পারস্পরিক দূরত্ব ও মান-অভিমান নিরসনের কার্যকর উপায় ও কৌশল

সামাজিক জীবনে ভুল বোঝাবুঝি বা মান-অভিমান খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু মুমিন হিসাবে আমাদের দায়িত্ব হ’ল এই সাময়িক দূরত্বকে স্থায়ী ফাটলে পরিণত হ’তে না দেওয়া। কারণ দু’টি হৃদয়ের দূরত্বই শয়তানের সবচেয়ে বড় সফলতা। আত্ম-অহমিকা বা ইগোকে পায়ে মাড়িয়ে কিভাবে আবারও সম্পর্কের সেতুবন্ধনকে শক্ত করা যায়, ইসলামে রয়েছে তার চমৎকার নির্দেশনা। আসুন, ক্ষণিকের অভিমান ভুলে সম্পর্কগুলোকে পুনরায় জান্নাতী আভায় সাজিয়ে তোলার কিছু সুন্নাহসম্মত ও কার্যকরী উপায় জেনে নেই।

১. সমস্যার মূলে প্রবেশ করুন! শয়তানের ফাঁদ চিনে নিন!

প্রথমে বুঝতে হবে, আপনার দ্বীনি ভাই বা বন্ধুর সাথে আপনার দূরত্বে সবচেয়ে বেশী খুশী হয় কে? সে আর কেউ নয়, ইবলীস। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আরব উপদ্বীপের মুসলমানদের কাছ থেকে আনুগত্য পাওয়ার ব্যাপারে শয়তান নিরাশ হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ, মনোমালিন্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে সে নিরাশ হয়নি’।[1] সুতরাং যখনই আপনি আপোষের জন্য হাত বাড়াবেন, মনে রাখবেন, আপনি কেবল আপনার সাথী বা বন্ধুর মান ভাঙাচ্ছেন না বরং আপনি শয়তানকে পরাজিত করছেন। এটি নিজ আত্মার বিরুদ্ধে একটি জিহাদ।

২. যেকোন মূল্যে ইগো বিসর্জন দিন!

আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হ’ল আমাদের আমিত্ব। আমরা ভাবি ‘ভুল করেছে সে, আমি কেন তার সাথে সম্পর্ক গড়তে যাব? আমি কেন তাকে আগে সালাম দিব? আমি আগে কথা বললে মান-সম্মান থাকবে? অথচ শারঈ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ উল্টো। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশী কথাবার্তা বন্ধ রাখবে...। আর তাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে প্রথমে সালাম দিয়ে কথা শুরু করে’।[2]

অতএব আজই ফোনটা হাতে নিন। যার সাথে এরূপ দূরত্ব আছে তাকে কল দিয়ে সালাম দিন এবং কুশল বিনিময় করুন! বা দেখা হ’লে মুচকি হেসে সালাম বিনিময় করুন। এই সামান্য একটু পদক্ষেপ পাহাড়সম অভিমান গলিয়ে দিতে পারে। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, .. আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তা হ’ল তোমাদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটানো’।[3] সাক্ষাতে কেবল সালাম নয় বরং হাত মিলিয়ে মুছাফাহা করুন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘দু’জন মুসলিম যখন সাক্ষাৎ করে এবং মুছাফাহা করে, তখন তাদের একে অপরের থেকে আলাদা হওয়ার আগেই তাদের গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়’।[4]

৩. উপহার বিনিময় করুন!

উপহার মানুষের মনের কালিমা দূর করে দেয়। উপহার হ’ল চাবি, যা দিয়ে বন্ধ হৃদয়ের তালা খোলা যায়। অনেক সময় মুখে সরি বলা কঠিন হয়ে পড়ে। জিহবা আটকে যায়। তখন উপহার আপনার হয়ে কথা বলে। একটি সুন্দর প্যাকেট, একটি বই বা এক শিশি আতর নীরবে চিৎকার করে বলে দেয়, ‘আপনি যে আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ’। জেনে নিন রাসূল (ছাঃ)-এর সেই বিখ্যাত নছীহত- ‘তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে’।[5]

মান-অভিমানের সময় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইগো। কিন্তু যখন কেউ উপহার নিয়ে অপর ভাইয়ের কাছে এগিয়ে যায়, তখন সে মূলত নিজের ইগো বা অহংকারকে বিসর্জন দেয়। আর যে অহংকার ত্যাগ করতে পারে, সেই তো প্রকৃত বিজয়ী।

৪. সোমবার ও বৃহস্পতিবারের কথা স্মরণ করুন!

সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর দরবারে বান্দার আমলনামা পেশ করা হয় এবং সবাইকে ক্ষমা করা হয়। কেবল ঐ দু’জন ব্যতীত যাদের পরস্পরের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ বিদ্যমান রয়েছে। বলা হয়, এদের ছাড়, যতক্ষণ না এরা আপোষে মীমাংসা করে নেয়।[6]

একবার ভাবুন তো! আপনি হয়তো তাহাজ্জুদ পড়ছেন, দান-ছাদাক্বা করছেন, ছিয়াম পালন করছেন; কিন্তু শুধুমাত্র দ্বীনী ভাইয়ের সাথে কথা না বলার কারণে, অন্তরে হিংসা বা যিদ পুষে রাখার কারণে আপনার ক্ষমার বিষয়টি আল্লাহর দরবারে ঝুলে আছে। এর চেয়ে বড় আফসোসের বিষয় আর কী হ’তে পারে?

৬. অন্যের জন্য ওযর তালাশ করুন!

অধিকাংশ দূরত্ব সৃষ্টি হয় কু-ধারণা থেকে। কারো একটি কাজ বা কথা শুনেই নেতিবাচক মন্তব্য না করে, ইতিবাচক কী হ’তে পারে তা ভাবুন। তার কথার পিছনে ওযর তালাশ করুন। ভাবুন, হয়তো তিনি কোন মানসিক চাপে ছিলেন বা তিনি হয়তো বিষয়টি এভাবে বোঝাতে চাননি। জা‘ফর বিন মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের কোন আচরণ যদি তোমার কাছে অপসন্দনীয় মনে হয়, তবে তার জন্য সত্তরটি পর্যন্ত অজুহাত তালাশ করো’।[7]

মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রহঃ) বলেন, ‘তুমি যদি তোমার মুসলিম ভাইয়ের মন্দ কিছু আঁচ করতে পার, তবে তার ওযর গ্রহণ কর। যদি কোনই ওযর না পাও তবে বল, হয়তোবা তার এমন ওযর আছে যা আমি জানি না’।[8] আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ) বলেন,الْمُؤْمِنُ يَطْلُبُ الْمَعَاذِيرَ وَالْمُنَافِقُ يَطْلُبُ الْعَثَرَاتِ، ‘মুমিন অন্যের জন্য ওযর খেঁাজে, আর মুনাফিক অন্যের ভুল-ত্রুটি খেঁাজে’।[9]

. ক্ষমা চেয়ে নিন বা ছাড় দিন!

জীবনে চলার পথে আমরা অনেক সময় তর্কে জিতে যাই, কিন্তু আফসোসের বিষয় হ’ল তর্কে জিততে গিয়ে আমরা অনেক সাথীকে হারিয়ে ফেলি। নিজের সত্যতা প্রমাণ করতে গিয়ে সম্পর্কের বারোটা বাজিয়ে ফেলি। তাই কখনও কখনও আপনি শতভাগ সঠিক হয়েও কেবল সম্পর্কটা জোড়া লাগানোর স্বার্থে একটু নত হৌন! নিজের কাঁধে দোষ নিন! মনে রাখবেন, মানুষের কাছে হেরে গিয়েও যিনি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে জানেন, তিনিই প্রকৃত বুদ্ধিমান ও বিজয়ী। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হক্বের ওপর থাকা সত্ত্বেও তর্ক পরিহার করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের যিম্মাদার হব’।[10]

আর কারও ওপর রাগ বা অভিমান পুষে রাখা মানে হ’ল নিজের বুকের উপর একটি ভারী পাথর চাপা দিয়ে রাখা। এই পাথরটি অপরপক্ষের চেয়ে আপনাকেই বেশী ক্ষতবিক্ষত করে। অথচ যখনই আপনি ইগো ঝেড়ে বলে দেন, ‘আচ্ছা! যা হয়েছে ভুলে যাও, আমিই সরি’। সাথে সাথে বুকের ভিতরকার সেই ভারী বোঝাটি নেমে যায়। মনের মধ্যে এক অদ্ভুত প্রশান্তি কাজ করে। তাই ক্ষমা চাওয়া মানে নিজেকে ছোট করা নয় বরং নিজেকে মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়া।

আল্লাহ বলেন,خُذِ الْعَفْوَ ‘তুমি ক্ষমার নীতি গ্রহণ কর’ (মায়েদাহ ৫/১৩)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,صِلْ مَنْ قَطَعَكَ ‘তোমার সাথে যে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তুমি তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো’।[11] তিনি বলেননمَا زَادَ اللهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلاَّ عِزًّا وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلاَّ رَفَعَهُ اللهُ، ‘ক্ষমা দ্বারা আল্লাহ কোন বান্দার সম্মান বৃদ্ধি ছাড়া হ্রাস করেন না এবং যে কেউ আল্লাহর ওয়াস্তে বিনয় প্রকাশ করে, আল্লাহ তার মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে দেন’।[12]

দিনশেষে পৃথিবীর কোন মানুষই ভুলের ঊধের্ব নয়। আজ আপনি কাউকে ছাড় দিলে কাল কারও কাছ থেকে ছাড় পাবেন। ছাড় দেওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি ভুল মেনে নিলেন; বরং এর মানে হ’ল- আপনার কাছে তর্কের বিষয়টির চেয়ে রক্তগোশতের মানুষটির মূল্য অনেক বেশী।

৮. ইতিবাচক গুণাবলী এবং আপনার প্রতি তার অবদান স্মরণ করুন!

পারস্পরিক দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধ জীবনের স্বাভাবিক অংশ হ’লেও একে জিইয়ে রেখে সম্পর্ক নষ্ট করা কোন সমাধান নয়; বরং রাগের মুহূর্তে প্রতিপক্ষের দোষ না খুঁজে তার ভালো গুণগুলো এবং অতীতে আপনার দুর্দিনে রাখা তার অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, তার যে ইতিবাচক দিক বা সহযোগিতা একসময় আপনার উপকার করেছিল, আজ সামান্য মতভেদের কারণে তা কি বিস্মৃত হওয়া উচিত? কৃতজ্ঞচিত্তে তার ভালো কাজগুলোর মূল্যায়ন করলে দেখবেন মনের ভেতর জমে থাকা অভিমান নিমিষেই ধুলোর মতো উড়ে গেছে এবং ক্ষমা প্রদর্শন করে সম্পর্কটি জোড়া লাগানো অনেক সহজ হয়ে গেছে। কারণ সম্পর্ক ভাঙা নয়, টিকিয়ে রাখাই প্রকৃত মহত্ত্ব।

৯. অনুমান পরিহার করে সরাসরি কথা বলুন!

অধিকাংশ দূরত্বের শুরু হয় যোগাযোগের অভাব এবং অন্যের মুখে শোনা কথা থেকে। তাই শরী‘আতে ধারণা বা অনুমান করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে নিষেধ করা হয়েছে (হুজুরাত ৪৯/১২)। সম্পর্কের মাঝে অনুমানের ধোঁয়াশা জমতে দিলে তা কেবল দূরত্ব আর ভুল বোঝাবুঝিই বাড়ায়। অথচ একটি খোলাখুলি কথোপকথন নিমিষেই অভিমান দূর করতে পারে। মনের ভেতর কল্পিত ধারণা পুষে রেখে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে সরাসরি কথা বলে সত্যটা জেনে নেওয়া অনেক বেশী স্বস্তিদায়ক। এতে ইগো নয় বরং সম্পর্কের গভীরতাই জয়ী হয়। তাই অহেতুক জল্পনা-কল্পনাকে প্রশ্রয় না দিয়ে আজই প্রিয় মানুষটির চোখের দিকে তাকিয়ে মনের কথাগুলো বলে ফেলুন। দেখবেন সব জটিলতা কেটে গিয়ে সম্পর্কটি পুনরায় স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। কারণ অনুমানের শেষ যেখানে, সত্যিকারের বোঝাপড়ার শুরু সেখানেই।

১০. দাওয়াতের আয়োজন করুন!

একই দস্তরখানে বসে খাবার ভাগ করে নেওয়ার মাঝে যে কি অলৌকিক শক্তি লুকিয়ে আছে, তা কেবল একটি আন্তরিক দাওয়াতই প্রমাণ করতে পারে। এটি হ’ল ইগো বিসর্জন দিয়ে সম্পর্ককে সম্মান জানানোর এক নীরব বার্তা, যা বুঝিয়ে দেয় যে, দ্বন্দ্বের চেয়ে মানুষটি আপনার কাছে অনেক বেশী দামী। তাই অযথা যিদ ধরে না রেখে তিক্ততা ভুলে প্রতিপক্ষকে আজই নিমন্ত্রণ জানান। দেখবেন আপ্যায়নের মিষ্টতায় সম্পর্কের ফাটলগুলো নিমিষেই জোড়া লেগে গেছে।

১১. তৃতীয় পক্ষের সাহায্য নিন!

যখন দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল ঝগড়া বা দীর্ঘদিনের নীরবতা চলে, তখন সরাসরি কথা বলতে যাওয়াটা অনেকের আত্মসম্মানে বাধে। এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় পক্ষের সহযোগিতা নিন। আজই এমন কোন কমন বন্ধু, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক বা মুরববীর শরণাপন্ন হোন, যাকে উভয় পক্ষই মেনে চলে। যিনি উভয় পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য, বিশ্বস্ত ও প্রজ্ঞাবান। যিনি গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেন এবং আগুনে ঘি না ঢেলে পানি ঢালতে জানেন। মনে রাখবেন, একা একা গুমরে মরার চেয়ে কারো সাহায্য নিয়ে সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখা অনেক বেশী বুদ্ধিমানের কাজ।

১২. আসমানী ফায়ছালায় আস্থা রাখুন! প্রতিপক্ষের জন্য অশ্রু ফেলে দো’আ করুন!

দুনিয়ার সব কৌশল যখন ব্যর্থ হয়, তখন আসমানের ফায়ছালা কাজ করে। দো‘আর মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। তাই আজ থেকে কারো সাথে ঝগড়া হ’লে, তার সম্পর্কে মানুষের কাছে বাজে মন্তব্য না করে দু’রাক‘আত ছালাত পড়ুন! তারপর আল্লাহর কাছে বলুন, হে আল্লাহ! আমাদের শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদেরকে আবার ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করুন! ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব (হে অন্তর পরিবর্তনকারী)! আপনি তার মনকে আমার প্রতি নরম করে দিন। আমাদের মধ্যেকার দূরত্ব ঘুচিয়ে দিন। দো‘আ যেমন অপরপক্ষের মনকে পরিবর্তন করতে পারে তেমনি নিজের মনের বিষও দূর করে দেয়। যার জন্য আপনি আল্লাহর কাছে হাত তুলে কঁাদবেন, যার জন্য আপনি কাকুতি-মিনতি করবেন, তার প্রতি আপনার মনে ঘৃণা বা হিংসা বেশীক্ষণ টিকে থাকতে পারে না। আপনি যখন বলেন, ‘হে আল্লাহ, আমার ভাইটিকে মাফ করো, আমাদের সম্পর্ক ঠিক করে দাও’। তখন আপনার নিজের অন্তরও প্রশান্তিতে ভরে উঠবে ইনশাআল্লাহ।

ইয়াকূব (আঃ) তাঁর সন্তানদের আচরণে কষ্ট পেয়ে বলেছিলেন, إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللهِ ‘আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও দুঃখ শুধু আল্লাহর কাছেই পেশ করছি’ (ইউসুফ ১২/৮৬)। ফলস্বরূপ রাববুল আলামীন তঁার হারানো সম্পর্কগুলো অভাবনীয়ভাবে জোড়া লাগিয়ে দিয়েছিলেন। অতএব বিশ্বাস রাখুন! দো‘আ হ’ল সেই অদৃশ্য সুতো, যা ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্ককে এমনভাবে সেলাই করে দেয়, যেন তা কখনও ছিঁড়েইনি।

পরিশেষে বলব, কারো সাথে মান-অভিমান করে নিজেকে একা করবেন না। দুনিয়া খুবই ক্ষণস্থায়ী। আজ যার সাথে কথা বলছেন না, কাল হয়তো তার জানাযার খবর আসতে পারে। তখন আফসোসের সীমা থাকবে না। রাববুল আলামীন জান্নাতীদের গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘যারা রাগকে সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে দেয়। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন’ (আলে ইমরান ৩/১৩৪)। অতএব আসুন, আজই আমরা আমাদের মান-অভিমানের দেয়াল ভেঙে ফেলি। নিজের ইগোকে পদদলিত করে বাড়িয়ে দেই বন্ধুত্বের হাত। কারণ সম্পর্ক জোড়া লাগানো দুর্বলতা নয় বরং ঈমানের পূর্ণতা। রাববুল আলামীন আমাদের তাওফীক দান করুন- আমীন!


[1]. মুসলিম হা/২৮১২।

[2]. বুখারী হা/৬০৭৭।

[3]. মুসলিম, মিশকাত হা/৪৬৩১।

[4]. আবূদাউদ হা/৫২১২, মিশকাত হা/৪৯৭৯।

[5]. আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৫৯৪।

[6]. মুসলিম হা/২৫৬৫; মিশকাত হা/৫০২৯-৩০।

[7]. শু‘আবুল ঈমান হা/৭৯৯১।

[8]. বায়হাক্বী হা/৭৯৯১; ১০৬৮৪।

[9]. ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন ২/১৭৭।

[10]. আবুদাঊদ হা/৪৮০০; মিশকাত হা/৪৮৩১।

[11]. আহমাদ হা/১৭৪৮৮।

[12]. মুসলিম হা/২৫৮৮; মিশকাত হা/১৮৮৯।






উত্তম মৃত্যুর কিছু নিদর্শন ও আমাদের করণীয় - ইহসান ইলাহী যহীর
যাকাত ও ছাদাক্বা - আত-তাহরীক ডেস্ক
জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছালাত (৯ম কিস্তি) - মুযাফফর বিন মুহসিন
মুহাসাবা (৩য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
ক্বিয়ামতের আলামত সমূহ (২য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম
হিন্দু শব্দের শাব্দিক, পারিভাষিক ও ঐতিহাসিক স্বরূপ বিশ্লেষণ - আবু হিশাম মুহাম্মাদ ফুয়াদ, বগুড়া।
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঈমান (২য় কিস্তি) - হাফেয আব্দুল মতীন - পিএইচ.ডি গবেষক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়া
যাকাত ও ছাদাক্বা - আত-তাহরীক ডেস্ক
হজ্জের ন্যায় ফযীলতপূর্ণ আমল - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
শবেবরাত - আত-তাহরীক ডেস্ক
নববী চিকিৎসা পদ্ধতি - কামারুযযামান বিন আব্দুল বারী
ইসলাম ও গণতন্ত্র - ডাঃ মুহাম্মাদ আব্দুল হাফীয, চাঁপাই নবাবগঞ্জ
আরও
আরও
.