ইউরোপে সাম্প্রতিক ভয়াবহ তাপদাহে মাত্র এক সপ্তাহে ১৬ হাযারের বেশী মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হ’লেও এসি ব্যবহারে চরম অনীহা দেখাচ্ছেন স্থানীয়রা। জুনের শেষদিকে বেলজিয়ামের দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলে গত ২৮ জুন একদিনেই ৩১৩ জনের মৃত্যু হয়, যা করোনা মহামারির রেকর্ডকেও হার মানিয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না এবং মৃতদের ৮৫ শতাংশেরই বয়স ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে। এত বিপুল প্রাণহানির পরও এসি ব্যবহারের প্রতি ইউরোপীয়দের নেতিবাচক মনোভাব বদলায়নি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়ীতে এসি রয়েছে, সেখানে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোতে এসি ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ৪-৬ শতাংশ। ইউরোপীয়দের বদ্ধমূল ধারণা, এসি ব্যবহারে অসুস্থতা ও জীবাণু ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের চরম ক্ষতি হয়। এছাড়া ব্যাপকভাবে এসি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ পড়বে এবং নির্গত গরম বাতাসে শহরগুলো উল্টো আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। এ কারণে সরকারী কর্তৃপক্ষও এসির বিকল্প হিসাবে পরিবেশবান্ধব আবাসন সংস্কার ও বিশেষ ‘কুলিং স্পেস’ তৈরির ওপর বেশী জোর দিচ্ছে।