জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউএনইপি-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর ১০৫ কোটি টন খাবার অপচয় হয়। অর্থাৎ পাঁচ প্লেট খাবারের প্রায় এক প্লেটই শেষ পর্যন্ত ডাস্টবিনে ফেলা হয়। অপচয়কৃত এসব খাবারের ৬০ শতাংশই ফেলা হয় বাসাবাড়ি থেকে। এছাড়া রেস্তোরাঁ থেকে ২৮ শতাংশ এবং দোকান থেকে ১২ শতাংশ খাবার ফেলে দেওয়া হয়। এই বিপুল পরিমাণ খাবার বহন করতে ২০ টন ধারণক্ষমতার প্রায় ৫ কোটি ২৫ লাখ ট্রাক প্রয়োজন। বিশ্বে একজন মানুষ বছরে গড়ে প্রায় ১৩২ কেজি খাবার অপচয় করেন। আশ্চর্যের বিষয় হ’ল, মাথাপিছু খাবার অপচয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মালদ্বীপ। দেশটিতে একজন মানুষ বছরে গড়ে প্রায় ২৬০ কেজি খাবার অপচয় করেন, যা বিশ্ব গড়ের প্রায় দ্বিগুণ।

অথচ একদিকে যখন বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট হচ্ছে, তখন জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৭.৮ শতাংশ বা প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার মুখে ছিল। এর মধ্যে আফ্রিকাতেই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। যেখানে প্রতি পাঁচজনে একজন পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার পায় না। বিশ্বের মোট ক্ষুধার্ত মানুষের প্রায় অর্ধেকই এ মহাদেশের বাসিন্দা। এছাড়া এশিয়ায় প্রায় ২৯ কোটি ২০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। খাদ্য নষ্ট ও অপচয়ের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশী ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ফেলে দেওয়া খাবারের পচা মিথেন গ্যাস পরিবেশ ও আবহাওয়ার ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

[আল্লাহ বলেন, অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই’ (বনু ইস্রাঈল ১৭/২৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের কারো (খাবারের) লোকমা যদি নিচে পড়ে যায়, তবে সে যেন তা তুলে নেয় এবং তাতে কোন ময়লা লেগে থাকলে তা পরিষ্কার করে খেয়ে নেয়; শয়তানের জন্য তা ফেলে না রাখে’ (মুসলিম হা/২০৩৩; মিশকাত হা/৪১৬৭)। অথচ মুসলমানরাও এটি করে যাচ্ছে অবলীলাক্রমে। বিশেষ করে হোটেল মালিকরা এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তাদের সাবধান হওয়া উচিৎ (স.স.)]







আরও
আরও
.