চট্টগ্রামে লঘু অপরাধে দন্ডিতদের কারাগারে না পাঠিয়ে ভালো কাজের মাধ্যমে সংশোধনের এক যুগান্তকারী সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ‘প্রবেশন’ নামক এই বিশেষ আইনী ব্যবস্থায় আসামীরা পরিবারের সাথে থেকেই নিজেদের শুধরে নিচ্ছেন। ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ২ বছর ১০ মাসে চট্টগ্রাম আদালতে মাদক বহন ও বিক্রি, মারামারিসহ বিভিন্ন লঘু অপরাধের মামলায় ৫৩৭ জন আসামী প্রবেশনের সকল শর্ত পূরণ করে সম্পূর্ণ মুক্তি পেয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে আরও ৫৪৬ জন নতুন আসামীকে প্রবেশন সুবিধা দিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালত।
‘প্রবেশন’ হ’ল এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কোন লঘু অপরাধীর সাজা স্থগিত রেখে, তাকে কারাবন্দী না রেখে বা কোন প্রতিষ্ঠানে আবদ্ধ না করে সমাজে খাপ খাইয়ে চলার সুযোগ দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায় আদালতের নির্দেশে আসামী একজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকেন এবং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ পান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবেশনের শর্ত পূরণ করতে পারলেই মেলে চূড়ান্ত মুক্তি। শর্তগুলোর মধ্যে সাধারণত রয়েছে- বই পড়া, বৃক্ষরোপণ, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, মাদকবিরোধী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ, ফেসবুকে মাদককে ‘না’ বলার প্রচারণা চালানো, প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো আচরণ, ইয়াতীমদের খাবার সরবরাহ, সৎভাবে জীবনযাপন ও পিতা-মাতার সেবা করার মতো কাজ।
প্রবেশন আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী পুরুষ আসামিরা মৃত্যুদন্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত না হ’লে প্রবেশন পেতে পারেন। আর নারী আসামিরা মৃত্যুদন্ড বাদে যেকোন দন্ডের ক্ষেত্রে এই সুযোগ পেতে পারেন।
চট্টগ্রাম যেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘প্রবেশনের সুযোগে আদালতে মামলাজট কমার পাশাপাশি কারাগারে বন্দীর সংখ্যাও কমবে। লঘু অপরাধে দন্ডিত ব্যক্তিরা কারাগারে গিয়ে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদীদের সঙ্গে থাকলে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। প্রবেশনে পরিবারের সঙ্গে থেকে সাজাভোগ করে নিজেদের সংশোধনের সুযোগ পাবেন’।
[দেশের সকল আদালতে এই আইন কার্যকর হওয়া প্রয়োজন (স.স.)]