(১) মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের আপন ছোট ভগ্নিপতি, ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ পরিষদ সদস্য, দারুলহাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়াহ, বাঁকাল মাদ্রাসার সাবেক হিসাবরক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সমবায় কর্মকর্তা মুহাম্মাদ লুৎফর রহমান (৭২) গত ২৮শে ডিসেম্বর সোমবার আনুমানিক বিকাল ৫-টায় খুলনায় তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে লিফট দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র ও ২ কন্যা রেখে যান। পরের দিন মঙ্গলবার দুপুর ২-টায় সাতক্ষীরা যেলা শহরের কাটিয়া সরকারপাড়ায় নিজ বাড়ী সংলগ্ন মাঠে তাঁর জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। অতঃপর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। উক্ত জানাযায় আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ, সাতক্ষীরা যেলার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী ডাঃ আফতাবুজ্জামান, প্রবীণ আইনজীবী এ.কে.এম. শহীদুল্লাহ, সাতক্ষীরা যেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আযহার হোসেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. ক্বামারুয্যামান, দফতর সম্পাদক শেখ ফরীদ আহমাদ ময়না সহ অগণিত মুছল্লী অংশ গ্রহণ করেন। (২) খ্যাতনামা বাগ্মী ও মুনাযির খুলনার মাওলানা আব্দুর রঊফ (৭৩) গত ৭ই জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ভোর ৪-টায় খুলনার খালিশপুরস্থ নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। মৃত্যুকালে তিনি ২ স্ত্রী ও ৪ পুত্র সন্তান রেখে যান। ঐদিন বিকাল ৪-৪০মিনিটে খালিশপুর স্যাটেলাইট স্কুল ময়দানে তার জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। অতঃপর তাকে গোয়ালখালী কবরস্থানে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য যে, মাত্র এক সপ্তাহ পূর্বে ৩১শে ডিসেম্বর’১৫ বৃহস্পতিবার মুহতারাম আমীরে জামা‘আত এম-৪৮ খালিশপুর হাউজিং এস্টেট-এর বাসায় গিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে আসেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় পুত্র আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব ও কনিষ্ঠ পুত্র হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির এবং ভাগিনা ছদরুল আনাম। ভোরে মৃত্যু সংবাদ শুনে আমীরে জামা‘আত প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. কাবীরুল ইসলাম ও রাবি শাখা ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র সাধারণ সম্পাদক ইহসান এলাহী যহীরকে সাথে নিয়ে মারকায থেকে রওয়ানা হন। অতঃপর সকাল ৬.৫০-এর ট্রেন ধরে দুপুর দেড়টায় খুলনা পৌঁছেন। সেখানে তাঁদেরকে অভ্যর্থনা জানান ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক জনাব গোলাম মোক্তাদির, খুলনা যেলা সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি জনাব মুহাম্মাদ আলী, সাধারণ সম্পাদক মুয্যাম্মিল হক, যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ শু‘আইব প্রমুখ দায়িত্বশীলবৃন্দ। সেখান থেকে মাইক্রো যোগে তিনি কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য কাযী হারূনুর রশীদ-এর খালিশপুরস্থ বাসভবনে গমন করেন। এখানে যোহর ও আছর ছালাতান্তে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর তিনি মাওলানা আব্দুর রঊফ-এর জানাযায় অংশ গ্রহণ করেন। জানাযায় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক গোলাম মোক্তাদির, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম, মাওলানা আলতাফ হোসায়েন ও কাযী হারূনুর রশীদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর সাধারণ সম্পাদক ইহসান এলাহী যহীর, খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি জনাব মুহাম্মাদ আলী, যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ শু‘আইবসহ ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্য কাযী সেকান্দার আলী ডালিম সহ স্থানীয় মসজিদসমূহের ইমাম ও মুছল্লীবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। যেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান সহ সাতক্ষীরা থেকে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’-এর নেতা-কর্মীগণ একটি রিজার্ভ বাস যোগে জানাযায় অংশ গ্রহণ করেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী বাগেরহাট যেলা সভাপতি সরদার আশরাফ হোসাইন ও সহ-সভাপতি মাওলানা আহমাদ আলী এবং যশোর যেলা সেক্রেটারী অধ্যাপক আকবর হোসাইন ও অর্থ সম্পাদক জনাব আব্দুল আযীয সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র কর্মী ও দায়িত্বশীলবৃন্দ জানাযায় যোগদান করেন। এছাড়াও ছিলেন খুলনার মাওলানা আযীযুর রহমান ছিদ্দীকী, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, তেরখাদার মাওলানা সেকেলুদ্দীন ও অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম। মাওলানা আব্দুর রঊফ পিরোজপুর যেলার নাযীরপুর থানাধীন চৌঠাইমহল গ্রামে আনুমানিক ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গোপালগঞ্জ যেলার টুঙ্গিপাড়া থানাধীন গওহরডাঙ্গা শামসুল উলূম মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীছ পাশ করেন। তাঁর পিতা প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আব্দুল আযীয ছিলেন উক্ত মাদরাসার প্রিন্সিপ্যাল। অতঃপর তিনি পাকিস্তানের করাচীতে লেখাপড়া করেন। প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও প্রতিবেশী নতুন আহলেহাদীছ কাযী হারূনুর রশীদের ভাষ্য মতে, বিগত ১৯৮২ সালের মাঝামাঝিতে ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র দাওয়াতের মাধ্যমে তিনি ‘আহলেহাদীছ’ হন। কর্মজীবন : তিনি বলেন, খালিশপুর পিপল্স জুট মিল হাইস্কুলে মৌলবী শিক্ষক হিসাবে মাওলানার কর্মজীবন শুরু হয়। পাশাপাশি বর্তমান বাস ভবনের নিবটবর্তী ভাড়া ঘরে ‘ডন হোমিও ডিসপেনসারি’ নামে হোমিও ডাক্তারী শুরু করেন। এসময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর ‘রুকন’ ও মুফাসসিরে কুরআন হিসাবে পরিচিত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ কমিটির সদস্য ছিলেন। ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র ছেলেরা তাঁর নিকটে বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েল জানতে চাইলে তিনি আহলেহাদীছের ছালাতকে সঠিক বলে মন্তব্য করেন। এতে বহু ছাত্র ও তরুণ আহলেহাদীছ হ’তে থাকে। তখন ‘খুলনা ইমাম পরিষদে’র বৈঠকে ‘এদেরকে যেখানে পাও, ধরে ধরে পিটাও’ বলে ফৎওয়া দেওয়া হয়। একথা তাঁকে জানানো হলে তিনি বলেন, এখন থেকে আমিও প্রকাশ্যে আহলেহাদীছ তরীকায় ছালাত আদায় করব। সাথে সাথে হার্ডবোর্ড জুট মিল মসজিদের ইমাম হাফেয ক্বারী সিরাজুল ইসলাম বললেন, এখন থেকে তোমরা আমার মসজিদে ছালাত আদায় করবে। তিনি গোপনে আহলেহাদীছের সমর্থক ছিলেন। এরপর থেকে খালিশপুরে ‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র দাওয়াত জোরদার হতে থাকে। মাসঊদ বিন ইসহাক সহ আমরা মাওলানা আব্দুর রঊফ-এর সমর্থনে জোরালো ভূমিকা রাখি। অতঃপর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত তাঁর বাসার নিকটস্থ এলাকায় জমি কিনে দেন। যা ১৯.১২.১৯৮৭ইং তারিখে রেজিষ্ট্রি হয়। এর মাস ছয়েক পরে তিনি উক্ত জমিতে একটি পাকা ‘আহলেহাদীছ জামে মসজিদ’ করে দেন। যা আজও রয়েছে। বর্তমানে সেটি দো’তলা হয়েছে। ২০০০ সালে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে মাওলানা বাকরুদ্ধ অবস্থায় আমৃত্যু শয্যাশায়ী ছিলেন। (৩) মাসিক আত-তাহরীক পাঠক ফোরাম, রিয়াদ, সঊদী আরব শাখার সভাপতি জনাব মুহাম্মাদ জাহাঙ্গীর -এর মাতা রাযিয়া বেগম (৯০) গত ১৬ জানুয়ারী’১৬ শনিবার সকাল পৌনে ১০-টায় মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। মৃত্যুকালে তিনি ৫ পুত্র, ৩ কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে যান। একই দিন বেলা সাড়ে ১১-টায় ঢাকার বনশ্রীতে তার প্রথম জানাযা এবং কুমিল্লা যেলার দাউদকান্দি থানার নিজ গ্রাম দৌলতপুরে বিকাল ৫-টায় ২য় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। [আমরা মাইয়েতগণের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাঁদের শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।- সম্পাদক] অধ্যাপক ইয়াকূব আলী ও প্রফেসর এ.এইচ.এম. শামসুর রহমানের শয্যাপার্শ্বে আমীরে জামা‘আত মাওলানা আব্দুর রঊফের জানাযা থেকে ফিরে আমীরে জামা‘আত সফরসঙ্গীদের নিয়ে কাযী হারূনের বাসায় এসে ইফতার করেন। অতঃপর রাতের খাবার শেষে তিনি প্রথমে দৌলতপুর বি.এল. সরকারী কলেজের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক ডেমোনেস্ট্রেটর ও বর্তমানে দীর্ঘ দিন যাবৎ শয্যাশায়ী জনাব ইয়াকূব আলীকে দেখার জন্য দৌলতপুরের পাবলায় তাঁর বাসায় গমন করেন। তিনি তার সাথে কুশল বিনিময় করেন ও তার জন্য দো‘আ করেন। সেখান থেকে বের হয়ে আমীরে জামা‘আত একই কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক প্রফেসর এ.এইচ.এম. শামসুর রহমানের আড়ংঘাটার বাসায় যান। এখানেও তিনি তার সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন ও দো‘আ করেন। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক গোলাম মোক্তাদির, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য কাযী হারূনুর রশীদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ‘যুবসংঘ’-এর সাধারণ সম্পাদক ইহসান এলাহী যহীর, যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি জনাব মুহাম্মাদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দূস প্রমুখ। সেখান থেকে বের হয়ে তিনি দৌলতপুর রেলস্টেশনে পৌঁছেন। অতঃপর রাত পৌনে ৮-টায় ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে রাত ১২-২০ মিনিটে ঈশ্বরদী পৌঁছেন। অতঃপর সেখান থেকে মাইক্রোযোগে রাত ২-২৫ মিনিটে রাজশাহী মারকাযে পৌঁছেন। ফালিল্লাহিল হাম্দ।




বিষয়সমূহ: সংগঠন
আরও
আরও
.