আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম ত্রাওয়ে দেশটির সাধারণ মানুষকে গণতন্ত্রের কথা ভুলে যেতে বলেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, গণতন্ত্র তাদের জন্য কোন সমাধান নয়। এটি একটি ‘মিথ্যা’ ব্যবস্থা। গণতন্ত্র মানুষ হত্যা করে, ধ্বংস ডেকে আনে। ২০২২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ৩৮ বছর বয়সী এই নেতা লিবিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো যেখানেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে সেখানেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। তিনি মুয়াম্মার গাদ্দাফির পরবর্তী লিবিয়ার অস্থিতিশীলতাকে গণতন্ত্রের ব্যর্থতার প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করেন। ত্রাওরে দাবী করেন আফ্রিকার মানুষ এ ব্যবস্থা চায় না।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারীতে দেশটিতে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। রাজনৈতিক নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে ত্রাওরে বলেন, একজন সফল রাজনীতিবিদ মানেই হ’ল মিথ্যাবাদী ও ভাঁওতাবাজ। তিনি মনে করেন রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় ঐক্য নষ্ট করে। এছাড়া নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ফ্রান্সসহ পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ত্রাওরের এই স্পষ্ট সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ও প্যান-আফ্রিকান অবস্থান মহাদেশটির অসংখ্য তরুণের কাছে তাকে দারুণ জনপ্রিয় করে তুলেছে। তিনি উন্নত বিশ্বের সমকক্ষ হতে হ’লে বুরকিনা ফাসোর জনগণকে প্রচলিত কর্মঘণ্টার চেয়েও অনেক বেশী পরিশ্রম করতে হবে বলে জোর তাগিদ দিয়েছেন।
[বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের সাথে আমরা শতভাগ একমত। আল্লাহ আমাদের দেশকে গণতন্ত্রের অভিশাপ থেকে মুক্ত করুন এবং ইসলামী খেলাফতের পথ সুগম করুন (স.স.)]
-ইব্রাহীম ত্রাওরে