পূর্বোক্ত আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, বিবর্তন ঘটানোর কোন ক্ষমতাই প্রাকৃতিক নির্বাচনের নেই। অথচ ডারউইন ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ (Natural Selection)-কেই বিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি বানিয়েছিলেন। যদিও তিনি নিজেও এ সত্যটি অবগত ছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন যে, Unless profitable variations occur, natural selection can do nothing (প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুকূল বৈষম্য কিংবা বৈচিত্র্য না ঘটা পর্যন্ত প্রাকৃতিক নির্বাচন কিছুই করতে পারে না)।[1]
এই ‘অনুকূল পরিবর্তনগুলো’ কিভাবে ঘটে, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ডারউইনের জানা ছিল না। ফলে তিনি তার যুগের ফরাসি জীববিজ্ঞানী জাঁ-ব্যাপটিস্ট ল্যামার্কের ‘অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুক্রমিক স্থানান্তর’ (Lamarckism) তথা বংশীয় ক্রমবিকাশের ধারণার ওপর নির্ভর করেছিলেন। যেমন, ল্যামার্কের মতে, জিরাফের পূর্বপুরুষেরা উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে গিয়ে ঘাড় কিছুটা প্রসারিত করেছিল, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়ে আজকের লম্বা ঘাড়ের জিরাফে পরিণত হয়েছে। ডারউইন নিজেও একই ল্যামার্কীয় ধারায় দাবী করেছিলেন যে, খাবারের খোঁজে মুখে হাঁ করে পানিতে সাঁতার কাটতে থাকা কিছু ভালুক কালের পরিক্রমায় তিমিতে রূপান্তরিত হয়েছিল।[2] এই অবাস্তব হাস্যকর গল্পগুলো পরবর্তীতে গ্রেগর ম্যান্ডেলের জিনতত্ত্ব/বংশগতি সূত্র (Genetics) আবিষ্কৃত হওয়ার পর সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও অন্তঃসারশূন্য প্রমাণিত হয়েছে।[3] অধিকন্তু বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ১৯৫৩ সালে ডিএনএ (DNA)-র গঠন এবং আণবিক জীববিজ্ঞানের ‘সেন্ট্রাল ডগমা’ (Central Dogma) আবিষ্কৃত হওয়ার পর জানা যায় যে, প্রতিটি জীবকোষের নিউক্লিয়াসে সুনির্দিষ্ট জৈবিক তথ্য বা সংকেত (Genetic Code) সংরক্ষিত থাকে। ফলে কোন জীবদেহের জীবনকালে অর্জিত কোন শারীরিক পরিবর্তন বা চর্চা সন্তানের ডিএনএ-তে পৌঁছায় না।[4]
সুতরাং আধুনিক বংশগতি বিদ্যা ও আণবিক জীববিজ্ঞানের সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কোন জৈবিক তথ্য (Genetic Code) বা সম্পূর্ণ নতুন কোন অঙ্গের উদ্ভাবন ঘটানো অসম্ভব। ফলে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে বিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি বানিয়ে এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে রূপান্তরের দাবিটি বৈজ্ঞানিকভাবেই সম্পূর্ণ অসার প্রমাণিত হয়।
২. সাধারণ পূর্বপুরুষ তত্ত্ব পর্যালোচনা :
ডারউইনের অন্যতম দাবী হ’ল, পৃথিবীর সকল জীব সেটা হোক এককোষী ব্যাকটেরিয়া থেকে সুবিশাল নীলতিমি, কিংবা ক্ষুদ্র ছত্রাক থেকে জটিল মানবজাতি, সবকিছু একটিমাত্র আদি প্রাণ থেকে বিবর্তিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি কোটি কোটি বছর ধরে অতি ধীর গতিতে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তনের সঞ্চয়ের মাধ্যমে ঘটে চলেছে। ডারউইনের ভাষায় এটিই ছিল one long argument (এক সুদীর্ঘ যুক্তি), যেখানে জীবজগতের বৈচিত্র্যকে একটি বিশাল জীবন-বৃক্ষের (Tree of Life) মূল কান্ড থেকে শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃতির সাথে তুলনা করা হয়েছে।
অথচ গত ১৬৫ বছরের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এই একক পূর্বপুরুষ মতবাদের পক্ষে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এর অসম্ভব্যতাই প্রমাণিত হয়েছে। যা নিম্নরূপ-
প্রথমতফসিল বা জীবাশ্ম রেকর্ডের শূন্যতা : এক-কোষ বিশিষ্ট জীবদেহ যদি ক্রমবিকাশের মাধ্যমে মানুষের মত অতি উচ্চ ধরনের প্রাণীতে পরিণত হয়, তবে তার কোন প্রাচীন ফসিল বা জীবাশ্ম রেকর্ড নিশ্চয়ই থাকতে হবে, যা ক্রমবিকাশের (Gradualism) প্রমাণ বহন করে! অথচ বাস্তবতা হ’ল এই যে, আজ থেকে প্রায় ৫৪ কোটি বছর আগে মাত্র ১-২ কোটি বছরের মধ্যে পৃথিবীর অধিকাংশ প্রধান প্রাণীদলের জীবাশ্ম (যেমন: পতঙ্গ, শামুক, মেরুদন্ডী প্রাণীর পূর্বসূরি) রেকর্ড হঠাৎ করেই একসাথে পাওয়া গেছে (যাকে আখ্যা দেয়া হয়েছে ‘ক্যাম্ব্রিয়ান তথ্য-বিস্ফোরণ’ (Cambrian Information Explosion)। কিন্তু এদের আগের কোন পূর্বপুরুষের জীবাশ্ম রেকর্ড পাওয়া যায় না।[5] ডারউইন নিজেই স্বীকার করেছেন যে, হঠাৎ করে এত রকমের প্রাণীর আবির্ভাব তার তত্ত্বের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুক্তিগুলোর একটি, যার কোন উত্তর তার কাছে নেই।[6] ডারউইন ধারণা করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে হয়তো মাটির নীচে এসব প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান পূর্বপুরুষদের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হবে। কিন্তু বিগত দীর্ঘ ১৬৫ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে মাটির নীচে শিলাস্তরে কোটি কোটি জীবাশ্ম সংগৃহীত হওয়ার পরেও ধারাবাহিকভাবে অনুরূপ কোন ফসিলের হদিস অদ্যাবধি মেলেনি।
দ্বিতীয়তমধ্যবর্তী রূপের (The Missing Links Issue) অভাব : ডারউইনীয় ক্রমান্বয়িক বিবর্তন প্রক্রিয়া সত্য হ’লে এক প্রজাতি থেকে আরেক প্রজাতিতে ধাপে ধাপে রূপান্তরের সময় মাঝের রূপগুলো (Transitional Forms যেমন: অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক মাছ, অর্ধেক উভচর) জীবাশ্ম হিসাবে থাকার কথা ছিল, যাকে ডারউইন innumerable transitional forms বলে উল্লেখ করেছিলেন। অথচ জীবাশ্মবিজ্ঞানের ইতিহাসে এই ধারণাকৃত মধ্যবর্তী রূপগুলোর কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ডারউইন নিজেই এই মধ্যবর্তী জীবাশ্মের অভাবের কথা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘যদি কোটি কোটি বছর ধরে এই রূপান্তর ঘটে থাকে, তবে কেন আমরা প্রকৃতির সব জায়গায় বা জীবাশ্ম স্তরে সেই অগনিত মধ্যবর্তী রূপগুলো দেখতে পাই না?‘[7] এই শূন্যতা ও অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা তিনি নিজেই দেয়ার চেষ্টা করেছেন এই বলে যে, এসব মধ্যবর্তী রূপের জীব জীবাশ্মে পরিণত হওয়ার আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে অথবা সেগুলো এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। বোঝাই যায় যে, এ কথার কোন সারবত্তা নেই বরং নিতান্তই কাল্পনিক। যদি থাকত তবে এর পক্ষে অন্তত বিশ্বাসযোগ্য একটি প্রমাণ হ’লেও তো থাকার কথা ছিল!
মজার ব্যাপার হ’ল, বিবর্তবাদের প্রমাণ হিসাবে ইতিহাস ও বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে ‘বনমানুষ ও মানুষের মধ্যবর্তী রূপসমূহ’ বা আদিম মানুষের ক্রমবিবর্তনের একটি চিত্র দেখানো হয়। অথচ এই চিত্রটি কেবলই এক ভ্রান্ত কল্পনা। বনমানুষ থেকে ক্রমান্বয়ে মানুষে রূপান্তরের যে ছবিগুলো দেখা যায় (যা বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় March of Progress বা The Road to Homo Sapiens নামে আখ্যা দেয়া হয়), তা কেবল সাধারণ মানুষের কাছেই বিভ্রান্তিকর নয়, বরং আধুনিক জীবাশ্মবিজ্ঞান ও জিনতত্ত্বও তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
মূলত, ১৯৬৫ সালে Life Nature Library সিরিজের Early Man (আদি মানব) নামক বইটির জন্য চিত্রশিল্পী রুডলফ জ্যালিঙ্গার (Rudolph Zallinger) এই কাল্পনিক চিত্রটি এঁকেছিলেন। ছবিটিতে বাম থেকে ডানে ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন বিলুপ্ত ও আধুনিক প্রজাতিকে এক সারিতে হেঁটে যেতে দেখা যায়। প্রথমে নীচু ও কুঁজো হয়ে হাঁটা এক প্রজাতি (Pliopithecus), মাঝখানে ক্রমান্বয়ে কিছুটা সোজা হয়ে হাঁটা মধ্যবর্তী কিছু রূপ (যেমন: Australopithecus, Homo erectus) এবং শেষে একেবারে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আধুনিক মানুষ (Homo sapiens)। এটি কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আঁকা হয়নি, বরং সাধারণ মানুষের সামনে বিবর্তনকে সহজভাবে উপস্থাপন করতে গিয়ে এটি একটি কাল্পনিক রূপক হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে টি-শার্ট, কার্টুন, বিজ্ঞাপনে এই ছবিটির অসংখ্য চিত্র প্রচারিত হওয়ায় ছবিটি মানুষের মনস্তত্ত্বে বিবর্তনের
তথাকথিত প্রমাণ হিসাবে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়।[8]
বিখ্যাত বিবর্তনবাদী জীবাশ্মবিদ স্টিফেন জে গুল্ড (Stephen Jay Gould) তার ১৯৮৯ সালে রচিত Wonderful Life গ্রন্থে এই চিত্রটির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই একটি একক ছবি মানবজাতির মনে বিবর্তন সম্পর্কে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণার জন্ম দিয়েছে। তার মতে, এটি বিবর্তনের কোন বৈজ্ঞানিক চিত্র নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া একটি বিভ্রান্তিকর রূপক মাত্র (Canonical icon)।[9]
বিবিসি’তে ২০১৭ সালে বিজ্ঞান সাংবাদিক কলিন ব্যারাসের একটি দীর্ঘ প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয় যে, মানুষ ও বনমানুষের সর্বশেষ সাধারণ পূর্বপুরুষ (Last Common Ancestor) সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো একমত হ’তে পারেননি। এমনকি সেই পূর্বপুরুষ দেখতে কেমন ছিল, তা নিয়েও নেই কোন ঐকমত্য।[10]
২০২১ সালে মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞান সাময়িকী Science-এ প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি’র গবেষক সের্হিও আলমেসিহা ও তাঁর সহকর্মীরা দেখান যে, গত দেড়শ বছরে ৫০টিরও বেশী বনমানুষ-গোত্র (Fossil ape genera)-এর জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হ’লেও এদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য থেকে ডারউইনের কাঙ্ক্ষিত মানুষ বা বনমানুষের সম্ভাব্য একক পূর্বপুরুষের কোন ছাপ খুঁজে পাওয়া যায় না।[11]
তৃতীয়ত,জীবনের আগমন প্রশ্নের উত্তরহীনতা : বিবর্তন তত্ত্বের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হ’ল, কোথা থেকে এবং কিভাবে এলো পৃথিবীর প্রথম জীবন? বিজ্ঞানের সুপ্রতিষ্ঠিত Biogenesis নীতি অনুযায়ী ‘জীবন কেবল সজীব বস্ত্ত থেকেই আসতে পারে’ অর্থাৎ জড় থেকে নয়, বরং জীবন থেকেই জীবন আসে।[12] কিন্তু ডারউইনবাদ দাবী করে, কোটি কোটি বছর আগে কোন এক আদিম জলাশয়ে নির্জীব রাসায়নিক উপাদানগুলো (Inanimate matter) স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় (Chemical Evolution) একত্র হয়ে পৃথিবীর প্রথম সজীব কোষটি তৈরি করেছিল। আর এভাবেই পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব হয়। অথচ এই ধারণা সুপ্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান নীতি ‘বায়োজেনেসিস’-এর সরাসরি পরিপন্থী।
১৯৫৩ সালে এক আমেরিকান রসায়নবিদ স্ট্যানলী মিলারের পরীক্ষা থেকে বিবর্তনবাদীরা ক্ষীণ আশা দেখেছিল যে, হয়ত এর মাধ্যমে প্রাণ-পূর্ব পৃথিবীতেও প্রাণের প্রাথমিক অণু (অ্যামিনো এসিড) তৈরির সম্ভব্যতা দেখানো যাবে। কিন্তু সেখান থেকে স্ব-প্রতিলিপিকারী (self-replicating) একটি জীবকোষে পৌঁছানোর পথ অর্থাৎ প্রথম জেনেটিক কোড (Genetic Code) কিভাবে এলো এবং নির্জীব রাসায়নিক অণুগুলো কিভাবে কোন বুদ্ধিমান নির্দেশনা ছাড়া নিজে নিজে একটি জটিল ডিজিটাল বায়োলজিক্যাল কোড তৈরি করল এবং তা বংশগতির মতো নিখুঁত প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করতে শুরু করল, তার কোন যৌক্তিক জবাব তাদের কাছে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ভূ-রসায়নবিদদের গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, মিলার তাঁর ল্যাবরেটরিতে আদি পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের যে রূপ কল্পনা করেছিলেন, বাস্তব আদি পৃথিবীর পরিবেশ তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল।[13]
অবশেষে ফরাসী বিজ্ঞানী লুই পাস্ত্তর ১৮৫৯-৬১ সালে তার বিখ্যাত রাজহাঁস-গ্রীবা ফ্লাস্ক (swan-neck flask) পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, খাদ্য-বস্ত্ত ভর্তি ফ্লাস্কের মুখ যদি বন্ধ রাখা হয় এবং নির্বীজ বা প্রজনন ক্ষমতা রহিত করে দেয়া হয়, তাহ’লে তাতে কোন জীবাণুর উদ্ভব ঘটে না। তার এই পরীক্ষার মাধ্যমে ‘স্বতঃস্ফূর্ত প্রজনন’ (spontaneous generation) তত্ত্ব চিরতরে বাতিল হয়।[14] ফলে জীববিজ্ঞানের মূল ভিত্তি Origin of Life & Molecular Biology দিয়েই ডারউইনবাদের এই দাবী চরম ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়।
সংক্ষেপে, বিবর্তন তত্ত্ব কেবল ‘বিদ্যমান জীবপ্রজাতির পরিবর্তন’ কিভাবে ঘটে তা ব্যাখ্যা করার দাবী করলেও, প্রথম সজীব কোষটির উদ্ভব কিভাবে হ’ল, কিভাবে শূন্য থেকে জটিল জেনেটিক কোড ও জীবিত কোষব্যবস্থা তৈরি হ’ল, সেই মূল প্রশ্নের সামনে এসে বিবর্তনবাদ সম্পূর্ণ উত্তরহীন ও অমীমাংসিত থেকে যায়।
পৃথিবীর কোন বিবর্তনবাদী এই রহস্যের সমাধান দিতে পারে নি। এজন্য সান্ডিয়াগো স্ক্রিপস ইনস্টিটিউটের ভূ-রসায়নবিদ জেফরী বাদা ১৯৯৮ সালে Earth ম্যাগাজিনে স্বীকার করেন যে, ‘আজ এই বিংশ শতাব্দী ছেড়ে যাওয়ার প্রাক্কালে সবচেয়ে বড় যে অমীমাংসিত সমস্যাটির মুখোমুখি আমরা হচ্ছি...
সেটি হ’ল, ভূপৃষ্ঠে প্রাণের সঞ্চার হ’ল কিভাবে?’[15] অনুরূপভাবে ১৯৯৪ সালে সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এর প্রখ্যাত বিবর্তনবাদী অধ্যাপক লেসলি অরগেল নিজেই স্বীকার করেন যে, ‘এটা একেবারেই অসম্ভব যে, গঠনগতভাবে জটিল প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড উভয়ই একই সময় একই জায়গা হতে উৎপন্ন হবে... প্রথম দৃষ্টিতে একজন এ সিদ্ধান্তে উপনীত হ’তে পারেন যে, প্রকৃতপক্ষে প্রাণ কখনও রাসায়নিক পদ্ধতিতে তৈরী হ’তে পারতো না’।[16]
এভাবে বিবর্তনবাদীদের সকল ধারণাগুলো ধারাবাহিকভাবে হতাশায় পর্যবসিত হয়েছে এবং বাস্তবতা ও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তাদের প্রচেষ্টাগুলো একের পর এক মুখ থুবড়ে পড়েছে।
(ক্রমশ:)
[1]. Charles Darwin, On the Origin of Species by Means of Natural Selection, Chapter 4, p. 82.
[2]. Charles Darwin, On the Origin of Species, Chapter 1: "Variation Under Domestication" & Chapter 6: "Difficulties on Theory", p. 194
[3]. Theodosius Dobzhansky, Genetics and the Origin of Species (New York : Columbia University Press), p. 21–45; মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম, বিবর্তনবাদ ও সৃষ্টিতত্ত্ব, পৃ. ৫৫; আরিফ আজাদ ও রাফান আহমেদ, সত্যকথন (১ম খন্ড), অধ্যায় : ‘ক্ষুদ্র পরিবর্তন বনাম প্রজাতিরান্তর’।
[4]. শেখ আব্দুল মাবুদ, বিবর্তন তত্ত্ব : ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে মূল্যায়ন (রাজশাহী : তন্বী পাবলিকেশন্স, ২০০০), পৃ. ৪।
[5]. Douglas H Erwin and James W. Valentine, The Cambrian Explosion: The Construction of Animal Biodiversity (Greenwood Village, CO: Roberts and Company Publishers, 2013).
[6]. Charles Darwin, On the Origin of Species by Means of Natural Selection, or the Preservation of Favoured Races in the Struggle for Life, p. 306–307.
[7]. Charles Darwin, On the Origin of Species by Means of Natural Selection, Chapter IX : Difficulties on Theory, p. 171.
[8]. David P Barash, The 'March of Progress' Has Given Us a Wrong Idea of Evolution (Nautilus, February 23, 2021).
[9]. Stephen Jay Gould, Wonderful Life: The Burgess Shale and the Nature of History (New York: W. W. Norton & Company, 1989), p. 27–36.
[10]. http://www.bbc.com/earth/story/20170517-we-still-dont-know-what-the-last-common-ancestor-of-humans-and-apes-looked-like.
[11]. Fossil Apes and Human Evolution, Science 372, no. 6542 (May 7, 2021): eabb4363.
https://doi.org/10.1126/science.abb4363.
[12]. James Strick, Evolution & The Spontaneous Generation (Continuum International Publishing Group, 2001), p. xi–xxiv.
[13]. John Horgan, In the Beginning... (Scientific American, 1991), 264 (2), p. 116–126।
[14]. মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম, বিবর্তনবাদ ও সৃষ্টিতত্ত্ব, পৃ. ৭২-৭৩।
[15]. Jeffrey L. Bada, Biochemistry: Origins of Life on Earth, Earth (1998), 7(1), p. 40.
[16]. Leslie E. Orgel, The Origin of Life on the Earth, Scientific American (1994), 271(4), p. 53–61.।