যুদ্ধ, সংঘাত, ক্ষমতাচ্যুতি, বাস্ত্তচ্যুতি, বুভুক্ষু মানবতার করুণ আর্তনাদ ও চরম অস্থিরতার মধ্যদিয়ে আরো একটি বছর অতিক্রান্ত করল বিশ্ব। পূর্বদিগন্তে উদিত হ’ল ২০২৬-এর রক্তিম সূর্য। বিশ্ববাসী আশায় বুক বেঁধেছিল নতুন বছরে একটি শান্তিময় স্থিতিশীল বিশ্বের। মুক্তিকামী মানবতার ঐকান্তিক প্রত্যাশা ছিল যুলুমবাজদের হামলা থেকে নাজাত ও নিরাপত্তার। বিশ্ববাসী ভেবেছিল ক্ষুধার্ত কঙ্কালসার দেহগুলো হয়তো শূন্যপাত্রে আর দিনের পর দিন ত্রাণের অপেক্ষায় থাকবে না। ইট-পাথরের স্তূপ থেকে আর অবলা নারী ও অবুঝ শিশুর কান্নার রোল ভেসে আসবে না। মযলূম জনপদ সমূহে মানবতা আর নিষ্পিষ্ট হবে না। কিন্তু বছরের শুরুতেই সকল প্রত্যাশা হতাশায় পরিণত হয়। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুলুমবাজ পররাষ্ট্রনীতির কারণে বিশ্ব পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। লাতিন আমেরিকার স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া, ইরানে সহিংসতা উস্কে দেওয়া ও ক্রমাগত হুমকি প্রদান এবং গ্রীনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের মুহুর্মুহু হুমকি বিশ্ব পরিস্থিতিকে আরো বিপজ্জনক পর্যায়ে ঠেলে দেয়। ক্ষমতার দম্ভে ইনছাফ, ন্যায়নীতি ও মানবতা আজ ভূলুণ্ঠিত ও অবরুদ্ধ। আলোচ্য নিবন্ধে সাম্প্রতিক এই বিষয়ে আলোকপাত করা হ’ল।-
(১) ৩রা জানুয়ারী শনিবার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এক ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল রপ্তানীকারক দেশ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সন্ত্রাসী কায়দায় গ্রেফতার করে আমেরিকায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৫০টি যুদ্ধবিমান দিয় এই হামলা চালানো হয়। এতে ১০০ জনের মত মানুষ মারা যায়। প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি রাখা হয়। অতঃপর তাদের বিরুদ্ধে মাদক সরবরাহের একেবারে ঠুনকো অভিযোগ এনে আদালতে তুলা হয়।
এ ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসের একটি নযীরবিহীন সন্ত্রাসী ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এটি একটি রাষ্ট্রীয় অপহরণ। কোন রাষ্ট্রের অধিকার নেই ভিন্ন রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে তুলে এনে নিজ দেশের আদালতে বিচার করার। জাতিসংঘ সনদ বা কোন আন্তর্জাতিক আইন এটা অনুমোদন করে না। এতে একদিকে যেমন বড় ও শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর ভয়ে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে, অপরদিকে এ ঘটনাকে উদাহরণ হিসাবে পেশ করে অনেক দাম্ভিক রাষ্ট্রপ্রধান এই পথে হাঁটার অপচেষ্টা চালাবে। তখন মোড়ল রাষ্ট্রগুলোর আর কিছুই করার থাকবে না। কারণ সে নিজেও একই অপরাধে অপরাধী।
মূলত ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট। সেকারণ মাদুরোকে আটক করে সে দেশের তেল সম্পদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় ওয়াশিংটন। ইতিমধ্যে তেল বিক্রিও শুরু করেছে আমেরিকা এবং প্রথম দফায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের তেল বিক্রি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তেল বিক্রি অব্যাহত থাকবে মর্মে জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসন। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে অভিযোগ কতটা হাস্যকর, আর উদ্দেশ্য কতটা সুদূরপ্রসারী।
(২) এক রক্তক্ষয়ী সহিংসতার মধ্য দিয়ে নতুন বছর শুরু করে ইরান। অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গত ২৮শে ডিসেম্বর ব্যবসায়ীদের ডাকে প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হ’লেও পরে তা সরকার পতনের সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। সরকারের পক্ষ থেকেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাত্র তিন সপ্তাহের সহিংসতায় হাযার হাযার মানুষ নিহত হয়। ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’র (এইচআর এএনএ) তথ্য মতে এযাবত ৪ হাযার ২৯ জন নিহত, ৫ হাযার ৮শ’র অধিক মানুষ আহত এবং ২৬ হাযারের বেশী মানুষ গ্রেফতার হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখানেও তার স্বভাবসুলভ হস্তক্ষেপ করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান সরকারের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে। ইরানে আগ্রাসন চালানোর হুমকি দেয় এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে সহিংসতায় উস্কে দেয়। পাল্টা ইরানের পক্ষ থেকেও ‘শক্ত প্রতিরোধে’র হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়।
ইরান অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাঈল ‘সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের’ পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এমনকি সহিংসতার জন্য অর্থও দেওয়া হচ্ছে। কাউকে হত্যার জন্য ৫০ কোটি তুমান (তিন হাযার তিনশ’ ডলার), গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য ২০ কোটি তুমান (এক হাযার তিনশ’ ডলার) দেওয়া হচ্ছে। ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ নামক নতুন একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার যুদ্ধজাহাযও উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। গেল বছরে ইস্রাঈল-ইরান যুদ্ধেও অন্তরালে কলকাঠি নেড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রই।[1]
উল্লেখ্য, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরি সম্পর্ক নতুন নয়। ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতাচ্যুত মুহাম্মাদ রেযা শাহ পাহলভী আমেরিকাতে নির্বাসিত হন। সেই থেকে চলছে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ। কখনো কঠোর, কখনো মাঝারী পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়ার হেন চেষ্টা নেই যা করা হয়নি। সর্বশেষ গত ১৫ই জানুয়ারী দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে আরো বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে আশার কথা হচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে এবারের আস্ফালনে আরব রাষ্ট্রগুলোকে সাথে পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। তুরষ্ক সাফ বলে দিয়েছে, ইরানে যেকোন ধরনের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তুরষ্ক। এতদিন আরব রাষ্ট্রগুলো ইরানকে অত্রাঞ্চলের জন্য হুমকি মনে করত। আর এ কারণেই আরব রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান ইরানের বিপক্ষে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ইস্যুতে আরব রাষ্ট্রুগুলোও চায় না যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করুক। কারণ দীর্ঘ ২৭ মাস যাবত আরব নেতারা অত্রাঞ্চল জুড়ে ইসরাঈলের তান্ডব পর্যবেক্ষণ করেছে। গাযাকে এরা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েছে গাযা, যা অপসারণ করতে সময় লাগবে সাত বছর। হাযার হাযার নারী-শিশু ও বেসামরিক নাগরিককে চরম নিষ্ঠুরতার সাথে হত্যা করেছে। এরা ‘বৃহত্তর ইসরাঈল’ প্রকল্পের অনুসরণে ইরাকের ফোরাত নদী থেকে মিসরের নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল দখলে নিতে চাইছে। সঙ্গত কারণেই আরব নেতাদের হুঁশ ফিরেছে।
(৩) নতুন বছরের শুরুতে বিশ্বরাজনীতিকে যে কয়েকটি বিষয় অস্থীতিশীল করে তুলেছে তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গ্রীনল্যান্ড দখলের হুমকি অন্যতম। যুক্তরাষ্ট প্রয়োজনে গ্রীনল্যান্ড ক্রয় করে নেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট কেন গ্রীনল্যান্ডের প্রতি এতটা আগ্রহী? এর কারণ হচ্ছে, গ্রীনল্যান্ড ভৌগলিকভাবে উত্তর আমেরিকা (North America) মহাদেশের অংশ। তবে রাজনৈতিকভাবে এটি ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত ভূখন্ড (Autonomous territory)। আর ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্যভুক্ত একটি ইউরোপীয় রাষ্ট্র। গ্রীনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝে অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ। এর ৮০ ভাগই বরফে ঢাকা। আয়তন জার্মানির প্রায় ছয় গুণ। জনসংখ্যা মাত্র ৫৬-৫৭ হাযার। ভৌগলিক ও রাজনৈতিক কারণে এই দ্বীপটির গুরুত্ব অনেক বেশী। এতে রয়েছে বিরল খনিজ সম্পদ। রয়েছে ইউরেনিয়াম, তেল ও গ্যাসের বিপুল সম্ভাবনা। বরফ গলে সমুদ্র পথ উন্মুক্ত হচ্ছে। গ্রীনল্যান্ড উত্তর আমেরিকার একেবারে পাশে এবং ইউরোপের মাঝামাঝি হওয়ায় রাশিয়া বা অন্য কোন শক্তির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হ’লে সবার আগে শনাক্ত করার আদর্শ জায়গা হ’ল গ্রীনল্যান্ড। এ কারণেই সেখানে আগে থেকেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি করা হয়েছে। ভৌগলিক এই গুরুত্ব বিবেচনায় পৃথিবীর এই বৃহৎ দ্বীপটি নিজেদের করায়ত্তে নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে গ্রীনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করতে ইতিমধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেনসহ ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো সেখানে সেনা মোতায়েন করেছে। খোদ আমেরিকাতেও গ্রীনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের বিরুদ্ধে জনমত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৭৫ শতাংশ নাগরিক গ্রীনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গ্রীনল্যান্ড দখলের বিরোধিতাকারী ৮ মিত্র দেশের উপর নতুন করে ১০-২৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সবমিলিয়ে নতুন বছরের শুরুতে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে।
(৪) নতুন বছরের আরেকটি শুভংকরের ফাঁকি হচ্ছে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ। গাযায় যুদ্ধবিরতি তদারকি করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রস্তাবিত এই শান্তি পর্ষদ। গত ২২শে জানুয়ারী এই সনদে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে আহবান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এই পর্ষদের স্থায়ী সদস্য হ’তে প্রতিটি দেশকে ১০০ কোটি ডলার দিতে হবে। ইতিমধ্যে ১৯টি দেশের নেতারা এতে স্বাক্ষর করলেও ইউরোপের বেশ কিছু প্রভাবশালী দেশসহ বহু দেশ ট্রাম্পের এই পর্ষদে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কেননা এই পর্ষদের চেয়ারম্যান হয়েছেন ট্রাম্প নিজেই এবং তিনিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সদস্য নির্বাচন ও বরখাস্তের মালিকও ট্রাম্প। তিনিই ঠিক করবেন বোর্ড কখন বসবে এবং কি নিয়ে আলোচনা হবে। এমনকি এককভাবে সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব জারী করার ক্ষমতাও তার। এই উদ্যোগ জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে নতুন কোন সমান্তরাল বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করবে কি-না তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা ‘নতুন জাতিসংঘ বানাতে চায় ট্রাম্প’ বলে মন্তব্য করেছেন। মূলত ‘বোর্ড অব পিস’ শান্তিমঞ্চ নয়, ‘সম্রাট’ ট্রাম্পের দরবার।
মুসলিম বিশ্বের করণীয় : ১. ঐক্যবদ্ধ থাকা ও কূটনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করা : বর্তমানে মুসলিম দেশগুলো বিভক্ত এটাই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। সর্বাগ্রে প্রয়োজন মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর আভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে এক ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়া। কেননা যে কোন অনৈক্যই ধ্বংস ডেকে আনে।
২. রাজনৈতিক জোট শক্তিশালী করা : ৫৭টি মুসলিম দেশ সমন্বিত সংগঠন ‘ওআইসি’ বর্তমানে কার্যত মরা লাশে পরিণত হয়েছে। একইভাবে আরব রাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘আরবলীগের’ও একই দশা। এই সংস্থাগুলোকে যেকোন মূল্যে কার্যকর করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক যে কোন ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।
৩. অর্থনৈতিক শক্তিকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা : মহান আল্লাহ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ভূগর্ভে অঢেল সম্পদ দিয়েছেন। তেল, গ্যাস, সোনা, ইউরেনিয়ামসহ বহু মূল্যবান সম্পদ মওজূদ রয়েছে মুসলমানদের কাছে। এই সম্পদকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগ ও প্রয়োজনে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।
৪. শিক্ষা, প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতায় আত্মনির্ভরশীল হওয়া : মুসলমানদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে আরো অগ্রগামী হ’তে হবে। প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
৫. মিডিয়া : মুসলিম বিশ্বের নিজস্ব আন্তর্জাতিক শক্তিশালী মিডিয়া থাকতে হবে। যেন যেকোন ইস্যুতে বস্ত্তনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করা যায়।
মহান আল্লাহ ক্ষমতাগর্বী নেতাদের বুঝার তাওফীক দান করুন এবং বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নাযিল করুন-আমীন!!
[1]. ‘তুমান’ (Toman) ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মুদ্রা। ইরানের সরকারী মুদ্রা হ’ল ‘রিয়াল’। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে মানুষ প্রায় সবাই ‘তুমান’ ব্যবহার করে হিসাব করে। ১ তুমান=১০ রিয়াল।