ভুমিকা : মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আগমনের পূর্বে প্রতিটি ধর্মেই ছিয়াম ছিল। যদিও সময়ের পরিক্রমায় এর পদ্ধতি ভিন্ন হয়ে যায়।[1] ছিয়ামের এই ধারাবাহিকতা এসে পরিপূর্ণতা লাভ করে আল্লাহর সর্বশেষ প্রেরিত রাসূল মুহাম্মাদ (ছাঃ) এবং তাঁর উম্মতের মাধ্যমে (বাক্বারাহ ২/১৮৩)। এই ছিয়াম মানবজাতির উপর সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এই ইবাদত আমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আদম (আঃ) জান্নাত থেকে বের হয়ে দুনিয়ার সামান্য ভোগ্য উপকরণ ব্যবহারের যে অনুমতি পেয়েছেন, তা কখনোই জান্নাতের অফুরন্ত নে‘আমত অর্জনের পথে অন্তরায় হ’তে পারে না। তাই প্রতি বছর একটি পূর্ণাঙ্গ মাস মুমিনগণ দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাস পরিত্যাগ করে নিজেদেরকে সেই চিরস্থায়ী ও অফুরন্ত নে‘আমতের উপযোগী করে তুলতে সচেষ্ট হন। ফালিল্লাহিল হামদ।
আত্মসংযমের চর্চা : পৃথিবীতে মানুষ এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী সৃষ্টি। সে ফেরেশতাদের মতো নিছক আদেশের অনুগত নয়, আবার পশুর মতো বিবেকহীন ও লাগামহীনও নয়; বরং মানুষতে এতদুভয়ের মধ্যবর্তী এক বিশেষ সৃষ্টি। মানুষের রয়েছে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি। এর সদ্ব্যবহার করে সে ফেরেশতাদের চেয়েও উচ্চ মর্যাদায় আসীন হ’তে পারে, আবার কুপ্রবৃত্তির অনুসরণে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্তরে নেমে যেতে পারে। জৈবিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণে মানুষ অন্যান্য প্রাণীর চেয়ে অধিক সক্ষম। বিশষজ্ঞদের মতে, মানব মস্তিষ্কের ‘প্রি-ফ্রন্টাল লোব’ যা চিন্তা-ভাবনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান ভূমিকা রাখে। এটি পশুপাখির তুলনায় অনেক বেশী সুগঠিত ও কার্যকরী।[2] শারীরিক ভাবে সংযমী জীব হওয়া সত্ত্বেও মানুষের মাঝে নানাবিধ পাশবিক প্রবৃত্তি বিদ্যমান। এই প্রবৃত্তির দাসত্ব মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব বা ‘আশরাফুল মাখলূকাত’ হওয়া সত্ত্বেও ‘আসফালা সা-ফিলীন’ বা নিকৃষ্ট জীবে পরিণত করতে পারে (তীন ৯৫/৬)। মানুষের এই আধ্যাত্মিক উত্তরণ বা পতনের অন্যতম নির্ণায়ক হ’ল তার আত্মসংযমের ক্ষমতা। মুমিনের জীবনে ছিয়ামের মত গভীর, সর্বব্যাপী এবং কার্যকর আত্মসংযমের প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র আর দ্বিতীয়টি নেই। এটিই মূলত মুমিন এবং কাফেরদের জীবনাচরণের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য গড়ে দেয়।
গোপন তাক্বওয়ার চর্চা : ইসলামের প্রতিটি ইবাদতেরই একটি বাহ্যিক বা দৃশ্যমান রূপ রয়েছে। যেমন কাউকে ছালাত আদায় করতে দেখলে সহজেই বোঝা যায় যে, তিনি মহান আল্লাহর ইবাদতে। কিন্তু ছিয়াম এমন এক ব্যতিক্রমী ইবাদত যার কোন দৃশ্যমান বা বাহ্যিক প্রদর্শনী নেই। যদিও রামাযান মাসে সামাজিকভাবে একটি আবহ তৈরি হয় এবং বাহ্যত সবাই ছিয়াম পালন করেন। তবুও একজন ব্যক্তি চাইলে লোকচক্ষুর অন্তরালে পানাহার কিংবা জৈবিক চাহিদা পূরণে লিপ্ত হ’তে পারে। পৃথিবীর কেউ তাকে দেখছে না, কেউ তাকে বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু মুমিন বান্দা নির্জনেও একমাত্র আল্লাহর ভয়ে এসব থেকে বিরত থাকেন। তাঁর এই গোপন ত্যাগের একমাত্র সাক্ষী স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা। এভাবেই ছিয়াম বান্দার গোপন তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতির এবং আত্মসংযমের প্রকৃত পরীক্ষা। লৌকিকতামুক্ত এই ইবাদতের মাহাত্ম্য এতটাই বেশী যে, আল্লাহ তা‘আলা এর প্রতিদান প্রদানের দায়িত্ব নিজের হাতে রেখেছেন। হাদীছে কুদসীতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَامَ هُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، ‘আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আদম সন্তানের যাবতীয় আমল তার নিজের জন্য। কিন্তু ছিয়াম ব্যতীত, তা আমার জন্যেই রাখা হয়। আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব।[3] সুবহানাল্লাহ!
ছবরের চর্চা : আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে তাঁর দেওয়া বৈধ ও হালাল বস্ত্ত থেকেও নিজেকে বিরত রাখার মাধ্যমে বান্দা ধৈর্যের এক গভীর শিক্ষা লাভ করে। সাধারণত গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে তার নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হয়। কিন্তু আল্লাহর ভালোবাসায় নিজের একান্ত প্রয়োজনীয় ও বৈধ ভোগ্য উপকরণ ত্যাগ করা ধৈর্যের আরও উচ্চতর ও কঠিন একটি স্তর। একদিকে পাপ কাজ বর্জনের ধৈর্য, অন্যদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় বৈধ কামনা-বাসনা ত্যাগের ধৈর্য। এর মাধ্যমেই মুমিনের ধৈর্য পূর্ণতা পায়।
ছবর ঈমানের একটি মৌলিক উপাদান। আলী (রাঃ) বলেন, الصَّبْرُ مِنَ الْإِيمَانِ، بِمَنْزِلَةِ الرَّأْسِ مِنَ الْجَسَدِ ‘ঈমানের ক্ষেত্রে ছবরের অবস্থান তেমন, দেহের ক্ষেত্রে মাথার অবস্থান যেমন’।[4] অর্থাৎ মাথাবিহীন দেহ অকেজো, ঠিক তেমনি ধৈর্যহীন ঈমানও দুর্বল ও অকার্যকর হ’তে বাধ্য। জীবনের প্রকৃত কল্যাণ যে এই ধৈর্যের মাঝেই নিহিত, তা অনুধাবন করে ওমর (রাঃ) বলতেন, أدركنا خيرَ عيشنا الصبر ‘ধৈর্যের দ্বারাই আমরা জীবনের শ্রেষ্ঠ কল্যাণ লাভ করেছি।[5]
মানবীয় দুর্বলতার পরিসমাপ্তি : মানুষের স্বভাবজাত দুর্বলতাগুলোর মধ্যে প্রধান হ’ল তার খাদ্য চাহিদা ও উদরপূর্তির আকাঙ্ক্ষা। এই চাহিদা মেটাতে গিয়েই মানুষ অনেক সময় দিশাহারা হয়ে পড়ে। রিযিকের অনুসন্ধানে এতটাই মগ্ন হয় যে, জীবনের মূল উদ্দেশ্য বিস্মৃত হয়ে যায়। অথচ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে কেবল পানাহারের জন্য সৃষ্টি করেননি, বরং তাকে এক মহান দায়িত্ব ও আমানত দিয়ে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন (আহযাব ৩৩/৭২)। মানুষ প্রায়শই পেটের ক্ষুধা ও প্রবৃত্তির তাড়নায় দুনিয়ামুখী হয়ে পড়ে। কিন্তু ছিয়াম সেই ভোগবাদী মানসিকতা থেকে মানুষকে টেনে তোলে এবং তার বিচ্যুত মনকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনে। ছিয়াম পালনের মাধ্যমে মুমিন এই সত্যটি উপলব্ধি করতে শেখে যে, ‘খাওয়ার জন্য বেঁচে থাকা নয়, বরং বেঁচে থাকার জন্য খাওয়া’। এই পার্থিব সংযমই তাকে জান্নাতের দিকে ধাবিত করে, যেখানে কোন ক্ষুধা, তৃষ্ণা বা মানবিক দুর্বলতার অস্তিত্ব থাকবে না। সেই চিরস্থায়ী সুখের আবাসে প্রবেশ করা মাত্রই মুমিনগণ প্রশান্ত চিত্তে বলবে,الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورٌ، ‘যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সকল দুশ্চিন্তা দূরীভূত করেছেন। নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক ক্ষমাশীল ও গুণগ্রাহী’ (ফাতির ৩৫/৩৪)।
বৈরাগ্যবাদের অবসান : ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মানুষ যখনই নফসের দাসত্বে লিপ্ত হয়েছে তখনই সে পালছেঁড়া নৌকার মতো ভোগ-বিলাস ও পাশবিক চাহিদার স্রোতে ভেসে গেছে। এই লাগামহীন ভোগবাদের ফলে যুগে যুগে বহু জাতি ও সভ্যতা ধ্বংসের অতল গহবরে হারিয়ে গেছে। এই নৈতিক অবক্ষয় ও অসারতা থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন সভ্যতায় মানুষ ‘বৈরাগ্যবাদ’-এর উদ্ভাবন করে। কিন্তু সংসারত্যাগী এই মতবাদ ছিল মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম ও আদর্শের বাইরে। ফলে এটি কোন স্থায়ী সমাধান তো দিতে পারেইনি, উল্টো মানবসমাজে নতুন এক সংকট সৃষ্টি করেছে। আল্লাহ তা‘আলা এই মনগড়া কৃচ্ছসাধনা সম্পর্কে বলেন, وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا فَآتَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا مِنْهُمْ أَجْرَهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ، ‘কিন্তু বৈরাগ্যবাদ, সেটি তারা নিজেরা উদ্ভাবন করেছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষায়। আমরা এটি তাদের উপর বিধিবদ্ধ করিনি। এরপরেও তারা যথাযথভাবে তা পালন করেনি। অতঃপর তাদের মধ্যে যারা ঈমানদার ছিল তাদেরকে আমরা পুরস্কার দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের বহু লোক ছিল পাপাচারী’ (হাদীদ ৫৭/২৭)। আহলে কিতাব ও পূর্ববর্তী ধর্মগুলোর বৈরাগ্যবাদের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে কিছু লোমহর্ষক ও অমানবিক চিত্র ফুটে ওঠে। যেমন দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ দিনে মাত্র একটি রুটি খেয়ে জীবন পার করা, গর্তে বসবাস ও দৈনিক মাত্র ৫টি ডুমুর ভক্ষণ, বছরে একবার চুল কাটা, স্বেচ্ছায় নোংরা কাপড় পরিধান ও শরীরে মাছিকে কামড়ানোর সুযোগ দেওয়া, শরীরে ৪০-৭০ কেজি লোহা বহন করা, বছরের পর বছর ইঁদুরের গর্তে বা কাঁটাঝোপে বসবাস, ৪০ বছর বিছানায় গা না লাগিয়ে ঘুমানো, এক সপ্তাহ যাবৎ কিচ্ছু না খাওয়া, না ঘুমোনো, পানি স্পর্শ না করা, হাত-পা ধোয়াকে পাপ মনে করা ইত্যাদি অমানবিক সব নিয়ম-কানূন।[6]
চরম ভোগবাদ এবং চরম বৈরাগ্যবাদ এই দুই ধ্বংসাত্মক দর্শনের বিপরীতে মহান রব এমন এক সুপরিমিত ও বিজ্ঞান সম্মত বিধান দান করেছেন, যা মানুষের আত্মিক ও দৈহিক প্রশান্তি নিশ্চিত করে। আর তা হ’ল ছিয়াম সাধনা। এটি মানুষকে সংসার ত্যাগ করতে বলে না, আবার পশুর মতো ভোগেও মত্ত হ’তে দেয় না। আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বলেন,يُرِيدُ اللهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنْكُمْ وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا، ‘আল্লাহ তোমাদের থেকে (বিধান) সহজ করতে চান, আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বল করে’ (নিসা ২/২৮)।
এর বিপরীতে, যারা লাগামহীন ভোগবাদে মত্ত তাদের তুলনা করা হয়েছে কাফের ও চতুষ্পদ জন্তুর সাথে। আল্লাহ বলেন, وَالَّذِينَ كَفَرُوا يَتَمَتَّعُونَ وَيَأْكُلُونَ كَمَا تَأْكُلُ الْأَنْعَامُ وَالنَّارُ مَثْوًى لَهُمْ ‘পক্ষান্তরে যারা অবিশ্বাসী, তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর মত ভক্ষণ করে। আর জাহান্নাম হ’ল তাদের ঠিকানা’ (মুহাম্মাদ ৪৭/১২)।
মানুষের দেহ ও রূহের সমন্বয়ে প্রশান্তময় জীবনের জন্য ছিয়াম সাধনার গুরুত্বের বিষয়ে ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রহ.) বলেন, ‘বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পাপ ও অপকর্ম থেকে রক্ষায়, আত্মিক শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরকে সকল খারাপ অভ্যাস থেকে পবিত্র করতে ছিয়ামের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। এটি তাক্বওয়া অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম’।[7] তাই একমাত্র ছিয়াম সাধনাই পারে সকল ধরনের বৈরাগ্যবাদের বিপরীতে আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিপূর্ণ শক্তি যোগাতে।
বৈষম্যের হিকমত : আল্লাহ রাববুল আলামীন বনু আদমের মাঝে জীবনযাত্রার যে তারতম্য সৃষ্টি করেছেন, তার নিগূঢ় উদ্দেশ্য হ’ল মানুষকে পরীক্ষা করা ও তার মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ জাগ্রত করা। যাতে আমরা একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদতে মগ্ন হ’তে পারি। ছিয়াম সাধনার মাধ্যমেই ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার খাদ্যের ব্যবধানটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যা ধনীদের কেবল ক্ষুধার কষ্টই অনুভব করায় না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় অকাতরে দান করতেও উদ্বুদ্ধ করে। ফলে সমাজে শ্রেণীগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ছিয়াম ধনী ও দরিদ্রের মাঝে এক আত্মিক মেলবন্ধন গড়ে তোলে। একই সঙ্গে এই বৈষম্য ধনী-গরীব উভয়ের জন্য পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে যাচাই করেন সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা যথাযথভাবে প্রকাশ করছে কি-না। অপরদিকে গরীবদের ছবরের পরীক্ষা নেন। সে আল্লাহর দেওয়া ফায়ছালায় ধৈর্য ধারণ করেছে কি-না।
উপসংহার : ছিয়াম মুমিনের জন্য পাপ ও পতন থেকে বাঁচার ঢাল হয়ে ওঠে। ছিয়ামের এই সাধনায় রয়েছে নিরাপত্তা, জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতে আবাস গড়ার মহাসফলতা। প্রকৃতপক্ষে যে ব্যক্তি এই বরকতময় মাসেও লাভবান হ’তে পারল না কিংবা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে ব্যর্থ হ’ল, তার জন্য আর কোন সুযোগ অবশিষ্ট থাকে না। এ মাসে যে আল্লাহর রহমত পেল সেই সফল, আর যে বঞ্চিত হ’ল সেই প্রকৃত হতভাগ্য। তাই সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদেরও একান্ত প্রার্থনা- হে রব! আমাদের রামাযান পর্যন্ত পৌঁছে দিন, এ মাসে অধিক নেক আমল করার তওফীক দান করুন এবং আমাদের ইবাদতগুলো কবুল করে নিন’-আমীন!
আরাফাত যামান
শিক্ষার্থী, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, রাজশাহী।
[1]. বিভিন্ন ধর্মে ছিয়াম : একটি তাত্ত্বিক পর্যালোচনা, তাওহীদের ডাক, মার্চ-এপ্রিল ২০২৫।
[2]. Animal brains vs human brains- BBC Science Focus Magazine
[3]. মুসলিম হা/১১৫১।
[4]. শু‘আবুল ঈমান (১৪৬/১), সনদ ছহীহ লিগাইরিহি।
[5]. ইবনুল মুবারক, যুহুদ ১/২২২।
[6]. History of European Morals, William Edward Leckey.
[7]. যাদুল মা‘আদ, ১/১৬৮।