বাংলাদেশী গবেষক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল আযীযের নেতৃত্বে একদল আন্তর্জাতিক গবেষক সাধারণ কৃষিজ বর্জ্য পাটকাঠি থেকে উচ্চমূল্যের ‘গ্রাফিন’ তৈরির এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন, যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সঊদী আরবের কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলসে সম্পন্ন হওয়া এই গবেষণায় দেখা গেছে, সহজ তাপপ্রয়োগ পদ্ধতির মাধ্যমে পাটকাঠি থেকে প্রায় ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ কার্বনযুক্ত ও অত্যন্ত স্থিতিশীল ত্রিমাত্রিক গ্রাফিন কাঠামো তৈরি করা সম্ভব। গ্রাফিন হ’ল কার্বনের এমন একটি রূপ যা স্টিলের চেয়েও ২০০ গুণ বেশী শক্তিশালী কিন্তু কাগজের চেয়েও পাতলা। এর অসাধারণ বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ও নমনীয়তার কারণে এটি অতি দ্রুত চার্জ হওয়া ব্যাটারি, স্মার্টফোনের ফ্লেক্সিবল স্ক্রিন, উন্নত সেন্সর এবং পানি বিশুদ্ধকরণ প্রযুক্তিতে ‘বিস্ময়কর উপাদান’ হিসাবে বিবেচিত। স্বল্পমূল্যের কৃষিজ বর্জ্যকে উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক উপকরণে রূপান্তরের এই ‘বায়োমাস ভ্যালোরাইজেশন’ প্রক্রিয়াটি ভবিষ্যতে শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োগ করা গেলে বাংলাদেশের মতো পাট উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য নতুন অর্থনৈতিক মাইলফলক তৈরি করবে।
[আমরা গবেষককে ধন্যবাদ জানাই এবং সরকারের কাছে দাবী জানাই তাকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের জন্য (স.স.)]