পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম হাফেয সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আছিম মুনীর

পাকিস্তানে বর্তমান ক্ষমতার নিরঙ্কুশ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন দেশটির ইতিহাসের প্রথম হাফেয সেনাপ্রধান ও দ্বিতীয় ফিল্ড মার্শাল আছিম মুনীর। যিনি সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসাবে কার্যত আইনের ঊর্ধ্বে থেকে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। বর্তমানে ফিল্ড মার্শাল আছিম মুনীরের হাতে এখন পাকিস্তানের সামরিক, কৌশলগত ও সংবিধানগত প্রভাবের সব চাবিকাঠি।

বর্তমানে তিনি একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যদিকে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসাবে বিবেচিত হচ্ছেন। অপরদিকে আমেরিকা ও চীন উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখা জেনারেল মুনীরকে বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

১৯৬৮ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে আছিম মুনীরের জন্ম। সৈয়দ বংশের এই পরিবারে ইসলামী মূল্যবোধ ছিল গভীরভাবে প্রোথিত। পিতা হাফেয সৈয়দ সরওয়ার মুনীর ছিলেন রাওয়ালপিন্ডির এফজি হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল ও একজন ইমাম। সেকারণ তিনি ধর্মীয় আবহে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন রাওয়ালপিন্ডির মারকায মাদ্রাসা দারুত তাওহীদে। পরবর্তী সময়ে তিনি অ্যাবোটাবাদের পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমী থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। অতঃপর ‘অফিসার্স ট্রেনিং স্কুল’-এর ১৭তম কোর্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন এবং অসাধারণ মেধা ও নেতৃত্বের গুণাবলী প্রদর্শনের জন্য তিনি ক্যাডেট হিসাবে সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি ২৩ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন। অতঃপর তিনি লেফটেন্যান্ট কর্ণেল হিসাবে সঊদী আরবে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ে ৩৮ বছর বয়সে তিনি পবিত্র কুরআন হিফয সম্পন্ন করেন। আছিম মুনীর ২০১৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ‘মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স’-এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালে তিনি পাকিস্তানের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ‘আইএসআই’-এর মহাপরিচালক নিযুক্ত হন। তিনিই পাকিস্তানের ইতিহাসে একমাত্র সেনাপ্রধান, যিনি ‘এমআই’ এবং ‘আইএসআই’ উভয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ছিলেন। সর্বশেষ সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে তিনি বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হন। এর মাধ্যমে তিনি এখন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধান এবং সাংবিধানিকভাবে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী।

[সর্বোচ্চ ক্ষমতা লাভের পর পদস্খলনের সমূহ সম্ভাবনা থাকে। আল্লাহ যেন তাকে রক্ষা করেন (স.স.)]







ইসলামী জীবনে ফিরতে শোবিজ ছাড়লেন হামযাহ আলী আববাসী!
মুসলিম জাহান
ইসলামের অবমাননাকারী সঊদী ব্লগার পেল ইউরোপীয়ান শান্তি পুরস্কার
আমেরিকাকে সাথে নিয়ে কোন নৈতিক পৃথিবী সম্ভব নয় : এরদোগান
পাকিস্তানের দীন মুহাম্মাদের হাতে লক্ষাধিক মানুষের ইসলাম গ্রহণ
আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে ভারত
নারীদের পর্দা ও পুরুষদের দাঁড়ি রাখা বাধ্যতামূলক করল আফগানিস্তান
রাজবন্দীদের সমর্থনে টুইটারে পোস্ট দেওয়ায় সঊদী স্কুলছাত্রীর ১৮ বছরের কারাদন্ড
ইসলামী অনুশাসন মেনেই চলব, আর্থিক নীতি বদলাব না : এরদোগান
সঊদী আরবে নতুন আইন: ছালাত না পড়লে তিন দিনের জেল
কাশ্মীরে ভারত চায়না মডেল বাস্তবায়ন করতে চায়
চাদে বোরকা নিষিদ্ধ
আরও
আরও
.