উত্তর : প্রথমত ঘটনাটি ছহীহ নয়। বর্ণিত হয়েছে যে, এক মুনাফিক ব্যক্তি এক ইহূদীর সঙ্গে বিবাদে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে বিচারপ্রার্থী হ’ল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ইহূদীর পক্ষে ফায়ছালা দিলেন। কিন্তু মুনাফিক ব্যক্তি তাঁর ফায়ছালায় সন্তুষ্ট হ’ল না। সে বলল, চল আমরা ওমর ইবনুল খাত্ত্বাবের কাছে বিচার নিয়ে যাই। তারা ওমর (রাঃ)-এর কাছে এলে ইহূদী বলল, আমি ও এই ব্যক্তি মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর কাছে বিচারপ্রার্থী হয়েছিলাম। তিনি আমার পক্ষে ফায়ছালা করেছেন; কিন্তু সে তাঁর ফায়ছালায় সন্তুষ্ট হয়নি এবং আপনার কাছে বিচার চাচ্ছে। ওমর (রাঃ) মুনাফিককে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি ঠিক? সে বলল, হ্যাঁ। তখন ওমর (রাঃ) বললেন, তোমরা এখানে অপেক্ষা করো, আমি আসছি। অতঃপর তিনি ঘরে প্রবেশ করে তরবারী নিয়ে বের হ’লেন এবং সেই মুনাফিককে তরবারী দিয়ে হত্যা করলেন’ (ইবনু আশূর, আত-তাহরীর ওয়াত তানভীর ১৮/২৬৯)। বর্ণনাটি তাফসীরের বিভিন্ন গ্রন্থে সূরা নূরের ৪৭ আয়াতের শানে নুযূল হিসাবে ব্যবহার করা হ’লেও এটা ছহীহ নয়। বরং ওছায়মীন বলেন, ঘটনাটি দুর্বল শব্দ দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে (আল-কওলুল মুফীদ ২/১৭৯)। শায়েখ আব্দুল আযীয আর-রাজিহী বলেন, এই ঘটনাটি প্রমাণিত নয়, এর সনদ মুনক্বাতি‘ (ছিন্নসূত্র)। কারণ শা‘বী ওমর (রাঃ)-এর যুগ পাননি’ (তায়সীরুল হামীদ.. ১/১২৮)। দ্বিতীয়ত কোন ছাহাবী নিজের হাতে আইন তুলে নেননি। বরং তারা যা কিছু করেছেন রাসূল (ছাঃ)-এর অনুমতি নিয়ে করেছেন বা রাসূল (ছাঃ) ঘটনা শুনার পর সেটা ন্যায়সঙ্গত হ’লে তার অনুমোদন দিয়েছেন (বুখারী হা/৪১১৯; আবুদাউদ হা/৩৩৪)।
প্রশ্নকারী : মুছত্বফা মনোয়ার, হারাগাছ, রংপুর।