বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখের বেশী মানুষ অনলাইন জুয়ায় যুক্ত এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতি বছর ৪.৭ থেকে ৬.১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাওয়া এই জুয়ার বাজারটিতে মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বছরে হাযার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে জুয়া সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোতে প্রায় ৩ হাযার ৪০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হ’ল এতে চাকরিজীবী, গৃহিণী, কৃষক ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশী জড়িয়ে পড়ছেন। জুয়াড়িরা এমএফএসে আসা অর্থ স্থানীয় এজেন্টদের সাহায্যে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করছে। সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে চীন ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের বহু নাগরিক বিপুল পরিমাণ ল্যাপটপ, মোবাইল ও অত্যাধুনিক সিম মডিউলসহ গ্রেফতার হয়েছে। বিদেশী এই চক্রগুলো দেশীয় এজেন্টদের যোগসাজশে প্রযুক্তির সাহায্যে জুয়া, সাইবার অপরাধ ও অর্থ পাচারের বিশাল সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। ভয়াবহ এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় রুখতে প্রযুক্তিগত নযরদারী বৃদ্ধি ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।