স্বামীর আনুগত্য : সুখী দাম্পত্য জীবনের সোপান (পূর্ব প্রকাশিতের পর)

স্বামীর অবাধ্যতার স্বরূপ

স্ত্রীর বিভিন্ন কর্মকান্ডেই স্বামীর অবাধ্যতার চিত্র ফুটে ওঠে। সে স্বামীর সাথে এমন আচরণ করে কিংবা এমন ভাষা প্রয়োগ করে যাতে তার অবাধ্যতা প্রমাণিত হয়। নিম্নে কিছু বিষয় উল্লেখ করা হ’ল।-

১. সহাবস্থান ও সহবাসে অনীহা প্রকাশ করা ও বাধা দেওয়া :

অনেক সময় নানা অযুহাতে স্ত্রী স্বামীর সাথে একই বিছানায় শয়ন করতে চায় না; স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার ক্ষেত্রেও অসুস্থতার ভান করে প্রত্যাখ্যান করে; স্বামীর সেবা করার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ছলনা করে এড়িয়ে যায়। এসবই স্বামীর আনুগত্যহীনতার বহিঃপ্রকাশ। অথচ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَا تُؤَدِّي الْمَرْأَةُ حَقَّ رَبِّهَا حَتَّى تُؤَدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا، وَلَوْ سَأَلَهَا نَفْسَهَا وَهِيَ عَلَى قَتَبٍ لَمْ تَمْنَعْهُ، ‘সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! স্ত্রী তার স্বামীর অধিকার আদায় না করা পর্যন্ত তার প্রভুর অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে না। স্ত্রী শিবিকার মধ্যে থাকা অবস্থায় স্বামী তার সাথে জৈবিক চাহিদা পূরণ করতে চাইলে স্ত্রীর তা প্রত্যাখ্যান করবে না’।[1]

শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেছেন,الْوَاجِب عَلَيْهَا طَاعَة زَوجهَا إِذا لم يأمرها بِمَعْصِيَة، ‘তার (স্ত্রীর) উপরে ওয়াজিব হ’ল তার স্বামীর আনুগত্য করা যদি না সে তাকে পাপাচারের নির্দেশ দেয়’।[2]

২. স্বামীর বিরোধিতা করা :

স্ত্রী অনেক সময় স্বামীর সকল কাজে বিরোধিতা করে। স্বামী কোন বিষয় নিষেধ করলে সে তা বেশী করে। কোন কাজ করতে বললে সে তা না করে হাত গুটিয়ে বসে থাকে। সময়মত ছালাত আদায় করার কথা বললে সে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বে আদায় করে। পর্দা পালনের নির্দেশ দিলেও সে বেপর্দায় চলে। এসবই স্বামীর অবাধ্যতার নামান্তর। অথচ স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর জন্য আবশ্যক। রাসূল (ছাঃ) বললেন,لَا يَصْلُحُ لِبَشَرٍ أَنْ يَسْجُدَ لِبَشَرٍ، وَلَوْ صَلَحَ لِبَشَرٍ أَنْ يَسْجُدَ لِبَشَرٍ، لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا، مِنْ عِظَمِ حَقِّهِ عَلَيْهَا، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَوْ كَانَ مِنْ قَدَمِهِ إِلَى مَفْرِقِ رَأْسِهِ قُرْحَةٌ تَنْبَجِسُ بِالْقَيْحِ وَالصَّدِيدِ، ثُمَّ اسْتَقْبَلَتْهُ تَلْحَسُهُ مَا أَدَّتْ حَقَّهُ، ‘কোন মানুষের জন্য কোন মানুষকে সিজদা করা সঙ্গত নয়। কোন মানুষের জন্য কোন মানুষকে সিজদা করা সঙ্গত হ’লে আমি মহিলাকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে। যেহেতু তার উপর স্বামীর বিশাল অধিকার রয়েছে। সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে, স্বামীর পা থেকে মাথার সিঁথি পর্যন্ত যদি এমন ঘা থাকে, যাতে রক্ত-পুঁজ ঝরে পড়ছে, অতঃপর তা যদি স্ত্রী চাঁটে, তবুও তার অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে না’।[3]

৩. তার আদেশ অমান্য করা :

স্বামীর আদেশ পালন করা স্ত্রীর জন্য অপরিহার্য। রাসূল (ছাঃ) বলেন,لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ النِّسَاءَ أَنْ يَسْجُدْنَ لِأَزْوَاجِهِنَّ لِمَا جَعَلَ اللهُ لَهُمْ عَلَيْهِنَّ مِنَ الْحَقِّ، ‘আমি যদি কোন মানুষকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম তবে স্ত্রীদেরকে আদেশ দিতাম তাদের স্বামীদেরকে সিজদা করতে। কেননা আল্লাহ স্ত্রীদের উপর স্বামীদের অধিকার দিয়েছেন’।[4] কিন্তু অনেক মহিলা নানা অযুহাতে স্বামীর আদেশ অমান্য করে। স্বামী তাকে কোন কাজ করতে বলুক বা তার কোন সেবার কথা বলুক তা সে পসন্দ করে না। পক্ষান্তরে অন্যের নির্দেশ সে বিনা বাক্য ব্যয়ে পালন করে। আবার অনেক সময় সংসারের অনেক কাজ স্বামীকে করতে বাধ্য করে। অথচ নিজে অন্যের কাজ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে করে দেয়। এসবই স্বামীর অবাধ্যতার বহিঃপ্রকাশ।

৪. স্বামীর সাথে অসদাচরণ করা ও অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা :

অনেক মহিলা আছে যারা স্বামীর সাথে অসদাচরণ করে। এমনকি তাকে গালিগালাজ করে। অথচ কোন মুসলিমকে গালি দেওয়া কবীরা গুনাহ।[5] রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ، ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী এবং তার সাথে যুদ্ধ করা কুফরী’।[6] লাক্বীত্ব বিন ছাবেরাহ (রাঃ) বলেন, একদিন আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বললাম, আমার একজন স্ত্রী রয়েছে যে নোংরা কথা বলে ও গালি-গালাজ করে। তিনি বললেন, তালাক দিয়ে দাও। আমি বললাম, তার ঘরে আমার একটি সন্তান রয়েছে এবং সে আমার পুরানো সঙ্গিনী। তিনি বললেন, তাকে উপদেশ দাও। যদি তার মধ্যে কোন কল্যাণ থাকে, তাহ’লে সে তা গ্রহণ করবে। তবে তুমি তোমার শয্যাসঙ্গিনীকে বাঁদীর ন্যায় মারবে না’।[7]

অনেক মহিলা স্বামীর সাথে শুধু দুর্ব্যবহারই করে না বরং তার সাথে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে, স্বামীকে নানাভাবে অপমান অপদস্ত করে। কিন্তু স্বামী সমাজের ভয়ে এবং মান-সম্মান

রক্ষার্থে সব মুখ বুঝে সহ্য করে।

৫. স্বামীর সাথে উচ্চবাচ্য করা বা তার উপরে চড়াও হওয়া :

অনেক মহিলা স্বামীর সাথে উচ্চস্বরে কথা বলে। কোন কোন সময় সে স্বামীর গায়ে পর্যন্ত হাত তোলে। অথচ তার ভরণ-পোষণ, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও বাসস্থান সব কিছুর ব্যবস্থা স্বামীই করেন। এজন্য রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা সেই মহিলার প্রতি তাকাবেন না, যে তার স্বামীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না; অথচ সে তার মুখাপেক্ষী’।[8] তিনি আরো বলেন,لَوْ تَعْلَمُ الْمَرْأَةُ حَقَّ الزَّوْجِ؛ مَا قَعَدَتْ ما حَضَرَ غَداؤه وعَشَاؤُه حتى يَفْرُغَ ‘মহিলা যদি স্বামীর হক (যথার্থরূপে) জানত, তাহ’লে তার দুপুর অথবা রাতের খাবার খেয়ে শেষ না করা পর্যন্ত সে (তার পাশে) দাঁড়িয়ে থাকত’।[9]

স্বামীর অবাধ্যতার কারণ

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক দুনিয়াতে অত্যধিক নিকটতর ও প্রিয়তর সম্পর্ক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,لَمْ نَرَ- يُرَ لِلْمُتَحَابَّيْنِ مِثْلُ النِّكَاحِ، ‘দু’জনের পারস্পরিক ভালোবাসা স্থাপনের জন্য বিবাহের চেয়ে উত্তম কিছু নেই’।[10] দু’জনের মধ্যে সুন্দর মিল ও বোঝাপড়ার কারণে এ সম্পর্ক আরো মধুর হয়। কিন্তু নানা কারণে নারীরা স্বামীর অনুগত হয় না; বরং তারা স্বামীর অবাধ্যতা করে। এই অবাধ্যতার কারণে পরকালে শাস্তি হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا اثْنَانِ: امْرَأَةٌ عَصَتْ زَوْجَهَا، ‘ক্বিয়ামতের দিন সর্বাধিক শাস্তিপ্রাপ্ত হবে দু’ধরনের মানুষ। তাদের একজন হ’ল, অবাধ্য স্ত্রী’।[11] নিম্নে স্বামীর অবাধ্যতার কতিপয় কারণ উল্লেখ করা হ’ল।-

১. নারীর দুশ্চরিত্র ও সুশিক্ষার অভাব : নারীদের সঠিক লালন-পালনের যথেষ্ট অভাবে স্বামীর অবাধ্য হওয়ার ঘটনা ঘটে। পারিবারিক সুশিক্ষার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মাঝে যেমন নৈতিকতা তৈরী হয়, তেমনি তাদের মাঝে মানবীয় সৎগুণাবলীর সমাবেশ ঘটে। ফলে তারা গুরুজনদের সাথে সদাচরণ করে এবং ঊর্ধ্বতনদের আনুগত্য করতে শেখে। আর এর অভাবে তাদের মাঝে আদব-কায়দার যথেষ্ট অভাব ঘটে। অপরদিকে দুশ্চরিত্রা নারী অধিক পুরুষে আসক্ত থাকে। ফলে সে স্বামীর অনুগত হয় না। বরং সে স্বামীর অর্থে পরিপুষ্ট হয়ে অন্যের মনোরঞ্জনে ব্যস্ত থাকে।

২. স্বামীর মর্যাদা সম্পর্কে স্ত্রীর অজ্ঞতা : স্বামীর মর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, তার অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং তার আনুগত্যের গুরুত্ব না জানার কারণে নারীরা স্বামীর অবাধ্যতা করে। তাই এ বিষয়ে জ্ঞানার্জন করা যরূরী। কুরআন-হাদীছ ও ইসলামী বই-পুস্তক অধ্যয়েনর মাধ্যমে এ

বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা যায়।

৩. দৈহিক ও মানসিক চাপ : স্ত্রী প্রায়শই ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে থাকে। যার মধ্যে রয়েছে কাজের চাপ থেকে শুরু করে পারিবারিক দায়িত্ব। এতে তিনি ক্লান্তি বোধ করেন এবং সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এসব চাপের কারণে অনেক স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হয়। অনেক সময় শাশুড়ী-ননদ, দেবর-ভাসুরদের নানা কথা শুনতে হয়। এসব ক্ষেত্রে স্বামী সহযোগী ও সহমর্মী না হ’লে স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হয়ে পড়ে।

৪. কারো মাধ্যমে প্রভাবিত হওয়া : পারিবারিক বিষয়ে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধবদের হস্তক্ষেপ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমস্যা ও উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যার ফলে স্ত্রী অবাধ্য হ’তে পারে। কখনও এমন কোন মানুষ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে এসে উপস্থিত হয় যে স্ত্রীকে তার স্বামীর অবাধ্য হ’তে প্ররোচিত করে অথবা এমন পরিবেশে বসবাস করা যা নারীদেরকে স্বামীর অবাধ্যতা করতে উৎসাহিত করে। এজন্য পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা দেখে বাড়ী বা অবস্থানস্থল নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

৫. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সামাজিক ও চিন্তাগত বৈপরীত্য : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পার্থক্য এবং তাদের মধ্যে মর্যাদাগত ব্যবধান থাকলে স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হয়ে যায়। তাছাড়া শিক্ষাগত ব্যবধান থাকলে এমন অবাধ্যতার ঘটনা ঘটে।

৬. স্বামীর কাছ থেকে কঠোরতা বা সহিংসতা : স্ত্রীর প্রতি স্বামীর যেকোন ধরনের সহিংসতা বা রূঢ় আচরণ তাকে বিদ্রোহী করে তুলতে পারে এবং তার প্রতি অন্যায় ব্যবহার কিংবা তাকে হুমকি-ধমকির কারণে স্বামীর আনুগত্য করতে অস্বীকার করতে পারে। এজন্য রুক্ষ্ম আচরণ পরিহার করা এবং তার সাথে ভাল ব্যবহার করা আবশ্যক।

৭. স্বামী অপেক্ষা স্ত্রী সম্ভ্রান্ত হওয়া : অর্থ-বিত্ত, অধিক সৌন্দর্য, আভিজাত্য বা বংশীয় মর্যাদার কারণে স্ত্রীর স্বামীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রভৃতি তাকে স্বামীর প্রতি অহংকারী করে তোলে। ফলে সে স্বামীর অবাধ্য হয়। এজন্য স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কুফূ বা সমতা থাকা যরূরী।

৮. পশ্চিমা সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের প্রভাব : পশ্চিমাদের নারী স্বাধীনতার বুলি এবং তাদের প্রচার-প্রপাগান্ডা দ্বারা নারীরা প্রভাবিত হয়, যা তাদেরকে ইসলামী পরিবারের নিয়ম-নীতি ও আদর্শ থেকে দূরে সরিযে দেয় এবং পুরুষদের সাথে সমতা দাবী করা এবং তাদের আনুগত্যের বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে উৎসাহিত করে।

৯. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সমস্যা : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিদ্যমান নানা সমস্যা এবং স্বামীর মন-মানসিকতা ও তার বিশেষ চাহিদা সম্পর্কে স্ত্রীর অনুধাবনের অভাব; পরস্পরের মাঝে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব থেকে অবাধ্যতার সূত্রপাত হয়। সুতরাং নিজেদের মাঝে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা যরূরী। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক ব্যবধান বিভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে, যেমন বোঝাপড়ার অভাব বা খোলামেলা আলোচনার অভাব। যখন স্ত্রী মনে করে যে তার সঙ্গী তার মানসিক চাহিদা পূরণ করছে না, তখন সে সরে যেতে পারে অথবা অবাধ্য হয়ে পড়তে পারে।

১০. দৈহিক অক্ষমতা ও যৌন সম্পর্কের অবনতি :

যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক ও শারীরিক যোগাযোগ ব্যাহত হয়, তাহ’লে স্ত্রী হতাশ হয়ে পড়ে এবং জৈবিক চাহিদা পূরণের অভাব বোধ করে, যাতে সে বিদ্রোহী হ’তে পারে অথবা স্বামীর প্রতি কর্তব্য পালনে অস্বীকৃতি জানাতে পারে।

১১. স্ত্রীর প্রতি অবিচার ও তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা : স্বামীর অবিচার, স্ত্রীর অধিকারের প্রতি অবহেলা, স্ত্রীর প্রতি কঠোরতা এবং স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে ব্যর্থতা। যখন উভয় পক্ষই পারস্পরিক শ্রদ্ধা বা উপলব্ধির অভাব অনুভব করে, তখন অবজ্ঞা বা অবহেলার অনুভূতি তৈরি হ’তে পারে, যা স্ত্রীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে প্ররোচিত করে।

১২. অর্থনৈতিক অবস্থা : স্ত্রীদের অবাধ্যতার পিছনে আর্থিক দুর্বলতা ও অস্বচ্ছলতা অন্যতম প্রধান কারণ। আর্থিক দুর্বলতা বা অসচ্ছলতা স্ত্রীকে নিরাপত্তাহীন এবং ভবিষ্যত সম্পর্কে উদ্বিগ্ন করতে পারে। ফলে সে স্বামীর অবাধ্য হ’তে পারে। এক্ষেত্রে আল্লাহর উপরে ভরসা ও তাক্বদীরের উপরে বিশ্বাসী হওয়ার নছীহত করা দরকার।

১৩. স্ত্রীর অতিরিক্ত স্বাধীনতা : কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রীর অতিরিক্ত স্বাধীনতা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যথেচ্ছা চলার মানসিকতা তৈরী হয়। ফলে এক সময়ে সে আনুগত্যহীনতার দিকে ধাবিত হয়।

স্ত্রীকে অবাধ্যতা থেকে ফিরাতে করণীয়

বিবাহের পরে একজন নারী নিজের সকল নিকটাত্মীয় তথা পিতা-মাতা, ভাই-বোন ছেড়ে এবং পরিচিত পরিবেশ থেকে একটি সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে এবং নতুন জায়গায় চলে আসে। কেবল স্বামীর ভালবাসার উপরে নির্ভর করেই সে সব ত্যাগ করে। সুতরাং তার সাথে একমত হয়ে সংসার সাজাবে, গড়ে তুলবে নিজের স্বপ্নের ভূবন। সেখানে কেন অবাধ্যতা ও আনুগত্যহীনতার দুষ্টুক্ষত বাসা বাঁধবে, মধুর সম্পর্ককে কেন বিষিয়ে তুলবে? পরিবেশ-পারিপার্শ্বিকতা ও শয়তানী চক্রান্তের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ-বিসম্বাদ শুরু হয়। ফলে স্ত্রী অবাধ্য হয়ে যায়। এ অবাধ্যতা থেকে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে ইসলাম সুন্দর ব্যবস্থাপনা দিয়েছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হ’ল।-

১. উপদেশ দেওয়া ও পরিণতি সম্পর্কে সাবধান করা : স্বামীর দায়িত্ব হ’ল স্ত্রীকে সংশোধন করা বা সংশোধনের চেষ্টা করা। যদি কোন কারণে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্য হয় বা তার অধিকার আদায় না করে; বরং উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তবে স্বামীর দায়িত্ব হ’ল তাকে সংশোধনের সর্বাত্মক চেষ্টা করা। এজন্য তাকে উপদেশ দেওয়া ও অবাধ্যতার পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করা যরূরী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَاللَّاتِيْ تَخَافُوْنَ نُشُوْزَهُنَّ فَعِظُوْهُنَّ وَاهْجُرُوْهُنَّ فِيْ الْـمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوْهُنَّ، فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوْا عَلَيْهِنَّ سَبِيْلًا، إِنَّ اللهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيْرًا، ‘আর তোমরা যেসব স্ত্রীর অবাধ্যতার আশংকা কর, তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের বিছানা পৃথক করে দাও এবং (প্রয়োজনে) প্রহার কর। অতঃপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তাহ’লে তাদের জন্য অন্য কোন পথ তালাশ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বোচ্চ ও মহীয়ান’ (নিসা ৪/৩৪)

তাদের সাথে সদাচরণের মাধ্যমে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। রাসূল (ছাঃ) বলেন,وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا، فَإِنَّهُنَّ خُلِقْنَ مِنْ ضِلَعٍ، وَإِنَّ أَعْوَجَ شَىْءٍ فِى الضِّلَعِ أَعْلاَهُ، فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهُ كَسَرْتَهُ، وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ فَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا، ‘আর তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়। যদি তা সোজা করতে যাও, তাহ’লে ভেঙ্গে যাবে। আর যদি তা যেভাবে আছে সেভাবে রেখে দাও তাহ’লে বাঁকাই থাকবে। অতএব তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর’।[12] অন্যত্র তিনি বলেন, إِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ لَنْ تَسْتَقِيمَ لَكَ عَلَى طَرِيقَةٍ، فَإِنِ اسْتَمْتَعْتَ بِهَا اسْتَمْتَعْتَ بِهَا وَبِهَا عِوَجٌ، وَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهَا، كَسَرْتَهَا وَكَسْرُهَا طَلَاقُهَا، ‘নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের একটি হাড় দিয়ে। সে কখনো তোমার জন্য কোন নিয়মতান্ত্রিকতায় স্থির থাকবে না। সুতরাং তুমি যদি তাকে দিয়ে উপকৃত হ’তে চাও তবে তার বক্রতা অবশিষ্ট রেখেই তাকে দিয়ে উপকৃত হ’তে হবে। আর তাকে সোজা করতে গেলে তুমি তাকে ভেঙ্গে ফেলবে, আর তাকে ভেঙ্গে ফেলা অর্থ হ’ল তাকে তালাক দেওয়া’।[13]

স্ত্রীর মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে দোষ-ত্রুটি থাকলেই যে তাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে এমন নয়; বরং তার মধ্যে অনেক ভাল গুণও থাকে। তার কোন বিষয় অপসন্দনীয় হ’লেও তার মাঝে প্রভূত কল্যাণ থাকতে পারে। এজন্যই আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন,وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا، ‘তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস কর। যদি তোমরা তাদের অপসন্দ কর, (তবে হ’তে পারে) তোমরা এমন বস্ত্তকে অপসন্দ করছ, যার মধ্যে আল্লাহ প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন’ (নিসা ৪/১৯)

স্ত্রীর মধ্যে অবাধ্যতা দেখলেই তার ব্যাপারে উত্তেজিত হওয়া স্বামীর জন্য উচিত নয়। বরং নিজেকে সংযত রেখে স্ত্রীকে সুন্দরভাবে বোঝানো এবং তাকে উপদেশ দেয়া উচিত। কোন কারণে স্ত্রীর ভুল ধারণা থাকলে যথাসম্ভব তা দূর করার চেষ্টা করা, স্ত্রীর অন্যায়গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা, তাদের অন্যায় আচরণে ছাড় দেয়া এবং মায়া-মমতার মাধ্যমে যতদূর সম্ভব দাম্পত্য জীবন স্থায়ী করার আপ্রাণ চেষ্টা করা আবশ্যক।

২. বিছানা পৃথক করে দেওয়া : স্ত্রীর অবাধ্যতায় তাকে উপদেশ প্রদান করায় যদি সে সংশোধন না হয় তাহ’লে বিছানা পৃথক করে দিতে হবে। এর মাধ্যমে তাকে মানসিকভাবে শাস্তি দিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। বিছানা আলাদা করে রাখার অর্থ সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, তার সাথে তার বিছানাতেই শয়ন করবে কিন্তু তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক করবে না। তার দিকে পিঠ ঘুরিয়ে শয়ন করবে। অন্যত্র তিনি বলেন, তার সাথে স্বাভাবিক কথা ছাড়া আর কিছু বলবে না।[14]

ইমাম কুরতুবী এই পদক্ষেপের উপকারিতা সম্পর্কে বলেন, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসা থাকলে এ অবস্থা তার কাছে খুবই অসহনীয় ও কষ্টকর হবে, ফলে সে সংশোধন হবে। কিন্তু ভালোবাসায় ত্রুটি থাকলে বা মনে ঘৃণা থাকলে নিজ অবাধ্যতার উপর সে অটল থাকবে, সংশোধনের পথে অগ্রসর হবে না।[15]

৩. মৃদু প্রহার করা : উপদেশ প্রদান ও বিছানা পৃথক করায় কাজ না হ’লে হালকা প্রহার করা যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি তোমরা তাদের অবাধ্যতার আশংকা কর, তাহ’লে তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের বিছানা পৃথক করে দাও এবং (প্রয়োজনে) প্রহার কর’ (নিসা ৪/৩৪)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,فَاتَّقُوا اللهَ فِي النِّسَاءِ، فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللهِ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللهِ، وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ، فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ، وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، ‘মহিলাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কারণ তাদেরকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসাবে গ্রহণ করেছ। আল্লাহর কালেমার সাহায্যে তাদের লজ্জাস্থানকে বৈধ করেছ। তাদের উপর তোমাদের অধিকার হ’ল, তারা এমন কাউকে তোমাদের বিছানা মাড়াতে দেবে না, যাকে তোমরা অপসন্দ কর। এমন করলে তাদেরকে হালকাভাবে প্রহার কর। আর প্রচলিত নিয়মে তাদের খাওয়া-পরার দায়িত্ব তোমাদের উপর’।[16]

৪. উভয়পক্ষের সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা :

উল্লিখিত উপায় গ্রহণ করার পরও যদি কোন কাজ না হয় তবে ইসলামের নির্দেশনা হ’ল উভয় পক্ষ থেকে এক বা একাধিক সালিশের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا، ‘আর যদি তোমরা (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশংকা কর, তাহ’লে স্বামীর পরিবার থেকে একজন ও স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত কর। যদি তারা উভয়ে মীমাংসা চায়, তাহ’লে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে (সম্প্রীতির) তাওফীক দান করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও তোমাদের সকল বিষয়ে অবগত’ (নিসা ৪/৩৫)। সুতরাং উত্তেজিত বা আক্রোশবশত কোনভাবেই স্ত্রীর প্রতি অমানবিক আচরণ বা অবিচার করা যাবে না। কুরআনুল কারীমের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করলে স্ত্রীরা অবাধ্যতা থেকে ফিরে আসতে বাধ্য। আর তাতে দাম্পত্য জীবন হয়ে উঠবে সুখ ও শান্তিময়।

যেসব কাজ অবাধ্যতার শামিল নয়

স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর জন্য আবশ্যক। অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর কোন কোন কথা অমান্য করে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তার মতের বিরুদ্ধে কাজ করে। কিন্তু তার সকল কাজ স্বামীর অবাধ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয়। নিম্নে কিছু বিষয় উল্লেখ করা হ’ল যাতে স্বামীর অবাধ্যতা সাব্যস্ত হয় না।

১. আল্লাহর অবাধ্যতার নির্দেশ না মানা :

আল্লাহর অবাধ্যতা করে স্ত্রী স্বামীর আনুগত্য করবে না। যদি স্বামী পর্দা খুলতে, পরপুরুষদের সাথে মিশতে অথবা হারাম ভক্ষণ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহ’লে এটা অবাধ্যতা নয়, কারণ স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির কোন আনুগত্য নেই। বরং আনুগত্য হ’ল সৎকর্মের মধ্যেই।[17]

২. যা পালন করলে দৈহিক ও দ্বীনী ক্ষতি রয়েছে :

যে কাজ করলে স্ত্রীর নিজের বা তার দ্বীনের ক্ষতি হবে অথবা এটি করার মাধ্যমে তার কষ্টের কারণ হবে। উদাহরণ স্বরূপ যদি তাকে কোন বিপজ্জনক দেশে ভ্রমণ করতে বলা হয় অথবা কোন পরিত্যক্ত বাড়িতে একাকী যেতে বলা হয় এবং সে তা অস্বীকার করে, তাহ’লে সে অবাধ্য হবে না। একইভাবে যদি তাকে কোন অমুসলিম দেশে ভ্রমণ করতে বলা হয়, তাহ’লে তার অস্বীকার করার অধিকার আছে। এক্ষেত্রে সে স্বামীর আনুগত্য করতে বাধ্য নয়।

৩. ফরয হজ্জ-ওমরাহ পালনে সফর করা :

যদি স্ত্রী ফরয হজ্জ-ওমরা বা ওয়াজিব হিজরতের জন্য ভ্রমণ করে এবং স্বামী তাকে বাধা দেয় আর সে ইবাদত সম্পাদন করে, তাহ’লে সে অবাধ্য নয়। আর তার জন্য স্বামীর অনুমতি নেওয়া এবং তার সাথে নম্র আচরণ করা যরূরী। অনুরূপভাবে যদি সে স্বীয় প্রয়োজনে স্বামীর অনুমতি নিয়ে ভ্রমণ করে, তাহ’লে সে অবাধ্য বলে গণ্য হবে না।

৪. শারঈ ওযর বা অন্য কোন বাধ্যগত কারণে জৈবিক চাহিদার আহবানে সাড়া না দেওয়া : শারঈ ওযর বা যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ অথবা শারীরিক সমস্যা এবং উপযুক্ত জায়গা বা পরিবেশ না থাকার কারণে জৈবিক চাহিদার আহবানে সাড়া দিতে অস্বীকার করা স্বামীর অবাধ্যতা নয়।

৫. সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ না করা : যে কাজ স্ত্রীর জন্য খুব কঠিন তথা তার সাধ্যাতীত কিংবা তার জন্য উপযুক্ত নয়, সেই কাজ না করলে তা স্বামীর আনুগত্যহীনতা নয়। আল্লাহ কোন বান্দার উপর তার সাধ্যের বাইরে কোন বোঝা চাপান না।[18]

৬. দ্বীনী কারণে নিজের বা স্বামীর আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক না রাখা : দ্বীন পরিপন্থি কর্মকান্ড অথবা নিজের কিংবা তার সন্তানদের ক্ষতির কারণে নিজ আত্মীয়-স্বজন বা স্বামীর আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক না রাখা স্বামীর অবাধ্যতা নয়।

৭. সতীনের সাথে একই স্থানে অবস্থান না করা :

এমন কোন স্থানে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকা যেখানে স্বামী তার অন্য স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। কারণ লজ্জাশীলতা নারীর ভূষণ। সুতরাং নিজের ব্যক্তিত্ব, আত্মসম্মান বজায় রাখতে পৃথক স্থানে থাকা তার অধিকার, যা পালন করা স্বামীর কর্তব্য।

মোদ্দাকথা হ’ল, যে কোন কাজ যা পালন বা বর্জনে নারীর ধর্মীয় বা পার্থিব ক্ষতি নিহিত অথবা তার জন্য আপাত কষ্টের কারণ হয় তা বাধ্যতামূলক নয়। তাই এক্ষেত্রে তা অবাধ্যতা হিসাবে গণ্য হবে না।

স্বামীর নির্যাতনের ক্ষেত্রে স্ত্রীর করণীয়

শয়তানের চক্রান্তে পড়ে অনেক পরিবারে অশান্তি ও কলহ বিরাজ করছে। কেননা শয়তান মানুষের মাঝে শত্রুতা, বিচ্ছিন্নতা ও ঘৃণা সৃষ্টি করে। তার কাছে সর্বাধিক পসন্দনীয় কাজ হচ্ছে, স্বামী স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করা। সেই সাথে ব্যক্তির নির্বুদ্ধিতা, অযৌক্তিক আবেগ, নিয়ন্ত্রণহীন রাগ এবং অতিরিক্ত চাহিদা ইত্যাদি এই অশান্তি ও কলহের কারণ। অথচ ইসলাম পারিবারিক জীবনে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার জন্য ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা ও পরস্পরের প্রতি সদাচরণ অপরিহার্য করেছে। সুতরাং শান্তিপূর্ণ ও সুখী দাম্পত্য জীবনের চাবিকাঠি হ’ল পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ধৈর্য এবং ইসলামী আদর্শ মেনে চলা। স্বামী যেমন তার স্ত্রীর প্রতি দায়িত্বশীল, তেমনি স্ত্রীও তার স্বামীর প্রতি কর্তব্যপরায়ণ হবে। এভাবেই দাম্পত্য জীবন হবে প্রশান্তির এক সুন্দরতম নীড়। এসব কিছুর অভাবে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী নির্যাতনের শিকার হয়। সেক্ষেত্রে স্ত্রীর জন্য কতিপয় করণীয় উল্লেখ করা হ’ল।-

১. আল্লাহর কাছে দো‘আ করা :

বান্দার যে কোন সমস্যায় মহান রবের কাছে সাহায্য চেয়ে দো‘আ করা কর্তব্য। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, তোমার যে কোন প্রয়োজন আল্লাহর কাছে চাও।[19] আর স্বামী-সন্তানের জন্য দো‘আ এভাবে কুরআনে এসেছে,رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا، ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদের মাধ্যমে চক্ষু শীতলকারী বংশধারা দান কর এবং আমাদেরকে আল্লাহভীরুদের নেতা বানাও’ (ফুরক্বান ২৫/৭৪)। স্মর্তব্য যে, মুমিনের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হ’ল দো‘আ। বিশেষত ছালাতে সিজদায় ও শেষ রাতে নির্জনে একাকী আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা করা যেন তিনি স্বামীকে হেদায়াত দান করেন। কারণ আল্লাহর রহমত ও দয়া ছাড়া প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই একনিষ্ঠভাবে অধিকহারে দো‘আ অব্যাহত রাখতে হবে।

২. আল্লাহভীতির উপদেশ দেওয়া :

স্বামীকে আল্লাহভীতির উপদেশ দেওয়া। আল্লাহ বলেন, وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا، ‘আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার দোহাই দিয়ে তোমরা পরস্পরের নিকট প্রার্থনা করে থাক এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা সম্পর্কে সতর্ক থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষক’ (নিসা ৪/১)। অন্যত্র তিনি বলেন, وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا، ‘তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে উত্তম আচরণ করো। যদি তাদের কোন বিষয়ে তোমাদের অপসন্দ হয়, তাহ’লে হ’তে পারে, তোমরা যা অপসন্দ করছো, তাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন’ (নিসা ৪/১৯)

রাসূল (ছাঃ) বলেন,فَاتَّقُوا اللهَ فِي النِّسَاءِ، فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللهِ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللهِ، ‘নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কারণ তাদেরকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসাবে গ্রহণ করেছ। আল্লাহর কালিমার (বাক্যের) সাহায্যে তাদের লজ্জাস্থানকে বৈধ করেছ’।[20]

৩. স্ত্রীর হক স্মরণ করিয়ে দেওয়া :

স্বামীর উপরে স্ত্রীর হক রয়েছে, যেমন স্ত্রীর উপরেও স্বামীর হক আছে। আল্লাহ বলেন,وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ وَاللهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ، ‘আর স্বামীদের উপর স্ত্রীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে এবং স্ত্রীদের উপর স্বামীদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। বস্ত্ততঃ আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়’ (বাক্বারাহ ২/২২৮)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، ‘তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অধিকার রয়েছে’।[21] এসব বিষয় স্বামীকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া, যাতে সে নিজের ভুল থেকে ফিরে আসে।

৪. ধৈর্য ধারণ করা :

বিপদ-মুছীবতে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ বিপদাপদ দিয়ে মুমিনকে পরীক্ষা করে থাকেন। তাই বিপদে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা কর্তব্য। রাসূল (ছাঃ) বলেন,إِنَّ عِظَمَ الجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ البَلَاءِ، وَإِنَّ اللهَ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلَاهُمْ، فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرِّضَا، وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السَّخَطُ، ‘বড় বিপদে বড় পুরস্কার। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন জাতিকে ভালোবাসলে তাদের পরীক্ষা করেন। যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে তার জন্য রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর যে তাতে অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য রয়েছে অসন্তুষ্টি’।[22] তিনি আরো বলেন,عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ ‘মুমিনের অবস্থা ভারি অদ্ভূত। তাঁর সমস্ত কাজই তাঁর জন্য কল্যাণকর। মুমিন ব্যতীত অন্য কারো জন্য এ কল্যাণ লাভের ব্যবস্থা নেই। তারা আনন্দ (সুখ শান্তি) লাভ করলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়, আর দুঃখকষ্টে আক্রান্ত হ’লে ধৈর্যধারণ করে, এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়’।[23]

৫. নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করা : স্বামীর নির্যাতনের পিছনে স্ত্রীর কোন দোষ-ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করে নেওয়া যরূরী। কেননা প্রবাদ আছে, যে স্ত্রীর যবান চলে বেশী, তার স্বামীর হাত চলে বেশী। যদি এমনটি হয় তাহ’লে যবান সংযত করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেষ্ট হওয়া অতি যরূরী। আর স্বামীর অপসন্দনীয় কোন কাজ করা কিংবা সে রাগান্বিত হয় এমন সব কথা ও কাজ পরিহার করতে হবে।

৬. স্বামীর সেবা-যত্নের প্রতি সজাগ হওয়া :

পুরুষ নিজের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হ’লে তার মেজায খিটখিটে হয়ে যায়। সুতরাং তার প্রয়োজন ও চাহিদার প্রতি খেয়াল রাখা এবং সে বিশেষ কাজে আহবান করলে তার আহবানে সাড়া দেওয়া যরূরী। কৃত্রিমভাবে হ’লেও এবিষয়ে অধিক আগ্রহী হ’লে তার রাগ প্রশমনে খুব দ্রুত কাজ করবে।

৭. স্বামীর প্রশংসা করা :

স্বামী যতই খারাপ হোক না কেন নিশ্চয়ই তার মাঝে কিছু ভালো গুণ আছে। তাই স্বামীর সামনে তার ভালো গুণগুলো উল্লেখ করা উচিত, যা অব্যর্থ নিয়ামকের মত কাজ করতে পারে। আর তার প্রশংসা করার সময় নিজেকে বিশেষভাবে পরিপাটি রাখা, যাতে সে স্ত্রীর প্রতি আকৃষ্ট হয়। এতে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হওয়া ভালোবাসা পুনরজ্জীবিত হবে ইনশাআল্লাহ।

৮. অন্যের মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া : স্ত্রী হিসাবে অবশ্যই স্বামীকে উত্তম পন্থায় উপদেশ দেওয়া উচিত। আর এক্ষেত্রে ধৈর্য, ভালোবাসা ও কোমলতা বজায় রাখা একান্তই প্রয়োজন। হৃদয়গ্রাহী ও মিষ্টি-মধুর ভাষায় তার ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়া যায়। তবে সে যখন প্রফুল্ল থাকে তখন তা উচিত। রূঢ় আচরণ পরিহার করে হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা ও সদাচরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা কর্তব্য। এতে কাজ নাহ’লে প্রজ্ঞার সাথে তার পরিবারের নিকটস্থ কোন সৎ ও বিচক্ষণ ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে উপদেশ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

পিতা-মাতা ও স্বামীর আদেশ বিপরীতমুখী হ’লে :

স্বামী ও পিতা-মাতা উভয়ের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা ওয়াজিব। তাই সাধ্যমত উভয়কে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করতে হবে। এরপরেও যদি উভয়ের আদেশ-নিষেধের মাঝে চূড়ান্ত বৈপরিত্য দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে সংসার জীবনে বৈষয়িক বিষয় সমূহে স্বামীর আদেশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কেননা বিবাহের পূর্ব পর্যন্ত নারীরা পিতা-মাতার নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকে। কিন্তু বিবাহের পর তারা স্বামীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সুতরাং সেসময় স্বামীর আদেশ-নিষেধ মান্য করাই তার জন্য অগ্রগণ্য হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি যদি কাউকে কোন মানুষের সামনে সিজদা করার আদেশ দিতাম, তাহ’লে স্ত্রীকে তার স্বামীর সামনে সিজদা করতে বলতাম।[24] তিনি আরো বলেন, ক্বিয়ামতের দিন সর্বাধিক শাস্তিপ্রাপ্ত হবে দু’ধরনের মানুষ। তাদের একজন হ’ল, অবাধ্য স্ত্রী।[25] ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, বিবাহিত নারীর স্বামীই আনুগত্যের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার উপর অগ্রগণ্য। তার জন্য স্বামীর আনুগত্য করা আবশ্যক।[26] অন্যত্র তিনি বলেন, পিতা-মাতা বা অন্য কেউ আদেশ দিলেও স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ব্যতীত বাইরে বের হ’তে পারবে না। এ ব্যাপারে চার ইমামের ঐক্যমত রয়েছে।[27] অতএব পিতা-মাতা এবং স্বামীর আদেশ সাংঘর্ষিক হ’লে স্ত্রী স্বামীর আদেশ মান্য করবে। যদি সেটি গোনাহের আদেশ না হয়।

ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, স্বামীর আনুগত্য করা তার (স্ত্রীর) জন্য মায়ের আনুগত্যের চেয়ে অধিক আবশ্যক, যদি না স্বামী তাকে (মায়ের কথা মানার) অনুমতি দেন।[28] ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, যে সকল আনুগত্য এক সময় পিতা-মাতার প্রতি আবশ্যক ছিল, বিবাহের পর তা স্বামীর প্রতি স্থানান্তরিত হয়ে যায়। বিবাহের পর স্ত্রীর উপর পিতা-মাতার আনুগত্য অপরিহার্য থাকে না। পিতা-মাতার হক ছিল রক্তের সম্পর্কের কারণে আর স্বামীর হক এসেছে চুক্তি (নিকাহ) ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে।[29]

পরিশেষে বলব, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সুসম্পর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংসার সুন্দর হয়, সেখানে শান্তির সুশীতল সমীরণ প্রবাহিত হয়। জান্নাতী আবহ তৈরী হয়। অল্প আহার এবং স্বল্প বসন পেয়েও সবাই থাকতে পারে তৃপ্ত; না পাওয়ার হাহকার বা বঞ্চনার হাহুতাশ থাকে না। এই পরিবার গড়ে তুলতে ইসলামী নির্দেশনা মেনে সার্বিক জীবন পরিচালনা করা আবশ্যক। আল্লাহ আমাদের সহায় হৌন-আমীন!


[1]. ইবনু মাজাহ হা/১৮৫৩; ইরওয়া হা/১৯৯৮; ছহীহুত তারগীব হা/১৯৩৮।

[2]. মুখতাছার ফাতাওয়াল মিছরিয়াহ, পৃঃ ৩৪৭।

[3]. আহমাদ হা/১২৬৩৫; ইরওয়া হা/১৯৯৮; ছহীহুল জামে‘ হা/৭৭২৫।

[4]. আবু দাউদ হা/২১৪০; তিরমিযী হা/১১৫৯; ছহীহাহ হা/১২০৩; ইরওয়া হা/১৯৯৮; মিশকাত হা/৩২৬৬।

[5]. নববী, শারহু মুসলিম হা/৬৪-এর ব্যাখ্যা।

[6]. বুখারী হা/৪৮; মুসলিম হা/৬৪; মিশকাত হা/৪৮১৪।

[7]. আবুদাঊদ হা/১৪২; মিশকাত হা/৩২৬০।

[8]. ছহীহুত তারগীব হা/১৯৪৪।

[9]. ছহীহুল জামে‘ হা/৫২৫৯; ছহীহাহ হা/২১৬৬।

[10]. ইবনু মাজাহ হা/১৮৪৭; মিশকাত হা/৩০৯৩; ছহীহাহ হা/৬২৪।

[11]. তিরমিযী হা/৩৫৯, সনদ ছহীহ।

[12]. বুখারী হা/৫১৮৬; মুসলিম হা/১৪৬৮; তিরমিযী হা/১১৬৩।

[13]. মুসলিম হা/১৪৬৮; মিশকাত হা/৩২৩৯; ছহীহাহ হা/৩৫১৭।

[14]. তাফসীর ইবনে কাছীর, সূরা নিসা ৩৪নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ।

[15]. তাফসীর ইবনে কাছীর, সূরা নিসা ৩৪নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ।

[16]. মুসলিম হা/১২১৮; মিশকাত হা/২৫৫৫।

[17]. মুসলিম হা/১৮৪০; আবু দাউদ হা/২৬২৫।

[18]. সূরা বাক্বারাহ ২/২৮৬; মুসলিম হা/১২৫।

[19]. তিরমিযী হা/২৫১৬; ছহীহুল জামে’ হা/৭৯৫৭।

[20]. মুসলিম হা/১২১৮; মিশকাত হা/২৫৫৫।

[21]. বুখারী হা/১৯৭৪।

[22]. তিরমিযী হা/২৩৯৬; মিশকাত হা/১৫৬৬; ছহীহাহ হা/১৪৬।

[23]. মুসলিম হা/২৯৯৯; মিশকাত হা/৫২৯৭।

[24]. আবূদাঊদ হা/২১৪০; মিশকাত হা/৩২৫৫

[25]. তিরমিযী হা/৩৫৯, সনদ ছহীহ

[26]. মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৩২/২৬১

[27]. মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৩২/২৬৩

[28]. শরহু মুনতাহাল ইরাদাত ৩/৪৭

[29]. মাজমূঊল ফাতাওয়া ৩২/২৬০-২৬১






বিষয়সমূহ: বিবাহ ও তালাক
ইসলামে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর সম্পর্ক - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
ঋতুবতী অবস্থায় মহিলাদের জন্য যেসব কাজ নিষিদ্ধ - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
অতি রোমান্টিকতা ও বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন - সারওয়ার মিছবাহ
সন্তান প্রতিপালনের রূপরেখা
স্বামীর আনুগত্য : সুখী দাম্পত্য জীবনের সোপান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
নারীর ভরণ-পোষণের বিধান ও ফযীলত - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
মহিলাদের দাওয়াতী কাজের পদ্ধতি - সারওয়ার মিছবাহ
স্বামীর আনুগত্য : সুখী দাম্পত্য জীবনের সোপান - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
সন্তান প্রতিপালনে কতিপয় বর্জনীয় - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
ইসলামে নারীর কর্মসংস্থান : একটি পর্যালোচনা - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
সন্তান প্রতিপালনে ঘরোয়া সিলেবাস - গবেষণা বিভাগ, হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
আরও
আরও
.