মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, চড়া সূদ ও এনজিও কর্মীদের অতিরিক্ত চাপে অসহায় মানুষজন ঘরছাড়া কিংবা আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিচ্ছে। এর বাইরে বহু নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত এনজিও হঠাৎ গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। তবে অনিবন্ধিত এনজিওর সঠিক সংখ্যা নেই সমাজসেবা অধিদফতর কিংবা যেলা প্রশাসকের কাছে।
রাজশাহীর বাগমারা উপযেলার পেয়ারা বেগম। আলোর বাংলা ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও ৫ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। পানের বরজে কাজ করে জমানো সেই অর্থ তিনি জমা রেখেছিলেন এখানে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রতি লাখে ২০ হাযার টাকা লাভ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের দাবী, প্রায় ৬ হাযার গ্রাহকের ৫০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে এনজিওটি।
যেলার ৯টি উপযেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য এনজিও। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চড়া সূদে ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, ঋণের টাকা পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ দাবী করে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে এনজিওগুলো। রাজশাহীর একটি মানবাধিকার সংগঠনের পরিচালক ফয়েযুল্লাহ বলেন, ‘এনজিওগুলো সূদের হার ১৪ শতাংশ দাবী করলেও বাস্তবে আদায় করে প্রায় ৩০ শতাংশ। এ কারণে ঋণের জালে ফেঁসে গিয়ে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।
সমাজসেবা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে মোট নিবন্ধিত এনজিও রয়েছে ১২০০টির মতো। এর মধ্যে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৭৮৯টি। তবে অনিবন্ধিত এনজিওর সংখ্যা সম্পর্কে কোন তথ্য নেই।
[সূদী অর্থনীতির অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে নিজেরা এ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। রাষ্ট্রকে এর বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। কারণ আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ সূদকে নিঃশেষ করেন ও ছাদাক্বায় প্রবৃদ্ধি দান করেন’ (বাক্বারাহ ২/২৭৬)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, সূদে প্রবৃদ্ধি হলেও তার পরিণতি হ’ল নিঃস্বতা’ (ইবনু মাজাহ হা/২২৭৯; মিশকাত হা/২৮২৭) (স.স.)]