ভূমিকা :
১০ই মুহাররম ইসলামী ক্যালেন্ডার তথা হিজরী সনের একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিন ফেরআউনের হাত থেকে মূসা (আ.) নাজাত পেয়েছিলেন, যে দিনটিকে পরবর্তীকালে ইহূদীরা ছিয়ামের মাধ্যমে উদযাপন করত। রাসূল (ছা.) মদীনায় আসার পর মুসলমানদেরকে শুকরিয়া স্বরূপ এই ছিয়াম পালন করার জন্য নির্দেশনা দেন। সেই থেকে উম্মতে মুহাম্মাদী নাজাতে মূসার স্মরণে এই দিনটি এবং এর আগে-পরের আরেকটি দিন ছিয়াম পালন করে আসছে। পরবর্তীতে কাকতালীয়ভাবে ৬১ হিজরীতে একই দিনে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (ছা.)-এর দৌহিত্র হোসাইন (রা.) ইয়াযীদের বাহিনীর হাতে শাহাদাত বরণ করেন। এই শাহাদাতের ঘটনা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক শোকাবহ ও শিক্ষণীয় ঘটনা। কিন্তু এই শোক ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের নামে কালক্রমে শী‘আ সম্প্রদায়ের মধ্যে হাযারো ‘অপসংস্কৃতি’ বা ‘বিদ‘আতী’ কর্মকান্ড ছড়িয়ে পড়ে, যা আশূরায়ে মুহাররমের মূল ইতিহাসকে বিকৃত করে ফেলে। এমনকি কালক্রমে ১০ই মুহাররম আশূরার দিন না হয়ে ‘কারবালা দিবস’ হিসাবে পরিচিত হয়ে যায়। ভারত উপমহাদেশে শী‘আদের দৌরাত্মের কারণে তাদের প্রভাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল-জামা‘আতের অনুসারীদের মধ্যেও হাযারো বিদ‘আতী রসম-রেওয়ায ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষত উপমহাদেশের নবাব-আমীরদের পৃষ্ঠপোষকতায় শী‘আ মতবাদের চর্চা ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল। বর্তমানে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু শী‘আ সম্প্রদায়ের প্রভাবে পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান ও চট্টগ্রামের ইমামবারাকে কেন্দ্র করে আশূরার কুসংস্কারপূর্ণ আচার-অনুষ্ঠানগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আজও টিকে আছে। এই প্রবন্ধে তা‘যিয়া মিছিল, বুক চাপড়ানো, শিকল ও তলোয়ার দিয়ে শরীর রক্তাক্তকরণ (তাতবীর) প্রভৃতি শী‘আ আচার-অনুষ্ঠানসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করা হ’ল, যেন এসকল বিদ‘আতী রসম- রেওয়াজ থেকে সচেতন মুসলিম সমাজ আত্মরক্ষা করতে পারে।
বাংলাদেশে শী‘আ সম্প্রদায় ও আশূরার প্রেক্ষাপট :
বাংলাদেশে শী‘আরা একটি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায় (মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ)। মূলত এই সম্প্রদায়ের বেশীর ভাগই বিহারী, দাউদী বোহরা ও নিজারী ইসমাঈলীদের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে শী‘আ সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ও প্রভাব মূলত মোগল আমল থেকে জোরালো হয়। মোগল সম্রাটদের অনেকেই পারস্য (ইরান) সংস্কৃতির অনুরাগী ছিলেন। বিশেষ করে বাংলার সুবাদার শাহ সুজার শাসনামলে (১৬৩৯-১৬৬০) প্রচুর শী‘আ সাধারণ জনগোষ্ঠী, সৈন্য এবং পন্ডিত পারস্য থেকে বাংলায় আসে। ১৬৪২ সালে (মতান্তরে ১৬৭৬) মীর মুরাদ কর্তৃক ঢাকায় হোসাইনী দালান নির্মাণ বাংলাদেশে শী‘আদের ধর্মীয় চর্চাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদান করে। পরবর্তীতে নায়েব-এ-নাযেমদের পৃষ্ঠপোষকতায় আশূরা একটি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়।
বাংলাদেশে শী‘আ সম্প্রদায় প্রধানত দু’টি ধারায় বিভক্ত। (১) ইছনা আশারিয়াহ (اثنا عشرية) যারা ১২ ইমামে বিশ্বাসী। বাংলাদেশে এদের সংখ্যাই বেশি। পুরান ঢাকা, সিলেট এবং খুলনায় এদের বড় বসতি রয়েছে। (২) ইসমাঈলী : বিশেষ করে আগাখানি শী‘আ। এরা মূলত ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।[1]
আশূরা কেন্দ্রিক শী‘আ অপসংস্কৃতিসমূহ :
১. তা‘যিয়া মিছিল :
মুহাররমের ১০ তারিখে শী‘আরা হোসাইন (রা.)-এর প্রতীকী সমাধি বহন করে শোকযাত্রা করে থাকে। একে তা‘যিয়া মিছিল বলা হয়। আরবী বা উর্দূতে তা‘যিয়া শব্দের অর্থ শোক প্রকাশ করা। শী‘আ সম্প্রদায় মুহররম মাসের প্রথম দশদিন কারবালার ঘটনা উপলক্ষে শোক পালন করে এবং আশূরা বা দশম দিনে হোসাইন (রা.)-এর সমাধির প্রতিকৃতি নিয়ে মিছিল করে, কারণ এদিনই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এই মিছিলে লাঠি, বল্লম ও ধারালো অস্ত্র বহন করা হয় এবং ‘হায় হোসাইন, হায় হোসাইন’ বলে বুক চাপড়ানো হয়। ১০ই মুহাররম ভোরে একটি মিছিল পুরোনো ঢাকার ইমামবারা থেকে বের হয়। এটি নাজিমুদ্দীন রোড, চকবাজার, রহমতগঞ্জ, চাঁদনী ঘাট, উর্দু রোড ও বকশীবাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবারায় ফিরে আসে।
অতঃপর মুল মিছিলটি দুপুরে ইমামবারা থেকে বের হয়ে বকশীবাজার, হরনাথ ঘোষ রোড, আজিমপুর, নিউ মার্কেট হয়ে ধানমন্ডি-২ নম্বর সড়কের পশ্চিম প্রান্তের কল্পিত ‘কারবালা’ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এখানে তা‘যিয়া বিসর্জনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক শোকের সমাপ্তি ঘটে।
শুধু ঢাকা নয়, সমগ্র বাংলাদেশের বড় শহর যেমন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটেও এই প্রথা পালিত হতে দেখা যায়।
ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী ১৮ শতকের দিকে এই মিছিলের মূল কেন্দ্র ছিল হোসাইনী দালান থেকে ফরাশগঞ্জ বা আশক জামাদার এলাকা। তবে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এবং পাকিস্তান আমল পরবর্তী সময়ে মিছিলের গন্তব্য হিসাবে ধানমন্ডির প্রতীকী কারবালা (জিগাতলা এলাকা সংলগ্ন) অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘হায় হোসাইন’ ধ্বনি এবং বুক চাপড়ে মাতম করার এই সংস্কৃতি মূলত ইরাক ও ইরানের শোক পালনের রীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা বাংলাদেশে একটি নিজস্ব রূপ লাভ করেছে।[2]
বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘শী‘আদের উদ্ভব ও বিস্তৃতি ইরাকে ও ইরানে হলেও সেখানে এরূপ শোকমিছিলে তা‘যিয়া বহন করা হয় না। ভারতীয় উপমহাদেশে কখন থেকে তা‘যিয়া মিছিলের প্রবর্তন হয়, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। বাংলাদেশে মোগল আমলে বিশেষত শাহ সুজা (১৬৩৯-১৬৫৯ খ্রি.) বাংলার সুবেদার থাকাকালে শী‘আদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। সম্ভবত তখনই এখানে তা‘যিয়া মিছিলের প্রচলন হয়। বাদশা আকবরের আমলে আগ্রা দুর্গ থেকে তা‘যিয়া বের হ’ত যা মোগল তা‘যিয়া নামে অভিহিত হয়েছে। শাহ সুজার সময়ে সৈয়দ মীর মুরাদ ১০৫২ হিজরী সনে (১৬৪২ খ্রি.) ঢাকায় ঐতিহাসিক হোসাইনী দালান নির্মাণ করেন। ঢাকার নায়েব-নাযেমদের অধিকাংশ ছিলেন শী‘আ। তাঁদের দ্বারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ইমামবারা (امام بارہ) (ইমামের আবাস) নির্মিত হয়। ঢাকা, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, অষ্টগ্রাম, সৈয়দপুর, সিলেট ইত্যাদি স্থানে ইমামবারা আছে। এটিকে কোথাও হোসাইনিয়া বা আযাখানা (মাতমের স্থান)ও বলা হয়।
তা‘যিয়া মিছিলের বৈশিষ্ট্য হ’ল- ১. হোসাইন (রা.)-এর সমাধির প্রতিকৃতি বহন করা; এটি কাঠ, কাগজ, সোনা, রূপা, মার্বেল পাথর ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা হয়। ঢাকার হোসাইনী দালানের তা‘যিয়াটি কাঠ ও রূপার আবরণ দিয়ে তৈরি, যা নবাব সলিমুল্লাহ দান করেন। তা‘যিয়া মিছিলে মাতম করা, বুক চাপড়ানো ও জিঞ্জির দিয়ে পিঠের ওপর আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর কষ্টের সাথে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করা হয়, যাকে শী‘আ পরিভাষায় ‘যঞ্জির যানি’ বা ‘খুনী মাতম’ বলা হয়।
তা‘যিয়া মিছিলের অগ্রভাগে নিশান বহনকারী বাহিনীর পেছনে থাকে বাদ্যকর; তৎপশ্চাতে কয়েকজন লোক লাঠি ঘোরাতে ঘোরাতে ও তরবারি চালাতে চালাতে অগ্রসর হয়। সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল মিছিল করে কারবালা যুদ্ধের মহড়া দেয়। কালো টুপী ও কালো পোশাক পরিধান এবং কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়। মিছিলের সামনে দুটি শিবিকা বা পালকীসহ অশ্বারোহী সৈন্যের সাজে কয়েকজন লোক শোক প্রকাশ করতে করতে অগ্রসর হয় এবং তার পেছনে একদল গায়ক মর্সিয়া বা শোকগান গাইতে থাকে। এভাবে মিছিলটি নিয়ে লোকজন সম্মুখে অগ্রসর হয় এবং একটি পূর্ব নির্ধারিত স্থানে গিয়ে তা শেষ হয়।[3]
এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে শী‘আদের তা‘যিয়া বা শোকমিছিল হয়ে থাকে। যেমন :
(১) ইরান : শী‘আ মতবাদের প্রাণকেন্দ্র ইরানে তা‘যিয়া পালনের ধরণ ভিন্ন। তারা এই দিনে একধরণের ‘তাযিয়েহ’ বা শোকগাথা নাট্য আয়োজন করে, যাতে কারবালার যুদ্ধকে অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। এছাড়া ইয়াজদ শহরে নাখল গার্দানির আয়োজন করা হয়, যা মূলত একটি বিশাল কাঠের কাঠামো (যা হোসাইন (রা.)-এর কফিনের প্রতীক) হাযার হাযার মানুষ মিলে বহন করে। এটি অনেকটা আমাদের দেশের তা‘যিয়া মিছিলের মতই।
(২) ইরাক : ইরাকের কারবালাতেই শী‘আদের মূল তীর্থযাত্রা হয়, যেখানে হোসাইন (রা.)-এর সমাধি অবস্থিত। প্রতি বছর আশূরার সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ কারবালায় জমায়েত হয়। আশূরার দিন দুপুরে তাদের বিশেষ অনুষ্ঠান হয়, যেখানে লক্ষ লক্ষ শী‘আ তীর্থযাত্রী ‘লাববাইক ইয়া হোসাইন’ বলে কারবালার উদ্দেশ্যে দৌড়ে যায়। একে তুয়াইরিজ দৌড় বলা হয়। এটি মূলত ঐতিহাসিক সেই ঘটনার স্মরণে করা হয় যখন কারবালার স্থানীয় লোকেরা হোসাইনের সাহায্যে দৌড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পৌঁছানোর আগেই তিনি শহীদ হন। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানব সমাবেশ হিসাবে পরিচিত।
(৩) পাকিস্তান ও ভারত : লক্ষেণŠ, হায়দারাবাদ এবং মুম্বাইয়ে বিশাল তা‘যিয়া মিছিল বের হয়। লক্ষেণŠর বড় ইমামবারা থেকে বের হওয়া মিছিলে শী‘আ-হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করে। পাকিস্তানে করাচী, লাহোর এবং রাওয়ালপিন্ডিতে বিরাট পরিসরে মিছিলে বুক চাপড়ানো (মাতম) এবং যঞ্জির যানি (রক্তাক্ত মাতম) দেখা যায়।
(৪) লেবানন : বৈরূত এবং নাবাতিয়াহ শহরে হিযবুল্লাহ এবং আমাল মুভমেন্টের নেতৃত্বে বিশাল শোক মিছিল বের হয়। এখানে মিছিল হয় সামরিক বাহিনীর প্যারেডের মত করে এবং হাযার হাযার মানুষ কালো পোশাক পরে শোক প্রকাশ করে।
(৫) পশ্চিমা দেশসমূহ (ইউরোপ ও আমেরিকা)-এর লন্ডন, নিউইয়র্ক, টরন্টো এবং সিডনির মত বড় শহরগুলোতেও এখন বড় আকারে আশূরার মিছিল হয়। লন্ডনের ‘মার্বেল আর্চ’ এলাকায় প্রতি বছর হাযার হাযার শী‘আ জমায়েত হয়ে শোক মিছিল করেন। তবে পশ্চিমা দেশগুলোতে নিরাপত্তার খাতিরে এবং আইনের কারণে সাধারণত ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্ত বের করার (খুনী মাতম) অনুমতি দেওয়া হয় না, তবে এর পরিবর্তে রক্তদানের (Blood Donation) আয়োজন করা হয়।[4]
২. তাতববীর/কামা যানি (قمه زنی/تطبير) : তলোয়ার বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা। এটি আশূরার দিনে শী‘আদের সবচেয়ে ভয়াবহ আচার, যাতে শোকপ্রকাশের নামে তলোয়ার বা শিকল দিয়ে নিজের পিঠ ও মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। শিশুদেরও এই আচারে অংশ নেওয়ানো হয়। উদ্দেশ্য হোসাইন (রা.)-এর রক্তপাতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা। ইরান, ইরাক, লেবানন, পাকিস্তান ও ভারতে এটি প্রচলিত।[5]
৩. মর্সিয়া (الْمَرْثِيَةُ)/ নওহা (نوحہ) বা বিলাপ ও আহাজারি : এটি আশূরার দিনে শী‘আদের অন্যতম প্রধান আচার, যেখানে কারবালার ঘটনা বর্ণনা করে বিশেষ শোকগীতি পরিবেশন করা হয়। এতে পেশাদার নওহাখোয়ান (বিলাপকারী) নিয়োগ করা হয়। দলবদ্ধভাবে উচ্চস্বরে কান্না ও আহাজারি করা হয়। বুকে হাত মেরে ও মাথা নাড়িয়ে ছন্দবদ্ধভাবে বিলাপ করা হয়। মসজিদ, ইমামবারা ও রাস্তায় মাইকে সম্প্রচার করা হয়। সাধারণ শোক পালনের পরিবর্তে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কান্নাকাটি, চিৎকার ও শ্লোগান দেওয়া।
শাহাদাতে হোসাইন উপলক্ষে বাংলা গদ্যে ‘বিষাদ সিন্ধু’ উপন্যাস ছাড়াও বহু মর্সিয়া কবিতা রচিত হয়েছে। যার উপর মন্তব্য করে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম স্বীয় ‘মহররম’ কবিতার শেষে বলেছেন, ‘ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না’। বলা বাহুল্য, হোসাইন (রা.)-এর আদর্শ ও তাঁর ত্যাগকে অনুসরণের কোন অনুষঙ্গ এতে নেই। বরং আছে কেবল শোকের নামে ভান করা, মুখ-বুক চাপড়ানো, রং ছিটানো, নাচ-গান ও বাদ্য-বাজনা ইত্যাদি। সেই সাথে রয়েছে অতিরঞ্জিত লেখনী ও গাল-গল্পের অনুষ্ঠান সমূহ। অথচ জাতীয় মুক্তির পথ দেখিয়ে মহাকবি আল্লামা ইকবাল (১৮৭৭ -১৯৩৮ খৃ.) বলেছেন, ইসলাম যিন্দা হোতা হ্যায় হর কারবালা কে বা‘দ। এর অর্থ হ’ল, বিশুদ্ধ ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য মুমিনকে সর্বদা কারবালার ন্যায় চূড়ান্ত ঝুঁকি নিতে হয়। এর অর্থ এটা নয় যে, কারবালার ঘটনা হক ও বাতিলের লড়াই ছিল।
৪. আরবাঈন যাত্রা : হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের চল্লিশতম দিনে (২০শে ছফর) কারবালায় এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ পায়ে হেঁটে কারবালায় যান এবং মাযার তাওয়াফ করে। এটিকে তারা হজ্জের সমতুল্য মনে করে।
৫. ছাহাবীদের প্রতি গালিগালাজ :
আশূরার অনুষ্ঠানে আবু বকর, উমর ও উছমান (রা.)-কে প্রকাশ্যে গালি দেওয়া ও লা‘নত করা। এটি শী‘আ আক্বীদার একটি মৌলিক অংশ।
৬. শোকের রং হিসাবে কালো পোশাক :
মুহাররম মাস জুড়ে কালো পোশাক পরিধান করা এবং সকল আনন্দ-উৎসব বর্জন করা। বিবাহ ও খুশির অনুষ্ঠান এই মাসে নিষিদ্ধ মনে করা হয়।
৭. নযর ও তাবাররুক বিতরণ : হোসাইন (রা.)-এর নামে নযর মানা এবং বিশেষ খাবার রান্না করে বিতরণ করা। তারা এই খাবারকে বিশেষ বরকতময় মনে করে।
৮. আলমবরদারী : তারা কারবালার যুদ্ধে ব্যবহৃত পতাকার অনুকৃতি পতাকা তৈরি করে মিছিলে বহন করে এবং তাতে চুম্বন করে সম্মান প্রদর্শন করে।
৯. দুলদুল বের করা : তারা হোসাইনের ঘোড়ার প্রতীক হিসাবে সাজানো ঘোড়া মিছিলে বের করে এবং সেই ঘোড়াকে সম্মান প্রদর্শন করে।
১০. সিনাজানি : আশুরার দিন বুকে হাত মেরে ছন্দবদ্ধভাবে আঘাত করা-যঞ্জিরজানি ও তাত্ববীরের হালকা সংস্করণ হিসাবে ব্যাপকভাবে প্রচলিত।
১১. শোকসভায় মিথ্যা ও বাড়াবাড়ি : কারবালার ঘটনায় অতিরঞ্জিত ও বানোয়াট বিবরণ যোগ করে বক্তৃতা দেওয়া হয়,
যার অধিকাংশেরই ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।
১২. আগুনের উপর দিয়ে হাঁটা : কিছু অঞ্চলে হোসাইনের প্রতি ভক্তি প্রদর্শনে জ্বলন্ত আগুনের উপর হাঁটার আচার প্রচলিত আছে।
১৩.পানি পান থেকে বিরত থাকা (সাকা-ই সাকিনা) : কারবালায় ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারকে ফোরাত নদীর পানি থেকে বঞ্চিত রাখার স্মরণে অনেকে মুহাররমের বিশেষ দিনগুলোতে পানি পান করেন না। একে বলা হয় ‘ফাকা’ (পুরো ছিয়াম নয়, তবে তৃষ্ণার্ত থাকা)। বিশেষ করে ১০ই মুহাররম আছরের আগ পর্যন্ত অনেকে পানি পান করেন না। অনেকে শোকের মাস ভেবে এই মাসে বিবাহ-শাদী করেন না। হোসাইনের কোলে থাকা দুগ্ধপোষ্য শিশুপুত্রের শহীদ হওয়ার স্মরণে এদিন অনেকে শিশুর দুধ পান করানোকেও অন্যায় ভাবেন।[6]
পর্যালোচনা :
১. হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতকে কেন্দ্র করে শী‘আরা যে সকল বিদ‘আতী শোকসংস্কৃতি চালু করেছে তার অস্তিত্ব ৩৫২ হিজরী পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের কোথাও ছিল না। বাংলা অঞ্চলের শাসক-নবাবেরা শী‘আ ছিলেন। ফলে এদেশের মুসলমানদের নামে ও আচার-অনুষ্ঠানে শী‘আ প্রভাব ব্যাপকতা লাভ করে। সেই সাথে প্রসার ঘটে আশূরা ও তা‘যিয়ার মত শিরকী ও বিদ‘আতী কর্মকান্ড সমূহের। মূলত তা‘যিয়া মিছিল পারস্য ও ভারতীয় মূর্তি সংস্কৃতির সংমিশ্রণে তৈরি একটি প্রথা। এটি মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রার অনুকরণে তৈরি একটি সংস্কৃতি। তা‘যিয়াপূজা কবরপূজার শামিল। পৌত্তলিকরা যেমন নিজ হাতে মূর্তি গড়ে তার পূজা করে, ভ্রান্ত মুসলমানরা তেমনি নিজ হাতে ‘তা‘যিয়া’ বানিয়ে তার কাছে মনোবাঞ্ছা নিবেদন করে। ইসলামে কবরের প্রতিকৃতি তৈরি করা, সেটিকে সম্মান প্রদর্শন করা বা কবরের নামে মানত করা সরাসরি শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কেননা লাশ বিহীন কবর যিয়ারত মূর্তিপূজার শামিল। যা নিকৃষ্টতম শিরক। আর আল্লাহ শিরকের গোনাহ কখনো মাফ করেন না’ (নিসা ৪/৪৮)।[7]
২. মাতম ও আত্মনির্যাতন (যঞ্জিরযানি) :
শী‘আ অপসংস্কৃতির সবচেয়ে বীভৎস রূপ হলো ‘যঞ্জিরযানি’ বা ধারালো চেইন ও ছুরি দিয়ে নিজের শরীরকে রক্তাক্ত করা। ইসলামে নিজের শরীর আল্লাহর আমানত। শোকের নামে নিজেকে রক্তাক্ত করা বা বিলাপ করা জাহেলী আমল। রাসূল (ছা.) বলেছেন, لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ ، وَشَقَّ الْجُيُوبَ ، وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ ‘যে ব্যক্তি শোকে নিজের গাল চাপড়ায়, জামার বুক ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহেলী যুগের মতো চিৎকার করে কাঁদে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়’।[8]
৩. মর্সিয়া ও ইতিহাসের বিকৃতি :
আশূরা উপলক্ষে বিভিন্ন মজলিসে যে করুণ সুরের শোকগাঁথা বা ‘মর্সিয়া’ পাঠ করা হয়, তাতে কারবালার ইতিহাসকে অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীনভাবে উপস্থাপন করা হয়। এতে জঘন্যভাবে ছাহাবীগণের চরিত্রহরণ করা হয় এবং ইসলামের প্রকৃত জিহাদী চেতনাকে পাশ কাটিয়ে কেবল কান্নাকাটি ও বিলাপকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
৪. মিথ্যা সাহিত্য : শী‘আ লেখকদের অতিরঞ্জিত লেখনীতে বিভ্রান্ত হয়ে যেমন বহু ইতিহাস লিখিত হয়েছে, তেমনি ‘বিষাদ সিন্ধু’-র ন্যায় সাহিত্য সমূহের মাধ্যমে বহু কল্পকথাও এদেশে চালু হয়েছে। বঙ্গদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতায় বহু বছর যাবৎ শী‘আরা থাকার কারণে হোসাইন ও কারবালা নিয়ে অলৌকিক সব কল্পকাহিনী এদেশের মানুষের মন-মগযে বদ্ধমূল হয়ে আছে। এছাড়াও তারা সুকৌশলে এদেশের শিক্ষিত সুন্নী মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু পরিভাষা চালু করে দিয়েছে। যেমন হযরত হোসাইন (রাঃ)-এর নামের পূর্বে ‘ইমাম’ এবং শেষে নবীগণের ন্যায় ‘আলাইহিস সালাম’ বলা হচ্ছে ও সংক্ষেপে (আঃ) লেখা হচ্ছে। এর কারণ এই যে, শী‘আদের আক্বীদা মতে তাদের ‘ইমাম’গণ নবীগণের ন্যায় মা‘ছূম বা নিষ্পাপ। হোসাইন (রাঃ) তাদের অনুসরণীয় বারো ইমামের অন্যতম। তাদের ভ্রান্ত আক্বীদা মতে তাদের ‘ইমাম’গণ নবীগণের ন্যায় আল্লাহর পক্ষ হ’তে মনোনীত হন। সেকারণ নবীগণের ন্যায় ইমামগণের নামের শেষে তারা ‘আলাইহিস সালাম’ বলেন। অথচ ইমাম খোমেনী (১৯০২-১৯৮৯ খৃ.) স্বীয় বইয়ে লিখেছেন, ‘আমাদের মাযহাবের আবশ্যিক আক্বীদা সমূহের অন্যতম হ’ল এই যে, আমাদের ইমামদের উচ্চমর্যাদায় আল্লাহর নৈকট্যশীল কোন ফেরেশতা কিংবা প্রেরিত কোন রাসূল পৌঁছতে পারেননি’। তিনি আরও বলেন, নিশ্চয়ই ইমামদের শিক্ষাসমূহ কুরআনের শিক্ষাসমূহের ন্যায়। যার বাস্তবায়ন ও অনুসরণ করা ওয়াজিব’ (আল-হুকূমাতুল ইসলামিয়াহ ৫২ ও ১৩ পৃ.)।
পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের বিশুদ্ধ আক্বীদা মতে ছাহাবীগণ ‘মা‘ছূম’ বা নিষ্পাপ নন এবং তাঁরা নবীগণের সমপর্যায়ভুক্ত নন। অতএব সুন্নী আলেম ও বিদ্বানগণের উচিত হবে শী‘আদের সূক্ষ্ম চাতুর্য হ’তে সাবধান থাকা; যেন আমাদের ভাষা চর্চার মাধ্যমে তাদের ভ্রান্ত আক্বীদার প্রচার না হয়।[9]
৫. কারবালা দিবস পালন : আশূরায়ে মুহাররম আমাদের দেশে নাজাতে মূসা নয় বরং শাহাদাতে কারবালার স্মরণে শোক দিবস হিসাবে পালিত হয়। এখানে শী‘আদের সাথে মিলিয়ে সাধারণ সুন্নীরাও অগণিত শির্ক ও বিদ‘আতে লিপ্ত হয়। কোটি কোটি টাকার অপচয় হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে। এদিন সরকারী ছুটি ঘোষিত হয় ও সরকারীভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি পালিত হয়। হোসাইনের ভুয়া কবর তৈরী করে রাস্তায় রাস্তায় তা‘যিয়া বা শোক মিছিল করা হয়। ঐ ভুয়া কবরগুলিকে ‘আত্মা সমূহের অবতরণস্থল’ (مَنازِلُ الْأَرواحِ) বলে ধারণা করা হয়। সেখানে হোসাইনের রূহ হাযির হয় কল্পনা করে তাকে সালাম দেওয়া হয়। তার সামনে মাথা ঝুঁকানো হয়। সেখানে সিজদা করা হয়, মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য প্রার্থনা করা হয়। এগুলি পরিষ্কারভাবে শিরক। এছাড়া শোকের ভান করে মুখ ও বুক চাপড়ানো হয়, বুকের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। ‘হায় হোসাইন’ ‘হায় হোসাইন’ বলে মাতম করা হয়। শহীদী রক্তের নামে লাল রং ছিটানো হয়। রাস্তা-ঘাট রং-বেরং সাজে সাজানো হয়। লাঠি-তীর-বল্লম নিয়ে কৃত্রিম যুদ্ধের মহড়া দেওয়া হয়। কেক ও পাউরুটি বানিয়ে ‘বরকতের পিঠা’ বলে বেশী দামে বিক্রি করা হয়। হোসাইনের নামে পুকুরে ‘মোরগ’ ছুঁড়ে যুবক-যুবতীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ঐ ‘বরকতের মোরগ’ ধরার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে।[10]
৬. উগ্র শী‘আরা কোন কোন ‘ইমাম বারা’তে হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর নামে বেঁধে রাখা একটি বকরীকে গালাগালি ও লাঠিপেটা করে এবং অস্ত্রাঘাতে রক্তাক্ত করে বদলা নেয় ও উল্লাসে ফেটে পড়ে। তাদের ধারণা মতে আয়েশা (রাঃ)-এর পরামর্শেই আবুবকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুকালীন অসুখের সময় জামা‘আতে ইমামতি করেছিলেন ও পরে তিনি খলীফা হন। তার কারণে আলী (রাঃ) ১ম খলীফা হ’তে পারেননি (নাঊযুবিল্লাহ)। হযরত ওমর, ওছমান, মু‘আবিয়া, মুগীরা বিন শো‘বা (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম) প্রমুখ জলীলুল ক্বদর ছাহাবীকে এ সময় বিভিন্নভাবে গালি দেওয়া হয়।[11]
৭. রেডিও-টিভি, পত্র-পত্রিকা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণকে একথা বুঝাতে চেষ্টা করে যে, আশূরায়ে মুহাররমের মূল কেন্দ্রবিন্দু হ’ল শাহাদাতে হোসাইন বা কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা। চেষ্টা করা হয় এটাকে ‘হক ও বাতিলের’ লড়াই হিসাবে প্রমাণ করতে। চেষ্টা করা হয় হোসাইনকে ‘মা‘ছূম’ বা নিষ্পাপ ও ইয়াযীদকে ‘মাল‘ঊন’ বা অভিশপ্ত প্রমাণ করতে। অথচ প্রকৃত সত্য এসব থেকে অনেক দূরে।
৮. শী‘আদের প্রভাবে বাংলাদেশের অধিকাংশ সুন্নীরা নামের শেষে বরকতের উদ্দেশ্যে আলী, হাসান বা হোসাইন রাখে, যা নিঃসন্দেহে জাহেলী কাজ। আবার অনেকে ইয়াযিদ এবং মু‘আবিয়া নাম রাখাকে ঘৃণ্য মনে করে।
উপসংহার :
ইসলামী শরী‘আতের মূলনীতি কুরআন ও ছহীহ হাদীছের বাইরে গিয়ে নতুন কোন ইবাদত বা রীতি প্রবর্তন করলে তা ‘বিদ‘আত’-এর অন্তর্ভুক্ত এবং নিশ্চিতভাবে বর্জনীয়। আশূরা উপলক্ষ্যে শী‘আদের উপরোক্ত কর্মকান্ড প্রতিটিই ইসলামের দৃষ্টিতে সুষ্পষ্ট গোমরাহী। শোকদিবস পালনকে ইসলাম কখনই সমর্থন করে না। এটি জাহেলী কাজ। রাসূল (ছা.) ও তাঁর ছাহাবীদের যুগে কখনো কারো মৃত্যুতে এরূপ বিলাপ, চিৎকার বা আত্মবিধ্বংসী কর্মকান্ডের ঘটনা ঘটেনি।
সুতরাং সঠিক আক্বীদা সম্পন্ন কোন মুসলমানের জন্য এসকল কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা, সমর্থন করা, তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা কিংবা অর্থ সহযোগিতা করা সম্পূর্ণ নাজায়েয। অনুরূপভাবে আশূরা দিবসকে কারবালা দিবস বানিয়ে এই উপলক্ষে ‘হক্ব-বাতিলের লড়াই’ শীর্ষক কোন আলোচনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা যাবে না। কেননা ইসলামে দিবস পালন নেই।
সর্বোপরি এই দিনে আমাদের করণীয় একটাই, আর তা হ’ল যালিম শাসক ফেরাঊনের কবল থেকে নাজাতে মূসার শুকরিয়ার নিয়তে ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ই মুহাররম দু’টি নফল ছিয়াম রাখা। কমপক্ষে ১০ই মুহাররম একটি ছিয়াম পালন করা কর্তব্য। এর বেশি কিছু নয়। সেই সাথে উচিত হবে যালেম ও মাযলূম সকলকে ফেরাঊন ও মূসার উক্ত ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। কেননা ইতিহাস সাক্ষী, মাযলূম ও সত্যপন্থী হওয়া সত্ত্বেও মূসা (আ.) আজও বিশ্বজুড়ে নন্দিত ও সম্মানিত; অন্যদিকে ক্ষমতা ও দাপট থাকা সত্ত্বেও যালিম ফেরাঊন আজও ধিকৃত ও অভিশপ্ত। এমনকি সচেতন কোন পিতা তাঁর সন্তানের নাম ঐ নিকৃষ্ট ফেরাঊনের নামে রাখেন না। সুতরাং আশূরায়ে মুহাররমের এই পবিত্রক্ষণে এর সঠিক ইতিহাস জানা এবং সকল প্রকার অপসংস্কৃতি ও বিদ‘আত বর্জন করে বিশুদ্ধ সুন্নাহর পথে ফিরে আসাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন-আমীন।
[1]. S. Islam, Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh, 2012. Entry: "Shias" & "Hussaini Dalan"; শরীফ উদ্দিন আহমাদ (সম্পা.), বাংলাপিডিয়া (ঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বাংলাদেশ, ২০১০; ভুক্তি : ‘তাজিয়া’, ‘আশুরা’ এবং ‘হোসাইনী দালান’; পৃ. ১৭২-১৭৪ (তাজিয়া) এবং ৫০৯-৫১০ (হোসাইনী দালান)।
[2]. মুনতাসির মামুন, ঢাকা : স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী (পরিবর্ধিত সংস্করণ), (ঢাকা : অনন্যা প্রকাশনী, ১৯৯৩), পৃ. ৯১-৯৫।
[3]. বাংলাপিডিয়া, পৃ. ১৭২-১৭৪।
[4]. Encyclopaedia of Islam, 2nd ed., s.v. "Taʿziya" by P. Chelkowski; The Encyclopaedia of Islam - EI, Vol. X (10), Pages 406-408 (EI2)।
[5]. Encyclopaedia Iranica, iranicaonline.org.
[6].Momen, M. An Introduction to Shi'i Islam: The History and Doctrines of Twelver Shi'ism. Yale University Press, (1985) 240-45.
[7]. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, আশূরায়ে মুহাররমওআমাদের করণীয়, পৃ. ১৫।
[8]. বুখারী হা/১২৯৭; মিশকাত হা/১৭২৫।
[9]. আশূরায়ে মুহাররমওআমাদের করণীয়, পৃ. ৩১।
[10]. ঐ, পৃ. ১০।
[11]. আশূরায়ে মুহাররমওআমাদের করণীয়, পৃ. ১১।