ঢাকার নবাবপুরের মদনপাল লেনে অবস্থিত বঙ্গবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৫৩ বছর বয়সী বিদ্যালয়টির আশপাশে ব্যাপক ঘনবসতি। সেই হিসাবে শ্রেণীকক্ষগুলো শিক্ষার্থীতে ঠাসা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মাত্র ১৭ জন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে। অথচ স্কুলটিতে কর্মরত আটজন শিক্ষক-কর্মচারী। জরিপে উঠে এসেছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভয়াবহ অবস্থা। অধিকাংশ স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা পঞ্চাশের নিচে। শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত ২ জনে ১ জন থেকে ৭ জনে ১ জন পর্যন্ত।
শুধু এদু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, ঢাকার ৩৪২টি বিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ সিটি করপোরেশন এলাকার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একই দশা। শিক্ষকে ঠাসা থাকলেও নেই শিক্ষার্থী। সন্তানকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির চেয়ে অভিভাবকরা ঝুঁকছেন কিন্ডারগার্টেনে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে, বেসরকারী মাদ্রাসাগুলোর দিকে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সাম্প্রতিক এক জরিপে এ ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
উপবৃত্তি, মিড ডে মিল, বৃত্তি পরীক্ষার ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েও শিক্ষার্থী ধরে রাখতে পারছে না প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। অভিভাবকদের একই অভিযোগ ‘প্রাইমারী স্কুলে পড়ালেখা হয় না। স্যার-ম্যাডামরা গল্প-গুজব করে চলে যায়। ক্লাস নেয় না।
জরিপে দেখা যায়, শহুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো তীব্র শিক্ষার্থী সংকটে ধুঁকছে। শিক্ষার্থী কমতে কমতে শূন্যের কোটায় নেমেছে। ছাত্র-ছাত্রী না থাকলেও শিক্ষকের কোন সংকট নেই। অনেক স্কুলে পদের চেয়ে বেশি শিক্ষক কর্মরত। উপযেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার পরিবেশ, মানহীনতা, পুরনো পদ্ধতি আঁকড়ে থাকায় অভিভাবকরা সন্তানদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না। সরকারী চাকরি হওয়ায় শিক্ষকরা মাস গেলেই বেতন তুলছেন। কোন জবাবদিহিতা নেই। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থী কমতেই থাকবে।