ভূমিকা :
স্বামীর অনুগত হওয়া দাম্পত্য জীবনে সুখের মূল ভিত্তি। শরী‘আতের নির্দেশনা অনুসারে স্ত্রী যদি স্বামীর অনুগত থাকে তাহ’লে যেমন দুনিয়াতে সুখী হবে তেমনি আখেরাতেও। সুখের এ রহস্য অনেক আগেই নবী করীম (ছাঃ) বলে দিয়েছেন। স্বামীর আনুগত্য করলে পারিবারিক জীবনে কল্যাণ হয় এবং পরকালীন জীবনেও অশেষ ছওয়াব লাভ হয়। আল্লাহ স্বামীকে পরিবার প্রধান বানিয়েছেন, পরিবারের পরিচালনা ও দায় তার উপরেই ন্যস্ত করেছেন। আর স্ত্রীকে বানিয়েছে সহকর্মী, সহযোগী। তাই স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর একান্ত কর্তব্য। আর এ কর্তব্য পালনে সম্মান-অসম্মানের কিছু নেই। নিম্নে স্বামীর আনুগত্যের গুরুত্ব ও ফযীলতসহ বিভিন্ন দিক আলোচনা করা হ’ল।-
স্বামীর আনুগত্য বলতে কী বুঝায়?
স্বামীর আনুগত্য করার অর্থ হচ্ছে, তিনি যা আদেশ করবেন তা পালন করা এবং যা নিষেধ করবেন তা থেকে বিরত থাকা। তবে তা যেন অবশ্যই সাধ্যের অতিরিক্ত না হয় এবং আল্লাহর হুকুমের সাথে সাংঘর্ষিক না হয় (বা গুনাহের কোন কাজ না হয়)। যদি স্বামী এমন কোন কাজের আদেশ করেন যা স্ত্রী পালন করলে তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অথবা উক্ত কাজটি যদি আল্লাহর নাফরমানী বা গুনাহের কাজ হয় তাহ’লে সেক্ষেত্রে তার হুকুম মানা আবশ্যক নয়। বরং স্বামীর জন্য স্ত্রীকে এরূপ হুকুম দেয়াই জায়েয নয়।
স্বামীর উচিৎ স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, শক্তি-সামর্থ্য ইত্যাদির দিকে লক্ষ্য রেখে তাকে কাজের হুকুম দেয়া। এটাই সুন্দর দাম্পত্য জীবনের দাবী। সত্যিকার অর্থে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যখন মধুর সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে তখন স্বামীর আনুগত্য ও সেবা করার বিষয়টিকে একজন স্ত্রী হাসিমুখেই বরণ করে নেন। অনুরূপভাবে স্বামীও তখন স্ত্রীর সহযোগী বন্ধুর মত পাশে থাকে এবং তাকে সাহায্য করে। এভাবে দু’জনের সুসম্পর্ক ও ভালবাসার মাধ্যমে একটি দাম্পত্য জীবন সুখের তরীতে ভাসতে ভাসতে এগিয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি দাম্পত্য জীবনকে সুখ ও ভালবাসা দ্বারা পূর্ণ করে দিন-আমীন!
স্বামীর আনুগত্যের ফযীলত :
স্বামীর আনুগত্যের বহু ফযীলত রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনে। দাম্পত্য জীবনকে সুখের করতে, সংসারকে উন্নতি-অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিতে এবং ইবাদত কবুল হওয়া ও জান্নাত লাভের জন্য স্বামীর আনুগত্য যরূরী। নিম্নে কতিপয় ফযীলত উল্লেখ করা হ’ল।-
১. স্বামীর আনুগত্যশীলা উত্তম নারী :
সতী-সাধ্বী নারীকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবার নারীদের মধ্যে স্বামীর অনুগত স্ত্রীকে উত্তম নারী গণ্য করা হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,خَيْرُ النِّسَاءِ تَسُرُّكَ إِذَا أَبْصَرْتَ وَتُطِيْعُكَ إِذَا أَمَرْتَ وَتَحْفَظُ غَيْبَتَكَ فِيْ نَفْسِهَا وَمَالِكَ، ‘উত্তম স্ত্রী সে যার দিকে তুমি তাকালে তোমাকে আনন্দিত করে, তুমি নির্দেশ দিলে তা পালন করে, তোমার অনুপিস্থিতিতে তার নিজেকে ও তোমার সম্পদ হেফাযত করে’।[1] অন্যত্র তিনি বলেন,أَلاَ أُخْبِرُكَ بِخَيْرِ مَا يَكْنِزُ الْمَرْءُ الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ وَإِذَا أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ وَإِذَا غَابَ عَنْهَا حَفِظَتْهُ، ‘আমি কি তোমাকে মানুষের সর্বোত্তম সম্পদ সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হ’ল, নেককার স্ত্রী। সে (স্বামী) তার (স্ত্রীর) দিকে তাকালে স্ত্রী তাকে আনন্দ দেয়, তাকে কোন নির্দেশ দিলে সে তা মেনে নেয় এবং স্বামী যখন তার থেকে অনুপস্থিত থাকে, তখন সে তার সতীত্বের হেফাযত করে’।[2]
২. স্বামীর আনুগত্য নারীর ইবাদত কবুলের মাধ্যম :
আল্লাহ তাঁর ইবাদতের জন্য মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং কেবল তাঁরই ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশনা মোতাবেক ইবাদত করলে তা কবুল হয়। অন্যথা তা প্রত্যাখ্যাত হয়। তদ্রূপ স্ত্রী স্বামীর অনুগত হ’লে তার ইবাদত কবুল হয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন,اِثْنَانِ لاَ تُجَاوِزُ صَلاَتُهُمَا رُءُوْسَهُمَا عَبْدٌ آبِقٌ مِنْ مَوَالِيْهِ حَتَّى يَرْجِعَ وَامْرَأةٌ عَصَتْ زَوْجَهَا حَتَّى تَرْجِعَ- ‘দুই ব্যক্তির ছালাত তাদের মাথা অতিক্রম করে না। ১. মনিবের নিকট থেকে পলাতক গোলাম যতক্ষণ না সে ফিরে আসে। ২. ঐ মহিলা যে তার স্বামীর অবাধ্যতা করে, যতক্ষণ না সে তার আনুগত্যে ফিরে আসে’।[3]
৩. জান্নাতে প্রবেশের উপায় :
স্বামীর অনুগত স্ত্রী জান্নাতে প্রবেশ করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,
وَنِسَاؤُكُمْ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ الْوَدُوْدُ الْعَؤُوْدُ عَلَى زَوْجِهَا، الَّتِي إِذَا غَضِبَ جَاءَتْ حَتَّى تَضَعَ يَدَهَا فِيْ يَدِهِ، ثُمَّ تَقُولُ: لاَ أَذُوْقُ غَمْضًا حَتَّى تَرْضَى- ‘তোমাদের জান্নাতী রমণীগণ হচ্ছে যারা স্বামীর প্রতি প্রেমময়ী ও স্বামীর নিকটে বারবার আগমনকারিণী। স্বামী ক্রদ্ধ হ’লে সে এসে স্বামীর হাতে হাত রেখে বলে, আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাব না’।[4]
উম্মুল হুছাইন বিন মিহছান তার ফুফু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তার কোন প্রয়োজনে রাসূল (ছাঃ)-এর দরবারে গমন করেন। তার প্রয়োজন শেষ হ’লে রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি কি বিবাহিতা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি তার (স্বামীর) জন্য কেমন? তিনি বললেন, আমি অক্ষম না হওয়া পর্যন্ত তার সেবা করি। রাসূল (ছাঃ) বললেন, انْظُرِىْ أَيْنَ أَنْتِ مِنْهُ فَإِنَّهُ جَنَّتُكِ وَنَارُكِ- ‘লক্ষ্য কর, তার থেকে তুমি কোথায় (তার হক্ব আদায়ের ক্ষেত্রে)? কেননা সে তোমার জান্নাত ও জাহান্নাম’।[5]
এই হ’ল ইসলামের শিক্ষা। স্ত্রীর প্রতি ইসলামের নির্দেশনা। এই ইলাহী নির্দেশ ও নববী নির্দেশনা মেনে চললে সংসার হবে জান্নাতের টুকরা সদৃশ। সুখের স্নিগ্ধতা ঝরে ঝরে পড়বে পরিবারে। ফুটন্ত গোলাপের মত সুরভিত হয়ে উঠবে দাম্পত্য জীবন। তাই স্বামীর ঘরে পাঠানোর পূর্বেই মায়েরা স্বীয় কন্যাদের মনে করিয়ে দিতেন এ মূল্যবান নির্দেশনা। কন্যার প্রতি এমন বহু আলোকিত নছীহতে ভরপুর হয়ে আছে ইতিহাসের পাতা। আওফ আশ-শায়বানীর মেয়ের বিয়ে হ’লে স্বামীর হাতে মেয়েকে তুলে দেয়ার মুহূর্তে মা উমামা বিনতে হারেছ মেয়েকে একান্তে ডেকে নিয়ে বলেন, মেয়ে আমার! যে ঘরে তুমি বেড়ে উঠেছ, খুশি ও আনন্দে যাকে ভরে রেখেছ সে ঘর ছেড়ে অপরিচিত ঘরে অপরিচিত একজন মানুষের কাছে তুমি যাচ্ছ। জীবনের এ গুরুতবপূর্ণ সময়ে আমার কয়েকটি নছীহত মনে রেখ। এগুলো তোমার সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে। (তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য নছীহত ছিল) স্বামী তোমাকে কোন আদেশ করলে কখনো তা অমান্য করবে না এবং তার ব্যক্তিগত কোন কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করবে না। ...মনে রাখবে, নিজের চাওয়া ও চাহিদার উপর স্বামীর চাওয়া ও চাহিদাকে প্রাধান্য না দেওয়া পর্যন্ত তুমি কখনো তার মন জয় করতে পারবে না। তুমি যদি তার দাসী হও তাহ’লে সে তোমার দাস হবে’।[6]
আগের যুগের মেয়েরা ঐ অমূল্য উপদেশগুলো মনে গেঁথে রাখত। দাম্পত্য জীবনের সুদীর্ঘ পথের পাথেয় হিসাবে গ্রহণ করত। ফলে বাস্তবেই তাদের স্বামীরা তাদের জন্য কুরবান ছিল। তৎকালীন মেয়েরা স্বামীর পসন্দ-অপসন্দ নতুন জীবনের শুরুতেই জিজ্ঞেস করে নিত, যেন সারা জীবন তা মেনে চলতে পারে। তাই তাদের জীবন হ’ত অনেক সুখের ও আনন্দের।
কাযী শুরাইহ বলেন, বিয়ের রাতে স্ত্রী আমাকে বলল, আমি একজন অপরিচিত নারী। আপনার চাওয়া-পাওয়া ও পসন্দ-অপসন্দ কিছুই আমার জানা নেই। তাই আপনার পসন্দনীয় বিষয়গুলো বলুন যেন আমি তা পালন করতে পারি। আর অপসন্দনীয় বিষয়গুলোও বলুন যেন সেগুলো থেকে বিরত থাকতে পারি। কাযী শুরাইহ তার পসন্দ-অপসন্দের বিষয়গুলো জানান। তার স্ত্রী সেগুলো এতটা যত্নের সাথে মেনে চলতেন যে, কাযী শুরাইহ বলেন,فلبثت معي عشرين سنةً وما بكتت عليها في تلك السنين إلا يوماً واحداً كنت لها، ‘বিশ বছর সে আমার সঙ্গে ছিল। কিন্তু এই দীর্ঘ বছরে কোন কারণে আমি তার প্রতি রাগ করতে পারিনি। তবে একবার ব্যতীত, আর সেবারও আমি তার প্রতি অন্যায় করেছিলাম’।[7] এটা আনুগত্যেরই ফল। এর দ্বারা স্বামী যেমন নিজের ভুল ও অন্যায় স্বীকার করবে তেমনি স্ত্রীকে প্রাণ উজাড় করে ভালবাসবে, তার জন্য কুরবান হবে। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন,أَقَامَت أم صَالح معي عشْرين سنة فَمَا اخْتلفت أَنا وَهِي فِي كلمة ‘আমার সাথে উম্মু ছালেহ বিশ বছর অবস্থান করেছে, একটি কথায়ও আমি ও সে মতভেদ করিনি’।[8] মহিয়সী নারীগণের এ আনুগত্য শুধু স্বামীর জীবদ্দশায়ই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং স্বামীর মৃত্যু পরবর্তী সময়ও তারা স্বামীর প্রতি আনুগত্যের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। এখানে দু’টি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
(১) আবুবকর (রাঃ)-এর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস (রাঃ)। মৃত্যুর সময় আবুবকর (রাঃ) স্ত্রীকে অছিয়ত করে বলেছিলেন, আমি মৃত্যুবরণ করলে তুমিই আমাকে গোসল দেবে। তবে সেদিন ছিয়াম অবস্থায় থাকলে ছিয়াম ভেঙ্গে ফেলবে। কেননা ছিয়াম রেখে গোসল দেওয়া ও মৃত্যুপরবর্তী শোকপরিস্থিতি সামলানো কষ্টকর হবে। অতঃপর আবুবকর (রাঃ) মৃত্যুবরণ করলে আসমা (রাঃ) তাকে গোসল দেন। সেদিন তিনি ছিয়াম রেখেছিলেন। কিন্তু মৃত্যুপরবর্তী শোকের পরিবেশ ও বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে ছিয়াম ভাঙ্গার কথা ভুলে যান। আবুবকর (রাঃ)-এর দাফনের পর দিনের শেষে তার মনে পড়ে তখন তিনি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান। দিন প্রায় শেষ ইফতারের সময় সমাগত। এ অল্প সময়ের জন্য ছিয়াম ভেঙ্গে ফেলবেন? কিন্তু ছিয়াম না ভাঙ্গলে তো স্বামীর কথাও মানা হবে না। স্বামীর আনুগত্য করা হবে না। তাই স্বামীর কথা মত দিন শেষ হয়ে এলেও তিনি ছিয়াম ভেঙ্গে ফেলেন।[9] স্বামীর আনুগত্যের কী উজ্জ্বল উদাহরণ! স্বামীর মৃত্যুর পরও যারা আক্ষরিকভাবেই তার কথা রক্ষার্থে এমন আনুগত্য প্রকাশ করেছেন স্বামীর জীবদ্দশায় তার প্রতি কেমন অনুগত ছিলেন তা সহজেই অনুমেয়।
(২) ফাতেমা বিনতে আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান। ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের স্ত্রী। তিনিও একজন খলীফার স্ত্রী। পৃথিবীর ইতিহাসে বিরলতম সৌভাগ্যের অধিকারিণী একজন নারী। তার পিতা ছিলেন খলীফা, স্বামী ছিলেন খলীফা এবং চার ভাইও ছিলেন খলীফা। তার চার ভাই একের পর এক খলীফা হয়েছেন। পরম আদর-সোহাগে লালিত-পালিত এ মহিলার বিয়েও হয়েছে মহা ধুমধামের সাথে। পিতা তৎকালীন খলীফা আব্দুল মালিক স্বর্ণ-গহনা, হিরা-জহরতের ভান্ডার যেন উজাড় করে দিয়েছিলেন মেয়ের বিয়েতে। তবে ওমর বিন আব্দুল আযীয যখন খলীফা হন তখন স্ত্রীকে সমুদয় গহনা বায়তুল মালে জমা দিতে বলেন। ফাতেমা (রহঃ) স্বামীর কথা মত সবকিছু বায়তুল মালে জমা দেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহঃ) যখন মারা যান তখন তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য কোন সম্পদ ছিল না। তার ভাই ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল মালেক যখন ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের মৃত্যুর পর খলীফা হন তখন বোনকে বায়তুলমাল থেকে তার সমুদয় স্বর্ণ-গহনা ফিরিয়ে দিতে চাইলেন। তিনি তখন বললেন, এসব আমীরুল মুমিনীনের কথা মত বায়তুলমালে দান করে দিয়েছি, فما كنت لأطيعه حيا وأعصيه ميتاً ‘আমি জীবিতাবস্থায় তার আনুগত্য করে মৃত্যুর পর তার অবাধ্য হ’তে পারব না’।[10] যখন তার অর্থের অত্যধিক প্রয়োজন ছিল তখনও তিনি মহা মূল্যবান সম্পদ ফিরিয়ে দিচ্ছেন কেবল স্বামীর আনুগত্যের জন্য। এ ত্যাগ ও কুরবানীর জন্যই ইতিহাসে ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের পাশে তার নামটিও জ্বলজ্বল করছে দ্যোতিময় উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত; হাযার বছর পর আজও তা অমলিন হয়ে আছে।
স্বামীর আনুগত্যের গুরুত্ব :
মুসলিম নারীর উপরে স্বামীর আনুগত্য করা ওয়াজিব। আর অবাধ্য হওয়া হারাম। আব্দুল্লাহ বিন আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) ইরশাদ করেন,لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَّسْجُدَ لِغَيْرِ اللهِ لَأَمَرْتُ الْـمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا، وَالَّذِيْ نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا تُؤَدِّيْ الْـمَرْأَةُ حَقَّ رَبِّهَا حَتَّى تُؤَدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا كُلِّهِ، حَتَّى لَوْ سَأَلَـهَا نَفْسَهَا وَهِيَ عَلَى قَتَبٍ لَمْ تَمْنَعْهُ، ‘আমি যদি কাউকে আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য সিজদা করতে আদেশ করতাম তাহ’লে নারীকে তাঁর স্বামীর জন্য সিজদা করতে আদেশ করতাম। কারণ সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! কোন মহিলা নিজ প্রভুর অধিকার আদায় করেছে বলে ধর্তব্য হবে না যতক্ষণ না সে তার স্বামীর অধিকার আদায় করে। এমনকি কোন মহিলাকে তার স্বামী সহবাসের জন্য ডাকলে তাতে তার অস্বীকার করার কোন অধিকার নেই। যদিও সে তখন উটের পিঠে আরোহী অবস্থায় থাকুক না কেন’।[11]
অন্য হাদীছে এসেছে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خَمْسَهَا وَصَامَتْ شَهْرَهَا وَحَفِظَتْ فَرْجَهَا وَأَطَاعَتْ زَوْجَهَا قِيلَ لَهَا ادْخُلِى الْجَنَّةَ مِنْ أَىِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شِئْتِ، ‘নারী যদি তার পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে, রামাযান মাসের ছিয়াম রাখে, স্বীয় লজ্জাস্থান হেফাযত করে এবং নিজ স্বামীর আনুগত্য করে, তাহ’লে তাকে বলা হবে, জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ কর’।[12]
অন্যত্র এসেছে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ أَنْ تَصُومَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ، وَلَا تَأْذَنَ فِي بَيْتِهِ إِلَّا بِإِذْنِهِ، ‘কোন নারীর পক্ষে বৈধ নয় স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত ছিয়াম রাখা। আর স্বামীর অনুমতি ব্যতীত কাউকে তার ঘরে প্রবেশের অনুমতি দিবে না’।[13]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ، فَلَمْ تَأْتِهِ، فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا، لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ، ‘স্বামী যখন তার স্ত্রীকে বিছানায় আহবান করে, কিন্তু সে ডাকে সাড়া না দেয়। ফলে সে তার ওপর রাগান্বিত হয়ে রাত যাপন করে, তাহ’লে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতারা ঐ নারীর ওপর লানত করতে থাকে’।[14]
অপর বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهَا، فَتَأْبَى عَلَيْهِ، إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا، ‘যার হাতে আমার জীবন সে সত্ত্বার কসম! যে কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে বিছানায় আহবান করে, কিন্তু সে প্রত্যাখ্যান করে, তাহ’লে আসমানে বিদ্যমান সত্ত্বা (অর্থাৎ আল্লাহ) অবশ্যই তার ওপর রাগান্বিত থাকেন, যতক্ষণ না স্বামী তার স্ত্রীর ওপর সন্তুষ্ট হয়’।[15]
শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللهُ، ‘সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত, তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে হেফাযতকারিণী ঐ বিষয়ে যা আল্লাহ হেফাযত করেছেন’ (নিসা ৪/৩৪) এ আয়াতের দাবী অনুযায়ী স্ত্রীর ওপর স্বামীর আনুগত্য করা ওয়াজিব, সেটি তার সাথে সফর হোক, তার সাথে আনন্দ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয় হোক বা অন্য যে কোন চাহিদা হোক। এ কথা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাতও প্রমাণ করে’।[16]
ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) উল্লেখ করেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ‘আর নারীদের জন্য রয়েছে বিধি মোতাবেক অধিকার, যেমন আছে তাদের ওপর (পুরুষদের) অধিকার’ (বাক্বারাহ ২/২২৮)। অপর আয়াতে তিনি বলেন,الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ ‘পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক’ (নিসা ৪/৩৪)। যদি নারী পুরুষের সেবা না করে, বরং পুরুষ নারীর সেবা করে, তাহ’লে নারী তত্ত্বাবধায়ক হবে পুরুষের উপর...। অতঃপর বলেন, সন্দেহ নেই আল্লাহ স্বামীর ওপর স্ত্রীর খরচ, পোষাক ও বাসস্থানের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তাকে ভোগ করা, তার খেদমত গ্রহণ করা ও বিধি মোতাবেক তার সেবার বিনিময়ে। অধিকন্তু মানুষের সাধারণ লেনদেন ও চুক্তিগুলো সমাজে প্রচলিত বিধি ও নীতির ওপর ভিত্তি করেই হয়, (অতএব, বিয়ে পরবর্তী স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও সে নীতি মোতাবেক হবে এটিই স্বাভাবিক)। প্রচলিত নীতি হচ্ছে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর খেদমত করা ও তার ঘরের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া। তিনি আরো বলেন, এক্ষেত্রে সম্ভ্রান্ত ও সাধারণ, ধনী ও গরীবের মাঝে বিভাজন করা দুরস্ত নয়। দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম নারী ফাতেমা (রাঃ)ও স্বামীর খিদমত করতেন। তিনি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে সাংসারিক কাজের অভিযোগ করলে তিনি সে অভিযোগ আমলে নেননি’।[17]
স্বামীর অবাধ্য স্ত্রীর পরিণাম :
স্বামীর অবাধ্য স্ত্রীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। তার ইবাদত কবুল হয় না এবং তার প্রতি আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। আর তার শেষ পরিণতি হয় জাহান্নাম। একদা জনৈকা মহিলা ছাহাবী রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট তার স্বামীর কথা উল্লেখ করলে তিনি তাকে বলেন, انْظُرِيْ أَيْنَ أَنْتِ مِنْهُ، فَإِنَّهُ جَنَّتُكِ وَنَارُكِ. ‘ভেবে দেখো তার সাথে তুমি কি ধরনের আচরণ করছো! কারণ সেই তো তোমার জান্নাত এবং সেই তো তোমার জাহান্নাম’।[18]
কোন নারী তার স্বামীর অবদানসমূহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলে আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি কখনো সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে তাকাবেন না। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) ইরশাদ করেন,لَا يَنْظُرُ اللهُ إِلَى امْرَأَةٍ لَا تَشْكُرُ لِزَوْجِهَا، وَهِيَ لَا تَسْتَغْنِيْ عَنْهُ، ‘আল্লাহ তা‘আলা এমন মহিলার দিকে (সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে) তাকান না, যে নিজ স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, অথচ সে তার স্বামীর প্রতি সর্বদাই মুখাপেক্ষী’।[19]
কোন মহিলা তার স্বামীকে দুনিয়াতে কষ্ট দিলে তার জান্নাতী অপরূপা সুন্দরী স্ত্রী তথা হূররা সে মহিলাকে তিরস্কার করতে থাকে। মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) ইরশাদ করেন,لَا تُؤْذِيْ امْرَأَةٌ زَوْجَهَا إِلاَّ قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الْـحُوْرِ الْعِيْنِ: لَا تُؤْذِيْهِ، قَاتَلَكِ اللهُ فَإِنَّمَا هُوَ عِنْدَكِ دَخِيْلٌ، أَوْشَكَ أَنْ يُّفَارِقَكِ إِلَيْنَا، ‘কোন মহিলা তার স্বামীকে দুনিয়াতে কষ্ট দিলে তার জান্নাতী অপরূপা সুন্দরী স্ত্রীরা বলে, তাকে কষ্ট দিও না। আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন! কারণ সে তো তোমার কাছে কিছুদিনের জন্য। অচিরেই সে তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসবে’।[20]
আল্লাহ, রাসূল (ছাঃ) ও স্বামীর আনুগত্যহীনতার কারণেই অধিকাংশ মহিলা জাহান্নামে যাবে। ইমরান বিনতু হুছাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) ইরশাদ করেন,اطَّلَعْتُ فِيْ الْـجَنَّةِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا الْفُقَرَاءَ، وَاطَّلَعْتُ فِيْ النَّارِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ، ‘আমি জান্নাতে উঁকি মেরে দেখলাম, জান্নাতীদের অধিকাংশই গরীব শ্রেণীর এবং জাহান্নামে উঁকি মেরে দেখলাম, জাহান্নামীদের অধিকাংশই মহিলা’।[21]
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূল (ছাঃ) মহিলাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ! تَصَدَّقْنَ، فَإِنِّيْ أُرِيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ، فَقُلْنَ: وَبِمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ؟ قَالَ: تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيْرَ، ‘হে মহিলারা! তোমরা ছাদাক্বা করো। কারণ আমি তোমাদেরকেই জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী রূপে দেখেছি। মহিলারা বলল, কেন হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)? তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমরা বেশী লা‘নত করে থাকো এবং স্বামীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো না’।[22]
স্বামীর আনুগত্য ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী :
নারীর জন্য তার স্বামীর আনুগত্য ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্বানগণ কতিপয় শর্তারোপ করেছেন। সেগুলো হ’ল।-
১. স্ত্রীকে আল্লাহর অবাধ্যতামূলক আদেশ না করা :
স্বামী তার স্ত্রীকে পাপাচার বা আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ দিবে না। স্বামী এ জাতীয় কোন নির্দেশ দিলে স্ত্রী তা পালন করতে বাধ্য নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন,لاَ طَاعَةَ فِى مَعْصِيَةٍ، إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِى الْمَعْرُوفِ، ‘আল্লাহর নাফরমানীতে কোনরূপ আনুগত্য নেই। আনুগত্য করতে হয় কেবলমাত্র ন্যায়সঙ্গত কাজে’।[23] অন্যত্র তিনি বলেন,لاَ طَاعَةَ لِمَخْلُوْقٍ فِيْ مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ، ‘স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির কোন আনুগত্য নেই’।[24]
২. স্ত্রীর সক্ষমতা ও সামর্থ্যের অতিরিক্ত আদেশ না দেওয়া :
সকল মানুষের সাধ্য ও সক্ষমতা সমান নয়। তাই স্ত্রীকে এমন কাজের নির্দেশ দেওয়া যাবে না, যা করার তার সামর্থ্য নেই বা ঐ কাজ করলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আল্লাহ বলেন,لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا، ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজে বাধ্য করেন না’ (বাক্বারাহ ২/২৮৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ ‘কাউকে ক্ষতি করো না এবং নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ো না’।[25]
৩. পরিবার ও দাম্পত্য জীবন সংশ্লিষ্ট আদেশ দেওয়া :
স্বামীর আনুগত্য করা নারীর জন্য আবশ্যিক, তার বিরোধিতায় সে গোনাগার হবে। স্বামী যদি তাকে এমন কোন নির্দেশ দেয় যাতে কোন ক্ষতি নেই বরং কল্যাণ রয়েছে, সেটা পরিবার বা দাম্পত্য সংশ্লিষ্ট হোক বা না হোক তা পালন করা কর্তব্য। কারণ তা পালন না করলে পারিবারিক জীবনে সমস্যা তৈরী হ’তে পারে। আর ফলশ্রুতিতে বিচ্ছিন্নতা তৈরী হ’তে পারে। ইবনু আবেদীন বলেন, নারীর অধিকার খর্ব করে কিংবা তার ক্ষতি করে অথবা স্বামীর বাড়ী থেকে বের হয়ে যাওয়ার উপলক্ষ হবে এমন সকল কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার তার অধিকার আছে। কিন্তু যে কাজে কোন ক্ষতি নেই তা হ’তে বিরত থাকার কোন সুযোগ নেই। বিশেষত স্বামীর অনুপস্থিতিতে। অতএব নারী পরিবারের কাজ থেকে হাত গুটিয়ে কর্মহীন বসে থাকলে তার মধ্যে নফসের ও শয়তানের কুমন্ত্রণা সৃষ্টি হবে অথবা সে প্রতিবেশী ও অপরিচিতদের সাথে অনর্থক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়বে।[26]
স্বামীর আনুগত্যের স্বরূপ :
স্বামীর আনুগত্য কোন কোন ক্ষেত্রে করা যরূরী এবং কি কি কাজ করলে স্বামীর আনুগত্য প্রকাশ পায় সেগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হ’ল।-
১. পারিবারিক জীবনে সহাবস্থানের ক্ষেত্রে আনুগত্য :
স্বামীর আনুগত্যের অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে নারী স্বীয় সতীত্ব ও ইয্যত-সম্ভ্রম রক্ষা করবে। আর স্বামীর সেবায় ও তার প্রয়োজনে নিজেকে উৎসর্গ করবে। সর্বাবস্থায় সাধ্যমত স্বামীর আহবানে সাড়া দিবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ أَنْ تَجِىءَ لَعَنَتْهَا الْمَلاَئِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ، ‘যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে তার সঙ্গে একই বিছানায় শোয়ার জন্য ডাকে, আর সে আসতে অস্বীকার করে, তাহ’লে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতাগণ ঐ মহিলার ওপর লা‘নত বর্ষণ করতে থাকেন’।[27] তিনি আরো বলেন,إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ، فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا، لَعَنَتْهَا الْمَلاَئِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ- ‘কোন লোক যদি নিজ স্ত্রীকে বিছানায় আসতে ডাকে আর স্ত্রী অস্বীকার করে এবং সে ব্যক্তি স্ত্রীর উপর ক্রুদ্ধ হয়ে রাত্রি যাপন করে, তাহ’লে ফেরেশতাগণ এরূপ স্ত্রীর উপর সকাল পর্যন্ত লা‘নত করতে থাকে’।[28]
অন্যত্র তিনি বলেন,إِذَا بَاتَتِ الْمَرْأَةُ مُهَاجِرَةً فِرَاشَ زَوْجِهَا لَعَنَتْهَا الْمَلاَئِكَةُ حَتَّى تَرْجِعَ- ‘যদি কোন স্ত্রী তার স্বামীর শয্যা ছেড়ে অন্যত্র রাত্রি যাপন করে তাহ’লে যতক্ষণ না সে তার স্বামীর শয্যায় ফিরে আসে, ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তার ওপর অভিশাপ বর্ষণ করতে থাকে’।[29] রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন,وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهَا، فَتَأْبَى عَلَيْهِ، إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا، ‘ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! কোন পুরুষ যদি তার স্ত্রীকে বিছানায় (সহবাসের উদ্দেশে) ডাকে আর স্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করে, তবে আকাশমন্ডলীর অধিকারী তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত তার স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট না হয়’।[30] এসব হাদীছ প্রমাণ করে যে, স্বামীর বিছানা থেকে দূরে থাকা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং তাঁর গযবে নিপতিত হওয়ার অন্যতম বড় কারণ। তাছাড়া ঐ মহিলার জন্য ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত অভিশাপ দিতে থাকেন।
স্বামীর আনুগত্যের মধ্যে এমন সব কাজ অন্তর্ভুক্ত যা সে পসন্দ করে এবং যেসব কাজ স্ত্রীর প্রতি স্বামীর আকর্ষণ বৃদ্ধি করে। যেমন সাজসজ্জা করা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, তার জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা ও শরীরের দুর্গন্ধ দূর করা ইত্যাদি।
স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নফল ছিয়াম রাখাও স্ত্রীর জন্য বৈধ নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন,لاَ يَحِلُّ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَصُومَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، ‘স্বামী (বাড়ীতে) উপস্থিত থাকলে তার অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর জন্য ছিয়াম পালন করা বৈধ নয়’।[31] তিনি আরো বলেন,لَا تَصُومُ الْمَرْأَةُ يَوْمًا تَطَوُّعًا فِي غَيْرِ رَمَضَانَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ، ‘কোন স্ত্রী স্বামীর উপস্থিতিতে তাঁর অনুমতি ব্যতীত একদিনও নফল ছিয়াম রাখবে না’।[32]
২. বাড়ীর বাইরে গমনের ক্ষেত্রে অনুমতি গ্রহণ :
নারীকে প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার অনুমতি ইসলাম দিয়েছে। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, قَدْ أَذِنَ لَكُنَّ أَنْ تَخْرُجْنَ لِحَوَائِجِكُنَّ ‘আল্লাহ প্রয়োজনে তোমাদেরকে বাইরে যাবার অনুমতি দিয়েছেন’।[33] তবে স্ত্রী বিশেষ কোন প্রয়োজনে বাড়ীর বাইরে যেতে চাইলে স্বামীর অনুমতি নিবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,إِذَا اسْتَأْذَنَتِ امْرَأَةُ أَحَدِكُمْ إِلَى الْمَسْجِدِ فَلاَ يَمْنَعْهَا، ‘তোমাদের কারো স্ত্রী মসজিদে যাবার অনুমতি চাইলে তাকে নিষেধ করো না’।[34] এ হাদীছটি ইমাম বুখারী (রহঃ) স্বীয় গ্রন্থে ‘মসজিদে অথবা অন্য কোথাও গমনের জন্য মহিলাদের স্বামীর অনুমতি গ্রহণ’ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন।[35] উক্ত হাদীছের ভিত্তিতে মসজিদে বা অন্যত্র যাওয়ার ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। বাহূতী বলেন,ويحرم على الزوجة الخروج بلا إذن زوجها؛ لأن حق الزوج واجب، فلا يجوز تركه بما ليس بواجب، ‘স্ত্রীর জন্য স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ। কেননা স্বামীর হক আদায় করা ওয়াজিব। সুতরাং যা ওয়াজিব নয় তার জন্য ওয়াজিব পরিত্যাগ করা বৈধ নয়’।[36]
৩. সেবা-যত্ন করার ক্ষেত্রে আনুগত্য :
আসমা (রাঃ) বলেন, আমি সাংসারিক কাজে যুবায়ের (রাঃ)-এর সাহায্য করতাম। তার একটি ঘোড়া ছিল। আমি তার পরিচর্যা করতাম। ঘোড়াটির পরিচর্যা করার চাইতে কোন কাজ আমার কাছে কঠিনতর ছিল না। আমি তার জন্য ঘাস সংগ্রহ করতাম, তার দেখাশুনা ও পরিচর্যা করতে থাকতাম।[37] অন্যত্র এসেছে, তিনি বলেন, যখন যুবায়ের (রাঃ) আমাকে বিয়ে করলেন, তখন তার কাছে কোন ধন-সম্পদ ছিল না। এমনকি কোন জমি-জমা, দাস-দাসীও ছিল না। শুধুমাত্র কুয়ো থেকে পানি উত্তোলনকারী একটি উট ও একটি ঘোড়া ছিল। আমি তাঁর উট ও ঘোড়া চরাতাম, পানি পান করাতাম এবং পানি উত্তোলনকারী মশক ছিঁড়ে গেলে সেলাই করতাম, আটা পিষতাম; কিন্তু ভালো রুটি তৈরি করতে পারতাম না। তাই আনছারী প্রতিবেশী মহিলারা আমার রুটি তৈরিতে সাহায্য করত। আর তারা ছিল খুবই উত্তম নারী’।[38]
আরেকটি হাদীছে এসেছে, আলী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, ফাতেমা (রাঃ) আটা পিষার কষ্টের কথা জানান। তখন তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছে যে, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট কয়েকজন বন্দী আনা হয়েছে। ফাতেমা (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে একজন খাদেম চাইলেন। তিনি তাঁকে পেলেন না। তখন তিনি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট তা উল্লেখ করেন। অতঃপর নবী করীম (ছাঃ) এলে আয়েশা (রাঃ) তাঁর নিকট বিষয়টি বললেন। (রাবী বলেন) আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) আমাদের নিকটে আসলেন। তখন আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। আমরা উঠতে চাইলাম। তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাক। আমি তাঁর পায়ের শীতলতা আমার বুকে অনুভব করলাম। তখন তিনি বললেন, তোমরা যা চেয়েছ, আমি কি তোমাদের তার চেয়ে উত্তম জিনিসের সন্ধান দিব না? যখন তোমরা বিছানায় যাবে, তখন চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহু আকবার’ তেত্রিশবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে, এটাই তোমাদের জন্য তার চেয়ে উত্তম, যা তোমরা চেয়েছ’।[39]
৪. স্বামীর অপসন্দনীয় কাউকে বাড়ীতে প্রবেশ করতে না দেওয়া :
স্বামীর সম্পদ ও বাড়ীর রক্ষণাবেক্ষণ যেমন স্ত্রীর দায়িত্ব তেমনি তার বাড়ীতে এমন কোন লোককে প্রবেশ করতে দিবে না, যাকে স্বামী অপসন্দ করেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন,وَإِنَّ لَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ، أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ، فَإِنْ فَعَلْنَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ، ‘তাদের উপর তোমাদের অধিকার আছে, তারা যেন তোমাদের অপসন্দনীয় ব্যক্তিকে তোমার ঘরে স্থান না দেয়। তারা এরূপ করলে তাদেরকে খুবই হালকা মারধর করো’।[40] ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, এ হাদীছের অর্থ হ’ল স্ত্রী স্বামীর অপসন্দনীয় কাউকে তার বাড়ীতে প্রবেশ করতে দিবে না এবং তার বিছানায় বসতে দিবে না সে পুরুষ হোক বা নারী কিংবা স্ত্রীর মাহরাম কেউ।[41]
৫. স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ ও নিজের হেফাযত করা :
স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার বাড়ী, সন্তান-সন্ততি ও সম্পদের হেফাযত করা স্ত্রীর দায়িত্ব। সেই সাথে নিজের ইয্যত-আব্রু রক্ষা করাও তার অন্যতম দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন, فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللهُ، ‘অতএব সতী-সাধ্বী স্ত্রীরা হয় অনুগত এবং আল্লাহ যার হেফাযত করেছেন, আড়ালেও (সেই গুপ্তাঙ্গের) হেফাযত করে’ (নিসা ৪/৩৪)।
রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হ’ল,أَىُّ النِّسَاءِ خَيْرٌ قَالَ الَّتِى تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ وَتُطِيْعُهُ إِذَا أَمَرَ وَلاَ تُخَالِفُهُ فِى نَفْسِهَا وَمَالِهَا بِمَا يَكْرَهُ. ‘কোন নারী উত্তম? উত্তরে তিনি বললেন, যে স্বামীকে আনন্দিত করে যখন সে (স্বামী) তার দিকে তাকায়; যখন সে নির্দেশ দেয়, তা মান্য করে। তার নিজের ও স্বামীর সম্পদের ব্যাপারে স্বামীর বিরোধিতা করে না’।[42] অর্থাৎ নিজে স্বামীর অপসন্দনীয় কাজ করবে না এবং স্বামীর বিনা অনুমতিতে তার সম্পদ খরচ করবে না। অন্যত্র তিনি বলেন,أَلاَ أُخْبِرُكَ بِخَيْرِ مَا يَكْنِزُ الْمَرْءُ الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ وَإِذَا أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ وَإِذَا غَابَ عَنْهَا حَفِظَتْهُ، ‘আমি কি তোমাকে মানুষের সর্বোত্তম সম্পদ সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হ’ল, নেককার স্ত্রী। সে (স্বামী) তার (স্ত্রীর) দিকে তাকালে স্ত্রী তাকে আনন্দ দেয়, তাকে কোন নির্দেশ দিলে সে তা মেনে নেয় এবং সে যখন তার থেকে অনুপস্থিত থাকে, তখন সে তার সতীত্ব ও তার সম্পদের হেফাযত করে’।[43]
[ক্রমশঃ]
[1]. ত্বাবারাণী, মু‘জামুল কাবীর, ছহীহুল জামে‘ হা/৩২৯৯।
[2]. আবূদাঊদ হা/১৬৬৪; মিশকাত হা/১৭৮১; ছহীহুল জামে‘ হা/১৬৪৩।
[3]. তাবারাণী, ছাগীর; ছহীহুত তারগীব হা/১৮৮৮, ১৯৪৮; ছহীহাহ হা/২৮৮।
[4]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৮৩৫৮; ছহীহুল জামে‘ হা/২৬০৪; ছহীহাহ হা/২৮৭।
[5]. মুসনাদ আহমাদ হা/২৭৩৯২; ছহীহুল জামে‘ হা/১৫০৯; ছহীহাহ হা/২৬১২।
[6]. মুহাম্মাদ ইবুন ইবরাহীম ইবনে ইবরাহীম ইবনে হাস্সান, দুরুস লিশ-শায়খ মুহাম্মাদ হাস্সান, ৪৩/১২পৃঃ; আবদে রাবিবহী, আল-ইকদুল ফারীদ, ৩/১৯১; আল-মুসতাতরাফ, ২/১৮৪।
[7]. ইবনু আসাকির (মৃঃ ৫৭১হিঃ), তারীখু দিমাশক, (বৈরূত : দারুল মা‘রিফাহ, ১৪১৫ হিঃ/১৯৯৫ খ্রিঃ), ২৩/৫৩, ৫৫/৮৯।
[8]. আবুল হুসাইন ইবনু আবী ইয়া‘লা, ত্বাবাক্বাতুল হানাবিলাহ, (বৈরূত : দারুল মা‘রিফাহ, তাবি), ১/৪২৯; আবু ইসহাক বুরহানুদ্দীন, আল-মুক্বতাছিদুল এরশাদ ফী যিকরি আছহাবি ইমাম আহমাদ, (রিয়াদ : মাকতাবাতুর রাশিদ, ১ম প্রকাশ, ১৪১০ হিঃ/১৯৯০ খ্রিঃ), ২/২৮৯।
[9]. আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে সা‘দ (মৃঃ ২৩০হিঃ), ত্বাবাক্বাতুল কুবরা, (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১ম প্রকাশ, ১৪১০ হিঃ/১৯৯০ খ্রিঃ), ৩/১৫১-৫২।
[10]. যয়নাব বিনতু আলী ফাওয়ায আল-আমেলী (মৃঃ ১৩৩২ হিঃ), আর্দ্দুরুল মানছূর ফী ত্বাবাক্বাতি রিবাতিল খুদূর, (মিশর : মাতবা‘আতুল কুবরা আল-আমীরিয়াহ, ১ম প্রকাশ, ১৩১২হিঃ), পৃঃ ৩৬৬।
[11]. ইবনু মাজাহ হা/১৮৮০; আহমাদ ৪/৩৮১; ইবনু হিববান হা/৪১৫৯; বায়হাক্বী ৭/২৯২।
[12]. ছহীহ ইবনু হিববান হা/৪১৬৩; আহমাদ হা/১৬৬১; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৬০-৬১।
[13]. বুখারী হা/৪৮৯৯; মুসলিম হা/১০২৬; আহমদ ২/৩১৬।
[14]. বুখারী হা/৩০৬৫; মুসলিম হা/১৪৩৬; আবু দাউদ হা/২১৪১; আহমদ ২/৪৩৯; দারেমী হা/২২২৮।
[15]. মুসলিম হা/১৭৩৬।
[16]. ইবনু তাইমিয়্যাহ, মাজমূউল ফাতাওয়া ৩২/২৬০-২৬১।
[17]. ইবনুল কাইয়্যিম, হাদইউন নববী ৫/১৮৮-৮৯।
[18]. আহমাদ ৪/৩৪১; নাসাঈ হা/৭৬-৮৩; ইবনু আবী শায়বাহ ৪/৩০৪; হাকিম ২/১৮৯; বায়হাক্বী ৭/২৯১।
[19]. নাসাঈ হা/২৪৯, ২৫০; হাকিম ২/১৯০; বায়হাক্বী ৭/২৯৪।
[20]. তিরমিযী হা/১১৭৪; ইবনু মাজাহ হা/২০১৪; ছহীহাহ হা/১৭৩; ছহীহুল জামে‘ হা/৭১৯২।
[21]. বুখারী হা/৩২৪১; মুসলিম হা/২৭৩৮।
[22]. বুখারী হা/৩০৪; মুসলিম হা/৮০।
[23]. বুখারী হা/৭২৫৭; মুসলিম হা/১৮৪০; মিশকাত হা/৩৬৬৫।
[24]. আহমাদ হা/১০৯৫; শারহুস সুন্নাহ হা/২৪৫৫; ছহীহাহ হা/১৮০; ছহীহুল জামে‘ হা/৭৫২০; মিশকাত হা/৩৬৯৬।
[25]. ইবনু মাজাহ হা/২৩৪১; ইরওয়া হা/৮৯৬; ছহীহাহ হা/২৫০; ছহীহুল জামে‘ হা/৭৫১৭।
[26]. হাশিয়া ইবনে আবদেীন, ৩/৭০৩।
[27]. বুখারী হা/৫১৯৩, ৩২৩৭; ইরওয়া হা/২০০২।
[28]. বুখারী হা/৩২৩৭, ৫১৯৩; মুসলিম হা/১৪৩৬; মিশকাত হা/৩২৪৬।
[29]. বুখারী হা/৫১৯৪; মুসলিম হা/১৪৩৬।
[30]. বুখারী হা/৩২৩৭; মুসলিম হা/১৪৩৬; মিশকাত হা/৩২৪৬।
[31]. বুখারী হা/৫১৯৫; ইরওয়া হা/২০০৪; মিশকাত হা/২০৩১।
[32]. দারেমী হা/১৭২০; ছহীহাহ হা/৩৯৫।
[33]. বুখারী হা/৫২৩৭।
[34]. বুখারী হা/৫২৩৮, ৮৬৫; মুসলিম হা/৪৪২; মিশকাত হা/১০৫৯।
[35]. ছহীহ বুখারী অনুচ্ছেদ-১৬৬, ৩/৪৬৪ পৃঃ।
[36]. মানছূর ইবনু ইউনুস আল-বাহূতী (মৃঃ ১০৫১ হিঃ), কাশশাফুল কিনা‘ (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, তাবি), ৫/১৯৭ পৃঃ।
[37]. মুসলিম হা/২১৮২; আহমাদ হা/২৭০১৭।
[38]. বুখারী হা/৫২২৪; মুসলিম হা/২১৮২।
[39]. বুখারী হা/৩১১৩, ৩৭০৫, ৫৩৬১, ৬৩১৮; মুসলিম হা/২৭২৭।
[40]. মুসলিম হা/১২১৮; আবূদাঊদ হা/১৯০৫; ইবনু মাজাহ হা/৩০৭৪; মিশকাত হা/২৫৫৫।
[41]. মহিউদ্দীন আন-নববী (মৃঃ ৬৭৬হিঃ), আল-মিনহাজ শরহু ছহীহ মুসলিম, (বৈরূত : দারু ইহয়াইত তুরাছিল আরাবী, ২য় সংস্করণ, ১৩৯২ হিঃ), ৮/১৮৪ পৃঃ।
[42]. নাসাঈ হা/৩২৩১; মিশকাত হা/৩২২৭; ছহীহাহ হা/১৮৩৮।
[43]. আবূদাঊদ হা/১৬৬৪; মিশকাত হা/১৭৮১; ছহীহুল জামে‘ হা/১৬৪৩।