ক্ষণিকের মুসাফির

-মিছবাহুল হক

গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

এই যে রঙের সরাইখানা, ক্ষণিকের এক মেলা,

মিথ্যে মায়ার বাঁধনে পড়ে, করিস না দিন-হেলা।

আজ যেথা বাজে নহবৎ সুর, আলো ঝলমল হাসে,

কাল সেথা গোর-অাঁধারের ঘুম, নীরব মৃত্যু আসে।

কোথায় সে আজ শাহানশাহেরা, কোথায় জাঁহাপনা?

মাটির কবরে ধুলিস্যাৎ আজ, স্বর্ণ-রত্ন-কণা।

বাদশাহ আর পথের ফকীর, সমান কাফন গায়,

খালি হাতে সব চলে যায়, এক আল্লাহর ইশারায়।

দু’দিনের এই পান্থশালায় মিছে এই কোলাহল,

আখেরাতের সম্বল বিনা সবই তো নিষ্ফল।

সাদা কাপড়ের তিন টুকরোতে শেষ হবে সব চাওয়া,

মাটির শয্যা হবে শেষ ঘর শেষ হবে আসা-যাওয়া।

দুনিয়াটা হ’ল কৃষিক্ষেত্র আখেরাতেরই ভাই,

আজ যা বুনবি কাল তা কাটবি এর বিকল্প নাই।

মরীচিকা এই নশ্বর ধরা চিরস্থায়ী কিছু নয়,

পরকালের অবিনশ্বর জীবন হোক প্রশান্তিময়।

ইনশিরাহ-এর ভাবানুবাদ

-মুহাম্মাদ গিয়াছুদ্দীন

ইব্রাহীমপুর, ঢাকা।

প্রভু! তুমি করেছ নবীর বক্ষ প্রসারণ,

করেছ তার দুর্বিষহ বোঝা অপসারণ।

যা ভেঙে দিচ্ছিল তার দ্যুতিময় পৃষ্ঠদেশ,

সমুন্নত করেছ তার খ্যাতির পরিবেশ।

অবশ্যই কষ্টের সাথে থাকে যে নিষ্কৃতি,

নিশ্চয়ই অশান্তির পর আসে প্রশান্তি।

যখনই অবসর পাই করি ইবাদত,

বিনয়ের সাথে রবের পানে করি রাজা‘আত।

একটি সফরের বিদায়

-মুবাশশির সা‘দ

নওদাপাড়া, রাজশাহী।

মনে করো সেদিন, যবে সবক খুলে

কুরআন পাঠে দিয়েছিলে শ্রম সবভুলে।

মনে করো আজ ঐসব দিনগুলি

হয়েছে গত, এসেছ ফেলে পদধূলি।

আজ তুমি পরিণত হিফযের পাঠে

শুকরিয়ার সিজদা কর ললাটে।

তোমরা তো সেই দল যাদের হাশরে

দেখা যাবে জান্নাতের ঊর্ধ্ব ধাপান্তরে।

আহলান সাহলান ওহে হুফফায

পিতৃ-মাতৃমস্তকে পরাবে নূরতাজ।

যদি ইয়াদে-আমলে করো গাফেলতি

তবে দু’কালেই খারাপ হবে পরিণতি।

কুরআন তোমার অন্তরে আমানত

রূহের সংবিধান মেনে নাও শপথ।

এসো কলম ধরি

-মুহাম্মাদ আলী আকবর,

বদরগঞ্জ, রংপুর।

এসো আজ হাতে তুলি কলম চেতনার হাতিয়ার,

কালির আখরে ঘুচিয়ে দেবো জরা ও অন্ধকার।

তরবারি নয় শাণিত কলম আনবে নতুন দিন,

অক্ষরগুলো বারুদ ছড়াবে শোধবে যুগের ঋণ।

যেই যমীনে যুলুমের রাজ শিকল জড়েছে পায়,

 মোদের কলম-কালিতে যেন যালিম নিপাত যায়।

কাগজের বুকে বিদ্রোহ আজ গর্জে উঠুক ভাই,

জাগ্রত এই লেখনির কাছে যালিমের দিশা নাই।

শব্দেরা আজ বল্লম হয়ে হানুক রে খঞ্জর,

কলমের ঘায় বিদীর্ণ হোক পাষাণের অন্তর।

এসো ভাই আজ কলম ধরি ভাঙি সব শৃঙ্খল,

আমাদের এই অক্ষরতাপে কাঁপিবে এ ভূতল।

অলস মগজে আগুন জ্বালাও জাগাও সুপ্ত প্রাণ,

কলমের মুখে ধ্বনিত হোক সাম্যের জয়গান।

সত্যের পথে লেখনী তোমার হোক সদা দুর্বার,

এসো কলম ধরি, খুলে দিই আজ আলোর রুদ্ধ দ্বার।

স্বদেশ

ডাক বিভাগের নতুন সেবা : মাত্র ১০ টাকায় সারা দেশে ডেলিভারি

দেশের সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের দ্রুত ও নিরাপদ কুরিয়ার-সুবিধা দিতে ডাক বিভাগ চালু করেছে তাদের বিশেষায়িত পার্সেল পরিবহন সেবা ‘স্পিড পোষ্ট’। ‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা, ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ’-এই সেলাগানকে সামনে রেখে চালু হওয়া সরকারী প্রতিষ্ঠানটি এখন দেশের দ্রুততম ও সবচেয়ে সাশ্রয়ী কুরিয়ার সেবার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। এর আওতায় ঢাকায় ২৪ ঘণ্টা এবং ঢাকার বাইরে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে যাবে। ‘স্পিড পোস্ট’ সেবার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হ’ল এর অবিশ্বাস্য ডাক মাশুল। দেশের যেকোন প্রান্তে প্রথম ১ কেজি পণ্য পাঠাতে মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১০ টাকা। এরপর পরবর্তী প্রতি কেজির জন্য খরচ লাগবে মাত্র ৫ টাকা। গ্রাহকদের সুবিধার্থে ডিজিটাল ডাক মাশুল ক্যালকুলেটর এবং অনলাইনে পার্সেলের সর্বশেষ অবস্থান জানার জন্য ২৪ ঘণ্টার ডিজিটাল ট্র‍¨vকিং সুবিধাও এতে যুক্ত করা হয়েছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পার্সেল পাঠানোর জন্য রয়েছে বিশ্বস্ত ইএমএস বা বৈদেশিক পার্সেল সেবা। ডাক বিভাগের ইউনিয়ন পর্যায়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে এই সেবা দেওয়া হচ্ছে।

পাটকাঠি থেকে বিস্ময়কর গ্রাফিন তৈরি : বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর অভাবনীয় সাফল্য

বাংলাদেশী গবেষক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল আযীযের নেতৃত্বে একদল আন্তর্জাতিক গবেষক সাধারণ কৃষিজ বর্জ্য পাটকাঠি থেকে উচ্চমূল্যের ‘গ্রাফিন’ তৈরির এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন, যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সঊদী আরবের কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলসে সম্পন্ন হওয়া এই গবেষণায় দেখা গেছে, সহজ তাপপ্রয়োগ পদ্ধতির মাধ্যমে পাটকাঠি থেকে প্রায় ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ কার্বনযুক্ত ও অত্যন্ত স্থিতিশীল ত্রিমাত্রিক গ্রাফিন কাঠামো তৈরি করা সম্ভব। গ্রাফিন হ’ল কার্বনের এমন একটি রূপ যা স্টিলের চেয়েও ২০০ গুণ বেশী শক্তিশালী কিন্তু কাগজের চেয়েও পাতলা। এর অসাধারণ বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ও নমনীয়তার কারণে এটি অতি দ্রুত চার্জ হওয়া ব্যাটারি, স্মার্টফোনের ফ্লেক্সিবল স্ক্রিন, উন্নত সেন্সর এবং পানি বিশুদ্ধকরণ প্রযুক্তিতে ‘বিস্ময়কর উপাদান’ হিসাবে বিবেচিত। স্বল্পমূল্যের কৃষিজ বর্জ্যকে উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক উপকরণে রূপান্তরের এই ‘বায়োমাস ভ্যালোরাইজেশন’ প্রক্রিয়াটি ভবিষ্যতে শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োগ করা গেলে বাংলাদেশের মতো পাট উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য নতুন অর্থনৈতিক মাইলফলক তৈরি করবে।

[আমরা গবেষককে ধন্যবাদ জানাই এবং সরকারের কাছে দাবী জানাই তাকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের জন্য (স.স.)]

বিদেশ

ফিলিস্তীনী বন্দীদের পলায়ন রোধে কুমিরবেষ্টিত কারাগার বানাচ্ছে ইস্রাঈল

ফিলিস্তীনী বন্দীদের পলায়ন রোধে কুমিরবেষ্টিত জলপথ সংবলিত একটি উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন ইস্রাঈলের চরমপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। প্রায় ছয় মাস আগে উত্থাপিত এই অমানবিক প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে আইনী প্রক্রিয়াও শুরু করেছে ইস্রাঈল। দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কারাগারের চারপাশে কুমিরভর্তি পরিখা থাকলে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ব্যয়ও কমবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ইস্রাঈলের বিভিন্ন কারাগারে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ প্রায় ৯ হাযার ৫০০ ফিলিস্তীনী বন্দী মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এসব বন্দীকে অনাহারে রাখা, নির্মম নির্যাতন এবং চিকিৎসাবঞ্চিত করার কারণে এরই মধ্যে অনেক বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এর মাঝেই নতুন করে কুমিরবেষ্টিত কারাগার নির্মাণের এই পাশবিক উদ্যোগ সামনে এলো।

[আমরা এই উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানাই। সাথে সাথে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাই (স.স.) ]

মুসলিম জাহান

ভারতের কেরালায় জ্যামিতিক হারে বাড়ছে ইসলাম

রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিকূলতা ও হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর অপপ্রচার সত্ত্বেও ভারতের কেরালায় ইসলাম গ্রহণের হার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেরালা সরকারের অফিসিয়াল গেজেটের তথ্যে দেখা যায়, অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম গ্রহণের হার বহুগুণ বেশী এবং হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেরালায় ১৪৪ জন নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। আর ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক ডেটায় দেখা যায় রেকর্ডসংখ্যক ৩৪৩ জন ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এই নওমুসলিমদের বড় অংশই এসেছেন হিন্দু ও খ্রিষ্টান ধর্ম থেকে। অন্যদিকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের চেয়ে তা ত্যাগের হার ব্যাপকভাবে বাড়ছে। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩৬৫ জন হিন্দু ধর্মে এলেও হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে গেছেন ৫১০ জন মানুষ। এর মধ্যে সরাসরি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণের হার চার বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণেরও বেশী (১১১ জন থেকে ২৭৬ জন) বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, শত প্রতিকূলতার মাঝেও কেরালায় ইসলামের প্রসার নাটকীয় গতিতে অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞান ও বিস্ময়

সঊদী বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন বিদ্যুৎবিহীন এসি ‘নেসকোড’

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহের মাঝে এসির এক দারুণ বিকল্প উদ্ভাবন করেছেন সঊদী আরবের ‘কিং আব্দুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স’র বিজ্ঞানীরা। বিদ্যুৎ ছাড়াই চলা নতুন এই কুলিং সিস্টেমটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘নেসকোড’। এটি মূলত একটি দ্বিমুখী চক্র মেনে কাজ করে। প্রথম ধাপে পানির সাথে সস্তা ও সহজলভ্য অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট লবণ মেশানো হয়। এই মিশ্রণ দ্রুত চারপাশের তাপ শোষণ করে নেয়। ফলে তাপমাত্রা কমে ৫-১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে, যা ঘর ঠান্ডা রাখা ও খাবার সংরক্ষণের জন্য আদর্শ। সিস্টেমটি বারবার ব্যবহারের জন্য বিজ্ঞানীরা একটি থ্রি-ডি সোলার রিজেনারেটর তৈরি করেছেন। এটি সৌরশক্তি কাজে লাগিয়ে দ্রবণ থেকে পানি বাষ্পীভূত করে। ফলে লবণটি আগের অবস্থায় ফিরে আসে এবং পরবর্তী ব্যবহারের জন্য সিস্টেমটি রিচার্জ হয়। এটি দিনে সৌরশক্তি জমা করে রাতেও শীতলীকরণের কাজ করতে পারে। সবচেয়ে মজার বিষয় হ’ল, এই প্রক্রিয়ায় তৈরি জলীয়বাষ্প থেকে বিশুদ্ধ পানিও সংগ্রহ করা যায়। অল্প জায়গায় কাজ করতে পারা থ্রি-ডি কাঠামোর কারণে এর উৎপাদন খরচও বেশ কম। বিশেষজ্ঞদের মতে উন্নয়নশীল দেশ এবং দুর্গম অঞ্চল যেখানে প্রথাগত বিদ্যুৎ অবকাঠামো পৌঁছানো ব্যয়বহুল, সেখানে এই প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসাবে বড় ভূমিকা পালন করবে।

যুবসংঘ

বার্ষিক কর্মী সম্মেলন ২০২৬

সার্বিক জীবনে অহি-র বিধান মেনে চলুন!

-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত

জোনাকি কনভেনশন হল, ঢাকা ১১ই জুলাই শনিবার : ‘জাহেলিয়াত বর্জন করি, অহি-র আলোয় সমাজ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ১১ই জুলাই শনিবার ঢাকার নয়াপল্টনস্থ জোনাকি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হ’ল ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর বার্ষিক কর্মী সম্মেলন ২০২৬। সকাল ৯-টা থেকে মাগরিব পর্যন্ত প্রাণবন্ত এই সম্মেলনে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্য : সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করেন ‘যুবসংঘে’র প্রতিষ্ঠাতা এবং ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীর প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। তিনি সূরা আন‘আমের ৫০ আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর সার্বিক জীবন অহি-র আলোকে পরিচালিত ছিল। তাঁর নিকটে কোন ধনভান্ডার ছিল না। তিনি গায়েব জানতেন না। তিনি ফেরেশতা বা নূরের নবী ছিলেন না। বরং তিনি মানুষ নবী ছিলেন এবং বিশ্বমানবতার জন্য উত্তম আদর্শ ছিলেন। অতএব আমাদেরকে সার্বিক জীবনে তাঁরই অনুসারী হ’তে হবে। তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের আক্বীদা হবে মযবূত ও আচরণ হবে নরম। এর মাধ্যমেই পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের দাওয়াতী কার্যক্রম জোরালোভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

সভাপতির ভাষণ ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ : সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বলেন, বর্তমান যুবসমাজ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জাহেলিয়াতের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। এই পথভ্রষ্ট যুবসমাজকে অহি-র আলোয় আলোকিত করতে আমাদেরকে ব্যাপক দাওয়াত এবং সর্বাত্মক প্রচেষ্টা তথা জিহাদ চালিয়ে যেতে হবে। সমাজের সার্বিক সংস্কার সাধনের লক্ষ্যে যুবসমাজকে নিরলস ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফায়ছাল মাহমূদ।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসাইন, গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক দুররুল হুদা, যুববিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশীদ আখতার, দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম, শূরা সদস্য মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম ও অধ্যাপক মাওলানা জালালুদ্দীন, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়ার প্রিন্সিপাল হাফেয মুহাম্মাদ আখতার, মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল (পাবনা), ‘যুবসংঘে’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. এ. এস. এম. আযীযুল্লাহ, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়ার ভাইস প্রিন্সিপাল ড. নূরুল ইসলাম, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হাফেয আব্দুল মতীন ও ড. মীযানুর রহমান, ‘আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরামে’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ডা. মুহাম্মাদ ছাবিত বিন হান্নান, ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় পরিচালক মুহাম্মাদ রবীউল ইসলাম এবং ‘আল-‘আওন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির প্রমুখ।

এতদ্ব্যতীত ‘যুবসংঘে’র বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমাদুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুন নূর, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আব্দুর রঊফ, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ, কুমিল্লা যেলা সভাপতি রূহুল আমীন, ঢাকা-দক্ষিণ সাংগঠনিক যেলার সহ-সভাপতি আব্দুর রায্যাক, বরিশাল যেলা সাধারণ সম্পাদক মা‘ছূম বিল্লাহ, রাজশাহী-পশ্চিম যেলা সভাপতি আবুল কাসেম, গাযীপুর-দক্ষিণ যেলা সভাপতি আলে ইমরান, বাগেরহাট যেলা সভাপতি ওবায়দুর রহমান, দিনাজপুর-পূর্ব যেলা সভাপতি সাইফুর রহমান, সাতক্ষীরা যেলা সভাপতি মুজাহিদুর রহমান, গাইবান্ধা-পশ্চিম যেলা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামূন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আকরাম হোসাইন ও শূরা সদস্য আব্দুল্লাহ আল-মুছাদ্দিক প্রমুখ বক্তব্য পেশ করেন।

অনুষ্ঠানে অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত করেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়ার ছাত্র ছাকিবুল হাসান ও হাফেয আহনাফ মুবাশশির। ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করেন আল-হেরা শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য মীযানুর রহমান (জয়পুরহাট), ইয়াকূব আলী ও তানভীরুয্যামান (মেহেরপুর), আবুবকর ছিদ্দীক ও রাতুল আসলাম (রাজশাহী) এবং দ্বীন ইসলাম (সাতক্ষীরা)। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অধিবেশনে সঞ্চালক ছিলেন ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমাদুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুন নূর, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আব্দুর রঊফ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাক্বীবুল ইসলাম এবং তথ্য ও প্রকাশনা সম্পাদক যয়নুল আবেদীন। এছাড়াও অন্যান্যগণ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাব সমূহ :

সম্মেলনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা সমূহ পেশ করা হয়। ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফায়ছাল মাহমূদ প্রস্তাবনা পাঠ করেন ও উপস্থিত সকলে তা সমর্থন করেন।-

১. বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিকে পরিপূর্ণভাবে ইসলামের আলোকে ঢেলে সাজাতে হবে। অহি-র আলোকে রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনায় নীতিগত সহায়তার জন্য যোগ্য ও নিরপেক্ষ আলেমদের সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করতে হবে।

২. আধুনিক জাহেলিয়াত ও আধিপত্যবাদী শক্তির যেকোন আগ্রাসন থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশের তরুণ সমাজকে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

৩. মানব রচিত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও বৈষম্যমূলক আইনের করাল গ্রাস থেকে বিচার বিভাগকে মুক্ত করতে হবে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ‘শারঈ বিচারব্যবস্থা’ চালু করতে হবে।

৪. শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও বিজাতীয় মতবাদের জাহেলিয়াত দূর করে সর্বস্তরে বিশুদ্ধ ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকে রাসূল (ছাঃ)-এর সীরাত অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নৈতিক অবক্ষয় রোধে সহশিক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করে মেয়েদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক ও নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণের শিরকী প্রথা এবং ভিনদেশী অপসংস্কৃতির আগ্রাসণ রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। তরুণ সমাজকে ধ্বংসকারী আধুনিক জাহেলিয়াত তথা অনলাইন জুয়া, পর্ণোগ্রাফি রুখতে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।

৬. ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, মজুতদারী, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করতে হবে। খাদ্যে ও ওষুধে ভেজাল প্রদানকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে সূদমুক্ত ইসলামী অর্থনীতি চালু করতে হবে।

৭. ভিনদেশী আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে এবং পানি আগ্রাসনের মতো আধিপত্যবাদী আচরণ রুখে দিতে রাষ্ট্রকে আপসহীন হ’তে হবে। ফিলিস্তীন ও ভারতসহ বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

৮. ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ ও চরমপন্থাকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। পাশাপাশি কাদিয়ানী, হিজবুত তাওহীদসহ সকল বাতিল ফের্কা এবং সমাজে অনুপ্রবেশকারী শিরক-বিদ‘আতের অন্ধকার দূর করতে রাষ্ট্রকে আপসহীন পদক্ষেপ নিতে হবে।

৯. দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহতা দূর করতে হবে। অর্থাৎ খুন, ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের শাস্তি নিশ্চিতে রাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই সম্মেলন থেকে আমরা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যাদুর্গত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং তাদের পুনর্বাসনে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।

১০. যুবসমাজকে বেকারত্বের অভিশাপ ও হতাশাপূর্ণ জীবন থেকে রক্ষার্থে তাদেরকে বাস্তবমুখী শিক্ষা, কারিগরী ও আইটি খাতে দক্ষ করতে হবে এবং দেশেই তাদের হালাল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদেরকে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরী করে দিতে হবে।

সম্মেলনের অন্যান্য রিপোর্টসমূহ :

জুম‘আর খুৎবা : এবারের কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে ‘আন্দোলন’, ‘যুবসংঘ’ ও ‘সোনামণি’র দায়িত্বশীলগণ ঢাকা শহরের ২০টি মসজিদে জুম‘আর খুৎবা প্রদান করেন।

কর্মী উপস্থিতি : দেশের সকল যেলা থেকে প্রায় এক হাযার আটশত কর্মী ও সুধী উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, মূল অডিটোরিয়ামে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই বাইরে চেয়ারে বসে বক্তব্য শ্রবণ করেন।

স্টল সমূহ : সম্মেলনে বাইরের মূল গেইটের ডান পার্শ্বে ‘আল-‘আওন’-এর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে ব্লাড গ্রুপিং ও রক্তদাতা সদস্য সংগ্রহ ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পিং পরিচালনা করেন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ যেলার দায়িত্বশীলবৃন্দ। উক্ত ক্যাম্পিংয়ে ১৮ জনের ব্লাড গ্রুপিং ও ২৩ জন রক্তদাতা সদস্য বা ‘ডোনার’ তালিকাভুক্ত হন।

এছাড়াও ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ বিক্রয় বিভাগের জন্য বুকস্টল ও ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে সংগঠনের পরিচিতি বিষয়ক স্টল স্থাপন করা হয় এবং সেখান থেকে সাংগঠনিক বই, পরিচিতি, যুবসংঘে’র মনোগ্রাম সম্বলিত গেঞ্জি, চাবির রিং, কলম ও প্যাড ইত্যাদি বিতরণ ও বিক্রয় করা হয়।

আন্দোলন

বানভাসী মানুষের পাশে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’

২০২৬ সালের জুলাইয়ের বর্ষা মৌসুমে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের ফলে দেশের বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে মারাত্মক বন্যা ও ভুমিধ্বসের ঘটনা ঘটে। আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। পানির তোড়ে ভেসে যায় হাস-মুরগী, গবাদীপশু ও পুকুরের মাছ। তলিয়ে যায় ফসলের মাঠ। ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব-এর নির্দেশনায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও তার অঙ্গ সংগঠন সমূহ প্রতিবারের ন্যায় এবারও সাধ্যমত বানভাসী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিল থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে কেন্দ্রীয় ও যেলা দায়িত্বশীলগণ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী এবং অন্যান্য সাহায্য অসহায় মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌছে দেন। বিস্তারিত নিম্নরূপ-

১৪ই জুলাই মঙ্গলবার বাঁশখালী, চট্টগ্রাম : অদ্য বিকাল ৩-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম যেলা দায়িত্বশীলদের সহযোগিতায় সুরাইয়া নূর ইসলামিক সেন্টারকে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র হিসাবে ঘোষণা করা হয়। সেখান থেকে বাঁশখালী উপযেলাধীন বন্যা প্লাবিত ছনুয়া ইউনিয়নের চকলাপাড়া, ছেনবনগ্রামের ৩০০টি পরিবারের নিকট ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়।

১৫ই জুলাই বুধবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার : অদ্য দুপুর ১-টায় চট্টগ্রাম যেলার সাতকানিয়া উপযেলার ত্রাণ বিতরণ সাব-সেন্টার কেরানীহাটের আনুফকিরের দোকান থেকে মোট ২৫০টি পরিবারের নিকট ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। অতঃপর দায়িত্বশীলগণ রওয়ানা হন পরবর্তী সাব-সেন্টার যেলার লোহাগাড়া উপযেলায়। সেখান থেকে প্রায় ৩০০টি পরিবারের নিকট ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়। অতঃপর তারা রওয়ানা হন পরবর্তী সাব-সেন্টার কক্সবাজারের চকরিয়া উপযেলার ভাঙারমুখ বাজারে। সেখানেও প্রায় প্রায় ২৫টি পরিবারের নিকট ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। দায়িত্বরত কর্মীবৃন্দ প্লাবিত বানভাসি মানুষদের নিকট সুশৃংখলভাবে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন।

উক্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফায়ছাল মাহমূদ, সাংগঠকি সম্পাদক আহমাদুল্লাহ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান। এছাড়াও চট্টগ্রাম যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি হাফেয শেখ সাদী, যেলা যুবসংঘের সভাপতি জসীমুদ্দীন, কুমিল্লা যেলা ‘আন্দোলন’-এর দফতর সম্পাদক বেলাল হোসাইন, ফেনী যেলা পেশাজীবী ফোরামের সভাপতি ছাদিকুন নূর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, উক্ত ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাবতীয় শিরক ও বিদআত হ’তে বেঁচে থেকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া হয়। বাঁশখালী উপযেলার ছনুয়া ইউনিয়নের বন্যার্তদের ভাষ্যমতে, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় সকলেই সামনের বানভাসী এলাকায় ত্রাণ দিয়েই ফিরে যায়। তাদের নিকট কেউ আসতে চায় না। ‘আন্দোলন’-এর ত্রাণসামগ্রী তাদের নিকট পৌঁছাতে এলাকাবাসী অনেক খুশী হন ও সংগঠনের জন্য দো‘আ করেন।

মাসিক ইজতেমা

২৬শে জুন শুক্রবার রংপুর : অদ্য বাদ আছর যেলার সদর থানাধীন শেখ জামালুদ্দীন আহলেহাদীছ জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে মাসিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আব্দুল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইজতেমায় কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি মতীউর রহমান। উল্লেখ্য যে, কেন্দ্রীয় মেহমান অত্র মসজিদে জুম‘আর খুৎবা প্রদান করেন এবং বাদ মাগরিব সদর থানাধীন খাসবাগ আহলেহাদীছ জামে মসজিদে তা‘লীমী বৈঠকে বক্তব্য পেশ করেন। এসময় তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আব্দুল করীম এবং সহ-সভাপতি আতীকুর রহমান।

২৭শে জুন শনিবার পাঁজরভাঙ্গা, মান্দা, নওগাঁ : অদ্য বাদ মাগরিব যেলার মান্দা থানাধীন পাঁজরভাঙ্গা দারুলহাদীছ কমপ্লেক্স মাদ্রাসা ময়দানে এলাকা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে মাসিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি আফযাল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইজতেমায় কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম।

মাদ্রাসা উদ্বোধন

১লা জুলাই বুধবার রিশিকুল, গোদাগাড়ী, রাজশাহী : অদ্য সকাল ৯-টায় যেলার গোদাগাড়ী থানাধীন রিশিকুল ঈদগাহ হাফেযিয়া সালাফিইয়াহ মাদ্রাসা উদ্বোধন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অত্র মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি তাইয়্যেব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন রাজশাহী-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সহ-সভাপতি কামাল হোসাইন।

কেন্দ্রীয় দাঈর সফর

‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুল হামীদ গত ১৯-২১শে জুন রাজশাহী-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলার গোদাগাড়ী থানাধীন ঝিনা, উপরবিল্লী, বিবির ডাইং, সেরাপাড়া, পাঁচগাছিয়া ও কেশবপুর; ২৫-২৬ জুন ময়মনসিংহ-দক্ষিণ সাংগঠনিক যেলার মুক্তাগাছা থানাধীন চাঁনপুর, দুল্লা ও সদর থানাধীন গোলপুকুর পাড়; ২৬-২৯ জুন গাযীপুর-দক্ষিণ সাংগঠনিক যেলার সোহাদিয়া, সদর থানাধীন কাথোরা, ইপসা, মাস্টারবাড়ী ও জোলারপাড়; ২৯ জুন-১লা জুলাই নরসিংদী যেলার সদর থানাধীন চৌয়া, তেঁতুলিয়া, হাটখোলা, কেন্দুয়াব বাজার, পাঁচদোনা বাজার, সর্পনিগৈর, পাথরপাড়া, চাঁনগাঁও, পাইকারদী ও সৈকাদী; ২-৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জ যেলার সোনাগাঁও থানাধীন কোনাবাড়ী, মূসারচর, গণকবাড়ী, বস্ত্তল পশ্চিমপাড়া; রূপগঞ্জ থানাধীন পূর্বাচল ১নং সেক্টর, বাকবেড়, বালু দক্ষিণপাড়া, দেইলপাড়া ও নাওয়াড়া; ৪-৭ জুলাই ঢাকা-দক্ষিণ সাংগঠনিক যেলার বেরাইদ পূর্বপাড়া, চিনাদীপাড়া, ছোট বেরাইদ, আরাইদ্দাপাড়া, ভুঁইয়াপাড়া, টেকপাড়া, নাছিরাবাদ মধ্যপাড়া, নাছিরাবাদ, ত্রিমোহনী ও দোলেশ্বর এলাকায় তাবলীগী সফর করেন।

হাদীছ ফাউন্ডেশন

‘আশূরায়ে মুহাররম : ইতিহাস ও শিক্ষা’ শীর্ষক সেমিনার

২৪শে জুন বুধবার, নওদাপাড়া, রাজশাহী : নগরীর নওদাপাড়াস্থ আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফীর শিক্ষক মিলনায়তনে অদ্য বিকাল ৫টায় ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে প্রথমবারের মত ‘আশূরায়ে মুহাররম : ইতিহাস ও শিক্ষা’ বিষয়ক মাসিক গবেষণা সেমিনার-১ অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা বিভাগের পরিচালক এবং ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেম’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব। প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। প্যানেল আলোচক হিসাবে অংশগ্রহণ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম। অতঃপর প্রধান আলোচক আশূরার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, নবী-রাসূলগণের যুগে এর তাৎপর্য, আশূরার বিকৃত ইতিহাস, মুহাররম সংক্রান্ত অনৈসলামিক কার্যকলাপ এবং পরিশেষে সমকালীন জীবনে আশূরার শিক্ষা নিয়ে বিশদ আলোকপাত করেন। পরবর্তীতে প্যানেল আলোচক ও সভাপতি মহোদয় বিষয়টির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত শ্রোতামন্ডলীর বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর প্রদান করেন সম্মানিত আলোচকবৃন্দ, যা সেমিনারকে ইলমী আবহে আরো প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলে। উক্ত সেমিনারে গবেষণা বিভাগের গবেষকবৃন্দ ছাড়াও অত্র মারকাযের শিক্ষক, গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থী এবং জ্ঞানান্বেষী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সম্পূর্ণ সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা বিভাগের জুনিয়র গবেষণা সহকারী এবং কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মাদ আব্দুর রঊফ।

মারকায সংবাদ

নতুন প্রিন্সিপালের দায়িত্ব গ্রহণ

২রা জুলাই বৃহস্পতিবার নওদাপাড়া, রাজশাহী : অদ্য সকাল ১০-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নগরীর নওদাপাড়াস্থ আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফীর শিক্ষক মিলনায়তনে মারকাযের নতুন প্রিন্সিপাল হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সঊদী আরব শাখা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি হাফেয মুহাম্মাদ আখতার মাদানী। তার দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্ল­াহ আল-গালিব। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এবং মারকায নির্বাহী পরিচালনা কমিটির পরিচালক ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম, মারকাযের সেক্রেটারী মাওলানা দুররুল হুদা, ভাইস প্রিন্সিপাল ড. নূরুল ইসলাম প্রমুখ।

মৃত্যু সংবাদ

‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ সিরাজগঞ্জ যেলার শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও ৭নং সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মাদ আয়নুল হক (৭৯) গত ২৬শে জুন রোজ শুক্রবার সকাল ১০-টায় নিজ বাড়ীতে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজে‘ঊন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র ও ১ কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও সাংগঠনিক সাথী রেখে যান। পরদিন সকাল ১০-টায় তার নিজ বাসস্থান যেলার কাযীপুর থানাধীন পশ্চিম দুবলাই সামাজিক গোরস্থান সংলগ্ন ময়দানে তার জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র মুহাম্মাদ আল-আমীন। জানাযা শেষে তাকে উক্ত গোরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযায় যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ মুর্তাযা, সহ-সভাপতি শফীউল ইসলাম, ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি রাসেল মাহমূদসহ যেলা ‘আন্দোলন’, ‘যুবসংঘ’ ও ‘সোনামণি’র দায়িত্বশীল, কর্মী এবং বিপুল সংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

[আমরা মৃত ব্যক্তির রূহের মাগফিরাত কামনা করছি ও শোকহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি-সম্পাদক]

প্রশ্ন (১/৪০১) : পিতা যদি গুনাহে জারিয়ার পথ খোলা রাখা অবস্থায় মারা যায়, তাহ’লে পুত্রের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ প্রথম কাজ কোনটি হবে? পিতার জন্য ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ করা নাকি গুনাহের পথ বন্ধ করা? এক্ষেত্রে যতদিন এই গুনাহ চালু থাকবে, ততদিন পর্যন্ত কি পিতার কবরে আযাব হ’তে থাকবে?

-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : প্রথমে গুনাহে জারিয়া বা চলমান গুনাহের পথ বন্ধ করতে হবে। এরপর ছাদাক্বায়ে জারিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘ফলে ক্বিয়ামতের দিন ওরা পূর্ণমাত্রায় বহন করবে ওদের পাপভার এবং যাদেরকে ওরা অজ্ঞতা বশে বিভ্রান্ত করেছে তাদের পাপভার। দেখ কতই না নিকৃষ্ট সে ভার, যা তারা বহন করবে’ (নাহল ১৬/২৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ভ্রষ্টতার দিকে আহবান করে, তার জন্য থাকবে তার অনুসারীদের সমপরিমাণ গুনাহ। তবে এতে তাদের গুনাহের কোন অংশ কমবে না’ (মুসলিম হা/২৬৭৪; মিশকাত হা/১৫৮)। আর কোন ব্যক্তি পাপ কাজ চলমান রেখে মারা গেলে তার কবরে আযাব হ’তে থাকবে। যেমন পৃথিবীতে কোন মানব হত্যা হ’লে সে গুনাহের একটি অংশ আদম (আঃ)-এর বড় সন্তান ক্বাবীলের আমলনামায় যোগ হবে (বুখারী হা/৩৩৩৫; মিশকাত হা/২১১)

প্রশ্ন (২/৪০২) : অনেকের ধারণা নবী করীম (ছাঃ)-এর স্মৃতিবিজড়িত স্থান বি’রে শিফা‘ বা আরোগ্যের কূপ-এর পানি পান করলে আরোগ্য লাভ হয়। উক্ত বিশ্বাস কি সঠিক?

-বায়েযীদ ইসলাম আলাভী, গাযীপুর।

উত্তর : বি’রে শিফা’র পানি পান করলে বিশেষভাবে আরোগ্য লাভ হবে এ বিশ্বাসের কোন শারঈ ভিত্তি নেই। এই নামে কোন কূপের কথা বিশুদ্ধ কোন কিতাবে পাওয়া যায় না। বরং কেউ কেউ বি’রে ইয়াসীরা নামে এক কূপের কথা বলেছেন যার পূর্ব নাম ছিল আশীরা। এটা আবার বি’রুল ইহন নামেও পরিচিত। অনেকে এটাকেই বি’রে শিফা নামে অভিহিত করেছেন। অতএব সকলের উচিত রোগমুক্তির জন্য আল্লাহ্র কাছে দো‘আ করা, বৈধ চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং যেসব বিষয়ে শরী‘আতে শিফার ফযীলত প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোর ওপর নির্ভর করা। ভিত্তিহীন বরকতের বিশ্বাস করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক (আলবানী, আত-তাওয়াসসুল পৃ. ১৪৭)

প্রশ্ন (৩/৪০৩) : স্ত্রীর উপার্জন হারাম মিশ্রিত। কিন্তু তা স্বামীর সংসারে ব্যয় করেন না। সম্পূর্ণ আয় স্ত্রীর পিতা-মাতার সংসারে ব্যয় হয়। এক্ষেত্রে স্বামী কোনভাবে দায়ী হবেন কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : স্ত্রীর উপার্জন হারাম-মিশ্রিত হ’লে শুধু এ কারণে স্বামী দায়ী হবেন না (আন‘আম ৬/১৬৪; নাজম ৫৩/৩৯)। তবে তিনি যদি হারাম কাজে সহযোগিতা করেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকেন

বা তা অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করেন, তাহ’লে সেই সহযোগিতার কারণে তিনি গুনাহগার হবেন (মায়েদাহ ৫/২)। উল্লেখ্য যে, হারাম পন্থায় উপার্জন করা মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ। কারণ খাদ্য-বস্ত্র হারাম হ’লে ইবাদত কবুল হবে না (মুসলিম হা/১০১৫; মিশকাত হা/২৭৬০)

প্রশ্ন (৪/৪০৪) : জনৈক আলেম বলেন, আলী (রাঃ) ইবনু আববাস (রাঃ)-এর পা ছুঁয়ে সালাম করেছেন। এর সত্যতা আছে কি এবং এরূপ করা যাবে কি?

-আবু রায়হান, পলাশবাড়ী, নওগাঁ।

উত্তর : এ মর্মে বর্ণিত আছারটি যঈফ (আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৯৭৬, সনদ যঈফ)। পা ছুঁয়ে সালাম করা শরী‘আত পরিপন্থী কাজ এবং এটি বিধর্মীদের রীতি-নীতির অনুকরণ মাত্র। বরং সাক্ষাতে কেবল সালাম বিনিময় করবে। একদা আনাস (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের কেউ যখন তার বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সে কি তার জন্য মাথা ঝুঁকাবে? তিনি বললেন, না। আনাস (রাঃ) বললেন, তবে কি তাকে জড়িয়ে ধরবে বা কোলাকুলি করবে বা চুমু খাবে? তিনি বললেন, না। বরং তার সাথে মুছাফাহা করবে (তিরমিযী হা/২৭২৮, ইবনু মাজাহ হা/৩৭০২, মিশকাত হা/৪৬৮০; ছহীহাহ হা/১৬০)

প্রশ্ন (৫/৪০৫) : ওষুধের মধ্যে যে জিলাটিন ব্যবহার করা হয় তা যদি হারাম প্রাণী থেকে তৈরীকৃত হয় তাহ’লে সেই ঔষুধ খাওয়া যাবে কি?

-শরীফ, কিশোরগঞ্জ।

উত্তর : জিলাটিন হ’ল প্রাণীর দেহের কোলাজেন নামক এক ধরনের প্রোটিনজাত পদার্থ। ক্যাপসুলের খোসা বা বিভিন্ন সিরাপ ও ট্যাবলেটে জিলাটিনের ব্যবহার খুবই সাধারণ। এক্ষণে জিলাটিন হালাল প্রাণী থেকে তৈরী হয়ে থাকলে তা ব্যবহার করা যাবে, তবে হারাম প্রাণী যেমন শূকরের চর্বি থেকে তৈরী হয়ে থাকলে তা নিষিদ্ধ’ (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২২/২৬০)।। তবে বিকল্প হালাল ও কার্যকর ওষুধ পাওয়া না গেলে হারাম প্রাণী থেকে তৈরী জিলাটিন বাধ্যগত অবস্থায় ব্যবহার করা যেতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘অতঃপর কেউ যদি নিরুপায় হয়ে পড়ে, অবাধ্যতা বা সীমালঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে নয়, তবে তার কোন গুনাহ নেই’ (বাকবারাহ ২/১৭৩)। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের সচেতনতার কারণে অনেক ওষুধ কোম্পানী এখন হালাল জিলাটিন কিংবা উদ্ভিদ থেকে তৈরী ক্যাপসুল (যেমন : HPMC সেলুলোজ দিয়ে তৈরী ক্যাপসুল) ব্যবহার করছে। তাই সম্ভব হ’লে ওষুধ কেনার সময় বা ডাক্তারের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন নেওয়ার সময় হালাল বা ভেজিটেরিয়ান বিকল্প আছে কিনা তা জেনে নেওয়া উত্তম।

প্রশ্ন (৬/৪০৬) : কিছু মাদ্রাসায় আরবী বিষয়ে পুরুষ আলেম এবং সাধারণ বিষয়ে নারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রশাসনিক প্রয়োজনে নারী-পুরুষ শিক্ষকরা একসঙ্গে বৈঠকও করেন। এভাবে নারী শিক্ষকদের নিয়োগ ও নারী-পুরুষ একত্রে বসে যৌথ সভা করা শরী‘আতের দৃষ্টিতে কতটুকু বৈধ?

-আব্দুল্লাহ, ঢাকা।

উত্তর : একই প্রতিষ্ঠানে পুরুষ ও নারীদের অবাধে মিশে চাকুরী করা শরী‘আত সম্মত নয়। কেননা এতে নৈতিক অবক্ষয় এবং কুপ্রবৃত্তি জাগ্রত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে, যা শেষ পর্যন্ত অশ্লীলতা ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার দিকে ধাবিত করে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১২/১৬৪-৬৫)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর তোমরা যখন তাদের (নবী-পত্নীদের) কাছে কোন ব্যবহারের সামগ্রী চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার মাধ্যম’ (আহযাব ৩৩/৫৩)। তবে বাধ্যগত অবস্থায় এরূপ প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতে হ’লে পূর্ণ শারঈ পর্দা বজায় রাখতে হবে (ওছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ২৩/২)। সেক্ষেত্রে পৃথক অফিস, পৃথক স্টাফ রুম, অনলাইন বা পর্দাসহ বৈঠক এবং পারস্পরিক যোগাযোগের ব্যবস্থা সীমিত রাখা প্রভৃতি ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক। এতে শরী‘আতের উদ্দেশ্য বজায় রেখে প্রাতিষ্ঠানিক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়। আর কোন প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা থাকলে সেখানে তাদের চাকুরীতে কোন বাধা নেই।

প্রশ্ন (৭/৪০৭) : আমি নৌবাহিনীতে চাকরি করি। আমাদের প্রতিদিন এক প্যাকেট করে সিগারেট দেওয়া হয়। চাইলে আমি তা গ্রহণ করতে পারি, আবার নাও করতে পারি। এ অবস্থায় সিগারেটটি নিয়ে নিজে ব্যবহার না করে যদি বিক্রি করে সেই অর্থ অন্য প্রয়োজনে ব্যয় করি, তাহ’লে তা হালাল হবে কি?

-তওসীফ আহমাদ, পতেঙ্গা চট্টগ্রাম।

উত্তর : গ্রহণ করবে না। বরং সরাসরি ফিরিয়ে দিবে। কারণ নিজে ধূমপান না করে তা বিক্রি করে সেই অর্থ গ্রহণ করা হারাম। আর যা খাওয়া হারাম, তা থেকে উপকার গ্রহণ করাও হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন জাতির ওপর কোন বস্ত্ত খাওয়া (বা ব্যবহার করা) হারাম করেন, তখন তার মূল্য (কেনা-বেচা করে অর্থোপার্জন করাও) তাদের জন্য হারাম করে দেন’ (আহমাদ হা/২২২১; ছহীহুল জামে‘ হা/৫১০৭)

প্রশ্ন (৮/৪০৮) : আমি স্বপ্নে খুব বেশী অশ্লীল দৃশ্য দেখি। এর কারণ কি? এজন্য কি আমি গুনাহগার হব?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, রাজশাহী।

উত্তর : স্বপ্নে অশ্লীল দৃশ্য দেখার জন্য ব্যক্তি গুনাহগার হবে না। কারণ মানুষ ঘুমের মধ্যে তার স্বপ্নের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে না। আর রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির থেকে (আমল লেখার) কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে... তাদের একজন হ’ল ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জেগে ওঠে’ (আবুদাউদ হা/৪৩৯৮; মিশকাত হা/৩২৮৭)। তবে জাগ্রত অবস্থায় যা দেখে, চিন্তা করে বা যে অভ্যাস গড়ে তোলে সে সবকিছু স্বপ্নের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এগুলোর সাথে বাস্তবে জড়িত থাকলে অবশ্যই সে গুনাহগার হবে। সেই সাথে কুচিন্তা মনে আসলে তা সাধ্যমত দূর করতে হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘স্বপ্ন তিন প্রকার : (১) আল্লাহ্র পক্ষ থেকে সুসংবাদমূলক স্বপ্ন, (২) শয়তানের পক্ষ থেকে দুঃখ দেওয়ার জন্য স্বপ্ন, (৩) মানুষ জাগ্রত অবস্থায় যা নিয়ে বেশী চিন্তা করে, তার প্রতিফলন’ (মুসলিম হা/২২৬৩)। রাত্রিতে শোয়ার সময় চার কুল এবং আয়াতুল কুরসী পড়বেন এবং আল্লাহ্র কাছে একনিষ্ঠ চিত্তে দো‘আ করবেন, তিনি যেন অন্যায় স্বপ্ন থেকে হেফাযত করেন। এভাবে করতে থাকলে দ্রুত সময়ে অশ্লীল স্বপ্ন থেকে মুক্তি পাবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন (৯/৪০৯) : আমার এক মহিলা আত্মীয় তাঁর মেয়ের জামাইকে সঙ্গে নিয়ে ওমরাহ পালন করতে চান। তবে তিনি বাংলাদেশ থেকে এবং তাঁর জামাই লন্ডন থেকে সঊদী আরবে যাবেন। সেখানে গিয়ে তাঁদের সাক্ষাৎ হবে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে একা সফর করে পরে সঊদী আরবে মাহরামের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এই পদ্ধতিতে তাঁর ওমরা করা যাবে কি?

-আব্দুছ ছামাদ, সিলেট।

উত্তর : বাংলাদেশ থেকে একদল নারী বা পূর্ণ নিরাপদ কাফেলার সাথে সঊদী আরবে ওমরার উদ্দেশ্যে যাতায়াত করলে তা জায়েয হবে ইনশাআল্লাহ। শর্ত হ’ল অবশ্যই কোন নির্ভরযোগ্য ওমরাহ গ্রুপ বা বিশ্বস্ত কাফেলার সাথে ভ্রমণ করতে হবে। হাত্তাব (রহঃ) বলেন, যদি হজ্জে যাওয়ার জন্য নারীর কোন মাহরাম বা স্বামী না থাকে, তবে কোন বিশ্বস্ত ও নিরাপদ কাফেলার সাথে তার জন্য ফরয হজ্জ আদায় করার উদ্দেশ্যে বের হওয়া জায়েয (মাওয়াহিবুল জালীল ২/৫২১)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) সহ আধুনিক যুগের একদল বিশিষ্ট বিদ্বান বিশস্ত নারীর দলে ও পুরুষের পূর্ণ নিরাপদ কাফেলায় মহিলাদের ওমরাহ সফরে যাওয়াকে বৈধ মনে করেন (শরহুল উমদাহ ১/১৭৬; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২৩/২১৪, ২৯/৪৯; মুহাম্মাদ আলী আল-ফারকূস, আল-কালিমাতুশ শাহরিয়া ৮৫)

প্রশ্ন (১০/৪১০) : একজন মুসলিম নারী কি বিবাহের সময় কাবিননামায় এমন শর্ত রাখতে পারবেন যে, তার স্বামী তাঁর জীবদ্দশায় অন্য কোন নারীকে বিয়ে করতে পারবেন না?

-তাহামিম রহমান, মগবাজার, ঢাকা।

উত্তর : আল্লাহ তা‘আলা স্বামীর জন্য দুই, তিন বা চার পর্যন্ত বিবাহ বৈধ করেছেন (নিসা ৪/৩)। প্রশ্নে বর্ণিত শর্ত পবিত্র কুরআনের উক্ত সাধারণ অনুমতির পরিপন্থী। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কোন শর্ত আরোপ করে, যা আল্লাহ্র কিতাবে নেই, তা বাতিল; যদিও তা একশত শর্ত হয়। আল্লাহ্র শর্তই অধিক সত্য ও অধিক দৃঢ়’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৮৭৭)। তবে ইবনু কুদামা সহ একদল বিদ্বান মনে করেন, মুসলিম নারী বিবাহের সময় এ শর্ত রাখতে পারেন যে, স্বামী তার জীবদ্দশায় দ্বিতীয় বিবাহ করবেন না। স্বামী যদি এ শর্ত মেনে বিবাহ করেন, তবে তার জন্য তা পূরণ করা ওয়াজিব। তবে যদি তিনি শর্ত ভঙ্গ করে দ্বিতীয় বিবাহ করেন, তাহ’লে দ্বিতীয় বিবাহ বাতিল হবে না; বরং প্রথমা স্ত্রী, স্বামীর শর্ত ভঙ্গের কারণে বিচারকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন (মুগনী ৭/৯৩; ফিক্বহুস সুন্নাহ ২/১১২; আশ-শারহুল মুমতে‘ ৫/২৪৩)

প্রশ্ন (১১/৪১১) : অপরাধীকে গণপিটুনি দেওয়া কি ইসলামে বৈধ? অনেক সময় শুধু সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কাউকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা পর্যন্ত করে ফেলে। ইসলামী শরী‘আতে এ ধরনের গণপিটুনি ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বৈধ কি?

-গোলাম রাববী, বরিশাল।

উত্তর : ইসলামে গণপিটুনি (Mob Justice) সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। গণপিটুনির মাধ্যমে কোন নিরপরাধ মানুষ মারা গেলে ইসলামী রাষ্ট্র ক্বিছাছ হিসাবে জড়িত সবাইকে মৃত্যুদন্ড দিতে পারবে (বাক্বারাহ ২/১৭৮; নববী, আল-মাজমূ‘ ২০/৩৪)। কেননা কোন ব্যক্তি অপরাধী হ’লেও তাকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই। অপরাধ প্রমাণ, বিচার এবং শাস্তি কার্যকর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে মারধর করা বা হত্যা করা আরও জঘন্য অপরাধ। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য সত্য সাক্ষ্য দানে অবিচল থাক এবং কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে অবিচারে প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার কর, যা আল্লাহভীতির সর্বাধিক নিকটবর্তী’ (মায়েদাহ ৪/৮)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মানুষকে যদি কেবল তাদের দাবীর ভিত্তিতেই সবকিছু দিয়ে দেওয়া হ’ত, তাহ’লে কিছু মানুষ অন্য মানুষের জীবন ও সম্পদ দাবী করে বসত। কিন্তু ইসলামী বিধানে প্রমাণ পেশ করার দায়িত্ব দাবীদারের, আর যে তা অস্বীকার করবে, তার উপর শপথ ওয়াজিব হবে’ (বুখারী হা/৪৫৫২; মিশকাত হা/৩৭৫৮)

প্রশ্ন (১২/৪১২) : মযলূম ব্যক্তি যদি কাফের হয়, তাহ’লে তার বদ দো‘আর কারণে কোন মুসলিম পাপী হবে কি বা তার কোন ক্ষতি হবে কি?

-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : হ্যাঁ পাপী হবে বা ক্ষতিগ্রস্ত হ’তে পারে। আর কোন অমুসলিম যদি মুসলিম দ্বারা অত্যাচারিত হয় আর সে বদদো‘আ করে তাহ’লে সেই মযলূমের বদদো‘আ আল্লাহ্র কাছে কবুল হ’তে পারে। এর ফলে যালিম মুসলিম দুনিয়া বা আখেরাতে শাস্তি পেতে পারে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা যুলুমকে হারাম করেছেন এবং মযলূমের দো‘আ মুসলিম-অমুসলিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেননি। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মযলূমের বদদো‘আ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা তার দো‘আ এবং আল্লাহ্র মাঝে কোন পর্দা নেই’ (বুখারী হা/১৪৯৬; মিশকাত হা/১৭৭২)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তোমরা মাযলূমের বদদো‘আ থেকে বেঁচে থাক, সে যদি কাফেরও হয়। কারণ তার বদদো‘আ এবং আল্লাহ্র মাঝে কোন আড়াল বা পর্দা থাকে না’ (ছহীহাহ হা/৭৬৭, ২২২৯)। অন্য বর্ণনায় ফাজের বা পাপাচারীর কথাও বলা হয়েছে (ছহীহুত তারগীব হা/২২২৯)

প্রশ্ন (১৩/৪১৩) : কুরআনী বিধান অনুযায়ী কোন নারী ব্যভিচারে লিপ্ত হ’লে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে ৪ জন পুরুষ সাক্ষী হাযির করা আবশ্যক। কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে যদি কোন সাক্ষী না থাকে, তাহ’লে অপরাধীর বিচারকার্য কিভাবে সম্পন্ন হবে?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : ব্যভিচার এবং ধর্ষণ দু’টি ভিন্ন অপরাধ। ব্যভিচারের ক্ষেত্রে চারজন পুরুষ সাক্ষীর যে শর্ত রয়েছে, ধর্ষণের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। কারণ ধর্ষণ একটি সহিংস অপরাধ ও যুলুম। তাই তার প্রমাণ ও অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য বিচারক পরিস্থিতি অনুযায়ী যে কোন পন্থা অবলম্বন করতে পারেন। যেমন অপরাধীর স্বীকারোক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষ্য, শক্তিশালী পারিপার্শ্বিক প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও শারীরিক আলামত, আধুনিক যুগে ডিএনএ পরীক্ষা সহ অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ গ্রহণযোগ্য, যদি বিচারক তা নির্ভরযোগ্য মনে করেন (দ্র. বুখারী হা/৬৮৩০; মুসলিম হা/১৬৯১; মিশকাত হা/৩৫৫৭)

প্রশ্ন (১৪/৪১৪) : শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রহণ করা যাবে কি? এজেন্ট হিসাবে অ্যাকাউন্ট খোলা, ফিক্সড ডিপোজিট, জমা-উত্তোলন, টাকা স্থানান্তরসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবার বিপরীতে কমিশন দেওয়া হয়; তবে কোন ঋণ কার্যক্রম থাকে না। এক্ষেত্রে আমি এজেন্সি নিতে পারব কি?

-গোলাম কবীর, সেনবাগ, নোয়াখালী।

উত্তর : বাংলাদেশে কোন ব্যাংকই শতভাগ সূদমুক্ত নয়। তাই সব ধরনের ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। কারণ বাহ্যিকভাবে ঋণের কার্যক্রম না থাকলেও এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে সূদী বা সূদভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে সহযোগিতা করা হয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৩/৩১০, ৩৬৫)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ ৫/২)

প্রশ্ন (১৫/৪১৫) : আমার পিতা নিয়মিত ছালাত আদায় করেন না এবং আমার পরিবারের প্রায় সকলেই কবিরাজ বা হিন্দু তান্ত্রিকের কাছে গিয়ে জাদু-টোনা করান। কিছুদিন আগে আমার জন্য একজন দ্বীনদার পাত্রের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে। আমি ঐ পাত্রকেই বিয়ে করতে আগ্রহী। কিন্তু পিতা এতে রাযী নন। এমতাবস্থায় আমি আমার কোন নিকটাত্মীয়কে সাক্ষী রেখে নিজের সিদ্ধান্তে ঐ ছেলেকে বিয়ে করতে পারব কি?

-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে পিতার অনুমতি আবশ্যক। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে নারী অভিভাবক ছাড়া বিয়ে করল তার বিয়ে বাতিল, বাতিল, বাতিল’ (তিরমিযী হা/১১০২; আবুদাঊদ হা/২০৮৩; মিশকাত হা/৩১৩১)। তবে দুনিয়াবী কারণে পিতা মেয়ের বিবাহ দিতে টালবাহানা করলে এবং তা সুস্পষ্ট হ’লে সাবালিকা মেয়ে গুনাহ থেকে মুক্ত থাকার সৎ নিয়তে পরবর্তী অভিভাবক তথা দাদা, ভাই, চাচার অভিভাবকত্বে বা আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হ’তে পারে। কিন্তু কোনভাবেই নিজের অসৎ মনস্কামনা পূরণার্থে পিতাকে পাশ কাটিয়ে অন্যকে অলী বানিয়ে বিবাহ করা যাবে না (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৭/৭-৮; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৮/১৪৭)

প্রশ্ন (১৬/৪১৬) : কবরে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্বাতীফা বা মখমল/রেশমী কাপড় দেওয়া যাবে কি? ছহীহ মুসলিমে রাসূল (ছাঃ)-এর কবরে লাল ক্বাতীফা দেওয়ার ঘটনা এসেছে। এটি কি শুধু তাঁর জন্য খাছ ছিল, নাকি সাধারণ মুসলিমদের জন্য জায়েয?

-তাজমুল খান, পূর্ব বর্ধমান, ভারত।

উত্তর : মৃত ব্যক্তির কবরে লাল ক্বাতীফা (قَطِيفَة) বা মখমল কাপড় বিছানো সুন্নাত নয়। বরং অধিকাংশ বিদ্বানের মতে এটি অপ্রয়োজনীয় এবং মাকরূহ। কারণ রাসূল (ছাঃ)-এর কবরে সেটা দেওয়া হয়েছিল বিশেষ কারণে। ইমাম নববী বলেন, বিজ্ঞ আলেমদের মতে, রাসূল (ছাঃ)-এর মুক্তদাস শুক্বরান (রাঃ) মূলত নিজের ব্যক্তিগত মতের ভিত্তিতেই এটি করেছিলেন। ছাহাবীগণের মধ্য থেকে কেউ তাঁর এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হননি এবং তাঁরা তার এই কাজটির কথা জানতেনও না (মির‘আত ৫/৪২৭)। তিনি আরো বলেন, এই মখমলের চাদরটি শুক্বরান (রাঃ) কবরের নীচে ফেলেছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, ‘রাসূল (ছাঃ)-এর পর এটি অন্য কেউ পরিধান বা ব্যবহার করুক তা আমি পসন্দ করি না’ (শরহ মুসলিম ৭/৩৪)। আবার কোন কোন বিদ্বান এটাকে রাসূলের জন্য খাছ মনে করেন। আবার কেউ বলেন, এটা বের করে নেওয়া হয়েছিল (মির‘আত ৫/৪২৭)। ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি মৃত ব্যক্তির নীচে তার কবরে কোন কাপড় বা চাদর বিছানোকে অপসন্দ করতেন (বায়হাকবী, হা/৬৭২২; তোহফা ৪/১২৭)। অতএব উক্ত হাদীছ দ্বারা কবরে চাদর বিছানোর দলীল নেওয়া যাবে না।

প্রশ্ন (১৭/৪১৭) : আমি একজন দ্বীনদার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ মেয়ের পর্দা দেখে দ্বীনদারী বুঝা যায় না। এক্ষেত্রে একজন দ্বীনদার স্ত্রী পাওয়ার জন্য আমি কি কি আমল করব এবং পাত্রীর বাহ্যিক কি কি বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করব?

-মুহাম্মাদ হানীফ, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : দ্বীনদার স্ত্রী লাভের জন্য সর্বপ্রথম আল্লাহ্র কাছে আন্তরিকভাবে দো‘আ করতে হবে। পাত্রীর বিশুদ্ধ আকবীদা ও আমল, পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের প্রতি যত্নশীলতা, শারঈ পর্দার প্রতি আন্তরিকতা, কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণের আগ্রহ, উত্তম আখলাক, সত্যবাদিতা, লজ্জাশীলতা, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ এবং দ্বীনদার পরিবেশে বেড়ে ওঠা ইত্যাদি বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া যরূরী। এক্ষেত্রে তার আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বিশ্বস্ত দ্বীনদার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে পাত্রেরও উচিত নিজের ঈমান, তাকবওয়া ও চরিত্র সংশোধনের চেষ্টা করা। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘পবিত্র নারীরা পবিত্র পুরুষদের জন্য’ (নূর ২৪/২৬)। এক্ষণে বিয়ের জন্য কোন নারীর সন্ধান পেলেও ইস্তেখারার মাধ্যমে প্রকৃত দ্বীনদার পাত্রী পেতে আল্লাহ্র সাহায্য কামনা করতে হবে। কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়, আল্লাহ তার জন্য উত্তম জীবনসঙ্গীর ব্যবস্থা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ (বিস্তারিত দ্র. ‘দ্বীনদার জীবনসঙ্গী লাভের উপায় ও করণীয়’, আত-তাহরীক, নভেম্বর ২০২৫; ‘বিবাহ, পরিবার ও সন্তান প্রতিপালন’ বই)

প্রশ্ন (১৮/৪১৮) : হাদীছে এসেছে যে, ক্বিয়ামত জুম‘আর দিনে সংঘটিত হবে। প্রশ্ন হ’ল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেহেতু জুম‘আর দিন একসাথে শুরু হয় না, তাহ’লে কোন দেশের সময় অনুযায়ী জুম‘আর দিন ধরা হবে?

-ছাববীর আহমাদ, বগুড়া।

উত্তর : ‘কিবয়ামত জুম‘আর দিন সংঘটিত হবে। হাদীছে যেভাবে এসেছে সেভাবেই বিশ্বাস করতে হবে। এক্ষণে আল্লাহ তা‘আলা এমন সময়েই কিবয়ামত সংঘটিত করবেন, যা তাঁর হিকমতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যে মুহূর্তে পৃথিবীর কোন অংশে জুম‘আর দিন বিদ্যমান থাকবে। তাই এ বিষয়ে কোন দ্বন্দ্ব বা বিরোধ নেই। ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়া আল্লাহ তা‘আলার গায়েবী জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত, যা তিনি ছাড়া অন্য কেউ জানে না। আর কিবয়ামত কায়েম হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে রাত ও দিন, সূর্য ও চন্দ্র এবং নক্ষত্রমন্ডলী ও গ্রহ-নক্ষত্রের কক্ষপথসহ এই মহাবিশ্বের বর্তমান নিয়ম-শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যাবে। সুতরাং সেই দিনটিকে আমাদের এই দুনিয়ার সাধারণ দিনগুলোর সাথে পরিমাপ বা তুলনা করা যাবে না।

মূলত পৃথিবীতে সময় অঞ্চল (টাইম জোন) তৈরী হয় সূর্যের আপেক্ষিক অবস্থান এবং পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর ঘূর্ণনের (আহ্নিক গতি) হিসাবে। কিন্তু ক্বিয়ামতের দিন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে অর্থাৎ পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি থমকে যাবে বা উল্টো হয়ে যাবে। ফলে বর্তমানের ২৪ ঘণ্টার টাইম জোনভিত্তিক দিন-রাতের যে নিয়ম আমরা জানি, তা ক্বিয়ামতের সময় আর কার্যকর থাকবে না।

প্রশ্ন (১৯/৪১৯) : রাসূল (ছাঃ)-কে স্বপ্নে দেখার নির্দিষ্ট কোন আমল আছে কি? বেশী বেশী দরূদ পাঠ করলে রাসূল (ছাঃ)-কে স্বপ্ন দেখা যাবে কি? আর তাঁকে স্বপ্নে দেখার বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি?

-আশিক আল-গালিব, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ)-কে স্বপ্নে দেখার বিষয়টি ছহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। তবে তাঁকে স্বপ্নে দেখতে পাওয়ার জন্য কোন আমল হাদীছে বর্ণিত হয়নি। অনুরূপভাবে রাসূল (ছাঃ)-কে স্বপ্নে দেখার ফযীলত সম্পর্কে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে রাসূল (ছাঃ) এতটুকু বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে আমাকেই দেখল। কারণ শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না’। অথবা তিনি বলেছেন, ‘সে আমার সাদৃশ্য গ্রহণ করতে পারে না’ (বুখারী হা/৬৯৯৩; মিশকাত হা/৪৬১১)। উল্লেখ্য যে, রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতি অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠ করা, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা, তাক্বওয়া অবলম্বন করা এবং আল্লাহ্র নিকট আন্তরিকভাবে এজন্য দো‘আ করা নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ। কিন্তু এগুলোকে রাসূল (ছাঃ)-কে স্বপ্নে দেখার নিশ্চিত উপায় মনে করা যাবে না। আরো উল্লেখ্য যে, রাসূল (ছাঃ)-কে স্বপ্নে দেখা নিঃসন্দেহে ভালো স্বপ্ন। আর ভালো স্বপ্ন একান্ত কাছের মানুষ ছাড়া অন্যের সামনে প্রকাশ করা সমীচীন নয়। সুতরাং যারা রাসূলকে স্বপ্নে দেখেছে বলে প্রচার করে নিজেকে ওলী দাবী করে তারা নিতান্তই বিভ্রান্ত।

প্রশ্ন (২০/৪২০) : ইসলামে ইয়াতীমের সংজ্ঞা জানতে চাই। পিতা-মাতার যেকোন একজন মৃত্যুবরণ করলেই কি তাকে ইয়াতীম বলা যাবে? কত বছর পর্যন্ত কাউকে ইয়াতীম গণ্য করা যাবে?

-আব্দুর রাক্বীব, রাজশাহী।

উত্তর : ইসলামী শরী‘আতের পরিভাষায় ইয়াতীম বলা হয় যে শিশুর পিতা তার বালেগ হওয়ার পূর্বেই মারা গেছে। শুধু মায়ের মৃত্যু হ’লে শারঈ অর্থে তাকে ইয়াতীম বলা হয় না (বাগাভী, শারহুস সুন্নাহ ৯/২০০)। আর যখন সে বালেগ হয়ে যায়, তখন তার থেকে ইয়াতীমের বিধান উঠে যায়, যদিও সাধারণ কথাবার্তায় তাকে ইয়াতীম বলা হ’তে পারে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘সাবালক হওয়ার পর আর কোন ইয়াতীমত্ব থাকে না’ (আবুদাউদ হা/২৮৭৩; ছহীহাহ হা/৩১৮০)

প্রশ্ন (২১/৪২১) : ইসলামী বই রচনার ক্ষেত্রে কপিরাইটের শারঈ বিধান কি? অন্য কোন লেখকের বই থেকে তথ্য বা লেখা গ্রহণ করে যদি তার সূত্র উল্লেখ না করা হয় এবং তা নিজের নামে প্রকাশ করা হয়, তাহ’লে তা কি শরী‘আতের দৃষ্টিতে প্রতারণা বা স্বত্ব লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য হবে?

-মা‘রূফ হাসান, রাজশাহী।

উত্তর : ইসলামী শরী‘আতে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বত্ব ও রচনাস্বত্ব একটি সম্মানজনক অধিকার। তাই কোন লেখকের বই, গবেষণাকর্ম বা লেখা থেকে তথ্য, বিশ্লেষণ বা ভাষা গ্রহণ করে সূত্র উল্লেখ না করে নিজের নামে প্রকাশ করা শরী‘আতের দৃষ্টিতে প্রতারণা, মিথ্যা দাবী এবং মানুষের অধিকার লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত। তবে কুরআন, ছহীহ হাদীছ এবং সর্বজনবিদিত শারঈ তথ্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয়। কিন্তু অন্যের মৌলিক রচনা, গবেষণা, ভাষা ও বিন্যাস হুবহু নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বৈধ নয় (তাফসীরে কুরতুবী ১/৩)। আর কোন লেখকের কথা সংক্ষিপ্ত করে বা ব্যাখ্যামূলক নিজের বইয়ে উপস্থাপন করা দোষণীয় নয়। শাওকানী (রহঃ) বলেন, গ্রন্থ সংকলকদের চিরাচরিত স্বভাব বা নিয়ম সর্বদা এটি ছিল যে, পরবর্তী সময়ে আগত একজন লেখক তাঁর পূর্ববর্তী লেখকদের কিতাব বা আলোচনা থেকে সাহায্য নেবেন। অতঃপর তিনি তা থেকে সংক্ষেপ করবেন অথবা অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করবেন, কিংবা কোন বিষয়ে আপত্তি ও পর্যালোচনা পেশ করবেন; অথবা এজাতীয় অন্যান্য উদ্দেশ্য পূরণ করবেন, যা মূলত নতুন কোন গ্রন্থ রচনার মূল প্রেরণা বা ভিত্তি হিসাবে কাজ করে। আর এমন কে আছে, যে কোন বিষয়ে কলম ধরেছে আর সে পূর্ববর্তীদের লেখনী বা বক্তব্য থেকে কোন কিছু গ্রহণ করেনি? (আল-বাদরুত্ব ত্বালে‘ ১/৩৩৩)। অনুরূপভাবে পূর্ববর্তী লেখকদের কিতাব থেকে তথ্য, দলীল বা বক্তব্য গ্রহণ করা মোটেও দোষের নয়; বরং এটি জ্ঞানচর্চার একটি স্বাভাবিক ও চিরাচরিত নিয়ম। তবে শর্ত হ’ল, যার লেখা বা কিতাব থেকে সাহায্য নেওয়া হচ্ছে, আমানত দারিতার স্বার্থে অবশ্যই তার নাম ও কিতাবের সুস্পষ্ট উদ্ধৃতি উল্লেখ করতে হবে। সূত্র উল্লেখ না করে অন্যের গবেষণাকে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া ইলমী খেয়ানতের শামিল।

প্রশ্ন (২২/৪২২) : আমরা তিন ভাই পৃথকভাবে সংসার পরিচালনা করি এবং পিতা-মাতাও আলাদা থাকেন। আমরা সবাই মিলে তাঁদের ভরণ-পোষণের জন্য প্রতি মাসে একটি নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ দিয়ে থাকি। এ অবস্থায় আমাদের যাকাতের অর্থ পিতা-মাতাকে দেয়া যাবে কি?

-গুলযার হোসাইন, নওগাঁ।

উত্তর : পিতা-মাতার জন্য নিজ উপার্জিত সম্পদ থেকে খরচ করতে হবে, যাকাত থেকে নয়। এক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকটে এসে আরয করল, আমার সম্পদ আছে আর আমার পিতা আমার সম্পদের মুখাপেক্ষী। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘তুমি ও তোমার সম্পদ উভয়ই তোমার পিতার। নিশ্চয়ই তোমাদের সন্তানেরা তোমাদের সর্বোত্তম উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত। অতএব তোমরা তোমাদের সন্তানদের উপার্জন থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে ভক্ষণ কর’ (আবুদাউদ হা/৩৫৩০; মিশকাত হা/৩৩৫৪)। তবে পিতা-মাতা যদি ঋণগ্রস্ত হয়ে যান তাহ’লে যাকাতের সম্পদ থেকে তাদের ঋণ পরিশোধ করা যেতে পারে (ইবনুল মুফলেহ, হাশিয়াতুর রওয ৩/৩৩২; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৪/৩১১; ওছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১০/২)

প্রশ্ন (২৩/৪২৩) : ছেলেদের দাড়ি গজানো বা দাড়ি আরও ঘন করার উদ্দেশ্যে কোন ধরনের কেমিক্যাল বা ওষুধ ব্যবহার করা যাবে কি?

-মুহাম্মাদ রায়হান, ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : মুমিনের উচিত আল্লাহ তা‘আলা তার ভাগ্যে যা নির্ধারণ করেছেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকা। আর যে জিনিস অর্জন বা লাভ করার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তা জোরপূর্বক বা কৃত্রিম উপায়ে হাছিল করার জন্য তার কোন কষ্ট বা বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। আল্লাহ মানুষকে বৈচিত্র্যময় ও বিভিন্ন স্তরের করে সৃষ্টি করেছেন। ফলে তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার মুখে একেবারেই দাড়ি গজায় না, কারো দাড়ি উঠতে দেরি হয়, কারো দাড়ি হয় পাতলা, আবার কারো দাড়ি হয় ঘন। অতএব কারো মুখে দাড়ি না গজানোর কারণে তার গুনাহ হবে না এবং এতে মোটেও লজ্জা বা অপমানের কিছু নেই (ইবনু নাজীম, আল-বাহরুর রায়েক্ব ২/৩০২; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৪/৫৮)

প্রশ্ন (২৪/৪২৪) : আমি গোপনে দু’জন সাক্ষী ও এক মসজিদের ইমামের উপস্থিতিতে মেয়ের পিতার অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করি। বিয়ের প্রায় ২০ দিন পর স্ত্রীর ঋতুকালীন অবস্থায় তীব্র রাগের মাথায় এসএমএসে ৩ তালাক লিখে ফেলি। তবে আমার তালাক দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এসএমএসটি মুছে ফেলি। পরবর্তীতে জানতে পারি যে, অলীর অনুমতি ছাড়া বিয়ে বাতিল বলে গণ্য হয়। আমরা মাত্র তিন দিন স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে ছিলাম এবং বর্তমানে উভয়েই নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছি। আমরা দু’জনই বৈধভাবে সংসার করতে চাই। এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কি?

-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : উক্ত বিবাহ সম্পন্ন হয়নি এবং তালাকও হয়নি। কারণ বিবাহটি অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়াই হয়েছে এবং তাতে রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি নেই। আর রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে নারী তার অভিভাবকের (অলী) অনুমতি ছাড়া বিয়ে করবে, তার বিয়ে বাতিল, বাতিল, বাতিল’ (আবুদাউদ হা/২০৮৩; মিশকাত হা/৩১৩১)। সুতরাং তারা তাদের কৃত পূর্বের গুনাহের জন্য খালেছ নিয়তে তওবা করবে এবং উক্ত মেয়ের সাথে সংসার করতে চাইলে অভিভাবকের অনুমতি ও দু’জন ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষীসহ মোহর নির্ধারণ করে নতুনভাবে বিবাহ সম্পন্ন করতে হবে।

প্রশ্ন (২৫/৪২৫) : আমলে ছালেহ বা সৎকর্ম বলতে কি বুঝায়? সকল প্রকার ভালো কাজই কি সৎকর্মের অন্তর্ভূক্ত? কাউকে দুনিয়াবী কোন কাজে সহযোগিতা করা কি আমলে ছালেহ-এর অন্তর্ভুক্ত হবে?

-আশিক আল-গালিব, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : হ্যাঁ, কাউকে দুনিয়াবী কোন বৈধ কাজে সহযোগিতা করাও আমলে ছালেহ-এর অন্তর্ভুক্ত হ’তে পারে, যদি তা শরী‘আতসম্মতভাবে হয় এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ইবাদত হ’ল এমন একটি ব্যাপক শব্দ যা আল্লাহ তা‘আলা পসন্দ করেন এবং ভালোবাসেন এমন সমস্ত বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে (শরহ লামিয়াহ ৯/১৭)। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রতিটি ভালো বা কল্যাণকর কাজই এক একটি ছাদাক্বা বা দানস্বরূপ। আর অন্যতম একটি ভালো কাজ হ’ল তোমার ভাইয়ের সাথে হাসি মুখে সাক্ষাৎ করা এবং তোমার বালতি থেকে তোমার ভাইয়ের পাত্রে কিছু পানি ঢেলে দেওয়া তথা তাকে সাহায্য করা’ (বুখারী হা/৬০২১; মিশকাত হা/১৯১০)। অতএব আমলে ছালেহ কেবল ছালাত, ছিয়াম, যাকাত বা হজ্জের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শরী‘আতসম্মত প্রতিটি কাজ, যা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়। তাই মানুষের দুনিয়াবী বৈধ প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করাও আমলে ছালেহ এবং ছওয়াবের কাজ, যদি তা নেক নিয়তে হয়।

প্রশ্ন (২৬/৪২৬) : আল্লাহ সকল ভাষাই বুঝেন, তিনি মনের ভাষাও বুঝেন। তাহ’লে দো‘আ আরবীতে করার পিছনে হিকমত কি?

-ছাফা আদুরী, নরসিংদী।

উত্তর : ছালাতের মধ্যে কুরআন ও হাদীছে বর্ণিত দো‘আ সমূহ পাঠের নির্দেশনা রয়েছে। কারণ ছালাতে মানুষ নিজ ভাষায় কথা বলতে পারেনা (মুসলিম হা/৫৩৭; মিশকাত হা/৯৭৮)। এক্ষণে সর্বাবস্থায় আল্লাহ্র নিকটে আরবীতে দো‘আর পিছনে নিম্নোক্ত হিকমত সমূহ থাকতে পারে। যেমন : প্রথমত এর মাধ্যমে উম্মতের বিশ্বজনীন ঐক্য ফুটে ওঠে, যার মাধ্যমে একই ভাষায় সবাই তাদের রবের কাছে প্রার্থনা করে। দ্বিতীয়ত কুরআন ও সুন্নাহ্র ভাষায় দোআ করা হয়, যা সর্বাধিক অর্থপূর্ণ ও সারগর্ভ। তৃতীয়ত আরবী ভাষায় কুরআন ও সুন্নাহ নাযিল হয়েছে, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পসন্দনীয় ভাষা। চতুর্থত আরবী দো‘আ অর্থ বুঝে পাঠ করলে তা হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। অবশ্য ছালাতের বাইরে বান্দা তার মাতৃভাষায় স্বীয় প্রভুর নিকটে যে কোন বৈধ দো‘আ করতে পারে। কেননা আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব’ (মুমিন ৬০)

প্রশ্ন (২৭/৪২৭) : খাবারের মধ্যে চুল, মাছি, পোকা বা অন্য কোন অরুচিকর বস্ত্ত পড়ে গেলে সেই খাবার ফেলে দেওয়া যাবে কি? এতে কি খাদ্য অপচয়ের গুনাহ হবে?

-*লিটন, ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

*[আরবীতে সুন্দর ও অর্থবহ ইসলামী নাম রাখুন (স.স.)]

উত্তর : খাবারের মধ্যে চুল, মাছি, পোকা-মাকড় বা অন্য কোন অপবিত্র বা অরুচিকর বস্ত্ত পড়ে গেলে তার বিধান এক নয়; বরং পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হবে। যদি বস্ত্তটি সরিয়ে ফেলাতে খাবার নিরাপদ ও খাওয়ার উপযোগী থাকে, তাহ’লে শুধু ঐ বস্ত্তটি অপসারণ করে বাকী খাবার খেয়ে নিবে। অযথা পুরো খাবার ফেলে দেওয়া অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত হ’তে পারে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কারো পাত্রের মধ্যে যদি মাছি পড়ে, তবে সে যেন তা সম্পূর্ণরূপে ডুবিয়ে দেয়, অতঃপর তা বাইরে ফেলে দেয়। কারণ তার এক ডানায় রয়েছে রোগ এবং অপর ডানায় রয়েছে তার প্রতিষেধক। আর সে পাত্রে পড়ার সময় রোগবাহী ডানাটি দিয়েই প্রথমে পড়ে। সুতরাং তোমরা তাকে পুরোপুরি ডুবিয়ে দাও, তারপর ফেলে দাও’ (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/৪১১৫, ৪১৪৩)। কিন্তু যদি পতিত বস্ত্তটির কারণে খাবারটি নষ্ট হয়ে যায়, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মনে হয় বা খাওয়ার অযোগ্য হয়ে যায় বা চরম অরুচি চলে আসে, তাহ’লে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকবে; বরং ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে তা পরিত্যাগ করাই কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না’ (নিসা ৪/২৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ক্ষতি করোনা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়োনা’ (ইবনু মাজাহ হা/২৩৪০; ছহীহাহ হা/২৫০)

প্রশ্ন (২৮/৪২৮) : আমি শুনেছি, কুল্লামার কসম করে তা ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যখনই বিয়ে করা হবে তখন স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালাক হয়ে যাবে। কিছুদিন আগে একটি পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার উদ্দেশ্যে আমি মুখে উচ্চারণ করে কুল্লামার কসম করেছিলাম। কিন্তু ১৫ দিনের মধ্যেই কসম ভঙ্গ হয়ে যায়। এই কসম ভঙ্গ করার কারণে ভবিষ্যতে আমার বিয়ের পর স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালাক হয়ে যাবে কি?

-মনির হোসাইন, ময়মনসিংহ।

উত্তর : এগুলো ভিত্তিহীন। ‘কুল্লামার কসম’ নামে শরী‘আতে কিছুই নেই। এটি কোন কোন এলাকায় প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার মাত্র। এর দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভবিষ্যৎ স্ত্রীর তালাক হয়ে যাবে এ বিশ্বাসের কোন শারঈ ভিত্তি নেই। বরং কেউ কসম করে ভঙ্গ করলে তাকে কাফফারা দিতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘এরূপ শপথ ভঙ্গের কাফফারা হ’ল, দশজন অভাবগ্রস্তকে মধ্যম মানের খাদ্য প্রদান করা যা তোমরা তোমাদের পরিবারকে খাইয়ে থাক অথবা অনুরূপ মানের পোষাক প্রদান করা অথবা একটি ক্রীতদাস বা দাসী মুক্ত করা। অতঃপর যে ব্যক্তি এতে সক্ষম হবে না, সে তিনদিন ছিয়াম পালন করবে। এটাই তোমাদের শপথ সমূহের কাফফারা যখন তোমরা তা করবে’ (মায়েদাহ ৫/৮৯)

উল্লেখ্য যে, শপথ কেবল আল্লাহ্র নামেই করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলার নাম ও গুণাবলী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্ত্তর নামে শপথ করা যাবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি অন্যের নামে শপথ করে, সে কুফরী করে অথবা শিরক করে’ (তিরমিযী হা/৩৪১৯)

প্রশ্ন (২৯/৪২৯) : কোন বিবাহিত নারী তার স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় যদি নিজ সম্মতিতে অন্য কাউকে বিয়ে করতে চায়, তাহ’লে শরী‘আতের দৃষ্টিতে তাকে বিবাহ করা বৈধ হবে কি?

-ফরহাদ, হবিগঞ্জ।

উত্তর : কোন নারীর স্বামী থাকা অবস্থায় অন্য কোন পুরুষের জন্য তাকে বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম। এমনকি কোন নারী তার স্বামী থেকে তালাকপ্রাপ্তা হওয়ার পর তার ইদ্দতকালে তাকে বিয়ে করা হারাম (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৭/১৩)। আল্লাহ বলেন, ‘এবং বিবাহিতা নারীগণও (তোমাদের জন্য হারাম), তবে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীগণ ব্যতীত’ (নিসা ২৪)। অতএব যার স্বামী বিদ্যমান, তাকে অন্য পুরুষের জন্য বিবাহ করা সম্পূর্ণরূপে হারাম (তাফসীর ইবনু কাছীর)

প্রশ্ন (৩০/৪৩০) : কুর্দীদের পরিচয় ও আক্বীদা-বিশ্বাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।

-ছদরুদ্দীন, এলিফ্যান্ড রোড, ঢাকা।

উত্তর : কুর্দীরা পশ্চিম এশিয়ার একটি নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী। জনসংখ্যা প্রায় পৌনে তিন কোটি। তুরস্ক, ইরাক, ইরান ও আর্মেনিয়ায় এদের আবাসস্থল। কুর্দি এদের প্রধান ভাষা। এদের অধিকাংশই (প্রায় ৯০%) সুন্নী মুসলিম এবং শাফেঈ মাযহাবের অনুসারী। কিছু সংখ্যক ছূফী, শী‘আ ও খৃষ্টান রয়েছে। বিভিন্ন দেশে তারা তাদের এলাকাসমূহকে ‘কুর্দিস্তান’ নামকরণ করলেও, তাদের কোন স্বাধীন রাষ্ট্র নেই। বায়তুল মুক্বাদ্দাস বিজয়ী প্রখ্যাত সেনানায়ক সুলতান ছালাহুদ্দীন আইয়ূবী ছিলেন কুর্দী ভাষী। কুর্দীরা ভাষাভিত্তিক জনগোষ্ঠী হওয়ায় তাদের আক্বীদা নিয়ে পৃথকভাবে কোন আলোচনার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন (৩১/৪৩১) : আমরা জানি যে, হোসাইন (রাঃ)-এর হত্যাকান্ডে ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ, শিমারসহ চিহ্নিত অনেকেই সম্পৃক্ত ছিল। কিন্তু খলীফা হিসাবে ইয়াযীদ এই হত্যাকান্ডের কোন বিচার করেননি। প্রশ্ন হ’ল তিনি কেন হোসাইন (রাঃ)-এর হত্যাকান্ডের বিচার করেননি? এ থেকে কি বুঝা যায় যে, উক্ত হত্যাকান্ডে ইয়াযীদের সম্মতি ছিল?

-আব্দুল্লাহ মাহমূদ ছালেহ, চট্টগ্রাম।

উত্তর : হোসাইন (রাঃ) আহলে বায়তের সম্মানিত সদস্য এবং জান্নাতে যুবকদের নেতা (তিরমিযী, মিশকাত হা/৬১৫৪)। রাসূল (ছাঃ) যেভাবে তাঁর সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনি আহলে বায়তের আদর্শ অনুসরণ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ ও ইতিহাসবিদরা মনে করেন যে, ইয়াযীদ সরাসরি হোসাইন (রাঃ)-কে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মর্মে কোন বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই। আবার এটিও সত্য যে, তিনি হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কেন তিনি বিচার করেননি এ বিষয়ে নিশ্চিত কোন ঐতিহাসিক তথ্য নেই। অতএব অনুমান করে বলা যাবে না যে, তিনি বিচার না করায় অবশ্যই হত্যাকান্ডে সম্মত ছিলেন। আবার তাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলারও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সেজন্য ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, নিশ্চয়ই ইয়াযীদ মুসলিম রাজন্যবর্গের মধ্যে একজন রাজা ছিলেন। তাঁর যেমন ভালো কাজ রয়েছে, তেমনি মন্দ কাজও রয়েছে। তাঁর জন্ম ওছমান (রাঃ)-এর খেলাফতকালের পূর্বে হয়নি। তবে তাঁর শাসনামলেই সেই সব বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছিল যেমন হোসাইন (রাঃ)-এর মর্মান্তিক শাহাদাত এবং মদীনা আক্রমণ ও সেখানে ছাহাবীদের রক্তপাত। তিনি যেমন কোন ছাহাবী ছিলেন না, তেমনি আল্লাহ্র কোন নেককার অলীও ছিলেন না। আর এটিই হ’ল সাধারণ বিবেকবান মানুষ, দ্বীনের আলেম সমাজ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের সামগ্রিক অভিমত (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৪/৪৮৩)

তিনি আরো বলেন, ‘আর এই কারণেই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ইমামগণ এবং আহলুস সুন্নাহ্র অনুসারীগণ যে আদর্শ ও বিশ্বাসের ওপর একমত হয়েছেন তা হ’ল ইয়াযীদকে যেমন গালিগালাজ বা অভিশাপ দেওয়া যাবে না, ঠিক তেমনি তাকে বিশেষভাবে ভালোবাসাও যাবে না (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৩/৪১২)

তিনি আরো বলেন, ইয়াযীদ ইবনে মু‘আ‘বিয়া হোসাইন (রাঃ)-এর হত্যাকান্ডে মোটেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেনি; বরং তাঁর শাহাদাতের খবরে তিনি দুঃখ ও বেদনা প্রকাশ করেছিলেন। আর এটিও নিশ্চিতভাবে জানা গেছে যে, ইয়াযীদ সরাসরি হোসাইন (রাঃ)-কে আক্রমণের নির্দেশ দেননি। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি পরবর্তীতে তাঁর হত্যাকারীদেরকে এই জঘন্য অপরাধের জন্য কোন শাস্তিও দেননি। কারণ তারা ইয়াযীদের রাজত্ব সুরক্ষার জন্যই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল’ (মাজমূউল ফাতাওয়া ৩/৪১২)

সেজন্য ইবনু হাজার আসক্বালানী, ইবনু কাছীর, ইমাম যাহাবীসহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের বিদ্বানগণ বলেন, ইয়াযীদের অন্যায় কর্মকান্ডের কারণে আমরা তাকে ভালোবাসবো না, আবার তিনি কনস্টান্টিনপল যুদ্ধে অংশ গ্রহণ এবং হাদীছে লা‘নত বা গালিগালাজ নিষিদ্ধের কারণে তাকে লা‘নতও করব না (আল-বিদায়াহ ৮/২৩২; যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৪/৩৬, ৫/৫; বিস্তারিত দ্র. ‘আশূরায়ে মুহাররম ও আমাদের করণীয়’ বই)

প্রশ্ন (৩২/৪৩২) : আমাদের এলাকার মসজিদে আযানের আগে ‘আছ-ছালাতু ওয়াসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ’ পাঠ করা হয়। আযানের আগে এভাবে পাঠ করা যাবে কি?

-আল-আমীন, ভৈরবপুর।

উত্তর : এগুলি বিদ‘আতী প্রথা মাত্র। শরী‘আতে এর কোন ভিত্তি নেই। শুধু ফজর নয়, কোন আযানের পূর্বেই দরূদ পাঠ, কুরআন পাঠ বা আহবানসূচক অন্য কিছু পাঠ করা বা বক্তব্য রাখা কিছুরই কোন ভিত্তি নেই। ইসলামের স্বর্ণযুগে তথা সালাফে ছালেহীনের আমলে এগুলির কোন প্রচলন ছিল না (ইবনু হাজার হায়তামী, আল ফাতাওয়াল ফিক্বহিয়াল কুবরা ১/১৩১; বিস্তারিত দ্র. ‘ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)’ বই)

প্রশ্ন (৩৩/৪৩৩) :মোহরানার সম্পদের হকদার স্ত্রী না তার পিতা? পিতা সে টাকা ব্যবহার করলে পরে তা ফেরত দিতে হবে কি?

-আযীযুল হক, নরসিংদী।

উত্তর : উক্ত সম্পদের হকদার স্ত্রী (নিসা ৪/৪)। স্ত্রী চাইলে স্বীয় পিতাকে হাদিয়া হিসাবে দিতে পারে এবং পিতাও চাইলে ঋণ হিসাবে কিছু নিতে পারে। তবে পিতা নিজের মনে করে উক্ত টাকা ভোগ করতে পারবে না।

প্রশ্ন (৩৪/৪৩৪) : অনেকে ফরয ছালাত শেষে মাথায় হাত রেখে কিছু দো‘আ পাঠ করেন। অতঃপর হাতে ফুঁ দিয়ে চোখে-মুখে ওশরীরে বুলিয়ে নেন। এ ধরনের কোন দো‘আ বা আমলের ভিত্তি আছে কি? নাকি এটি বিদ‘আতের অন্তর্ভুক্ত?

-আছিফ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : ফরয ছালাত শেষে মাথায় হাত রেখে নির্দিষ্ট দো‘আ পড়া, হাতে ফুঁক দিয়ে চোখে-মুখে বা শরীরে হাত বুলানো সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। এটিকে নিয়মিত ইবাদত হিসাবে পালন করা বিদ‘আত। তবে ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস পড়ে হাতে ফুঁক দিয়ে শরীরে হাত বুলানো ছহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত (বুখারী হা/৫০১৭; মিশকাত হা/২১৩২)। তাছাড়া অসুস্থ হ’লে এই সূরাগুলো পাঠ করে হাতে ফুঁক দিয়ে রোগীর শরীরে হাত বুলানো ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত (বুখারী হা/৫৭৩৫)। উল্লেখ্য যে, কিছু মুছল্লী ফরয ছালাত শেষে মাথায় হাত রেখে ‘ইয়া মুজীরু, ইয়া মুজীরু’ পাঠ করে থাকেন, যারও কোন দলীল পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন (৩৫/৪৩৫) : স্ত্রী সহবাসের দো‘আ কেবল স্বামীকে না স্ত্রীকেও পাঠ করতে হবে? অনেক সময় স্বামী পড়তে ভুলে যেতে পারেন সেক্ষেত্রে স্ত্রীকে পড়ে নেয়াই উত্তম হবে কি?

-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : সহবাসের পূর্বে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য উক্ত দো‘আ পাঠ করা মুস্তাহাব (মারদাভী, আল-ইনছাফ ৮/৩৫৭)। তবে মৌলিকভাবে এই দো‘আ পাঠের জন্য স্বামীকে সম্বোধন করা হয়েছে (বুখারী হা/১৪১; মিশকাত হা/২৪১৬)। এক্ষণে স্বামী দো‘আ পড়তে ভুলে গেলে স্ত্রী তাকে স্মরণ করিয়ে দিবে।

প্রশ্ন (৩৬/৪৩৬) : আমার দাদার মৃত্যুর পর আমার পিতা ও ফুফুরা মারা গিয়েছেন। এখন আমার ফুফুদের সন্তানেরা কি আমার দাদার সম্পত্তিতে কোন অংশ পাবেন?

-কামারুযযামান, উত্তরা, ঢাকা।

উত্তর : পিতা ও ফুফুরা যেহেতু দাদার মৃত্যুর পর মারা গেছেন, অতএব তারা সকলে পিতার সম্পত্তিতে অংশীদার হবেন। সে হিসাবে বর্তমানে ফুফুর সন্তানেরা তাদের মায়ের মীরাছ যথাযথভাবে পাবে। তাদের বঞ্চিত করা হ’লে গুনাহ হবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২০/২০২)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের (মধ্যে মীরাছ বণ্টনের) ব্যাপারে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। যদি দুইয়ের অধিক কন্যা হয়, তাহ’লে তারা পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি কেবল একজনই কন্যা হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক’ (নিসা ১১)

প্রশ্ন (৩৭/৪৩৭) : কোন অমুসলিম বন্ধুর বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যাবে কি?

-আব্দুর রহমান, সাভার, ঢাকা।

উত্তর : সামাজিক কারণে অমুসলিমদের দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু তাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া যাবে না (বাক্বারাহ ১৭৩)। তবে যেহেতু তাদের অনুষ্ঠানে অনৈসলামিক কার্যকলাপ হয়ে থাকে তাই এরূপ অনুষ্ঠানে যাওয়া বিরত থাকাই উচিত। উল্লেখ্য যে, তাদের সঙ্গে আন্তরিক বন্ধুত্ব স্থাপন করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন (আলে ইমরান ২৮)

প্রশ্ন (৩৮/৪৩৮) : অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরও আমার কোন নির্দিষ্ট রোগ ধরা পড়েনি। ডাক্তার বলেছে আমার মানসিক সমস্যা আছে। অন্যদিকে একজন রাক্বী বলেছেন আমার উপর জাদু করা হয়েছে। এক্ষণে আমার করণীয় কি?

-আব্দুল্লাহ, রাজশাহী।

উত্তর : মানসিক ডাক্তার দেখানোর পাশাপাশি একজন তাওহীদবাদী রাক্বীর (ঝাড়ফুঁককারীর) নিকট চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে। কারণ কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক ঝাড়ফুঁক ইসলামে জায়েয। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম দুষ্ট জিন-শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেতে এবং জাদুর প্রভাব দূর করতে ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নিয়েছেন (মুসলিম, শরহ নববী ১৪/১৬৮; শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৮/২৩১)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর। কেননা আল্লাহ এমন কোন রোগ দেননি, যার প্রতিকারও দেননি’ (আবুদাঊদ হা/৩৮৫৫; মিশকাত হা/৪৫৩২; ছহীহুল জামে‘ হা/২৯৩০)

প্রশ্ন (৩৯/৪৩৯) : আমাদের দেশে খ্রিস্টান মিশনারীদের পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন নটরডেম, হলিক্রস, সেন্ট জোসেফ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠাগুলোর সিলেবাস দেশের জেনারেল শিক্ষার সিলেবাসের মতোই। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের অধ্যয়ন করা যাবে কি?

-কায়ছার জামীল, মেলান্দহ, জামালপুর।

উত্তর : প্রথমত মুসলিম শিক্ষার্থীদের মুসলিম স্কুলে ভর্তি করতে হবে। কারণ এটা তাদের আমল ও আক্বীদার জন্য নিরাপদ (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১২/১৪১)দ্বিতীয়ত এলাকায় মুসলিম স্কুল না থাকলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে মিশনারী স্কুলে ভর্তি করা যেতে পারে। যেমন- (১) যদি দেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমই তাদের পাঠ্যপুস্ত্তক হয় এবং তা পড়ানো হয় (২) শিক্ষার্থীকে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে বা তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধ্য করা না হয়, (৩) তার ঈমান ও ইসলামী পরিচয় যদি নিরাপদ থাকে, (৪) মুসলিম শিক্ষার্থী তার ফরয ইবাদত ও ইসলামী আদর্শ বজায় রাখতে পারে। তবে যদি সেখানে ধর্মীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি, খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারে প্রভাবিত করা, ইসলামী বিধান পালনে বাধা দেওয়া বা ঈমানের জন্য ঝুঁকি থাকে, তাহ’লে সেখানে ভর্তি হওয়া থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

প্রশ্ন (৪০/৪৪০) : একটি জমি নিয়ে কোর্টে মামলা চলছে। এমতাবস্থায় উক্ত জমিতে স্থায়ীভাবে মসজিদ বানানো যাবে কি?

-মাসঊদ, বগুড়া।

উত্তর : স্থায়ীভাবে মসজিদ বানানো যাবে না। কারণ মামলা চলায় এর মালিকানা সাব্যস্ত হয়নি। তবে সকলের সম্মতিক্রমে সাময়িকভাবে ছালাত আদায়ে কোন বাধা নেই। স্থায়ী মসজিদ বা ঈদগাহ বানানোর জন্য জমি ওয়াকফকৃত হওয়া যরূরী (বুখারী হা/২৭৭৪; মুসলিম হা/৫২৪)






আরও
আরও
.