একসময় ক্লাসরুমে ট্যাবলেট ও ল্যাপটপ ব্যবহারের কারণে সুইডেনের স্কুলগুলোর বেশ প্রশংসা করা হ’ত। ২০০০ সালে ক্লাসরুম আধুনিক করার লক্ষ্যে ডিজিটাল শিক্ষার ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দিয়ে এসব ডিভাইস চালু করা হ’লেও ফল হয়েছে ঠিক উল্টো। এর আগে সুইডেনের শিক্ষার্থীদের পড়ার মান ইউরোপের মধ্যে সেরা থাকলেও, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে তা চরমভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০১২ সালের ‘পিসা’ (PISA) আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পড়ার মান, গণিত ও বিজ্ঞানের দক্ষতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিভাইসে বেশীক্ষণ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ার ক্ষমতা ও গভীর মনোযোগ কমে যায়। পাশাপাশি হাতে লেখার বদলে কি-বোর্ডে টাইপ করায় তাদের স্মরণশক্তি লোপ পাচ্ছে। এছাড়া পড়াশোনার চেয়ে গেম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে ঝোঁক বেড়ে যাওয়ায় ক্লাসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং পরীক্ষার ফলাফলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেও সঠিকভাবে পড়তে বা লিখতে পারছে না। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় গণদাবীর মুখে বই আবার ক্লাসরুমে ফিরে এসেছে এবং এর সুফলও মিলতে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের পড়ার মান আবারও উন্নত হচ্ছে। পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ১০ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য দেশজুড়ে বই পড়ার প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশী বই পড়া শিক্ষার্থীর জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিক্ষাখাতে সরকারী বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি স্কুলের লাইব্রেরিগুলোকেও উন্নত করা হচ্ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হ’ল, ছোট বাচ্চাদের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে কেবল বড় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী এর সীমিত ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।