ঈদুল ফিৎর : নিছক আনন্দ নয় ইবাদত

ভূমিকা : দীর্ঘ এক মাস ছিয়াম সাধনার পর শাওয়ালের একফালি নতুন চাঁদ মুমিনের দুয়ারে নিয়ে আসে ঈদুল ফিৎরের অনাবিল আনন্দের বার্তা। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এই আনন্দ কেবল পার্থিব ভোগ-বিলাস বা প্রথাগত কোন উৎসব নয়; বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশেষ উপহার এবং ইবাদতেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে ঈদের এই আনন্দ উদযাপনেরও রয়েছে ইসলামের রূপরেখা ও নির্দেশনা। ইসলামে হালাল-হারামের বাছবিচারহীন নিছক বিনোদনের কোন স্থান নেই। পরিতাপের বিষয় হ’ল, বর্তমানে অনেক মুসলিম ঈদের পবিত্রতাকে ভুলে বিজাতীয় ও তথাকথিত প্রগতিশীল সংস্কৃতির স্রোতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন। ঈদের আনন্দের নামে গান-বাজনা, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার মতো গর্হিত কাজগুলোকে স্বাভাবিক মনে করছেন, যা ইসলামী চেতনার পরিপন্থী। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে ঈদুল ফিৎরের প্রকৃত আনন্দ, এর সাথে ইবাদতের মেলবন্ধন এবং বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হ’ল।-

ঈদুল ফিৎরের পরিচয় :

ঈদুল ফিৎর (عيد الفطر) আরবী শব্দ। ঈদ (عيد) অর্থ- উৎসব, ঋতু, পর্ব, মৌসুম ইত্যাদি।[1] আর ফিৎর (فطر) অর্থ- ছিয়াম ভঙ্গকরণ, ইফতার ইত্যাদি।[2] এছাড়াও ‘ঈদ’ শব্দটির মূল আরবী (عود) ‘আউদ’-এর অর্থ এমন উৎসব, যা ফিরে ফিরে আসে, পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়, রীতি হিসাবে গণ্য হয় প্রভৃতি। এর অন্য অর্থ- খুশি বা আনন্দ। ঈদুল ফিৎর প্রতি বছর শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে অনাবিল আনন্দ নিয়ে ফিরে আসে। দীর্ঘ এক মাস ছিয়াম পালনের পর মহান আল্লাহর মহত্ত্ব ও বড়ত্ব ঘোঘণার্থে যে উৎসব পালন করা হয় তা-ই এর নাম ‘ঈদুল ফিৎর’।

বর্তমান ঈদের অবস্থা :

বর্তমানে ঈদের কথা আসলেই আমাদের সামনে নতুন পোষাক কেনা, ঘর সাজানো ইত্যাদির দৃশ্য ভেসে উঠে। ঈদের দিনের আনন্দ, খেলাধুলা, খাবার-দাবার, পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়া ঈদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে নিম্নে আলোকপাত করা হ’ল।-

১. ঈদের পোষাক : ঈদ মানেই যেন নতুন পোষাকের বর্ণিল আয়োজন। উৎসবের আমেজ শুরু হ’তেই ফ্যাশন হাউজগুলো আবহাওয়া ও ক্রেতাদের রুচিভেদে বাহারি সব পোষাকের পসরা সাজায়। বিপণন কৌশলের অংশ হিসাবে এসব পোষাকের নাম দেওয়া হয় জনপ্রিয় নাটক-সিনেমার চরিত্র বা তারকাদের নামে। কখনও ‘পাখি’, কখনও ‘কিরণমালা’ আবার কখনও বিখ্যাত খেলোয়াড়দের নামে। আফসোসের বিষয় হ’ল রামাযানের পবিত্রতা আর তারাবীহ বা ক্বদরের রাতের মহিমান্বিত ইবাদত ছেড়ে অনেকেই হুমড়ি খেয়ে পড়েন বিপণিবিতানগুলোতে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসে মসজিদ থেকে মুছল্লী তত কমে, ভিড় বাড়ে মার্কেটগুলোতে। শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদে নতুন পোষাক কেনা বাধ্যতামূলক না হ’লেও, সামাজিক চাপে এটি এখন মর্যাদার প্রতীক ও জীবন-ঘনিষ্ঠ ব্যাপার হয়ে দঁাড়িয়েছে।

এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফলশ্রুতিতে তুচ্ছ পোষাকের জন্য ঝরছে তাযা প্রাণ। সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা বা পিরোজপুরে সামান্য ‘পাখি’ জামা বা লেহেঙ্গা না পেয়ে ফাতেমা, মারিয়া বা সোহানার মতো কিশোরী ও স্কুলছাত্রীদের আত্মহননের মর্মান্তিক খবর ইতিপূর্বে খবরের কাগজে শিরোনাম হয়েছে। এই বিষাদ শুধু না-পাওয়ার দলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দিতে না পারার অক্ষমতা থেকেও গ্রাস করছে অভিভাবকদের।[3]

২. আতশবাজি ও পটকা ফুটানো : রামাযান শেষে শাওয়ালের চাঁদ দেখার পবিত্র মুহূর্তটি মূলত আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হ’ল, একশ্রেণীর নামধারী মুসলিম কিশোর ও যুবক এই সময়টিকে আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর উৎসবে পরিণত করে। ঈদের আগের সন্ধ্যা থেকে শুরু করে গভীর রাত, এমনকি ঈদের দিন পর্যন্ত তাদের এই উন্মত্ততা চলতে থাকে। নিছক আনন্দ উদযাপনের নামে শুরু হওয়া এই কর্মকান্ড অনেক সময় ভয়াবহ সহিংসতা ও প্রাণহানির কারণ হয়ে দঁাড়ায়। তুচ্ছ এই পটকা ফোটানোকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের নযীরও রয়েছে।[4] ঈদ আনন্দের পবিত্রতা রক্ষায় এবং জানমালের নিরাপত্তায় এমন বর্জনীয় ও ক্ষতিকর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা যরূরী।

৩. গান বাজনা : বর্তমানে ঈদের অন্যতম অনুসঙ্গ হয়ে গেছে গান-বাজনা। ঈদের বাযারগুলো নিজেদের বাহারি পণ্যের গুণের কথা বর্ণনা দিয়ে গানের মাধ্যমে, বাজনার তালে তালে সারাদিন প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে থাকে। রামাযান মাসে দিন-রাতে বিভিন্ন শপিং মলে এই গান বাজনা। গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে উঠতি বয়সের তরুণ ও যুবকরা পিকআপ ভাড়া করে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে বেহায়ার মত উদ্দাম নাচে এলাকা কাঁপিয়ে চলে যাচ্ছে।

৪. নাটক সিনেমা : নাটক ও সিনেমার পরিচালকগণ ঈদের কথা মাথায় রেখে টিভি, সিনেমা, ইউটিউব, ফেইসবুক ও অন্যান্য প্রচার মাধ্যমের জন্য ঈদের নাটক ও সিনেমার নামে বিভিন্ন অশ্লীল দৃশ্য প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। স্যাটেলাইট টিভিগুলো সপ্তাহব্যাপী ঈদের অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্ন অশ্লীল নাটক-সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে। সিনেমা হলগুলোতে ঈদ কেন্দ্রিক সিনেমা দেখার হিড়িক পড়ে যায়। যা সবই ইসলামী সংস্কৃতি বিরোধী।

৫. নারী-পুরষের অবাধ মেলামেশা : ঈদের দিন বিকাল হ’তে না হ’তেই পার্কগুলোতে নারী-পুরুষের সমাগম বাড়ে। অন্তত ৩-৪ দিন যাবৎ রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে পার্ক ও অবকাশযাপন কেন্দ্রগুলোতে চলে বেপর্দা ঘোরাঘুরি। গত বছর ঈদুল ফিৎরে নতুন করে যুক্ত হয়েছে তথাকথিত সুলতানী আমলের ঈদ মিছিলের নামে চরম জাহেলিয়াত। এছাড়াও ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনীর নামে শৈশব ও কৈশোরের সঙ্গী-সাথী কিংবা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করার কথা বলা হ’লেও নানা ধরনের নাটক, যাত্রা, জুয়ামূলক খেলাধুলার আয়োজন এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলা-মেশার মাধ্যমে পাপের দিকে ধাবিত হয়।

৬. ঈদ আনন্দ মিছিল : ঈদের দিনের আনন্দের সাথে আরেকটি আনন্দ যুক্ত হয়েছে, সেটা হ‘ল ঈদ আনন্দ মিছিল। ঈদুল ফিৎরের জামা‘আত শেষে রাজধানী ঢাকায় শুরু হয় ‘ঈদ আনন্দ মিছিল’। ইতিপূর্বে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্টিত এই ঈদ আনন্দ মিছিল সম্পর্কে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠ থেকে শুরু হয়ে সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হবে। বর্ণাঢ্য এ মিছিলের সামনে শাহী ঘোড়া ও সামনে-পেছনে ২০টির মত ঘোড়ার গাড়ি থাকবে। ব্যান্ড পার্টি থাকবে, সুলতানি-মোঘল আমলের ইতিহাস সম্বলিত চিত্রকলাও থাকবে। নারী-পুরষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই ঈদ আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণ করবেন। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও আসবেন। এর মাধ্যমে ঢাকার ৪০০ বছরের ঈদ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা হবে। আনন্দমিছিলে বাজনা বাজাবে ব্যান্ড পার্টি। অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকবে ঈদের শুভেচ্ছা ও সচেতনতার বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড। পাশাপাশি মোঘল ও সুলতানী আমলের ইতিহাস সংবলিত ১০টি পাপেট শো রাখা হবে’।[5] ২০২৫ সালের ৩১শে মার্চ ঈদুল ফিৎরের ছালাত শেষে ঢাকার রাজপথে ঈদের পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্যকে পদদলিত করে বেহুদা ঈদ এই মিছিল প্রদর্শিত হয়।

৭. ঈদের মাঠ আলোকসজ্জা করা : নেকীর আশায় অনেক এলাকায় বহু টাকা খরচ করে ঈদগাহ সজ্জিত করা হয়, যা শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ ঈদগাহ হ’ল ইবাদতের স্থান। আর ইবাদতের স্থানকে সাজ-সজ্জায় সুশোভিত করা সিদ্ধ নয়। আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূলূল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَا أَمَرْتُ بِتَشْيِيدِ الْمَسَاجِدِ ‘মসজিদ সমূহকে চাকচিক্যময় করে নির্মাণ করার জন্য আমি আদিষ্ট হইনি’। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘কিন্তু তোমরা একে সুসজ্জিত করবে যেভাবে ইহূদী-নাছারাগণ করত’।[6]

৮. ঈদের রাতকে বিশেষ মর্যাদামন্ডিত মনে করা : একশ্রেণীর মুসলিম আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ঈদের রাতকে অন্যান্য রাতের তুলনায় অধিক মর্যাদামন্ডিত মনে করেন এবং বিভিন্ন ইবাদত করে থাকেন। এ মর্মে তারা একটি জাল হাদীছ বর্ণনা করে থাকেন। যেমন ‘যে ব্যক্তি তারবিয়াহ, আরাফাহ, ঈদুল ফিৎর ও ঈদুল আযহার রাত্রি সহ চারটি রাত্রি জাগরণ করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে’।[7] অন্য আরেকটি হাদীছে এসেছে, ‘ঈদের রাত্রি জাগরণকারীর অন্তর কখনো মারা যাবে না’। এই বর্ণনাটি মওযূ‘ বা জাল।[8]

ঈদের রাতের ছালাত সম্পর্কে জাল হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যেমন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যিনি আমাকে নবীরূপে প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ, জিবরাঈল আমাকে ঈসরাফীলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিৎরের রাত্রে ১০০ রাক‘আত ছালাত আদায় করবে, প্রত্যেক রাক‘আতে ১ বার সূরা ফাতিহা এবং ১১ বার সূরা ইখলাছ পাঠ করবে, এরপর রুকূতে এবং সিজদায় অমুক দো‘আ ১০ বার পাঠ করবে, এরপর ছালাত শেষে ১০০ বার ইসতিগফার পাঠ করবে। এরপর সিজদায় যেয়ে বলবে....। যদি কেউ এইরূপ করে তাহ’লে সিজদা থেকে উঠার আগেই তার পাপ ক্ষমা করা হবে, রামাযানের ছিয়াম কবুল করা হবে.... ইত্যাদি ইত্যাদি’।[9] মূলত এটি একটি জাল ও বানোয়াট বর্ণনা। যা আদৌ আমলযোগ্য নয়।

৯. ঈদগাহে দ্রুত আসার জন্য মাইকে আহবান : বর্তমানে বিভিন্ন সমাজে ঈদের দিন সকাল হ’তে না হ’তেই মসজিদ বা ঈদগাহের মাইক বা সাউন্ড বক্সে তাড়াতাড়ি ছালাতে আসার আহবান জানানো হয়। এত এত সময় বাকী আছে, তাড়াতাড়ি আসেন ইত্যাদি বলে বলে তাকীদ প্রদান করা হয়। সাথে সাথে তাকবীর পাঠ, ইসলামী জাগরণী বা সঙ্গীত পরিবেশন, দিকনির্দেশনামূলক কথা-বার্তা চলতে থাকে। এভাবে ডাকাডাকি করা, জামা‘আত ও খুৎবার আগে বিভিন্ন উপদেশমূলক কথা বলা উচিত নয়। জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন,أَنْ لَا أَذَانَ لِلصَّلَاةِ يَوْمَ الْفِطْرِ حِينَ يَخْرُجُ الْإِمَامُ وَلَا بعد مَا يَخْرُجُ وَلَا إِقَامَةَ وَلَا نِدَاءَ وَلَا شَيْءَ لَا نِدَاءَ يَوْمَئِذٍ وَلَا إِقَامَةَ، ‘ঈদুল ফিৎরের দিন যখন ইমাম বের হয় তখন ছালাতের জন্য কোন আযান নেই, এক্বামত নেই, আহবান নেই এবং অন্য কিছুই (যায়েয) নেই। মোটকথা, সে দিন নিদা বা আহবান, এক্বামত কিছুই নেই’।[10]

১০. কবর যিয়ারত করা : বর্তমানে অনেকে ঈদের দিনে ঈদের ছালাতের পর দল বেঁধে কবর যিয়ারত করে থকেন, কবরবাসীর জন্য সম্মিলিত দো‘আ করেন। যেকোন দিন কবর যিয়ারত করা জায়েয।[11] তবে ঈদের দিন বা অন্য কোন একটি বিশেষ দিনকে কবর যিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করা বা এর বিশেষ নেকী রয়েছে বলে মনে করা বিদ‘আত।[12]

১১. খুৎবা শেষে সম্মিলিত মুনাজাত : বর্তমানে ঈদের অন্যতম কাজ হ’ল ঈদের ছালাতের খুৎবা শেষে ইমাম-মুছল্লী সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা। যার কোন প্রমাণ রাসূল (ছাঃ) ও তঁার ছাহাবীদের আমলে পাওয়া যায় না বিধায় এটিও বিদ‘আত।

ঈদের সাথে সর্ম্পকিত ইবাদাত :

মানুষকে আল্লাহ তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন (যারিয়াত ৫১/৫৬)। তাই তার প্রতিটি কাজের উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করা। তাই ঈদের আনন্দের মধ্যে একজন মুসলিম চেষ্টা করবেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার ও আল্লাহর নাফরমানি থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা। রাসূল (ছাঃ) ও তঁার ছাহাবীগণও ইবাদতের মাধ্যমেই ঈদের আনন্দ প্রকাশ করেছেন। ঈদের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ইবাদত নিম্নে তুলে ধরা হ’ল।

১. চাঁদ দেখা : একজন মুসলিমের রামাযান মাসের শুরু ও শেষে চাঁদ দেখা অন্যতম দায়িত্ব। আর শাওয়ালের চাঁদের মাধ্যমেই মুসলিমের ঈদের কাজ শুরু হবে। ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছিإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ ‘যখন তোমরা তা (চাঁদ) দেখবে তখন ছিয়াম রাখবে, আবার যখন তা দেখবে তখন ইফতার করবে। আর যদি আকাশ মেঘলা থাকে তবে সময় হিসাব করে (ত্রিশ দিন) পূর্ণ করবে’।[13] অন্য বর্ণনায় এসেছে, صُومُوْا لِرُؤْيَتِهِ وأَفْطِرُوْا لِرُؤْيَتِهِ، ‘তোমরা চাঁদ দেখে ছিয়াম পালন কর এবং চাঁদ দেখে ছিয়াম ছেড়ে দাও’।[14]

২. তাকবীর পাঠ করা : ঈদুল ফিৎরের চাঁদ দেখার পর থেকে তাকবীর শুরু করবে। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা বা জানার/নিশ্চিত হ’লে মাগরিবের পর থেকেই তাকবীর পাঠ শুরু করবে। আর তাকবীর দেওয়া শেষ হবে ঈদের ছালাত আদায় করার মাধ্যমে। অর্থাৎ মানুষ যখন ঈদের ছালাত আরম্ভ করবে তখন তাকবীর দেওয়ার সময় শেষ।[15] মহান আল্লাহ বলেন,وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوْا اللهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ، ‘যাতে তোমরা গণনা পূর্ণ কর এবং তোমাদের হেদায়াত দান করার জন্য তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা কর। আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও’ (বাক্বারাহ ২/১৮৫)। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেছেন,حق على المسلمين إذا رأوا هلال شوال أن يكبروا، ‘মুসলমানদের উপর এটা বাধ্যগত বিষয় যে ঈদুল ফিৎরের নতুন চাঁদ দেখার পর যেন তাকবীর ধ্বনি পাঠ করে’।[16]রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদুল ফিৎরের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হয়ে তাকবীর পড়তে পড়তে ঈদগাহে আসতেন এবং ছালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত তাকবীর পড়তেন। ছালাত শেষ হ’লে তিনি তাকবীর পড়া বন্ধ করতেন।[17] তবে মহিলারাও নিঃশব্দে তাকবীর পাঠ করবে। ঈদুল আযহা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, وَاذْكُرُوا اللهَ فِيْ أَيَّامٍ مَعْدُوْدَاتٍ ‘আর তোমরা নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে আল্লাহকে স্মরণ করবে’ (বাক্বারাহ ২/২০৩)। আর ঈদুল আযহা উপলক্ষে যিলহজ্জের ৯ তারিখ তথা আরাফার দিন সকাল হ’তে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করা সুন্নাত।[18] তবে যিলহজ্জের প্রথম দিন হ’তে কুরবানীর পরের তিন দিন পর্যন্তও তাকবীর পাঠ করা যায়।[19]

ইবনে আববাস (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবীগণ তাকবীর দিতেন ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়াল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, ওয়া লিল্লা-হিল হাম্দ’।[20] অনেক বিদ্বান পড়েছেন, ‘আল্লাহু আকবার কাবীরা, ওয়াল হামদু লিল্লা-হি কাছীরা, ওয়া সুবহানাল্লা-হি বুকরাতাঁও ওয়া আছীলা’।[21] ইমাম শাফেঈ (রহঃ) এটাকে ‘সুন্দর’ বলেছেন।[22]

৩. গোসল করা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া : ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করা একাটি গুরুত্বপূর্ণ সুনণাত। এই দিন সকালে মিসওয়াক সহ ওযূ-গোসলের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা অর্জন করে তেল-সুগন্ধি মেখে ঈদগাহে যাওয়া উত্তম। নাফে‘ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَغْتَسِلُ يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ أَنْ يَغْدُوَ إِلَى الْمُصَلَّى، ‘নিশ্চয়ই আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) ঈদুল ফিৎরের দিন সকালে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন’।[23]

৪. উত্তম পোষাক পরিধান করা : আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সুন্দরকে ভালোবাসেন।[24] আর পোষাক হ’ল সৌন্দর্যের প্রতীক। তাই ঈদের দিন সকালে পুরুষ ও বাচ্চারা পোষাক পরিধান করে সুসজ্জিত হয়ে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, ‘বাযারে বিক্রি হচ্ছিল এমন একটি রেশমী জুববা নিয়ে ওমর (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে বললেন,ابْتَعْ هَذِهِ تَجَمَّلْ بِهَا لِلْعِيدِ وَالْوُفُودِ، ‘হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আপনি এটি ক্রয় করে নিন। ঈদের সময় এবং প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এটি দিয়ে নিজেকে সজ্জিত করবেন’।[25] ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,كَانَ يَلْبَسُ يَوْمَ الْعِيْدِ بُرْدَةً حُمَرَاءَ، ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদের দিন লাল রঙ্গের চাদর পরিধান করতেন’।[26] মহিলারা সুগন্ধি মাখা ও বাহ্যিক সৌন্দর্য প্রদর্শনী ব্যতিরেকে অভ্যন্তরীণভাবে সুসজ্জিত হবে। তারা বড় ওড়না বা চাদরে আবৃত হয়ে পর্দা সহকারে বের হবে। কারো ওড়না বা চাদর না থাকলে অন্য কোন বোনের ওড়নায় বা চাদরে শামিল হয়ে বের হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, لِتُلْبِسْهَا صَاحِبَتُهَا مِنْ جِلْبَابِهَا ‘তার সাথী তাকে নিজের চাদর দ্বারা আবৃত করে নিয়ে যাবে’।[27]

৫. ছাদাক্বাতুল ফিৎর প্রদান করা : ঈদের আনন্দ ব্যক্তিবিশেষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে শিখায় না বরং ধনীরা যেমন ঈদের আনন্দ করবে তেমনি ধনীদের সহযোগিতা নিয়ে গরীবরাও ধনীদের সাথে ঈদের খুশিতে শরীক হবে। তাই ঈদুল ফিৎরের দিনে অন্যতম প্রধান কাজ হ’ল, ছোট-বড়, নর-নারী, স্বাধীন-পরাধীন (গোলাম) প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির গরীব-মিসকীনকে ফিৎরা প্রদান করা।[28] সবার পক্ষ থেকে এক ছা‘ (প্রায় ২.৫০ কেজি চাউল) পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য ফিৎরা হিসাবে আদায় করা ফরয।[29] আর তা ঈদের মাঠে যাওয়ার আগেই আদায় করতে হবে।[30] তবে ২/১ দিন পূর্বেও জমা করা যায়।[31]

৬. কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া : ঈদুল ফিৎরের দিন সকালে ইদগাহে যাওয়ার পূর্বে বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেয়ে বের হওয়া সুন্নাত। আনাস (রাঃ) বলেন,كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَغْدُوْ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَأْكُلَ تَمَرَاتٍ وَيَأْكُلُهُنَّ وِتْرًا ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদুল ফিৎরের দিন (ঈদগাহের উদ্দেশ্যে) বের হ’তেন না, যতক্ষণ না তিনি বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন’।[32] ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, مِنَ السُّنَّةِ أنْ يَطْعَمَ يومَ الفِطْرِ قَبْلَ أنْ يَخْرُجَ وَلَوْ بِتَمْرَةٍ. ‘ঈদুল ফিৎরের দিন (বাড়ী থেকে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে) বের হওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া সুন্নাত। এমনকি একটা খেজুর হ’লেও’।[33] তবে ঈদুল আযহার দিনে কিছু না খেয়ে বের হওয়া সুন্নাত। বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِ حَتَّى يَطْعَمَ وَلَا يَطْعَمُ يَوْمَ الأَضْحَى حَتَّى يُصَلِّيَ، ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদুল ফিৎরের দিন কিছু না খেয়ে বের হ’তেন না এবং ঈদুল আযহার দিন ছালাত আদায় না করা পর্যন্ত কিছু খেতেন না’।[34] অন্য বর্ণনায় এসেছে, لَمْ يَأْكُلْ حَتَّى يَذْبَحَ ‘কুরবানী না করে কিছু খেতেন না’।[35] অপর একটি বর্ণনায় এসেছে,فَيَأْكُلُ مِنْ أَضْحِيَّتِهِ ‘তিনি স্বীয় কুরবানীর গোশত হ’তে খেতেন’।[36]

৭. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে গমন করা : দূরবর্তী স্থান বা বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া যানবাহনে করে গমন না করে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে গমন করা সুন্নাত।[37] আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন,كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ إِلَى الْعِيْدِ مَاشِيًا وَيَرْجِعُ مَاشِيًا، ‘রাসূলুললাহ (ছাঃ) পায়ে হেঁটে ঈদগাহে গমন ও প্রত্যাবর্তন করতেন’।[38] আলী ইবনু আবী তালেব (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন,مِنَ السُّنَّةِ أَنْ تَخْرُجَ إِلَى الْعِيدِ مَاشِيًا وَأَنْ تَأْكُلَ شَيْئًا قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ. ‘সুন্নাত হ’ল ঈদের মাঠে পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং বাড়ী থেকে বের হওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া’।[39]

৮. ঈদগাহে গমনাগমনে রাস্তা পরিবর্তন করা : বেশী মানুষের সাথে সাক্ষাৎ, খেঁাজ-খবর নেওয়ার জন্য ঈদের দিনের পায়ে হেঁটে যাওয়া যেমন সুন্নাত তেমনি পায়ে হেঁটে এক পথে যাওয়া এবং ভিন্ন পথে ফিরে আসাও সুন্নাত। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন,كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَرَجَ يَوْمَ الْعِيْدِ فِىْ طَرِيْقٍ رَجَعَ فِىْ غَيْرهِ ‘নবী করীম (ছাঃ) ঈদের দিনে এক পথ দিয়ে যেতেন এবং অন্য পথ দিয়ে ফিরে আসতেন’।[40] জাবের (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, إِذَاكَانَ يَوْمُ عِيْدٍ خَالَفَ الطَّرِيْقَ، ‘নবী করীম (ছাঃ) ঈদের দিনে রাস্তা পরিবর্তন করতেন’।[41]

৯. ঈদের ছালাত আদায় করা : ঈদের দিনের অন্যতম কাজ হ’ল উন্মুক্ত ময়দানে জামা‘আত সহকারে ঈদের ছালাত আদায় করা। ঈদের ছালাত উন্মুক্ত ময়দানে হওয়াই উত্তম। অন্য মসজিদের তুলনায় মসজিদে নববীতে ছালাত আদায় এক হাযার গুণ উত্তম[42] হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীন সর্বদা ঈদের ছালাত উন্মুক্ত ময়দান ‘বাত্বহান’ সমতল ভূমিতে আদায় করেছেন।[43] তবে বৃষ্টি, ভয় অথবা অন্য কোন কারণে উন্মুক্ত ময়দানে যাওয়া সম্ভব না হ’লে মসজিদে ঈদের ছালাত আদায় করা যায়।[44] ঈদের ছালাতে সকল মহিলারা বের হবে এবং ভাল কাজ (ঈদের খুৎবা) ও মুমিনদের দো‘আতে শরীক হবে। ঋতুবতী মহিলারা ছালাত হ’তে বিরত থাকবে।[45] নবী করীম (ছাঃ) স্বীয় কন্যা ও স্ত্রীগণকে দু’ঈদের জন্য বের হওয়ার নির্দেশ দিতেন’।[46]

১০. খুৎবা প্রদান ও শ্রবণ করা : ঈদের ছালাতের পর ইমাম খুৎবা প্রদান করবেন। যাতে তিনি বিভিন্ন আদেশ-নিষেধ, উপদেশ বর্ণনা করবেন। আর নারী-পুরুষ সকলে তা মনযোগ সহকারে শ্রবণ করবে। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) ঈদুল ফিৎর ও ঈদুল আযহার দিন (ঘর থেকে) বের হয়ে ঈদগাহের ময়দানে গমন করতেন। প্রথমে তিনি সেখানে গিয়ে ছালাত আদায় করাতেন। এরপর তিনি মানুষের দিকে মুখ ফিরে দাঁড়াতেন। মানুষরা সে সময় নিজ নিজ সারিতে বসে থাকত। তিনি তাদেরকে ভাষণ শুনাতেন ও উপদেশ দিতেন। আর যদি কোন দিকে কোন সেনাবাহিনী পাঠাবার ইচ্ছা করতেন, তাদেরকে নির্বাচন করতেন। অথবা কাউকে কোন নির্দেশ দেয়ার থাকলে তা দিতেন। তারপর তিনি (ঈদগাহ) হ’তে প্রত্যাবর্তন করতেন।[47]

১১. দান-ছাদাক্বাহ করা : দান-ছাদাক্বাহ ঈদের দিনের অন্যতম নফল ইবাদত। রাসূল (ছাঃ) যেমন পুরুষদের থেকে দান গ্রহণ করতেন তেমনি দানের জন্য বেলাল (রাঃ)-কে নিয়ে মহিলাদের নিকটে যেতেন। একদা আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হ’ল, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে কখনও ঈদের ছালাতে উপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যঁা। অতঃপর তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হ’তেন (প্রথমে) ছালাত আদায় করতেন। তারপর খুৎবা দিতেন। রাবী বলেন, তিনি আযান বা ইক্বামতের কথা উল্লেখ করেননি।ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ فَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ فَرَأَيْتُهُنَّ يُهْوِينَ إِلَى آذَانِهِنَّ وَحُلُوقِهِنَّ يَدْفَعْنَ إِلَى بِلَالٍ ثُمَّ ارْتَفَعَ هُوَ وَبِلَالٌ إِلَى بَيته ‘অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মহিলাদের নিকটে আসতেন, তাদেরকে উপদেশ দিতেন ও দান-ছাদাক্বাহ করার নির্দেশ দিতেন। আমি মহিলাদেরকে দেখতাম, তারা নিজেদের কান ও গলার দিকে হাত বাড়াতেন এবং গহনা খুলে বেলালের নিকট দিতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও বেলাল (রাঃ) বাড়ী ফিরে আসতেন’।[48]

১২. পরস্পরে কুশল বিনিময় করা : ঈদ উপলক্ষে নিজ গ্রামের বাড়ী থেকে দূরে অবস্থানকারী প্রায় সকলেই নিজেদের গ্রামের বাড়ীতে ফিরে আসেন। তাই সকলের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ কুশল বিনিময়ের অন্যতম সময় হ’ল ঈদ। ঈদের দিন ছাহাবায়ে কেরাম পরস্পরে সাক্ষাৎ হ’লে বলতেন,تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكَ ‘তাক্বাববালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’। অর্থাৎ ‘আল্লাহ আমাদের ও আপনার পক্ষ হ’তে কবুল করুন![49] আর ঈদের দিন কোলাকুলি কোন যরূরী বিষয় নয়। তবে সফর থেকে বা বাহির থেকে আগন্তুকের সাথে কোলাকুলি করা যায়।[50]

১৩. বৈধ খেলাধুলা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা : ইসলামের ফরয বিধান লংঘন না করে, সতর ঢেকে, জুয়া ও প্রতারণামুক্ত, শরীরের জন্য উপকারী বৈধ খেলাধুলাকে ইসলাম জায়েয করেছে। হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে তীর নিক্ষেপ,[51] ঘোড়া দৌড়,[52] বর্শা বা বল্লম নিয়ে খেলা,[53] সাতার কাটা,[54] দৌড় প্রতিযোগিতা[55] সহ বিভিন্ন বৈধ খেলাধুলার প্রমাণ পাওয়া যায়।

ঈদের দিন বাদ্যযন্ত্র ছাড়া, শিরক-বিদ‘আত মুক্ত তাওহীদ ও সুন্নাতের আলোকে রচিত ইসলামী গান পরিবেশন করা যায়। আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, একদা রাসূল (ছাঃ) তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন। তখন তার ঘরে দুই বালিকা দফ বাজাচ্ছিল। অন্য বর্ণনায় আছে গান করছিল। আবুবকর (রাঃ) তাদের ধমক দেন। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন,دَعْهُمَا يَا أَبَا بَكْرٍ إِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيْدًا وَإِنَّ عِيْدَنَا هَذَا الْيَوْمُ، ‘তাদের গাইতে দাও। কারণ প্রত্যেক জাতিরই ঈদের দিন আছে। আর আমাদের ঈদ হ’ল আজকের দিন’।[56]

ঈদের আনন্দ ও ইবাদত :

ঈদে আনন্দ ও ইবাদতের সমন্বয় করা যরূরী, যেখানে শারঈ আনন্দ প্রকাশ, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার মাধ্যমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা হয়। ঈদের আনন্দ যেমন নতুন পোষাকে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে, ভালো খাবার ভাগাভাগিতে প্রকাশ পায়; তেমনি ঈদের ছালাত, তাকবীর, যাকাত ও ছাদাকবার মাধ্যমে ইবাদত সম্পন্ন হয়। যা পাপ মোচন ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ করে দেয়। তাই ঈদ শুধু উৎসব নয়, বরং এটি আল্লাহর রহমত ও ক্ষমাপ্রাপ্তির একটি ইবাদতময় দিন।

বান্দা দীর্ঘ এক মাস ছিয়াম, ক্বিয়ামসহ বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে কাটানোর পরে শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ আসে ঈদুল ফিৎর। মুমিন সারা রামাযান মাস নেক কাজ করা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন তেমনি ঈদের দিন সহ সারা বছর তাদের একই প্রচেষ্টা থাকবে। আর প্রকৃত মুমিন কখনো ঈদের অন্যায় আনন্দে আল্লাহর বিধান ভুলে যেতে পারেন না। সত্যিকারের মু‘মিন মহান কল্যাণের মাস চলে যাওয়ায় দুঃখিত হবেন এবং ভালো আমলগুলো কবুলের জন্য দো‘আ করবেন। ইবনে রজব হাম্বলী (রহঃ) ৭৩৬-৭৯৫ হি. বলেন,كانوا يدعون الله ستة أشهر أن يبلغهم شهر رمضان ثم يدعون الله ستة أشهر أن يتقبله منهم، ‘সালফে ছালেহীনদের কেউ কেউ ছয় মাস ধরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন যেন তিনি তাদেরকে রামাযান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দেন, তারপর ছয় মাস ধরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন যেন তিনি তাদের কাছ থেকে তা কবুল করেন।[57]

ঈদুল ফিৎরের আনন্দের শুরু হয় শাওয়ালের চাঁদ দেখার পর থেকে। আর এর পূর্ণতা পায় দলে দলে ঈদগাহে হাযির হয়ে মহান রবের কৃতজ্ঞতায় ছালাত আদায়ের মধ্য দিয়ে। তাকবীর পাঠ এবং ছিয়ামসাধনা যেন আল্লাহর দরবারে কবুল হয় সেজন্য একে অপরের কাছে দো‘আ চাওয়া ঈদুল ফিৎরের অন্যতম কাজ। মুমিন ব্যক্তি ঈদের দিন বৈধ আনন্দ করবে এজন্য যে, সে আল্লাহর নির্দেশিত ছিয়াম যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হয়েছে, ছাদাক্বাতুল ফিৎর প্রদানে ও ঈদের ছালাত আদায় করতে পেরেছে এজন্য। তারা আনন্দ করবে এজন্য যে, হয়ত আল্লাহ রামাযান মাসের বিবিধ ইবাদতের মাধ্যমে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন। ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহঃ) ঈদুল ফিৎরের দিন বের হয়ে তঁার খুৎবায় বললেন, ‘হে মানুষ! তোমরা ত্রিশ দিন ধরে আল্লাহর জন্য ছিয়াম পালন করেছ এবং ত্রিশ রাত ধরে ক্বিয়াম করেছ এবং আজ তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বেরিয়েছো যেন তিনি তোমাদের কাছ থেকে তা কবুল করেন। পূর্বসূরীদের মধ্যে কেউ কেউ ঈদুল ফিৎরের দিন দুঃখ প্রকাশ করতেন, তাই তাকে বলা হ’ত, এটি আননদ ও খুশির দিন, তাই তিনি বলতেন, তুমি ঠিক বলেছো, কিন্তু আমি একজন বান্দা যার প্রভু আমাকে তঁার জন্য একটি কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন, তাই আমি জানি না তিনি আমার কাছ থেকে তা কবুল করবেন কি না?[58]

রামাযান মুমিনের পাপ মাফ করার অন্যতম মাধ্যম। একজন মুমিন তওবার মাধ্যমে যদি অন্যায় থেকে এই মাসে ফিরে আসে আবার ঈদের দিনেই আবার অন্যায়, অশ্লীল ও খারাপ কাজে লিপ্ত হয় তাহ’লে বুঝতে হবে যে, হয়ত আল্লাহ তার তওবা কবুল করেননি। রাসূল (ছাঃ) বলেন,التَّوبةُ منَ الذَّنبِ: أن يَتوبَ منهُ، ثمَّ لا يَعودَ فيهِ، ‘পাপ থেকে তওবা করা হ’ল এইভাবে গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং আর সে গুনাহে প্রত্যাবর্তন না করা’।[59] যদি কেউ তওবা করে আর মনে সংকল্প রাখে যে, সুযোগ পেলে আবার পাপে ফিরে আসবে তাহ’লে তওবা কবূলযোগ্য হবে না।[60] সুতরাং তওবাকারী তওবার সময় দৃঢ় সংকল্প রাখতে হবে যে, তওবার পরে পুনরায় তার দ্বারা আর এ পাপ সংঘটিত হবে না। তবে দৃঢ় সংকল্পের পরেও যদি পাপ হয়ে যায় তাহ’লে আবার তওবা করবে।[61] আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) ঈদের দিন বলতেন- ‘জানি না, আমাদের মধ্যে কে পুরস্কৃত, তাকে আমরা মারহাবা জানাব! আর কে বঞ্চিত, তার জন্য আমরা সমবেদনা জানাব! হে পুরস্কৃত! তোমাকে অভিনন্দন। হে বঞ্চিত! আল্লাহ তোমার ক্ষতিপূরণ করুন’।[62]

রামাযানে বহুবিধ ইবাদত করার পর মুমিনের একমাত্র লক্ষ্য থাকে, যেন এই ছিয়াম কবুল হয় ও ফেরত দেওয়া না হয়। কারণ ‘পূর্বসূরী নেককাররা কাজটি সম্পন্ন, নিখুঁত এবং আয়ত্ত করার জন্য প্রচেষ্টা চালাতেন। তারপর তারা এর গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে চিন্তিত থাকতেন এবং এর প্রত্যাখ্যানের ভয় পেতেন। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, কাজের চেয়ে কাজের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে বেশী চিন্তিত হও। তুমি কি আল্লাহকে বলতে শোননি, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কেবল মুত্তাক্বীদের কাছ থেকে গ্রহণ করেন’ (মায়েদাহ ৫/২৭)[63]

পরিশেষে বলব, রামাযানের দীর্ঘ একমাস বান্দা যেমন ছিয়াম ক্বিয়ামের মাধ্যমে পাপ থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমার দিকে এগিয়ে যায়, ঈদের দিন এবং তার পরবর্তী দিনগুলোও যেন এর ধারাবাহিকতা ঠিক থাকে। কারণ আল্লাহর কাছে ধারাবাহিক আমল অধিক প্রিয় যদিও সেটা কম হয়’।[64] তাই ঈদুল ফিৎরের দিন বৈধ আনন্দ ও ইবাদতের মধ্যে থাকাই মুমিনের লক্ষণ। আল্লাহ আমাদেরকে সর্বদা তার আনুগত্যের মধ্যে থেকে দুনিয়াতে কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি লাভ করার তাওফীক দান করুন- আমীন!

-মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদুদ*

*তুলাগঁাও নোয়াপাড়া, দেবিদ্বার, কুমিল্লা।

[1]. ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, মু‘জামুল ওয়াফী, পৃ. ৭১৯।

[2]. ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, মু‘জামুল ওয়াফী, পৃ. ৭৬১।

[3]. দৈনিক ইনকিলাব, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬; প্রথম আলো, ২৭ জুলাই ২০১৪; banglanews24.com ০৪ মে, ২০২১; দৈনিক সমকাল, ২৩ এপ্রিল ২০২৩; জনকন্ঠ, ১৮ মে ২০১৯।

[4]. অনলাইন সময় নিউজ, ২৩ এপ্রিল ২০২৩।

[5]. bangla.bdnews24.com, Published : ৩১ মার্চ ২০২৫, ১২:১৮ AM

[6]. আবূদাঊদ হা/৪৪৮; মিশকাত হা/৭১৮।

[7]. সিলসিলা যঈফাহ হা/৫২২।

[8]. ইবনু মাজাহ হা/১৭৮২; সিলসিলা যঈফাহ হা/৫২০।

[9]. ইবনুল জাওযী, আল-মাওযু‘আত ২/৫২; ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.), হাদীছের নামে জালিয়াতি, পৃ. ৫৬৪।

[10]. বুখারী হা/৯৬০; মুসলিম হা/৮৮৬; মিশকাত হা/১৪৫১।

[11]. মুসলিম হা/৯৭৬; আবূদাঊদ হা/৩২৩৪।

[12]. ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ফৎওয়া নং ৬১৬৭; মাসিক আত-তাহরীক নভেম্বর ২০১৩ প্রশ্নোত্তর ৩৬/৭৬।

[13]. বুখারী হা/১৯০০।

[14]. বুখারী হা/১৯০৯; মুসলিম হা/১০৮১।

[15]. মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে উছায়মীন (১৬/২৬৯-২৭২)] গৃহিত. https://islamqa.info/bn/answers/ প্রশ্ন নং-৪৮৯৬৯।

[16]. ড. আসাদুল্লা আল-গালিব, তাফসীরুল কুরআন, সূরা বাকবারাহ ১৮৫ নং আয়াতের তাফসীর দ্র., পৃ. ৪৭৭।

[17]. ইবনু আবি শায়বা‘ হা/৫৬২১; ইরওয়াউল গালীল ৩/১২৩।

[18]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/৫৬৭৮, সনদ ছহীহ; ইরওয়াউল গালীল, হা/৬৫৩-এর আলোচনা দ্র., ৩/১২৫।

[19]. বুখারী হা/৯৬৯-এর অনুচ্ছেদ দ্র.।

[20]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, বায়হাক্বী, সনদ ছহীহ; ইরওয়া ৩/১২৫ পৃ.; ফিক্বহুস সুনণাহ ১/২৪৩ পৃ.।

[21]. কুরতুবী ২/৩০৬-৭ পৃ.।

[22]. যাদুল মা‘আদ ২/৩৬১ পৃ.; নায়ল ৪/২৫৭ পৃ.; গৃহীত : মাসিক আত-তাহরীক, নভেম্বর ২০১৩ প্রশ্নোত্তর ৩৩/৭৩।

[23]. মুওয়াত্ত্বা মালেক হা/৬০৯; মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হা/৫৭৫৩; বায়হাক্বী হা/৬৩৪৪।

[24]. বায়হাক্বী শু‘আবুল ঈমান হা/৫৭৯০; ছহীহুল জামে‘ হা/১৭১৪।

[25]. বুখারী হা/৯৪৮; মুসলিম হা/২০৬৮।

[26]. তাবারানী, মু‘জামুল আওসাত্ব হা/৭৬০৯; ছহীহাহ হা/১২৭৯।

[27]. বুখারী হা/৩২৪; মুসলিম হা/৮৯০।

[28]. বুখারী হা/১৫১১।

[29]. বুখারী হা/১৫১০, ১৫০৯ ।

[30]. বুখারী হা/১৫০৯, মুসলিম হা/৯৮৬।

[31]. বুখারী হা/১৫১১।

[32]. বায়হাক্বী হা/৬২২১; বুখারী হা/৯৫৩।

[33]. ইবনু আবী শায়বাহ হা/৫৬৩০; ছহীহাহ হা/৩০৩৮।

[34]. তিরমিযী হা/৫৪২; ইবনু মাজাহ হা/১৭৫৬, আলবানী হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন।

[35]. ইবনু মাজাহ হা/১৭৫৬; আহমাদ হা/২১৯৬৪, সনদ হাসান।

[36]. তিরমিযী হা/৫৪২; ইবনু মাজাহ হা/১৭৫৬; আহমাদ হা/২২৯৮৪।

[37]. ছহীহ ফিকবহুস সুন্নাহ, ১ম খন্ড, পৃ. ৬০৫।

[38]. ইবনু মাজাহ, হা/১২৯৫; সনদ হাসান।

[39]. ইবনু মাজাহ হা/১২৯৬; বায়হাক্বী হা/৬২১৬, সনদ হাসান।

[40]. তিরমিযী, হা/৫৪১; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৭১০; মিশকাত, হা/১৪৪৭।

[41]. বুখারী হা/৯৮৬; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৭৭৬; মিশকাত হা/১৪৩৪।

[42]. বুখারী হা/১১৯০, মুসলিম হা/১৩৯৪, আহমাদ হা/৭৭৩৭।

[43]. ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১ম খ-, পৃ. ২৩৭-৩৮; মির‘আতুল মাফাতীহ, ২য় খন্ড, পৃ. ৩২৭; ঐ, ৫/২২।

[44]. ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩১৮; ইবনু কুদামা, মুগনী ২/২৩৫।

[45]. বুখারী হা/৩২৪, ৯৮০, ১৬৫২।

[46]. আহমাদ, ছহীহাহ হা/২১১৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৮৮৮।

[47]. বুখারী হা/৯৫৬, মুসলিম হা/৮৮৯।

[48]. বুখারী হা/২৫৪৯; মুসলিম হা/৮৮৪।

[49]. আলবানী, তামামুল মিন্নাহ, ১/৩৫৪ পৃ., ছহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৬০৮ পৃ.।

[50]. আহমাদ হা/১৩০৬৭; ছহীহাহ হা/১৬০।

[51]. মুসলিম হা/১৯১৭; আবূদাউদ হা/২৫১৪, ছহীহুল জামে‘ হা/২৬৩৩।

[52]. বুখারী হা/২৮৬৯; আবূদাঊদ হা/২৫৭৫।

[53]. বুখারী হা/৪৫৪, ৪৫৫; মুসলিম হা/ ৮৯২, আহমাদ হা/২৬৩৮।

[54]. ত্ববারানী, মুজামুল কাবীর ২/১৯৩, (১৭৮৬)।

[55]. মুসলিম হা/১৮০৭; আবূদাঊদ হা/২৫৭৮; নাসাঈ হা/৮৯৪৪; ছহীহ ইবনে হিববান হা/৪৬৯১।

[56]. বুখারী হা/৩৯৩১; মুসলিম হা/৮৯২।

[57]. লাতাইফুল মা‘আরিফ (বৈরূত, লেবানন ৫ম প্রকাশ ১৪২০হি./১৯৯৯ খ্রি.) পৃ. ৩৭৬।

[58]. লাতায়েফুল মাআরিফ পৃ. ৩৭৬।

[59]. আহমাদ হা/৪২৬৪, বায়হাক্বী শুআবুল ঈমান হা/৬৬৩৭।

[60]. শরহু রিয়াযুস ছলেহীন: (রিয়াদ : মাদারাল আল-ওতান, ১৪২৬ হি.) তওবা অনুচ্ছেদ ১/৯১ পৃ.।

[61] . ছহীহ বুখারী হা/৭৫০৭, ছহীহ মুসলিম হা/৭১৬২।

[62]. লাতাইফুল মা‘আরিফ, পৃ. ৩৭৭।

[63]. লাতায়েফুল মা‘আরিফ পৃ.৩৭৫।

[64]. বুখারী হা/৬৪৬৪।






বিষয়সমূহ: ঈদ
দ্বীন প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজের ভূমিকা - হারূনুর রশীদ
হাদীছ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পরিক্রমা (৪র্থ কিস্তি) - ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব
খারেজীদের আক্বীদা ও ইতিহাস - মীযানুর রহমান মাদানী
আহলেহাদীছ আন্দোলন-এর পাঁচ দফা মূলনীতি : একটি বিশ্লেষণ (২য় কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন
সীমালংঘন - রফীক আহমাদ - বিরামপুর, দিনাজপুর
শয়তানের চক্রান্ত থেকে আত্মরক্ষার উপায় (১ম কিস্তি) - মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম
জামা‘আতবদ্ধ জীবন যাপনের আবশ্যকতা (৪র্থ কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম
শাহ ইসমাঈল শহীদ : ভারতীয় উপমহাদেশে আহলেহাদীছ আন্দোলনের অকুতোভয় সিপাহসালার - ড. নূরুল ইসলাম
হজ্জের ন্যায় ফযীলতপূর্ণ আমল - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
মানবাধিকার ও ইসলাম (১৪তম কিস্তি) - শামসুল আলম
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ)-এর উপর নির্যাতন - আহমাদুল্লাহ - সৈয়দপুর, নীলফামারী
দ্বীনের উপর অবিচলতা - আব্দুর রাক্বীব মাদানী, শিক্ষক, জামে‘আতুল ইমাম আল-বুখারী, কিষাণগঞ্জ, ভারত
আরও
আরও
.