ইসলামে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর সম্পর্ক

ভূমিকা :

স্বামীর পিতা-মাতার খেদমতের প্রয়োজন হ’লে স্বামীর কর্তব্য হ’ল তাদের সেবা-যত্ন করা। তবে কোন স্ত্রী যদি সন্তুষ্টচিত্তে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করে, এটা তার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। এর বিনিময়ে সে অনেক ছওয়াব লাভ করে। তবে স্বামীর পিতা-মাতাকে নিজের পিতা-মাতার ন্যায় সম্মান-মর্যাদা ও শ্রদ্ধার চোখে দেখা তার কর্তব্য। মনেপ্রাণে তাদের ভালোবাসা এবং তাদের সেবা-যত্ন করা তার কল্যাণ ও সৌভাগ্যের কারণ হবে। অনুরূপ শ্বশুর-শাশুড়িও পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো আদর-যত্ন ও স্নেহ করবে এবং তার সুখ-সুবিধার প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখবে। যৌথ পরিবারগুলোতে পুত্রবধূরা শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা-যত্ন করে থাকে। এটা আমাদের সমাজের আবহমান কালের রীতি।

বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়, শ্বশুর-শাশুড়ির সংসার থেকে আলাদা হ’লেও পুত্রবধূ তাদের দেখাশোনা করেন। শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করার এ রীতি ছাহাবায়ে কেরামের জীবনেও দেখা যায়। কাবশাহ বিনতে কা‘ব বিন মালেক (রাঃ) ছিলেন আবূ ক্বাতাদা (রাঃ)-এর পুত্রবধূ। কাবশাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, একবার আবূ ক্বাতাদা (রাঃ) [কাবশাহর শ্বশুর] ঘরে প্রবেশ করেন। ঘরে প্রবেশ করে তিনি ওযূর পানি খোঁজ করেন। তখন কাবশাহ (রাঃ) শ্বশুরকে নিজ হাতে পানি ঢেলে দেন।[1]

আবার পুত্রবধূর কোন সন্তান জন্ম নিলে দাদা-দাদী বৃদ্ধ বয়সেও নাতী-নাতনীর জন্য অনেক শ্রম ব্যয় করেন। আদর-যত্নে তাদের দেখাশোনা করেন। এটা তাদের দায়িত্ব না হ’লেও তারা এ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। মূলত এক্ষেত্রে নৈতিকতা ও মানবতাবোধের কারণে তারা এরূপ কাজ করেন।

শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কের ব্যাপারটা নতুন কোন বিষয় নয়। মানবসভ্যতার শুরু থেকেই এই সম্পর্ক চলে এসেছে। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আমরা বিভিন্ন মানবিক সম্পর্কের সীমা-পরিসীমা, দায়িত্ব-কর্তব্যের ব্যাপারে জ্ঞান লাভ করি। সঠিকভাবে এ সম্পর্ক লালন করা সবার মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হ’ল।-

ইসলামে শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর পরিবারের সেবার বিধান :

ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রী তার স্বামীর পিতা-মাতা, ভাই-বোন কারও সেবা করতে বাধ্য নয়। তবে শ্বশুর-শাশুড়ি এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সেবা করা একদিকে যেমন স্বামীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে নেকী অর্জনের মাধ্যম। কোন স্ত্রী যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার শ্বশুর-শাশুড়ি বা তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খেদমত করে তবে আল্লাহ তাকে আখেরাতে পুরষ্কার প্রদান করবেন। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে যে যত বেশী মানুষের উপকার করবে সে ততোধিক উত্তম। বিশেষ করে যখন রোগ-ব্যাধি, শারীরিক অক্ষমতা, বয়োবৃদ্ধ হওয়া ইত্যাদি কারণে শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি যত্ন নেওয়ার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন কারণে মানুষ একে অন্যের সেবা বা সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হয়।

এক্ষেত্রে স্বামীদেরও উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তার শ্বশুর-শাশুড়িদের প্রতি যথাসম্ভব সুদৃষ্টি রাখা এবং প্রয়োজন দেখা দিলে যথাসম্ভব তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা। এতে তিনিও আল্লাহর কাছে পুরস্কৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।

রাসূল (ছাঃ) বলেন,أحَبُّ النَّاسِ إِلَى الله أنْفَعُهُمْ وأحَبُّ الأعْمَالِ إِلَى الله عَزَّ وجَلَّ سُرُورٌ تُدْخِلُهُ على مُسْلِمٍ أوْ تَكْشِفُ عنهُ كُرْبَةً أوْ تَقْضِي عَنْهُ دَيْناً أوْ تَطْرُدُ عنهُ جُوعاً ولأَنْ أمْشِيَ مَعَ أخِي المُسْلِمِ فِي حاجَةٍ أحَبُّ إلي من أن أعتكف في المَسْجِدِ شَهْرا...ً ‘আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় মানুষ হ’ল সে ব্যক্তি যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী উপকারী। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হ’ল, একজন মুসলিমের অন্তরে আনন্দ প্রবেশ করানো অথবা তার দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা অথবা তার পক্ষ থেকে তার ঋণ পরিশোধ করা অথবা তার ক্ষুধা নিবারণ করা। আর আমার এই মসজিদে (মসজিদে নববীতে) একমাস ব্যাপী ই‘তিকাফ করা অপেক্ষা আমার একজন মুসলিম ভাইয়ের কোন প্রয়োজন মেটানোর জন্য তার সাথে গমন করা আমার নিকট অধিক পসন্দনীয়। যে ব্যক্তি তার ক্রোধ সংবরণ করবে আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি গোপন করবেন। যে ব্যক্তি ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করবে অথচ সে ইচ্ছা করলে তা প্রয়োগ করতে পারত, আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন তার অন্তরকে সন্তুষ্ট করবেন। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য তার সাথে গমন করবে এবং তা পূরণ করে দেবে, আল্লাহ সেদিন তার পদযুগলকে সুদৃঢ় রাখবেন, যে দিন মানুষের পাগুলো পিছলে যাবে। আর মন্দ চরিত্র আমলকে নষ্ট করে যেমন সিরকা (ভিনেগার) মধুকে নষ্ট করে দেয়’।[2]

আমাদের সমাজে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করাকে একজন নারীর প্রশংসনীয় দিক বিবেচনা করা হয়। তাই সামাজিক এই সুন্দর রীতিটি বজায় রাখার ব্যাপারে আমাদের সচেষ্ট হওয়া উচিৎ। তাছাড়া এটাও মনে রাখা দরকার যে, একজন মহিলার জীবনেও একদিন এমন সময় আসতে পারে যখন তার পুত্রবধূর সেবার প্রয়োজন দেখা দিবে। তাই সে যদি এখন সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তার শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করে তবে সে যখন শাশুড়ি হবে তখন আশা করা যায়, তার পুত্রবধূরা তার সেবা করবে।

সঊদী আরবের ফৎওয়া বোর্ড শাশুড়িকে সহায়তা করার ব্যাপারে বলেন,ليس في الشرع ما يدل على إلزام الزوجة أن تساعد أم الزوج، إلا في حدود المعروف، وقدر الطاقة؛ إحساناً لعشرة زوجها، وبرّاً بما يجب عليه بره، ‘শরী‘আতে এমন কিছু নেই যা নির্দেশ করে যে, স্ত্রী স্বামীর মাকে সাহায্য করতে বাধ্য। তবে স্বামীর প্রতি ইহসান এবং তার প্রতি অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্যপরায়ণতার স্বার্থে যতটুকু সামাজিকতার সীমার মধ্যে পড়ে সেটা ভিন্ন কথা’।[3]

আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন (রহঃ) বলেন, لا، أم الزوج ليس لها حق واجب على الزوجة بالنسبة للخدمة؛ لكن لها حق مِن المعروف والإحسان، ‘না, খেদমতের ব্যাপারে স্ত্রীর ওপর স্বামীর মায়ের কোন হক নেই সামাজিকতা ও ইহসানের হক ছাড়া। এ জিনিসটা স্ত্রীর প্রতি স্বামীর প্রেম-ভালোবাসা সৃষ্টি করে যে, সে তার মায়ের প্রতি যত্ন নেয়। সাধারণ ছোটখাটো বিষয়ে সেবা করে, মাঝে মাঝে তার সাথে দেখা করে এবং তার বিভিন্ন বিষয়ে তার নিকট পরামর্শ নেয়। কিন্তু তার খেদমত করা আবশ্যক নয়। কারণ সততা ও কল্যাণের সাথে দাম্পত্য জীবন হবে কেবল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে’।[4]

সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বিশেষ নির্দেশনা :

যদি পুত্রবধূ তার শ্বশুর-শাশুড়ির এতটুকু সেবা করে বা কোনভাবে তার উপকার করে তাহ’লে তাদের কর্তব্য, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা এবং তার কাজের মূল্যায়ন করা। স্বামীর কর্তব্য, স্ত্রীর এ কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকারের পাশাপাশি তার প্রশংসা করা এবং তার প্রতি আরও বেশী আন্তরিকতা, যত্ন, সম্মান ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করা। মাঝে মধ্যে এজন্য তাকে আলাদা উপহার দেওয়া। এতে সে খুশি হবে এবং আরও বেশী সেবা দিতে উৎসাহিত হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ لَم يَشْكُرِ اَلناسَ لَمْ يَشْكُرِ اللهِ ‘যে ব্যক্তি (উপকারী) মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করল না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করল না’।[5] তিনি বলেন, تَهَادُوا تَحَابُّوا ‘তোমরা উপহার বিনিময় কর তাহ’লে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে’।[6]

কিন্তু দুঃখজনক হ’লেও সত্য যে, আমাদের সমাজে শ্বশুর-শাশুড়ি সহ পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি পুত্রবধূর পক্ষ থেকে সেবা পাওয়াকে অধিকার মনে করা হয়। ফলে তার এহেন ত্যাগ ও সেবাকে যথার্থ মূল্যায়ন তো করা হয়ই না; বরং তার কাজে সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি হ’লে তার সাথে নানা অপমানজনক আচরণ করা হয়, তার প্রতি নানাভাবে যুলুম-অত্যাচার করা হয় এবং শারীরিক ও মানসিক কষ্ট দেওয়া হয়। যা সামাজিক ক্ষেত্রেও অমানবিক এবং শরী‘আতের দৃষ্টিতেও নিষিদ্ধ। রাসুল (ছাঃ) বলেছেন,الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ، لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يَخْذُلُهُ، وَلَا يَحْقِرُهُ التَّقْوَى هَاهُنَا وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ، كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ، دَمُهُ، وَمَالُهُ، وَعِرْضُهُ ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কোন মুসলিম অপর মুসলিমের ওপর অবিচার করবে না, তাকে অপদস্থ করবে না এবং অবজ্ঞা করবে না। আললাহ ভীতি এখানে! এ কথা বলে তিনি নিজের বুকের দিকে তিনবার ইঙ্গিত করে বললেন, একজন মানুষের জন্য এতটুকু অন্যায়ই যথেষ্ট যে, সে নিজের মুসলিম ভাইকে হেয় জ্ঞান করবে। এক মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের রক্ত, ধন-সম্পদ ও মান-সম্মান হারাম’।[7]

শ্বশুর-শাশুড়িকে অবজ্ঞা করা বা তাদের কষ্ট দেওয়া নিষিদ্ধ :

সমাজে কতিপয় মহিলা শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-যোগ্যতা, সৌন্দর্য বা পিতার অর্থ-সম্পদ বা বংশীয় গৌরবের কারণে তার শ্বশুর -শাশুড়ি বা স্বামীর পরিবারকে অবজ্ঞা করে, তাদেরকে নানাভাবে অপমান সুলভ কথা বলে ও কষ্ট দেয়। এটা আদৌ সিদ্ধ নয়। অনুরূপভাবে অনেক স্বামীও তার শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে অসদাচরণ করে বা তাদেরকে অপমান-অপদস্থ করে। এটিও নিষিদ্ধ।

সর্বাবস্থায় শ্বশুর-শাশুড়ি সম্মান ও শ্রদ্ধা পাওয়ার হকদার। কেননা তারা বয়সে বড়। আর বয়োবৃদ্ধ বা বড়দেরকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيَعْرِفْ حَقَّ كَبِيرِنَا فَلَيْسَ مِنَّا ‘যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের বড়দের হক বোঝে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়’।[8]

সুতরাং প্রতিটি মহিলার জন্য তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও তার স্বামীর পরিবারের বড়দের প্রতি যথার্থ সম্মান-শ্রদ্ধা করা এবং ছোটদের প্রতি দয়া ও স্নেহশীল আচরণ করা আবশ্যক। কোন অবস্থায় কাউকে হেয় বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, অহংকার প্রদর্শন, অসম্মান জনক আচরণ করা বা কষ্ট দেওয়া জায়েয নয়। নারী-পুরুষ সকলের জন্য একই কথা প্রযোজ্য।

প্রশ্ন হ’তে পারে পুত্র সন্তানকে জীবিকার্জনের জন্য বাইরে থাকতে হয়। কন্যা সন্তানও বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। এ অবস্থায় পুত্রবধূও যদি শ্বশুর-শাশুড়িকে দেখাশুনা না করে তাহ’লে বৃদ্ধ মানুষগুলোকে কে দেখাশুনা করবে?

জবাব হ’ল, আল্লাহ তা‘আলা পিতামাতার সেবা করাকে তার সন্তানদের জন্য অপরিহার্য করেছেন; পুত্রবধূর জন্য নয়। সুতরাং স্বামী পিতামাতার সেবা এবং তার জীবন-জীবিকার মধ্যে সমন্বয় সাধন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে যদি তিনি তার এ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারেন তাহ’লে এক্ষেত্রে একজন ভালো মনের দ্বীনদার স্ত্রী তার স্বামীর অবস্থা বিবেচনা করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এবং স্বামীকে সহায়তার স্বার্থে তার শ্বশুর-শাশুড়ির যথাসাধ্য সেবা করবে। এতে আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত করবেন।

শ্বশুরবাড়ির সম্পর্ক আবহমানকাল থেকে চলমান। আর বউ-শাশুড়ির ব্যাপারটা যেন আল্লাহর কুদরতেরই একটি বহিঃপ্রকাশ। আজ যিনি কন্যা কাল তিনি বধূ। পরশু তিনিই হয়ে যান পরম মমতাময়ী মা। কিছুদিন যেতে না যেতেই তিনি আরেকজন নারীর মা হিসাবে আবির্ভূত হন। সমাজ যাকে শাশুড়ি হিসাবে পরিচয় দেয়। মানবসভ্যতার শুরু থেকেই এই ব্যবস্থা অব্যাহত আছে। কালের আবর্তে এতে ব্যত্যয় ঘটেনি। ব্যাপারটা নিয়ে নতুন ও আলাদা করে পরিচয় দিতে হয় না। তবে সমাজে সমস্যাটা সৃষ্টি হয় শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা নিয়ে। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের মাঝে স্বার্থপরতা, যুলুম, অন্যের ক্ষতি সাধনের মনসিকতা তৈরী হয়েছে। প্রত্যেকেই নিজের প্রাপ্তি ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু অন্যের পাওনার ব্যাপ্যারে থোড়াই কেয়ার করেন। ভাবখানা এমন যে, নিজের বেলায় ষোল আনা, পরের বেলায় শূন্য আনা।

লক্ষ্যণীয় হ’ল, পুত্রবধূ ও শ্বশুর-শাশুড়ির সম্পর্ক এবং প্রাপ্তিগুলো কখনো একপক্ষীয় নয়; বরং দ্বিপাক্ষিক। শ্বশুর-শাশুড়িকেও নিজেদের কর্তব্য ও অধিকারের সীমারেখা সম্পর্কে জানতে হবে। স্বামীর পিতা-মাতার খেদমতের প্রয়োজন দেখা দিলে, স্বামী নিজে তাদের সেবা-যত্ন করবেন। প্রশ্ন হ’ল- তাহ’লে কি স্ত্রী শ্বশুর-শাশুড়ি কিংবা তার আত্মীয়-স্বজনকে দূরে ঠেলে দিবে? তার কি কোন করণীয় নেই?

মূলত সে শ্বশুর-শাশুড়িকে দূরে ঠেলে দিবে না। বরং তার অবশ্যই কিছু করণীয় আছে। তার উচিত শ্বশুর-শাশুড়ির পরিচয় যথার্থভাবে জানা। তার এই অনুভূতি থাকতে হবে যে, শ্বশুর-শাশুড়ি আমার জীবনসঙ্গী স্বামীর জন্মদাতা পিতা ও গর্ভধারীণী মাতা। যেভাবে আমিও কোন পিত-মাতার সন্তান। কাজেই আমার হৃদয়ে যেভাবে আমার পিতামাতার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা-ভালোবাসা রয়েছে তেমনিভাবে তাঁরও পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য আছে। স্ত্রীকে সবচেয়ে বেশী যে জিনিসটি খেয়াল রাখতে হবে, তাহ’ল আজকে যেভাবে তারা আমার খেদমতের মুখাপেক্ষী হয়েছেন, বেঁচে থাকলে আমাকেও একদিন শাশুড়ি হ’তে হবে। আজ যদি আমি তাদের খেদমতে নিজেকে ধন্য করি তাহ’লে কাল আমি কিছুটা হ’লেও খেদমত লাভের আশা করতে পারব।

পুত্রবধূর কাছে শাশুড়ির প্রত্যাশা

ভয়, শঙ্কার পাশাপাশি প্রত্যেক নারীর কিছু স্বপ্ন ও আশা থাকে তার শ্বশুরবাড়ি নিয়ে। তদ্রূপ একজন শাশুড়িরও তার পুত্রবধূর কাছে থাকে কিছু প্রত্যাশা থাকে। প্রত্যেক মেয়েই বিয়ের আগে অনেক কিছুই ভাবেন হবু শ্বশুরবাড়ি নিয়ে, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে, বিশেষ করে শাশুড়িকে নিয়ে। কেমন হবে তার শাশুড়ি মা? কি করে মন জয় করবে তার? এইরকম হাযারো প্রশ্ন থাকে নারীর মনে। এখানে পুত্রবধূর কাছ থেকে শাশুড়ির প্রত্যাশাগুলি উল্লেখ করা হ’ল।-

১. পরিবারকে নিজের ভাবা : শাশুড়ির মন জয় করতে হ’লে কখনও বলা যাবে না আমার পিতার বাড়িটি শ্বশুড়বাড়ি অপেক্ষা ভাল। কারণ শ্বশুরবাড়িটি এখন স্ত্রীর নিজের বাড়ি।

সে এই পরিবারের বাইরের কেউ নয়। সুতরাং শ্বশুরবাড়িকে নিজের করে দেখতে হবে এবং নিজের মত করে সাজিয়ে নিতে হবে।

২. স্বেচ্ছায় দায়িত্ব নেওয়া : শাশুড়ি মনে করেন তার পুত্রবধূ আগামী দিনের গৃহকর্ত্রী। তাই তিনি চান তার পুত্রবধূ সংসারের দায়িত্ব গ্রহণ করুক। একসাথে সব কাজের দায়িত্ব নয়, অল্প অল্প করে কিছু কিছু কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসটি শাশুড়ির বলার আগেই সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে পুত্রবধূর দায়িত্ববোধ ও সংসারের কর্তব্য পালন তাকে শাশুড়ির কাছে প্রিয় করে তুলবে।

৩. সম্মান করা : শাশুড়ি সব সময় পুত্রবধূর কাছ থেকে সম্মান আশা করে থাকে। তাই তাকে সম্মান-শ্রদ্ধা করতে হবে। প্রত্যেক শাশুড়ির থাকে সংসার জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। সুতরাং তার অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করতে হবে। তার কাছে তার সংসার জীবনের গল্প শুনা, সংসারে কোন সমস্যা হ’লে তাঁর সাথে পরামর্শ করা। এই ছোট ছোট কাজগুলো উভয়ের সম্পর্ককে আরও মযবূত করে তুলবে।

৪. পরিবারে সদস্যদের যত্ন নেওয়া : পরিবারের সকল সদস্যের সাধ্যমত খোঁজ-খবর ও যত্ন নেওয়া। সবার সাথে আন্তরিকতা গড়ে তোলার চেষ্টা করা। এমনকি পরিবারে ছোট সদস্যটির সাথেও সময় করে খেলা করা। এমন কোন কাজ না করা যাতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পরিবারকে এক রাখার চেষ্টা করা, সেটিকে ভাঙা নয়।

৫. বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া : স্ত্রীর অবশ্যই বোঝা উচিত যে, তার স্বামী শুধু তার একার নয়। তার স্বামী হওয়ার পূর্বেই তিনি তার শাশুড়ির ছেলে। তাই শাশুড়ির অধিকার আছে তার ছেলের উপর। সুতরাং এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে পরিবারে চলতে হবে। নিজের অধিকারের সাথে সাথে অন্যের অধিকারের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

৬. নিজেকে পরিবর্তন করা : পিতার বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি এক নাও হ’তে পারে। দুই পরিবারের মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকতে পারে। নতুন পরিবার ও নতুন পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে শ্বশুরবাড়ির জন্য নিজের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। প্রত্যেক শাশুড়ি চান তার পুত্রবধূ তার পরিবারের জন্য নিজেকে পরিবর্তন করুক।

৭. ছেলেকে ভালো রাখা : প্রত্যেক মা চান তার সন্তান সুখে থাক। শাশুড়ি চান যে, পুত্রবধূ তার ছেলের যথাসাধ্য যত্ন নিক। তাই এ ব্যাপারে যত্নবান হওয়া উচিত। নিজেদের মধ্যকার ঝগড়া-বিবাদ ও কথা কাটাকাটি নিজেদের মাঝে রাখতে হবে। নিজেদের বিষয়ে অন্য সদস্যদেরকে জড়ানো যাবে না।

নতুন পরিবেশে নতুন মানুষদের সাথে হঠাৎ করে মিশতে সব মেয়েদের প্রথম প্রথম কষ্ট হয়। তাই একটু বুদ্ধি করে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করতে হবে। শাশুড়ির পসন্দ-অপসন্দের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। এভাবে শাশুড়ির চোখেরমণি হয়ে উঠা যায়।

বউ-শাশুড়ি সম্পর্কের রূপরেখা :

পরিবার-পরিজন আল্লাহপাকের দেওয়া এক বিশেষ নে‘মত। জন্মসূত্রে পরিবারে সবার আলাদা পরিচয় থাকে। অর্পিত থাকে দায়িত্ব ও কর্তব্য। কুরআন-সুন্নাহর বিধান অমান্য কিংবা একচেটিয়া মনোভাব দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি করে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে বউ-শাশুড়ি সম্পর্কের রূপরেখা নিম্নে উল্লেখ করা হ’ল।-

বউ-শাশুড়ি সম্পর্ক : বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক হ’তে হবে মা-মেয়ের মতো। একজন স্ত্রীকে স্বামীর মাতা-পিতা তথা শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের পিতা-মাতার মতো সম্মান করতে হবে। মনেপ্রাণে ভালোবাসার নযীর পেশ করতে হবে। অনুরূপ শ্বশুর-শাশুড়িকেও পুত্রবধূর সুবিধা-অসুবিধার প্রতি বিশেষ নযর রাখতে হবে। নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসার বন্ধনে আগলে রাখতে হবে। স্ত্রী শ্বশুর-শাশুড়ির কল্যাণেই স্বামীর হাত ধরে নতুন ঠিকানায় আসে। এজন্য বউ-শাশুড়ি পরস্পরকে কৃতজ্ঞ ও সহনশীল হ’তে হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ لَمْ يَشْكُرِ اللهَ، ‘যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না’।[9]

শাশুড়ি কর্তৃক যুলুম : একজন পুত্রবধূ নিজের মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশে আসে। সংসারে তার মন বসা কিংবা কাজে-কর্মে দক্ষ হয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগে। মানবিক কারণে তার প্রতি সহানুভূতির হাত সর্বদা ঊর্ধ্বে রাখতে হয়। সামান্য ভুল-ত্রুটির জন্য ঝগড়াঝাটি ও শাশুড়ি কর্তৃক বউকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সম্পূর্ণ অমানবিক। যার শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। কথায় কথায় খোঁটা দেওয়া কিংবা ঝগড়াটে বউ-শাশুড়ি কপালপোড়া। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, إِنَّ أَبْغَضَ الرِّجَالِ إِلَى اللهِ الأَلَدُّ الْخَصِمُ ‘আল্লাহর কাছে সেই লোক সর্বাধিক ঘৃণিত, যে অতি ঝগড়াটে’।[10] তাই উভয়কে ঝগড়াটে মানসিকতা পরিহার করা এবং এমন পরিবেশ যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য উভয়কে সতর্ক ও সচেতন থাকা যরূরী।

পারিবারিক কাজ বোঝা নয় : সাংসারিক কাজ নারীদের দায়িত্ব। এটা কোন অতিরিক্ত বোঝা নয়। এই বুঝ বউ-শাশুড়ির মধ্যে থাকলে অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। ফাতেমা (রাঃ)-এর জীবনী থেকে নারীদের অনেক শিক্ষা রয়েছে। তিনি সংসারের কাজে প্রচুর পরিশ্রম করতেন। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ফাতেমা (রাঃ) আটা পিষার কষ্টের কথা জানান। তখন তার কাছে সংবাদ পৌঁছে যে, রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে কয়েকজন বন্দি আনা হয়েছে। ফাতেমা (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে এসে একজন খাদেম চাইলেন। তিনি তাকে না পেয়ে তখন তা আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে উল্লেখ করেন। তারপর রাসূল (ছাঃ) আসলে আয়েশা (রাঃ) তার কাছে বিষয়টি বললেন। আলী (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) আমাদের কাছে আসলেন। তখন আমরা শয্যা গ্রহণ করেছিলাম। আমরা উঠতে উদ্যত হ’লাম। তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাকো। আমি তার পায়ের শীতলতা আমার বুকে অনুভব করলাম। তখন তিনি বললেন, তোমরা যা চেয়েছ আমি কি তোমাদের তার চাইতে উত্তম বস্ত্তর সন্ধান দেবো না? তিনি বললেন, যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করবে তখন ৩৪ বার আল্লাহু আকবার, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ বলবে। এই কাজ তোমাদের জন্য তদপেক্ষা উত্তম যা তোমরা চেয়েছ’।[11]

শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত : কুরআন ও হাদীছে পিতামাতার খেদমতের দায়িত্ব ছেলেকে দেওয়া হয়েছে। পুত্রবধূর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। তাকে খেদমত করতে বাধ্য করা যাবে না। সে কাজের মেয়ে নয়। তবুও নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের ভিত্তিতে তাকে শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত করতে হয়। এটাকে পরম সৌভাগ্য ও ছওয়াবের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করতে হয়। কেননা শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমতের নমুনা ছাহাবীদের যুগেও ছিল। কাবশাহ বিনতে কা‘ব ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ক্বাতাদা (রাঃ)-এর পুত্রবধূ ছিলেন। একদা আবু ক্বাতাদা গৃহে আগমন করলে তিনি তাকে ওযূর পানি এগিয়ে দিলেন’।[12]

স্বামীর আদেশে খেদমত : পিতা-মাতার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা সবার থাকে। প্রত্যেকটি ছেলে কামনা করে তার স্ত্রী পিতা-মাতার খেদমত করুক। তাদের খেদমতে মনোযোগী স্ত্রী সহজেই স্বামীর হৃদয় জয় করতে পারে। আর স্বামী যদি শরী‘আতের মধ্যে থেকে স্ত্রীকে শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমতের আদেশ করে তাহ’লে অবশ্যই স্ত্রীকে স্বামীর আদেশ মানতে হবে। স্বামীর আনুগত্য ছাড়া কোন নারীর ছালাতও কবুল হয় না। আবূ উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির ছালাত তাদের কানও অতিক্রম করে না (কবুল হয় না)। ১. পলাতক গোলাম যতক্ষণ না সে (মালিকের কাছে ফিরে আসে)। ২. যে মহিলা স্বামীর অসন্তুষ্টিতে রাত্রিযাপন করে (অথবা স্বামীর অবাধ্য স্ত্রী যতক্ষণ না তার বাধ্য হয়) ৩. এমন ইমাম মুছল্লীরা যাকে অপসন্দ করে’।[13] উল্লেখ্য, বউ-শাশুড়ির সুন্দর সম্পর্কের পেছনে পুরুষদেরও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের মধ্যেকার সম্পর্কোন্নয়নে সচেষ্ট হ’তে হবে। উভয়কে নছীহত করে তাদের মধ্যে বিরাজমান দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। তবেই সুখী হয়ে ওঠবে প্রতিটি পরিবার।

সারকথা :

পুত্রবধূ ও শাশুড়িদের জন্য আমাদের পরামর্শ হ’ল যে, উভয়ের প্রাপ্য বুঝে একে অপরের কর্তব্য পালন করলে পরিবার সুখী-সুন্দর হবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে কবুল করুন। প্রত্যেকের মাঝে ত্যাগ, পরোপকার এবং অন্যের হকের ব্যাপারে সজাগ-সচেতন থাকার তাওফীক দান করুন-আমীন!


[1]. আবুদাউদ হা/৭৫, সনদ হাসান ছহীহ।

[2]. ছহীহুত তারগীব হা/২৬২৩; ছহীহাহ হা/৯০৬; ছহীহুল জামে‘ হা/১৭৬।

[3]. ফাতাওয়া লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ১৯/২৬৪-২৬৫।

[4]. লিকাআতুল বাবিল মাফতুহ, পৃঃ ৬৮, প্রশ্ন নং ১৪।

[5]. আহমাদ হ/১১২৮০; তিরমিযী হা/১৯৫৫, সনদ ছহীহ।

[6]. আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৫৯৪; ছহীহুল জামে‘ হা/৩০০৪।

[7]. মুসলিম হা/২৫৬৪; মিশকাত হা/৪৯৫৯।

[8]. আবু দাউদ হা/৪৯৪৩; তিরমিযী হা/১৯২০; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৫৪০।

[9]. তিরমিযী হা/১৯৫৫; মিশকাত হা/৩০২৫; ছহীহাহ হা/৬৬৭।

[10]. বুখারী হা/২৪৫৭; মুসলিম হা/২৬৬৮; মিশকাত হা/৩৭৬২।

[11]. বুখারী হা/৩১১৩; মুসলিম হা/২৭২৭; মিশকাত হা/২৩৮৭।

[12]. আবু দাউদ হা/৭৫, সনদ হাসান ছহীহ।

[13]. তিরমিযী হা/৩৬০; ছহীহাহ হা/২৮৮; মিশকাত হা/১১২২।






বিষয়সমূহ: বিবিধ
মহিলাদের দাওয়াতী কাজের পদ্ধতি - সারওয়ার মিছবাহ
ঋতুবতী অবস্থায় মহিলাদের জন্য যেসব কাজ নিষিদ্ধ - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
নারীর ভরণ-পোষণের বিধান ও ফযীলত - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
অতি রোমান্টিকতা ও বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন - সারওয়ার মিছবাহ
স্বামীর আনুগত্য : সুখী দাম্পত্য জীবনের সোপান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
ইসলামে নারীর কর্মসংস্থান : একটি পর্যালোচনা - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
সন্তান প্রতিপালনে ঘরোয়া সিলেবাস - গবেষণা বিভাগ, হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
সন্তান প্রতিপালনে কতিপয় বর্জনীয় - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
স্বামীর আনুগত্য : সুখী দাম্পত্য জীবনের সোপান - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
সন্তান প্রতিপালনের রূপরেখা
ইসলামে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর সম্পর্ক - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
আরও
আরও
.