৃত্য করেছিল। যে ঘটনা বিশ্ব বিবেককে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল।

এর মাত্র ৬ বছর পর ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বরে পুরান ঢাকার জজকোর্ট এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আরেক বলি হয় বিশ্বজিৎ দাস নামের একজন নিরীহ দর্জি। ১৮ দলীয় জোটের সরকার বিরোধী অবরোধ কর্মসূচী চলাকালে রাস্তা পার হওয়ার সময় আওয়ামী হায়েনাদের ধাওয়ার মুখে পড়ে বিশ্বজিৎ। দৌড়ে নিকটস্থ ভবনের দোতলায় একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে আশ্রয় নেয়। সেখানেই হামলে পড়ে হায়েনারা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রক্তাক্ত হয়ে যায় পুরো দেহ। প্রাণ বাঁচাতে পাশের আরেকটি ভবনে ঢুকে পড়ে। কিন্তু না শেষ রক্ষা হয়নি। সেখানেও নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায় তার উপর। তারপর সেখান থেকে বের করে এনে রাস্তায় আবার নির্যাতন। তার আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারি হ’লেও এই নির্মমতার সম্মুখে সেদিন কেউ এগিয়ে আসেনি। শেষতক চাপাতির কোপে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিরীহ বিশ্বজিৎ। নিষ্ঠুরতা এতটাই সীমা ছাড়িয়ে যায় যে, তাকে হাসপাতালে পর্যন্ত নিতে দেয়নি এই হায়েনারা। অবশেষে দেহটা যখন ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিল তখন একজন রিক্সাওয়ালা তাকে পার্শ্ববর্তী মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে।

বিশ্বজিৎ হত্যার ৭ বছর পর ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে আরো একটি কলঙ্কিত ঘটনা ঘটে। বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে (২১) রাতভর নির্যাতন করে হত্যা করে তৎকালীন ক্ষমতাশীল দলে ছাত্র সংগঠনের ক্যাডাররা। অপরাধ ফেইসবুকে ভারত বিরোধী একটি পোষ্ট। এই ঠুনকো অভিযোগে দেশের সর্বোচ্চ জ্ঞান বিতরণ কেন্দ্র ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়’ (বুয়েট)-এর একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে আবাসিক হলের কক্ষে রাতভর নির্মম নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যা করা কতটা নির্দয়, নিষ্ঠুর ও মানবতা বিরোধী তা ভাষায় প্রকাশ করা দুঃসাধ্য। এ হত্যাকান্ডও জাতিকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিল।

উপরোক্ত ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, আমাদের সমাজে হিংসা-প্রতিহিংসার বিষ কতটা গভীরে প্রোথিত এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা মানুষকে কতটা অমানবিক করে তুলতে পারে। আবরারের নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে সেদিনও যে নির্লিপ্ততা দেখা গিয়েছিল, তা যেন আজকের সর্বব্যাপী নীরবতারই পূর্বাভাস ছিল।

প্রশ্ন হচ্ছে- রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কেন বার বার এ রকম লোমহর্ষক, বর্বরোচিত হত্যাকান্ড সংঘটিত হচ্ছে এবং এর শেষ কোথায়?

জবাব: প্রথমত: প্রচলিত গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থা এর জন্য দায়ী। দলীয় শাসন ব্যবস্থার ফলে যে দল যখন ক্ষমতায় যায় তখন সে দলের কর্মীরা হয়ে ওঠে বেপরোয়া। হেন অপরাধ নেই যে তারা করে না। তাদের অন্যতম ব্যাকাপ (backup) হচ্ছে তাদের দল ক্ষমতায়। প্রশাসন তাদের হাতের মুঠোয়। কাজেই অপরাধ যত বড়ই হোক, নেতা-নেত্রীরা তো আছেই। এই ভরসায় তারা ক্রমান্বয়ে হিংস্র থেকে হিংস্রতর হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয়ত: বিচারহীনতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা। আমাদের দেশে যখন কোন ঘটনা ঘটে তখন তা হাঁক-ডাক ছেড়ে প্রচার করা হয়। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তোলপাড় হয়। তদন্ত কমিটি, গ্রেফতার সবই হয়। কিন্তু দিন-মাস-বছর পেরিয়ে যখন ঘটনাটি বাসি হয়ে যায় তখন জনগণের স্মৃতি থেকে এটি প্রায় হারিয়ে যায়। এ সুযোগে অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়। অথবা শাস্তি হ’লেও তা লঘু বা গুরু যাই হোক শারঈ নিয়মে জনসমক্ষে হয় না। চার দেয়ালের মধ্যে হয়। ফলে এই অপরাধ ও শাস্তি থেকে কেউ কোন শিক্ষা লাভ করে না। আবার ক্ষমতার দাপটে অনেক বড় বড় অপরাধীকে বিচারের আওতায়ও আনা হয় না।

অপরদিকে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতাও একটি বড় কারণ। বৃটিশদের তৈরী আইনে বিচারকার্যে যে সময়ক্ষেপণ হয় তাতে আর ন্যায়বিচার থাকে না। অনেক সময় বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে রায় কার্যকর হ’তে বাদীর হায়াতও শেষ হয়ে যায়। বোদ্ধা পাঠক সহজেই বুঝবেন যে, অপরাধ সংঘটনের দিন থেকে ১০/১৫ বছর পরে যদি রায় হয় তাতে ভিকটিমের আর কি আসে যায়? বা জাতিরও কি কোন দৃষ্টিভঙ্গি থাকে সেদিকে? ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোন (William Ewart Gladstone) যথার্থই বলেছেন যে, Justice delayed is justice denied ‘বিলম্বিত বিচার ন্যায়বিচার অস্বীকার করারই নামান্তর’। আর এই দীর্ঘসূত্রিতাই যেন আমাদের দেশের চিরায়ত বিধানে পরিণত হয়ে গেছে। সুতরাং আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, সমাজে ও রাষ্ট্রে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হ’লে দ্রুত বিচার কার্য শেষ করতে হবে এবং অবশ্যই সব ধরনের প্রভাবের উর্ধ্বে ওঠে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অপরাধীর কোন রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধীকে অপরাধী হিসাবেই চিহিণত করতে হবে। আশরাফ-আত্বরাফ তথা সম্ভ্রান্ত ও সাধারণ নাগরিকের জন্য দ্বিমুখী বিচার করা যাবে না। যেমনটি রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, হে আরবের নেতারা শুনে রাখো ‘..যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতেমাও চুরি করত, তবে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম’ (বু.মু. মিশকাত হা/৩৬১০)

তৃতীয়ত: দেশে শারঈ আইন না থাকা। শারঈ আইন থাকলে চোরের হাত কাটা, বিবাহিত ব্যভিচারীকে জনসমক্ষে হত্যা, ক্বিছাছ বা জানের বদলে জান ইত্যাদির যথার্থ প্রয়োগ থাকলে এবং তা প্রকাশ্যে সংঘটিত হ’লে জনগণ ভীত হ’ত এবং এ জাতীয় অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠত। ফলে দেশে অপরাধ প্রবণতা কমে যেত।

চতুর্থত: দ্বীনী জ্ঞান চর্চা না থাকা। আমাদের দেশে মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার দ্বিমুখী ধারার কারণে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতরা দ্বীন সম্পর্কে খুব কমই জ্ঞান লাভ করে থাকে। ফলে ইসলামের আইন-বিচার ও শাস্তি সম্পর্কে তারা একেবারেই অজ্ঞ থেকে যায়। অপরাধীর দুনিয়াবী ও পরকালীন শাস্তি সম্পর্কে জানারও প্রয়োজনবোধ করে না। ফলে ধর্মটাই তাদের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে দেখা দেয়। সেকারণ শিক্ষার সকল স্তরে ইসলামের মৌলিক শিক্ষাকে বাধ্যতামুলক করা আবশ্যক।

এক্ষণে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, দলীয় শাসনের যাঁতাকলে নিষ্পিষ্ট এই জাতির প্রকৃত মুক্তি নিহিত আছে সৃষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত শাসন ব্যবস্থা তথা ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার মধ্যে। যে খেলাফত ব্যবস্থার ভিত্তি প্রোথিত আছে আখেরাতের চেতনার উপর। যে ব্যবস্থায় খলীফার জবাবদিহিতা থাকবে স্রেফ আল্লাহর কাছে। যেখানে সার্বভৌমত্ব থাকবে একমাত্র আল্লাহর। বিধান চলবে তাঁর। খলীফা আইন রচনাকারী নন, তিনি হবেন এলাহী আইনের প্রয়োগ বা বাস্তবায়নকারী। যেখানে দলও থাকবে না প্রার্থীও থাকবে না। ক্ষমতার লোভ থাকবে না। দলীয় ক্যাডার বাহিনীর প্রয়োজন হবে না। তাক্বওয়া-পরহেযাগারিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচিত হবেন। ফলে সমাজে মারামারি, হানাহানি, খুন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাণিজ্য কিছুই থাকবে না। নির্মমতার শিকার হয়ে আর কোন মায়ের বুক খালি হবে না, কোন বোন অকালে বিধবা হবে না, পিতা সন্তানহারা হবেন না। আর মযলূমের আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারি হবে না। তখন সমাজে জ্ঞান চর্চার প্রতিযোগিতা হবে। জ্ঞানীদের মর্যাদা ও কদর বাড়বে। জ্ঞানীরাই হবে সমাজের কর্ণধার। আল্লাহ আমাদেরকে সে সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার তাওফীক দান করুন-আমীন!






আরও
আরও
.