
মিসরের
সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসি (৬৭) গত ১৭ই জুন সোমবার আদালতে একটি
মামলার শুনানি চলাকালে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অতঃপর
গত ১৮ই জুন মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৫-টায় পূর্ব কায়রোর নাছের সিটিতে
গোপনীয়ভাবে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে মুরসিকে দাফন
করা হয়। এসময় কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছিল। একটি প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে, দাফন অনুষ্ঠানে মুরসির ভাই, ছেলে, স্ত্রী ও দু’জন আইনজীবী উপস্থিত
ছিলেন। গত ১৭ই জুন সোমবার রয়টার্স মুরসির ছেলে আব্দুলাহ মুহাম্মাদ মুরসির
বরাত দিয়ে জানায়, পরিবারের পক্ষ থেকে মুরসির নিজ শহর সারকিয়া প্রদেশে তার
দাফনের আবেদন করা হ’লেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ। ১৮ই জুন
মঙ্গলবার ভোরে মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে, বেনিন টিউমারের
সমস্যায় ভুগছিলেন মুরসি। এজন্য তাকে নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হ’ত। কিন্তু তার
মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে। প্রসঙ্গত উলেখ্য, মুহাম্মাদ মুরসি মুসলিম
ব্রাদারহুডের শীর্ষনেতা। ২০১২ সালে প্রথম তিনি জনগণের সংখ্যাগরিষ্ট ভোটে
মিসরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ৩রা জুন ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১ বছর ১
মাস পরে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই তাকে সরিয়ে তখনকার সেনাপ্রধান আব্দুল ফাত্তাহ
আল-সিসি ক্ষমতা দখল করেন। পরে তিনি নির্বাচন করে নিজেও প্রেসিডেন্ট হয়ে
ক্ষমতা দখলে রেখেছেন। মুরসিকে সরানোর পর সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে
হাযার হাযার ব্রাদারহুড নেতা-কর্মীর সঙ্গে তাকেও গ্রেফতার করা হয়। এরপর
২০১৩ সালে মুরসিকে ৭ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। গ্রেফতারের পর থেকেই মুরসি
কারাগারে ছিলেন।