ভূমিকা :
বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি অর্জনের স্থান নয়, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর জীবন, আদর্শ ও ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু বর্তমান যুগে ক্যাম্পাসগুলো সেক্যুলারিজম, নাস্তিক্যবাদ ও পশ্চিমা সংস্কৃতি চর্চার এমন এক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে অনেক তরুণই দুর্বল ঈমান ও পরিচয় সংকটে ভুগছে। ফলে শিক্ষার্থীরা সেখানে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে প্রবেশ করলেও, শিক্ষাজীবন শেষে অনেকেই বের হয় এক গভীর আত্মিক শূন্যতা নিয়ে। অনেকেই বিলাসী ক্যারিয়ার গড়লেও হারিয়ে ফেলে নৈতিক চরিত্র ও মহামূল্যবান ঈমান। এই বৈরী বাস্তবতায় একজন মুসলিম শিক্ষার্থীর মনে প্রশ্ন জাগে- আমি কে? আমি কেন লেখাপড়া করছি? আমার লক্ষ্য কি কেবলই একটি ভালো চাকরি, নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টি? প্রশ্নগুলো সহজ হ’লেও এর উত্তরের উপরই নির্ভর করছে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মুক্তি। সমস্ত ফিৎনার বিপরীতে দাঁড়িয়ে কিভাবে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে উম্মাহর শ্রেষ্ঠ সম্পদে রূপান্তর করবে এবং দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই সফল হ’তে পারে সেই দিকনির্দেশনামূলক রূপরেখাই উন্মোচন করা হয়েছে এই লেখায়।
ক্যাম্পাসে পদার্পণ ও বাস্তবতা :
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আগের যেকোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশী জটিল। বর্তমানে প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার, সোশ্যাল মিডিয়ার আধিপত্য, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং ধর্মহীন আধুনিকতার প্রভাব একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ধীরে ধীরে নিজের ইসলামিক পরিচয় নিয়ে সংকোচ বোধ করতে শুরু করে। কেউ দ্বীনকে কেবলই ব্যক্তিগত বিষয় মনে করে, আবার কেউ আধুনিকতার নামে ইসলামের বিধানকে Backdated বা পিছিয়ে পড়া ভাবতে শুরু করে। এর ফলে ধীরে ধীরে সে ইসলাম থেকে দূরে সরে যায় এবং এক প্রকার আত্মভোলা হয়ে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আজ অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের সিজিপিএ, স্কিল, সার্টিফিকেট ও ক্যারিয়ার নিয়ে যতটা সচেতন, আখেরাত নিয়ে ততটা সচেতন নয়। অথচ কিবয়ামতের দিন আল্লাহ এগুলো জিজ্ঞেস করবেন না; বরং জিজ্ঞেস করবেন তার ঈমান, আমল ও জীবন কিভাবে কাটিয়েছে সেই সম্পর্কে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসিত না হওয়া পর্যন্ত আদম সন্তানের পা তার রবের নিকট হ’তে নড়বে না। তার জীবনকাল সম্পর্কে, সে তা কিভাবে কাটিয়েছে। তার যৌবনকাল সম্পর্কে, সে তা কিভাবে শেষ করেছে। তার সম্পদ সম্পর্কে সে তা কোথা হ’তে উপার্জন করেছে এবং কোন পথে ব্যয় করেছে। আর সে যে জ্ঞান অর্জন করেছে, সে বিষয়ে কি আমল করেছে’।[1]
আজকের বাস্তবতায় যৌবনকালকে অনেকেই কেবলই উপভোগের সময়কাল মনে করে। হারাম সম্পর্ক, ফ্রি-মিক্সিং, সিনেমা-সিরিজ আসক্তি, রিলস, ডোপামিনভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং উদ্দেশ্যহীন জীবন ধীরে ধীরে একজন শিক্ষার্থীকে ধ্বংস করে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমগুলো মানুষের মানসিক দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে তাকে এমন সব কনটেন্ট দেখায়, যা তার ভেতরে আসক্তি, গাফলতি ও নফসের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে একজন শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে গভীর চিন্তা, আত্মশুদ্ধি ও মনোযোগী অধ্যয়নের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। অথচ ইসলাম একজন শিক্ষার্থীকে কেবল সফল কর্মজীবী বানাতে চায় না, বরং তাকে একজন মুত্তাক্বী, চিন্তাশীল, চরিত্রবান ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে চায়।
আমার জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্য কী?
ইসলামে জ্ঞান অর্জনের মূল ও চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হ’ল মহান আল্লাহকে চেনা ও জানা। একজন সচেতন মুসলিম হিসাবে নিজের রবকে চেনার পর দ্বীনের মৌলিক বিশ্বাস (আকবীদা), ইবাদতের বিধি-বিধান এবং দৈনন্দিন জীবনের হালাল-হারাম সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর আবশ্যক বা ফরযে আইন।[2] আমাদের সমাজে অনেকের মাঝেই একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, দুনিয়াবী প্রয়োজন পূরণ করে এমন বিষয়ে পড়াশোনা করা অনর্থক এবং এতে কোন নেকী নেই। দুনিয়ার যেকোন কল্যাণকর জ্ঞান অর্জনও যদি আখিরাতের মহান লক্ষ্যে পরিচালিত হয়, তবে সেটিও আল্লাহর ইবাদত হিসাবে গণ্য হ’তে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ، الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ. ‘নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিবসের আবর্তন-বিবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনসমূহ নিহিত আছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতত্ত্ব বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বলে- ‘হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি এগুলিকে অনর্থক সৃষ্টি করনি। মহা পবিত্র তুমি! অতএব তুমি আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও’! (আলে ইমরান ৩/১৯০-১৯১)।
নবী-রাসূলদের আদর্শ ও ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি, আদম (আঃ), দাঊদ ও সুলায়মান (আঃ) এবং পরবর্তীতে বনু ইসরাঈলের নবীগণ সকলে স্ব স্ব সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন।[3] রাষ্ট্র পরিচালনা, সামাজিক নেতৃত্ব কিংবা মানবকল্যাণে প্রয়োজনীয় জাগতিক জ্ঞান ও দক্ষতা (যেমন ভাষা, বিজ্ঞান বা কারিগরি বিদ্যা) অর্জন করাও মুসলমানদের একটি সামষ্টিক দায়িতব। এর একটি বড় প্রমাণ নিম্নোক্ত হাদীছটি। যায়েদ বিন ছাবিত (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে সুরিয়ানী ভাষা শিক্ষার জন্য আদেশ করেছিলেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আমাকে ইহূদীদের কিতাব শিখতে বলা হয়েছিল।[4] অতএব একজন মুসলিম শিক্ষার্থী যদি ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, অর্থনীতি বা অন্য যেকোন আধুনিক বিষয়ে পড়াশোনা করে এবং তার নিয়ত যদি হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, হালাল জীবিকার ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি মুসলিম উম্মাহর উপকার করা, তবে তার সেই প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনাও ইবাদত হিসাবে গণ্য হবে ইনশাআল্লাহ।
প্রকৃত শিক্ষা মূলত সেটাই, যা মানুষের অন্তরে একদিকে যেমন ‘খালেক’ বা সৃষ্টিকর্তার পরিচয় ও ভয় (তাকবওয়া) জাগ্রত করে, তেমনি অন্যদিকে মানুষের জাগতিক বা ‘আলাকব’-এর নানামুখী চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হ’ল, আজ আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের কাছে নিয়ত বা হারাম-হালালের এই সূক্ষ্ম বিবেচনার চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্ব পায়- সিজিপিএ, ভালো চাকরি, উচ্চ বেতনের হাতছানি, বিদেশ পাড়ি দেওয়া কিংবা কেবলই তথাকথিত সামাজিক স্ট্যাটাস বা আভিজাত্য! আর এখানেই ঘটে যায় শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের বিচ্যুতি, যা একজন অমিত সম্ভাবনাময় তরুণকে ভেতর থেকে আত্মিকভাবে শূন্য করে দেয়।
প্রকৃত সফলতা বনাম সাময়িক মোহ :
আজকের শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্পোরেট দুনিয়ায় আমাদের তরুণদের শেখানো হয়- উচ্চ সিজিপিএ মানেই সফলতা, বহুজাতিক সংস্থায় মোটা অঙ্কের বেতন মানেই মর্যাদা, আর বিলাসী জীবন মানেই পরম তৃপ্তি। কিন্তু একজন মুসলিম শিক্ষার্থীর কাছে সফলতার সংজ্ঞা কি এতটুকুই? ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবীর ডিগ্রি, পদবী, পরিচিতি বা সামাজিক স্ট্যাটাস একদিন মৃত্যুর সাথে সাথেই শেষ হয়ে যাবে। তাই দুনিয়ার সাময়িক অর্জন কখনো চূড়ান্ত সফলতা হ’তে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা সফলতার প্রকৃত সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন,فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ. ‘যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে ও জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই-ই হবে সফলকাম। বস্ত্ততঃ পার্থিব জীবন ধোঁকার উপকরণ ছাড়া কিছুই নয়’ (আলে ইমরান ৩/১৮৫)। অতএব একজন মুসলিম ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার কিংবা গবেষক তাদের মেধা ও যোগ্যতা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও উম্মাহর কল্যাণে ব্যয় না করেন, তবে বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাদের সফল মনে হ’লেও আখেরাতের আদালতে তারা বড্ড দেউলিয়া।
দ্বীনের জ্ঞান কার নিকট থেকে নিব?
বর্তমান তরুণ সমাজ অধিকাংশই দ্বীনের জ্ঞান নেয়ার ক্ষেত্রে ভুল করে থাকে। অনেক শিক্ষার্থীই সঠিক দলীল ছাড়া কেবল বাহ্যিক লেবাস, আবেগ, দল, ব্যক্তি কিংবা সামাজিক প্রচলনের উপর ভিত্তি করে দ্বীন পালন করে শিরক ও বিদ‘আতের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে। কারণ মানুষ যার কাছ থেকে দ্বীন শিখে, ধীরে ধীরে তার চিন্তা ও জীবনদর্শন সেভাবেই গড়ে ওঠে। এজন্য সালাফে ছালেহীন দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। ইবনে সিরীন (রহ.) বলেন,إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دِينٌ، فَانْظُرُوْا عَمَّنْ تَأْخُذُوْنَ دِينَكُمْ. ‘নিশ্চয়ই এই ইলম হ’ল দ্বীন। অতএব লক্ষ্য করো তোমরা কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ’।[5]
ইসলাম অনুমান বা অন্ধ অনুকরণের ধর্ম নয়, বরং তা সম্পূর্ণভাবে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের উপর প্রতিষ্ঠিত। এজন্য যে সমস্ত আলেম কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সালাফে ছালেহীনদের বুঝ অনুযায়ী দলীলভিত্তিক দাওয়াত প্রচার করেন শুধুমাত্র তাদের নিকট থেকেই দ্বীনের ইলম অর্জন করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর বিদায় হজ্জের ভাষণে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে,تَرَكْتُ فِيْكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوْا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ، ‘আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতক্ষণ তোমরা সে দু’টি জিনিস অাঁকড়ে ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাত’।[6] ইদানিং বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনগুলোতে মুনকিরুল হাদীছ তথা হাদীছ অস্বীকারকারীদের নতুন একটি ফেৎনা মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের মতে শুধু কুরআন মানলেই যথেষ্ট, হাদীছ অনুরসণের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। অথচ হাদীছ ছাড়া ইসলামী শরী‘আতের পূর্ণাঙ্গতা সম্ভব নয়। তাই একজন মুসলিম শিক্ষার্থীর মূল দায়িত্ব ইসলামের বিশুদ্ধ আকবীদা শিক্ষা করা, দলীলভিত্তিক দ্বীন চর্চা করা, বিদ‘আতের অন্ধকার থেকে দূরে থাকা এবং সালাফদের বিশুদ্ধ মানহাজ অনুসারে নিজের জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোয় গড়ে তোলা।
আদব ও আত্মশুদ্ধি অর্জন :
বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে আমাদের আদব-আখলাকের যে চরম দুর্ভিক্ষ চলছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শিক্ষকের সম্মানহানি, হেনস্থা থেকে শুরু করে ছাত্রের হাতে শিক্ষক খুন হওয়া কোনটিই আর বাকী নেই। এযুগে ছাত্রের কথা-কাজে মনঃকষ্টে নিষ্পেষিত না হওয়া শিক্ষক বোধহয় খুব কমই আছেন। অবশ্য যারা আদব-আখলাককে হিসাবের মধ্যে আনেন না, হয়তো তারাই এই তালিকার বাইরে। এই অপমানবোধ ও মনঃকষ্টকে সঙ্গী করেই শিক্ষকরা তাদের মহান গুরুদায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
আধুনিক প্রযুক্তির বদলৌতে আমরা অনেক ইসলামিক তথ্য জানি, দ্বীনি বিষয়ে জটিল যুক্তি বা তর্ক করতে পারি; কিন্তু আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে আদব, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির বড্ড অভাব। আত্মশুদ্ধি ও আমলহীন এমন তাত্ত্বিক জ্ঞান আমাদের ভেতরে কেবলই অহংকার, রিয়া এবং আত্মপ্রশংসার জন্ম দেয়। যা একজন মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এ কারণেই আমাদের পূর্বসূরি আলেমগণ জ্ঞান অর্জনের আগে আদব শেখার ওপর সবচেয়ে বেশী জোর দিতেন। বিখ্যাত মুহাদ্দিছ আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেন,طَلَبْتُ الْأَدَبَ ثَلَاثِينَ سَنَةً، وَطَلَبْتُ الْعِلْمَ عِشْرِينَ سَنَةً، وَكَانُوا يَطْلُبُونَ الْأَدَبَ قَبْلَ الْعِلْمِ. ‘আমি দীর্ঘ ত্রিশ বছর যাবৎ আদব শিখেছি এবং বিশ বছর যাবৎ ইলম অর্জন করেছি। আর সালাফগণ ইলম শিক্ষার পূর্বেই আদব শিখতেন’।[7] ইমাম ইবনুল জাওযী (রহঃ) বলেন,كَادَ الْأَدَبُ يَكُونُ ثُلُثَيِ الْعِلْمِ ‘আদব হচ্ছে ইলমের দুই তৃতীয়াংশ’।[8]
অতএব একজন মুসলিম শিক্ষার্থীর জ্ঞানার্জন তখনই সফল হবে, যখন তার অর্জিত ইলম তাকে বিনয়ী করবে, তার ভেতরে আল্লাহর ভয় বৃদ্ধি করবে এবং তার বাহ্যিক আচরণ ও আখলাককে সুন্দর করে তুলবে।
ক্যাম্পাসের ফিৎনাসমূহ ও বাঁচার পথ
১. আত্মপরিচয়ে হীনমন্যতা : স্কুল-কলেজের সীমাবদ্ধ পরিবেশ থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থী হঠাৎ এমন এক জগতে প্রবেশ করে যেখানে গুনাহ খুব সহজলভ্য হয়ে যায়। এই নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে নিজের ইসলামিক পরিচয় নিয়ে সংকোচ বা হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করে এবং ‘পরিচয় সংকটে’ ভোগে। নিজেকে অন্যদের কাছে স্মার্ট ও মডার্ণ প্রমাণের তাড়নায় তারা দ্বীনকে সংকুচিত করে ফেলে এবং একসময় হারামকে স্বাভাবিক বানিয়ে নেয়। এবিষয়ে ওমর ফারূক (রাঃ) বলেন, ‘আমরা ছিলাম সবার চেয়ে নিকৃষ্ট জাতি। আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। সুতরাং আল্লাহ আমাদেরকে যে জিনিস দ্বারা সম্মানিত করেছেন, তা ব্যতীত অন্য জিনিস দ্বারা যখনই আমরা সম্মান অনুসন্ধান করব, তখনই আল্লাহ আমাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন’।[9]
২. সহজলভ্য গুনাহ :
ক্যাম্পাসে ফ্রি-মিক্সিং ও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াটা খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সাময়িকভাবে এই সম্পর্কগুলো খুব রোমাঞ্চকর বা মধুর মনে হ’লেও এর চূড়ান্ত ফলাফল হয় অত্যন্ত তিক্ত। পড়াশোনায় মনোযোগে হারানো, মানসিক বিষন্নতা, চারিত্রিক পদস্খলন এবং জীবনের মূল লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়ার ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। কত শত সম্ভাবনাময় ও মেধাবী শিক্ষার্থী নারীর পাল্লায় পড়ে নিজের সোনালী ভবিষৎকে জলাঞ্জলী দিচ্ছে তার খবর কে রাখে। হারাম সম্পর্কের ভাঙন ও বিষাদ জ্বালায় কত তরুণ যে নেশাগ্রস্থ হচ্ছে, মানসিক রোগীতে পরিণত হচ্ছে ক্যাম্পাসের ইতিহাস ঘাটলে তা সহজেই অনুমান করা যায়। কেউ কেউ এই মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে বেছে নেয় আত্মহননের পথ। অনেকেই প্রাণহীন লাশের মত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনমতে সেমিষ্টার শেষ করে। দিন শেষে একরাশ হতাশা আর গ্লানির কালো মেঘ তাদের গ্রাস করে নেয়। এসব আত্মবিধ্বংসী পরিণতি থেকে তরুণদের বাঁচাতেই প্রিয় নবী (ছাঃ) আমাদের সতর্ক করে বলেছেন,فَاتَّقُوا الدُّنْيَا واتَّقوا النِّسَاءَ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيْلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ. ‘তোমরা দুনিয়া এবং নারীদের থেকে সাবধান থাক। নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈলের প্রথম দুর্ঘটনা নারীদের মধ্যেই ঘটেছিল’।[10] তাই একজন সচেতন শিক্ষার্থীর উচিত হবে অ্যাকাডেমিক বা যরূরী প্রয়োজন ছাড়া নারীদের সাথে অবাধ মেলামেশা বা অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং সর্বাবস্থায় নিজের দৃষ্টিকে সংযত রাখা। কারণ দৃষ্টির হেফাযত ছাড়া অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করা অসম্ভব।
৩. অসৎ সঙ্গ ও পরিবেশের প্রভাব : নিজেকে সঠিক পথে অটল রাখার জন্য উত্তম সঙ্গী ও পরিবেশ নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষ অবচেতনভাবেই তার সঙ্গীর রীতিনীতি ও জীবনাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়। একটি সহজ উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে- একটি পঁচা আপেলের সাথে একটি ভালো আপেল থাকলে কয়েকদিন পর ভালো আপেলটিতেও পঁচন ধরে। আবার শহরের দূষিত ও বদ্ধ পরিবেশে থাকলে যেমন মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসে, ঠিক তেমনি খোলামেলা সবুজে ঘেরা নির্মল পরিবেশে গেলে মন-মেজায প্রশান্ত ও ফুরফুরে হয়ে যায়। বন্ধুমহল যেমন আমাদের চরিত্রকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, তেমনি চারপাশের পরিবেশের দ্বারাও আমরা প্রভাবিত হই। বাস্তবে আমরা এমন অনেক শিক্ষার্থীকে দেখেছি, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্নাতী লেবাস ও দ্বীনদার হয়ে প্রবেশ করেছিল; কিন্তু অসৎ বন্ধুদের প্রভাবে আজ তাদের মাঝে ইসলামের সামান্যতম চিহ্নও অবশিষ্ট নেই। অথবা ধীরে ধীরে তাদের ভেতরে ইসলাম মানার স্পৃহা পুরোপুরি নিভে গেছে। পরকালে এই অসৎ সঙ্গীদের কারণেই মানুষকে চরম আক্ষেপ করতে হবে। মহান আল্লাহ তা‘আলা সেই ভয়াবহ অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বলেন,يَاوَيْلَتَا لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا- لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُولًا. ‘হায় দুর্ভোগ আমার! যদি আমি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! আমার কাছে উপদেশ (কুরআন) আসার পর সে আমাকে পথভ্রষ্ট করেছিল। বস্ত্ততঃ শয়তান হ’ল মানুষের জন্য সত্যচ্যুতকারী’ (ফুরকবান ২৫/২৮-২৯)। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বহু সংস্কৃতির উন্মুক্ত অঙ্গনে আমাদের অবশ্যই ভালো, দ্বীনদার সঙ্গীসাথী ও সুস্থ পরিবেশ নির্বাচন করতে হবে। যারা নিজেদের জীবনে সঠিক দ্বীনের অনুশীলন করে, তাদের সাথেই বন্ধুত্ব গড়তে হবে। গান-বাজনা, নোংরা রাজনৈতিক কর্মকান্ড এবং শিরকী ও বিদ‘আতী সকল রসম-রেওয়াজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।
সময় ব্যবস্থাপনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ :
অর্থ-সম্পদ, ভগ্নস্বাস্থ্য কিংবা অন্য কোন পার্থিব বস্ত্ত হারিয়ে গেলে তা পুনরায় ফিরে পাওয়া সম্ভব। কিন্তু হারানো সময়কে কোনভাবেই আর ফিরিয়ে আনা যায় না। বাতাসের গতিপথ যেমন উল্টানো যায় না, তেমনি অতিবাহিত হওয়া সময়কেও ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। অথচ আমরা আমাদের জীবনের এই মূল্যবান সময়গুলো হেলায়-খেলায় অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছি। স্মার্টফোনে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিংয়ের পেছনে ৫ মিনিটের কথা বলে কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে-তা আমরা টেরই পাচ্ছি না। বন্ধু-বান্ধবের সাথে অনর্থক আড্ডা ও খোশগল্পে আমরা আমাদের জীবনের সোনালী সময়টুকু বিসর্জন দিচ্ছি হরহামেশাই।
অনেকেই হয়তো ভাবছি, এখন তো মাত্র প্রথম বা দ্বিতীয় সেমিস্টার, সামনে নিজেকে গোছানোর অনেক সময় পড়ে আছে। এখন একটু আমোদ-ফুর্তি করে নেই। কিন্তু কর্মজীবনে পদার্পণের পর যখন বাস্তবতার মুখোমুখি হ’তে হয়, তখন ভীষণ আফসোস হয়- হায়, সময়টাকে যদি আরেকটু সুন্দরভাবে কাজে লাগাতাম, তবে হয়তো সাফল্যের পথটা আরও সুগম হত! রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদের এই চরম গাফেলতি থেকে আগেই সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন,نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ، ‘এমন দু’টি নে‘মত আছে, যে ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ধোঁকায় নিমজ্জিত, তা হচ্ছে, সুস্থতা ও অবসর’।[11]
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একজন শিক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ হ’ল তার অবসর সময়। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা কিংবা ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সময়কে রুটিনমাফিক সাজিয়ে নেওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শয়তান অনেক প্রলোভন দেখাবে। কিন্তু শয়তানী ওয়াসওয়াসায় নফসের উপর জিহাদ চালিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ও ইসলামের অন্যান্য বিধানগুলো আমাদের সেই সময় সচেতনও আত্মসচেতন করে তুলে। মনে রাখতে হবে, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও আত্মনিয়ন্ত্রণই একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে অসাধারণ মানুষে রূপান্তরিত করে।
শিক্ষার্থীর সমাজচিন্তা ও দায়বদ্ধতা :
শিক্ষিত তরুণরাই হ’ল সমাজের প্রাণ। তারাই ভবিষ্যৎ সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত নির্মাণ করে। এজন্য একজন শিক্ষার্থী সমাজের প্রতি তার এই দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারে না। তাকে কেবল ক্যারিয়ারের চিন্তায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং তাকে সমাজ নিয়ে ভাবতে হবে। সমাজের মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হ’তে হবে। এজন্য জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে এমন নিবেদিত ছাত্রসমাজের বড় প্রয়োজন- যারা জীবনের চেয়ে মরণকে বেশী ভালবাসবে; নেওয়ার চেয়ে যারা বেশী দিতে জানবে; যারা সদা প্রস্ত্তত থাকবে তাদের জীবনকে মানুষের কল্যাণে, মানবতার মঙ্গল সাধনে কুরবান করে দিতে। মানুষ খেয়ে দেয়ে যতটা সুখ-শান্তি লাভ করবে তারা ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত থেকে ততটা প্রশান্তি পাবে। যারা কোন কিছু পাওয়ার পরিবর্তে হারিয়ে ফেলার মাঝে খুঁজে পাবে অধিক প্রশান্তি।
আমরা তখনই বিশ্বের সকল জাতির ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। যখন আমরা আত্মকেন্দ্রিকতার গন্ডি পেরিয়ে মানুষের জন্য দরদী হব। সমাজের দুর্দশায় আমাদের হৃদয় ব্যথিত হবে এবং পথহারা মানুষদের সঠিক পথে ফেরানোর জন্য আমাদের চিন্তা ও কর্মে অস্থিরতা কাজ করবে। শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ে বিজয়ী হ’তে হ’লে আমাদের মূলমন্ত্র হবে মানবকল্যাণ, সৎকাজের আদেশ ও অন্যায় থেকে নিষেধ করা। মহান আল্লাহ বলেন,كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য। তোমরা সৎকাজের আদেশ দিবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখবে’ (আলে ইমরান ৩/১১০)।
এই দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের সামাজিক হ’তে হবে। একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের জ্ঞান ও যোগ্যতা দিয়ে সমাজের অমানিশা দূর করার চেষ্টা করবে, তখনই সে প্রকৃত ‘খাইরুল উম্মাহ’ বা শ্রেষ্ঠ জাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জিত হবে।
উপসংহার :
পরিশেষে বলব, আধুনিক নানামুখী ফিৎনা ও বস্ত্তবাদী মোহের মাঝে নিজেকে দ্বীনের উপর অবিচল রাখতে হ’লে ইসলামের সাজে নিজেকে সজ্জিত করার কোন বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত, মেধা এবং প্রতিটি সুযোগ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক একটি আমানত। সময়ের সঠিক মূল্যায়ন, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আদব-আখলাকের চর্চার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী নিজেকে সত্যিকারের মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে পারে। এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় আখেরাতকে সামনে রেখেই আমাদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। উম্মাহর কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে। এই পথচলায় শত বাধা ও প্রতিকূলতা আসবে, কিন্তু হতাশ হওয়া যাবে না। সর্বাবস্থায় কুরআন-সুন্নাহকে মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্তভাবে আকড়ে ধরতে হবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন-আমীন!
মুহাম্মাদ রাফাত আনাম
শিক্ষার্থী, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।
[1]. তিরমিযী হা/২৪১৬; মিশকাত হা/৫১৯৭; ছহীহাহ হা/৯৪৬।
[2]. ইবনু মাজাহ হা/২২৪; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৯১৩, ৩৯১৪।
[3]. বুখারী হা/৩৪৫৫; মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৭৫।
[4]. তিরমিযী হা/২৭১৫; মিশকাত হা/৪৬৫৯; ছহীহাহ হা/১৮৭।
[5]. ছহীহ মুসলিম, মুক্বাদ্দামা, ১/৪৪।
[6]. মুওয়াত্ত্বা মালিক হা/১৫৯৪; মিশকাত হা/১৮৬।
[7]. ইবনুল জাযারী, গায়াতুন নিহায়া ১/১৯৮।
[8]. সিফাতুস সফওয়াহ ১/৪৫।
[9]. হাকেম হা/২০৭-২০৮; ছহীহাহ ১/১১৭।
[10]. মুসলিম হা/২৭৪২; মিশকাত হা/৩০৮৬।
[11]. বুখারী হা/৬৪১২; তিরমিযী হা/২৩০৪; মিশকাত হা/৫১৫৫।