একবিংশ শতাব্দীর এই জ্ঞান-বিজ্ঞানের জয়যাত্রার যুগে যখন মানুষ এক নতুন বিশ্বের স্বপ্ন দেখছে, চলছে খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসাসহ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের সাড়ম্বর আয়োজন, ঠিক তখনই পৃথিবীর কোণে কোণে মানবতা যেন কাঁদছে নীরবে। এই নীরব কান্নার প্রতিচ্ছবি দেখা যায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি শরণার্থীর ক্লান্ত-বিধ্বস্ত অশ্রুসজল চোখে ও তামাটে বিদীর্ণ চেহারায়। জাতিগত সংঘাত, রাজনৈতিক নিপীড়ন আর সীমাহীন ঘৃণার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে একদল মানুষের সাজানো ঘর, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ। নিজ মাতৃভূমিতে পরবাসী এই মানুষগুলোর হাহাকার আজ আকাশ-বাতাসকে ভারী করে তুলেছে, কিন্তু সেই আর্তনাদ কি পৌঁছায় ক্ষমতার কেন্দ্রে বসে থাকা বধির কর্ণধারদের কাছে?
সারা বিশ্বে বর্তমানে ১২ কোটি মানুষ বাস্ত্তচ্যুত ও ছিন্নমূল। অসম যুদ্ধ, নানারূপ স্বার্থের সংঘাত, সংঘর্ষ, সহিংসতা, জীবনভীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার কারণে এসব মানুষ তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এই ১২ কোটি মানুষের মধ্যে ৪ কোটি মানুষ অন্য দেশে শরণার্থী। বাকী ৭ কোটি মানুষ নিজ দেশেই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্ত্তচ্যুত। অন্যান্য ৮০ লাখ মানুষ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী। ৪০ লাখ মানুষের কোন দেশই নেই। সব হারিয়ে তারা আজ সর্বস্বান্ত।
এই নির্মম বাস্তবতার সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক ও বিভীষিকাময় অধ্যায়টি এখন লেখা হচ্ছে ফিলিস্তীনের গাযা উপত্যকায়। গাযা আজ কেবল একটি ভৌগোলিক সীমারেখা নয়, এটি এখন এক অবরুদ্ধ মৃত্যুপুরী, যেখানে জীবন নিয়ে বেঁচে থাকাটাই এক অলৌকিক রহস্য। অবিরাম বোমাবর্ষণে আকাশ থেকে প্রতিনিয়ত ঝরে পড়ছে আগুনের ফুলকি, দ্রিম দ্রিম শব্দে কাঁপছে যমীন, আর বাতাসে ভাসছে স্বজন হারানোর বুকফাটা আর্তনাদ। একসময়কার প্রাণচঞ্চল শহরগুলো আজ যেন ভয়ংকর ভূমিকম্পের দৃশ্যপট। চারিদিকে কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপ। এই ধ্বংসস্তূপের নীচে শুধু ঘরবাড়ি নয়, চাপা পড়েছে লক্ষ লক্ষ শিশুর রঙিন স্বপ্ন। এখানকার তেইশ লক্ষ মানুষের প্রায় সকলেই আজ গৃহহীন, নিজ দেশে শরণার্থী। এক মুঠো খাবার বা এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানির জন্য তাদের আকুতি সভ্যতার গালে এক প্রচন্ড চপেটাঘাত। আশ্রয়কেন্দ্রের অপরিসর তাঁবুতে গাদাগাদি করে বেঁচে থাকার এই লড়াইয়ে প্রতি মুহূর্তে সঙ্গী হয় ক্ষুধা, রোগ আর প্রিয়জনকে হারানোর ভয়।
কে জানত, যে মানুষটি গতকালও শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান করতেন, যার বাড়ি আর ব্যবসার খ্যাতি ছিল শহরজুড়ে, মেডিকেল ডাক্তার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যিনি ছিলেন প্রথিতযশা, আজ তিনিই এক টুকরো রুটির জন্য অন্যের দয়ার পাত্র হবেন? চাপানো যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা এমনই যে, এটি শুধু মাযলূম মানুষের প্রাণই কেড়ে নেয় না, কেড়ে নেয় তার আত্মমর্যাদা, তার পরিচিতি। গাযায় এমন হাযারো গল্প ছড়িয়ে আছে, যেখানে সচ্ছলতার চূড়া থেকে মানুষ রাতারাতি নেমে এসেছে নিঃস্বতার অতল গহবরে। চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আহতদের বিনা অ্যানেস্থেসিয়ায় অস্ত্রোপচার করতে হচ্ছে; এই দৃশ্য কল্পনা করলেও শরীর শিউরে ওঠে।
গাযার এই ধ্বংসস্তূপ কেবল একটি উষর মরুভূখন্ডের নয়, বরং এটি বিশ্ববিবেকের সমাধিক্ষেত্র, যা তারা ঠান্ডা মাথায় নিষ্ঠুরভাবে নিজ হাতেই নির্মাণ করেছে। তবে এই সমাধির শিলালিপি লেখা হয়েছে বিশ্বের আরও অনেক প্রান্তে। বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কথাই ধরা যাক। নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে তারা আজ এক রাষ্ট্রহীন জাতি, যাদের ভবিষ্যৎ এক অন্তহীন অনিশ্চয়তায় ঢাকা। পাহাড়ের গাত্রদেশে ঝুলে আছে তাদের স্বপ্নের ছিন্নপত্র আর শুকনো ডালপালারা। একইভাবে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে বাঁচা লক্ষ লক্ষ মানুষ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শরণার্থী শিবিরে দিনাতিপাত করছে, যেখানে বঞ্চনা ও দৈন্যদশাই তাদের নিয়তি। সুদানের মতো আফ্রিকার বহু দেশে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের আগুনে পুড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এই সব শরণার্থীর দুঃখের গল্প ভিন্ন হ’লেও তাদের সবার হৃদয়ের ভাষা এক। তা হ’ল নিজ ঘরে ফেরার পরম আকুতি এবং শান্তিতে দু’দন্ড বেঁচে থাকার একটি ন্যূনতম দাবী।
গত প্রায় দুই বৎসর ধরে ফিলিস্তীনের গাযা ভূখন্ড এক ভয়াবহ মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছে। একদিকে আকাশ থেকে টনকে টন বোমা নিক্ষেপ করে ধ্বংস করা হচ্ছে ঘরবাড়ী, স্কুল, হাসপাতাল, অন্যদিকে মাটিতে জমেছে ক্ষুধার্ত মানুষের নিথর দেহ। যুদ্ধের ভয়াল রূপ শুধু গোলা বারুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তার চেয়ে নীরব-নিষ্ঠুর এক অস্ত্র হয়ে ওঠেছে ক্ষুধা। যার সামনে অর্থহীন পৃথিবীর সবকিছু। গুলী-বোমার ভয় তুচ্ছ করে অবরুদ্ধ গাযাবাসীর লড়াই এখন ক্ষুধার যন্ত্রণার সাথে। নিষ্পাপ শিশুদের একেকটি চোখ যেন অনাহারের অথৈ সমুদ্র। শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়ানো নিরস্ত্র মানুষজন, যারা শুধু একমুঠো খাবারের আকুতি জানাচ্ছে, তাদেরকে লক্ষ্য করেই নির্বিচারে গুলী চালানো হচ্ছে। এসব মানুষের অপরাধ একটাই তারা গাযায় জন্মেছে এবং বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।
গাযায় যখন প্রতিদিন মানুষ অনাহারে মারা যাচ্ছে, তখন সেখানে মানবিক সহায়তা পৌছানোর নামে চালু হয়েছে আরেক ফাঁদ। গঠন করা হয়েছে একটি নতুন সংগঠন ‘গাযা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ)। গাযায় জিএইচএফ ছাড়া কাউকে ইস্রাঈল ত্রাণ বিতরণের সুযোগ দেয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে এই জিএইচএফ হ’ল ইস্রাঈল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গড়ে ওঠা একটি প্রতারণামূলক উদ্যোগ। জিএইচএফ তৈরি করা হয়েছে ত্রাণ সহায়তার নাটক করার জন্য, গাযাবাসীকে বাঁচানোর জন্য নয়। এমনভাবে এর কার্যক্রম চালানো হয় যেন আন্তর্জাতিক মহলের চোখে মনে হয় ইস্রাঈল ত্রাণ দিয়ে সহায়তা করছে এবং মানবিক সহনশীলতা দেখাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এই ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলিই গাযাবাসীর মৃতূু্যর নতুন ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথা থেকে কখন গুলী আসবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। বহু মানুষ এসব ত্রাণ কেন্দ্রের আশেপাশে গুলীবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। আমরা যেমন সামান্য খাবার দিয়ে ইঁদুর মারি ঠিক একইভাবে ইস্রাঈলী বাহিনী গাযায় জিএইচএফ-এর মাধ্যমে ত্রাণের লোভ দেখিয়ে ফিলিস্তীনীদের উপর চালাচ্ছে দীর্ঘ পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ।
শিশুদের অবস্থা আরো ভয়াবহ। তাদের হাড্ডিসার দেহগুলোর দিকে তাকনোর কোন উপায় নেই। যেন জীবন্ত কঙ্কাল। ক্ষুধার তাড়নায় গাযার শিশুদের কান্না করার শক্তিটুকুও নেই। মায়েদের চোখের পানিও প্রায় শুকিয়ে গেছে। পৃথিবীতে মানুষ যতভাবে মারা যায় তার মধ্যে ক্ষুধার যন্ত্রণায় মারা যাওয়া সবচেয়ে কঠিন। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক কমিশন ইউনিসেফ জানিয়েছে বিপর্যয়ের পর্যায়ে পেঁŠছেছে গাযার শিশুদের অপুষ্টির মাত্রা। গত জুনে যেখানে হাসপাতালে ভর্তি হয় সাড়ে ৬ হাযার শিশু, সেখানে জুলাইয়ের প্রথম দুই সপ্তাহে ভর্তি হয় ৫ হাযার শিশু। বর্তমানে প্রতিদিন অপুষ্টির শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে সাড়ে তিন শতাধিক শিশু। গত কয়েক মাসে শত শত শিশু অপুষ্টিজনিত রোগে মারা গেছে। অনেকে ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার আনতে গিয়ে গুলীতে নিহত হয়েছে।
শত শত লরি ভর্তি খাদ্য খাবার সীমান্তের বাইরে অপেক্ষা করলেও এগুলো প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। আবার ইস্রাঈলী পাষন্ডরা অনেক খাবার নষ্টও করে দিচ্ছে। বিশ্বখ্যাত দুর্ভিক্ষ বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ডি ওয়াল একে বলেছেন, Famine by Design অর্থাৎ পূর্ব পরিকল্পিত দুর্ভিক্ষ। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্যপ্রবাহ বন্ধ করে একটি জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করা হচ্ছে। আর এই ধ্বংসযজ্ঞের ইন্ধন যোগাচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও পশ্চিমা রাজনৈতিক সুবিধাবাদীরা। ইস্রাঈল গাযায় ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তীনীদের অনাহারে রাখছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’। জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ মানবিক কর্মকর্তা রমেশ বলেছেন, ‘এটি আর ভবিষ্যতের দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি নয়, এটি সরাসরি অনাহারে মানুষ মেরে ফেলা’। অ্যালেক্স ডি ওয়াল জানান, ‘গাযার হাযারো শিশু এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে তারা খাবার পেলেও খেতে পারবে না। তাঁর ভাষায়, তাদের শরীর এখন আর খাবার হজম করতে সক্ষম নয়’। খোদ ইস্রাঈলী মানবাধিকার সংস্থা ‘ফিজিসিয়ান ফর হিউম্যান রাইট’ বলেছে, ‘এটি যুদ্ধ নয় এটি একটি জাতিকে ধ্বংস করার ধারাবাহিক পরিকল্পনা’।
শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা করা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল দায়িত্ব হ’লেও এর বাস্তবায়নে যথেষ্ট ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই শরণার্থীদের মৌলিক অধিকার যেমন- স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি বঞ্চিত করে রাখা হচ্ছে। শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নারীরা যৌন হয়রানি এবং নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হচ্ছে। যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন।
বিশ্ব মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, প্রত্যেক মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, নিরাপত্তার অধিকার এবং নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চার অধিকার আছে। কিন্তু শরণার্থীদের ক্ষেত্রে এগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।
এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়গুলো দেখে দেখে আমরা এতটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি যে, তাদের ব্যাপারে বিবেক আমাদের প্রায় রুদ্ধ। বিশ্ব মানবতার চোখের সামনে সবকিছু ঘটে চলেছে, কিন্তু আমাদের হৃদয়ের দৃষ্টি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। টিভি নিউজের মত খবরগুলো স্ক্রল করে এগিয়ে যাই পরবর্তী খবরের জন্য। ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর দ্বিমুখী নীতি, গভীর নীরবতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে আগ্রাসনে উসকানি এই সংকটগুলোকে আরও ঘনীভূত করে তোলে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একটা জলজপ্রাণী তিমিরের মৃত্যুতে শোরগোল তুললেও, হাযার হাযার মানুষের নিষ্করুণ মৃত্যুদৃশ্যে যেন আজ অসহায় নির্বাক দর্শক। অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের ফাঁপা বুলি আর বিবৃতিসর্বস্ব কূটনীতি মযলূমের রক্তক্ষরণ বন্ধ না করে কাটা ঘায়ে বরং নুনের ছিটা ছাড়া আর কী দিতে পেরেছে। এভাবে সকল জাগতিক প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ হয়, তখন অসহায় মানুষ আকাশের মালিকের দিকেই ফিরে তাকায়। আমরাও সেই সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারেই হাত তুলি। হে রাববুল ‘আলামীন, হে পরম করুণাময়! আপনি পৃথিবীর সকল মযলূম ও নির্যাতিত মানুষের কষ্ট দেখছেন, আপনি গাযাসহ সারাবিশ্বের সকল শরণার্থীর উপর আপনার অপার রহমত বর্ষণ করুন। তাদের ভাঙা হৃদয়ে শান্তি দিন, তাদের ক্ষুধা নিবারণ করুন এবং তাদেরকে নিরাপত্তা দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি যালেমদের হৃদয়কে নরম করে দিন অথবা তাদের যুলুমের অবসান ঘটান। পৃথিবীতে আপনার অসীম করুণায় শান্তি ফিরিয়ে আনুন।
এই শরণার্থী সংকট কেবল কিছু মানুষের দেশ হারানোর গল্প নয়, এ সংকট সমগ্র মানবতার অস্তিত্বের সংকট। একজন শরণার্থীর চোখের পানি মানে মানবতার পরাজয়। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে-নিজের অবস্থান থেকে সত্যের পক্ষে আওয়াজ তোলা, সাধ্যমত তাদের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া। অন্ততপক্ষে তাদের জন্য মন থেকে দো‘আ করা। কারণ একটি প্রদীপ থেকেই যেমন হাযারো প্রদীপ জ্বলে ওঠে, তেমনি একজন মানুষের মানবিক জাগরণ থেকেই সমষ্টিগত বিবেক কখনও জেগে উঠতে পারে। আল্লাহ আমাদের সহায় হৌন-আমীন!