৮. আশা-আকাঙ্ক্ষা হ্রাস করা :

রিয়া থেকে বেঁচে থাকার জন্য মৃত্যুকে স্মরণ করার পাশাপাশি আশা-আকাঙ্ক্ষা ও চাওয়া-পাওয়ার লাগাম টেনে ধরতে হবে। অল্পতে সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করতে হবে। কারণ মানুষের চাহিদার কোন সীমা-পরিসীমা নেই। হাদীছের বক্তব্য অনুযায়ী- আদম সন্তানকে যদি দুই ময়দান ভর্তি সম্পদ দেওয়া হয়, তাহ’লে সে আরেক ময়দান সমপরিমাণ সম্পদ চাইবে।[1] মূলত দু’টি কারণে মানুষ দীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। ১. দুনিয়াপ্রেম ও ২. অজ্ঞতা। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, لاَ يَزَالُ قَلْبُ الْكَبِيرِ شَابًّا فِى اثْنَتَيْنِ فِى حُبِّ الدُّنْيَا، وَطُولِ الأَمَلِ ‘মানুষ বার্ধক্যে উপনীত হ’লেও দু’টি বিষয়ে তার হৃদয় তরুণই থেকে যায়- দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা বা মোহ এবং দীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষা’।[2] রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন,مَنْهُومَانِ لَا يَشْبَعَانِ: مَنْهُومٌ فِي الْعِلْمِ لَا يَشْبَعُ مِنْهُ، وَمَنْهُومٌ فِي الدُّنْيَا لَا يَشْبَعُ مِنْهَا ‘দুই শ্রেণীর লোক তৃপ্ত হয় না; জ্ঞানলোভী ও দুনিয়ালোভী’।[3]

দুনিয়াপ্রেমে আসক্ত হ’লে মানুষের জন্য দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। দুনিয়ার ভালোবাসা অন্তরকে মৃত্যুর স্মরণ থেকে ভুলিয়ে রাখে। অথচ মৃত্যুর স্মরণের মাধ্যমেই কেবল অন্তরকে দুনিয়ার ভালোবাসা থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়। আর অজ্ঞতার ফলে মানুষ মনে করে যে, সে সদা সর্বদা যুবক থাকবে। অথচ তারা চিন্তা করে না যে, যদি তাদের এই ভাবনাই সঠিক হত তাহলে শহরে-নগরে ও গ্রামে-গঞ্জে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকদের তুলনায় যুবকদের সংখ্যা কম কেন? তাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ হ’ল, বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হওয়ার পূর্বেই বহু মানুষ পরপারে চলে গেছে। এমনকি দেখা যায় একজন বৃদ্ধের মৃত্যু হতে হতে হাযারো শিশু ও যুবকের মৃত্যু হয়ে যায়। কখনো মানুষ তার সুস্থতা দ্বারা প্রতারিত হয়। সে কল্পনাও করতে পারে না যে, হঠাৎ তার মৃত্যুর ঘণ্টা বেজে যেতে পারে। এজন্যই ইবনু কুদামা মাকদেসী (রহঃ) বলেছেন,وَلَوْ تَفَكَّرَ وَعَلِمَ أَنَّ الْمَوْتَ لَيْسَ لَهُ وَقْتٌ مَخْصُوصٌ، مِنْ صَيْفٍ وَشِتَاءٍ وَرَبِيعٍ وَخَرِيفٍ وَلَيْلٍ وَنَهَارٍ، وَلَا هُوَ مُقَيَّدٌ بِسِنٍّ مَخْصُوصٍ، مِنْ شَابٍّ وَشَيْخٍ أَوْ كَهْلٍ أَوْ غَيْرِهِ، لَعَظُمَ ذَلِكَ عِنْدَهُ وَاسْتَعَدَّ لِلْمَوْتِ ‘যদি মানুষ গভীরভাবে চিন্তা করে এবং উপলব্ধি করে যে, মৃত্যু কোন নির্দিষ্ট সময়ের গন্ডীতে আবদ্ধ নয়- না গ্রীষ্ম, না শীত, না বসন্ত, না শরৎ, না রাত, না দিন। তেমনি এটি কোন নির্দিষ্ট বয়সের সাথেও সীমাবদ্ধ নয়- না যুবক, না বৃদ্ধ, না মধ্যবয়স্ক বা অন্য কেউ। তবে তার কাছে মৃত্যুর বিষয়টি গুরুতর ও ভয়াবহ মনে হবে এবং সে মৃত্যুর জন্য প্রস্ত্ততি গ্রহণ করবে’।[4]

তাবেঈ আবু ওছমান আন-নাহদী বলেন,بَلَغْتُ ثَلَاثِينَ وَمِائَةَ سَنَةٍ، وَمَا مِنْ شَيْءٍ إِلَّا قَدْ عَرَفْتُ فِيهِ النُّقْصَانَ إِلَّا أَمَلِي فَإِنَّهُ كَمَا هُوَ. ‘আমি একশ ত্রিশ বছর বয়সে উপনীত হয়েছি। জীবনের প্রায় সবকিছুর মধ্যেই ক্ষয় ও হ্রাস লক্ষ্য করেছি- শুধু আমার আশা-আকাঙ্ক্ষা ছাড়া। তা আজও আগের মতোই অটুট ও চিরযৌবনা রয়ে গেছে’।[5]

মুহাম্মাদ বিন আবু তাওবা (৪৫৫-৫৩৫হি.) বলেন, মা‘রূফ আল-কারখী ছালাতের একামত দিয়ে আমাকে ইমামতি করতে বললেন। আমি বললাম, ঠিক আছে, শুধু এই ছালাতের জন্যই আমি তোমাদের ইমাম হব। কিন্তু এরপরে আর আমি তোমাদের ইমাম হতে পারব না। তখন কারখী তাকে বললেন, ‘তুমি মনে করছ যে, অন্য কোন ছালাতে তুমি ইমাম হওয়ার সুযোগ পাবে? বেঁচে থাকার এই দীর্ঘ আশা পোষণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। এই আশা-আকাঙ্ক্ষাই মানুষকে উত্তম আমল করতে বাধা দেয়’।

বেঁচে থাকার আশা এমনই কম ছিল দুনিয়াবিমুখ বান্দাদের। যতই এই আশার পরিমাণ অল্প হয়, ততই আমল হয় সুন্দর। কারণ যাদের আশা কম তারা মনে করে, আজই হয়তো মারা যাব। তারা সদা মৃত্যুর প্রস্ত্ততি গ্রহণ করে। যদি কোনভাবে দিনটা পার হয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে, তখন তারা তাদেরকে নিরাপদে রাখার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে এবং মনে করে, এই রাতেই তারা মৃত্যুবরণ করতে পারে। একথা ভেবে তারা পুনরায় আমলের প্রতি মনোনিবেশ করে।[6]

৯. মন্দ সমাপ্তির ভয় :

মন্দ সমাপ্তির ভয় করা। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالْخَوَاتِيمِ ‘নিশ্চয়ই মানুষের আমলের প্রকৃত মূল্যায়ন তার শেষ পরিণতির উপরই নির্ভরশীল’।[7] সুতরাং মুমিন বান্দা সর্বদা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকবে, যদি তার জীবনের শেষ আমল রিয়া বা লৌকিকতাপূর্ণ হয় তাহ’লে সে পরকালে বিশাল ক্ষতি ও মহাবিপদের সম্মুখীন হবে। কেননা মানুষ যেভাবে মৃত্যুবরণ করবে ক্বিয়ামতের দিন তাকে সেভাবেই উত্থিত করা হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,إِنَّمَا يُبْعَثُ النَّاسُ عَلَى نِيَّاتِهِمْ ‘মানুষকে তাদের নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত করা হবে’।[8] অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) বলেন,يُبْعَثُ كُلُّ عَبْدٍ عَلَى مَا مَاتَ عَلَيْهِ ‘প্রত্যেক মানুষকে কিবয়ামতের দিন সেই অবস্থাতেই উত্থিত করা হবে, যে অবস্থায় সে মৃত্যবরণ করেছিল’।[9] অতএব উত্তম আমলের মাধ্যমে যেন জীবনাবসান ঘটে সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে এবং আল্লাহর কাছে এজন্য তাওফীক কামনা করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ فَقِيلَ: كَيْفَ يَسْتَعْمِلُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: يُوَفِّقُهُ لِعَمَلٍ صَالِحٍ قَبْلَ المَوْتِ ‘আল্লাহ যখন কোন বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে (সৎকর্মে) নিয়োজিত করেন। জিজ্ঞেস করা হ’ল, হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে তাকে নিয়োজিত করেন? তিনি বললেন, মৃত্যুর পূর্বে তাকে সৎকাজ করার তাওফীক দান করেন’।[10]

১০. নিজেকে আল্লাহর দাস ভাবা :

একজন মুমিন-মুসলিম ব্যক্তি সর্বদা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে যে, সে আল্লাহর শুধুই একজন দাস। যেহেতু আসমান ও যমীনের সবকিছুই আল্লাহর দাস (মারিয়াম ১৯/৯৩)। নবী, রাসূল এবং ফেরেশতাগণ সবাই আল্লাহর দাসত্ব করেন। তাদের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন মাজীদে ‘আবদ’ বা ‘ইবাদ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে (বনী ইসরাঈল ৩, ছোয়াদ ১৭, বাক্বারাহ ২৩, আম্বিয়া ২১ প্রভৃতি)। শায়খ ড. ছালেহ ফাওযান বলেন, وَمَقَامُ الْعُبُودِيَّةِ هُوَ أَعْلَى الْمَقَامَاتِ، وَلَا شَيْءَ أَشْرَفُ مِنَ الْعُبُودِيَّةِ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‘আল্লাহর প্রতি দাসত্বের মর্যাদাই সর্বোচ্চ মর্যাদা। মহান আল্লাহর জন্য দাসত্বের চেয়ে সম্মানিত ও মর্যাদাবান আর কিছুই নেই’।[11]

মালিকের সেবার কারণে দাস কোন বিনিময় বা প্রতিদানের হকদার হতে পারে না। কেননা সে মনিবের সেবা করে তার দাসত্বের দাবি পূরণের জন্য। মনিবের নিকট থেকে সে যে প্রতিদান পায়, তা স্রেফ অনুগ্রহ ও দয়া, কোন বিনিময় নয়।

১১. আল্লাহর করুণা ও অনুগ্রহ অনুধাবন করা :

বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ গণনা করে শেষ করা যাবে না (নাহল ১৬/১৮)। সুতরাং বান্দার কর্তব্য হ’ল, তার প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত অনুগ্রহ, দয়া ও তাওফীক প্রত্যক্ষ ও পর্যালোচনা করা। সেই সাথে এটি অনুধাবন করা যে, এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে, এতে তার নিজের কোন কৃতিত্ব নেই। আল্লাহর ইচ্ছা-ই তার আমলটির অস্তিত্বকে আবশ্যক করেছে, নিজের ইচ্ছা নয়। তাই প্রত্যেকটি কল্যাণ একমাত্র আল্লাহর করুণা ও অনুগ্রহ বৈ কিছুই নয়।[12]

১২. নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি পর্যালোচনা করা :

নিজের আমলে বিদ্যমান ত্রুটি, শৈথিল্য ও অসম্পূর্ণতা পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করা। আমলে বিদ্যমান প্রবৃত্তি ও শয়তানের ভাগ প্রত্যক্ষ করা। প্রতিটি আমলেই স্বল্প পরিমাণ হলেও শয়তানের অংশ থাকে এবং প্রবৃত্তির কিছু ভাগ থাকে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে ছালাতের মধ্যে মুছল্লীর এদিক সেদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন,هُوَ اخْتِلاَسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلاَةِ الْعَبْدِ ‘এটা এক ধরনের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার ছালাত হ’তে অংশবিশেষ নিঃশব্দে ছিনিয়ে নেয়’।[13]

ছালাতে এক পলক দৃষ্টিপাতের যদি এই অবস্থা হয় তাহ’লে গায়রুল্লাহর দিকে মন চলে যাওয়ার কি হিসাব হবে!

১৩. শয়তান তাড়ানোর উপায় জানা :

শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু (বাক্বারাহ ২/১৬৮ ও ২০৮)। সে মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে এবং কুমন্ত্রণা দিতে সদা তৎপর ও প্রস্ত্তত থাকে। হাসান বাছরী (রহঃ)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইবলীস কি ঘুমায়? তিনি বললেন, لَوْ نَامَ لَوَجَدْنَا رَاحَةً ‘সে ঘুমালে তো আমরা আরাম পেতাম’।[14]

শয়তান রিয়ার উৎস ও সকল বিপদের মূল হোতা। সে মানুষের শিরা-উপশিরায় রক্তপ্রবাহের মতো প্রবাহিত হয়।[15] শয়তান মানুষের জীবনের প্রায় সব বিষয়ে উপস্থিত থাকে। শয়তান তার দুর্গ ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়ার জন্য নিজের বাহিনী পাঠায় এবং আরোহী ও পদাতক বাহিনী নিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে তাকে নানা মিথ্যা আশা ও প্রতিশ্রুতি দেয়। অথচ শয়তানের প্রতিশ্রুতি কেবল প্রতারণা ও ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়। সে মানুষের কাছে মন্দ কাজকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করে উপস্থাপন করে। রিয়া থেকে বাঁচার জন্য এই বাস্তবতা সর্বদা একজন মুসলিমকে স্মরণ রাখতে হবে। সেই সাথে শয়তান তাড়ানোর উপায়গুলোও জানতে হবে।

বিভিন্ন বিষয় থেকে শয়তান পলায়ন করে। যেমন, আযান, কুরআন তেলাওয়াত, তেলাওয়াতের সিজদা, আউযুবিল্লাহ পাঠ করলে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার দো‘আ পড়লে, সূরা নাস ও ফালাক পড়লে প্রভৃতি।[16]

১৪. রিয়াকে ভয় করা :

দুনিয়া অর্জনের জন্য আমল করা এবং আমল ধ্বংসকারী সর্বগ্রাসী রিয়াকে ভয় করতে হবে। কারণ কোন ব্যক্তি কোন বিষয়কে ভয় পেলে সেই বিষয় থেকে সতর্ক থাকতে সচেষ্ট হয়। ফলে সে তা থেকে মুক্তি পায়। তাই মানুষের কর্তব্য হ’ল, যখন অন্তর প্রশংসাবারি ও গুণকীর্তনের বিপদের প্রতি আগ্রহী ও ব্যাকুল হয়ে উঠবে, তখন নিজের আত্মাকে রিয়ার বিপদসমূহ এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টির মুখোমুখি হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিবে। সুতরাং প্রশংসা শোনার আগ্রহকে আল্লাহর অসন্তুষ্টিকে অপছন্দের মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে। কারণ মানুষ দেখছে এই কথা জানলে অন্তরে খ্যাতি ও প্রশংসার লালসা জাগে। আর রিয়ার ক্ষতি সম্পর্কে অবগত হলে তার প্রতি অন্তরে ঘৃণা জন্মে।[17]

১৫. আল্লাহর নিন্দা থেকে পলায়ন করা :

আল্লাহর নিন্দা থেকে পলায়ন করা। কেননা রিয়ার একটি কারণ হ’ল, মানুষের নিন্দা থেকে পলায়ন করা। কিন্তু জ্ঞানী ও বিচক্ষণ ব্যক্তি জানে, আল্লাহর নিন্দা থেকে পলায়ন করাই উত্তম। কেননা আল্লাহর নিন্দা হ’ল অসম্মান। যেমন জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলল,يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ حَمْدِي زَيْنٌ وَإِنَّ ذَمِّي شَيْنٌ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ذَاكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রশংসা মানুষের জন্য সম্মান ও সৌন্দর্যের কারণ এবং আমার নিন্দা হ’ল অপমান। তখন নবী (ছাঃ) বললেন, এ মর্যাদা কেবল আল্লাহ তা‘আলারই প্রাপ্য’।[18]

অর্থাৎ মানুষের প্রশংসা ও নিন্দা দ্বারা কারো প্রকৃত মর্যাদা নিরূপিত হয় না। প্রকৃত সম্মান, মর্যাদা ও অপমানের মালিক একমাত্র আল্লাহ। নিঃসন্দেহে যখন কোন বান্দা মানুষকে ভয় করে তখন সে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষকে খুশি করতে চায়। ফলে আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট ও ক্রুদ্ধ হন এবং মানুষদেরকেও তার উপর ক্রুদ্ধ করে তোলেন। সুতরাং আমরা কি মানুষের ক্রোধকে ভয় করব, না আল্লাহর ক্রোধকে? সত্যিকার অর্থে আল্লাহই ভয় করার অধিক উপযুক্ত।[19]

১৬. মানুষের নিন্দা ও প্রশংসার তোয়াক্কা না করা :

মানুষের নিন্দা ও প্রশংসার প্রতি মোটেই ভ্রুক্ষেপ না করা। কেননা তা কোন ক্ষতি বা উপকার করতে পারে না। বরং আল্লাহর নিন্দাকে ভয় করতে হবে এবং তার অনুগ্রহ প্রাপ্তিতে আনন্দিত হতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ ‘তুমি বলে দাও, ‘এ হল তাঁরই অনুগ্রহ ও করুণায়; সুতরাং এ নিয়েই তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত; এটা তারা যা (পার্থিব সম্পদ) সঞ্চয় করছে তা হতে অধিক উত্তম’ (ইউনুস ১০/৫৮)।

মানুষ আপনার কোন গুণের প্রশংসা করলে আপনি ভেবে দেখবেন যে, আপনার মধ্যে সেই গুণটি বিদ্যমান আছে কি-না ? যদি থাকে এবং তা আনন্দিত হওয়ার মতো বিষয় হয় যেমন ইলম ও তাক্বওয়া। তাহ’লে তার শেষ পরিণতি কি হবে তা নিয়ে চিন্তিত থাকুন! কেননা শেষ পরিণতির ভয় প্রশংসায় আনন্দিত হওয়ার থেকে দূরে রাখবে। সুন্দর পরিসমাপ্তির আশায় আনন্দিত হলে আল্লাহর অনুগ্রহের কারণে আনন্দিত হতে হবে; মানুষের প্রশংসার কারণে নয়। আর যদি এমন বিষয়ে আপনার প্রশংসা করা হয়- যা আনন্দিত হওয়ার মতো নয় যেমন মান-মর্যাদা ও ধন-সম্পদ তাহ’লে জেনে রাখুন যে, এই ধরনের প্রশংসায় আনন্দ করা ঠিক সেই আনন্দের মতো, যেমন পৃথিবীর উদ্ভিদে আনন্দ করা যা অচিরেই শুকিয়ে ক্ষয় ও ধ্বংস হয়ে যায়। এ ধরনের বিষয়ে কেবল সেই ব্যক্তিই আনন্দিত হয় যার বুদ্ধি কম! আর আপনি যদি সেই গুণ থেকে শূন্য হ’ন যার কারণে আপনার প্রশংসা করা হয়েছে তবে সে প্রশংসায় আপনার আনন্দ করা চরম পাগলামি ছাড়া কিছুই নয়।

অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি আপনার নিন্দা করে সে হয়তো আপনাকে উপদেশ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তা বলে। সেক্ষেত্রে তার এই অনুগ্রহ স্বীকার করা উচিত এবং রাগ করা ঠিক নয়। কারণ সে আপনার দোষ-ত্রুটিগুলো আপনার কাছে তুলে ধরেছে। আর যদি সে উপদেশের উদ্দেশ্যে না বলে থাকে তবে সে নিজের দ্বীনেরই ক্ষতি করেছে; অথচ আপনি তার কথার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। কারণ আপনাকে এমন কিছু ত্রুটি সম্পর্কে সে অবগত করেছে, যা আপনি আগে জানতেন না এবং আপনার ভুলগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যেগুলো আপনি ভুলে গিয়েছিলেন।

আর যদি সে আপনার বিরুদ্ধে এমন অপবাদ দেয় যার থেকে আপনি সম্পূর্ণ নির্দোষ তবে আপনার ৩টি বিষয় নিয়ে চিন্তা করা উচিত :

১. যদি আপনি এই দোষ থেকে মুক্ত হন তবু এর মত আরও বহু দোষ থেকে মুক্ত নন। আল্লাহ তা‘আলা আপনার যে অসংখ্য দোষ গোপন রেখেছেন তা অনেক বেশি। তাই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন যে, তিনি আপনার দোষগুলো প্রকাশ করেননি এবং মানুষের সামনে তা তুলে ধরেননি। বরং এমন একটি দোষের কথা বলা হয়েছে যেটি থেকে আপনি মুক্ত।

২. এই ধরনের অপবাদ ও নিন্দা আপনার গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়।

৩. সে নিজের দ্বীনের উপর অন্যায় করেছে এবং আল্লাহর ক্রোধের সম্মুখীন হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন,وَمَنْ يَكْسِبْ خَطِيئَةً أَوْ إِثْمًا ثُمَّ يَرْمِ بِهِ بَرِيئًا فَقَدِ احْتَمَلَ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا ‘যে কেউ কোন দোষ বা পাপ করে, অতঃপর তা কোন নির্দোষ ব্যক্তির প্রতি আরোপ করে, সে মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে’ (নিসা ৪/১১২)। তাই তার উচিত আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।[20] কেননা আল্লাহ বলেন, وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ ‘তারা যেন ওদেরকে ক্ষমা করে এবং ওদের দোষ-ত্রুটি মার্জনা করে। তোমরা কি পছন্দ করো না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিন? আর আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়’ (নূর ২৪/২২)।

১৭. মানুষের নিকট যা আছে তার প্রতি লোভ না করা :

মানুষের নিকট যা কিছু রয়েছে তার প্রতি লোভাতুর না হওয়া। অন্যের মালিকাধীন সম্পদের লালসা দূর করার জন্য জানতে হবে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সকল অন্তরের নিয়ন্ত্রক। তিনি দান করা ও নিষেধ করার মাধ্যমে অন্তরকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তিনি ব্যতীত রিযিকদাতা কেউ নেই। যে ব্যক্তি বান্দার সম্পদের প্রতি লালসা রাখে সে লাঞ্ছনা ও ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়। যদি সে এর মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য হাছিল করে নেয় তবুও সে অপমান এবং খোঁটার আশংকা থেকে মুক্ত নয়। তাই মিথ্যা আশা এবং ভ্রান্ত চিন্তার ফাঁদে পড়ে আল্লাহ তা‘আলার কাছে যে প্রতিদান আছে তা হাতছাড়া করা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে?[21]

১৮. পরকালের নে‘মত ও শাস্তি সম্পর্কে জানা :

আল্লাহ তা‘আলা পরকালে বান্দার জন্য যে অফুরন্ত নে‘মতের ভান্ডার জান্নাত ও কঠিন শাস্তির স্থান জাহান্নাম প্রস্ত্তত করে রেখেছেন, এই বিষয়গুলো যখন বান্দা অবগত হবে তখন সে রিয়া পরিত্যাগ করে ইখলাছের দিকে ধাবিত হবে।

১৯. ইখলাছের ফলাফল সম্পর্কে জানা :

ইখলাছের ফলাফল, উপকারিতা এবং ইহকাল ও পরকালে তার প্রশংসনীয় পরিণাম সম্পর্কে জানা। কারণ ইখলাছ হ’ল সকল ইবাদতের সার ও প্রাণ। নফসের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হল ইখলাছ অবলম্বন করা। এজন্য বলা হয়েছে,مَنْ سَلِمَ لَهُ مِنْ عُمُرِهِ لَحْظَةٌ وَاحِدَةٌ خَالِصَةً لِوَجْهِ اللَّهِ تَعَالَى، نَجَا ‘যার জীবনের একটি মুহূর্তও একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অতিবাহিত হয়েছে, সে মুক্তি লাভ করবে’।[22]

ইখলাছের কিছু ফায়েদা ও ফলাফল হ’ল, আল্লাহর নিকট আমল কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হ’ল ইখলাছ।[23] ইখলাছ গুনাহ মাফের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। ইখলাছের মাধ্যমে শয়তান থেকে আত্মরক্ষা করা যায়। কুমন্ত্রণা ও লৌকিকতা থেকে নিরাপদ থাকা যায়। ফিতনা-ফাসাদ ও বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ইখলাছ জাতির বিজয়ের মূলমন্ত্র। ইখলাছের কারণে দুনিয়া ও আখেরাতে উচ্চমর্যাদা লাভ করা যায়। ইখলাছের মাধ্যমে প্রশান্তি, সুখানুভূতি এবং ভালো কাজ করার তাওফীক অর্জিত হয় প্রভৃতি।

২০. রিয়ার আশঙ্কায় আমল পরিত্যাগ না করা :

অনেক মানুষ রিয়া বা লৌকিকতায় নিপতিত হওয়ার আশঙ্কায় শয়তানের ধোঁকায় পড়ে আমল করা ছেড়ে দেয়। অথচ আমল ছেড়ে দেওয়া কস্মিনকালেও রিয়া থেকে বাঁচার চিকিৎসা হ’তে পারে না। বরং বেশী বেশী আমলের পাশাপাশি নিয়তকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করা এবং মানুষের চিন্তা বাদ দিয়ে অন্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টির ভাবনাকে স্থান দেওয়ার মাধ্যমে রিয়া থেকে বাঁচা সম্ভব।

যখনই আপনার মনে এই চিন্তা উঁকি মারবে যে, মানুষের সামনে

আমি আমল করব না। কেননা এতে আমার মাঝে লৌকিকতা চলে আসতে পারে, সাথে সাথে মনকে বলুন, তুমি কোনটিকে প্রাধান্য দিবে? মানুষের দেখাকে, নাকি আল্লাহর দেখাকে? ইব্রাহীম নাখঈ বলেন,إِذَا أَتَاكَ الشَّيْطَانُ وَأَنْتَ فِيْ صَلَاةُ فَقَالَ إِنَّكَ مُرَاءٍ فَزِدْهَا طُولًا ‘তুমি ছালাতরত অবস্থায় শয়তান যদি তোমাকে এসে বলে, তুমি লোক দেখানোর জন্য ছালাত আদায় করছো। তখন তুমি তোমার ছাালাতকে লম্বা করে পড়’।[24] 

২১. আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা :

সৎ আমল বিধ্বংসী নিরব ঘাতক রিয়া থেকে বাঁচার জন্য সর্বদা আল্লাহর নিকট সাহায্য চাইতে হবে। কারণ তাঁর সাহায্য ব্যতীত এই ঘাতক হৃদব্যাধি থেকে আত্মরক্ষা করা সম্ভব নয়। শায়খ আব্দুর রহমান সা‘দী বলেন,الرِّيَاءُ آفَةٌ عَظِيمَةٌ، وَيَحْتَاجُ إِلَى عِلَاجٍ شَدِيدٍ، وَتَمْرِينِ النَّفْسِ عَلَى الْإِخْلَاصِ، وَمُجَاهَدَتِهَا فِي مُدَافَعَةِ خَوَاطِرِ الرِّيَاءِ وَالْأَغْرَاضِ الضَّارَّةِ، وَالِاسْتِعَانَةِ بِاللَّهِ عَلَى دَفْعِهَا، لَعَلَّ اللهَ يُخْلِصُ إِيمَانَ الْعَبْدِ وَيُحَقِّقُ تَوْحِيدَهُ. ‘রিয়া এক ভয়াবহ ব্যাধি। এর কঠিন চিকিৎসা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন নিজের নফসকে ইখলাছের উপর প্রশিক্ষিত করা। রিয়ার কুমন্ত্রণা ও ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে নিরন্তর আত্মসংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া এবং সেগুলো প্রতিহত করতে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। আশা করা যায়, এর মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার ঈমানকে পরিশুদ্ধ করবেন এবং তার তাওহীদকে পরিপূর্ণ করে দিবেন।’[25]

২২. দো‘আ করা :

রিয়া থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর নিকট দো‘আ করা এবং তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা। মা‘কিল বিন ইয়াসার (রাঃ) বলেন, আমি আবুবকর ছিদ্দীক (রাঃ)-এর সাথে নবী (ছাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি বললেন, يَا أَبَا بَكْرٍ، لَلشِّرْكُ فِيكُمْ أَخْفَى مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ ‘হে আবুবকর! তোমাদের মধ্যে শিরক পিপীলিকার পদচারণা থেকেও অধিক গোপন ও অদৃশ্য। তখন আবুবকর (রাঃ) বললেন, কারো আল্লাহর সাথে অপর কিছুকে ইলাহরূপে গণ্য করা ছাড়াও কি শিরক আছে? নবী (ছাঃ) বললেন, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! শিরক পিপীলিকার পদধ্বনির চেয়েও সূক্ষ্ম। আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিবো না, তুমি যা বললে শিরকের অল্প ও বেশী সবই দূর হয়ে যাবে? তিনি বলেন, তুমি বলো, اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ. ‘হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং যা আমার অজ্ঞাত তা থেকেও তোমার কাছে ক্ষমা চাই’।[26]

শায়খ বিন বায (রহঃ) বলেন,يَنْبَغِي لِلْمُسْلِمِ أَنْ يَدْعُوَ بِهِ دَائِمًا ‘সর্বদা এই দো‘আ পাঠ করা মুসলমানের কর্তব্য’।[27]

পরিশেষে বলা যায়, রিয়া থেকে বাঁচার জন্য সর্বদা আল্লাহর নিকট সাহায্য চাইতে হবে ও দো‘আ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, فَفِرُّوا إِلَى اللَّهِ إِنِّي لَكُمْ مِنْهُ نَذِيرٌ مُبِينٌ ‘অতএব তোমরা দ্রুত আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ হ’তে স্পষ্ট সতর্ককারী’ (যারিয়াত ৫১/৫০)। নিজেকে মুত্তাকী ও পরহেযগার ভেবে আত্মপ্রসাদে ভোগা যাবে না। ইব্রাহীম (আঃ)-এর জীবনাদর্শে আমাদের জন্য এ বিষয়ে শিক্ষণীয় রয়েছে। তিনি শিরকে আকবর থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দো‘আ করেছিলেন, وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ ‘আমাকে ও আমার সন্তানদের তুমি মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখ’ (ইবরাহীম ১৪/৩৫)। তিনি নিজ হাতে মূর্তি ভাঙার পরেও মূর্তিপূজায় পতিত হওয়ার আশংকা করেছিলেন। আল্লাহ আমাদের এ দুরারোগ্য মনোব্যাধি থেকে হেফাযত করুন! আমীন!!


[1]. মুত্তাফাক আলাইহ; মিশকাত হা/৫৭২৭, ‘আশা ও লোভ অনুচ্ছেদ’।
[2]. মুত্তাফাক আলাইহ; মিশকাত হা/৫২৭১।
[3]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৯৭৯৮; মিশকাত হা/২৬০; ছহীহুল জামে হা/৬৬২৪।
[4]. ইবনু কুদামা মাকদেসী, মুখতাছার মিনহাজুল কাছেদীন, পৃ. ৩৮৬।
[5]. তদেব।
[6]. তদেব।
[7]. বুখারী হা/ ৬৬০৭।
[8]. ইবনু মাজাহ হা/৪২২৯, হাদীছ ছহীহ।
[9]. মুসলিম হা/২৮৭৮।
[10]. তিরমিযী হা/২১৪২, হাসান ছহীহ।
[11]. ড. ছালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান, আত-তা‘লীকাতুল মুখতাছারাহ আলা মাতনিল আক্বীদা আত-তহাবিয়াহ (কায়রো: দারু ইবনিল জাওযী, ১ম প্রকাশ, ১৪৩৯ হি.), পৃ. ৪৮।।

[12]. আব্দুল মালেক আল-কাসেম, মিফতাহু দাওয়াতির রুসুল, পৃ. ৮৩।

[13]. বুখারী হা/৭৫১।

[14]. ইবনুল জাওযী, তালবীসু ইবলীস, পৃ. ৩৬।

[15]. তিরমিযী হা/১১৭২।

[16]. সালীম-আল হেলালী, আর-রিয়া, পৃ. ৬৪-৬৫।

[17]. মুখতাছার মিনহাজুল কাছেদীন, পৃ. ২২৩; সালিম আল-হেলালী, আর-রিয়া, পৃ. ৬৩-৬৪।

[18]. তিরমিযী হা/৩২৬৭, হাদীছ ছহীহ।

[19]. নূরুল ইখলাছ, পৃ. ৫১১।

[20]. মুখতাছার মিনহাজুল কাছেদীন, পৃ. ২১২-২১৩।

[21]. তদেব, পৃ. ২২৩.

[22]. তদেব, পৃ. ৩৩৬।

[23]. বাইয়্যিনাহ ৯৮/৫; নাসাঈ হা/ ৩১৪০, হাদীছ ছহীহ।

[24]. মুখতাছার মিনহাজুল কাছেদীন, পৃ. ২২৫।

[25]. শায়খ আব্দুর রহমান বিন নাছির আস-সা‘দী, আল-কাত্তলুস সাদীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ (রিয়াদ : দারুছ ছাবাত, ১ম প্রকাশ, ২০০৪ খ্রি.), পৃ. ২২০।

[26]. ছহীহ আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৫৫১।

[27]. https://surl.li/hksdpj






ছিয়ামের ফাযায়েল ও মাসায়েল - আত-তাহরীক ডেস্ক
বিদ‘আত ও তার পরিণতি (৪র্থ কিস্তি) - মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম মাদানী
যাকাত ও ছাদাক্বা - আত-তাহরীক ডেস্ক
মৃত ব্যক্তির নিকট কুরআন তেলাওয়াতের বিধান - মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম
তাক্বলীদের বিরুদ্ধে ৮১টি দলীল (৬ষ্ঠ কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
শরী‘আহ আইন বনাম সাধারণ আইন : একটি পর্যালোচনা - ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব
ছিয়ামের ফাযায়েল ও মাসায়েল - আত-তাহরীক ডেস্ক
বিদ‘আত ও তার পরিণতি (৮ম কিস্তি) - মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম মাদানী
সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা ও তা উত্তরণের উপায় - শেখ মুহাম্মাদ রফীকুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক, পাইকগাছা সরকারী কলেজ, খুলনা
আহলেহাদীছদের রাজনীতি : ইমারত ও খেলাফত - ড. নূরুল ইসলাম
ভুল সংশোধনে নববী পদ্ধতি (৬ষ্ঠ কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
হজ্জের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
আরও
আরও
.