চীনের হেনান প্রদেশে নিজের বিয়েতে জন্মদাত্রী মাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় এক কর্মীকে বরখাস্ত করেছেন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রেন প্রস্ত্ততকারী ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান চুই পেইজুন কর্মীর বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখেন বরের বৃদ্ধা মা আয়োজনে নেই। তিনি কারখানার পাশে একা বসে আছেন। কর্মীর কাছে কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, মায়ের সাধারণ চেহারা অতিথিদের সামনে তাকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে ভেবেই তিনি মাকে আমন্ত্রণ জানাননি। শৈশবে বাবা মারা যাওয়ার পর যে মা একাকী হাড়ভাঙা খাটুনি করে ছেলেকে মানুষ করেছেন, তার প্রতি এমন চরম অকৃতজ্ঞতায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধান তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরখাস্ত করেন। ঐ কর্মী পরে ক্ষমা চাইলেও তিনি সিদ্ধান্ত বদলাননি। বরং সাফ জানিয়ে দেন, ‘যে ব্যক্তি জন্মদাত্রী মাকে সম্মান দিতে পারে না, প্রতিষ্ঠানে তার কোন স্থান নেই’। উল্টো ঐ বৃদ্ধা মায়ের আর্থিক সুরক্ষার জন্য তাকে ছেলের সমপরিমাণ বেতনে প্রতিষ্ঠানের লজিস্টিকস বিভাগে চাকরী দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বসের এমন মানবিক ও নৈতিক সিদ্ধান্তের যেমন ব্যাপক প্রশংসা হচ্ছে, তেমনি ব্যক্তিগত কারণে চাকরিচ্যুতির বিষয়টি শ্রম আইনের পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে কিছুটা বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে।
[ধন্যবাদ প্রতিষ্ঠান প্রধানকে। এটিই হ’ল ইসলামের বিধান। যেখানে মায়ের পায়ের তলে সন্তানের জান্নাত বলা হয়েছে (নাসাঈ হা/৩১০৪)। এই ঘটনার মধ্যে সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। (স.স.)]