ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : একটি বিশ্লেষণ

সাড়ে পনের বছরের আওয়ামী দুঃশাসন এবং বিপ্লবোত্তর দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলের অবসান ঘটিয়ে অনেক শঙ্কা ও ধোঁয়াশার জাল ছিন্ন করে অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারী-২০২৬ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হ’ল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের রাজনৈতিক আকাশে ব্যাপক আলোচিত, বহু প্রত্যাশিত, কাঙ্খিত ও উৎসবমুখর এই নির্বাচন যতটা ত্রুটিমুক্ত হওয়ার কথা ছিল ততটা যে হয়নি তা নির্বাচন পরবর্তী অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, প্রেসব্রিফিং, সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বেশ কিছু প্রার্থী ও দলের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেউ কেউ পুনরায় রাজপথে নামার হুংকার পর্যন্ত দেন। ভোটের ময়দানের উৎসুক জনতা অন্তত এবার এমনটি আশা করেছিল যে, নির্বাচনের ক্ষেত্রে বহুল পরিচিত ‘ভোট কারচুপি’ ‘ভোট ডাকাতি’ ‘ভোট জালিয়াতি’ ‘রাতের ভোট’ ‘জাল ভোট’ ‘বুথ দখল’ ‘প্রহসনের নির্বাচন’ ইত্যাদি শব্দগুলো হয়তো আর শুনতে হবে না। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি। এবারের অবস্থাও তথৈবচ। বিগত নির্বাচনগুলোর মত এবারও দায়মুক্ত হ’তে পারেনি নির্বাচন কমিশন। উত্থাপিত হয়েছে নানা অভিযোগ। তবে শব্দগত কিছু পরিবর্তন হয়েছে। যেমন কেউ বলেছেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (Election Engineering) বা ম্যানিপুলেটিং (Manipulating) হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনের ফলাফল সাজানো বা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। কেউ বলেছেন, ‘রেজাল্ট ট্যাম্পারিং’ বা ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। কেউবা বলেছেন, ‘প্ল্যান্ড ফ্রড’ (Planned fraud) বা পরিকল্পিত প্রতারণা করা হয়েছে। কারো অভিযোগ ছিল এবারের ভোট ছিল ‘ম্যানেজ ভোট’ (Manage vote) ইত্যাদি। মোটকথা ইতিপূর্বের চেয়ে ভিন্ন তরীকায় এবার কারচুপি হয়েছে। যা ছিল সাধাণের বোধগম্যের বাইরে। এবার ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক তেমন কিছু না ঘটলেও ফলাফল প্রকাশে ঘাপলা করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ উঠেছে।

যেভাবেই হোক ফলাফল প্রকাশে দেখা গেছে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন। অপরদিকে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ পেয়েছে ৬৮টি এবং ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। এছাড়া স্বতন্ত্র ৭টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি আসন পেয়েছে। এবারের নির্বাচনে সরকারী ব্যয় বাজেট ছিল ৩ হাযার ১৫০ কোটি টাকা। ভোট দিয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোটার। বিএনপি পেয়েছে ৪৯.৯৭ ভাগ এবং জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১.৭৬ ভাগ ভোট।

প্রিয় পাঠক! কারা ক্ষমতায় আসল বা কারা আসল না এটি আমাদের আলোচনার মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ কি আধিপত্যবাদমুক্ত প্রকৃত স্বাধীন সত্তা নিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে? শাসকরা কি অপশাসন ও শোষণ-নির্যাতন থেকে নিজেদেরকে পরহেয করতে পারবেন? রাষ্ট্র কি গুম-খুন ও ক্রসফায়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে? শতকরা ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশে এখনো কি ইসলামিক প্রোগ্রাম করতে গেলে অনুমতির জন্য জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে ধর্না দিতে হবে? পারবে কি ঘুষ-দুর্নীতি মুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে? প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কি পারবেন জনগণের সেবক হ’তে? নাকি পূর্বের ন্যায় অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ায় ব্যস্ত থাকবেন? জনগণ কি বাকস্বাধীনতা ফিরে পাবে? রাজপথে নির্বিঘ্নে চলার সাহস পাবে? পুলিশ কি পারবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হ’তে? নাকি হবে শাখের করাত? এরকম হাযারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন নাগরিকদের মন-মগজে। 

উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর যে হ্যাঁ বোধক হওয়া কঠিন তা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে সহজেই অনুমান করা যায়। কারণ আমরা মানব রচিত এমন এক ব্যবস্থার (system) কাছে মাথা নত করেছি, যে ব্যবস্থা আমাদেরকে আল্লাহর দাসত্ব থেকে বের করে মানুষের দাসত্বের অধীন করে ফেলেছে। আল্লাহভীতি ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহীতার অনুভূতি আমরা হারিয়ে ফেলেছি। রাষ্ট্রীয় আচারের দোহাই দিয়ে আমরা শিরককে মাথা পেতে মেনে নিয়েছি। অথচ ইসলামে শাসন ব্যবস্থার মূল মন্ত্র হ’ল-إِخْرَاجُ الْعِبَادِ مِنْ عِبَادَةِ الْعِبَادِ إِلَى رَبِّ الْعِبَادِ‘মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে বের করে তাদের প্রতিপালক আল্লাহর গোলামীতে ফিরিয়ে নেওয়া’। যে কথা পারস্য সেনাপতি রুস্তমের সামনে ছাহাবী মুগীরা বিন শো‘বা (রাঃ) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছিলেন (ইসলামী খেলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন, পৃ ২৬)

এই ব্যবস্থা আমাদেরকে হালাল বর্জন ও হারাম গ্রহণে বাধ্য করছে। আল্লাহর সার্বভৌমত্বের মোকাবেলায় আমরা মানুষের সার্বভৌমত্বকে দাঁড় করিয়েছি। ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’ এই শিরকী বয়ান হৃদয়ে ধারণ করে জনগণের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভোট প্রার্থী হয়েছি। অথচ ইসলামে ভোট প্রার্থনার কোন সুযোগ নেই। রাসূল (ছাঃ) এ বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কসম করে বলছি, যারা নেতৃত্ব চায় আমরা তাদেরকে নেতৃত্ব দেই না বা যারা নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে’ (বুখারী হা/৭১৪৯)

আমরা জানি যে, খোলাফায়ে রাশেদীনের কেউ খলীফা হওয়ার জন্য মানুষের দুয়ারে ধর্না দেননি। তারা বরং ক্ষমতা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছেন। এমনকি আলী (রাঃ) খলীফা হওয়ার ভয়ে নিজ ঘরে প্রবেশ করে দরজা আটকে নিজেকে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন। ছাহাবায়ে কেরাম তাকে ঘর থেকে জোর করে বের করে এনে খেলাফতের আসনে বসান। কেননা তাদের অনুভূতি ছিল জবাবদিহিতার। যে জবাবদিহিতা ছিল মহান রাজাধিরাজ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার কাছে। আর সে অনুভূতি থেকেই খলীফা ওমর (রাঃ) রাতের অন্ধকারে প্রজাদের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য প্রাসাদ ছেড়ে মহল্লায় ঘুরে বেড়াতেন। আটার বস্তা নিজের পিঠে করে ক্ষুধার্ত প্রজাকে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের শাসনামলে মানুষ কেন কোন প্রাণীও যদি না খেয়ে মারা যেত সেজন্য তারা আল্লাহর কাছে কি জবাব দিবেন তা নিয়ে চিন্তিত থাকতেন।

প্রিয় পাঠক! আমরা যে ব্যবস্থার মাধ্যমে সংসদ সদস্য হয়েছি, সেখানে যেতে আমাদের বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। সময়, শ্রম ও অঢেল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এমনকি দলীয় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিতেও যানবাহনের ব্যবস্থা বা যাতায়াত খরচ দিতে হয়েছে। ন্যূনতম এই বাবদও লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। সামগ্রিক ব্যয় তো কোটি কোটি টাকা। এত বিশাল বিনিয়োগ করে যখন সংসদ সদস্য হয়েছি তখন তো আমাকে কড়ায়-গন্ডায় এর মুনাফা বুঝে নিতেই হবে। সেকারণ আমরা দু’একজন ব্যতিক্রম বাদে প্রায় সকলেই জনদরদী ও জনসেবক না হয়ে নিজেদের আখের গুছানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। টেন্ডার বাণিজ্য, চাকুরী বাণিজ্য, উন্নয়ণ বাণিজ্য ইত্যাকার নানাবিধ পঁুজিহীন বাণিজ্যে আমরা জড়িয়ে পড়ি। যেখানে জনগণের হক মেরে নিজেরা বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে যাই। এ সবই বিগত ৫৪ বছরের রূঢ বাস্তবতা।

এই বাস্তবতা সামনে রেখেই আমরা ইসলামী খেলাফত বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক কথাবার্তা বলেছি। অন্তর্বর্তী সরকারের নিকটে দাবী জানিয়েছি। ইসলামী দলগুলিকে বলেছি। বক্তৃতা-বিবৃতি, লেখনীর মাধ্যমে জাতিকে সজাগ করার চেষ্টা করেছি। কারণ আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস বাতিল পথে কখনো হক প্রতিষ্ঠিত হ’তে পারে না। যুলুমের পথ ধরে কখনো ইনছাফ কায়েম হয় না। পচা ড্রেনে কখনো তাজা মাছ বঁাচতে পারে না। আমরা এও বিশ্বাস করি যে, দলীয় শাসন কখনো নির্দলীয় প্রশাসন উপহার দিতে পারে না। সিস্টেমে ঢুকে কখনো সিস্টেম পরিবর্তন করা যায় না। বরং সিস্টেমের বাইরে থেকেই সিস্টেম পরিবর্তনের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়। এই সংগ্রাম আসমানে কবুল হ’লে একদিন তা অবশ্যই যমীনে বাস্তবায়ন হবে। রাসূল (ছাঃ) কুরায়শ নেতাদের পক্ষ থেকে নেতৃত্বের লোভনীয় প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও গ্রহণ করেননি। তিনি পারতেন মসনদে বসে শিরকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ফরমান জারী করতে। কিন্তু করেননি। কারণ তিনি জানতেন এই ক্ষমতা কখনো টেকসই নয়। তাই তিনি জনগণের কাছে গিয়েছেন। ইক্বামতে দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি সমাজ পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছেন। আর এই সমাজ পরিবর্তনের পথ ধরেই একদিন রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন হয়েছে। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

দুর্ভাগ্য ইসলামী দলের নেতাদের জন্য। যারা নিজেদের সোনালী ইতিহাস ভুলে গেছেন। কুরআনী সংবিধানের বাইরে গিয়ে পাশ্চাত্য কর্তৃক চালানকৃত কুফরী তন্ত্রের অধীনে ইসলাম কায়েমের দুঃস্বপ্ন দেখছেন। ফলে তন্ত্রবাজদের মনস্ত্তষ্টি করতে গিয়ে তারা নিজেদের ঈমান-আক্বীদা জলাঞ্জলি দিয়েছেন। শুধু পূজামন্ডপ পাহারা নয়, বরং রোজা আর পূজাকে একাকার করে দেখার ধৃষ্টতাও দেখিয়েছেন। যা কোন তাওহীদবাদী মুসলমান কখনো মেনে নিতে পারেন না। ইসলামের নামে প্রচলিত রাজনীতি করতে গিয়ে তারা প্রকারান্তরে ইসলামকেই জনগণের মুখোমুখী দাঁড় করিয়েছেন। বড় বড় শায়খুল হাদীছগণ দুনিয়াদার জাহেল নেতাদের কাছে ভোটযুদ্ধে পর্যুদস্ত হয়ে নিজেরা যেমন অপদস্ত হয়েছেন, তেমনি ইসলামী আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। সুতরাং ইসলামী দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে আমাদের আবারও একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি যে, ইসলামের মূল আদর্শে ফিরে আসুন। সরকার পরিবর্তনের রাজনীতি নয়, সমাজ সংশোধনের রাজনীতি করুন। বাতিল তন্ত্র-মন্ত্রের সাথে আপোষ না করে ইসলামী খেলাফতের পক্ষে জনমত গঠন করুন। নিজেদের ঈমানকে মযবূত করুন ও সত্যিকার নেক আমলে ব্রতী হোন। দেখবেন মহান আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী একদিন বিজয় আপনাদেরই পদচুম্বন করবে (নূর ২৪/৫৫)

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উদ্দেশ্যে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে- ছাত্র-জনতার হাতে ফ্যাসিবাদের পতন না ঘটলে হয়ত বিএনপিকে এখনো গর্তে লুকিয়ে থেকেই দিনাতিপাত করতে হ’ত। যাদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতার মসনদে সেই রক্তের সাথে বেঈমানী করা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গাদ্দারী হিসাবে চিহ্নিত হবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দু’টি উক্তি আশার সঞ্চার করেছে। যেমন নির্বাচনী প্রচারণা করতে গিয়ে এক সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর ন্যাপরায়ণতা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে। অপর উক্তিটি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার দুই/একদিন পরের। সেখানে তিনি বলেন, যারা বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছেন কিংবা যারা অন্যদেরকে ভোট দিয়েছন এবং যারা কাউকেই ভোট দেননি সকলেই রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে আমাদের সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু ইতিমধ্যে পালাবদল শুরু হয়ে গেছে। প্রশাসনে রদবদল, ৬ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে দলীয় লোকদের বসানো, দলের সিনিয়র নেতাদের লাগামহীন কথাবার্তা কোন ভাল বার্তা বহন করে না। সুতরাং দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর ক্ষমতায় এসেও যদি বিএনপি বিগত সরকারের দুঃশাসন থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করেন তবে এর দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে। বিগত ক্ষমতাশীলদের ন্যায় এদেরকেও জাতি প্রত্যাখ্যান করবে। এরাও একদিন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

পরিশেষে বলব, আদর্শ চির অমলান। জীবন বাজি রেখে সব ধরনের ঝড়-ঝঞ্ঝা উপেক্ষা করে আদর্শের উপরে টিকে থাকতে পারলে সফলতা একদিন না একদিন আসবেই ইনশাআল্লাহ। অতএব আমাদের উচিত ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে দাওয়াত ও সার্বিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজ সংস্কারে আত্মনিয়োগ করা। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন এবং আদর্শের উপরে টিকে থাকার তাওফীক দান করুন-আমীন!!






আরও
আরও
.