শিক্ষা সহজীকরণ

শিক্ষা সহজীকরণ মানেই শিক্ষায় যে প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েছে সেগুলো দূরীকরণ। যে বাধাগুলো শিক্ষাকে কঠিন করে তোলে সেগুলো আমরা যতটা দূর করতে সক্ষম হব, ততটাই আমরা শিক্ষাকে সহজ করতে পারব। শিক্ষার্থীদের উপকার করতে পারব। এখানে কয়েকটি প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করা হবে। যেগুলোর কারণে আমাদের অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। সব সমস্যা সমাধান করা আমাদের কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ এগুলো বিভিন্ন বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত। তবে আমরা সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমস্যাগুলো সমাধানে এগিয়ে আসি তবে আমরা ভাল কিছু করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।

বয়স নির্ধারণ : আমাদের দেশ উন্নত বিশ্ব থেকে অনেক পিছিয়ে। উন্নত বিশ্বে একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিকে যতটুকু শেখে, মাধ্যমিকে যতটুকু শেখে, যে বয়সে লেখাপড়া শেষ করে, আমরাও যদি আমাদের দেশে সেই বয়সকে মডেল হিসাবে নিতে চাই তবে আমাদেরকেও শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ-সুবিধাগুলো দিতে হবে, যেগুলো উন্নত বিশ্বের শিক্ষার্থীরা পায়। আমরা যদি সেই পরিবেশ না দিয়ে শুধু বয়সটাই বেঁধে দেই তবে আমাদের শিক্ষার্থীদের বয়স জন্ম সনদে দু’পাঁচ বছর কমানো ছাড়া কোন পথ থাকবে না। আর হচ্ছেও তাই। ক’জনই বা জন্ম সনদে সঠিক বয়স নিয়ে লেখাপড়া শেষ করছে? অনেকেরই বয়স কিছু কিছু করে কমানো। জন্মসনদে বয়স কমানো কি মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ নয়? আমরা কি আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন মেয়াদী একটি মিথ্যার সাথে জড়িত হ’তে বাধ্য করছি না?

আমাদের কারিকুলামে একজন শিক্ষার্থী হাফেয হয়েছে মানেই তার লেখাপড়া শেষ। হয়তো এখন তাকে বয়স পাঁচ বছর কমাতে হবে, নয়তো তাকে এমন কারিকুলামে যেতে হবে যেখানে বয়সের সীমারেখা নেই। এটা নিঃসন্দেহে শিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা। যে প্রতিবন্ধকতা আমাদের পড়ালেখার মান নষ্ট করছে। যে বয়সের সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া না করেই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে বাধ্য হচ্ছি। একজন শিক্ষার্থী সারা বছর হিফয বিভাগে পড়ছে, আর ডিসেম্বরে অষ্টম শ্রেণীতে পরীক্ষা দিচ্ছে। সে যখন হিফয শেষ করে নবমে গিয়ে ভর্তি হচ্ছে তখন সে কাগজ-কলমে নবমের যোগ্য হ’লেও প্রকৃতার্থে যোগ্য নয়। এই শিক্ষার্থী যোগ্য হবে কবে?

এই বয়স বাঁধার বিষয়টা আমাদের গলায় এমনভাবে আটকে গেছে, আমরা না পারছি ভেতরে নিতে, আবার না পারছি ফেলে দিতে। আমরা বলতে চাই, বাঁধা যখন হয়েছে বাঁধাই থাক। তবে একটু ঢিল করে বাঁধলে আমাদের শিক্ষার্থীদের পক্ষে বিষয়গুলো সহজ হয়। আর একটি ইসলামী কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের হিফয, মক্তবকে হিসাবের বাইরে রাখবে, এটাও মানতে বেশ কষ্ট হয়। আমাদের ছেলে-মেয়েরা মক্তবে পড়বে, কুরআন মাজীদ হিফয করবে। অনুন্নত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বেশ বয়স করেই লেখাপড়া শুরু করবে। এই সবকিছু মাথায় রেখেই বয়স নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথা তা অবিচার হবে।

পাঠ্যপুস্তক সহজীকরণ : পাঠ্যপুস্তক কঠিন হওয়ার জন্য আমাদের অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে ঝরে যায়। শিক্ষা থেকে ঝরে যাওয়া মানেই লেখাপড়া বাদ দিয়ে দেয়া বা প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যাওয়া নয়। এটা বোঝার জন্য আসুন আমরা নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী গণনা শিখি। মনে করুন, তৃতীয় শ্রেণীর ইংরেজী বই সংকলনের সময় এতটাই কঠিন হয়েছে যে, ক্লাসে ৩০ জন ছাত্রের মাঝে ১৫ জন কিছুই বুঝতে পারেনি। এক বছর পরে এরা সবাই চতুর্থ শ্রেণীতে ইংরেজী ক্লাসে উপস্থিত হয়েছে। এখন এই ক্লাসে কতজন ছাত্র বলুন তো! সর্বোচ্চ ২০ জন। কারণ তৃতীয়তে যে ইংরেজী বোঝেনি চতুর্থতেও সে বুঝবে না। এদের মাঝে অধিকাংশই ঝরে যাবে। খুবই অল্পসংখ্যক ছাত্র পরবর্তীতে এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

তাহ’লে একটি বই কঠিন হওয়ার কারণে কোন ছাত্র প্রতিষ্ঠান থেকে না গিয়েও ১০ জন ছাত্র ঝরে গেল। অথচ আমরা শুধু যারা নাম কাটিয়ে চলে যায় শুধু তাদেরই ঝরে যাওয়ার তালিকায় হিসাব করি। যারা থেকেও হারিয়ে যায় আমরা তাদের মেধাহীন হিসাবে গণ্য করে রেখে দেই। প্রতিবছর আমাদের যে শিক্ষার্থীগুলো পড়ালেখা শেষ করছে তাদের মধ্য থেকে আমরা মাত্র শতকরা কয়েকজন কাজের লোক পাচ্ছি। কারণ বাকী অধিকাংশই শুধু অস্তিত্বে রয়েছে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, বিভিন্নজন বিভিন্ন বছরে ঝরে গেছে। আমরা টেরও পাইনি। 

পাঠ্যপুস্তক সংকলনে আমরা সর্বদা দুর্বলদের কথা মাথায় রাখব। সবলরা এমনিতেও অনেক কিছু শিখে নিতে পারে। তাদের দিকে লক্ষ্য করে যদি পাঠ্যপুস্তক সংকলিত হয় তবে তা দূর্বলদের আয়ত্ত্বের বাইরে চলে যাবে। আমরা আমাদের দুর্বল শিক্ষার্থীদের চাপে ফেলব না। তারা যেন নিরাশ হয়ে পড়ালেখা থেকে অমনোযোগী হয়ে না পড়ে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত যোগ্যদের আমরা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করব। অতিরিক্ত ক্লাস বা কোর্সের মাধ্যমে তাদের চাহিদা পূর্ণ করব। যেভাবেই হোক শতভাগ শিক্ষার্থীর মাঝে আমরা এই আত্মবিশ্বাস বাঁচিয়ে রাখব যে, আমি পারি। শিক্ষার্থীরা যদি এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে তবে তারা নিজেদের ঘাটতিগুলো একসময় নিজেরাই পূরণ করতে পারবে। আর আমরা যদি পাঠ্যপুস্তক আরো সমৃদ্ধ করতে গিয়ে সিকিভাগ ছাত্রদের আত্মবিশ্বাস মেরে ফেলি তবে তারা আর কোনদিনই মুখ ফুটে বলতে পারবে না যে, আমরা পারি। তারা নিঃশব্দে ঝরে যাবে।

তাই শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকেই সবকিছু শেখানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। সবকিছু শেখার ধাপ রয়েছে। যদি বলি একটি রাস্তা ৫০ ধাপে শেষ হবে। তবে শুরুতেই একচল্লিশ বিয়াল্লিশ নম্বর ধাপ ফেলা যায় না। আবার প্রতিটি ধাপ ৫০ ভাগে ভাগ করে সবগুলোর প্রথম ভাগ একবারে ফেলা যায় না। ধারাবাহিকভাবে ধাপ ফেলে সামনে এগুলে কোন রাস্তাই কঠিন নয়। রাস্তাকে আমরাই কঠিন করেছি। কারণ আমরা ধারাবাহিকতা বুঝি না। আমরা মান বুঝি। আধিক্য বুঝি। ধারণক্ষমতার বাইরে যা কিছু ধারণ করা হয় কেবল ততটুকুই আমাদের আনন্দ দেয়। ততটুকুই আমাদের আলোচনায় আসে। ততটুকুই আমাদের উদ্দেশ্য হয়। এই ধারা থেকে বের হয়ে এসে যখন আমরা পাঠ্যবই সংকলন করব তখন তা আর শিক্ষার্থীদের কাছে ভারী হবে না ইনশাআল্লাহ।

নিম্নবিত্তদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ : আমাদের দেশে অধিকাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ বসবাস করে। এমন দেশে যদি আমরা শিক্ষা নিয়ে কাজ করি তবে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা একটি গুরুদায়িত্ব। অথচ সেদিকে আমরা খুব কমই তাকিয়েছি। মানসম্মত শিক্ষায় আমাদের শিক্ষাবৃত্তি নেই বললেই চলে। কোন প্রতিষ্ঠান যদি বড় একটা অনুদান পায় তবে সেটা দিয়ে হয়তো জমি কেনে, নয়তো ভবন বানায়। এই অনুদান দিয়ে দশজন নিম্নবিত্ত মেধাবী ছাত্রকে আমরা শেষ পর্যন্ত গড়ে তুলব, একদিন এই দশজন দশটি প্রতিষ্ঠানের সমান হবে, এমন চিন্তা কেউ করে না। হয়তো তাদের এমন চিন্তা না করার পেছনে যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে।

এই নিম্নবিত্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের কিছু করা দরকার। অন্যথা আমরা নিজেদের দায়িত্বের স্থানে প্রশ্নের সম্মুখীন থেকে যাব। আমাদের মনে হয়, যার জন্য খাবার রান্না করা হয়েছে তার টেবিলে খাবার পরিবেশন করা কোন মহান কাজ নয়। যাদের জন্য কেউ খাবার তৈরি করেনি তাদের মুখে খাবার তুলে দেয়াই খিদমত। ধনীরা তাদের সন্তানের জন্য মানসম্মত শিক্ষক পেয়েই যাবে। এখন ধনীদের জন্যই যদি আমাদের পদক্ষেপগুলো সীমাবদ্ধ হয়ে যায় তবে এটা কখনোই মহান কাজ। একটু শান্ত হয়ে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করলেই বোঝা যাবে যে, আমরা কি করেছি এবং কি করা উচিৎ ছিল।

কষ্টের কথা হ’ল, আমরা অনেক শিক্ষানুরাগী দেখেছি, ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের নিয়ে যাদের ভাবনা সবচেয়ে বেশী। সবাই চায়, রাজধানীর বুকে প্রতিষ্ঠান হবে। আল্লাহ অনেক সামর্থ্য দেয়ার পরেও কেউ প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে মানসম্মত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে না। গরীব ছেলে-মেয়েদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ কেউ করে দেয় না। হ্যাঁ লেখায়, কথায় অনেক কিছুই থাকে। তবে সেই সুবিধা সবার কপালে জোটে না। তাই লেখায় বা কথায় নয়, আমরা চাই, বাস্তবেই কিছু শিক্ষানুরাগী বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধা-বঞ্চিত মানুষের জন্য উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করুক। সেসমস্ত অঞ্চল থেকেও দ্বীনের যোগ্য খাদেম তৈরী হোক। আল্লাহ আমাদের সেই শক্তি ও সামর্থ্য দান করুন-আমীন!

শিক্ষাখাত আয়ের উৎস নয় : শিক্ষা হ’ল সেবা। আর সেবা কখনো সুখের জন্য করা হয় না। সেবা করতে গেলে কষ্ট হয়। সেবা করতে গেলে নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হয়। দুঃখজনক যে, শিক্ষা-সেবা যেন এখন রাজনৈতিক সেবার মত হয়ে গেছে। আমরা এখন এমন সেবা করি যে সেবাতে আমাদের গাড়ী-বাড়ী হয়ে যায়। আমরা হয়তো কখনোই এই হিসাব করার সুযোগ পাই না যে, শিক্ষাকে আমরা কতটা সহজ করতে পেরেছি। আমাদের মাধ্যমে কতজন উপকৃত হ’ল। আমরা এটাই হিসাব করি যে, শিক্ষাবর্ষ শেষে আমাদের কত টাকা লাভ হ’ল, কত টাকা ক্ষতি হ’ল। কিভাবে কাজ করলে আমরা শিক্ষাকে আরেকটু সহজ করতে পারব, এই চিন্তা আমাদের নেই। বরং কিভাবে প্রতিষ্ঠান থেকে আরো টাকা উপার্জন করা যাবে সেই চিন্তায় আমরা বিভোর। পরকালে প্রতিদানের আশা তো এখানে দূর কী বাত!

দেখুন! সবকিছুরই একটা ক্ষতিকর প্রভাব আছে। আজ আমরা যে পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি করে যাচ্ছি আমাদের বংশধররা একদিন তার ফল ভোগ করবে। আমরা হয়তো মনে করছি, আমরা শিক্ষিত হয়ে গেছি, আমাদের যাত্রা শেষ। আমরা এখন কর্ণধার। এখন যারা শিক্ষা গ্রহণ করতে আসবে তাদের ওপরে যত কঠিন করা যায়। মনে রাখতে হবে, এই চিন্তাধারার ফলাফল আমাদের উত্তরসূরীরাই ভোগ করবে। আজ আমাদের হাতে ক্ষমতা আছে বলেই আমরা সিস্টেমকে যাঁতাকলের মত করে তৈরি করছি। এই যাঁতাকলে একদিন আমাদের বংশধররাই পিষ্ট হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। 

এজন্য আমাদের সেবার মানসিকতা রাখতে হবে। একজন শিক্ষানুরাগীর চিন্তাধারাই হবে, যত কম নিয়ে যত বেশী দেয়া যায়। কারণ এটা সেবা, এটা খিদমত। এখানে প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আমাদের কত টাকা লাভ থাকল তা কখনো হিসাব করা যাবে না। অমুকে শিক্ষা-সেবায় এসে কোটিপতি হয়ে গেছে, আমার কি হ’ল। এই হিসাব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। কোন বস্ত্ত কেনার নিয়ম করে সেটা আবার প্রতিষ্ঠান থেকে বিক্রি করে শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে কেনার জন্য বলা যাবে না। প্রাইভেট বা কোচিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য চাপ দেয়া যাবে না। শিক্ষকগণ যদি যোগ্য হন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে যদি যোগ্যতা অর্জনের ক্ষুধা থাকে তবে তারাই শিক্ষকদের পেছনে ঘুরবে। সিন্ডিকেট তৈরি করার দরকার হবে না। সর্রোপরি শিক্ষক এবং পরিচালকগণ যদি সেবার মানসিকতা রাখেন তবে শিক্ষা আপনাআপনিই সহজ হবে ইনশাআল্লাহ।

শিক্ষার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ : নিয়ম-কানূন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহজ করুন। কারণ নিয়ম কঠিন করা বা যে কোন নিয়মের বাস্তবায়ন কঠিন করা একধরনের মানসিক নির্যাতন। একটি ছোট্ট অভিজ্ঞতা বলি। আমি এক প্রতিষ্ঠানে হিফয শুনানী দিয়েছি। সেখানে নিয়ম ছিল, সকলকে ছালাতের সময় সাদা পাগড়ী পরিধান করতে হবে। এই নিয়ম হঠাৎই চালু করার পরে শিক্ষকগণ নিয়ম বাস্তবায়নে বেশ কঠোরতা শুরু করেন। প্রতি ছালাতের পরে ছাত্রদের হেনস্তা করা শুরু করেন। যাদের পাগড়ী নেই তাদের কাউকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। আবার কাউকে ভিন্ন অপমানজনক শাস্তি দেন।

আববুকে ফোন করে জানালে তিনি বললেন, যেতে তিন চারদিন দেরী হবে। তখন বিকাশ বা নগদের যুগ ছিল না। টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল না। এদিকে যখন ছালাতের ওয়াক্ত ঘনিয়ে আসত তখন মনে হ’ত কোথাও পালিয়ে যাই। ছালাত শেষে মনে হ’ত মাটি ফেটে গেলে আমি সেখানে ঢুকে যাব। কারণ কান ধরার অভ্যাস আমার ছিল না। তখন শীতকাল। রাতে শুয়ে হঠাৎই মনে হ’ল, আমার লেপের কভার তো সাদা। এটা কেটে যদি মাথায় বাঁধি তাও তো কানে ধরা থেকে বাঁচা যাব। আমি তাই করেছিলাম। পরে দায়িত্বশীল শিক্ষক আমার এই কর্মকান্ড জানতে পেরে আমাকে কয়েকদিন ফুরছত দিয়েছিলেন।

সুতরাং অপারগ না হ’লে শিক্ষার্থীদের প্রেশার দেওয়া উচিত নয়। ইচ্ছা করে তাদেরকে ঝামেলায় ফেলবেন না। দরখাস্ত হাতে দিনের পরে দিন, টেবিলের পরে টেবিল ঘোরানো ঠিক নয়। ছাত্রদের বহিষ্কার না করে পরিচর্যায় রাখুন। পরিচর্যায় যদি থাকতে না পারে তবে সে নিজে থেকেই চলে যাবে। নূন থেকে চুন খসলেই জরিমানা করা ঠিক নয়। কারণ এতে শিক্ষার্থীর সাজা অভিভাবককে ভোগ করতে হয়। যে দোষগুলো অভিভাবকের অবহেলায় হয়ে থাকে সেগুলো ভিন্ন বিষয়। তবে আমরা তো কখনো শিক্ষকের অবহেলায় ঘটিত অপরাধেও শিক্ষার্থীদের জরিমানা হ’তে দেখি। এগুলো আমাদেরকে বেশ কষ্ট দেয়। মনে রাখতে হবে, শিক্ষার্থীরা কখনো যিম্মী নয়। তারা মুক্ত, তারা স্বাধীন। তারা মুক্ত বিহঙ্গের মত আকাশে উড়বে। তারা অলির মত ফুল থেকে ফুলে ঘুরবে। তাদের ডানা কেটে দেয়ার অধিকার আমাদের নেই।






আরও
আরও
.