ইসলামের পঞ্চ বুনিয়াদের অন্যতম হচ্ছে হজ্জ। হজ্জ ইবাদতে মালী বা অর্থনৈতিক ইবাদত। কেবলমাত্র সামর্থবান বান্দার উপরই হজ্জ এর বিধান প্রযোজ্য। মহান আল্লাহ বলেন, وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ‘আর আল্লাহর জন্য লোকদের উপর বায়তুল্লাহর হজ্জ ফরয করা হ’ল, যারা সে পর্যন্ত যাবার সামর্থ্য রাখে’ (আলে ইমরান ৩/৯৭)। এ সামর্থ্য যেমন অর্থনৈতিক, তেমনি শারীরিকও বটে। কেননা হজ্জ একটি শারীরিক পরিশ্রমের ইবাদত। একইভাবে এটি দীর্ঘ সময়ব্যাপী পালনযোগ্য ইবাদত।
হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা যেমন ব্যাপক, তেমনি এর পরিধি বা সীমাও বিস্তর। মক্কা, মিনা, আরাফা, মুযদালিফা প্রভৃতি এলাকা ঘিরে মোটামুটি পাঁচদিন ব্যাপী চলে এর মূল আয়োজন। সমাগম ঘটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষা ও বর্ণের লক্ষ লক্ষ মুছল্লীর। যারা কিনা ‘যুয়ূফুর রহমান’ বা মহান আল্লাহর মেহমান। হজ্জের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন যে বিষয়টির সেটি হচ্ছে ছবর বা ধৈর্য। তাওয়াফ, সাঈ, মিনায় অবস্থান, আরাফায় গমন, মুযদালিফায় খোলা আকাশের নীচে রাত্রী যাপন, জামরায় কংকর নিক্ষেপ সব জায়গাতেই প্রয়োজন শুধু ছবর আর ছবর। তারও আগে থেকে বলতে গেলে বাড়ী থেকে বের হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় ছবরের পরীক্ষা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, আমরা অধিকাংশই এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হ’তে পারিনা। কিছুটা মু‘আল্লিম বা গাইডদের ত্রুটি, কিছুটা আমাদের হাজীদের বাড়াবাড়ি। সবমিলিয়ে শেষতক হজ্জ যেন সঊদী আরবেই রেখে খালি হাতে ফিরে আসা হয়। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। আলোচ্য নিবন্ধে আমরা হজ্জ সফরে ধারাবাহিকভাবে ধৈর্যের কিছু নমুনা তুলে ধরার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।-
হজ্জের ফযীলত : আল্লাহ বলেন,وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ ‘আর তুমি জনগণের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা প্রচার করে দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সকল প্রকার (পথশ্রান্ত) কৃশকায় উটের উপর সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত হতে’ (হজ্জ ২২/২৭)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ করেছে, যার মধ্যে সে অশ্লীল কথা বলেনি বা অশ্লীল কার্য করেনি, সে হজ্জ হ’তে ফিরবে সেদিনের ন্যায় (নিষ্পাপ অবস্থায়) যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল’। রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন,الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا ، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ ‘এক ওমরাহ অপর ওমরাহ পর্যন্ত সময়ের (ছগীরা গোনাহ সমূহের) কাফফারা স্বরূপ। আর কবুল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত কিছুই নয়’।
ছবরের গুরুত্ব : হজ্জব্রত পালন করতে যেমন প্রয়োজন শারীরিক সক্ষমতা, তেমনি প্রয়োজন চূড়ান্ত ছবর বা ধৈর্যধারণ করা। মূলত মুমিনের সামগ্রিক জীবনটাই ধৈর্যের পরীক্ষাগার। রাসূল (ছাঃ) বলেন,عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ ‘মুমিনের ব্যাপারটাই অদ্ভূত। তার সব কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। যখনই তার সামনে প্রফুল্ল সময় উপস্থিত হয় তখন সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। আর যদি দুর্ভোগ উপস্থিত হয় তখন সে ধৈর্যধারণ করে, ফলে এটিও তার জন্য কল্যাণকর হয়ে যায়’।
ধৈর্যধারণের নির্দেশ প্রদান করে মহান আল্লাহ বলেন,يا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اصْبِرُوْا وَصابِرُوْا وَرابِطُوْا وَاتَّققُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্যধারণ কর, ধৈর্যের প্রতিযোগিতা কর এবং (শত্রুর বিপক্ষে) সদা প্রস্ত্তত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার’ (আলে ইমরান ৩/২০০)। তিনি আরো বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اسْتَعِيننُوْا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِيْنَ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও ছালাত আদায়ের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন’ (বাক্বারাহ ২/১৫৩)। ধৈর্যের ক্ষমতা এতটাই বেশী যে, সত্যিকার অর্থে ধৈর্যধারণ করতে পারলে চরম শত্রুও বন্ধুতে পরিণত হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন,وَلا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلاَ السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِيْ هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِيْ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَداووَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيْمٌ- وَما يُلَقَّاها إِلاَّ الَّذِيْنَ صَبَرُوا وَما يُلَقَّاها إِلاَّ ذُو حَظٍّ عَظِيْمٍ ‘ভাল ও মন্দ সমান হ’তে পারে না। মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা। তখন দেখবে তোমার সাথে যার শত্রুতা রয়েছে, সে হয়ে যাবে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত। এই গুণের অধিকারী হয় শুধু তারাই যারা ধৈর্যশীল, এই গুণের অধিকারী হয় শুধু তারাই যারা মহা ভাগ্যবান’ (হামীম সাজদাহ ৪১/৩৪-৩৫)।
ধৈর্য এক মহৎ গুণ। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন,مَا يَكُنْ عِنْدِىْ مِنْ خَيْرٍ لاَ أَدَّخِرْهُ عَنْكُمْ، وَإِنَّهُ مَنْ يَسْتَعِفَّ يُعِفُّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ،، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَلَنْ تُعْطَوْا عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْر ‘আমার কাছে যা কিছু কল্যাণ রয়েছে তা আমি তোমাদের বঞ্চিত করে আগলিয়ে রাখব না। যে ব্যক্তি পাপমুক্ত হ’তে চায় আল্লাহ তাকে পাপমুক্ত করেন। যে ব্যক্তি মানুষের পরমুখাপেক্ষিতা থেকে বাঁচতে চায় আল্লাহ তাকে মুখাপেক্ষিহীন করে দেন। যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করে আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল করে দেন। কোন ব্যক্তিকে যা কিছু দান করা হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্ববৃহৎ হ’ল ধৈর্য’। অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন,"..وَالصَّلَاةُ نُورٌ، وَالصَّدَقَةةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ، وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ رواه مسلم ‘ছাদাক্বা হ’ল দলীল, ধৈর্য হ’ল আলো। আর কুরআন হ’ল তোমার পক্ষে বা তোমার বিরুদ্ধে প্রমাণস্বরূপ’।
ইবনে আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন,وَاعْلَمْ أَنَّ فِى الصَّبْرِ عَلَى مَا تَكْرَهُ خَيْراً كَثِيراً وَ وَأَنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ وَأَنَّ الْفَرَجَ مَعَ الْكَرْبِ وَأَنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْراً ‘জেনে রেখ! তোমার নিকট অপসন্দনীয় কোন ব্যাপারে যদি তুমি ধৈর্য ধারণ কর তবে তাতে তোমার জন্য রয়েছে অনেক কল্যাণ। আর নিশ্চয়ই বিজয় আসে ধৈর্যের সাথে এবং বিপদের সাথে রয়েছে বিপদমুক্তির পথ। আর কাঠিন্যের পর সহজ আসে’। একই মর্মে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন,الْمُؤْمِنُ الَّذِى يُخَالِطُ النَّاسَ وَيَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ أَعْظَمُ أَجْراً مِنَ الَّذِىْ لاَ يُخَالِطُ النَّاسَ وَلاَ يَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ ‘যে মুমিন মানুষের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের দেয়া দুঃখ-কষ্টে ধৈর্যধারণ করে সে ব্যক্তি অধিক ছওয়াবের অধিকারী ঐ ব্যক্তির চেয়ে যে মানুষের সাথে মেশে না এবং তাদের দেয়া দুঃখ-কষ্টে ধৈর্যধারণ করে না’। অতএব ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে কবুলযোগ্য করতে হ’লে মহান রবের দরবারে এর ষোলআনা প্রতিদানের প্রত্যাশী হাজী ছাহেবদের অবশ্যই দীর্ঘ হজ্জ সফরে এবং এই সময়কালীন ইবাদত-বন্দেগীতে ছবরের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। নিবন্ধের এই পর্যায়ে আমরা হজ্জের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছবরের ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরার প্রয়াস পাব।-
হজ্জ সফরে ধৈর্যের পরীক্ষা :
প্রস্ত্ততি : হজ্জ এমন এক ইবাদত যা পালনে যেমন বেশ সময় লাগে, তেমনি এর প্রস্ত্ততিতেও লাগে বেশ অনেক দিন। আর্থিক যোগান, মানসিক প্রস্ত্ততি, হজ্জের নিয়ম-পদ্ধতির প্রশিক্ষণ গ্রহণ, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে বিদায় নেয়া সবমিলিয়ে হজ্জ সফরের পূর্বেই চলে বেশ আয়োজন। প্রহর গুণতে থাকেন কবে আসবে সেই কাংখিত দিন, যেদিন মহান রবের সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে, সচক্ষে আল্লাহর ঘরকে সামনে রেখে ছালাত আদায়ের পরম তৃপ্তি পূরণের বাসনা নিয়ে সঊদী আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। দিন যেন পার হ’তেই চায় না। দীর্ঘ ছবরের পর অবশেষে সেই দিন আসে। শুরু হয় হজ্জের সফর। বাস্তবে শুরু হয় ছবরের পরীক্ষা। কেননা হজ্জের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হওয়ার পর পুনরায় বাড়ীতে ফিরে আসা পর্যন্ত চলে ছবরের এক দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় যিনি উত্তীর্ণ হ’তে পারেন তিনিই মূলত ‘হজ্জে মাবরূর’ লাভে ধন্য হবেন বলে আশা করা যায়। যার প্রতিদান একমাত্র জান্নাত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,الْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ ‘হজ্জে মাবরূর বা কবুল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত কিছুই নয়’।
ঢাকা-জেদ্দা : হজ্জ সফরের শুরুতেই ছবরের একটি বড় পরীক্ষা দিতে হয়। অধিকাংশ হাজীদের বাড়ী থেকে একদিন আগেই পৌঁছতে হয় ঢাকার আশকোনা হজ্জ ক্যাম্পে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের হাজীদেরকে। একদিনের সফর এখানেই হয়ে যায়। অতঃপর বিমানের সিডিউল অনুযায়ী শুরু হয় প্রস্ত্ততি। অন্তত তিন ঘণ্টা আগে ইমিগ্রেশন করতে হয়। অনেক সময় বিমানের সিডিউল বিপর্যয় ঘটলে একাধিক দিনও হজ্জ ক্যাম্পে থাকতে হয়। এতেই অনেকে বিরক্ত হয়ে যান। যাই হোক ইমিগ্রেশনের পর থেকে মূল সফর শুরু হয়। ঢাকা থেকে সরাসরি জেদ্দা ফ্লাইট হ’লে বিমানে ভ্রমণ করতে হবে সাড়ে ছয় ঘণ্টা থেকে সাত ঘণ্টা। আর ট্রানজিট বিমান হলে অর্থাৎ মাঝখানে কোন দেশের (যেমন দুবাই, কাতার বা শ্রীলংকা ইত্যাদি দেশের) বিমান বন্দরে বিরতী দিলে সেই ট্রানজিটের সময় অনুযায়ী সময় বৃদ্ধি পাবে। ট্রানজিটে বাড়তি বিড়ম্বনা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিমান বন্দরে নামা আবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাবতীয় নিয়ম মেনে পুনরায় বিমানে ওঠা। উল্লেখ্য যে, ট্রানজিট বিমানে ভাড়ার পরিমাণ কিছুটা কম লাগে বলে হজ্জ কাফেলাগুলো অনেকক্ষেত্রে এই বিমানগুলো বেছে নেন। অথবা ডাইরেক্ট বিমানের সিডিউল না পেলে বাধ্য হয়ে অনেকে ট্রানজিট বিমানে টিকেট করেন। আমি নিজেও ২০১১ সালে দুবাই ট্রানজিট হয়ে হজ্জে গিয়েছিলাম। যাওয়ার সময় ১১ ঘণ্টা এবং আসার সময় ৩ ঘণ্টা ট্রানজিট ছিল। এতে নতুন একটি বিমান বন্দর দেখার সুযোগ হ’লেও বিড়ম্বনাও নিদেন পক্ষে কম নয়।
অতঃপর জেদ্দা বিমান বন্দরে পৌঁছে ইমেগ্রেশনের জন্য লাইনে দাড়াতে হয়। ইমিগ্রেশন ও আনুসাঙ্গিক কার্যক্রম শেষে যেতে হবে বাংলাদেশ প্লাজায়। সেখানে গিয়ে আরেক বিড়ম্বনা শুরু হবে। শত শত হাজী অপেক্ষার প্রহর গুণছেন কখন তারা আসল গন্তব্য মক্কায় পৌঁছবেন এবং ওমরাহ পালন করবেন। বাংলাদেশ প্লাজা হচ্ছে সুউচ্চ তাঁবুর নীচে উন্মুক্ত স্থান। যেখানে বসার জন্য কিছু ঢালাই করা বেঞ্চ রয়েছে। এসির কোন ব্যবস্থা নেই। গরমেও বেশ কষ্ট হবে। এবারে অপেক্ষা করতে হবে কখন নির্ধারিত গাড়ী আসবে মক্কায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। গাড়ী আসলে হোটেলের ঠিকানা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে। কারো কাগজপত্রে সমস্যা বা ঠিকানার কমবেশী থাকলে তাকে লাইন থেকে বের করে একপাশে বসিয়ে রাখবে। সবশেষে তাদেরকে পাঠানো হবে। একবার আমি সহ বিভিন্ন কাফেলার কয়েকজনের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছিল। কাফেলার অন্যান্য সদস্যরা দুপুরের পর পর চলে গেলেও আমাদেরকে মাগিরব পর্যন্ত বসিয়ে রেখে অবশেষ পৃথক একটা মাইক্রো দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। হোটেলে পৌঁছতে রাত আট-টা বেজে গিয়েছিল। সেবার খুব বিরক্ত হয়েছিলাম তবে ধৈর্য হারাইনি। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা বা সঠিক ঠিকানা ব্যতীত কাউকে মক্কায় পাঠানো হয়না এবং অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে হাজীদেরকে তাদের সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই দায়িত্বশীলতা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। সবমিলিয়ে জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছার পরও কয়েক ঘণ্টা চলে যাবে এখান থেকে বের হ’তে।
এরপর নির্ধারিত মু‘আল্লিমের স্টিকারযুক্ত গাড়ীতে করে উচ্চশব্দে ও সমস্বরে তালবিয়া পাঠ করতে করতে মক্কাভিমুখে ছুটবে কাফেলা। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। মহান আললাহর সান্নিধ্যে উপস্থিত হওয়ার অনুভূতি, আল্লাহর ঘর স্বচক্ষে দেখার তীব্র আকাংখার অনুভূতি। পথিমধ্যে আল্লাহর মেহমানদের বিভিন্ন পয়েন্টে খেজুর-পানি, জুস ইত্যাদি হাদিয়া দেওয়া হবে। মু‘আল্লিম নম্বর, হোটেলের নাম ও ঠিকানা সম্বলিত হ্যান্ড বেইল্ট ও গলায় ঝুলানো আইডি কার্ড প্রত্যেক হাজীকে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, হজ্জের সব আনুষ্ঠানিকতা এই মু‘আল্লিমের অধীনেই সম্পন্ন হবে। মক্কা, মদীনা, মিনা, আরাফা, মুযদালিফা সব স্থানে যাতায়াতও মু‘আল্লিম নম্বর সংবলিত স্টিকার লাগানো গাড়ীতেই করতে হবে। অবশেষে আরো প্রায় দেড়/দুই ঘণ্টা সফর শেষে পবিত্র ভূমি মক্কায় পৌঁছবে গাড়ী। স্ব স্ব হোটেলে পেঁŠছে দেওয়া হবে সকলকে।
প্রিয় পাঠক! একটু ভাবুন, নিজ বাড়ী থেকে এই পর্যন্ত মোট কত ঘণ্টার/দিনের সফর হল। হিসাব করলে চোখ ছানাবড়া। কিন্তু মহান আল্লাহর মেহেরবানীতে এই দীর্ঘ সফরেও হাজী ছাহেবরা খুব একটা ক্লান্ত হননা। মহান আল্লাহর ঘর দর্শনের তীব্র বাসনা তাদেরকে সবকিছু ভুলিয়ে দেয়। ছবরের প্রথম ধাপে তারা উত্তীর্ণ হন।
ওমরাহ পালন : মক্কায় পৌঁছে হালকা বিশ্রাম ও খানাপিনার পর প্রথম কাজ হ’ল ওমরাহ পালন। এখানেও দিতে হবে ছবরের পরীক্ষা। হোটেল থেকে তালবিয়া পাঠ করতে করতে হারাম অভিমুখে যাত্রা করবে। সেখানে গিয়ে প্রথমে তাওয়াফ ও পরে সাঈ করবে। অর্থাৎ কা‘বা ঘরের চারিদিকে সাত চক্কর দিবে এবং সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার দৌঁড়াবে। তাওয়াফ সাঈ করতে গিয়ে কাউকে কষ্ট দিবে না। কাউকে ঠেলে সামনে যাবে না। সমস্বরে উচ্চশব্দে দো‘আ পাঠ করে অন্যের ভাবগাম্বীর্য তাওয়াফ ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। যেমনটি অনেককে করতে দেখা যায়। বিশেষ করে বিদেশী অনেক কাফেলাকে দেখা যায় তারা দল বেঁধে এভাবে দো‘আ করেন। তাদের সাথে থাকা গাইড বা অন্যকোন হাজী উচ্চস্বরে দো‘আ বলেন এবং তার সাথে সাথে সকলে সমস্বরে উক্ত দো‘আ উচ্চারণ করেন। একই চিত্র ছাফা-মারওয়া সাঈর ক্ষেত্রেও দেখা যায়। এতে করে অন্যান্য হাজীদের একাগ্রতা ও আবেগময় প্রার্থনা দারুণভাবে বিঘ্নিত হয়। যা অনুচিত। এ অবস্থায় করণীয় হচ্ছে এই দল থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়া এবং নিরিবিলি জায়গা দিয়ে তাওয়াফ সম্পন্ন করা। কিন্তু কোনভাবেই তাদের উপরে বিরক্ত হয়ে কিছু বলা বা গালি দেওয়া যাবে না। বরং ছবর অবলম্বন করে চলতে হবে।

হজ্জের পাঁচ দিন
প্রথম দিন : মিনায় গমন
ওমরাহ সম্পন্নের পর হজ্জ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আর কোন আনুষ্ঠানিকতা নেই। শুধুমাত্র হারামে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করা ও যিয়ারা বা দর্শনীয় স্থান সমূহ পরিদর্শন। বিশেষ করে রাসূল (ছাঃ)-এর স্মৃতি বিজড়িত স্থান সমূহ। উল্লেখ্য যে, অনেকে বাসা একটু দূরের অজুহাতে হারামে ছালাত আদায় না করে হোটেলেই ছালাত আদায় করেন। এতে তিনি প্রত্যেক ওয়াক্তে এক লক্ষ গুণ নেকী থেকে বঞ্চিত হন। অতঃপর হজ্জের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ৮ই যিলহজ্জ থেকে। এ দিন মিনায় অবস্থান করতে হবে পরদিন ৯ই যিলহজ্জ আরাফার ময়দানে যাওয়ার প্রস্ত্ততি হিসাবে। মিনায় গমনের জন্য বাংলাদেশী হাজীদের গাইড মু‘আল্লিম অফিসে যোগাযোগ করে গাড়ী ও সময় ঠিক করবেন। দেখা যাবে নির্ধারিত সময়ের বহু পরে গাড়ী আসবে। এ ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হয়ত হোটেলে বা রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়। ধরুন রাত ১০-টায় গাড়ী আসবে বলা হ’ল। হাজীরাও প্রস্ত্তত। কিন্তু গাড়ী আসল রাত ২-টায়। মিনায় পেঁŠছতে রাত চারটা। সেখানে গিয়ে দেখা গেল তাঁবু পাহাড়ের উপরে বা বাস থেকে নেমে অনেকখানি হাঁটতে হচ্ছে। তাঁবু পেয়েও দেখা গেল ভিতরে ঠাঁসা লোক, গায়ের সাথে গা লাগানো তোষক। এ সব বিলম্ব বা অপেক্ষা ও ব্যবস্থাপনার জন্য হাজীগণ চোখ বন্ধ করে গাইডকে দোষারোপ করেন, গালমন্দ করেন ও গাইডের যোগ্যতা ও আমানতদারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অথচ এগুলো সব সঊদী কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে হয়।
২য় দিন : আরাফা ময়দানে অবস্থান
হজ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হচ্ছে আরাফার দিন। এ দিনে আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের মধ্য থেকে অধিক সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করে দিয়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আরাফার দিন আল্লাহ রাববুল আলামীন তাঁর বান্দাদের এত অধিক সংখ্যক জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন, যা অন্য দিনে দেন না। তিনি এ দিনে বান্দাদের নিকটবর্তী হন ও তাদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করে বলেন, তোমরা কি বলতে পার আমার এ বান্দারা আমার কাছে কি চায়’? (মুসলিম হা/১৩৪৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, خَيْرُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ ‘সবচেয়ে উত্তম দো‘আ হ’ল আরাফাহ দিবসের দো‘আ’।
মিনা থেকে আরাফার ময়দানে যাওয়ার সময়ও অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এখানেও গাড়ীর অপেক্ষায় প্রস্ত্তত হয়ে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ৯ যিলহজ্জ সকালে আরাফার ময়দানে যাওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত হাজীর কারণে আগের রাত থেকে মু‘আল্লিম অফিসের গাড়ীগুলো হাজীদের নিতে শুরু করে। তারপরও সকাল গড়িয়ে যায় হাজী নেওয়া শেষ করতে। এখানেও ছবরের পরীক্ষা দিতে হয়।
মুযদালিফায় রাত্রীযাপন : আরাফা ময়দানে দিনব্যাপী তাসবীহ-তাহলীল যিকর-আযকার তওবা-ইস্তিগফার শেষে সূর্যাস্তের পর মাগরিবের ছালাত আদায় না করে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করতে হয়। এই সময়টা আরো বেশী কঠিন। একারণে যে, সকল হাজী একসঙ্গে আরাফা থেকে বের হন। এখানেও গাড়ী বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অনেকে পায়ে হেঁটে মুযদালিফায় গমন করেন। সেটাও অনেক কঠিন। কারণ আরাফা থেকে মুযদালিফার দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। বাংলাদেশী বয়স্ক হাজীদের পক্ষে যা সম্ভব নয়। ফলে গাড়ীর পেতে পেতে অনেক সময় রাত ১০/১১টাও বেজে যায়। প্রচন্ড ভিড়ের কারণে মুযদালিফা সীমা পর্যন্ত গাড়ী পৌঁছতে পারেনা। ফলে সেখানেও ২-৩ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়।
তৃতীয় দিন : জামরায় কংকর নিক্ষেপ, কুরবানী ও তাওয়াফে ইফাযা
মুযদালিফায় খোলা আকাশের নীচে রাত্রী যাপন শেষে হজ্জের তৃতীয় দিন ১০ই যিলহজ্জ ফজর ছালাতের পর সূর্যোদয়ের আগেই পায়ে হেঁটে মিনায় বড় জামরায় পাথর মারার জন্য রওয়ানা হ’তে হবে। এদিনে হজ্জের অনেকগুলো আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। পাথর মারা, কুরবানী করা, মাথা মুন্ডানো ও তাওয়াফে ইফাযা করা ইত্যাদি। ছবরের পরীক্ষা যেন প্রতিনিয়ত কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। এ দিন নিজেকে এতটাই ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত মনে হবে যেন শরীর আর চলছে না। লক্ষ লক্ষ মানুষের ভীড় ঠেলে জামরায় পাথর মারতে হবে। গরমের দিনে তৃষ্ণায় যেন কলিজা শুকিয়ে যাবে। সেখান থেকে মাথা মুন্ডিয়ে যাদের সামর্থ্যে কুলাবে তারা কুরবানী করতে যাবেন, অতঃপর মক্কায় গিয়ে ‘তাওয়াফে ইফাযা’ করবেন। সম্ভব না হ’লে ১২ তারিখ মিনা থেকে একবারে মক্কায় ফিরে ‘তাওয়াফে ইফাযা’ করবেন। কুরবানী ব্যাংকে টাকা দেওয়ার মাধ্যমে সঊদী সরকারের যিম্মায় দিয়ে দিবেন। ১০ যিলহজ্জ অতিক্রান্ত হ’লে নিজেকে অনেকটা হালকা মনে হবে।
চতুর্থ দিন : মিনায় অবস্থান ও কংকর নিক্ষেপ
এ দিনের আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে মিনায় অবস্থান করা ও তিন জামরায় ৭টি করে ২১টি কংকর নিক্ষেপ করা। পুনরায় মিনার তাঁবুতে গিয়ে অবস্থান করা।

কংকর নিক্ষেপ ও মক্কায় প্রত্যাবর্তন: 

এ দিনে তিন জামরায় কংকর নিক্ষেপ করে হাজীগণ মক্কায় ফিরে আসবেন। ১০ তারিখে যারা তাওয়াফে ইফাযা করতে পারেননি তারা মক্কায় ফিরে তাওয়াফে ইফাযা করে নিবেন। এভাবে একটি কষ্টকর ইবাদত পবিত্র হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ।
মদীনায় আট দিন ও দেশে প্রত্যাবর্তন : হজ্জ সফরের এক পর্যায়ে হজ্জের আগে বা পরে হাজীগণ মদীনা যাবেন ও সেখানে আট দিন অবস্থান করবেন। মসজিদে নববীতে ছালাত আদায় করবেন। রাসূল (ছাঃ), আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-এর কবর এবং বাক্বীউল গারক্বাদ যিয়ারত করবেন। পরিদর্শন করবেন রাসূল (ছাঃ)-এর সংগ্রামী মাদানী জীবনের দর্শনীয় স্থান সমূহ। অতঃপর ফ্লাইট সিডিউল অনুযায়ী জেদ্দা বা মদীনা থেকে বিমানে চড়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।
ধৈর্যচ্যুতির ক্ষেত্রগুলো : প্রিয় পাঠক! হজ্জের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র আমরা আলোচ্য নিবন্ধে তুলে ধরেছি। মূলত হজ্জ একটি কঠিন ধৈর্যের ইবাদত। প্রতিটি ধাপেই ধৈর্যের প্রয়োজন। তারপরও আমরা দেখেছি পান থেকে চুন খসতেই দেশীয় গাইড বা কাফেলার মালিকের সাথে হাজী ছাহেবদের মনোমালিন্য, ঝগড়া-বিবাদ, গালাগালি ইত্যাদি যেন লেগেই থাকে। একাধিকবার এ সমস্ত বিষয় নিয়ে আমাদেরকে মীমাংসা বৈঠকেও বসতে হয়েছে। হোটেলের সীট ভাল না, খাবার ভাল না, এসি ভালভাবে সার্ভিস দেয় না, লিফট মাঝেমধ্যেই নষ্ট থাকে, দূরত্ব এত বেশী কেন? এমনটিতো কথা ছিল না, আমরা কি টাকা দিয়ে হজ্জ করতে আসিনি। অমুকের বেটাকে দেশে গিয়ে মজা দেখাব ইত্যাদি অভিযোগ ও পরিভাষাগুলো বাংলাদেশী হাজীদের ও গাইডের ক্ষেত্রে অতি পরিচিত পরিভাষা। যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।
অথচ এই আমরাই দেশে অনেক কষ্ট করে দিন যাপন করি। কারো বাসায় হয়তো এসি নেই এমনকি আইপিএসও নেই। তিনবেলা মাছ-গোশত খাইনা, লিফট ব্যবহার করে না। কিন্তু সেখানে দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলা ওঠতে লিফট নষ্ট থাকলে আমাদের আর ছবর থাকে না। একইভাবে গাইডদেরও অনেকে হজ্জটাকে এতটাই ব্যবসায়িক করে নিয়েছেন যে, সঊদী আরব যাওয়ার পর তারা ওয়াদার কথা বেমালুম ভুলে যান। কাজেই তাদেরও এমন কিছু বলা উচিত না যা তারা করতে পারবেন না।
শেষ কথা : হজ্জ ইসলামের অন্যতম রুকন। হজ্জের মাধ্যমে আমরা সদ্যজাত সন্তানের ন্যায় নিষ্পাপ অবস্থায় দেশে ফিরে আসার সৌভাগ্য লাভে ধন্য হ’তে পারি। কিন্তু যদি আমরা ছবরের পরীক্ষায় হেরে যাই তবে কি এটি অর্জন সম্ভব? আদৌ নয়। সেকারণ অবশ্যই আমাদেরকে ছবর বা ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হ’তে হবে। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ের হজ্জ ‘মাবরূর’ হৌক, হজ্জের পুরো সময়টা মহান রবের ইবাদতে ব্যয়িত হৌক এটিই কাম্য হ’তে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন-আমীন!!






অতি ধনীর সংখ্যা এত দ্রুত বাড়ছে কেন? - আলী রিয়ায, প্রফেসর, ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র
মুসলিম নারীর পর্দা ও চেহারা ঢাকার অপরিহার্যতা (২য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম
গীবত : পরিণাম ও প্রতিকার (২য় কিস্তি) - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
আশূরায়ে মুহাররম - আত-তাহরীক ডেস্ক
শোকর (২য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
মানবাধিকার ও ইসলাম (১০ম কিস্তি) - শামসুল আলম
ইলম ও আমলের মাঝে সমন্বয় করবেন যেভাবে (পূর্ব প্রকাশিতের পর) - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
ক্বলব : মানব দেহের রাজধানী - খাইরুল ইসলাম বিন ইলইয়াস
আল-কুরআনের আলোকে ক্বিয়ামত (পূর্ব প্রকাশিতের পর) - রফীক আহমাদ - বিরামপুর, দিনাজপুর
জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ : একটি পর্যালোচনা - কামারুযযামান বিন আব্দুল বারী
শরী‘আহ আইন বনাম সাধারণ আইন : একটি পর্যালোচনা - ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব
তাক্বওয়ার গুরুত্ব ও ফযীলত (পূর্বে প্রকাশিতের পর) - মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদূদ
আরও
আরও
.