রিয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক প্রবণতা। এটি ব্যক্তি, সমাজ এবং জাতির জন্য অনেক বড় একটি বিপদ। কেননা তা আমলকে ধ্বংস করে দেয়। নিম্নে রিয়ার ভয়াবহতা ও ক্ষতি সম্পর্কে আলোকপাত করা হ’ল-
১. রিয়া দাজ্জালের চেয়েও ভয়ংকর :
রিয়া মুসলমানদের জন্য দাজ্জালের থেকেও ভয়ংকর ও বিপজ্জনক। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন,خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ، فَقَالَ: أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَا هُوَ أَخْوَفُ عَلَيْكُمْ عِنْدِي مِنَ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ؟ قَال: قُلْنَا: بَلَى. فَقَالَ: الشِّرْكُ الْخَفِيُّ؛ أَنْ يَقُومَ الرَّجُلُ يُصَلِّي، فَيُزَيِّنُ صَلَاتَهُ لِمَا يَرَى مِنْ نَظَرِ رَجُلٍ. ‘একদিন রাসূল (ছাঃ) আমাদের কাছে এসে দেখলেন, আমরা মাসীহ দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করছি। তখন তিনি বললেন,‘আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিব না, যা আমার কাছে তোমাদের জন্য দাজ্জালের চেয়েও অধিক ভয়ংকর। আমরা বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই বলুন! তখন তিনি বললেন, তা হল গোপন শিরক। একজন ব্যক্তি ছালাতে দাঁড়ায়। অতঃপর মানুষ তার দিকে দেখছে ভেবে সে তার ছালাতকে সুন্দর ও সুশোভিত করে তোলে (অর্থাৎ মানুষকে দেখানোর জন্য সুন্দর করে ধীরস্থিরভাবে ছালাত আদায় করে)’।[1] উক্ত হাদীছে الرَّجُلُ বা পুরুষ শব্দ ব্যবহৃত হলেও এর দ্বারা নারী-পুরুষ উভয়ই উদ্দেশ্য। এখানে পুরুষকে তাখছীছ বা নির্দিষ্ট করা উদ্দেশ্য নয়; বরং উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত পেশ করা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ এই বিধানের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ই সমান। উছূলে ফিক্বহের পরিভাষায় একে مَفْهُومُ اللََّقَبِবলা হয়।[2]
শায়খ সুলায়মান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব বলেন,سُمِّيَ الرِّيَاءُ شِرْكًا خَفِيًّا، لِأَنَّ صَاحِبَهُ يُظْهِرُ أَنَّ عَمَلَهُ لِلَّهِ، وَيُخْفِي فِي قَلْبِهِ أَنَّهُ لِغَيْرِهِ، وَإِنَّمَا تَزَيَّنَ بِإِظْهَارِهِ أَنَّهُ لِلَّهِ، بِخِلَافِ الشِّرْكِ الْجَلِيِّ. ‘রিয়াকে গোপন শিরক বলা হয়েছে। কারণ রিয়াকারী বাহ্যত তার আমলকে আল্লাহর উদ্দেশ্যেই সম্পাদিত বলে প্রকাশ করে, অথচ অন্তরের গভীরে অন্যের সন্তুষ্টি ও প্রশংসা লাভের মনোবাসনা লালন করে। সে আল্লাহর জন্য কাজ করেছে-এমন ভান করে নিজের আমলকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে। কিন্তু অন্তরে থাকে ভিন্ন অভিপ্রায়। এই অভ্যন্তরীণ গোপন প্রবণতার কারণেই এটি প্রকাশ্য শিরক থেকে ভিন্ন’।[3]
আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পর থেকে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত পৃথিবীতে দাজ্জালের ফিতনা সবচেয়ে ভয়াবহ। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর উম্মতকে প্রত্যেক ছালাতের শেষ বৈঠকে সালাম ফিরানোর পূর্বে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশনা দিয়েছেন।[4] কিন্তু রাসূল (ছাঃ) তাঁর উম্মতের জন্য দাজ্জালের ফিতনার চেয়েও যে বিষয়টিকে বেশী ভয় করেছেন সেটি হল শিরক। কারণ দাজ্জালের বিষয়টি হবে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য। পক্ষান্তরে রিয়া বা লৌকিকতা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গোপনীয় হওয়ায় তা থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত কঠিন ও দুঃসাধ্য। বিভিন্ন আকৃতি ও রূপে এটি মানুষকে আক্রমণ করে। কেবল নির্দিষ্ট একটি রূপ বা ধরনের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ থাকে না। এজন্য জনৈক সালাফ বা পূর্ববর্তী বিদ্বান বলেছেন,مَاجَاهَدْتُ نَفْسِي عَلَى شَيْءٍ مُجَاهَدَتَهَا عَلَى الإِخْلَاصِ ‘আমি আমার নফসের বিরুদ্ধে কোন বিষয়ে এত কঠিন সংগ্রাম করিনি, যতবার করেছি ইখলাছ অর্জনের জন্য’। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ، خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ أَوْ نَفْسِهِ. ‘ক্বিয়ামতের দিন আমার শাফা‘আত লাভে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ও ধন্য হবে ঐ ব্যক্তি, যে অন্তরে গভীর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে বলেছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোন হক উপাস্য নেই)।[5] সুতরাং শুধু মুখে এই বাক্য উচ্চারণ করাই যথেষ্ট নয়; বরং অবশ্যই এর সাথে ইখলাছ বা আন্তরিক নিষ্ঠা এবং এমন আমল থাকতে হবে, যার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করে।[6]
২. রিয়া নেকড়ে বাঘ থেকেও অধিক বিপজ্জনক :
নেকড়ে বাঘ ছাগলপালের জন্য যেমন বিপজ্জনক, মানুষের জন্য আমলের মধ্যে রিয়ার অনুপ্রবেশ তার চেয়েও অধিক বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক। কা‘ব বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ أُرْسِلَا فِي غَنَمٍ، بِأَفْسَدَ لَهَا مِنْ حِرْصِ الْمَرْءِ عَلَى الْمَالِ وَالشَّرَفِ لِدِينِهِ ‘দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে ছাগপালের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া অত বেশী ধ্বংসাত্মক নয়, যত না বেশী ধ্বংসাত্মক মাল ও মর্যাদার লোভ মানুষের দ্বীনের জন্য’।[7] অন্য বর্ণনায় এসেছে,غَابَ عَنْهَا رِعَاؤُهَا ‘যখন ছাগপালের রাখাল অনুপস্থিত থাকে’।[8] দুনিয়ার সম্পদ, মাল-মর্যাদা ও সম্পদের লোভ কীভাবে মানুষের দ্বীনের জন্য ক্ষতিকর তার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, রাখালের অনুপস্থিতিতে একদল ছাগলের মধ্যে রাতের বেলায় দু’টি ক্ষুধার্ত নেকড়ে ঢুকে ইচ্ছামতো ছাগলগুলোকে আক্রমণ করে ও খেয়ে ফেলে। তাদের আক্রমণ থেকে অল্পসংখ্যক ছাগলই বাঁচতে পারে- বরং বলা যায়, খুব কম সংখ্যকই বাঁচতে পারে। ঠিক তেমনি রিয়া মানুষের অন্তরে প্রবেশ করলে তার দ্বীনকে ধ্বংস করে দেয়।
৩. রিয়া জাতির অধঃপতন ও পরাজয়ের কারণ :
সা‘দ বিন আবু ওয়াক্কাছ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,إِنَّمَا يَنْصُرُ اللَّهُ هَذِهِ الْأُمَّةَ بِضَعِيفِهَا، بِدَعْوَتِهِمْ وَصَلَاتِهِمْ وَإِخْلَاصِهِمْ ‘এ উম্মতের দুর্বলদের দো‘আ, তাদের ছালাত এবং ইখলাছের কারণে আল্লাহ এ উম্মতকে সাহায্য করবেন’।[9]
উক্ত হাদীছ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের উপর বিজয়ের মূল উপাদান হল ইখলাছ। আর তার বিপরীতে রিয়া ধ্বংস, অধঃপতন ও পরাজয়ের কারণ। সূরা আনফালে আল্লাহ তা‘আলা জিহাদের সময় মুমিনদেরকে ইখলাছ অবলম্বন এবং বেশী বেশী তাঁর যিকির করার নির্দেশ দেওয়ার পর যুদ্ধে বের হওয়ার ক্ষেত্রে কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন না করার নির্দেশ দিয়ে বলেন,وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ خَرَجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بَطَرًا وَرِئَاءَ النَّاسِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَاللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ ‘আর তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা তাদের বাসস্থান (মক্কা) থেকে বের হয়েছিল দর্পভরে ও লোক দেখিয়ে এবং যারা আল্লাহর পথ থেকে লোকদের বাধা দিত। অথচ আল্লাহ তাদের সকল কাজ পরিবেষ্টন করে আছেন’ (আনফাল ৮/৪৭)।
বদর যুদ্ধের দিন আবু জাহল দর্পভরে বলেছিল, ‘আল্লাহর কসম! আমরা বদরে যাব, সেখানে তিনদিন থাকব ও আমোদ-ফূর্তি করে পান ভোজন করব। এর ফলে সমগ্র আরব জাতির উপরে আমাদের শক্তি প্রকাশিত হবে ও সকলে ভীত হবে’।[10] মূলত কাফের গোষ্ঠী রাসূল (ছাঃ) ও মুমিনদের সাথে বদর প্রান্তরে নিজেদের বীরত্ব, সাহস ও শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে মানুষের প্রশংসা ও সুনাম-সুখ্যাতি অর্জন করার গোপন মনোবাসনা পূরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ফল হয়েছিল উল্টোটা। এজন্য মহান আল্লাহ মুমিনদেরকে কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করেছেন। অন্যথা কাফেরদের মতো তাদেরকেও ধ্বংস ও পতনের ঝঞ্ঝাবায়ু গ্রাস করবে।
৪. রিয়া ছওয়াব থেকে মাহরূম করে :
রিয়ার কারণে আমলকারী পরকালে আমলের ছওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। উবাই বিন কা‘ব (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,بَشِّرْ هٰذِهِ الْأُمَّةَ بِالتَّيْسِيرِ، وَالسَّنَاءِ، وَالرِّفْعَةِ بِالدِّينِ، وَالتَّمْكِينِ فِي الْبِلَادِ، وَالنَّصْرِ، فَمَنْ عَمِلَ مِنْهُمْ بِعَمَلِ الْآخِرَةِ لِلدُّنْيَا ، فَلَيْسَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ نَصِيبٍ. ‘এই উম্মতকে
সহজতা, দ্বীনের মাধ্যমে উচ্চমর্যাদা ও সম্মান, পৃথিবীতে রাজত্ব কায়েম এবং বিজয়ের সুসংবাদ দাও। সুতরাং তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আখিরাতের কাজ পার্থিব স্বার্থে সম্পাদন করবে, আখিরাতে তার কোন অংশ বা প্রাপ্য থাকবে না’।[11]
৫. রিয়া ভ্রষ্টতা বৃদ্ধি করে :
আল্লাহ মুনাফিকদের দ্বিমুখী আচরণ সর্ম্পকে কুরআন মাজীদে বলেছেন,يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ- فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ ‘তারা আল্লাহ ও ঈমানদারগণের সাথে প্রতারণা করে। অথচ এর মাধ্যমে তারা কেবল নিজেদের সাথেই প্রতারণা করে। কিন্তু তারা তা বুঝতে পারেনা। তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে মর্মান্তিক শাস্তি তাদের মিথ্যাচারের কারণে’ (বাক্বারাহ ২/৯-১০)।
৬. রিয়াকারের পরিশ্রম ব্যর্থ :
হাদীছে এসেছে,جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: أَرَأَيْتَ رَجُلًا غَزَا يَلْتَمِسُ الْأَجْرَ وَالذِّكْرَ، مَا لَهُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا شَيْءَ لَهُ. فَأَعَادَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، يَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ: لَا شَيْءَ لَهُ. ثُمَّ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا، وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ. ‘একজন ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে এসে বলল, এক ব্যক্তি আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাওয়ার আশায় ও সুনাম-সুখ্যাতি অর্জনের মানসে যুদ্ধ করে। তার জন্য কী প্রতিদান রয়েছে বলে আপনি মনে করেন? রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘তার জন্য কিছুই নেই’। লোকটি একই প্রশ্ন তিনবার পুনরাবৃত্তি করল আর প্রতিবারই রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘তার জন্য কিছুই নেই’। এরপর তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা সেটুকু আমলই কবুল করেন, যা একনিষ্ঠতার সাথে একমাত্র তার সন্তুষ্টির জন্যই করা হয়’।[12]
৭. দুনিয়াবী ক্ষতি :
রিয়াকারী নিজেই নিজের ক্ষতি করছে, এমনকি দুনিয়াবীও। ইবনুল জাওযী (রহঃ) বলেন,فَلَوْ عَلِمَ الْمُرَائِي أَنَّ قُلُوبَ الَّذِينَ يُرَائِيهِمْ بِيَدِ مَنْ يَعْصِيهِ، لَمَا فَعَلَ. ‘যদি রিয়াকারী জানত যে, সে যাদেরকে দেখানোর জন্য আমল করে, তাদের অন্তরও সেই সত্তার হাতে, যার অবাধ্যতা সে করছে (অর্থাৎ আল্লাহর হাতে), তাহলে সে কখনো এমন কাজ করত না’।[13]
সুতরাং যারা মানুষকে দেখাতে চায়, মানুষের কাছে মর্যাদা অর্জন করতে চায় এবং মানুষের সন্তুষ্টিতে নিজের সফলতা খোঁজে তারা যেন রাসূল (ছাঃ)-এর নিম্নোক্ত হাদীছ দু’টি গভীরভাবে অনুধাবন করে-مَنِ الْتَمَسَ رِضَا اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ؛ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، وَأَرْضَى عَنْهُ النَّاسَ. وَمَنِ الْتَمَسَ رِضَا النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ؛ سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَأَسْخَطَ عَلَيْهِ النَّاسَ. ‘যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টির বিনিময়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং মানুষকেও তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে, আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ হন এবং মানুষকেও তার উপর ক্রুদ্ধ করে দেন’।[14]
অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,مَنِ الْتَمَسَ رِضَا اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مَؤُونَةَ النَّاسِ، وَمَنِ الْتَمَسَ رِضَا النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ. ‘যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টিকে উপেক্ষা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ তাকে মানুষের দুশ্চিন্তা ও নির্ভরতা থেকে মুক্ত করে দেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষের সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, আল্লাহ তাকে মানুষের হাতেই সোর্পদ করে দেন’।[15]
৮. রিয়ার কারণে মানুষের অন্তর থেকে ভীতিপূর্ণ শ্রদ্ধাবোধ অপসৃত হয় :
মহান আল্লাহ বলেন,وَمَنْ يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ مُكْرِمٍ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ. ‘আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেন তাকে সম্মান দেওয়ার কেউ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা চান তাই-ই করেন’(হজ্জ ২২/১৮)। একমাত্র মহান আল্লাহই মানুষের হৃদয়ে আপনার প্রতি ভীতিপূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রবেশ করাতে পারেন। আর তিনি অপমানিত করলে কেউ আপনার অন্তরে তাদের শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি করতে পারবে না। এজন্য ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-কে উপদেশ দিয়ে বলেন,مَنْ خَلَصَتْ نِيَّتُهُ كَفَاهُ اللَّهُ تَعَالَى مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّاسِ. ‘যদি কারো নিয়ত বিশুদ্ধ ও খাঁটি হয়, আল্লাহ তা‘আলাই তার ও মানুষের মধ্যকার সব বিষয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান’।[16] তিনি আরো বলেন, وَمَنْ تَزَيَّنَ بِمَا لَيْسَ فِيهِ شَانَهُ اللَّهُ. ‘যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে অবিদ্যমান গুণ থাকার ভান করে নিজেকে অলংকৃত করতে চায়, আল্লাহ তাকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেন’।
ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) ওমর (রাঃ)-এর উপরোক্ত উক্তি সর্ম্পকে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে নেই এমন গুণের ভান করে নিজেকে সাজায়, সে মূলত মুখলিছ বা নিষ্ঠাবান ব্যক্তির বিপরীত। কারণ সে মানুষের নিকট এমন কিছু প্রকাশ করে, অথচ তার অন্তরে থাকে তার সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই আল্লাহ তাকে তার উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত ফল দেন। কারণ উদ্দেশ্যের বিপরীত দিয়ে শাস্তি দেওয়া শরী‘আত ও তাকদীর উভয় দিক থেকেই প্রতিষ্ঠিত একটি নীতি(فَإِنَّ الْمُعَاقَبَةَ بِنَقِيضِ الْقَصْدِ ثَابِتَةٌ شَرْعًا وَقَدَرًا) ।
মুখলিছ ব্যক্তি তার ইখলাছ বা আন্তরিকতার ফলস্বরূপ দ্রুতই মানুষের হৃদয়ে মাধুর্য, ভালোবাসা ও ভীতিপূর্ণ শ্রদ্ধা লাভ করে; তেমনি যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে নেই এমন গুণের ভান করে আল্লাহ তার শাস্তি দ্রুতই এভাবে দেন যে, মানুষের মাঝে তাকে অপমানিত ও অপদস্থ করে দেন। কারণ সে আল্লাহর কাছে নিজের অন্তরকে কলুষিত করেছে। আর এটি আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ, মহান গুণাবলী এবং তার ফায়ছালা ও শরী‘আতের প্রজ্ঞারই একটি প্রকাশ।
আরো কারণ হ’ল, যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে বিদ্যমান নেই এমন গুণ প্রকাশের ভান করে যেমন বিনয়-নম্রতা, দ্বীনদারী, ইবাদত, ইলম ইত্যাদি, সে আসলে নিজেকেই এসব গুণের দাবী ও দায়িত্বের সামনে দাঁড় করায়। ফলে মানুষও স্বাভাবিকভাবেই তার কাছ থেকে এসব গুণের বাস্তব প্রকাশ প্রত্যাশা করবে। কিন্তু যখন তার মধ্যে সেগুলো পাওয়া যাবে না, তখন সে লাঞ্ছিত, অপমানিত ও অপদস্থ হবে। এভাবেই যে জিনিস দিয়ে সে নিজেকে সাজাতে চেয়েছিল, সেটিই তার লাঞ্ছনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে’।[17]
৯. পরকালে রিয়ার কঠিন শাস্তি :
রিয়া আখিরাতে কঠিন শাস্তির কারণ হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম শহীদের বিচার করা হবে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে আল্লাহর নে‘মতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলে সে তা স্বীকার করে নেবে। তখন আল্লাহ তাকে বলবেন, ‘এ নে‘মতের শুকরিয়া স্বরূপ তুমি কি আমল করেছ’? সে বলবে, আমি আপনার পথে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলেছ। লোকে তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে এ উদ্দেশ্যে তুমি জিহাদ করেছ। আর তোমাকে তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হলে তাকে উপুড় করে মুখের উপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এরপর বিচার করা হবে এমন এক ব্যক্তির, যে ইলম শিখেছে, মানুষকে ইলম শিখিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে এনে আল্লাহর নে‘মতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে এবং সে তা স্বীকার করে নেবে। এরপর আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি এ নে‘মতের শুকরিয়া স্বরূপ কী আমল করেছ’? সে বলবে, ‘আমি আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইলম শিখেছি, ইলম শিখিয়েছি ও কুরআন তেলাওয়াত করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি ইলম শিখেছ, লোকে তোমাকে আলেম বলবে তাই। তুমি কুরআন তেলাওয়াত করেছ লোকে যেন তোমাকে ক্বারী বলে। আর তোমাকে তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হলে তাকে উপুড় করে মুখের ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এরপর বিচার করা হবে এমন এক ব্যক্তির, যাকে আল্লাহ স্বচ্ছলতা দিয়েছেন ও সকল প্রকার সম্পদ দান করেছেন। তাকে আনার পর আল্লাহর নে‘মত স্মরণ করিয়ে দিলে সে তা স্বীকার করে নিবে। আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি এ নে‘মতের শুকরিয়া স্বরূপ কী আমল করেছ? সে বলবে, ‘আপনার পছন্দনীয় প্রতিটি খাতেই আমি সম্পদ ব্যয় করেছি’। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং তুমি এজন্য দান করেছ যে, লোকে তোমাকে দানশীল বলবে। আর তোমাকে তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হলে তাকে উপুড় করে মুখের ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’।[18]
মু‘আবিয়া (রাঃ) হাদীছটি শুনে ক্রন্দন করেন এবং তেলাওয়াত করতে থাকেন, مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ -أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ‘যে ব্যক্তি পার্থিব জীবন ও তার জাঁকজমক কামনা করে, আমরা তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের ফল দুনিয়াতেই পূর্ণভাবে দিয়ে দিব। সেখানে তাদের কোনই কমতি করা হবে না। এরা হ’ল সেইসব লোক যাদের জন্য পরকালে জাহান্নাম ছাড়া কিছুই নেই। দুনিয়াতে তারা যা কিছু (সৎকর্ম) করেছিল আখিরাতে তা সবটাই বরবাদ হবে এবং যা কিছু উপার্জন তারা করেছিল সবটুকুই বিনষ্ট হবে’ (হূদ ১১/১৫-১৬)।[19]
ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, ‘নবী (ছাঃ) গাযী, আলেম ও দানশীল ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন- যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয় বরং লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে এসব আমল করেছে এবং এ কারণে তাদেরকে শাস্তি প্রদান ও জাহান্নামে প্রবেশ করানোর কথা বলা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে, রিয়া কতটা গুরুতর ও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আর এর শাস্তিও অত্যন্ত ভয়াবহ। একই সাথে এটি আমলের ক্ষেত্রে ইখলাছ অর্জনের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে’।[20]
১০. রিয়াকারী অন্যকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচালেও নিজেই ডুবে যায় :
আলেম, দাঈ বা সমাজ সংস্কারক যখন রিয়াকারী হয়, তখন তিনি তার কথা ও কাজের মাধ্যমে মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাঁচান; কিন্তু রিয়ার কারণে তিনি নিজেই সেই হুতাশনে নিপতিত হন। এজন্যই রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,لَا تَتَعَلَّمُوا الْعِلْمَ لِتُبَاهُوا بِهِ الْعُلَمَاءَ، أَوْ لِتُمَارُوا بِهِ السُّفَهَاءَ، أَوْ لِتَصْرِفُوا وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْكُمْ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَهُوَ فِي النَّارِ. ‘তোমরা আলেমদের উপর গর্ব করার জন্য অথবা মূর্খদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করার জন্য অথবা মানুষের দৃষ্টি তোমাদের দিকে আকর্ষণ করার জন্য ইলম অর্জন করো না। যে ব্যক্তি এসব উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করবে, সে জাহান্নামে যাবে’।[21]
১১. কিয়ামত দিবসের আক্ষেপ :
রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ. قَالَ: وَمَا الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: الرِّيَاءُ. يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا جَزَى النَّاسَ بِأَعْمَالِهِمْ: اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُمْ تُرَاؤُونَ فِي الدُّنْيَا، فَانْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ عِنْدَهُمْ جَزَاءً. ‘আমি তোমাদের জন্য যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী ভয় করি তা হল ছোট শিরক। ছাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শিরক কী? তিনি বললেন, রিয়া। কিয়ামতের দিন যখন মানুষকে আল্লাহ তাদের আমলের প্রতিদান দিবেন, তখন তিনি রিয়াকারীদের বলবেন, তোমরা তাদের কাছে যাও যাদের দেখানোর জন্য দুনিয়াতে আমল করতে। দেখো, তাদের কাছে কোন প্রতিদান পাও কি-না’?[22]
একজন জ্ঞানী বলেছেন, যে ব্যক্তি লৌকিকতা ও শ্রুতির জন্য ইবাদত করে, তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো, যে বাজারে বের হয়ে তার থলি কংকর দিয়ে ভর্তি করে। তখন মানুষ বলে, ‘লোকটির থলি কত ভরা!’ কিন্তু মানুষের এই মন্তব্য ছাড়া এতে তার কোনো ফায়েদা হয় না। সে যদি এর দ্বারা কিছু কিনতে চায়, কেউ তাকে কিছু দেবে না। তেমনি যে ব্যক্তি রিয়া ও খ্যাতির জন্য আমল করে, মানুষের প্রশংসা ছাড়া তার আমলের কোনো উপকার নেই এবং আখিরাতে তার কোনো ছওয়াবও নেই।[23]
১২. রিয়া লাঞ্ছনার কারণ :
রিয়া পরকালে লাঞ্ছনা, অপমান, অপদস্থতা ও হীনতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللَّهُ بِهِ. ‘যে ব্যক্তি মানুষকে শুনানোর জন্য কাজ করে, আল্লাহ তার একথা কিয়ামতের দিন সৃষ্টিকুলের সামনে শুনিয়ে দিবেন। আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য কাজ করে, আল্লাহ তা‘আলা তার ঐ কাজ সবাইকে দেখিয়ে দিবেন’।[24]
ইমাম খাত্তাবী (রহঃ) বলেন,مَعْنَاهُ: مَنْ عَمِلَ عَمَلًا عَلَى غَيْرِ إِخْلَاصٍ؛ وَإِنَّمَا يُرِيدُ أَنْ يَرَاهُ النَّاسُ وَيَسْمَعُوهُ، جُوزِيَ عَلَى ذٰلِكَ بِأَنْ يُشَهِّرَهُ اللَّهُ وَيَفْضَحَهُ، وَيُظْهِرَ مَا كَانَ يُبْطِنُهُ ‘এর অর্থ হল, যে ব্যক্তি কোনো কাজ একনিষ্ঠতা ও আন্তরিকতা ছাড়া করে; বরং সে চায় মানুষ তাকে দেখুক ও তার কথা শুনুক, তাকে সেই কাজের প্রতিদান এভাবে দেওয়া হবে যে, আল্লাহ তাকে মানুষের সামনে প্রকাশ করে দেবেন ও লাঞ্ছিত-অপমানিত করবেন এবং সে যা অন্তরে গোপন রেখেছিল তা প্রকাশ করে দেবেন’।[25]
ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন, ‘কয়েকটি হাদীছে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে যে, রিয়াকারীর আমলের স্বরূপ উন্মোচন ও শোনানোর বিষয়টি কিয়ামতের দিন ঘটবে। এটিই গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য মত’।[26]
অন্য হাদীছে এসেছে,مَنْ سَمَّعَ النَّاسَ بِعَمَلِهِ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ مَسَامِعَ خَلْقِهِ، وَصَغَّرَهُ وَحَقَّرَهُ. ‘যে ব্যক্তি তার আমলের কথা মানুষকে শুনিয়ে বেড়ায়, আল্লাহ তা সৃষ্টিকুলের সামনে শুনিয়ে দিবেন এবং তাকে মানুষের কাছে ছোট ও তুচ্ছ করে দিবেন’।[27]
১৩. রিয়া নেক আমলকে বরবাদ করে দেয় :
রিয়া নেক আমলের জন্য অনেক বড় বিপদ। কেননা তা আমলকে নষ্ট করে দেয় এবং এর বরকত দূর করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَى كَالَّذِي يُنْفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ صَفْوَانٍ عَلَيْهِ تُرَابٌ فَأَصَابَهُ وَابِلٌ فَتَرَكَهُ صَلْدًا لَا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِمَّا كَسَبُوا وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা খোটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানগুলিকে বিনষ্ট করোনা। সেই ব্যক্তির মত, যে তার ধন-সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখানোর জন্য এবং সে আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করেনা। ঐ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত একটি মসৃণ প্রস্তরখন্ডের মত, যার উপরে কিছু মাটি ছিল। অতঃপর সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হ’ল ও তাকে ধুয়ে ছাফ করে রেখে গেল। এভাবে তারা যা উপার্জন করে, তা থেকে কোনই সুফল তারা পায় না। বস্ত্ততঃ আল্লাহ অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেন না’(বাক্বারাহ ২/২৬৪)।
এই কঠিন হৃদয়, যা রিয়ার (লোক দেখানো আমলের) আবরণে ঢাকা। এর উদাহরণ একটি মসৃণ পাথরের মতো, যার উপর সামান্য মাটি জমে থাকে। কিন্তু আসলে তা এমন এক পাথর যেখানে কোনো উর্বরতা নেই, কোনো কোমলতাও নেই। এর উপর হালকা মাটির আস্তরণ থাকে, যা প্রতারিত চোখের কাছ থেকে তার কঠোরতাকে গোপন করে রাখে, যেমন রিয়া ঈমানশূন্য হৃদয়ের কঠোরতাকে আড়াল করে রাখে। কিন্তু যখন প্রবল বৃষ্টি আসে, তখন সেই সামান্য মাটিও ধুয়ে যায়। তখন তার অন্তরে লুক্কায়িত ত্রুটি প্রকাশ হয়ে যায় এবং তার হৃদয়ের রুক্ষতা ও কঠোরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন সেখানে কোনো শস্য জন্মায় না, কোনো ফলও ধরে না। কারণ তা তো নিকৃষ্ট বৃক্ষের মতো, যা মাটি থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে-যার কোনো স্থায়িত্ব নেই।
এরূপই সেই ব্যক্তি, যে লোক দেখানোর জন্য কাজ করে। সে কোনো কল্যাণের ফল পায় না এবং কোনো ছওয়াব অর্জন করে না। বরং সে পরকালে এমন এক বড় অপরাধ নিয়ে আসে, যার পরিণতি অত্যন্ত মন্দ। সেদিন কোনো সম্পদ বা সন্তান কোনো উপকারে আসবে না। তবে কেবল সেই ব্যক্তি উপকৃত হবে, যে আল্লাহর কাছে সুস্থ ও নির্মল হৃদয় নিয়ে উপস্থিত হবে।
এটাই হল রিয়ার পরিণাম, যা সৎকর্মসমূহকে এমন সময়ে একেবারে বরবাদ করে ছেড়ে দেয়, যখন মানুষের কোন শক্তি থাকবে না, কোন সাহায্যকারী থাকবে না এবং সে এর কোন প্রতিকারও করতে পারবে না।[28]
মহান আল্লাহ বলেন,أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تَكُونَ لَهُ جَنَّةٌ مِنْ نَخِيلٍ وَأَعْنَابٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ لَهُ فِيهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَأَصَابَهُ الْكِبَرُ وَلَهُ ذُرِّيَّةٌ ضُعَفَاءُ فَأَصَابَهَا إِعْصَارٌ فِيهِ نَارٌ فَاحْتَرَقَتْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ ‘তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করে যে, তার একটি খেজুর ও আঙ্গুর বাগান থাকবে। যার নীচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে। যে বাগানে সব ধরনের ফল-ফলাদি থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি বার্ধক্যে উপনীত হবে এবং তার দুর্বল সন্তানাদি রয়েছে। এমতাবস্থায় তার বাগানে অগ্নিঝড় আঘাত হানলো, যাতে সবকিছু পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেল? এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নিদর্শন সমূহ বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা-ভাবনা কর’ (বাক্বারাহ ২/২৬৬)। সৎকর্মসমূহ অধিক ফল-ফসলে সমৃদ্ধ একটি বিশাল বাগানের মতো। কাজেই এমন কেউ আছে কি, যে এই ফল-ফসলসহ বাগানটি তার হৌক তা কামনা করবে। এরপর সেই বাগানে রিয়া সদৃশ ঘূর্ণিঝড় এসে বাগানটিকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দিবে, অথচ বাগানটি তার খুবই প্রয়োজন। নিঃসন্দেহে কেউ তা চাইবে না।
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,قال اللهُ تعالَى : أنا أغْنَى الشُّركاءِ عنِ الشِّركِ ، مَنْ عمِلَ عملًا أشركَ فيه معِي تركتُهُ وشِركَهُ ‘আল্লাহ বলেন, আমি শরীকদের শিরক হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। যদি কোন ব্যক্তি কোন আমল করে এবং তাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরীক করে, তবে
আমি তাকে তার শিরকপূর্ণ আমলসহ পরিত্যাগ করি’।[29]
অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,إِذَا جَمَعَ اللَّهُ النَّاسَ يَوْمَ القِيَامَةِ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ، نَادَى مُنَادٍ: مَنْ كَانَ أَشْرَكَ فِي عَمَلٍ عَمِلَهُ لِلَّهِ أَحَدًا فَلْيَطْلُبْ ثَوَابَهُ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ. ‘আল্লাহ যখন কিয়ামতের দিনে, যে দিনের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই, সকল মানুষকে একত্রিত করবেন, তখন একজন ঘোষক ঘোষণা করবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য সম্পাদিত আমলের মধ্যে কাউকে শরীক করেছে, সে যেন আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট থেকে নিজের ছওয়াব চেয়ে নেয়। কেননা আল্লাহ শরীককারীদের শিরক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত’।[30]
১৪. রিয়া হল গোপন শিরক :
মাহমূদ বিন লাবীদ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) একদিন বের হয়ে বললেন,أَيُّهَا النَّاسُ إِيَّاكُمْ وَشِرْكَ السَّرَائِرِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا شِرْكُ السَّرَائِرِ؟ قَالَ: يَقُومُ الرَّجُلُ فَيُصَلِّي فَيُزَيِّنُ صَلَاتَهُ جَاهِدًا لِمَا يَرَى مِنْ نَظَرِ النَّاسِ إِلَيْهِ، فَذَلِكَ شِرْكُ السَّرَائِرِ. ‘হে মানবমন্ডলী! তোমরা গোপন শিরক থেকে বেঁচে থাকো। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! গোপন শিরক কী? তিনি বললেন, ‘একজন ছালাতে দাঁড়ায়, এরপর যখন দেখে মানুষ তার দিকে তাকাচ্ছে তখন সে তার ছালাতকে সুন্দর ও দীর্ঘ করার জন্য খুব চেষ্টা করে। আর এটাই হল গোপন শিরক’।[31] অন্য হাদীছে রিয়াকে ছোট শিরক (الشرك الأصغر) বলা হয়েছে।[32]
শাদ্দাদ বিন আওস (রাঃ) বলেন,كُنَّا نَعُدُّ الرِّيَاءَ فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الشِّرْكَ الأَصْغَرَ ‘আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর যুগে রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত)-কে ছোট শিরক গণ্য করতাম’।[33]
শিরক দুই প্রকার। ১. খফী বা গোপন ২. জলী বা প্রকাশ্য। প্রকাশ্য শিরক হল যা কথার মাধ্যমে সংঘটিত হয়। যেমন : আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করা বা একথা বলা যে, مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ ‘আল্লাহ ও তুমি যা চাও’। অথবা কাজের মাধ্যমে হতে পারে। যেমন: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সম্মানার্থে নত হওয়া বা মাথা ঝুঁকানো। আর গোপন শিরক হল, যা মানুষের অন্তরে থাকে। যেমন রিয়া। কেননা তা বাহ্যিকভাবে প্রকাশ পায় না। কারণ অন্তরের খবর আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। এটাকে গোপন শিরকও বলা হয়। এদিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ বলেন, يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ ‘যেদিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষিত হবে’ (তারেক ৮৬/৯)। কেননা অন্তরের গোপন বিষয়ের উপরই কিয়ামতের দিন হিসাব-নিকাশ হবে। মহান আল্লাহ বলেন,أَفَلَا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُورِ- وَحُصِّلَ مَا فِي الصُّدُورِ ‘সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে তা উত্থিত হবে? এবং বুকের মধ্যে যা লুকানো ছিল সব প্রকাশিত হবে?’ (আদিয়াত ১০০/ ৯-১০)।[34]
শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-গুনায়মান বলেন, ‘রিয়াকে গোপন শিরক (شرك السرائر) বলা হয়। কারণ এটি এমন এক গোপন বিষয়, যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানে না। এটি মানুষের নিয়তের মধ্যে লুক্কায়িত থাকে। আর নিয়তই মানুষকে কর্মের প্রেরণা যোগায়। নিয়তের স্থান হলো হৃদয়, যা সব আমলের উৎসভূমি। কারণ হৃদয় অঙ্গসমূহের রাজা। কোনো কাজ মূলত নিয়তের উপর নির্ভর করে সংঘটিত হয়। তাই নিয়ত এমন এক গোপন বিষয়, যা কেবল সেই সত্তাই জানেন যিনি সব গোপন বিষয় সম্পর্কে অবগত। তিনি হলেন মহিমান্বিত আল্লাহ। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি রিয়া (লোক দেখানো কাজ) করে, মানুষের কাছে তার কর্ম গোপন থাকে না। এজন্য অনেক মানুষ তাকে চিনে ফেলে, এমনকি বলা হয়, এ ব্যক্তি রিয়াকার। যদিও সে নিজে তা প্রকাশ বা প্রচার না করে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা তার কাজ ও কথার প্রভাবের মাধ্যমে তাকে প্রকাশ করে দেন। তার কথা বলার ভঙ্গি ও কাজের ধরনের মধ্যেও তা প্রকাশ পায়। কখনো এর সামান্য অংশ প্রকাশ পায়, আর অধিকাংশই গোপন থেকে যায়। তবে মানুষের কর্তব্য হ’ল, সে যেন তার রবের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে সর্বদা সচেতন থাকে এবং তার কাজে মানুষের জন্য কোনো মূল্য বা অংশ না রাখে’।[35] এজন্য আমীরুল মুমিনীন ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) আল্লাহর কাছে এই মর্মে দো‘আ করতেন,اللَّهُمَّ اجْعَلْ عَمَلِي كُلَّهُ صَالِحًا، وَاجْعَلْهُ لِوَجْهِكَ خَالِصًا، وَلَا تَجْعَلْ لِأَحَدٍ فِيهِ شَيْئًا ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার সমস্ত আমলকে সৎ আমলে পরিণত করো, সে আমলগুলোকে তোমার সন্তুষ্টির জন্য খাঁটি করে দাও এবং তোমার কোনো সৃষ্টির জন্য এতে কোনো অংশ রেখো না’।[36]
আব্দুল ওয়াহিদ বিন যায়েদ বলেন, আমি হাসান বাছরীকে জিজ্ঞেস করলাম, আমাকে রিয়া সম্পর্কে বলুন, এটি কি শিরক? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হে বৎস! তুমি কি কুরআন মাজীদের এই আয়াত পড় না-فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا ‘অতএব যে ব্যক্তি তার প্রভুর সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরীক না করে’ (কাহফ ১৮/১১০)।[37]
পরিশেষে বলা যায়, গোপন শিরক রিয়া দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে ভয়াবহ ক্ষতি ও লাঞ্ছনার কারণ। কাজেই ইখলাছের বর্মে সুসজ্জিত হওয়ার কোন বিকল্প নেই। আল্লাহ আমাদের সহায় হৌন। আমীন!!
[1]. ইবনু মাজাহ হা/৪২০৪; আহমাদ হা/১১২৫২; মিশকাত হা/৫৩৩৩।
[2]. মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন, আল-কাওলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ (কায়রো: দারু ইবনিল জাওযী, ২য় সংস্করণ, ১৪২৪ হি.), পৃ. ৪৫৪-৪৫৫।
[4]. বুখারী হা/১৩৭৭; মুসলিম হা/৫৮৮।
[5]. বুখারী হা/৯৯।
[3]. তায়সীরুল আযীযিল হামীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ, পৃ. ৪০১।
[6]. আল-কাওলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ, পৃ.৪৫৩।
[7]. তিরমিযী হা/২৩৭৬; দারেমী হা/২৭৭২, মিশকাত হা/৫১৮১।
[8]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৯৭৮৭।
[9]. নাসাঈ হা/৩১৭৮; ছহীহ তারগীব হা/৬১।
[10]. সীরাতুর রাসূল (ছাঃ), পৃ. ২৮৮।
[11]. ছহীহ তারগীব হা/২৩, ১৩৩২।
[12]. নাসাঈ হা/৩১৪০; সিলসিলা ছহীহা হা/৫২।
[13]. ছায়দুল খাতির, পৃ. ৩৯৩।
[14]. ছহীহ তারগীব হা/২২৫০।
[15]. তিরমিযী হা/২৪১৪, হাদীছ ছহীহ।
[16]. ইবনুল মুবাররাদ, মাহযুছ ছওয়াব ফী ফাযায়েলে আমীরিল মুমিনীন ওমার ইবনিল খাত্ত্বাব, ২/৫৪৯।।
[17]. ইবনুল কাইয়িম, ই‘লামুল মুওয়াক্কিঈন ২/১২৩ ‘বিচারকার্যে ওমরের পত্র ও তার ব্যাখ্যা’।
[18]. মুসলিম হা/১৯০৫ ।
[19]. ফাতহুল বারী ১১/৩১৫, ৬৪৪৩ নং হাদীছের আলোচনা দ্র:।
[20]. আল-মিনহাজ শারহু ছহীহ মুসলিম ১৩/৫০।
[21]. ইবনু মাজাহ হা/২১০, হাসান।
[22]. আহমাদ হা/২৩৬৮০; ছহীহুল জামে হা/১৫৫৫।
[23]. ড. খালিদ আবূ শাদী, দা ওয়া দাওয়া, পৃ. ৬৯।
[24]. বুখারী হা/৬৪৯৯; মুসলিম হা/২৯৮৬; মিশকাত হা/৫৩১৬, ৭১৫২।
[25]. ফাতহুল বারী ১১/৪০৯, হা/৬৪৯৯-এর ব্যাখ্যা দ্র:।
[26]. ফাতহুল বারী ১১/৪০৯।
[27]. আহমাদ হা/৬৫০৯; ছহীহ তারগীব হা/২৫।
[28]. সালীম আল-হেলালী, আর-রিয়া, পৃ.৪৬।
[29]. মুসলিম হা/২৯৮৫।
[30]. তিরমিযী হা/৩১৫৪; ইবনু মাজাহ হা/৪২০৩।
[31]. ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/৯৩৭; ছহীহ তারগীব হা/৩১।
[32]. আহমাদ হা/২৩৬৮০; ছহীহ তারগীব হা/৩২।
[33]. ছহীহ তারগীব হা/৩৫।
[34]. আল-কাওলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ, পৃ. ৪৫৪।
[35]. https://shamela.ws/book/37166/1302
[36]. ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূউল ফাতাওয়া ১/৩৩৪।
[37]. আদ-দুররুল মানছূর ৫/৪৭০।